খুঁজুন
, ,

গাড়ি ব্যবহারে এই ৫ কাজ একদমই নয়—জানুন কেন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ৬:৫৭ পূর্বাহ্ণ
গাড়ি ব্যবহারে এই ৫ কাজ একদমই নয়—জানুন কেন?

সিনেমা, টিভি শো কিংবা সামাজিক মাধ্যমে প্রায়ই একটি কথা শোনা যায়, ‘ড্রাইভ ইট লাইক আ রেন্টাল।’ অর্থাৎ রেন্টাল বা ভাড়া গাড়ি এমনভাবে চালানো, যেন সেটি নিজের নয়। কারণ, অনেকেই মনে করেন যেহেতু গাড়িটি নিজের টাকায় কেনা নয়, তাই এটিকে একটু বেপরোয়াভাবে চালালেও সমস্যা নেই।

কিন্তু বাস্তবে এই ধারণা একেবারেই ভুল। রেন্টাল গাড়ি বেপরোয়াভাবে চালানো শুধু দুর্ঘটনার ঝুঁকিই বাড়ায় না, বরং এর ফলে অতিরিক্ত জরিমানা বা ক্ষতিপূরণের মতো বড় আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়তে পারেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রেন্টাল গাড়ি চালানোর সময় সেটিকে নিজের গাড়ির মতোই ব্যবহার করা উচিত। ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলা, অতিরিক্ত গতি না তোলা এবং অবশ্যই দুর্ঘটনা এড়িয়ে চলা; এসব নিয়ম মেনে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ।

তবে রেন্টাল গাড়ির ক্ষেত্রে কিছু বাড়তি নিয়মও রয়েছে। গাড়ি নেওয়ার আগে এসব নিয়ম জানা থাকলে সময়, অর্থ ও ঝামেলা—সবই বাঁচানো সম্ভব। কারণ অধিকাংশ রেন্টাল কোম্পানিরই একটি ‘ডু নট রেন্ট’ তালিকা থাকে, যেখানে সমস্যাজনক গ্রাহকদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। একবার সেই তালিকায় চলে গেলে ভবিষ্যতে আবার রেন্টাল গাড়ি পাওয়া কঠিন হয়ে যেতে পারে।

বিশ্বের প্রায় সব রেন্টাল কোম্পানির ক্ষেত্রেই এই নিয়মগুলো প্রায় একই। তাই রেন্টাল গাড়ি ব্যবহারের সময় কিছু বিষয় অবশ্যই এড়িয়ে চলা উচিত। নিচে এমন পাঁচটি বিষয় তুলে ধরা হলো।

১. গাড়ির ভেতরে ধূমপান বা ভ্যাপিং করবেন না

রেন্টাল গাড়ি ব্যবহারের ক্ষেত্রে গাড়ি পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গাড়ি ফেরত দেওয়ার আগে পোষা প্রাণীর লোম, খাবারের প্যাকেট বা তরল কিছু পড়ে থাকলে তা পরিষ্কার করে দিতে বলা হয়। না হলে কোম্পানি অতিরিক্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য বড় অঙ্কের ফি নিতে পারে।

ধূমপানের ক্ষেত্রে নিয়ম আরও কঠোর। বেশিভাগ রেন্টাল কোম্পানিতে গাড়ির ভেতরে ধূমপান করলে প্রায় ৪৫০ ডলার পর্যন্ত বাধ্যতামূলক ক্লিনিং ফি নেওয়া হয়। অর্থাৎ একবার সিগারেট ধরালেই আপনাকে বড় অঙ্কের অর্থ গুনতে হতে পারে।

এমনকি গাড়ি নেওয়ার সময় যদি আগেই সিগারেটের গন্ধ পাওয়া যায়, তাহলে সেটি দ্রুত কোম্পানিকে জানানো উচিত। না হলে আগের ব্যবহারকারীর কারণে আপনাকেই জরিমানা দিতে হতে পারে।

একই নিয়ম ভ্যাপিংয়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। বর্তমানে প্রায় সব রেন্টাল কোম্পানিই ধূমপান নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ভ্যাপিংকেও অন্তর্ভুক্ত করেছে। তাই প্রয়োজন হলে গাড়ি থেকে নেমে বাইরে গিয়ে ধূমপান করা উত্তম।

২. গাড়ি ফেরত দেওয়ার আগে জ্বালানি ভরতে ভুলবেন না

রেন্টাল গাড়ি নেওয়ার সময় সাধারণত ট্যাংকে যতটুকু জ্বালানি থাকে, ফেরত দেওয়ার সময়ও ঠিক ততটুকুই থাকতে হয়। ধরা যাক, আপনি গাড়িটি অর্ধেক ট্যাংক জ্বালানি নিয়ে পেয়েছেন, তাহলে ফেরত দেওয়ার সময়ও সেটি অর্ধেক ট্যাংক থাকা উচিত।

যদি তা না করেন, তাহলে রেন্টাল কোম্পানি নিজে জ্বালানি ভরে তার মূল্য আপনার কাছ থেকে আদায় করবে। তবে তারা সাধারণ পাম্পের চেয়ে বেশি দামে জ্বালানি চার্জ করে।

কিছু ক্ষেত্রে প্রতি গ্যালন জ্বালানির জন্য প্রায় ১০ ডলার পর্যন্ত চার্জ করার ঘটনাও রয়েছে। যেখানে গড়ে প্রতি গ্যালনের দাম প্রায় ৩.৩০ ডলার, সেখানে অতিরিক্ত বেশ বড় অঙ্কের অর্থ গুনতে হতে পারে। তাই গাড়ি ফেরত দেওয়ার আগে নিজেই জ্বালানি ভরে নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।

৩. টোল রোডের বিকল্প পথ না খোঁজা

টোল রোডে চলাচল সাধারণ চালকদের জন্য খুবই সহজ—গাড়ি চালিয়ে যান, টোল দিন, কাজ শেষ। বিভিন্ন দেশের আধুনিক অনেক টোল প্লাজায় আবার থামতেও হয় না; ট্রান্সপন্ডার বা সেন্সরের মাধ্যমে টোল কেটে নেওয়া হয়।

কিন্তু রেন্টাল গাড়ির ক্ষেত্রে বিষয়টি একটু ভিন্ন। এখানে অতিরিক্ত প্রশাসনিক চার্জ যুক্ত হতে পারে। রেন্টাল কোম্পানিগুলো সাধারণত দুইভাবে টোল ব্যবস্থাপনা করে— প্রতিদিন নির্দিষ্ট ফি কেটে টোল ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া, অথবা পরে বিল পাঠিয়ে টোলের সঙ্গে প্রশাসনিক চার্জ যুক্ত করা। এই চার্জগুলো দ্রুতই বড় অঙ্কে পৌঁছে যেতে পারে।

তাই নেভিগেশন অ্যাপ ব্যবহার করে সম্ভব হলে টোল রোড এড়িয়ে চলাই ভালো। আর যারা নিয়মিত টোল রোড ব্যবহার করেন, তারা নিজের ট্রান্সপন্ডার সঙ্গে এনে রেন্টাল গাড়িতেও ব্যবহার করতে পারেন।

৪. অন্য কাউকে গাড়ি চালাতে দেওয়া

অনেক সময় বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে ভ্রমণে গেলে পালা করে গাড়ি চালানোর কথা ভাবা হয়। কিন্তু রেন্টাল গাড়ির ক্ষেত্রে বিষয়টি একটু জটিল হতে পারে।

যদি আপনার অনুমতি ছাড়া অন্য কেউ গাড়ি চালায় এবং দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে বীমা সুবিধা পাওয়া কঠিন হয়ে যেতে পারে। কারণ কিছু বীমা নীতিতে গাড়ি কভার করা হয়, আবার কিছু ক্ষেত্রে শুধু নির্দিষ্ট চালককে কভার করা হয়। যদি ব্যক্তিগত গাড়ির বীমা ব্যবহার করেন, তাহলে অনেক সময় ‘পারমিসিভ ইউজ’ সুবিধা থাকে, অর্থাৎ অন্য কেউ গাড়ি চালালেও কভারেজ থাকে।

কিন্তু রেন্টাল কোম্পানির বীমা নিলে সাধারণত চালকের নাম চুক্তিতে যুক্ত থাকতে হয়। তাই একাধিক ব্যক্তি গাড়ি চালালে তাদের নাম আগেই চুক্তিতে যুক্ত করা জরুরি।

৫. দুর্ঘটনায় গাড়ির ক্ষতি করা (বীমা থাকলেও)

দুর্ঘটনা যে কারও সঙ্গেই ঘটতে পারে। এতে গাড়ির ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি চালক ও যাত্রীও আহত হতে পারেন।

রেন্টাল গাড়ির ক্ষেত্রে দুর্ঘটনা ঘটলে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে। কারণ রেন্টাল কোম্পানিগুলো গাড়ি মেরামতের পুরো খরচের পাশাপাশি অতিরিক্ত চার্জও নিতে পারে। যদি আপনার ব্যক্তিগত বীমা রেন্টাল গাড়িকে কভার না করে এবং কোম্পানির বীমাও না নেন, তাহলে পুরো ক্ষতিপূরণই আপনাকে দিতে হতে পারে।

তাই বিশেষজ্ঞরা বলেন, রেন্টাল গাড়ি ব্যবহারের সময় বীমা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সবচেয়ে ভালো উপায় অবশ্যই নিরাপদে গাড়ি চালানো। স্মার্টফোন ব্যবহার না করা, গতিসীমা মেনে চলা, টার্ন সিগন্যাল ব্যবহার করা এবং ক্লান্ত থাকলে বিশ্রাম নেওয়া; এসব নিয়ম মেনে চললে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

সূত্র : স্ল্যাশগিয়ার

থানা হেফাজতে থাকা ফরিদপুরের সেই হাতি আদালতের নির্দেশে ফিরছে মালিকের কাছে

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১০ পূর্বাহ্ণ
থানা হেফাজতে থাকা ফরিদপুরের সেই হাতি আদালতের নির্দেশে ফিরছে মালিকের কাছে

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় সড়কে হাতি নিয়ে চাঁদা তোলার সময় চাঁদা এড়াতে গিয়ে ইজিবাইক দুর্ঘটনায় ১০ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় জব্দ হয়ে এক সপ্তাহ ধরে থানা হেফাজতে থাকা হাতিটি অবশেষে আদালতের নির্দেশে মালিকের কাছে ফিরছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) আদালত এক আদেশে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে হাতিটি তার প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেন।

এর আগে গত ২৮ জুলাই দুপুরে সদরপুর উপজেলার আটরশি এলাকায় হাতি নিয়ে চাঁদা তোলার সময় চাঁদা এড়াতে গিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে মায়ের সঙ্গে থাকা ১০ মাস বয়সী আরিশা জান্নাত গুরুতর আহত হয়। পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা হাতির মাহুতকে আটক করে গণপিটুনি দেয় এবং হাতিটিকে আটকে রাখে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাহুতকে উদ্ধার করে আটক করে এবং হাতিটিকে জব্দ করে সদরপুর থানায় নিয়ে আসে।

পরদিন পুলিশ আটক মাহুত জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার মাদারের চর গ্রামের আনিসউদ্দিনের ছেলে বকুল মিয়াকে (২৪) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। একই সঙ্গে জব্দকৃত হাতিটি মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে নাকি বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে-সে বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা চেয়ে আবেদন করে।

আদালতের আদেশ অনুযায়ী হাতিটির মালিক হিসেবে নওগাঁ জেলার বাসিন্দা ব্যবসায়ী দুলাল দেওয়ানের কাছে প্রাণীটি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে। জানা গেছে, তিনি নিজে সার্কাস পরিচালনা না করলেও বিভিন্ন সার্কাস দলের কাছে হাতিটি ভাড়া দিয়ে থাকেন।

তবে আদালতের নির্দেশ এলেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হাতিটি সদরপুর থানা প্রাঙ্গনেই ছিল। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সেটি মালিকের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

গত সাত দিন ধরে হাতিটি সদরপুর থানা প্রাঙ্গনে বিশেষ তত্ত্বাবধানে রাখা হয়। এ সময় হাতিটির দেখভাল ও পরিচর্যার জন্য মালিকের পক্ষ থেকে নাজমুল সরদার (১৭) নামে আরেক মাহুতকে সদরপুর থানায় পাঠানো হয়। তিনি নিয়মিত হাতিটিকে গোসল করানো, খাবার খাওয়ানো, সকালে হাঁটানো এবং সার্বক্ষণিক পরিচর্যার দায়িত্ব পালন করেন।

এক সপ্তাহ ধরে থানায় হাতিটি রাখার ফলে খাদ্যের ব্যবস্থা করাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। একটি পূর্ণবয়স্ক হাতির জন্য প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ কলাগাছ, ঘাস ও অন্যান্য খাদ্যের প্রয়োজন হয়। থানা প্রাঙ্গণে এমন কোনো স্থায়ী খাদ্যব্যবস্থা না থাকায় পুলিশ ও মাহুতকে প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে খাবার সংগ্রহ করতে হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও হাতির মালিকের সহযোগিতায় খাদ্যের ব্যবস্থা করা হলেও তা সবসময় পর্যাপ্ত ছিল না।

থানায় অবস্থানকালে বিশাল আকৃতির হাতিটি স্থানীয় মানুষেরও ব্যাপক কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। প্রতিদিন শিশু, কিশোর, তরুণ থেকে শুরু করে নানা বয়সী মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে সদরপুর থানায় এসে হাতিটিকে দেখতে ভিড় করেন। অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। দর্শনার্থীদের ভিড় নিয়ন্ত্রণে পুলিশকেও সতর্ক অবস্থানে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।

সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে আদালতের আদেশ হাতে পেয়েছি। আদালত হাতিটিকে তার মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুতই হাতিটি মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ঘুম আসছে না? অনিদ্রা দূর করতে জেনে নিন ৭ কার্যকর উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৫৪ পূর্বাহ্ণ
ঘুম আসছে না? অনিদ্রা দূর করতে জেনে নিন ৭ কার্যকর উপায়

সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে রাতে বিছানায় গেলেও অনেকের চোখে ঘুম আসে না। কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা এপাশ-ওপাশ করেন, আবার কারও মাঝরাতে বারবার ঘুম ভেঙে যায়। এমন সমস্যা এক-দুদিন হলে চিন্তার কারণ না হলেও দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে তা হতে পারে অনিদ্রা (ইনসমনিয়া)।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীর ও মস্তিষ্ক ঠিকভাবে বিশ্রাম নিতে পারে না। ফলে পরদিন ক্লান্তি, কাজে অমনোযোগ, খিটখিটে মেজাজ, কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া এমনকি দীর্ঘমেয়াদে নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

অনেকেই এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে ঘুমের ওষুধের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ঘুমের ওষুধ সেবন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন এনে প্রাকৃতিকভাবেই অনিদ্রা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

কেন হয় অনিদ্রা?

অনিদ্রার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-

অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা

বিষণ্নতা (ডিপ্রেশন)

আশপাশের অতিরিক্ত শব্দ

অস্বস্তিকর বিছানা বা ঘুমের পরিবেশ

মদ্যপানের অভ্যাস

অতিরিক্ত চা, কফি বা ক্যাফেইন গ্রহণ

রাতের শিফটে কাজ করার অভ্যাস

অনিদ্রা দূর করতে যা করবেন

১. নিয়মিত মেডিটেশন করুন

মাইন্ডফুলনেস মেডিটেশন মানসিক চাপ কমাতে এবং মনকে শান্ত রাখতে কার্যকর। প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট মেডিটেশন করলে ঘুমের মান উন্নত হতে পারে।

২. ল্যাভেন্ডার অয়েলের ব্যবহার

ল্যাভেন্ডার অয়েল দীর্ঘদিন ধরে অ্যারোমাথেরাপিতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি মানসিক প্রশান্তি এনে ঘুমে সহায়তা করতে পারে। বালিশে সামান্য স্প্রে করা বা ঘাড় ও কাঁধে অল্প পরিমাণে ম্যাসাজ করেও ব্যবহার করা যায়।

৩. নির্দিষ্ট সময় ঘুমানোর অভ্যাস

প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস শরীরের ‘বডি ক্লক’ বা সার্কাডিয়ান রিদমকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এতে ধীরে ধীরে ঘুমের সমস্যা কমতে পারে।

৪. ম্যাগনেসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খান

ম্যাগনেসিয়াম পেশি শিথিল করতে এবং মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক। ডার্ক চকলেট, বাদাম, অ্যাভোকাডোসহ ম্যাগনেসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন। পাশাপাশি অতিরিক্ত কোমল পানীয় ও ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা ভালো।

৫. মেলাটোনিন বাড়ায় এমন খাবার

মেলাটোনিন হলো ঘুম নিয়ন্ত্রণকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ হরমোন। ডিম, দুধ, মাছ, কলা, মাশরুম, বাদাম ও আখরোটের মতো খাবার শরীরে মেলাটোনিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি ঘুমানোর আগে মোবাইল বা অন্যান্য স্ক্রিনের ব্যবহার কমানোও জরুরি।

৬. নিয়মিত শরীরচর্চা

প্রতিদিন অন্তত ২০ মিনিট ব্যায়াম করলে ঘুমের মান উন্নত হতে পারে। তবে ঘুমানোর ঠিক আগে ব্যায়াম না করে অন্তত তিন ঘণ্টা আগে শরীরচর্চা শেষ করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

৭. ৪-৭-৮ শ্বাস-প্রশ্বাস পদ্ধতি

অনিদ্রা কমাতে ‘৪-৭-৮’ শ্বাস-প্রশ্বাস কৌশল বেশ জনপ্রিয়। এ পদ্ধতিতে চার সেকেন্ড শ্বাস নিতে হবে, সাত সেকেন্ড শ্বাস ধরে রাখতে হবে এবং আট সেকেন্ড ধরে ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়তে হবে। কয়েকবার অনুশীলন করলে শরীর ও স্নায়ু শিথিল হতে পারে।

আরও কিছু অভ্যাস বদলাতে হবে

ঘুমানোর আগে এক গ্লাস হালকা গরম দুধ পান করা উপকারী হতে পারে। পাশাপাশি রাতে অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার, ভারী খাবার ও ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা এবং ঘুমানোর পরিবেশ শান্ত ও আরামদায়ক রাখলে ভালো ঘুমের সম্ভাবনা বাড়ে।

তবে জীবনযাপনের পরিবর্তনের পরও যদি দীর্ঘদিন অনিদ্রা, বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া বা দিনের বেলায় অতিরিক্ত ক্লান্তি থাকে, তাহলে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ, অনিদ্রা অনেক সময় অন্য কোনো শারীরিক বা মানসিক সমস্যার লক্ষণও হতে পারে।

সূত্র : কালবেলা

সরকারি হচ্ছে ফরিদপুরের নগরকান্দার আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪১ অপরাহ্ণ
সরকারি হচ্ছে ফরিদপুরের নগরকান্দার আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় জাতীয়করণের উদ্যোগে নতুন অগ্রগতি এসেছে। বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ ও সদস্য সচিব (মাননীয় সংসদ সদস্যগণের প্রতিশ্রুত ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন সমন্বয় সেল) মো. উজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত ২৭ জুলাই ২০২৬ তারিখের এক চিঠিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ১৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে আধা-সরকারি (ডিও) পত্রের মাধ্যমে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যালয়টির জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাই করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, নারী শিক্ষার প্রসার এবং পিছিয়ে পড়া জনপদের মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে ১৯৮৮ সালে নগরকান্দায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিদ্যালয়টি এলাকার অসংখ্য শিক্ষার্থীকে মাধ্যমিক শিক্ষার সুযোগ করে দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ইউএনও রেজওয়ানা আফরিন বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশনা এসেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের কাজ করবে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হলে শিক্ষক সংকট দূর হওয়ার পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা কার্যক্রমের মানোন্নয়ন এবং দরিদ্র ও গ্রামীণ পরিবারের মেয়েদের জন্য উন্নত শিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এ উদ্যোগে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিদ্যালয়টি দ্রুত জাতীয়করণের আওতায় আনা হবে।