খুঁজুন
শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

সব সময় শীত শীত লাগে? আপনার শরীরে কী ঘটছে জানুন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:১৮ পূর্বাহ্ণ
সব সময় শীত শীত লাগে? আপনার শরীরে কী ঘটছে জানুন

চারপাশের সবাই যখন স্বাভাবিক তাপমাত্রায় স্বচ্ছন্দে আছেন, তখন আপনার হাত–পা বরফের মতো ঠান্ডা? গরমের মধ্যেও শরীর কাঁপছে? অনেকের কাছেই এটি খুব পরিচিত অভিজ্ঞতা। বাইরে যতই উষ্ণতা থাকুক, তাঁদের কাছে মনে হয় ঠান্ডার দাপট কিছুতেই কমছে না।

কেন এমন হয়? এর পেছনে কি কোনো শারীরিক কারণ আছে, নাকি স্বাভাবিক ব্যাপার? বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু কারণ একেবারেই সাধারণ ও নিরীহ, আবার কিছু ক্ষেত্রে এটি শরীরের ভেতরের কোনো সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, সব সময় ঠান্ডা লাগার সবচেয়ে সাধারণ ৯টি কারণ।

১. আপনার শরীর প্রাকৃতিকভাবেই ঠান্ডা

কেউ কেউ বলেন, ‘আমার শরীর এমনিতেই ঠান্ডা।’ ব্যাপারটা আদতেই সত্য হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, কোনো শারীরিক সমস্যা না থাকলেও কিছু মানুষের শরীর স্বাভাবিকভাবেই তুলনামূলক বেশি ঠান্ডা থাকে।

এর অন্যতম কারণ হতে পারে কম পেশি বা মাসল মাস। পেশি শরীরে তাপ তৈরি করতে সাহায্য করে। যাঁদের পেশি কম, তাঁদের শরীর তাপ সংরক্ষণের জন্য হাত–পা থেকে রক্তপ্রবাহ কমিয়ে দেয়। ফলে হাত-পা ঠান্ডা লাগে, কখনো পুরো শরীরও। বিশেষ করে নারী ও বয়স্ক ব্যক্তিদের পেশি তুলনামূলক কম হয়, তাই তাঁদের মধ্যে ঠান্ডা লাগার প্রবণতাও বেশি দেখা যায়।

২. পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া

ঘুম কম হলে শুধু ক্লান্তি নয়, ঠান্ডাও বেশি লাগতে পারে। শরীরের নিজস্ব ‘বডি ক্লক’ বা সার্কাডিয়ান রিদম ঘুমের সময় শরীরের তাপমাত্রা কমিয়ে দেয়।

আপনি যদি নিয়মিত কম ঘুমান, তাহলে দিনের বেলায়ও শরীর ধরে নিতে পারে বিশ্রামের সময় চলছে। ফলে স্বাভাবিকের তুলনায় ঠান্ডা বেশি অনুভূত হয়।

৩. রক্ত সঞ্চালন দুর্বল হওয়া

রক্ত ঠিকমতো সঞ্চালিত না হলে শরীরের বিভিন্ন অংশে তাপ পৌঁছায় না। সাধারণত হাত ও পা তখন বেশি ঠান্ডা লাগে। ধূমপান, অতিরিক্ত ওজন, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস—এসব কারণে রক্ত সঞ্চালন দুর্বল হতে পারে। নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাবার ও ধূমপান ত্যাগ করলে রক্তপ্রবাহ উন্নত হয়।

৪. দ্রুত ওজন কমে যাওয়া

হঠাৎ ওজন কমলে বেশি ঠান্ডা লাগতে পারে। কারণ, ত্বকের নিচে থাকা চর্বি শরীরকে উষ্ণ রাখে। ওজন কমার সঙ্গে সঙ্গে এই ‘ইনসুলেশন’ কমে যায়। এ ছাড়া খুব কম ক্যালরি গ্রহণ করলে শরীর শক্তি বাঁচাতে বিপাকক্রিয়া ধীর করে দেয়। এর ফলেও সব সময় ঠান্ডা লাগে।

৫. ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি

ভিটামিন বি১২ স্নায়ুতন্ত্র ও রক্তকণিকা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর অভাবে রক্তস্বল্পতা হতে পারে, যার একটি উপসর্গ হলো ঠান্ডা লাগা।

বিশেষ করে নিরামিষভোজী, বয়স্ক মানুষ, হজমজনিত সমস্যা আছে, এমন ব্যক্তি কিংবা যাঁদের অন্ত্রের অস্ত্রোপচার হয়েছে, তাঁদের মধ্যে এ ঘাটতির ঝুঁকি বেশি।
লক্ষণগুলো হতে পারে দুর্বলতা, ক্লান্তি, ক্ষুধামান্দ্য, ওজন কমে যাওয়া, হাত-পায়ে ঝিনঝিন বা অবশভাব এবং সব সময় ঠান্ডা লাগা।

৬. থাইরয়েডের সমস্যা (হাইপোথাইরয়েডিজম)

থাইরয়েড গ্রন্থি শরীরের শক্তি ব্যবহারের গতি নিয়ন্ত্রণ করে। এই গ্রন্থি কম কাজ করলে শরীরের বিপাক ধীর হয়ে যায়, ফলে ঠান্ডা লাগা অন্যতম উপসর্গ হয়ে দাঁড়ায়। নারী, ৬০ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তি ও যাঁদের আগে থাইরয়েডজনিত সমস্যা ছিল, তাঁদের ঝুঁকি বেশি।

৭. রক্তস্বল্পতা (অ্যানিমিয়া)

রক্তে পর্যাপ্ত লোহিত কণিকা না থাকলে শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন পৌঁছায় না। ফলে হাত-পা ঠান্ডা লাগতে পারে। অন্তঃসত্ত্বা নারী, অতিরিক্ত মাসিক রক্তক্ষরণ হয় যাঁদের কিংবা আয়রন ও ফলিক অ্যাসিডের ঘাটতি আছে, তাঁদের মধ্যে এ সমস্যা বেশি দেখা যায়।

৮. রক্তনালির রোগ

দুটি রোগ বিশেষভাবে ঠান্ডা লাগার সঙ্গে জড়িত—

পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ (পিএডি): ধমনিতে চর্বি জমে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে এ সমস্যা হয়। এতে হাত বা পায়ে ঠান্ডা, ব্যথা ও দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।

রেনোডস ডিজিজ: এতে ঠান্ডা বা মানসিক চাপের সময় আঙুল ও পায়ের আঙুলে রক্তপ্রবাহ হঠাৎ কমে যায়। ফলে সেসব সাদা বা নীলচে হয়ে ঠান্ডা লাগে।

৯. ডায়াবেটিস

ডায়াবেটিসে স্নায়ু ও রক্তনালির ক্ষতি হতে পারে। ফলে হাত-পায়ে ঝিনঝিন, অবশভাব ও ঠান্ডা অনুভূত হয়।

সব সময় ঠান্ডা লাগলে কী করবেন

প্রথম কাজ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। কারণ, এর পেছনে কোনো রোগ আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

চিকিৎসকের মতে, যদি সমস্যাটি কোনো রোগজনিত হয়, তাহলে সাধারণত অন্য উপসর্গও দেখা দেয়। তবু সন্দেহ হলে পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে ভালো।
এ ছাড়া দৈনন্দিন জীবনে কিছু অভ্যাস গড়ে তুললে ঠান্ডা লাগা অনেকটাই কমানো সম্ভব—

নিয়মিত ব্যায়াম করুন:  শরীর গরম রাখে ও রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়।

স্তরে স্তরে পোশাক পরুন: একাধিক স্তরের কাপড় তাপ ধরে রাখতে সাহায্য করে।

গরম সেঁক নিন: হাত-পা বা শরীরের নির্দিষ্ট অংশ গরম রাখতে কাজে দেয়।

পর্যাপ্ত ঘুমান: ঘুমের ঘাটতি ঠান্ডা লাগার বড় কারণ হতে পারে।

পুষ্টিকর খাবার খান: ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি দূর হলে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

ধূমপান কমান বা ছাড়ুন: এটি রক্তনালির ক্ষতি করে ও ঠান্ডা লাগার ঝুঁকি বাড়ায়।

সূত্র : রিয়াল সিম্পল

ওজন মেপে কোরবানির পশু কেনা কি জায়েজ?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ৭:৪৮ পূর্বাহ্ণ
ওজন মেপে কোরবানির পশু কেনা কি জায়েজ?

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কোরবানির পশুর হাটে বা খামারে লাইভ ওয়েট বা ওজন মেপে গরু কেনার একটি নতুন সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে প্রবাসে এবং দেশের বড় শহরগুলোতে এই পদ্ধতি বেশ জনপ্রিয়।

কিন্তু মনে প্রশ্ন জাগে, এভাবে ওজন মেপে পশু কেনা কি শরিয়তসম্মত? কোরবানির আসল উদ্দেশ্যই বা কী? এসব বিষয়ে নিজের ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে গুরুত্বপূর্ণ আলোকপাত করেছেন জনপ্রিয় ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ।

ওজন মেপে পশু কেনা কি বৈধ?

বর্তমানে ওজন মেপে পশুর দাম নির্ধারণ করার যে রীতি প্রচলিত হয়েছে, শরিয়তের দৃষ্টিতে তাতে কোনো বাধা নেই। শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, ক্রেতা যাতে ন্যায্যমূল্যে পশু কিনতে পারেন এবং অতিরিক্ত দাম দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে জন্য ওজন মেপে দাম নির্ধারণ করা একটি সহজ পদ্ধতি হতে পারে। ইসলাম কাউকে লস বা লোকসান দিয়ে পশু কিনতে বাধ্য করে না। তাই ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ওয়েট স্কেল ব্যবহার করা জায়েজ। তবে, এখানে একটি সতর্কবাণী রয়েছে। যদি পশু কেনাটা নিছক বাণিজ্যিক লাভ-ক্ষতির হিসাব-নিকাশে রূপ নেয়; যেখানে মূল উদ্দেশ্য থাকে কত টাকা লাভ বা লস হলো, তবে তা কোরবানির আধ্যাত্মিক উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করতে পারে।

নিয়ত ও সওয়াবের পরিমাপ

অনেকেই কম দামে বেশি মাংস পাওয়া যাবে এমন পশু খোঁজেন, যাতে গরিব মানুষকে বেশি মাংস বিতরণ করা যায়। শায়খ আহমাদুল্লাহ জানান, এটি একটি ভালো নিয়ত এবং এতে কোনো অসুবিধা নেই। ন্যায্যমূল্যে বড় পশু কেনার চেষ্টা করা জায়েজ, কারণ এতে যেমন নিজের সাশ্রয় হয়, তেমনি গরিবদেরও বেশি দেওয়ার সুযোগ থাকে। কিন্তু যদি নিয়ত হয় শুধু মাংস খাওয়া বা সামাজিক মর্যাদা জাহির করা, তবে কোরবানির মাহাত্ম্য ক্ষুণ্ন হয়।

কোরবানি কি কেবলই মাংস বিতরণের উৎসব?

কোরবানির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো দরিদ্রদের মাঝে মাংস বিতরণ করা। কিন্তু এটিই কোরবানির একমাত্র বা মূল উদ্দেশ্য নয়। বর্তমানে অনেকে কোরবানিকে কেবল একটি উৎসব বা সামাজিকতায় রূপ দিয়েছেন। শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, কোরবানির মূল শিক্ষা হলো মহান আল্লাহর নির্দেশের সামনে নিজের ইচ্ছাকে কোরবানি করা, যা ইব্রাহিম (আ.)-এর সুন্নত।

সাদা জামা কাপড়ের দাগ তুলতে কি করবেন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ৭:৩১ পূর্বাহ্ণ
সাদা জামা কাপড়ের দাগ তুলতে কি করবেন?

আলমারিতে যত দামি বা রঙিন পোশাকই থাকুক না কেন, একটি ধবধবে সাদা পোশাকের আভিজাত্যই আলাদা। কিন্তু সাদা কাপড়ের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এর যত্ন। একটু অসাবধানতায় চা, কফি, তরকারির ঝোল কিংবা কলমের কালির দাগ লাগলে পুরো পোশাকটিই নষ্ট হয়ে যায়।

অনেকেই ভাবেন, ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার করলেই বুঝি দাগ চলে যাবে; কিন্তু অতিরিক্ত ব্লিচ ব্যবহারে সাদা কাপড় দ্রুত হলদেটে ও খসখসে হয়ে পড়ে।

তাহলে উপায়? আপনার সাধের সাদা পোশাকের দাগ দূর করে সেটিকে আবার নতুনের মতো উজ্জ্বল করতে রান্নাঘরেরই কিছু সাধারণ উপাদান ম্যাজিকের মতো কাজ করতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই জাদুকরী উপায়গুলো:

১. লেবুর রস ও লবণের ব্যবহার

সাদা কাপড়ের যেকোনো তাজা দাগ, বিশেষ করে তরকারি বা চায়ের দাগ তুলতে লেবুর রস অত্যন্ত কার্যকর। লেবুর প্রাকৃতিক ব্লিচিং এজেন্ট কাপড়ের সুতা নষ্ট না করেই দাগ তুলে ফেলে। দাগ লাগা অংশে প্রথমে সামান্য লেবুর রস চিপে দিন। এরপর তার ওপর কিছুটা লবণ ছিটিয়ে আলতো করে ঘষুন। ১০-১৫ মিনিট এভাবে রেখে রোদে শুকিয়ে নিন, তারপর সাধারণ ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

২. সাদা ভিনেগার

কাপড়ের কালচে ভাব বা ঘামের হলদে দাগ দূর করতে সাদা ভিনেগার ওস্তাদ। এটি কাপড়ের ফেব্রিক নরম রাখতেও সাহায্য করে। এক বালতি পানিতে আধা কাপ সাদা ভিনেগার মিশিয়ে নিন। এবার দাগ লাগা সাদা কাপড়টি সেই পানিতে ১ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। এরপর স্বাভাবিকভাবে শ্যাম্পু বা ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে নিলে দাগের পাশাপাশি কাপড়ের দুর্গন্ধও চলে যাবে।

৩. বেকিং সোডার ম্যাজিক

কঠিন এবং পুরনো দাগ তোলার জন্য বেকিং সোডা দারুণ একটি উপাদান। সামান্য পানির সাথে বেকিং সোডা মিশিয়ে একটি ঘন পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্টটি কাপড়ের দাগের ওপর লাগিয়ে ৩০ মিনিট রেখে দিন। এরপর একটি পুরোনো টুথব্রাশ দিয়ে আলতো করে ঘষে ধুয়ে ফেলুন।

৪. কর্নফ্লাওয়ার বা ট্যালকম পাউডার

কাপড়ে বিরিয়ানি বা তরকারির তেল ছিটকে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে এই ট্রিকসটি খাটান। কাপড়ের তেলের দাগের ওপর সঙ্গে সঙ্গে বেশ কিছুটা ট্যালকম পাউডার বা কর্নফ্লাওয়ার ছড়িয়ে দিন। এটি কাপড়ের অতিরিক্ত তেল শুষে নেবে। ১০ মিনিট পর ব্রাশ দিয়ে পাউডার ঝেড়ে ফেলে লিকুইড সোপ দিয়ে ধুয়ে নিন।

৫. হাইড্রোজেন পারক্সাইড

সাদা কাপড়ে রক্তের দাগ বা বলপয়েন্ট কলমের কালির দাগ লাগলে সাধারণ ডিটারজেন্টে তা সহজে উঠতে চায় না। সমপরিমাণ পানি ও হাইড্রোজেন পারক্সাইড একসাথে মিশিয়ে দাগের ওপর স্প্রে করুন বা তুলা দিয়ে লাগিয়ে দিন। কিছুক্ষণের মধ্যে দাগ হালকা হতে শুরু করলে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

জরুরি কিছু সতর্কতা ও টিপস

সাদা কাপড়ে দাগ লাগার পর কখনোই তা গরম পানি দিয়ে ধোবেন না। গরম পানি দাগকে কাপড়ের সুতার সাথে স্থায়ীভাবে বসিয়ে দেয়।সবসময় ঠান্ডা বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করুন।

দাগ লাগার পর যত দ্রুত সম্ভব তা পরিষ্কার করার চেষ্টা করুন। দাগ যত পুরনো হবে, তা তোলা তত কঠিন হবে।

কাপড় ধোয়ার পর কড়া রোদে শুকাতে দিন। সূর্যের আলো সাদা কাপড়ের উজ্জ্বলতা বাড়াতে প্রাকৃতিক ব্লিচের কাজ করে।

ঝামেলাহীন এই ঘরোয়া উপায়গুলো মেনে চললে আপনার পছন্দের সাদা পোশাকটি থাকবে সবসময় নতুনের মতো ধবধবে ও আকর্ষণীয়।

সূত্র : যুগান্তর

গরমে শরীর ঠান্ডা রাখার প্রাকৃতিক উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ৭:১৯ পূর্বাহ্ণ
গরমে শরীর ঠান্ডা রাখার প্রাকৃতিক উপায়

গ্রীষ্মের তাপদাহে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। গরমে টিকতে না পেরে অনেকেই বাধ্য হয়ে এসি কিনছেন। কেউ বা কুলার ব্যবহার করছেন। কিন্তু সবার পক্ষে এসি বা কুলার ব্যবহার সম্ভব নয়। এদিকে গরমে ঘুমানোই দায়। এ পরিস্থিতিতে শরীরে ঠান্ডা রাখতে প্রাকৃতিক কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন। যেমন-

গ্রীষ্মের দাবদাহ থেকে বাঁচতে জানলা বা দরজায় খসখসের পর্দা ঝোলানোর প্রচলন অনেক আগে থেকেই চলে আসছে। পর্দায় সামান্য পানি ছিটিয়ে দিলে সারা ঘরে এক সুগন্ধি ও স্নিগ্ধ পরিবেশ তৈরি হয়। প্রাকৃতিকভাবে ঘরের তাপমাত্রা কমাতে এই পদ্ধতি বেশ কার্যকর।

বাইরে থেকে ফিরে ফ্রিজের ঠান্ডা পানি নয়, বরং মাটির কলসি বা মটকার পানি পান করার শান্তিই আলাদা। এতে প্রাণ জুড়িয়ে যায়। বাষ্পীভবন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মাটির পাত্র প্রাকৃতিকভাবে পানিকে ঠান্ডা রাখে। পরিবেশবান্ধব এই প্রাচীন উপায়টি আজও গ্রামাঞ্চলে বেশ জনপ্রিয়।

গরমে অনেকেরই ত্বকের জ্বালাভাব ও অস্বস্তি হয়। এ ধরনের সমস্যা দূর করতে চন্দন বাটা ব্যবহার করতে পারেন। কপালে বা ত্বকে চন্দনের প্রলেপ দিলে তা নিমেষেই শরীরকে শীতল করে। প্রাচীন কাল থেকে এ পদ্ধতিটি বেশ জনপ্রিয়।

শরীরকে ভিতর থেকে ঠান্ডা রাখতে প্রতিদিনের ডায়েটে এক গ্লাস ঘোল বা বাটারমিল্ক রাখতে পারেন। এতে প্রচুর পরিমাণে প্রোবায়োটিক ও ইলেকট্রোলাইট থাকায় হজমশক্তি বাড়ায়। ডিহাইড্রেশন ও হিট স্ট্রোকের হাত থেকে বাঁচতে এই পানীয় বেশ উপকারী।

গ্রীষ্মকালের অত্যন্ত রিফ্রেশিং ও জনপ্রিয় পানীয় আম পান্না। কাঁচা আম পুড়িয়ে এটি তৈরি করা হয়। আম পান্না শরীরে লবণের ঘাটতি মেটায় এবং হিটস্ট্রোকের হাত থেকে রক্ষা করে। তীব্র গরমে শরীর ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি শক্তিফিরিয়ে আনতেও এই পানীয় বেশ উপকারী।

কড়া রোদের হাত থেকে ছাদ বাঁচাতে অনেকেই চুনের সাদা প্রলেপ ব্যবহার করেন। সাদা রঙ সূর্যের তাপকে প্রতিফলিত করে, এর ফলে ঘরের ভিতরের তাপমাত্রা অনেকটাই কমে যায়। আধুনিক কালেও ঘর ঠান্ডা রাখার জন্য এ পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন।

সূত্র : সমকাল