খুঁজুন
রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ১৫ চৈত্র, ১৪৩২

বৈধ ভিসা থাকলেও যেসব কারণে আটকে যেতে পারে বিদেশযাত্রা?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৪৪ এএম
বৈধ ভিসা থাকলেও যেসব কারণে আটকে যেতে পারে বিদেশযাত্রা?

বিদেশ ভ্রমণের প্রস্তুতি বলতে আমরা সাধারণত বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা আর টিকিটকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। কিন্তু অনেকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খেয়াল করেন না, সেটি হলো পাসপোর্টের শারীরিক অবস্থা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাসপোর্টের মেয়াদ ঠিক থাকলেও সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিমানবন্দরেই যাত্রা আটকে যেতে পারে, এমনকি গন্তব্য দেশে প্রবেশেও বাধা আসতে পারে।

কেন পাসপোর্টের অবস্থা এত গুরুত্বপূর্ণ

অনেক ভ্রমণকারী মনে করেন, পাসপোর্টের মেয়াদ ও ভিসা ঠিক থাকলেই ভ্রমণে কোনো সমস্যা হবে না। বাস্তবে বিমান সংস্থা ও ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা পাসপোর্টের সত্যতা ও অবস্থা খুব সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা করেন।

পাসপোর্টের কোণা ছেঁড়া, পানির দাগ, পৃষ্ঠা ছিঁড়ে যাওয়া কিংবা ডেটা চিপে আঁচড় থাকলেও তা সন্দেহের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিমানবন্দরগুলোতে চেক-ইনের সময়ই এমন পাসপোর্ট নিয়ে যাত্রীদের আটকে দেওয়া হতে পারে, যদি মনে হয় সীমান্ত পরীক্ষায় তা গ্রহণযোগ্য হবে না।

বিশ্বজুড়ে বাড়ছে এ ধরনের সমস্যা

ব্যবসা ও অবকাশ যাপনের উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ সমস্যাও বাড়ছে। অনেক যাত্রী বৈধ ভিসা থাকার পরও ক্ষতিগ্রস্ত পাসপোর্টের কারণে বিপাকে পড়ছেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশ পাসপোর্ট পরীক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে কঠোর। সামান্য ত্রুটির কারণেও ছুটি নষ্ট হওয়া, জরুরি সফর বাতিল হওয়া বা অতিরিক্ত খরচে নতুন টিকিট কাটার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

ক্ষতিগ্রস্ত পাসপোর্ট কেন ঝুঁকিপূর্ণ

আধুনিক পাসপোর্টে মাইক্রোচিপ, হলোগ্রাম এবং মেশিনে পড়ার উপযোগী বিশেষ অংশ থাকে। এসবের কোনোটি নষ্ট হলে স্ক্যানারে সমস্যা হতে পারে। আবার সীমান্ত কর্মকর্তারা পাসপোর্টে কারসাজির সন্দেহও করতে পারেন, ফলে প্রবেশে বাধা আসার ঝুঁকি বাড়ে।

ভ্রমণকারীদের সাধারণ কিছু ভুল

১. পৃষ্ঠা ছেঁড়া বা হারিয়ে যাওয়া

২. পানির বা অন্য তরলের দাগ

৩. লেমিনেশন উঠে যাওয়া বা বাঁধাই ঢিলে হয়ে যাওয়া

৪. ছবির পাশে কফির দাগ বা ময়লা

৫. কখন পাসপোর্টকে ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ ধরা হয়

সাধারণত কর্তৃপক্ষ দুইভাবে বিষয়টি বিবেচনা করে—

১. আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত : ছবি ও তথ্য পড়া যায়, কিন্তু পৃষ্ঠা ছেঁড়া বা দাগ রয়েছে।

২. গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত: ছবি বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অস্পষ্ট, ফলে পাসপোর্ট ব্যবহার অনুপযোগী।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত পাসপোর্টও বাতিল হতে পারে, তাই সন্দেহ থাকলে নতুন পাসপোর্ট করা নিরাপদ।

ইউএই বিমানবন্দরগুলোতে এয়ারলাইন্সের অবস্থান

দুবাই, আবুধাবি ও শারজাহ থেকে পরিচালিত এয়ারলাইন্সগুলো আইনগতভাবে নিশ্চিত করতে বাধ্য যে যাত্রীরা গন্তব্য দেশের প্রবেশ শর্ত পূরণ করছেন। পাসপোর্টে পানির দাগ, ছেঁড়া পৃষ্ঠা বা চিপের সমস্যা থাকলে ভিসা বৈধ হলেও তারা বোর্ডিং বাতিল করতে পারে।

ভ্রমণের আগে কীভাবে পাসপোর্ট পরীক্ষা করবেন

ভ্রমণের আগে কয়েকটি বিষয় দেখে নেওয়া জরুরি—

১. ছবির পৃষ্ঠা অক্ষত ও স্পষ্ট আছে কি না

২. বাঁধাই শক্ত আছে কি না এবং কোনো পৃষ্ঠা ঢিলে হয়েছে কি না

৩. ই-চিপ ঠিকভাবে কাজ করছে কি না

৪. সব তথ্য পরিষ্কার ও অক্ষত আছে কি না

এসব বিষয়ে সন্দেহ থাকলে ভ্রমণের আগে নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করা উচিত।

পাসপোর্ট ক্ষতিগ্রস্ত হলে কী করবেন

ভ্রমণের আগে : নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে হবে। অনেক দেশে ‘Lost/Damaged Passport’ ক্যাটাগরিতে পুনঃইস্যুর আবেদন করা যায়।

বিমানবন্দরে : এয়ারলাইন্সকে জানাতে হবে। বোর্ডিং বাতিল হলে সাধারণত দূতাবাস থেকে জরুরি ভ্রমণ নথি নিতে হতে পারে, যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিজ দেশে ফেরার জন্য ব্যবহৃত হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত পাসপোর্ট নিয়ে ইউএই নাগরিকদের দেশে ফেরা

সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাগরিকদের জন্য ‘রিটার্ন ডকুমেন্ট’ নামে একটি অস্থায়ী ভ্রমণ নথি রয়েছে। অনুমোদনের পর প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যে এটি ইস্যু করা যায়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট বা অ্যাপ এবং ইউএই পাস ব্যবহার করে আবেদন করা যায়। ক্ষতিগ্রস্ত পাসপোর্টের ক্ষেত্রে মূল কপি বা লিখিত ব্যাখ্যা, হারানো পাসপোর্টের ক্ষেত্রে পুলিশ রিপোর্ট, নবজাতকের ক্ষেত্রে জন্মসনদ প্রয়োজন হতে পারে। এই নথি ইমেইলে পাঠানো হয় এবং কেবল ইউএই-তে ফেরার জন্যই বৈধ থাকে।

এ ছাড়া ভ্রমণের সময় প্রয়োজনীয় নথির কপি সঙ্গে রাখা, ভিসা ও বিমা নিশ্চিত করা এবং প্রতারণা সম্পর্কে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিদেশ ভ্রমণ আনন্দের হলেও ছোট একটি অসাবধানতা পুরো পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে পারে। তাই ভিসার পাশাপাশি পাসপোর্টের শারীরিক অবস্থার দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

সূত্র : গালফ নিউজ

যুক্তরাষ্ট্রে ‘ভয়ংকর অপরাধে’ গ্রেপ্তার ১০ বাংলাদেশির পরিচয় প্রকাশ

প্রবাস ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ৭:২০ এএম
যুক্তরাষ্ট্রে ‘ভয়ংকর অপরাধে’ গ্রেপ্তার ১০ বাংলাদেশির পরিচয় প্রকাশ

যুক্তরাষ্ট্রের জননিরাপত্তার জন্য ‘ভয়ংকর অপরাধী’ হিসেবে চিহ্নিত ১০ বাংলাদেশির ছবিসহ নাম ও পরিচয় প্রকাশ করেছে দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) গত এক বছরে দেশজুড়ে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪ লাখ নথিপত্রহীন বা অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে। এদের মধ্যে ৫৬ হাজারের বিরুদ্ধে অতীতে গুরুতর অপরাধে সাজা খাটার রেকর্ড রয়েছে এবং তারা সাজার মেয়াদ শেষে মুক্তি পেয়েছিলেন।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন, মাদক পাচার, জালিয়াতি, সশস্ত্র ডাকাতি এবং হামলার মতো গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত বা অভিযুক্ত ব্যক্তিরা রয়েছে। ডিএইচএসের ডেপুটি সেক্রেটারি লরেন বেস বলেন, ‘যারা শিশুদের ওপর হামলা চালায় বা নিরীহ মানুষের ক্ষতি করে, যুক্তরাষ্ট্রে তাদের কোনো স্থান নেই। তারা সমাজের জন্য মারাত্মক হুমকি।’ প্রশাসন এই অপরাধীদের ‘নিকৃষ্টতম’ অপরাধী হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত ১০ বাংলাদেশির নাম, পরিচয় ও অভিযোগ-

হোমল্যান্ড সিকিউরিটির প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী অভিযুক্ত বাংলাদেশিরা হলেন- ফোর্ট স্কট, কানসাসের কাজী আবু সাঈদ। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, অপ্রাপ্তবয়স্কের ওপর নিপীড়ন-শোষণ, অবৈধ জুয়া পরিচালনা এবং জুয়া সংক্রান্ত অপরাধ।

রেলি নর্থ ক্যারোলাইনার শহীদ হাসান। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ-গোপন অস্ত্র বহন এবং দোকানে চুরি।

নিউ ইয়র্কে বাফেলোর মোহাম্মদ আহমেদের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ রয়েছে।

কুইন্স নিউ ইয়র্ক সিটির মো. হোসেনের বিরুদ্ধেও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ আনা হয়েছে।

চ্যান্টিলি ভার্জিনিয়ার মেহতাবউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ- গাঁজা এবং হ্যালুসিনোজেনিক ড্রাগ বিক্রি।

মার্লিন, টেক্সাসের নওয়াজ খান। এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিপজ্জনক মাদক সংক্রান্ত অভিযোগ আনা হয়েছে।

পেন্সকোলা, ফ্লোরিডার শাহরিয়ার আবিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ- চুরি।

মাউন্ট ক্লেমেন্স মিশিগানের আলমগীর চৌধুরী। এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে।

মানাসাস ভার্জিনিয়ার ইশতিয়াক রফিকের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন লঙ্ঘন এবং সিনথেটিক মাদক রাখার অভিযোগ রয়েছে।

ফিনিক্স অ্যারিজোনার কনক পারভেজের বিরুদ্ধে রয়েছে জালিয়াতির অভিযোগ।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানিয়েছে, এই অভিযান মূলত তাদের লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে যারা জননিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। সহিংস এবং শোষণমূলক অপরাধের বিরুদ্ধে বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

যে পরিমাণ সম্পদ থাকলে হজ ফরজ?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ৭:১২ এএম
যে পরিমাণ সম্পদ থাকলে হজ ফরজ?

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হজ। জীবনে একবার হলেও আল্লাহর ঘর বায়তুল্লাহ-এ উপস্থিত হয়ে হজ আদায় করা প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর ফরজ। তবে ‘সামর্থ্য’ শব্দটি নিয়েই সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন ও বিভ্রান্তি দেখা যায়, কত টাকা থাকলে হজ ফরজ হবে, কী ধরনের সম্পদ থাকলে তা বাধ্যতামূলক হবে, কিংবা ঋণ থাকলে কী হবে—এসব বিষয়ে অনেকেরই পরিষ্কার ধারণা নেই।

ইসলামি শরিয়তে হজ ফরজ হওয়ার জন্য কিছু নির্দিষ্ট শর্ত নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এসব শর্ত পূরণ হলে একজন মুসলমানের জন্য হজ আদায় করা আবশ্যক হয়ে পড়ে। নিচে সেই শর্তগুলো ও ‘সামর্থ্য’ বিষয়টির বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরা হলো—

হজ ফরজ হওয়ার মৌলিক পাঁচ শর্ত

১. মুসলমান হওয়া

২. মানসিকভাবে সুস্থ হওয়া

৩. সাবালক হওয়া

৪. স্বাধীন (দাসত্বমুক্ত) হওয়া

৫. সামর্থ্য থাকা

এই পাঁচটির মধ্যে ‘সামর্থ্য’ শর্তটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং বাস্তব জীবনে সবচেয়ে বেশি আলোচিত।

সামর্থ্যের ব্যাখ্যা

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহর জন্য এই ঘরের হাজ করা লোকেদের ওপর আবশ্যক, যার সে পর্যন্ত পৌঁছার সামর্থ্য আছে।’ (সুরা আল ইমরান : ৯৭)

রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালাম-এর সিনিয়র মুফতি মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী বলেন, এখানে ‘সামর্থ্য’ বলতে মূলত দুই ধরনের সক্ষমতাকে বোঝানো হয়েছে। তা হলো, শারীরিক সক্ষমতা ও আর্থিক সক্ষমতা।

শারীরিক সামর্থ্য

হজ ফরজ হওয়ার জন্য ব্যক্তিকে এমন সুস্থ হতে হবে, যাতে তিনি নিজে মক্কায় গিয়ে হজের যাবতীয় আমল আদায় করতে পারেন। গুরুতর অসুস্থতা বা অক্ষমতা থাকলে সেই অবস্থায় হজ ফরজ হয় না।

কতটুকু সম্পদ হলে হজ ফরজ

হজ ফরজ হওয়ার জন্য কেবল ধনী হওয়া জরুরি নয়; বরং নির্দিষ্ট কিছু আর্থিক শর্ত পূরণ হতে হবে—

১. নিজের মৌলিক প্রয়োজন (খাবার, বাসস্থান, চিকিৎসা ইত্যাদি) পূরণের পর অতিরিক্ত অর্থ থাকতে হবে।

২. হজে যাওয়া-আসা ও সৌদি আরবে থাকা-খাওয়ার খরচ থাকতে হবে।

৩. হজের সময় পরিবারের ভরণপোষণের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ রেখে যেতে হবে।

এই শর্তগুলো পূরণ হলে হজ ফরজ হয়ে যাবে।

ঋণ থাকলে করণীয়

ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে আগে ঋণ পরিশোধ প্রাধান্য পাবে। যদি জমাকৃত অর্থ দিয়ে ঋণ ও হজ দুটি সম্ভব না হয়, তাহলে হজ ফরজ হবে না। আগে ঋণ পরিশোধ করতে হবে।

‘মৌলিক প্রয়োজন’ কী?

মৌলিক প্রয়োজন বলতে অপচয় বাদ দিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য যা অপরিহার্য, তা-ই বোঝানো হয়েছে। যেমন—বসবাসের জন্য একটি ঘর, প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, পেশাসংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি এবং জীবিকার জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ।

তাই একমাত্র বসতবাড়ি বা প্রয়োজনীয় গাড়ি বিক্রি করে হজ করা ফরজ নয়। তবে একাধিক সম্পদ থাকলে অতিরিক্ত অংশ সামর্থ্যের মধ্যে গণ্য হবে।

একইভাবে বিয়েও মৌলিক প্রয়োজনের অন্তর্ভুক্ত। কারো বিয়ের প্রয়োজন থাকলে, হজের আগে বিয়ে প্রাধান্য পাবে।

শারীরিকভাবে অক্ষম হলে করণীয়

যদি সাময়িক অসুস্থতা থাকে, তাহলে সুস্থ হওয়ার অপেক্ষা করতে হবে। আর স্থায়ীভাবে অক্ষম হলে অন্য কাউকে দিয়ে ‘বদলি হজ’ করানো যাবে। এ বিষয়ে সহিহ হাদিসে নির্দেশনা পাওয়া যায়।

নারীদের ক্ষেত্রে বিশেষ শর্ত

নারীর হজ ফরজ হওয়ার জন্য মাহরাম সঙ্গে থাকা শর্ত। বোখারি ও মুসলিমে এ বিষয়ে হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তবে নারীর হজের জন্য স্বামীর অনুমতির শর্ত নেই। ওপরের শর্তগুলো পাওয়া গেলে স্বামীর অনুমতি ছাড়াই হজ করতে পারবেন নারীরা।

সূত্র : আল-শারহুল মুমতি, ৭ /৫-২৮।

প্রস্রাব করে পানি নাকি টিস্যু, কোনটি নেওয়া জরুরি?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ৭:০৫ এএম
প্রস্রাব করে পানি নাকি টিস্যু, কোনটি নেওয়া জরুরি?

প্রশ্ন : কেউ যদি প্রস্রাব করার পর শুধু টিস্যু বা মাটির ঢিলা ব্যবহার করে শুকিয়ে নেয় এবং অজু করে নামাজ পড়ে, তবে কি তার নামাজ হবে না? এ ক্ষেত্রে কি পানি ব্যবহার করা জরুরি?

উত্তর : প্রস্রাবের পর লজ্জাস্থানে শুধু মাটির ঢিলা বা টিস্যু ব্যবহার করলেও পাক হয়ে যাবে এবং এরপর অজু করে নামাজ পড়াও সহিহ হবে। তবে ঢিলা বা টিস্যু ব্যবহারের পর পানিও ব্যবহার করা যে ভালো, তা তো বলার অপেক্ষা রাখে না। (কিতাবুল আছার, ইমাম মুহাম্মাদ, বর্ণনা ১৪৬; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, বর্ণনা ৩৯৭৮, ৩৯৮৪; বাদায়েউস সানায়ে ১/১০৪; আলবাহরুর রায়েক ১/২২৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৪৮; রদ্দুল মুহতার ১/৩৩৮)

উল্লেখ্য, টয়লেটে প্রবেশের আগে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার দোয়া পড়া সুন্নত। রাসুল (স.) টয়লেটে প্রবেশের আগে এই দোয়া পড়তেন—

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল খুবুছি ওয়াল খাবায়িছ।

অর্থ : হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই সব নাপাক ও ক্ষতিকর জিনিস (শয়তান ও অপবিত্রতা) থেকে।

এ দোয়ার মাধ্যমে অদৃশ্য ক্ষতি ও অশুভ প্রভাব থেকে নিরাপত্তা প্রার্থনা করা হয়। বোখারি : ১৪২ ও মুসলিম : ৩৭৫)