খুঁজুন
বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

খাওয়ার পর বসে থাকা না হাঁটা—কোনটি বেশি স্বাস্থ্যকর?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:৩২ পূর্বাহ্ণ
খাওয়ার পর বসে থাকা না হাঁটা—কোনটি বেশি স্বাস্থ্যকর?

খাবার খাওয়ার পর হালকা হাঁটার অভ্যাস দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। অনেকেই মনে করেন এটি শুধু একটি ট্রেন্ড, কিন্তু বাস্তবে খাবারের পর অল্প সময় হাঁটা শরীরের জন্য বেশ উপকারী হতে পারে। হজম ভালো রাখা থেকে শুরু করে ওজন নিয়ন্ত্রণ পর্যন্ত নানা দিকেই এর ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, খাবার খাওয়ার পর হাঁটার উপকারিতা, সম্ভাব্য কিছু অসুবিধা এবং কতক্ষণ ও কীভাবে হাঁটা সবচেয়ে ভালো।

খাবার খাওয়ার পর হাঁটার উপকারিতা

হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে : খাবার খাওয়ার পর হাঁটলে পাকস্থলী ও অন্ত্র সক্রিয় হয়। এতে খাবার সহজে হজম হয় এবং পেট ভারী লাগার সমস্যা কমে। শরীরের নড়াচড়া হজমের গতি বাড়াতে সাহায্য করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস হজমতন্ত্রের বিভিন্ন অংশ সুস্থ রাখতে ভূমিকা রাখে। এর মধ্যে মুখ, খাদ্যনালি, পাকস্থলী, ক্ষুদ্র ও বৃহৎ অন্ত্রসহ হজমের সঙ্গে জড়িত অঙ্গগুলো রয়েছে।

রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে : খাবারের পর হালকা হাঁটা রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়া ঠেকাতে পারে। এটি বিশেষ করে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য বেশ উপকারী।

গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারের পর ১০ মিনিট হালকা হাঁটা একবারে দীর্ঘ সময় হাঁটার চেয়ে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে বেশি কার্যকর হতে পারে। তবে ডায়াবেটিস না থাকলেও এই অভ্যাস রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক।

হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক : নিয়মিত হাঁটা হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। এটি রক্তচাপ ও ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে এবং হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।

প্রতিদিন খাবারের পর তিনবার ১০ মিনিট করে হাঁটলে সহজেই দৈনিক প্রয়োজনীয় শারীরিক কার্যকলাপ সম্পন্ন করা যায়।

ওজন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে : ওজন কমাতে হলে শরীরে যত ক্যালরি প্রবেশ করে, তার চেয়ে বেশি ক্যালরি খরচ হওয়া প্রয়োজন। খাবারের পর হাঁটা ক্যালরি খরচ বাড়াতে সাহায্য করে এবং ধীরে ধীরে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হতে পারে।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে : যারা নিয়মিত হাঁটেন না, তাদের ক্ষেত্রে খাবারের পর হাঁটার অভ্যাস রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য এটি উপকারী হতে পারে।

সম্ভাব্য অসুবিধা

খাবারের পর হাঁটার তেমন কোনো বড় ক্ষতিকর দিক নেই। তবে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে খুব দ্রুত বা বেশি জোরে হাঁটলে পেটে অস্বস্তি, গ্যাস, বমিভাব বা ডায়রিয়ার মতো সমস্যা হতে পারে।

এ ধরনের সমস্যা হলে খাবারের পর ১০ থেকে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করে হাঁটা শুরু করা ভালো। পাশাপাশি হাঁটার গতি হালকা রাখাই নিরাপদ।

কতক্ষণ হাঁটা সবচেয়ে ভালো

খাবারের পর প্রায় ১০ মিনিট হাঁটাই যথেষ্ট। এতে উপকার পাওয়া যায় এবং পেটের সমস্যা হওয়ার ঝুঁকিও কম থাকে। দিনে তিন বেলা খাবারের পর ১০ মিনিট করে হাঁটলে মোট ৩০ মিনিট হাঁটা সম্পন্ন হয়, যা শরীরের জন্য উপকারী।

হাঁটার গতি কেমন হওয়া উচিত

খাবারের পর দৌড়ানো বা খুব দ্রুত হাঁটা ভালো নয়। হজমের সময় অতিরিক্ত জোরে ব্যায়াম করলে পেটের সমস্যা হতে পারে।

হালকা থেকে মাঝারি গতিতে হাঁটুন। এমনভাবে হাঁটুন যাতে হৃৎস্পন্দন একটু বাড়ে, কিন্তু শ্বাস নিতে কষ্ট না হয়। ঘণ্টায় প্রায় ৫ কিলোমিটারের কম গতিতে হাঁটাই উপযুক্ত।

খাবার খাওয়ার পর হালকা হাঁটা একটি সহজ কিন্তু কার্যকর স্বাস্থ্যকর অভ্যাস। এটি হজম ভালো রাখে, রক্তে শর্করা ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, হৃদ্‌স্বাস্থ্য উন্নত করে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

তবে হাঁটার সময় ও গতি ঠিক রাখা জরুরি। খুব বেশি জোর না দিয়ে নিয়মিত অল্প সময় হাঁটলেই উপকার পাওয়া যায়। যাদের আগে থেকে কোনো শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তারা নতুন কোনো ব্যায়াম শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে ভালো। দৈনন্দিন জীবনে এই ছোট অভ্যাসটি যুক্ত করলে দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকা অনেক সহজ হতে পারে।

সূত্র : Health line

সদরপুরের পদ্মাবেষ্টিত ইউনিয়নে নির্মাণ হচ্ছে পরিষদ ভবন, আবসান হবে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৮:১২ পূর্বাহ্ণ
সদরপুরের পদ্মাবেষ্টিত ইউনিয়নে নির্মাণ হচ্ছে পরিষদ ভবন, আবসান হবে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পদ্মাবেষ্টিত প্রত্যন্ত চরাঞ্চল দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়ন অবশেষে পেতে যাচ্ছে নিজস্ব ইউনিয়ন পরিষদ ভবন। দীর্ঘদিন ধরে পরিষদ ভবন না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের বিভিন্ন নাগরিক সেবা নিতে ট্রলারে প্রায় দুই ঘণ্টা পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে উপজেলা সদরে যেতে হতো। প্রায় দুই হাজার পরিবারের এই ইউনিয়নে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উচ্ছ্বাস।

মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে ইউনিয়নের নুরুদ্দিন সরদার কান্দী বাজার সংলগ্ন এলাকায় সেমি-পাকা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাজহারুল ইসলাম।

এর আগে একই ইউনিয়নের উপজেলা প্রশাসন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দীন সরদার, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেন, উপজেলা প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব ভবন না থাকায় প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণে তাদের নানা ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হতো। নতুন ভবন নির্মিত হলে ইউনিয়নবাসী নিজ এলাকাতেই সহজে নাগরিক সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। এতে চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

এদিকে বহুদিনের প্রত্যাশিত ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশা, দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে চরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।

প্রিয়জন হারানোর শোকে কাতর ব্যক্তিকে যে ৭ কথা বলা উচিত নয়?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৮:০৪ পূর্বাহ্ণ
প্রিয়জন হারানোর শোকে কাতর ব্যক্তিকে যে ৭ কথা বলা উচিত নয়?

আপনার প্রিয়জন হারানোর শোকে কাতর কোনো বন্ধু বা আত্মীয়ের পাশে দাঁড়িয়ে আমরা প্রায়ই বুঝতে পারি না কী বলা উচিত। আমরা তাদের সান্ত্বনা দিতে চাই, কিন্তু অনেক সময় আমাদের বলা কথাগুলো হিতে বিপরীত হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শোক কোনো সহজ বিষয় নয় এবং একে অন্যের জন্য আরামদায়ক করার কোনো সংক্ষিপ্ত পথ নেই।

নিচে এমন ৭টি কথার তালিকা দেওয়া হলো যা প্রিয়জন হারানো ব্যক্তিকে বলা থেকে বিরত থাকা উচিত:

১. সবকিছুই কোনো না কোনো কারণে ঘটে: এই কথাটি শোকাতুর ব্যক্তির কষ্টকে ছোট করে ফেলে। কারণ, সব শোকের পেছনে কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা থাকে না এবং কোনো কারণই প্রিয়জনকে হারানোর অভাব পূরণ করতে পারে না।

২. আমি ঠিক জানি আপনার কেমন লাগছে: শোক একটি অত্যন্ত ব্যক্তিগত অনুভূতি এবং প্রত্যেকের অভিজ্ঞতা আলাদা। এমনকি আপনি নিজে কাউকে হারিয়ে থাকলেও, অন্যের শোকের সাথে নিজের তুলনা করা উচিত নয়।

৩. অন্তত আপনি প্রস্তুতির সময় পেয়েছিলেন: দীর্ঘ অসুস্থতার পর কেউ মারা গেলে অনেকেই এটি বলেন। কিন্তু প্রিয়জন চলে যাবে এটা আগে থেকে জানলেও তার চলে যাওয়ার কষ্ট বা ব্যথা একটুও কমে না।

৪. অন্তত আপনার অন্য সন্তান বা পরিবারের সদস্যরা তো আছে: এই কথার মাধ্যমে বোঝানো হয় যে একজনের অভাব অন্যজন দিয়ে পূরণ করা সম্ভব। এটি মৃত ব্যক্তির গুরুত্বকে খাটো করে দেখায়।

৫. শক্ত হোন: এই কথাটি শোকাতুর ব্যক্তির ওপর আবেগ চেপে রাখার জন্য এক ধরনের মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। শোকের সময় ভেঙে পড়াটাই স্বাভাবিক এবং অনেক সময় এটাই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

৬. এখন সব ভুলে সামনে এগিয়ে যেতে হবে: শোক কাটানোর কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। কাউকে ভুলে যাওয়া বা সরিয়ে দেওয়ার নাম শোক কাটিয়ে ওঠা নয়, বরং শোককে জীবনের অংশ হিসেবে মেনে নিতে শিখতে অনেক সময়ের প্রয়োজন হয়।

৭. শুধু ভালো স্মৃতিগুলোর কথা ভাবুন: শোকের শুরুতে ভালো স্মৃতিগুলোও অনেক সময় কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায় কারণ সেই মানুষটির অনুপস্থিতি আরও প্রকটভাবে অনুভূত হয়। শোকাতুর ব্যক্তি কীভাবে শোক পালন করবেন তা নির্ধারণ করে দেওয়া উচিত নয়।

সঠিকভাবে পাশে দাঁড়ানোর উপায়

সান্ত্বনা দেওয়ার বদলে আপনার উপস্থিতিই সবচেয়ে বড় সমর্থন হতে পারে। আপনি বলতে পারেন, ‘আমি জানি না কী বলা উচিত, তবে আমি তোমার পাশে আছি’। এছাড়া শুধু কথা না বলে ঘরের কাজে সাহায্য করা বা নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়ার মাধ্যমেও দীর্ঘমেয়াদী সমর্থন দেওয়া সম্ভব। মনে রাখবেন, লক্ষ্য শোক দূর করা নয়, বরং তাকে অনুভব করানো যে এই কঠিন যাত্রায় তিনি একা নন।

তথ্যসূত্র: ভেরিওয়েল মাইন্ড

খবরের কাগজে গরম খাবার খান, এতে শরীরে কী কী ঘটে জানুন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৭:৫৮ পূর্বাহ্ণ
খবরের কাগজে গরম খাবার খান, এতে শরীরে কী কী ঘটে জানুন

শহর কিংবা গ্রামের ব্যস্ত মোড়ে গরম গরম সিঙাড়া, চপ, ঝালমুড়ি বা পরোটা খবরের কাগজে মুড়ে খাওয়ার দৃশ্য আমাদের অত্যন্ত পরিচিত। বিক্রেতা এবং ক্রেতা উভয় পক্ষই একে সস্তা ও সুবিধাজনক মনে করেন। কিন্তু এই আপাত নিরীহ অভ্যাসের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি। খবরের কাগজে ব্যবহৃত কালির বিষাক্ত উপাদানগুলো কীভাবে নীরবে আপনার শরীরে প্রবেশ করছে, তা আমাদের অনেকেরই ধারণার বাইরে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, খাবারটি যদি অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর পরিবেশে এবং পরিষ্কারভাবে রান্না করা হয়, তবুও খবরের কাগজের সংস্পর্শে আসার মাত্রই তা বিষাক্ত হয়ে উঠতে পারে। এই বিপদজনক প্রবণতা রুখতে ভারতের ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ড অথরিটি (FSSAI) এবং কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণায়ল এখন সোচ্চার হয়েছে। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় তারা কঠোর সতর্কতা জারি করে জানিয়েছে যে, খবরের কাগজে খাবার পরিবেশন কেবল অস্বাস্থ্যকর নয়, বরং এটি শরীরের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির কারণ হতে পারে।

খবরের কাগজে মুড়ে খাবার খাওয়ার ফলে শরীরে ঠিক কী কী ঘটে, তা নিচে আলোচনা করা হলো:

১. খাবারের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে বিষাক্ত কালি

খবরের কাগজে মুদ্রণের জন্য যে কালি ব্যবহার করা হয়, তাতে একাধিক বায়ো-অ্যাকটিভ (bioactive) উপাদান থাকে। যখন গরম বা তৈলাক্ত খাবার এই কাগজের সংস্পর্শে আসে, তখন কাগজের কালি খুব সহজেই খাবারের সঙ্গে মিশে যায়। এমনকি খাবারটি যদি অত্যন্ত স্বাস্থ্যকরভাবে রান্না করা হয়, তবুও খবরের কাগজে রাখার ফলে তা শরীরের জন্য বিষাক্ত হয়ে ওঠে।

২. রাসায়নিক ও রঞ্জক পদার্থের প্রভাব

মুদ্রণের কালিতে ক্ষতিকারক রং, পিগমেন্ট (pigments), বাইন্ডার এবং প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করা হয়। এই রাসায়নিক উপাদানগুলো খাবারের মাধ্যমে সরাসরি শরীরে প্রবেশ করে। এছাড়া রিসাইকেল করা কাগজ বা কার্ডবোর্ড বক্সের ক্ষেত্রে ‘থ্যালেট’ (phthalate)-এর মতো রাসায়নিক থাকার সম্ভাবনা থাকে, যা তীব্র বিষক্রিয়া এবং হজমের সমস্যা তৈরি করতে পারে।

৩. জীবাণুর সংক্রমণ ব্যবহৃত

খবরের কাগজ বিভিন্ন হাত ঘুরে আসে এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রাখা হতে পারে। ফলে এতে বিভিন্ন ধরনের রোগজীবাণু বা প্যাথোজেনিক মাইক্রো-অর্গানিজম থাকতে পারে, যা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

৪. ক্যানসারের ঝুঁকি ও দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি

বিশেষজ্ঞদের মতে, খবরের কাগজে রাখা খাবার দীর্ঘকাল খাওয়ার ফলে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে শিশু, কিশোর, বয়স্ক এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে এটি ক্যানসার-সংক্রান্ত জটিলতা তৈরির ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও সতর্কতা

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক এবং FSSAI সাধারণ মানুষকে খবরের কাগজে মোড়ানো বা ঢাকা দেওয়া খাবার বর্জন করার আহ্বান জানিয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা বিক্রেতাদের এই অভ্যাস থেকে বিরত থাকার এবং জনসাধারণকে এ বিষয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। নিরাপদ খাদ্যাভ্যাসের স্বার্থে খাবার পরিবেশনের জন্য নির্দিষ্ট ফুড-গ্রেড কাগজ বা কলাপাতার মতো প্রাকৃতিক বিকল্প ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

আপনার সামান্য সচেতনতাই আপনাকে এবং আপনার পরিবারকে বড় ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে পারে। তাই রাস্তার খাবার খাওয়ার সময় কাগজের বদলে স্বাস্থ্যসম্মত মাধ্যম বেছে নিন।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি