খুঁজুন
বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

কথা বলার সময় মনের অজান্তেই হচ্ছে যে ৮ ‍ভুল?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ
কথা বলার সময় মনের অজান্তেই হচ্ছে যে ৮ ‍ভুল?

বন্ধুদের সঙ্গে দিনের একটি ইতিবাচক আলাপ আমাদের মানসিক প্রশান্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, একটি অস্বস্তিকর বা বিশ্রী আলাপ আমাদের দিনের পর দিন মানসিক চাপে রাখতে পারে। সম্পর্কের উন্নতি এবং সঠিক যোগাযোগের জন্য আমাদের কিছু সাধারণ কিন্তু ক্ষতিকর ভুল এড়িয়ে চলা প্রয়োজন।

মনোবিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের মতে, আমরা অজান্তেই কথোপকথনের সময় এমন কিছু ভুল করি যা আমাদের সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। নিচে এমন ৮টি সাধারণ ভুলের কথা তুলে ধরা হলো:

১. ‘বুমেরাং-স্কিং’ বা উত্তর দেওয়ার জন্য প্রশ্ন করা

অনেক সময় আমরা কাউকে কোনো প্রশ্ন করি শুধু সেই বিষয়ে নিজের উত্তরটি দেওয়ার সুযোগ পাওয়ার জন্য। একে বলা হয় ‘বুমেরাং-স্কিং’। এটি মানুষকে আপনার সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা দেয় এবং অন্যপক্ষ মনে করতে পারে যে আপনি তাদের গুরুত্ব দিচ্ছেন না।

২. কথা মাঝপথে থামিয়ে দেওয়া

কারো কথা শেষ হওয়ার আগেই কথা বলা শুরু করা অত্যন্ত অভদ্রতা এবং অসম্মানজনক। এটি অন্য ব্যক্তিকে তুচ্ছজ্ঞান করার শামিল এবং এর ফলে সে নিজেকে গুরুত্বহীন মনে করতে পারে।

৩. শুধু নিজের সম্পর্কে কথা বলা

কথোপকথনের সময় ভারসাম্য থাকা জরুরি। সারাক্ষণ শুধু নিজের জীবনের গল্প করলে অন্যপক্ষ বিরক্ত হতে পারে এবং মনে করতে পারে যে তার উপস্থিতি আপনার কাছে অর্থহীন। একটি ভালো আলোচনা হলো টেনিস খেলার মতো, যেখানে বল উভয় পাশ থেকেই আদান-প্রদান হতে হয়।

৪. অতিরিক্ত বা অযাচিত উপদেশ দেওয়া

কেউ কোনো সমস্যা নিয়ে আপনার কাছে এলে আমরা প্রায়ই সমাধান দিতে ঝাঁপিয়ে পড়ি [৪]। কিন্তু অনেক সময় মানুষ শুধু তার মনের কথাটুকু জানাতে চায়, উপদেশ শুনতে নয়। না চাইতেই উপদেশ দিলে অন্য ব্যক্তি নিজেকে অসহায় বা অক্ষম মনে করতে পারে। এর বদলে তার অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করুন এবং তাকে প্রশ্ন করুন সে বর্তমানে কী সমাধান খুঁজছে।

৫. ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ সূচক প্রশ্ন করা

কথোপকথন চালিয়ে যাওয়ার জন্য এমন প্রশ্ন করুন যা বিস্তারিত উত্তর দেয়। যেমন- ‘আপনার পানীয়টি কি ভালো?’ এই প্রশ্নের বদলে যদি বলেন, ‘এই পানীয়টির কোন দিকটি আপনার ভালো লাগছে?’, তবে আলাপ আরও দীর্ঘ হয়। ক্লোজ-এন্ডেড বা হ্যাঁ-না সূচক প্রশ্ন আলাপকে দ্রুত থামিয়ে দেয়।

৬. পাল্টা প্রশ্ন না করা

কেউ আপনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পর যদি আপনি সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রসঙ্গে চলে যান, তবে অন্যপক্ষ মনে করতে পারে আপনি তার কথা মন দিয়ে শুনছেন না। পাল্টা প্রশ্ন বা ফলো-আপ প্রশ্ন করার অর্থ হলো আপনি তার প্রতি আগ্রহী।

৭. জেরা করা বা ইন্টারোগেশন

কথোপকথন হওয়া উচিত স্বতঃস্ফূর্ত আদান-প্রদান। কিন্তু কাউকে একের পর এক প্রশ্ন করে জর্জরিত করলে সে নিজেকে অপরাধীর কাঠগড়ায় মনে করতে পারে এবং রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে। প্রতিটি উত্তরের পর একটু বিরতি দিয়ে অন্যপক্ষকেও প্রশ্ন করার সুযোগ দিন।

৮. অবজ্ঞাসূচক ভাষা ব্যবহার

কথোপকথনের সবচেয়ে বড় ভুল হলো অন্য ব্যক্তির প্রতি শ্রদ্ধার অভাব। ‘তুমি বাড়াবাড়ি করছো’ বা ‘যা খুশি’র মতো তুচ্ছতাচ্ছিল্যপূর্ণ শব্দ ব্যবহার করলে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সংলাপের পথ বন্ধ হয়ে যায়।

কেন এই অভ্যাসগুলো পরিবর্তন করা জরুরি?

মনোবিজ্ঞানী ডক্টর মেগান মার্কাম বলেন, এই ভুলগুলো সম্পর্কের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা তৈরি করে এবং ঘনঘন এমনটা ঘটলে মানুষ একে অপরকে এড়িয়ে চলতে শুরু করে। দীর্ঘমেয়াদে এটি ব্যক্তিগত ও পেশাগত সব ধরনের সম্পর্ক নষ্ট করতে পারে।

সমাধানের পথ

ভালো কথোপকথনের মূল চাবিকাঠি হলো খোলা মন নিয়ে শোনা এবং অপরকে শ্রদ্ধা করা। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো:

১. সক্রিয়ভাবে শোনা: কৌতূহল নিয়ে শুনুন এবং অন্যের চিন্তাগুলো প্রকাশের সুযোগ দিন।

সংক্ষেপে সারসংক্ষেপ করা: অন্য ব্যক্তি যা বললেন তা সংক্ষেপে একবার পুনরাবৃত্তি করুন, এতে ভুল বোঝাবুঝি কমে।

২. নিরপেক্ষ ভাষা ব্যবহার: যদি আপনি ভিন্নমত পোষণ করেন, তবে আক্রমণাত্মক না হয়ে নিরপেক্ষ ভাষায় আপনার দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করুন। কথোপকথন শুধুমাত্র শব্দ বিনিময় নয়, এটি একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার একটি শিল্প। একটু সচেতন থাকলেই আমরা আমাদের সম্পর্কগুলোকে আরও সুন্দর ও মজবুত করে তুলতে পারি।

তথ্যসূত্রভেরি ওয়েল মাইন্ড

সদরপুরের পদ্মাবেষ্টিত ইউনিয়নে নির্মাণ হচ্ছে পরিষদ ভবন, আবসান হবে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৮:১২ পূর্বাহ্ণ
সদরপুরের পদ্মাবেষ্টিত ইউনিয়নে নির্মাণ হচ্ছে পরিষদ ভবন, আবসান হবে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পদ্মাবেষ্টিত প্রত্যন্ত চরাঞ্চল দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়ন অবশেষে পেতে যাচ্ছে নিজস্ব ইউনিয়ন পরিষদ ভবন। দীর্ঘদিন ধরে পরিষদ ভবন না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের বিভিন্ন নাগরিক সেবা নিতে ট্রলারে প্রায় দুই ঘণ্টা পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে উপজেলা সদরে যেতে হতো। প্রায় দুই হাজার পরিবারের এই ইউনিয়নে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উচ্ছ্বাস।

মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে ইউনিয়নের নুরুদ্দিন সরদার কান্দী বাজার সংলগ্ন এলাকায় সেমি-পাকা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাজহারুল ইসলাম।

এর আগে একই ইউনিয়নের উপজেলা প্রশাসন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দীন সরদার, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেন, উপজেলা প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব ভবন না থাকায় প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণে তাদের নানা ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হতো। নতুন ভবন নির্মিত হলে ইউনিয়নবাসী নিজ এলাকাতেই সহজে নাগরিক সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। এতে চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

এদিকে বহুদিনের প্রত্যাশিত ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশা, দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে চরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।

প্রিয়জন হারানোর শোকে কাতর ব্যক্তিকে যে ৭ কথা বলা উচিত নয়?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৮:০৪ পূর্বাহ্ণ
প্রিয়জন হারানোর শোকে কাতর ব্যক্তিকে যে ৭ কথা বলা উচিত নয়?

আপনার প্রিয়জন হারানোর শোকে কাতর কোনো বন্ধু বা আত্মীয়ের পাশে দাঁড়িয়ে আমরা প্রায়ই বুঝতে পারি না কী বলা উচিত। আমরা তাদের সান্ত্বনা দিতে চাই, কিন্তু অনেক সময় আমাদের বলা কথাগুলো হিতে বিপরীত হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শোক কোনো সহজ বিষয় নয় এবং একে অন্যের জন্য আরামদায়ক করার কোনো সংক্ষিপ্ত পথ নেই।

নিচে এমন ৭টি কথার তালিকা দেওয়া হলো যা প্রিয়জন হারানো ব্যক্তিকে বলা থেকে বিরত থাকা উচিত:

১. সবকিছুই কোনো না কোনো কারণে ঘটে: এই কথাটি শোকাতুর ব্যক্তির কষ্টকে ছোট করে ফেলে। কারণ, সব শোকের পেছনে কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা থাকে না এবং কোনো কারণই প্রিয়জনকে হারানোর অভাব পূরণ করতে পারে না।

২. আমি ঠিক জানি আপনার কেমন লাগছে: শোক একটি অত্যন্ত ব্যক্তিগত অনুভূতি এবং প্রত্যেকের অভিজ্ঞতা আলাদা। এমনকি আপনি নিজে কাউকে হারিয়ে থাকলেও, অন্যের শোকের সাথে নিজের তুলনা করা উচিত নয়।

৩. অন্তত আপনি প্রস্তুতির সময় পেয়েছিলেন: দীর্ঘ অসুস্থতার পর কেউ মারা গেলে অনেকেই এটি বলেন। কিন্তু প্রিয়জন চলে যাবে এটা আগে থেকে জানলেও তার চলে যাওয়ার কষ্ট বা ব্যথা একটুও কমে না।

৪. অন্তত আপনার অন্য সন্তান বা পরিবারের সদস্যরা তো আছে: এই কথার মাধ্যমে বোঝানো হয় যে একজনের অভাব অন্যজন দিয়ে পূরণ করা সম্ভব। এটি মৃত ব্যক্তির গুরুত্বকে খাটো করে দেখায়।

৫. শক্ত হোন: এই কথাটি শোকাতুর ব্যক্তির ওপর আবেগ চেপে রাখার জন্য এক ধরনের মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। শোকের সময় ভেঙে পড়াটাই স্বাভাবিক এবং অনেক সময় এটাই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

৬. এখন সব ভুলে সামনে এগিয়ে যেতে হবে: শোক কাটানোর কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। কাউকে ভুলে যাওয়া বা সরিয়ে দেওয়ার নাম শোক কাটিয়ে ওঠা নয়, বরং শোককে জীবনের অংশ হিসেবে মেনে নিতে শিখতে অনেক সময়ের প্রয়োজন হয়।

৭. শুধু ভালো স্মৃতিগুলোর কথা ভাবুন: শোকের শুরুতে ভালো স্মৃতিগুলোও অনেক সময় কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায় কারণ সেই মানুষটির অনুপস্থিতি আরও প্রকটভাবে অনুভূত হয়। শোকাতুর ব্যক্তি কীভাবে শোক পালন করবেন তা নির্ধারণ করে দেওয়া উচিত নয়।

সঠিকভাবে পাশে দাঁড়ানোর উপায়

সান্ত্বনা দেওয়ার বদলে আপনার উপস্থিতিই সবচেয়ে বড় সমর্থন হতে পারে। আপনি বলতে পারেন, ‘আমি জানি না কী বলা উচিত, তবে আমি তোমার পাশে আছি’। এছাড়া শুধু কথা না বলে ঘরের কাজে সাহায্য করা বা নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়ার মাধ্যমেও দীর্ঘমেয়াদী সমর্থন দেওয়া সম্ভব। মনে রাখবেন, লক্ষ্য শোক দূর করা নয়, বরং তাকে অনুভব করানো যে এই কঠিন যাত্রায় তিনি একা নন।

তথ্যসূত্র: ভেরিওয়েল মাইন্ড

খবরের কাগজে গরম খাবার খান, এতে শরীরে কী কী ঘটে জানুন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৭:৫৮ পূর্বাহ্ণ
খবরের কাগজে গরম খাবার খান, এতে শরীরে কী কী ঘটে জানুন

শহর কিংবা গ্রামের ব্যস্ত মোড়ে গরম গরম সিঙাড়া, চপ, ঝালমুড়ি বা পরোটা খবরের কাগজে মুড়ে খাওয়ার দৃশ্য আমাদের অত্যন্ত পরিচিত। বিক্রেতা এবং ক্রেতা উভয় পক্ষই একে সস্তা ও সুবিধাজনক মনে করেন। কিন্তু এই আপাত নিরীহ অভ্যাসের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি। খবরের কাগজে ব্যবহৃত কালির বিষাক্ত উপাদানগুলো কীভাবে নীরবে আপনার শরীরে প্রবেশ করছে, তা আমাদের অনেকেরই ধারণার বাইরে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, খাবারটি যদি অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর পরিবেশে এবং পরিষ্কারভাবে রান্না করা হয়, তবুও খবরের কাগজের সংস্পর্শে আসার মাত্রই তা বিষাক্ত হয়ে উঠতে পারে। এই বিপদজনক প্রবণতা রুখতে ভারতের ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ড অথরিটি (FSSAI) এবং কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণায়ল এখন সোচ্চার হয়েছে। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় তারা কঠোর সতর্কতা জারি করে জানিয়েছে যে, খবরের কাগজে খাবার পরিবেশন কেবল অস্বাস্থ্যকর নয়, বরং এটি শরীরের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির কারণ হতে পারে।

খবরের কাগজে মুড়ে খাবার খাওয়ার ফলে শরীরে ঠিক কী কী ঘটে, তা নিচে আলোচনা করা হলো:

১. খাবারের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে বিষাক্ত কালি

খবরের কাগজে মুদ্রণের জন্য যে কালি ব্যবহার করা হয়, তাতে একাধিক বায়ো-অ্যাকটিভ (bioactive) উপাদান থাকে। যখন গরম বা তৈলাক্ত খাবার এই কাগজের সংস্পর্শে আসে, তখন কাগজের কালি খুব সহজেই খাবারের সঙ্গে মিশে যায়। এমনকি খাবারটি যদি অত্যন্ত স্বাস্থ্যকরভাবে রান্না করা হয়, তবুও খবরের কাগজে রাখার ফলে তা শরীরের জন্য বিষাক্ত হয়ে ওঠে।

২. রাসায়নিক ও রঞ্জক পদার্থের প্রভাব

মুদ্রণের কালিতে ক্ষতিকারক রং, পিগমেন্ট (pigments), বাইন্ডার এবং প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করা হয়। এই রাসায়নিক উপাদানগুলো খাবারের মাধ্যমে সরাসরি শরীরে প্রবেশ করে। এছাড়া রিসাইকেল করা কাগজ বা কার্ডবোর্ড বক্সের ক্ষেত্রে ‘থ্যালেট’ (phthalate)-এর মতো রাসায়নিক থাকার সম্ভাবনা থাকে, যা তীব্র বিষক্রিয়া এবং হজমের সমস্যা তৈরি করতে পারে।

৩. জীবাণুর সংক্রমণ ব্যবহৃত

খবরের কাগজ বিভিন্ন হাত ঘুরে আসে এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রাখা হতে পারে। ফলে এতে বিভিন্ন ধরনের রোগজীবাণু বা প্যাথোজেনিক মাইক্রো-অর্গানিজম থাকতে পারে, যা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

৪. ক্যানসারের ঝুঁকি ও দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি

বিশেষজ্ঞদের মতে, খবরের কাগজে রাখা খাবার দীর্ঘকাল খাওয়ার ফলে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে শিশু, কিশোর, বয়স্ক এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে এটি ক্যানসার-সংক্রান্ত জটিলতা তৈরির ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও সতর্কতা

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক এবং FSSAI সাধারণ মানুষকে খবরের কাগজে মোড়ানো বা ঢাকা দেওয়া খাবার বর্জন করার আহ্বান জানিয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা বিক্রেতাদের এই অভ্যাস থেকে বিরত থাকার এবং জনসাধারণকে এ বিষয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। নিরাপদ খাদ্যাভ্যাসের স্বার্থে খাবার পরিবেশনের জন্য নির্দিষ্ট ফুড-গ্রেড কাগজ বা কলাপাতার মতো প্রাকৃতিক বিকল্প ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

আপনার সামান্য সচেতনতাই আপনাকে এবং আপনার পরিবারকে বড় ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে পারে। তাই রাস্তার খাবার খাওয়ার সময় কাগজের বদলে স্বাস্থ্যসম্মত মাধ্যম বেছে নিন।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি