খুঁজুন
, ,

কোন কোন সময় ঘুমালে রোগ বা স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি বাড়ে?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৪২ পূর্বাহ্ণ
কোন কোন সময় ঘুমালে রোগ বা স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি বাড়ে?

স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ঘুমের সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অসময়ের ঘুম বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। শরীর প্রকৃতির সময় মেনে চলে। নিয়মিত সেই সময়ের বিপরীতে চলার কারণে ধীরে ধীরে শরীরের ভেতরে সমস্যা তৈরি হবেই। 

বিষয়টি সম্পর্কে কথা বলেছেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল নিউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. এম এস জহিরুল হক চৌধুরী।

কোন সময়ে ঘুমালে রোগ বা স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি বাড়ে

অধ্যাপক ডা. এম এস জহিরুল হক চৌধুরী বলেন, ঘুমানোর সবচেয়ে নিরাপদ সময় হচ্ছে রাত ১০টা থেকে ১১টা এবং ভোর ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে ঘুম থেকে ওঠা। ঘুমের সময় শুধু ‘কত ঘণ্টা’ নয়, ‘কখন ঘুমাচ্ছেন’—এটাও স্বাস্থ্যের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। শরীরের জৈবিক ঘড়ি (সারকাডিয়ান রিদম) যদি বার বার ভেঙে যায়, তাহলে নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ে। যেমন:

১. রাত ১২টার পর নিয়মিত ঘুমানো সবচেয়ে বড় ঝুঁকির সময়। নিয়মিত রাত ১২টার পর ঘুমাতে যাওয়ার কারণে মেলাটোনিন হরমোন ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। ঘুমের গভীরতা কমে যায়, শরীরের ‘রিপেয়ার সিস্টেম’ ব্যাহত হয়। এর ফলে ওজন বৃদ্ধি পায়, ডায়াবেটিস, মানসিক চাপ বা ডিপ্রেশন ও হরমোনের সমস্যা দেখা দেয়।

২. ভোরের দিকে (রাত ২টা-৪টা) ঘুমানো শরীরের স্বাভাবিক ঘুমের সময়ের সম্পূর্ণ বিপরীত। এই সময়ে ঘুমালে সকালে উঠতে দেরি হয়, সারাদিন ক্লান্তি লাগে ও কাজের দক্ষতা কমে যায়। দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগের ঝুঁকির বাড়ে ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।

৩. দিনে বেশি সময় বিশেষ করে সকাল ৯টার পর ঘুমানোর কারণে শরীরের ঘড়ি এলোমেলো হয়ে যায়, রাতে ঘুম কমে যায়। এর ফলে ইনসমনিয়া, মেটাবলিক সমস্যা (ওজন, সুগার) দেখা দিতে পারে।

৪. সন্ধ্যার পরে দীর্ঘ সময় ঘুমানো স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। অনেকেই বিকেলে কিংবা সন্ধ্যায় ১-২ ঘণ্টা ঘুমান। এতে করে রাতে ঘুম আসতে দেরি হয়, ঘুমের চক্র নষ্ট হয়। যার ফলে ক্রনিক ঘুমের সমস্যা তৈরি হয়।

৫. প্রতিদিন ভিন্ন সময়ে ঘুমানো, যেমন: একদিন রাত ১০টায়, আরেকদিন রাত ২টায় এভাবে অনিয়মের কারণে শরীরের সারকাডিয়ান রিদম ভেঙে যায়, ঘুমের গুণগত মান কমে যায়। হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, হতাশা, উদ্বেগ, স্থায়ী অনিদ্রার ঝুঁকি বাড়ে।

৬. নাইট শিফটে নিয়মিত কাজ করেন যারা তারা রাতে কাজ করে, দিনে ঘুমায়। তাদের শরীর স্বাভাবিক নিয়মে চলতে পারে না, সূর্যালোকের অভাব দেখা দেয়। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, হজমের সমস্যা, মানসিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে।

৭. খুব কম বা খুব বেশি ঘুম (সময় যাই হউক), যেমন: ৫ ঘণ্টার কম বা ৯ থেকে ১০ ঘণ্টার বেশি ঘুম স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে। কম ঘুম হওয়ার কারণে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে। অন্যদিকে বেশি ঘুম অলসতা, হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

অসময়ে ঘুমের প্রভাব কাদের ওপর বেশি পড়ে, কেন

ঘুমের প্রভাব সবার ওপর পড়ে। কিন্তু কিছু নির্দিষ্ট মানুষ বা বয়সের ক্ষেত্রে এর প্রভাব বেশি তীব্রভাবে দেখা যায়। কারণ তাদের শরীর, মস্তিষ্ক বা হরমোনগত অবস্থা অন্যদের তুলনায় বেশি সংবেদনশীল।

শিশু ও কিশোরদের মধ্যে ঘুমের প্রভাব সবচেয়ে বেশি। কারণ তাদের মস্তিষ্ক ও শরীর দ্রুত বিকাশমান এবং গ্রোথ হরমোন ঘুমের সময় বেশি নিঃসৃত হয়। এই বয়সে ঘুম কম হলে উচ্চতা ও শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, স্মৃতিশক্তি ও শেখার ক্ষমতা কমে, আচরণে খিটখিটে ভাব আসে।

পড়াশোনার চাপ, রাত জাগার অভ্যাসের কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসময়ে ঘুম ও অনিদ্রার প্রভাব বেশি। যার কারণে মনোযোগ কমে যায়, পরীক্ষায় খারাপ ফল, শেখার ক্ষমতা হ্রাস পায়।

মানসিক চাপগ্রস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ঘুমের নেতিবাচক প্রভাব বেশি পড়ে। মস্তিষ্ক সবসময় সক্রিয় থাকার কারণে তাদের ঘুমের সময়সূচি ব্যাহত হয়।

কর্মজীবী বিশেষ করে যারা রাতের শিফটে কাজ করেন তাদের ঘুমের রুটিন ঠিক থাকে না, যা শরীরের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ তৈরি করে।

হরমোনাল পরিবর্তনের কারণে অন্তঃসত্ত্বা নারীর ঘুমের সময়সূচি বদলে যায়। এ ছাড়া বয়স্ক ব্যক্তি, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, ওষুধের প্রভাব, যাদের স্ক্রিন টাইম বেশি তাদের মধ্যে অসময়ে ঘুম বা অনিদ্রার প্রবণতা বেশি দেখা যায়।

অধ্যাপক ডা. এম এস জহিরুল হক চৌধুরী বলেন, ঘুমের প্রভাব কারো ক্ষেত্রে হালকা, কারো ক্ষেত্রে গুরুতর হতে পারে। কিন্তু যাদের ওপর বেশি প্রভাব পড়ে, তাদের জন্য সঠিক ঘুম নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

ঘুমের সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য নিয়মিত রুটিন মেনে ঘুমানোর অভ্যাস, মানসিক নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত ব্যায়াম, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, স্ক্রিন টাইম কমাতে হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। ২ থেকে ৩ সপ্তাহ ধরে নিয়মিত ঘুম না হলে, দিনে অতিরিক্ত ক্লান্তি থাকলে, ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হওয়া বা বারবার জাগা—এমন উপসর্গ দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

সূত্র : ডেইলি স্টার

অল্প বয়সে হার্ট অ্যাটাকের যে ৪ কারণ? এক পলকে দেখে নিন

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৫৮ পূর্বাহ্ণ
অল্প বয়সে হার্ট অ্যাটাকের যে ৪ কারণ? এক পলকে দেখে নিন

একটা সময় পর্যন্ত হার্ট অ্যাটাককে ভাবা হতো বয়স্কদের সমস্যা। কিন্তু এখন তরুণ বয়সেই হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। এই কারণে প্রাণ হারানোর সংখ্যাও কম নয়।

তাই শুধু বয়স্করা নয়, হার্টের অসুখের ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে অল্প বয়সীদেরও। এই যে অল্প বয়সেই হার্ট অ্যাটাক, এর পেছনে কারণ কী?

হার্ট অ্যাটাক যে কারণে হয়

কোনো কারণে আমাদের শরীরের শিরা-উপশিরায় রক্ত ​​চলাচল ঠিকমতো না হলে রক্ত ​​জমাট বাঁধার সমস্যা সৃষ্টি হয়। যে কারণে হতে পারে হার্ট অ্যাটাক হয়। আমাদের হৃৎপিণ্ডে যখন রক্ত ​​ঠিকমতো পৌঁছাতে পারে না, তখন শিরায় চাপ পড়ে। এর ফলে তখন হার্ট অ্যাটাক হয়।

জীবনযাপনে অনিয়ম

আমাদের বেশিরভাগ অসুখ-বিসুখের কারণ হলো জীবনযাপনের বিভিন্ন অনিয়ম। বর্তমানে বাইরের খাবার বেশি খাওয়া, রাতে দীর্ঘ সময় জেগে থাকসহ নানা অনিয়মত করে থাকে তরুণেরা। জীবনযাপনের এসব বদ অভ্যাসের প্রভাব পড়ে শরীরে। বর্তমানে বিভিন্ন দিকে খেয়াল দিতে গিয়ে নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি নজর রাখার কথা ভুলে যান বেশিরভাগই। যে কারণে ধীরে ধীরে তৈরি হয় হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্র।

ধূমপান ও অ্যালকোহল গ্রহণ

অনেকে না বুঝেই সিগারেট এবং অ্যালকোহলের প্রতি আসক্ত হয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের আসক্তি একবার পেয়ে বসলে তা থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন হয়ে ওঠে। কিন্তু সিগারেট এবং অ্যালকোহল স্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর। এ ধরনের অভ্যাস সরাসরি ধমনীতে প্রভাব ফেলে। হৃৎপিণ্ড দ্রুত পাম্প করার কারণে এটি পরিণত হয় আক্রমণে।

স্থূলতা

সঠিক খাদ্যাভ্যাস পারে আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং সুস্থতায় সাহায্য করতে। কিন্তু বর্তমানে ভুলভাল খাদ্যাভ্যাসের কারণে অল্প বয়সে হার্ট অ্যাটাকের শিকার হচ্ছেন অনেকে। শরীরে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণে হার্ট অ্যাটাক, করোনারি আর্টারি ডিজিজ, ট্রিপল ভেসেল ডিজিজ ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। যে কারণে বাড়ে বিপদ।

উত্তেজনা

আমাদের দেশে শারীরিক বিভিন্ন সমস্যায়ই অনেকে পাত্তা দিতে চান না, সেখানে মানসিক স্বাস্থ্যের চিকিৎসার কথা অনেকে চিন্তাও করতে চান না। এদিকে মানসিক স্বাস্থ্যের বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে মারাত্মক সব রোগের কারণ। বর্তমানে তরুণেরা পড়াশোনা, চাকরি, পরিবারের প্রতি দায়িত্ব ইত্যাদি নানা দুশ্চিন্তায় থাকে। যে কারণে হতে পারে হার্ট অ্যাটাক।

সূত্র : ঢাকা পোস্ট

পেটের মেদ কমাতে যে ৪টি স্বাস্থ্যকর পানীয়?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪২ পূর্বাহ্ণ
পেটের মেদ কমাতে যে ৪টি স্বাস্থ্যকর পানীয়?

আধুনিক জীবনযাত্রায় অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস আর কায়িক শ্রমের অভাবে পেটের মেদ বা ‘বেলি ফ্যাট’ জমানো এখন অনেকের জন্যই নিত্যনৈমিত্তিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে পেটের এই বাড়তি মেদ কেবল আপনার বাহ্যিক সৌন্দর্যই নষ্ট করে না; বরং এটি শরীরের অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্যের জন্য এক বড় হুমকি।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, পেটের মেদ মূলত দুই ধরনের হয়—চামড়ার নিচে থাকা ‘সাবকিউটেনিয়াস ফ্যাট’ এবং শরীরের ভেতরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মধ্যে জমে থাকা ‘ভিসারাল ফ্যাট’। এর মধ্যে ভিসারাল ফ্যাট অত্যন্ত বিপজ্জনক, যা হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এমনকি ক্যানসারের মতো মরণব্যাধির ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। সুস্থতার মাপকাঠি হিসেবে আমরা সাধারণত বিএমআই-এর ওপর নির্ভর করলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোমর ও নিতম্বের অনুপাত জানা এখন অনেক বেশি জরুরি। যদি পুরুষদের ক্ষেত্রে এই অনুপাত ০.৯ এবং নারীদের ক্ষেত্রে ০.৮৫-এর বেশি হয়, তবে বুঝতে হবে আপনার পেটে ক্ষতিকর মেদ জমছে। এই জেদি মেদ ঝরানো বেশ কষ্টসাধ্য হলেও কিছু নির্দিষ্ট প্রাকৃতিক পানীয় বিপাক প্রক্রিয়া বাড়িয়ে মেদ কমানোর এই সংগ্রামকে সহজ করতে পারে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরামর্শ দিয়েছেন এনডিটিভি ফুড-এর কনসালট্যান্ট নিউট্রিশনিস্ট ড. রূপালী দত্ত।

ড. রূপালী দত্তের পরামর্শ অনুযায়ী পেটের মেদ কমাতে কার্যকরী ৪টি পানীয় নিচে দেওয়া হলো:

১. গ্রিন টি

সামগ্রিক ওজন কমাতে গ্রিন টি-র কার্যকারিতা এখন বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। এতে থাকা শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ‘ক্যাটেচিন’ এবং বিশেষ করে ‘EGCG’ বিশ্রামের সময়ও শরীরের ফ্যাট অক্সিডেশনে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত গ্রিন টি পান করলে তা সরাসরি পেটের ভেতরের ভিসারাল ফ্যাট কমাতে ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে, যা বাড়তি ক্যালরি গ্রহণের প্রবণতা কমিয়ে দেয়।

২. দারুচিনি চা

দারুচিনি কেবল মসলা হিসেবেই নয়; বরং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমাতেও অনন্য। উল্লেখ্য যে, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স পেটের মেদ জমার অন্যতম প্রধান কারণ। দারুচিনি শরীরে স্ট্রেস হরমোন ‘কর্টিসল’-এর মাত্রা কমিয়ে আনে, যা চিনিযুক্ত খাবার ও চর্বিযুক্ত খাবারের প্রতি আসক্তি কমায়। এর বিপাক বৃদ্ধিকারী গুণাগুণ পেটের চর্বি পোড়াতে অত্যন্ত সহায়ক।

৩. ব্ল্যাক কফি

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে পরিমিত (২-৩ কাপ) ব্ল্যাক কফি পান করলে শরীরের সামগ্রিক মেদ, বিশেষ করে ভিসারাল ফ্যাট উল্লেখযোগ্য হারে কমে। কফিতে থাকা পলিফেনল এবং ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড পেটের চর্বি কমাতে কাজ করে। কফিতে থাকা ক্যাফেইন প্রাকৃতিক এনার্জি বুস্টার হিসেবে কাজ করলেও এটি চিনি ছাড়া পান করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

৪. মধু মিশ্রিত পানীয়

পেটের মেদ বা ভিসারাল ওবেসিটি কমাতে মধু একটি চমৎকার উপাদান। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, মধু শরীরের অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি রোধ করতে এবং মেদ কমাতে সাহায্য করে। মধু একটি শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, যা ভিসারাল ফ্যাট কোষের কারণে তৈরি হওয়া অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে শরীরকে রক্ষা করে। এটি শরীরে দ্রুত শক্তি যোগায় এবং বারবার খিদে পাওয়ার সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করে।

সতর্কতা

যদিও এই পানীয়গুলো ওজন কমাতে এবং বিপাক প্রক্রিয়া বাড়াতে সহায়ক, তবে মনে রাখতে হবে মেদ কমানোর কোনো ‘শর্টকাট’ বা জাদুকরী উপায় নেই। পেটের মেদ পুরোপুরি ঝরাতে এই পানীয়গুলোর পাশাপাশি একটি সুশৃঙ্খল জীবনযাত্রা এবং নিয়মিত শরীরচর্চা বজায় রাখা অপরিহার্য। যে কোনো ডায়েট শুরু করার আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি ফুড

ফরিদপুরে ট্রাক্টরের ধাক্কায় প্রাণ গেল মোটরসাইকেল আরোহীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪০ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে ট্রাক্টরের ধাক্কায় প্রাণ গেল মোটরসাইকেল আরোহীর

ফরিদপুরে ট্রাক্টরের ধাক্কায় সুজন মণ্ডল (৩৫) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী যুবক নিহত হয়েছেন।

​মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে ফরিদপুর সদর উপজেলার হোগলাকান্দি এলাকার পাকা রাস্তার ওপর এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

​নিহত সুজন মণ্ডল সদর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের বিষ্ণুদিয়া গ্রামের মন্টু লাল মণ্ডলের ছেলে।

​থানায় দায়ের করা লিখিত আবেদন ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে সুজন মণ্ডল নিজের মোটরসাইকেল চালিয়ে কানাইপুর বাজার থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথিমধ্যে হোগলাকান্দি এলাকায় পৌঁছালে একটি অজ্ঞাতনামা ট্রাক্টরের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সজোরে ধাক্কা লাগে। এতে তিনি মাথায়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পান।

​পরে স্থানীয় লোকজন তাকে সংকটাপন্ন অবস্থায় উদ্ধার করে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মারা যান সুজন। বর্তমানে তার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা রয়েছে।

​ঘটনার পর নিহত যুবকের বাবা মন্টু লাল মণ্ডল পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা শেষে থানায় হাজির হয়ে বিষয়টি লিখিতভাবে অবহিত করেন এবং আইনানুগ ব্যবস্থার আবেদন জানান।

​এ বিষয়ে ফরিদপুরের কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় এক যুবকের মৃত্যুর বিষয়টি লিখিতভাবে জানা গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং নিহতের পরিবারের লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।