খুঁজুন
, ,

ঘুমের আগে কোন খাবার ও পানীয় খেলে ভালো ঘুম হবে

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:৪৪ অপরাহ্ণ
ঘুমের আগে কোন খাবার ও পানীয় খেলে ভালো ঘুম হবে

যদি রাতে ঘুমের কথা ভাবলেই দুশ্চিন্তা শুরু হয়, তাহলে একবার খেয়াল করুন, ঘুমের আগে আপনি কী খাচ্ছেন। সঠিক খাবার ও পানীয় ভালো ঘুম পেতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

ভালো ঘুম শরীর ও মনের জন্য খুবই জরুরি। পর্যাপ্ত ঘুম হলে দীর্ঘমেয়াদি নানা রোগের ঝুঁকি কমে, মস্তিষ্ক সুস্থ থাকে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। সাধারণভাবে প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা টানা ঘুমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে বাস্তবে অনেকেই ঠিকমতো ঘুমাতে পারেন না।

ঘুম ভালো করতে নিয়মিত সময়মতো খাওয়া, জীবনযাপনে শৃঙ্খলা আনা এবং ঘুমের আগে কিছু নির্দিষ্ট খাবার ও পানীয় গ্রহণ সহায়ক হতে পারে। নিচে ঘুমের মান বাড়াতে সাহায্য করে এমন ৯টি খাবার ও পানীয়ের কথা তুলে ধরা হলো—

কাঠবাদাম (Almond)

কাঠবাদাম পুষ্টিগুণে ভরপুর। এতে আছে স্বাস্থ্যকর চর্বি, ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।

এ ছাড়া কাঠবাদামে ম্যাগনেশিয়াম ও ভিটামিন বি রয়েছে, যা ভালো ঘুমে সহায়ক। এতে থাকা মেলাটোনিন নামের হরমোন শরীরকে ঘুমের জন্য প্রস্তুত করতে সাহায্য করে।

টার্কি (Turkey)

টার্কি মাংস প্রোটিনসমৃদ্ধ এবং এতে থাকা ট্রিপটোফ্যান নামের অ্যামিনো অ্যাসিড মেলাটোনিন উৎপাদনে সাহায্য করে। ফলে ঘুম ঘুম ভাব আসতে পারে। ঘুমের আগে পরিমিত প্রোটিন গ্রহণ করলে রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে।

ক্যামোমাইল চা

ক্যামোমাইল চা বহুদিন ধরেই প্রশান্তিদায়ক পানীয় হিসেবে পরিচিত। এতে থাকা অ্যাপিজেনিন নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মস্তিষ্কের কিছু রিসেপ্টরের সঙ্গে কাজ করে ঘুম ভাব বাড়াতে সাহায্য করে। বয়স্কদের ওপর করা কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ক্যামোমাইল গ্রহণে ঘুমের মান উন্নত হতে পারে।

কিউই

কিউই কম ক্যালরির কিন্তু অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি ফল। এতে ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা হজমে সহায়ক।

কিউইয়ে থাকা সেরোটোনিন ঘুমের চক্র নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে বলে ধারণা করা হয়। নিয়মিত ফল খাওয়ার অভ্যাস ঘুম ভালো করতে ভূমিকা রাখতে পারে।

টক চেরির জুস (Tart Cherry Juice)

টক চেরির জুসে ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। এতে প্রাকৃতিকভাবে মেলাটোনিনের মাত্রা তুলনামূলক বেশি, যা ঘুম ঘুম ভাব তৈরি করতে সাহায্য করে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এটি অনিদ্রার সমস্যা কমাতে সহায়ক হতে পারে।

চর্বিযুক্ত মাছ

স্যালমন, টুনা, ট্রাউট বা ম্যাকারেলের মতো মাছ ভিটামিন ডি ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডে সমৃদ্ধ। এই উপাদানগুলো প্রদাহ কমায়, হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করতে সাহায্য করে, যা পরোক্ষভাবে ঘুমের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

আখরোট (Walnut)

আখরোটে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও মেলাটোনিন রয়েছে। গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, আখরোট ঘুমের মান উন্নত করতে পারে এবং হৃদ্‌স্বাস্থ্য রক্ষায়ও ভূমিকা রাখে।

প্যাশনফ্লাওয়ার চা

প্যাশনফ্লাওয়ার চা উদ্বেগ ও মানসিক চাপ কমাতে পরিচিত একটি ভেষজ চা। এটি মস্তিষ্কে GABA নামের রাসায়নিকের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে, যা মানসিক চাপ কমিয়ে শরীরকে শান্ত করে। ফলে ঘুম আসা সহজ হয়।

সাদা ভাত

সাদা ভাতে কার্বোহাইড্রেট বেশি এবং ফাইবার কম, ফলে এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স তুলনামূলক বেশি। কিছু গবেষণায় বলা হয়েছে, ঘুমের অন্তত এক ঘণ্টা আগে উচ্চ গ্লাইসেমিক খাবার খেলে ঘুম আসতে সুবিধা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে গবেষণার ফল এখনো পুরোপুরি একমত নয়।

ঘুমে সহায়ক আরও কিছু খাবার
দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার: দুধ, দই ও কটেজ চিজে ট্রিপটোফ্যান থাকে, যা ঘুমে সহায়ক।

কলা: ম্যাগনেসিয়ামের ভালো উৎস, যা পেশি ও স্নায়ু শিথিল করতে সাহায্য করে।

ওটস: কার্বোহাইড্রেট ও মেলাটোনিনের উৎস; ঘুমের আগে খেলে তন্দ্রা আসতে পারে।

ভালো ঘুম শুধু বিশ্রামের বিষয় নয়, এটি সুস্থ জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। ঘুমের আগে কী খাচ্ছেন, সেটি আপনার ঘুমের মানের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং সঠিক জীবনযাপন একসঙ্গে অনুসরণ করলে অনিদ্রা ও অস্থির ঘুমের সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব। ছোট পরিবর্তন থেকেই শুরু হতে পারে বড় উপকা—ভালো ঘুম, ভালো জীবন।

সূত্র : Health Line

আলফাডাঙ্গার ইউএনওর সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদ নেতাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২২ পূর্বাহ্ণ
আলফাডাঙ্গার ইউএনওর সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদ নেতাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জোবায়ের হাবিবের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেছেন গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) নেতৃবৃন্দ।

​বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

​এ সময় ফরিদপুর জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক তারেক আজিজ, সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য কৃষিবিদ শাহরিয়ার আজম ও আলফাডাঙ্গা উপজেলা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি মো. রঞ্জুসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

​সাক্ষাৎকালে নেতারা ইউএনওর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। একই সঙ্গে তারা আলফাডাঙ্গা উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় ও স্থানীয় সমস্যা নিয়ে মতবিনিময় করেন।

ওজন কমলে শরীরের চর্বি আসলে কোথায় যায়?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০১ পূর্বাহ্ণ
ওজন কমলে শরীরের চর্বি আসলে কোথায় যায়?

ওজন কমলে শরীরের চর্বি আসলে কোথায় যায়? এ প্রশ্নের উত্তর অনেকেরই অজানা। গবেষকদের মতে, শরীরে জমে থাকা চর্বির বড় একটি অংশ শেষ পর্যন্ত শ্বাসের সঙ্গে কার্বন ডাই-অক্সাইড হিসেবে শরীর থেকে বের হয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার (০১ সেপ্টেম্বর) ইউরো নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব বার্মিংহামের দুই গবেষক ‘দ্য কনভারসেশন’-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে জানান, শরীরের চর্বি কমার প্রক্রিয়া শুরু হয় যখন খাবার থেকে পাওয়া শক্তির চেয়ে শরীরের শক্তির চাহিদা বেশি হয়। তখন শরীর জমিয়ে রাখা চর্বি থেকে শক্তি নেওয়া শুরু করে।

খাবারের চর্বি হজমের পর ফ্যাটি অ্যাসিডে ভেঙে যায়। শরীর প্রয়োজনীয় অংশ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করে। অতিরিক্ত অংশ ট্রাইগ্লিসারাইডে রূপান্তরিত হয়ে চর্বি কোষে জমা থাকে।

শরীরে মূলত দুই ধরনের চর্বি জমে- ত্বকের নিচে থাকা সাবকিউটেনিয়াস ফ্যাট এবং শরীরের ভেতরে বিভিন্ন অঙ্গের চারপাশে জমা ভিসেরাল ফ্যাট।

শরীরে ক্যালরি ঘাটতি তৈরি হলে হরমোন ও স্নায়ুর সংকেতের মাধ্যমে চর্বি কোষে জমে থাকা ট্রাইগ্লিসারাইড ভাঙতে শুরু করে। এরপর ফ্যাটি অ্যাসিড কোষের মাইটোকন্ড্রিয়ায় গিয়ে শক্তি উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়। এ সময় কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি তৈরি হয়।

গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, শরীর থেকে হারানো চর্বির প্রায় ৮৪ শতাংশ কার্বন ডাই-অক্সাইডে পরিণত হয়ে শ্বাসের সঙ্গে বের হয়ে যায়। বাকি প্রায় ১৬ শতাংশ পানি হিসেবে ঘাম, প্রস্রাবসহ বিভিন্ন শারীরিক তরলের মাধ্যমে বের হয়।

তবে এই হারগুলো আনুমানিক বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। শরীরের সব ধরনের নির্গমন নির্ভুলভাবে পরিমাপ করা কঠিন।

গবেষকরা আরও বলেন, দ্রুত শ্বাস নিলেই চর্বি কমে না। শ্বাস-প্রশ্বাস চর্বি ভাঙার কারণ নয়; বরং চর্বি ভাঙার পর তৈরি হওয়া পদার্থ শরীর থেকে বের হওয়ার একটি পথ।

শরীরে ক্যালরি ঘাটতি তৈরি করাই চর্বি কমানোর মূল বিষয়। খাবার নিয়ন্ত্রণ ও শারীরিক পরিশ্রমের মাধ্যমে এই ঘাটতি তৈরি করা যায়।

সূত্র: ইউরো নিউজ

সালথায় আড়াই লাখ টাকার নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪৬ অপরাহ্ণ
সালথায় আড়াই লাখ টাকার নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ

ফরিদপুরের সালথায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়ে অন্তত আড়াই লাখ টাকা মূল্যের ৫০টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ করা হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মুরাটিয়া বিলে এ অভিযান চালানো হয়। পরে জব্দ করা জালগুলো আইন ও বিধি অনুযায়ী আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

​ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দবির উদ্দিন।

​অভিযানকালে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তরুণ বসু, সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা আনিসুর রহমানসহ পুলিশ বাহিনীর সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

​সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন জানান, চায়না দুয়ারী জাল মাছের পোনা ও জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। দেশে সব ধরনের নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে উপজেলা প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতিতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখবে।

​একই সঙ্গে নিষিদ্ধ জালের অশুভ প্রভাব থেকে দেশীয় প্রজাতি রক্ষায় স্থানীয় সাধারণ জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।