খুঁজুন
, ,

প্রিয় দল হারলে মন ভালো করার ৭ উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৮:১৮ পূর্বাহ্ণ
প্রিয় দল হারলে মন ভালো করার ৭ উপায়

খেলার মাঠের টানটান উত্তেজনা কেবল খেলোয়াড়দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, তা গ্যালারি ছাড়িয়ে কোটি ভক্তের বসার ঘর পর্যন্ত পৌঁছে যায়। প্রিয় দলটি যখন মাঠে নামে, ভক্তদের হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায়; প্রতিটি ভালো মুভমেন্টে যেমন আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়, তেমনি একটি ভুল চালে মুহূর্তে তৈরি হয় রাগ বা হতাশা।

গবেষণায় দেখা গেছে, একনিষ্ঠ ভক্তরা দলের পারফরম্যান্সকে নিজেদের ব্যক্তিগত সাফল্যের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন। প্রিয় দলের জয়কে তারা যেমন ‘আমাদের জয়’ বলে গর্ব করেন, তেমনি পরাজয়কে ব্যক্তিগত ব্যর্থতা হিসেবে দেখে বিষণ্ণতায় ডুবে যান। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘স্পোর্টস ফ্যান ব্লুজ’ বলা হয়, যা মানুষের আত্মসম্মানবোধ কমিয়ে দিতে পারে এবং মনে এক ধরনের হীনম্মন্যতা তৈরি করতে পারে।

তবে মনে রাখা জরুরি, খেলার জয়-পরাজয় পুরোপুরি আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরের একটি বিষয় এবং আপনি কোনোভাবেই এর ফলাফলের জন্য দায়ী নন। পরাজয়ের এই মানসিক ধাক্কা সামলে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফেরার জন্য বিশেষজ্ঞরা কিছু কার্যকর কৌশলের কথা বলেছেন।

আপনার প্রিয় দল হারলে মন ভালো করার সেরা ৫টি উপায় নিচে তুলে ধরা হলো:

১. ক্ষোভ প্রকাশের জন্য নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ করুন

হারের পর দীর্ঘ সময় ধরে সেই দুঃখ নিয়ে পড়ে থাকা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, হারের পর আপনার আবেগ বা ক্ষোভ প্রকাশের জন্য সর্বোচ্চ ৪৫ থেকে ৬০ মিনিট সময় দিন। এই সময়ের মধ্যে অন্য ভক্তদের সঙ্গে কথা বলে বা আলোচনা করে মনের ভার হালকা করে নিন। তবে এই সময়ের পর অবশ্যই অন্য কোনো কাজ বা অন্য প্রসঙ্গে চলে যেতে হবে। দীর্ঘক্ষণ একা একা হারের কারণ নিয়ে পড়ে থাকলে আপনার খারাপ লাগা আরও বাড়তে পারে।

২. সোশ্যাল মিডিয়া ও পোস্ট-গেম বিশ্লেষণ থেকে দূরে থাকুন

খেলার পরপরই ফেসবুক বা এক্স (সাবেক টুইটার)-এর মতো সোশ্যাল মিডিয়া এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। সেখানে বিপক্ষ দলের ভক্তদের ট্রল বা নেতিবাচক মন্তব্য আপনার মেজাজ আরও বিগড়ে দিতে পারে। পাশাপাশি টিভি বা রেডিওর দীর্ঘ ‘পোস্ট-গেম বিশ্লেষণ’ শোনা বন্ধ করুন। বারবার পরাজয়ের দৃশ্য বা হারের কারণগুলো নিয়ে আলোচনা আপনার মস্তিষ্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

৩. শরীরচর্চা বা ঘাম ঝরানো

মানসিক চাপ কমাতে ব্যায়ামের কোনো বিকল্প নেই। হারের ফলে শরীরে যে ‘কর্টিসল’ বা স্ট্রেস হরমোন তৈরি হয়, তা কমাতে ১০ থেকে ৩০ মিনিটের ব্যায়াম অত্যন্ত কার্যকর। আপনি দ্রুত হাঁটতে পারেন, সাইকেল চালাতে পারেন বা একটু দৌড়ে আসতে পারেন। এতে শরীরে ‘ডোপামিন’ বা ফিল-গুড হরমোনের মাত্রা বাড়ে, যা আপনার তাৎক্ষণিক মন খারাপ দূর করে শরীরের শক্তি ও মেজাজ চনমনে করতে সাহায্য করবে।

৪. মানসিক প্রশান্তি দেয় এমন সৃজনশীল কাজে যুক্ত হোন

খেলার চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে নিজেকে সৃজনশীল কোনো কাজে ব্যস্ত রাখুন। গান শোনা, পছন্দের কোনো পডকাস্ট শোনা, ডায়েরি লেখা কিংবা ছবি আঁকার মতো কাজগুলো আপনার মনকে শান্ত করবে। এছাড়া শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম বা ধ্যান করলে স্নায়বিক চাপ কমে এবং মনে প্রশান্তি আসে, যা পরাজয়ের গ্লানি ভুলে যেতে সাহায্য করে।

৫. বহুমুখী শখ গড়ে তুলুন

আপনার জীবনের একমাত্র আনন্দ বা পরিচয়ের উৎস যদি কেবল প্রিয় দলের জয়ের ওপর নির্ভর করে, তবে পরাজয় আপনাকে অনেক বেশি বিপর্যস্ত করবে। নিজের পরিচয়কে কেবল একজন ‘ফ্যান’ হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে বহুমুখী শখ গড়ে তুলুন। সৃজনশীল কাজ (রান্না বা সেলাই), বুদ্ধিবৃত্তিক কাজ (বই পড়া বা দাবা খেলা) কিংবা নতুন কোনো ভাষা শেখার মতো শখগুলো আপনাকে একটি বহুমুখী ব্যক্তিত্ব দেবে। এতে দলের হারের প্রভাব আপনার ওপর তুলনামূলক কম পড়বে।

৬. মনে রাখুন, ফলাফল আপনার নিয়ন্ত্রণে নেই

প্রিয় দল হারলে নিজেকে কোনোভাবেই দোষী ভাববেন না। মনে রাখবেন, আপনি খেলাটি খেলছিলেন না এবং মাঠের ফলাফলে আপনার কোনো প্রত্যক্ষ ভূমিকা নেই। খেলাটি কেবল একটি বিনোদন এবং এর জয়-পরাজয় আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে। দলের পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশ হতে পারেন, কিন্তু নিজের ওপর থেকে বিশ্বাস হারাবেন না।

৭. বিষণ্ণতা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন

দলের হারের পর কয়েক দিন মন খারাপ থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু এই অনুভূতি যদি দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয় এবং আপনার দৈনন্দিন কাজকর্মে (যেমন ঘুম বা খাওয়া) প্রভাব ফেলতে শুরু করে, তবে বিষয়টিকে অবহেলা করবেন না। এটি গভীরতর কোনো মানসিক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে, তাই দেরি না করে একজন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

সতর্কবার্তা

পরাজয়ের পর কয়েক দিন মন খারাপ থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু এই বিষণ্ণতা যদি দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয় এবং আপনার দৈনন্দিন কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করে, তবে দেরি না করে একজন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

তথ্যসূত্র: হেলথ লাইন

ফরিদপুরের নগরকান্দায় খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে মাঠে নামছে ক্যাব

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের নগরকান্দায় খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে মাঠে নামছে ক্যাব

ফরিদপুরের নগরকান্দায় খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ, ভোক্তা অধিকার সুরক্ষা ও জনসচেতনতা বাড়াতে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) বেলা ১১টায় নগরকান্দা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভা থেকে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

​ক্যাবের নগরকান্দা উপজেলা শাখার সভাপতি এহসানুল হক মিয়ার সভাপতিত্বে সভায় খাদ্যে ভেজাল রোধের পাশাপাশি বাজার অস্থিতিশীলতা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মান ও অন্যায্য মূল্য প্রতিরোধে সুনির্দিষ্ট কয়েকটি পদক্ষেপ বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে নিরাপদ শিশুখাদ্য নিশ্চিত করা, গুড় ও দুধে ক্ষতিকর রাসায়নিক প্রতিরোধ, দুধের বিশুদ্ধতা যাচাইয়ে ল্যাকটোমিটার সংগ্রহ, ভেজাল ওষুধ বিক্রি বন্ধ, বাজারজাত কীটনাশকের সরকারি অনুমোদন ও নির্ধারিত মূল্যের অসংগতি খতিয়ে দেখা।

​এছাড়া বইয়ের গায়ে মুদ্রিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম নেওয়া হচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণ, নগরকান্দার কাঠপট্টি সংলগ্ন জনাকীর্ণ স্থানে আসবাবপত্রে ব্যবহৃত কীটনাশক থেকে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে বিশেষ সচেতনতা তৈরি এবং খাদ্যে রাসায়নিকের প্রভাবে ক্যানসারসহ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

​জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ, মাইকিং, ভেজালবিরোধী ব্যানার স্থাপন এবং উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রচার অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়ে সভায় বক্তারা বলেন, “নিরাপদ খাদ্য ও ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করতে শুধু আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়; এর জন্য ব্যবসায়ী, ভোক্তা ও সুশীল সমাজসহ সবার সম্মিলিত প্রয়াস প্রয়োজন।”

​সভায় ক্যাবের নগরকান্দা শাখার সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মিন্টু, কার্যনির্বাহী সদস্য ও সরকারি মহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমির সাবেক শিক্ষক এ কে এম সাইয়াদুর রহমান (বাবলু), নগরকান্দা বণিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামছুল হুদা হুদু, লস্করদিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এ এফ এম সিদ্দিকুল আলম (বাবলু) এবং নগরকান্দা প্রেসক্লাবের সভাপতি শওকত আলী শরীফ উপস্থিত ছিলেন।

​এছাড়াও সংগঠনের সহসভাপতি মনিরুজ্জামান তুহিন, যুগ্ম সম্পাদক কামরুজ্জামান মোল্যা, সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক রোজিনা আক্তারসহ কার্যনির্বাহী সদস্য বলরাম কর্মকার, কামাল হোসেন পলাশ ও মুফতি হেদায়েত উল্লাহ সভায় বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন।

 

ফরিদপুরে ​স্কুল তৈরিতে ৮৪ শতাংশ জমি দান, তবুও মেলেনি স্বীকৃতি

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ​স্কুল তৈরিতে ৮৪ শতাংশ জমি দান, তবুও মেলেনি স্বীকৃতি

বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় ৮৪ শতাংশ জমি দান করার পরও দাতা সদস্যের তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং দীর্ঘদিন এক কর্মচারীর বেতন বন্ধ রাখার অভিযোগ উঠেছে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার নওয়াপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

​এসব অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্যরা।

​শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম মকবুল হোসেন খানের মেয়ে মনিরা বেগম ও ছেলে হারুন খান।

​সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ১৯৯৩ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার সময় স্থানীয় মকবুল হোসেন খান ৮৪ শতাংশ জমি দান করেন। তবে পরবর্তীতে জালিয়াতি ও নানা অনিয়মের মাধ্যমে দাতা সদস্যের তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়। এছাড়া বিদ্যালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রউফ তালুকদারের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের জমি বিক্রি ও ব্যাপক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়।

​অভিযোগে আরও বলা হয়, ১৯৯৮ সালে বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হওয়ার পর ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সন্তান হারুন খান অফিস সহকারী পদে যোগ দেন। তবে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাওলানা দবিরউদ্দীন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অন্যায়ভাবে তাঁর বেতন-ভাতা বন্ধ রাখা হয়েছে।

​তবে বেতন বন্ধের বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক জানান, ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্ধতিতে বেতন চালুর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এখনো জমা দেওয়া হয়নি। এ কারণে তাঁর নাম ইএফটিতে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলে দ্রুত ইএফটিতে নাম অন্তর্ভুক্ত করে বেতন চালুর ব্যবস্থা করা হবে।

​এদিকে নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা। অবসরপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, “আমি প্রায় ৯ বছর আগে অবসরে গেছি। সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন উদ্দেশ্যে আমার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনা হয়েছে।”

​একই সুর মিলিয়ে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাওলানা দবিরউদ্দীনও দাবি করেন, সংবাদ সম্মেলনে তাঁর বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ অসত্য তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

​সংবাদ সম্মেলন থেকে এসব অভিযোগের দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, বিদ্যালয়ের জমি ও সার্বিক আর্থিক কার্যক্রম পুনর্বিবেচনা এবং শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে স্থানীয় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

ফরিদপুরে এক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৬ জনের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:০১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে এক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৬ জনের

চলন্ত অবস্থায় চাকা বিস্ফোরিত হয়ে মহাসড়কে উল্টে পড়ে বালুবাহী ট্রাক। মুহূর্তেই ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে একটি প্রাইভেটকার ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক। দুমড়েমুচড়ে যাওয়া প্রাইভেটকারে থাকা মা ও তাঁর শিশুসন্তানের মৃত্যু হয়। আর বালু ও ট্রাকের নিচে চাপা পড়া ইজিবাইকচালকের মরদেহ উদ্ধার করে উদ্ধারকর্মীরা।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ফরিদপুর জেলা সদরের কানাইপুরের তেঁতুলতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হন। এর মাত্র এক ঘণ্টা আগে একই মহাসড়কে বাসের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হন আরো তিনজন। দুই দুর্ঘটনায় এক বিকেলেই ছয়জনের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের তেঁতুলতলা এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহতরা হলেন, মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার আলোকদিয়া গ্রামের সুমি বেগম (৩২), তাঁর ৭ বছরের ছেলে শাওন এবং অজ্ঞাতপরিচয় এক ইজিবাইকচালক। এ ঘটনায় সুমি বেগমের স্বামী পলাশ (৩৮) গুরুতর আহত অবস্থায় ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর শহর থেকে একটি বালুবাহী ট্রাক কানাইপুরের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ট্রাকটির সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর ট্রাকটির চাকা বিস্ফোরিত হয়ে সেটি মহাসড়কের ওপর উল্টে পড়ে। এ সময় সামনে থেকে আসা একটি প্রাইভেটকার ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ট্রাকটির নিচে চাপা পড়ে। দুর্ঘটনায় প্রাইভেটকারটির একাংশ দুমড়েমুচড়ে যায়।

অন্যদিকে ইজিবাইকটি বালু ও ট্রাকের নিচে পুরোপুরি চাপা পড়ে। খবর পেয়ে ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। বালু সরিয়ে ইজিবাইক থেকে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করা হয়। ক্রেনের সাহায্যে ট্রাক সরিয়ে প্রাইভেটকার থেকে আরো একজনকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁদের ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসক সুমি বেগম ও তাঁর ছেলে শাওনকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে ট্রাক ও বালুর স্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা ইজিবাইকচালককে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত থাকে। পরে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করেন ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর পরিচয় জানা যায়নি। এ ঘটনায় সুমি বেগমের স্বামী পলাশ গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে কোতয়ালী থানা ও করিমপুর হাইওয়ে পুলিশ।

এর আগে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মধুখালী উপজেলার আড়কান্দি ব্রীজ সংলগ্ন এলাকায় ঢাকাগামী কিং ফিশার পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মাগুরাগামী অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অ্যাম্বুলেন্সে থাকা তিনজন নিহত হন। আহত হন আরো কয়েকজন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অ্যাম্বুলেন্সে সাতজনের একটি দল ছিল। তাঁরা ‘ভলেন্টিয়ার বাংলাদেশ’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সভায় অংশ নিতে মাগুরা থেকে ফরিদপুরে এসেছিলেন। সভা শেষে অ্যাম্বুলেন্সে করে মাগুরায় ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন তাঁরা।

নিহতদের মধ্যে রাব্বি (২১) নামের একজনের পরিচয় জানা গেছে। অন্য দুজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আহতদের মধ্যে সাগর বিশ্বাস (২২) ও রিয়া (২১) রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাঁরা মাগুরা সদর উপজেলার বাসিন্দা।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ হতাহতদের উদ্ধার করে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুরের করিমপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম জানান, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে বাস ও অ্যাম্বুলেন্সের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর একই সড়কের কানাইপুরের তেঁতুলতলা এলাকায় ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে মা-ছেলেসহ আরো তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।