খুঁজুন
শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ১ চৈত্র, ১৪৩২

সাদা নাকি লাল, কোন ডিমে পুষ্টি বেশি? জেনে নিন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬, ৬:২৭ এএম
সাদা নাকি লাল, কোন ডিমে পুষ্টি বেশি? জেনে নিন

ডিম বাঙালির প্রতিদিনের খাদ্যতালিকার অত্যন্ত পরিচিত ও পুষ্টিকর একটি খাবার। সকালের নাশতা থেকে শুরু করে দুপুর বা রাতের খাবার, অনেকেরই পাতে ডিম না থাকলে যেন খাবারই অসম্পূর্ণ মনে হয়। তবে বাজারে ডিম কিনতে গেলে প্রায়ই একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খায়, সাদা ডিম ভালো, নাকি লাল ডিম?

অনেকেই মনে করেন লাল ডিমের দাম বেশি হওয়ায় এতে পুষ্টিও বেশি। আবার কেউ কেউ বলেন, দুই ধরনের ডিমের মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্যই নেই। আসলে বিষয়টি কী? ডিমের খোলসের রং কি সত্যিই পুষ্টিগুণ নির্ধারণ করে?

বিশেষজ্ঞদের মতামত ও গবেষণার তথ্য বলছে, এই ধারণার পেছনে আছে কিছু বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা, আবার কিছু প্রচলিত ভুল ধারণাও। চলুন জেনে নেওয়া যাক সাদা ও লাল ডিমের পার্থক্য, এর রঙ হওয়ার কারণ এবং পুষ্টিগুণের বাস্তব চিত্র।

ডিমের রঙ লাল বা সাদা হওয়ার কারণ কী

ডিমের রং মুরগির জাত ও জিনের ওপর নির্ভর করে। সাধারণত, সাদা পালকের মুরগির ডিম সাদা এবং গাঢ় রঙের পালকের মুরগির ডিম লাল হয়ে থাকে।

বিশেষ করে সাদা লেগহর্ন জাতের মুরগি বিভিন্ন রঙের হলেও তারা সবাই সাদা ডিম পাড়ে। অন্য দিকে প্লেমাউথ রকস বা রোড আইল্যান্ড মুরগিগুলো লাল ডিম পেড়ে থাকে। কিছু কিছু জাতের মুরগি সাদা হলেও লাল ডিম পাড়ে। ডিমের খোসার রঙ বাদামি হয় মূলত মুরগির জরায়ুর মধ্যে থাকা শেল গ্ল্যান্ডের কারণে।

প্রথমে মুরগির গর্ভে ডিমের কুসুম তৈরি হয়। তারপর তিন ঘণ্টা ধরে তৈরি হয় কুসুমের চারদিকে সাদা অংশ বা অ্যালবুমিন। এরপর এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তৈরি হয় খোসার নিচের ঝিল্লি।

এরপর ডিমটি লেজের কাছাকাছি শেল গ্ল্যান্ডে চলে যায়। এখানেই তৈরি হয় উপরের শক্ত খোসা। এই খোসা তৈরিতে সবচেয়ে বেশি সময় লাগে প্রায় ২০ ঘণ্টার মতো। সব ডিমের খোলস শুরুতে সাদাই থাকে। ডিম তৈরির একেবারে শেষ মুহূর্তে যোগ হয় রং। মুরগির দেহে থাকা এক রঞ্জক পদার্থ থেকে এই রং তৈরি হয়। তবে যেসব ডিম সাদা হয় সেগুলোয় রং যোগ হয় না।

আবার কিছু কিছু গবেষণায় এটাও বলা হয়েছে, মুরগির বয়স যতো বাড়তে থাকে, বা তারা যদি অনেক চাপে থাকে তাদের ডিমের রং হালকা হতে শুরু করে। সাধারণত ডুয়েল ব্রিড অর্থাৎ যেসব মুরগি ডিম ও মাংস দুটি উৎপাদনের উদ্দেশ্যে পালন করা হয় সেগুলো লাল রঙের ডিম পাড়ে। এসব মুরগি আকারে বড় হওয়ায় বেশি পরিমাণ খাবার দিতে হয়। ফলে ডিমের উৎপাদন খরচ বেশি পড়ে।

অন্যদিকে সাদা পালকের মুরগির প্রজনন খরচ কিছুটা কম। তারা বাদামি রঙের মুরগির চেয়ে খায়ও কম। এজন্য সাদা ডিমের দাম লাল মুরগির চেয়ে কিছুটা কম রাখা যায়।

কোন রঙের ডিমে পুষ্টি বেশি?

পুষ্টিবিদ সৈয়দ তাসনিম হাসিন চৌধুরী এবং পোল্ট্রি বিশেষজ্ঞ শাকিলা ফারুক দুজনই জানিয়েছেন, ডিমের রঙের সাথে এর পুষ্টিগুণের কোনো তারতম্য হয় না।

আবার নিউ ইয়র্কের এক দল গবেষকের মতে, লাল ডিমে ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড সামান্য বেশি রয়েছে। কিন্তু সেই পার্থক্য এতটাই সামান্য যে তাতে খুব একটা ফারাক হয় না। সেক্ষেত্রে বলা যায়, দুই রঙের ডিমের খাদ্যগুণ প্রায় সমান। তাই ডিম যে রঙেরই হোক আপনি তা নিশ্চিন্তে খেতে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, একটি ৫০ গ্রাম ওজনের ডিমে ৭২ ক্যালোরি ও ৪.৭৫ গ্রাম ফ্যাট রয়েছে। সাদা ও লাল ডিমে এই পুষ্টিগুণের পরিমাণ প্রায় সমান।

তবে বাজারে ওমেগা থ্রি সমৃদ্ধ ডিম, অর্গানিক ডিম, জৈব এবং নন-জিএমও ফিড দেওয়া মুরগির ডিম, খোলামেলা জায়গায় পালন করা দেশি মুরগির ডিম ইত্যাদির বেশ কদর রয়েছে।

এক্ষেত্রে মুরগির ডিমের রং নয়, বরং মুরগি কী ধরনের খাবার খায় এবং কী ধরনের পরিবেশে বেড়ে ওঠে সেটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

যেমন যেসব মুরগিকে বেশি বেশি ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডযুক্ত কিংবা ভিটামিন এ বা ই-যুক্ত ফিড খাওয়ানো হয়, সেসব মুরগির ডিমে এসব পুষ্টি উপাদান বেশি থাকে। এই বিশেষ ফিডের জন্য দামটাও বেশি পড়ে।

পুষ্টিবিদ তাসনিম হাসিন চৌধুরীর মতে, যেসব মুরগি প্রাকৃতিক উপায়ে পুষ্টিকর খাবার খুঁজে খুঁজে খায়, সেসব মুরগির ডিমে ভিটামিন ই, ভিটামিন এ, ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, খনিজ উপাদান এবং ফ্যাট বেশি থাকে।

অন্যদিকে খামারের মুরগির ডিমে এই ভিটামিন ও খনিজ কিছুটা কম থাকলেও প্রোটিনের পরিমাণ বেশি এবং ফ্যাটের পরিমাণ কম থাকে।

তবে পোল্ট্রি বিশেষজ্ঞ শাকিলা ফারুক বলছেন, গৃহস্থালির মুরগি রোদে বেশি থাকায় এগুলোর ডিমে ভিটামিন-এ ও ডি বেশি থাকে৷ আবার খামারে ভালো ফিড খাওয়ানো মুরগির ডিমের পুষ্টি অনেক সময় এসব গৃহস্থালি মুরগির ডিমের চাইতেও বেশি হয়। কারণ তাদের নিয়মিত ভালো মানের ফিড দেওয়া হয়।

ডিমের কুসুমের রং

আবার ডিমের পুষ্টির সাথে ডিমের খোলসের রঙের কোনো যোগ না থাকলেও ডিমের কুসুমের রঙের একটা প্রভাব আছে।পুষ্টিবিদদের মতে, যে ডিমের কুসুমের রং যতো গাঢ় সেই ডিমে ভিটামিন এ, ক্যারোটিন ও খনিজ উপাদানের মাত্রা ততো বেশি। ওই ডিমের স্বাদও বেশি। এদিকে, ডিমের কুসুমের রংও নির্ভর করে মুরগি কী খাচ্ছে তার ওপর। ক্যারোটিনয়েড নামের এক রকম রাসায়নিকের প্রভাবে ডিমের কুসুমের রং গাঢ় হয়।

অনেক খামারে কুসুমের রং গাঢ় করতে মুরগিকে ক্যারোটিনয়েড জাতীয় ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়। কোথাও আবার লাল ক্যাপসিকাম খাওয়ানো হয়।

যেহেতু ডিমের স্বাদ ও পুষ্টিগুণ মুরগির খাদ্যের ওপর নির্ভর করে। তাই যেসব মুরগি সাদা ডিম দেয় এবং যেগুলো লাল ডিম পাড়ে, তাদের সবাইকে একই ধরনের খাবার দিলে স্বাদে ও পুষ্টিতে তেমন কোনো পার্থক্য হবে না।

সূত্র : বিবিসি

‘বর্তমান সংসদ দেশের ১৮ কোটি মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে’: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬, ১০:১৩ পিএম
‘বর্তমান সংসদ দেশের ১৮ কোটি মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে’: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন অকার্যকর থাকা জাতীয় সংসদ আবারও কার্যকর হয়েছে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার তালমা মোড়ে বিএনপি আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, ১৭ বছরের দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও জুলাই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় অবশেষে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশের গণতন্ত্র, রাজনীতি ও উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে সংসদ আবারও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে শুরু করেছে। এই সংসদ দেশের ১৮ কোটি মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে।

তিনি আরও বলেন, ভোটারদের হাতের কালি শুকানোর আগেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছেন, যা বিএনপির জনকল্যাণমুখী রাজনীতির প্রমাণ।

ইফতার মাহফিলে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান মুকুল, যুবদল নেতা তৈয়াবুর রহমান মাসুদসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আদালতে ‘মিথ্যা প্রত্যয়নপত্র’ দাখিলের অভিযোগ, গণপূর্তের দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬, ৯:৩৪ পিএম
আদালতে ‘মিথ্যা প্রত্যয়নপত্র’ দাখিলের অভিযোগ, গণপূর্তের দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন

গণপূর্ত অধিদপ্তরের দুই উপ-সহকারী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে আদালতে অসত্য প্রত্যয়নপত্র দাখিল করে বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন করেছেন যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাসিন্দা মো. রকি হাসান।

গত ৫ মার্চ ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রেরিত ওই আবেদনে তিনি অভিযোগ করেন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ গণপূর্ত অধিদপ্তরের দুই কর্মকর্তা—মো. আঃ রহমান (উপ-সহকারী প্রকৌশলী, ই/এম), বর্তমানে ঢাকা গণপূর্ত ই/এম বিভাগ-১০ এ কর্মরত এবং শিরিনা পারভীন (উপ-সহকারী প্রকৌশলী, ই/এম), ফরিদপুরে কর্মরত—তার দায়ের করা একাধিক মামলায় আদালতে অসত্য ও ভিত্তিহীন প্রত্যয়নপত্র দাখিল করেছেন।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, যশোরের বিজ্ঞ আমলী আদালতে দায়ের করা পি-৫৭১/২৩ ও পি-৯২৭/২৪ নম্বর দুটি মামলার শুনানির সময় অভিযুক্ত কর্মকর্তারা ফরিদপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর স্বাক্ষরযুক্ত একটি প্রত্যয়নপত্র আদালতে উপস্থাপন করেন। ওই প্রত্যয়নপত্রে দাবি করা হয় যে, ২০২৪ সালের ২৯ নভেম্বর (শুক্রবার) তারা নিজ নিজ কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

তবে অভিযোগকারী মো. রকি হাসানের দাবি, বাস্তবে ওই দিন তারা কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন না এবং আদালতে দাখিল করা প্রত্যয়নপত্রটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার ভাষ্য, সরকারি কর্মকর্তা হয়েও বারবার এমন অসত্য তথ্য দিয়ে আদালতকে বিভ্রান্ত করা আইনত গুরুতর অপরাধ এবং এটি একটি শাস্তিযোগ্য বিভাগীয় অপরাধ।

রকি হাসান জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রথমে গণপূর্ত অধিদপ্তরে এবং পরে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দেন। প্রতিকার না পেয়ে পরে তিনি সরকারের অভিযোগ ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম (GRS)-এও অভিযোগ করেন। যার স্লট ট্র্যাকিং নম্বর ০১৭২০৯৪৪২৬১০০০১।

তবে GRS প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তাকে জানানো হয় যে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে রকি হাসান বলেন, আদালতে দাখিল করা নথিপত্র ও বিভিন্ন প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও যদি সত্যতা অস্বীকার করা হয়, তাহলে একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে ন্যায়বিচার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, মিথ্যা প্রত্যয়নপত্রের মাধ্যমে দুইবার মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর অভিযুক্ত কর্মকর্তারা ফরিদপুরের স্থানীয় কিছু ঠিকাদারের সহায়তায় তার ওপর বিভিন্নভাবে চাপ ও ভয়ভীতি সৃষ্টি করছেন।

একই ঘটনার প্রেক্ষিতে তিনি যশোর কোতোয়ালী থানাধীন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে সি আর মামলা (CR-১৪৭২/২৫) দায়ের করেন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য যশোর সিআইডি কার্যালয়ে পাঠায়। পরবর্তীতে তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন।
এ মামলায় ইতোমধ্যে আদালত থেকে সমন জারি হয়েছে এবং পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ নভেম্বর ২০২৫।

রকি হাসান অভিযোগ করেন, গণপূর্ত বিভাগের প্রভাবশালী কর্মকর্তা হওয়ায় অভিযুক্তরা বিভিন্নভাবে আইনি প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলছেন এবং প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন।

এ পরিস্থিতিতে তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন তাকে অবহিত করার জন্যও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট গণপূর্ত কর্মকর্তারা বলেন, রকি যে আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিচ্ছেন সেগুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমাদের হয়রানি করার জন্য তিনি এ অভিযোগগুলো দিচ্ছেন।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আবেদনকারী।

“চেনা কেউ আসবে কি?” ফরিদপুরের বৃদ্ধাশ্রমে নুরজাহান বেগমের অপেক্ষার জীবন

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬, ৮:২৩ পিএম
“চেনা কেউ আসবে কি?” ফরিদপুরের বৃদ্ধাশ্রমে নুরজাহান বেগমের অপেক্ষার জীবন

জীবনের শেষ প্রান্তে এসে মানুষের সবচেয়ে বড় চাওয়া থাকে একটু স্নেহ, একটু খোঁজখবর আর প্রিয়জনের পাশে থাকার সুযোগ। কিন্তু সব মানুষের ভাগ্যে তা জোটে না। ফরিদপুর শহরের টেপাখোলা এলাকার ‘শান্তি নিবাস’—যা স্থানীয়দের কাছে বৃদ্ধাশ্রম হিসেবেই বেশি পরিচিত—সেখানে এমনই এক নীরব জীবনের গল্প বয়ে বেড়াচ্ছেন নুরজাহান বেগম।

বয়স তার ৬০ পেরিয়েছে বহু আগেই। জীবনের বেশিরভাগ সময়ই কেটেছে সংগ্রাম আর একাকীত্বে। পৃথিবীতে নিজের বলতে তেমন কেউ নেই বলেই শেষ পর্যন্ত আশ্রয় নিতে হয়েছে এই বৃদ্ধাশ্রমে। এখানে এখন তার দিন কাটে অপেক্ষায়, স্মৃতির ভেতর ঘুরে বেড়ানো আর মৃত্যুর প্রহর গোনায়।

নুরজাহান বেগমের জন্ম ফরিদপুর জেলা সদরের হারোকান্দিতে। ছোটবেলাতেই জীবনে নেমে আসে দুঃখের ছায়া। যখন তার বয়স মাত্র নয় বছর, তখনই মারা যান তার বাবা আইনউদ্দিন শেখ। বাবার মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই কিছুদিনের মধ্যে হারান মাকেও। এত অল্প বয়সে এত বড় শূন্যতা তাকে একেবারেই অসহায় করে তোলে।

এরপর আশ্রয় মেলে বড় বোনের সংসারে। বোনের বাসাতেই ধীরে ধীরে বড় হয়ে ওঠেন তিনি। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতা তার জীবনের স্বাভাবিক পথকে বদলে দেয়। ছোটবেলা থেকেই তার দুই পা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে থাকে এবং তীব্র ব্যথা অনুভব করেন। স্থানীয় ভাষায় যাকে অনেকে “পা ফোলা রোগ” বলে উল্লেখ করেন। এই অসুস্থতার কারণেই তিনি কখনো স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা বা ভারী কাজ করতে পারেননি।

নুরজাহান বেগম নিজেই বলেন, “আমি ছোটবেলা থেকেই পায়ের সমস্যায় ভুগছি। হাঁটতে কষ্ট হয়, ব্যথা করে। তাই ভাবতাম, যদি বিয়ে করি তাহলে স্বামীর বাড়িতে গিয়ে কাজ করতে পারব না। কারও বোঝা হয়ে থাকতে চাইনি। তাই জীবনে বিয়ে করিনি।”

সময়ের সাথে সাথে বোনের জীবনেও পরিবর্তন আসে। বোনের বিয়ে হয়, সংসার গড়ে ওঠে, সন্তান হয়। পরিবারের সদস্য বাড়তে থাকে। সেই সংসারে ধীরে ধীরে নিজেকে অপ্রয়োজনীয় মনে হতে শুরু করে নুরজাহানের।

তিনি বলেন, “বোনের সংসার হলো, ছেলে-মেয়ে হলো। তখন বুঝলাম আমি যেন ওদের জন্য বোঝা হয়ে যাচ্ছি। কারও ওপর চাপ হয়ে থাকতে ভালো লাগে না। এক সময় আমাকে এই বৃদ্ধাশ্রমে নিয়ে আসা হয়।”

ফরিদপুর শহরের টেপাখোলা এলাকার শান্তি নিবাস বহু বছর ধরে অসহায় ও নিঃস্ব বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের আশ্রয় দিয়ে আসছে। এখানে থাকা অনেকের মতো নুরজাহান বেগমের জীবনেও রয়েছে না বলা অনেক গল্প, কষ্ট আর স্মৃতি।

বৃদ্ধাশ্রমের ছোট্ট একটি কক্ষে তার এখনকার বাস। সেখানে একটি খাট, কিছু প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আর দেয়ালে ঝুলে থাকা পুরোনো স্মৃতিই তার সঙ্গী।

তবে পুরোপুরি ভুলে যাননি তার আপনজনরা—এমনটাও নয়। মাঝে মাঝে বোনের পরিবারের কেউ কেউ তাকে দেখতে আসে। কখনো ফোন করে খোঁজখবর নেয়। এই সামান্য যোগাযোগই তার কাছে বড় সান্ত্বনা হয়ে আসে।

নুরজাহান বেগম বলেন, “অনেকদিন পর পর ওরা আসে। কখনো মোবাইলে কথা বলে। তখন মনে হয়, এখনও কেউ আছে আমার খোঁজ নেওয়ার।”

বৃদ্ধাশ্রমের বারান্দায় বসে প্রায়ই তিনি রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকেন। হয়তো মনে মনে আশা করেন—হঠাৎ করেই কোনো পরিচিত মুখ সামনে এসে দাঁড়াবে।

“এই বৃদ্ধাশ্রমই এখন আমার ঘর। এখানেই মাথা ঠুকে বেঁচে আছি। মাঝে মাঝে বসে রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকি। যদি চেনা কেউ আসে,”—কথাগুলো বলতে বলতে তার চোখে ভেসে ওঠে এক অদৃশ্য শূন্যতা।

এভাবেই দিন যায়, রাত আসে। আর তিনি ধীরে ধীরে গুনতে থাকেন জীবনের শেষ সময়ের অপেক্ষা।

“স্বপ্ন বলতে এখন আর কিছু নেই,”—শান্ত কণ্ঠে বলেন নুরজাহান বেগম। “দিন আসে, রাত যায়। মনে হয় শুধু মৃত্যুর প্রহর গুনছি।”

বৃদ্ধাশ্রমের দায়িত্বশীলরা জানান, এখানে থাকা অনেক মানুষের মতো নুরজাহান বেগমও অত্যন্ত শান্ত ও নিরহংকার একজন মানুষ। নিজের কষ্টের কথা খুব কমই বলেন। বেশিরভাগ সময় চুপচাপ থাকেন।

সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবারভিত্তিক সামাজিক কাঠামো এখনও শক্তিশালী হলেও অনেক ক্ষেত্রে অসহায় ও বয়স্ক মানুষেরা পরিবারের বাইরে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে যাদের শারীরিক অসুস্থতা বা আর্থিক সংকট রয়েছে, তাদের জীবনে এই বাস্তবতা আরও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

নুরজাহান বেগমের জীবনও যেন সেই বাস্তবতারই একটি প্রতিচ্ছবি।

তবুও তার চোখে মাঝে মাঝে একটুখানি আশা জ্বলে ওঠে—হয়তো কোনোদিন আবার কেউ এসে বলবে, “চলো, তোমাকে নিয়ে যাই নিজের ঘরে।”

ততদিন পর্যন্ত ফরিদপুরের টেপাখোলার এই শান্তি নিবাসই তার আশ্রয়, সঙ্গী আর জীবনের শেষ ঠিকানা।