খুঁজুন
শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯ মাঘ, ১৪৩২

তেলবাজির রাজনীতির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট!

গোলাম মাওলা রনি
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:৩৬ পিএম
তেলবাজির রাজনীতির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট!

লালুপ্রসাদ যাদবের একটি বক্তব্য ইন্টারনেটে রীতিমতো ভাইরাল আকারে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বিহারের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সাবেক রেলমন্ত্রী লালুপ্রসাদ যাদব পাক-ভারত উপমহাদেশের অত্যন্ত আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ঘটনার দিন তিনি ভারতীয় লোকসভায় বক্তব্য দিচ্ছিলেন। কংগ্রেস জামানায় যদিও প্রধানমন্ত্রীরূপে মনমোহন সিং দায়িত্ব পালন করছিলেন, কিন্তু পর্দার আড়ালে সব ক্ষমতার মালিক ছিলেন সোনিয়া গান্ধী।

আর সোনিয়া গান্ধীকে কেন্দ্র করে ভারতবর্ষে যে নয়া চাটুকার শ্রেণির দাপট শুরু হয়েছিল তা প্রকাশ করার জন্য জনাব লালু পার্লামেন্টে যেভাবে বক্তব্য উপস্থাপন করেছিলেন তা আধুনিক গণতন্ত্রের সমালোচনার ক্ষেত্রে এক নতুন মাইলস্টোন স্থাপন করেছে।

লালু বলেছিলেন, ম্যাডামজি! প্লিজ! টিটিএমপি থেকে সাবধান হোন, তা না হলে ওরা আপনার সর্বনাশ করে ছাড়বে। পুরো পার্লামেন্ট লালুর মুখে টিটিএমপি শব্দ শুনে প্রথমে স্তম্ভিত হয়ে পড়ল। তারা মনে করল টিটিএমপি সম্ভবত পাকিস্তানের কোনো সন্ত্রাসবাদী নতুন সংগঠন।

স্বয়ং সোনিয়া গান্ধীও আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে লালুর প্রতি তাকালেন। তখন লালু বললেন, টিটিএমপি হলো তেল তোড়কে মালিশ পার্টি-যাদের কাজই হলো তেলের শিশি নিয়ে আপনার পেছনে ছুটে বেড়ানো। লালুর কথা শুনে পুরো পার্লামেন্ট হাসিতে ফেটে পড়ল। সোনিয়া গান্ধীও খুব হাসলেন।

লালু এরপর বললেন-আমারও অনেক টিটিএমপি আছে, কিন্তু আমি তাদের ব্যাপারে সচেতন থাকার কারণে তারা সর্বনাশ ঘটাতে পারে না। কিন্তু আপনাকে নিয়ে যে তেলবাজি চলছে, তা ইতিহাসের সব সীমা অতিক্রম করেছে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্বাধীনতার পর থেকে আজকের দিন পর্যন্ত তেল মালিশ পার্টির দাপট জ্যামিতিক হারে কিভাবে বেড়েছে এবং কিভাবে রাজনীতির সব সম্ভাবনাকে গলা টিপে হত্যা করেছে তা নিয়ে আলোচনা করব। কিন্তু তার আগে প্রাচীন দুনিয়ার দুটি ঐতিহাসিক ঘটনা আপনাদেরকে বর্ণনা করতে চাই। দুটো ঘটনার সময়কাল প্রায় কাছাকাছি।

একটি ঘটেছিল ভারত সম্রাট হর্ষবর্ধনের রাজদরবারে, অন্যটি ঘটেছিল আব্বাসীয় খলিফা আল মনসুরের দরবারে। হর্ষবর্ধনের ঘটনাটি বর্ণিত হয়েছে পণ্ডিত জওয়াহেরলাল নেহরুর ‘দ্য গ্লিমসেস অব ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রি’ বইয়ে এবং খলিফা মনসুরের কাহিনিটি বর্ণনা করেছেন ইমাম গাজ্জালী তাঁর পৃথিবী বিখ্যাত বই ‘ইয়াহইয়ায়ে উলুমুদ্দিন’-এ।
তেলবাজির রাজনীতির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট!নেহরুর বর্ণনায় জানা যায়, সম্রাট হর্ষবর্ধন একদিন তাঁর সভাকবি বানভট্টকে প্রকাশ্য রাজদরবারে ডেকে পাঠান। বানভট্ট দুনিয়ার সর্বকালের মশহুর কবিদের মধ্যে অন্যতম। কালিদাস-ইমরুল কায়েস-শেখ সাদি-ওমর খৈয়াম-ফেরদৌসি-হোমার কিংবা ঋষি বেদব্যাসের মতো মহাকবিদের তালিকায় বানভট্টের নাম রয়েছে। তাঁর লিখিত হর্ষচরিত ইতিহাসের এক অনন্য কবি হিসেবে বানভট্টের যেমন সুনাম রয়েছে, তেমনি চরিত্রহীন লম্পট হিসেবেও তাঁর কুখ্যাতি কম নয়। আর আমি যে জামানার কথা বলছি তখন জ্ঞানী-গুণী-দার্শনিকদের সম্মান ছিল রাজার চেয়েও বেশি এবং সমাজ ও রাষ্ট্রে কবি ও পর্যটকদের আকর্ষণ ছিল সর্বোচ্চ। আজকের দিনে রাজনীতি-চলচ্চিত্রের সুপারস্টারদের নিয়ে লোকজন যেমন আদিখ্যেতা দেখায় তার চেয়েও বেশি আদিখ্যেতা প্রাচীন দুনিয়ার মানুষ দেখাতেন কবিদের নিয়ে। ফলে রাজা হওয়ার পরও অনেকে চেষ্টা করতেন কবি হওয়ার জন্য, আর সেই বোধ থেকেই সম্রাট হর্ষবর্ধন মাঝেমধ্যে দু-চারটি কবিতা লিখে বানভট্টকে দেখাতেন এবং নিজের কাব্য প্রতিভার বাহাদুরির চেষ্টা করতেন। বাংলাদেশের সাবেক স্বৈরাচার আলহাজ কবি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মতো।

এরশাদের কবি হওয়ার অপচেষ্টা যেভাবে বাংলার কবিরা রুখে দিয়েছিল এবং তাঁর কাব্যপ্রতিভা নিয়ে ঠাট্টা-মস্করা করে কবি মোহাম্মদ রফিক যেভাবে লিখেছিলেন-‘সব শালা কবি হবে, পিঁপড়ে গোঁ ধরেছে উড়বেই,/দাঁতাল শুয়োর এসে রাজাসনে বসবেই’। ঠিক তদ্রূপ সম্রাট হর্ষবর্ধনকে নিয়েও শুরু হলো প্রাচীন উত্তর ভারতে ঠাট্টা-মশকরার তাণ্ডব। এরশাদকে উদ্ধার করার জন্য যেভাবে কবি আবুল ফজল, ফজল শাহাবুদ্দিনের মতো প্রতিষ্ঠিত কবিরা এগিয়ে এলেন এবং নিজেরা মানসম্পন্ন কবিতা লিখে এরশাদের নামে চালিয়ে দিলেন, ঠিক তদ্রূপ বানভট্টও এগিয়ে এলেন সম্রাট হর্ষকে বাঁচানোর জন্য। কিন্তু সমস্যা দেখা দিল অন্য জায়গায়।

এরশাদের জামানার মতো হর্ষের জামানা ছিল না। আর এরশাদের কবিদের তুলনায় হর্ষের কবি ছিলেন শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠিতে আকাশের তারকার মতো। দ্বিতীয়ত, কবিদের কুকর্ম সম্পর্কে এরশাদ ওয়াকিফহাল ছিলেন এবং তাঁর আশকারা পেয়েই কবিরা কবিতার বলাৎকার করেছিল। অন্যদিকে সম্রাট হর্ষ ছিলেন মহাকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্রাট। কাজেই হর্ষের নামে কবিতা লিখে বানভট্ট সেটা প্রচার করবেন তা সম্রাট হর্ষবর্ধনের জামানার সুশাসন, ন্যায়বিচার এবং শিক্ষা-সভ্যতার সঙ্গে বেমানান। সম্রাট মরে গেলেও এমন কর্ম করবেন না এবং তেলবাজ কবি বানভট্ট সাহস করে সম্রাটের কাছে পূর্বানুমতি নিয়ে নিজের লিখিত কবিতা সম্রাটের নামে চালিয়ে দেবেন, তা কল্পনাও করা যেত না।

উল্লিখিত বাস্তবতায় বানভট্ট গোপনে ভালো ভালো কবিতা লিখে তা সম্রাটের লিখিত কবিতা শিরোনামে সাম্রাজ্যের বড় বড় শহর বন্দর নগরে রাতের আঁধারে সেঁটে দিলেন। ফলে উত্তর ভারতজুড়ে হৈচৈ পড়ে গেল। সব কবিরা বিদ্রোহ করলেন এবং সম্রাটকে প্রকাশ্য রাজদরবারে তাঁদের সামনে কাব্য প্রতিভা জাহিরের চ্যালেঞ্জ জানালেন। খবর যখন সম্রাটের কানে এলো তখন তিনি ভারি বিপদে পড়লেন। প্রথমত, তিনি স্বীকার করলেন যে কবিতাগুলো তাঁর লিখিত নয় এবং তিনি জানেনও না যে অপকর্মটি কে করেছে। বিদ্রোহী কবিরা রাষ্ট্রীয় তদন্ত দাবি করলেন এবং সম্রাট তাঁর গোয়েন্দা বাহিনীর মাধ্যমে জানালেন যে তাঁর সভাকবি বানভট্ট কুকাজটি করেছে। প্রকাশ্য রাজদরবারে বিচার বসল এবং বানভট্টকে দোষী সাব্যস্ত করে সম্রাট তাঁকে সভাকবির পদ থেকে পদচ্যুত করলেন এবং রাজদরবার থেকে দূর দূর করে তাড়িয়ে দিলেন। তারপর সম্রাট তাঁর সেই বিখ্যাত উক্তিটি করলেন, রাজার সবচেয়ে বড় বিপদ হলো চাটুকার আর রাজা ও রাজনীতির জন্য নির্মম বাস্তবতা হলো কোনো রাজা এবং কোনো রাজনীতি চাটুকার ছাড়া চলে না।

হর্ষবর্ধনের পর আমরা খলিফা আল মনসুরের দরবারের কাহিনি বলব। খলিফা মনসুর চাটুকারদের যন্ত্রণায় মাঝেমধ্যে অতিষ্ঠ হয়ে রাজদরবার ছেড়ে বেরিয়ে যেতেন, তেলবাজদের উপর্যুপরি অপমান করে তাড়িয়ে দিতেন এবং মিথ্যা শুনতে শুনতে হয়রান হয়ে সত্য ভাষণ শোনার জন্য অস্থির হয়ে পড়তেন। তো এমনি এক দিনে তিনি তাঁর পরিষদবর্গকে হুকুম করলেন, অবিলম্বে একজন সর্বজনশ্রদ্ধেয় জ্ঞানী-গুণীকে আমার সামনে নিয়ে আসো, যিনি খলিফার সামনে দাঁড়িয়ে সত্য কথা বলতে ভয় পাবেন না।

খলিফার লোকজন রাজধানী বাগদাদে তন্নতন্ন করে উল্লিখিত চরিত্রের আলেম খুঁজতে লাগলেন এবং মদিনার অধিবাসী ওয়াসিল ইবনে আতাকে নিয়ে যখন রাজদরবারে হাজির হলেন তখন রাজদরবারে একটি বিচারকার্য চলছিল মদিনার গভর্নর এবং মদিনার সবচেয়ে প্রভাবশালী গোত্রের বিরোধ নিয়ে। উভয় পক্ষই সর্বোচ্চ কায়দা-কানুন করে মিথ্যা বলে খলিফাকে বিভ্রান্ত করছিল। রাজদরবারে ওয়াসিল ইবনে আতাকে দেখে বিবদমান উভয় পক্ষই খলিফাকে বলল-ওয়াসিল ইবনে আতা নির্ভীক ও সত্যবাদী। আমরা তাকে সাক্ষী মানি। খলিফা মদিনার গোত্রপ্রধানদের সম্পর্কে আতার মতামত জানতে চাইলেন।

আতা বললেন, ওরা খুবই বজ্জাত প্রকৃতির মানুষ। সারাক্ষণ দ্বন্দ্ব-ফ্যাসাদ করে এবং অপরাধ করতে করতে ওরা মানুষের জীবনকে জাহান্নাম বানিয়ে ফেলেছে। আতার কথা শুনে গোত্রপ্রধানরা মাথা নিচু করে রইল। খলিফা রাগান্বিত হয়ে তাদের বললেন-এতক্ষণ কেন মিথ্যা বলছিলি। অন্যদিকে মদিনার গভর্নর উল্লসিত হয়ে বললেন, ইয়া আমিরুল মুমেনিন, শুনলেন তো! আপনি অযথাই আমার ওপর রাগ করছিলেন। এ অবস্থায় গোত্রপ্রধানরা বললেন, হে আমিরুল মুমেনিন, এবার আপনি আতার কাছ থেকে আপনার গভর্নর সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞেস করুন।

খলিফা যখন মদিনার গভর্নর সম্পর্কে জানতে চাইলেন, তখন আতা বললেন, আপনার গভর্নর শয়তানের সর্দার। সে তার দরবারে মদিনার সব শয়তানকে নিয়ে মজমা তৈরি করে। মদ্যপান এবং অশ্লীল কর্মে লিপ্ত থেকে হারামিপনার নিকৃষ্ট সব উদাহরণ তৈরি করে। তার ও তার সাঙ্গোপাঙ্গদের অত্যাচারে মদিনাবাসী অতিষ্ঠ। এই গভর্নরের চেয়ে খারাপ ব্যক্তি মদিনায় দ্বিতীয়টি নেই। আতার কথা শুনে খলিফা গর্জে উঠলেন এবং গভর্নরকে বললেন-বলো! বলো! এখন বলো যে আতা মিথ্যা বলেছে।

উল্লিখিত অবস্থায় গভর্নর বললেন, আতা সত্য বলেছেন। তবে আপনার সম্পর্কে আতা কী বলেন তা একটু জিজ্ঞেস করেন। খলিফা মনসুর অনেকটা আত্মবিশ্বাস নিয়ে বললেন, এবার বলো তো আমি আসলে লোকটা কেমন। আতা বললেন, আপনার প্রশাসনে যত শয়তান রয়েছে নিশ্চয়ই আপনি সেই সব শয়তানের মধ্যে নিকৃষ্টতর, ধুরন্ধর এবং নিষ্ঠুর। আপনি শয়তানের নিয়োগকর্তা-মদদদাতা এবং ভণ্ড, প্রতারণার নিকৃষ্ট উদাহরণ। আপনার শাসনে প্রজারা যে কি কষ্টে আছে তা এই রাজপ্রাসাদে বসে আপনি কোনো দিন শুনতে পাবেন না।

ওয়াসিল ইবনে আতার কথা শুনে খলিফা মনসুর চিৎকার করে বললেন, ‘ওকে সরিয়ে নাও। আমি আর শুনতে পারছি না। নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারছি না।’

আমরা আজকের আলোচনার একদম শেষ পর্যায়ে চলে এসেছি। খলিফা মনসুর এবং সম্রাট হর্ষবর্ধনের ঐতিহাসিক কাহিনির প্রেক্ষাপট, লালুপ্রসাদ যাদবের বক্তব্য এবং বাংলাদেশের রাজনীতির বর্তমান হালহকিকত যদি আমরা বিশ্লেষণ করি, তবে সোনার বাংলায় কী হচ্ছে তা বোধ করি বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন নেই।

লেখক: রাজনীতিবিদ ও লেখক

 

টুপি আর ঘোমটা কি সত্যিই ভোট বাড়ায়?

তানহা তাসনিম
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:০৩ এএম
টুপি আর ঘোমটা কি সত্যিই ভোট বাড়ায়?

উদারপন্থি থেকে বামপন্থি, কিংবা স্বতন্ত্র – নির্বাচনী জনসংযোগে প্রায় সব পক্ষের প্রার্থীদেরই পোশাকে পরিবর্তন চোখে পড়ার মতো। টুপি, পাঞ্জাবি, ঘোমটা হয়ে উঠেছে তাদের প্রচারণার পোশাক।

কেবল পোশাকই নয়, ধর্মকে ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণার বিষয়টি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বেশ পুরনো ঘটনা। আর তাতে পিছিয়ে ছিল না ধর্মভিত্তিক কিংবা উদারপন্থি রাজনৈতিক দলের কেউ।

দেখা গেছে, ধর্মভিত্তিক স্লোগান, পোস্টার কিংবা মাজার জিয়ারত করে নির্বাচনী প্রচারের নজির।

তবে গণ-অভ্যুত্থানের পর ‘নতুন বন্দোবস্তে’ ভোটাররা যে পরিবর্তনের আশা করেছিল নির্বাচনী জনসংযোগে, তার প্রতিফলন হয়নি, বরং এবাররের নির্বাচনে ধর্মকে আরও বেশি ব্যবহারের অভিযোগ উঠছে।

আর ভোটারদের অজ্ঞতাকেই রাজনীতিতে ধর্মকে ব্যবহারের কারণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

যদিও নির্বাচনী আচরণবিধিতে ধর্মকে ব্যবহারের বিষয়ে আছে কঠোর নিষেধাজ্ঞা। কোনো প্রার্থী যদি সেই নির্দেশ অমান্য করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে জরিমানা ও শাস্তির বিধানও রয়েছে।

নির্বাচনী জনসংযোগে টুপি, ঘোমটা, পাঞ্জাবি

১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের জন্য বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হলেও বেশ কিছুদিন আগে থেকেই নিজ নিজ আসনে জনসংযোগ করছেন প্রার্থীরা।

বেশিরভাগ সময়ই এসব প্রার্থীদের মসজিদ বা শোকসভার মতো জমায়েতে জনসংযোগ করতে দেখা গেছে, যেখানে বেশিরভাগই পুরুষ প্রার্থীদের পরতে দেখা গেছে টুপি-পাঞ্জাবি আর নারী প্রার্থীরা টেনেছেন ঘোমটা।

বিএনপি, এনসিপি, গণঅধিকার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রায় সবাইকেই এই বেশে দেখা গেছে।

তবে এনিয়ে সবচেয়ে বেশি সমালোচনার মুখে পড়েন ঢাকার এমপি পদপ্রার্থী ও এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

সম্প্রতি তার জনসংযোগের সময় একজন ধর্মীয় পোশাক পরা ব্যক্তি তাকে হঠাৎ করে টুপি, পাঞ্জাবি পরার বিষয়ে প্রশ্ন করেন। এসময় ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

মি. পাটওয়ারীই বা কেন এখন এসে এই পোশাককে প্রয়োজনীয় মনে করলেন?

“নির্বাচন আসলে এটা থাকে। আর সমাজে যারা উপরস্থ, মসজিদ বা বাজার কমিটির সভাপতি- তাদের বয়স ৪০ থেকে ৫০ বছরের উপরে থাকে। ফলে তারা ঐ সময় ধর্মচর্চাটা করেন – পাঞ্জাবি, টুপি পরেন।

“তো তাদের সাথে যখন কমিউনিকেশন হয়, তখন ঐ ধরনের একটা কালচারাল জায়গা চলে আসে। যেহেতু এটা ৯০ পারসেন্ট মুসলমানের দেশ এবং ভোটার রেশিওটা মুসলমানদের মধ্যেই বেশি – তখন ওই ইস্যুটা চলে আসে” বিবিসি বাংলাকে বলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

অন্যদিকে ধর্মভিত্তিক দলের নেতাদের অনেক আগে থেকেই ধর্মীয় পোশাক পরতে দেখা গেলেও, নির্বাচনী জনসংযোগের সময় তারা ধর্মকে আরও বেশি ব্যবহার করছেন- উঠছে এমন অভিযোগও।

জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটে যাওয়ার আগে খোদ এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম গত ডিসেম্বরে সেদিকে ইঙ্গিত করে বলেছিলেন, “ভোটের রাজনীতিতে, জাতীয় রাজনীতিতে ধর্মের নামে ভোট চাওয়া হচ্ছে”।

‘লেবাস পরিবর্তনকে’ ভোটাররা কীভাবে দেখেন

গত ১৩ই জানুয়ারি নিজের ফেসবুক পাতায় এনিয়ে একটি পোস্ট দেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজ।

সেখানে তিনি লেখেন, “নির্বাচন উপলক্ষ্যে প্রচারণায় টুপির ব্যবহার বেড়েছে। এটা এদেশে নতুন নয়। এতে যে কাজ হয় না তাও তো বলা যায় না! নিশ্চয়ই কাজ হয়, না হলে এত এত স্মার্ট প্রার্থীরা এই কৌশল নিবেন কেন!”

যদিও সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে নির্বাচনের আগ দিয়ে পোশাক পরিবর্তনের বিষয়টিকে খুব বেশি ইতিবাচকভাবে নিচ্ছেন না ভোটারদের অনেকে।

এনিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা শাজেদুজ্জামান সৌমিক বিবিসি বাংলাকে বলেন, “এটাতো হিপোক্রেসি হয়ে গেল না?”

“সবার রাজনৈতিক স্ট্র্যাটেজি থাকে, সেখান থেকে কেউ যদি ফলো করে, সেটা বেটার। কিন্তু লেবাস পরে জান্নাতের টিকিট বিক্রি করাতো কাম্য নয়”, বলেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়টির আরেকজন শিক্ষার্থী রুমানা খাতুন বলেন, “আমি সচেতন হলে ব্যক্তি দেখে ভোট দেবো, কিন্তু মেজরিটি মানে গ্রামের দিকে দেখা যায়, যারা তাদের মতো রিলিজিয়াস মাইন্ডের তাকে ভোট দেবে”।

ফলে সেখানে পোশাক পরিবর্তনের বিষয়টি কাজে দেবে বলেই মনে করেন তিনি।

বিষয়টিকে অনেকটা একইভাবে দেখেন নোয়াখালীর ব্যবসায়ী মোবারক। “এটা আসলে লোক দেখানোর জন্য, নির্বাচন চলে গেলে তারা আগের লেবাসে চলে যায়”, বলেন তিনি।

এমন কোনো প্রার্থীকে ভোট দেবেন না বলেও জানান ওই ব্যবসায়ী।

তবে কেউ যদি “লেবাস ধারণ করে ভালো ইলেকশন করতে পারে” তাতে কোনো সমস্যা নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মাহমা আলম শান্তা।

আপাতভাবে বেশিরভাগ ভোটারদের চোখে বিষয়টিকে প্রতারণা মনে হলেও প্রার্থীরা কেন ধর্মীয় পোশাকের দিকে ঝোঁকেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এস এম শামীম রেজা বলেন, “একটা হলো ক্লিন ইমেজ দেয়া, কারণ অনেকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখলের অভিযোগ আছে। এছাড়া ঋণ খেলাপি, দুর্নীতি এগুলোতো কমবেশি আছেই”।

ফলে ধর্মীয় পোশাক পরে ভোটারদের মন জয় করা ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি তৈরির উদ্দেশ্যেই তারা এধরনের পোশাক পরেন বলে মন্তব্য করেন এই বিশ্লেষক।

অতীতেও দেখা গেছে ধর্মের ব্যবহার

১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান ভাগই হয়েছিল ধর্মের ভিত্তিতে। ফলে লম্বা সময় ধরেই দক্ষিণ এশিয়ার এই অংশে নির্বাচন তথা রাজনীতিকে কেন্দ্র করে হয়েছে ধর্মের ব্যবহার।

আলতাফ পারভেজ তার পোস্টে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর টুপি পরার একটি প্রসঙ্গও তুলে ধরেন।

“মুসলিম লিগে যোগ দেয়ার আগে টুপি পরা ব্যক্তি জিন্নাহ’র ছবি পাওয়া মুশকিল। তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে টুপির আনুষ্ঠানিক অভিষেক ১৯৩৭ এর নির্বাচনের পর থেকে। ঐ নির্বাচনে মুসলিম লিগ অতি খারাপ ফল করে। জিন্নাহ তখন তার ও দলের রাজনীতির মোড় বদল ঘটান।… তারপর ১৯৪৬ এর নির্বাচনে কী ঘটলো সেটা সবার জানা। মূলত সে-ই থেকে টুপির রাজনৈতিক কদর বেশ!”, লেখেন তিনি।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ালী লীগের নির্বাচনী পোস্টারের ওপর “আল্লাহু আকবর”, “পাকিস্তান জিন্দাবাদ”, “আওয়ামী লীগ জিন্দাবাদ”, “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব – জিন্দাবাদ” লেখা ছিল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ম্যানিফ্যাস্টোতে লেখা ছিল, “কুরআন ও সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন করতে দেয়া হবে না”।

১৯৭১ সালের তেসরা জানুয়ারি রেসকোর্স ময়দানে জনসভা শেষে “নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবর” বলে স্লোগান দেন শেখ মুজিবুর রহমান।

যদিও স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে ধর্মের নামে রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়। তবে ১৯৭৫ সালে তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশন তৈরি করেন।

১৯৭৫ সালে সপরিবারে শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আবারও রাজনীতিতে দেখা যায় ধর্মের ব্যবহার।

জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় সংবিধানের মৌলনীতি ধর্মনিরপেক্ষতার স্থলে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপর চূড়ান্ত আস্থা এবং বিশ্বাস’ সংযুক্ত করা হয়। এর মাধ্যমে মি. আহমদের ভাষায় “সংবিধানের ইসলামিকরণ” শুরু হয়।

বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, সংবিধানের ১২ অনুচ্ছেদটি যেখানে সকল ধরনের সাম্প্রদায়িকতা নির্মূল, একটি ধর্মে বিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে বৈষম্য, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মের অপব্যবহার বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে, তা তুলে দেয়া হয়।

কোলাবরেশন অ্যাক্ট বাতিল করে দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক শক্তিকে সহায়তা করা হয়। এমনকি জিয়াউর রহমান একটি প্রক্লেমেশন আদেশের মাধ্যমে সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদে ধর্মীয় দল গঠনের ক্ষেত্রে যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, তা তুলে দেন।

এতে আরও বলা হয়, নির্বাচনের মাধ্যমে বৈধতা অর্জনে ব্যর্থ হয়ে এরশাদ জনগণের ধর্মীয় আবেগকে তার সরকারের সমর্থনের ভিত্তি হিসেবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেন। ১৯৮৮ সালে সংবিধানের অষ্টম সংশোধনীর মাধ্যমে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করা হয়।

স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনেও ধর্মকে সামনে আনে রাজনৈতিক দলগুলো। সেসময় শাহজালালের মাজার জিয়ারত করে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া।

প্রচারণার সময় তিনি বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে আজান বন্ধ হয়ে যাবে, মসজিদে মসজিদে উলুধ্বনি দেয়া হবে। একইসাথে নির্বাচনের সময় তাদের দলের একটি স্লোগান ছিল, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ধানের শীষে বিসমিল্লাহ”।

সেই নির্বাচনে জয়ী হয় দলটি।

পরের নির্বাচনে ১৯৯৬ সালে একইভাবে ধর্মকে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ। সেই নির্বাচনে তাদের একটি স্লোগান ছিল, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, নৌকার মালিক তুই আল্লাহ’।

অন্যদিকে ওমরাহ হজ করে এসে মাথায় কালো কাপড়, লম্বা হাতার ব্লাউজ আর হাতে তসবিহ নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন শেখ হাসিনা। সেই নির্বাচনে তিনিও নির্বাচনী সফর শুরু করেন শাহজালালের মাজার জিয়ারত করে। প্রার্থনারত অবস্থায় তার ছবি ছাপিয়ে করা হয়েছিল পোস্টার।

নির্বাচনে ধর্ম ব্যবহারের এই দৌরাত্ম্য নব্বইয়ের দশকে শেষ হয়নি। চলেছে পরবর্তী সময়েও।

২০২৩ সালে ইসলামী আন্দোলনের মেয়র পদপ্রার্থী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেছিলেন, “আপনি যদি হাতপাখা প্রতীকে ভোট দেন, তাহলে ভোটটা পাবে ইসলাম এবং আল্লাহর নবী”।

একই বছর সিলেটের এক নির্বাচনী জনসভায় শেখ হাসিনা বলেছিলেন, “এই নৌকা নূহ নবির নৌকা।”

তবে পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ধর্মকে ব্যবহারের সবচেয়ে বড় নজির দেখা যাচ্ছে এবারের নির্বাচনে।

ধর্মভিত্তিক দল জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ভোটের নামে ‘জান্নাতের টিকিট’ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।

কয়েকদিন আগে ‘বিড়িতে সুখটানের মধ্যেও দাঁড়িপাল্লার দাওয়াত দিলে আল্লাহ মাফ করে দিতে পারে’ বলে মন্তব্য করেন ঝালকাঠিতে জামায়াতের প্রার্থী ফয়জুল হক।

আবার প্রার্থিতা থেকে সরে দাঁড়ানোকে নবী ইব্রাহিমের চেয়ে বড় কোরবানি বলে মন্তব্য করেন আরেক জামায়াত নেতা।

যদিও ধর্মকে ব্যবহারের সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দলটির আমির শফিকুর রহমান। গত মাসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, “আমরা ধর্মকে কখনই ব্যবহার করি নাই, করবো না”।

নির্বাচনে ধর্মকে ব্যবহারের প্রবণতা কেন?

অজ্ঞতার কারণেই ধর্মকে ব্যবহারের প্রবণতা দেখা যায় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, “দেশের বেশিরভাগ মানুষ হচ্ছে অজ্ঞ, মূর্খ। তারা মুসলমান কিন্তু আরবি জানে না, কুরআন বোঝে না”।

ফলে সহজেই তাদের অনুভূতিকে ‘সুড়সুড়ি’ দিয়ে তাদের বশ করা যায় কিংবা উসকানি দেয়া যায়। “তো সেটা সবাই ব্যবহার করে”।

কিন্তু ধর্মের ব্যবহার কি আসলেই নির্বাচনের সময় প্রার্থীদের ভোট পাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দেয়?

“নব্বইয়ের দশকের দুই’তিনটা নির্বাচন ধরলে, মনে হয় ধর্মভিত্তিক পোশাক, স্লোগান কিছু ভোটারকে প্রভাবিত করেছে এবং ওই দলগুলোর ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে কিছুটা ভূমিকা রেখেছে”, বলেন অধ্যাপক এস এম শামীম রেজা।

তবে অনেকের মতে, ধর্মীয় পোশাক পরলে আসলেই যদি জনসাধারণ প্রভাবিত হতো, তাহলে আগের নির্বাচনগুলোতে ধর্মভিত্তিক দলগুলোই সরকার গঠন করতো। বরং তাদের ভোটের হিসাব এদিক দিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্রই দিচ্ছে।

“(ভোটার)কনভিন্স হলেতো শুরু থেকে জামায়াতে ইসলামীই ক্ষমতায় থাকতো। ইসলামী আন্দোলন বা যারা আছে তারাতো ভোটের বাজারে কখনোই সুবিধা করতে পারে নাই”, বলছিলেন মহিউদ্দিন আহমদ।

“আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টির লক্ষ্য থাকে মুসলমানরা যাতে তাদের খাটি মুসলমান মনে করে ভোট দেয়। তখন তারা একটু ইসলামী লেবাস নেয় আর কি”।

নির্বাচনী আচরণবিধিতে আছে ধর্ম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

নির্বাচনে ধর্মকে ব্যবহারের এত নজির থাকলেও ধর্মীয় বা জাতিগত অনুভূতির অপব্যবহার করা হয়, এমন কোনো কর্মকাণ্ডের বিষয়ে নির্বাচনী আচরণবিধিতে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

নির্বাচনী আচরণবিধির ১৫ ধারা অনুযায়ী মসজিদ, মন্দির, ক্যায়াং (প্যাগোডা), গির্জা বা অন্য কোনো ধর্মীয় উপাসনালয়ে কোনো প্রকার নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে না।

নির্বাচনী আচরণবিধি ৭-এর (চ) অনুযায়ী, প্রচারণার ব্যানার, লিফলেট, হ্যান্ডবিল, ফেস্টুনের ছবি হতে হবে পোট্রেট, দেয়া যাবে প্রার্থনারত বা অন্য কোনো ভঙ্গিমার ছবি।

তথ্য সূত্র : বিবিসি বাংলা

এআই-নির্ভর অপতথ্য কীভাবে নির্বাচনকে বিপর্যস্ত করতে পারে?

সিরাজুল ইসলাম
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:২৭ এএম
এআই-নির্ভর অপতথ্য কীভাবে নির্বাচনকে বিপর্যস্ত করতে পারে?

নির্বাচন শুধু ব্যালটের লড়াই নয়, এটি বিশ্বাসের পরীক্ষা। ভোটার যখন ভোটকেন্দ্রে যান, তখন তিনি ধরে নেন- যে তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তিনি সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তা সত্য। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এই বিশ্বাসটাই এখন সবচেয়ে বড় ঝুঁকির মুখে। নির্বাচনী নিরাপত্তা ও গণতন্ত্রের ভিত্তিকে নীরবে কাঁপিয়ে দিচ্ছে এআই দিয়ে তৈরি ভিডিও, অডিও ও ছবি- যাকে আমরা ডিপফেক বলি।

বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোতে যে অভিজ্ঞতা সামনে এসেছে, তা এক কথায় উদ্বেগজনক। অপতথ্য নতুন কিছু নয়, কিন্তু এআই অপতথ্যকে দিয়েছে ভয়ংকর গতি, বিশ্বাসযোগ্যতা ও বিস্তার। আগে একটি গুজব ছড়াতে সময় লাগত; এখন কয়েক মিনিটেই তা লাখো মানুষের স্ক্রিনে পৌঁছে যায়। এর প্রভাব সরাসরি পড়ে ভোটার আচরণ, প্রার্থীর ভাবমূর্তি এবং পুরো নির্বাচনী পরিবেশের ওপর।

ডিপফেক মূলত ডিপ লার্নিংভিত্তিক এআই প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি ভুয়া কনটেন্ট, যা দেখতে ও শুনতে একদম আসল সত্যের মতো। যেমন- কোনো ব্যক্তি এমন কথা বলছেন বা এমন কাজ করছেন- ভিডিওতে তা স্পষ্ট দেখা যায়- কিন্তু বাস্তবে তিনি কখনোই তা করেননি। এখানেই বিপদ। মানুষ চোখে দেখা জিনিসকে সহজে বিশ্বাস করে। লেখা বা পোস্টের তুলনায় ভিডিওর বিশ্বাসযোগ্যতা অনেক বেশি।

ডিপফেকের পাশাপাশি আছে চিপফেক- এআই নয়, বরং সস্তা সফটওয়্যার দিয়ে তৈরি বিকৃত কনটেন্ট। সত্য ভিডিও বা ছবি কেটে-ছেঁটে, প্রসঙ্গ বদলে, ভুল ক্যাপশন জুড়ে দিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়। ফলাফল প্রায় একই- ভোটার বিভ্রান্ত হয়, সত্য আড়ালে চলে যায়।

২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-১ আসনের একটি ঘটনা বাংলাদেশের ডিপফেক বাস্তবতার ভয়াবহ দিকটি সামনে আনে। ভোটের দিন সকালে এক প্রার্থীর ডিপফেক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তাকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা বলতে দেখা যায়। অনেক ভোটার বিভ্রান্ত হন। নির্বাচন এমনিতেই প্রশ্নবিদ্ধ ছিল; তার ওপর এই ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর অপতথ্য পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তোলে।

এই ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। আন্তর্জাতিক গবেষণা ও প্রতিবেদন বলছে, আমেরিকা থেকে শুরু করে ইউরোপ, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা- সবখানেই নির্বাচনে ডিপফেক ব্যবহারের নজির আছে। কোথাও ভোটারদের ভোট দিতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে, কোথাও প্রার্থীর চরিত্র হনন করা হয়েছে, কোথাও নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর আস্থা নষ্ট করার চেষ্টা হয়েছে।

সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, রাজনৈতিক অপতথ্য ছড়ানোর প্রধান মাধ্যম এখন ভিডিও। গ্রাফিকস, ছবি বা লিখিত পোস্টের তুলনায় ভিডিও অনেক বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। কারণ ভিডিও আবেগে আঘাত করে, দ্রুত বিশ্বাস তৈরি করে এবং শেয়ার হয় বেশি। বাংলাদেশে নির্বাচন ঘনিয়ে এলে ভিডিওভিত্তিক ভুল তথ্যের হার চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, একই মিথ্যা ভিডিও বা বক্তব্য একযোগে বহু পেইজ ও অ্যাকাউন্ট থেকে ছড়ানো হচ্ছে। এটিই সংঘবদ্ধ অপপ্রচার। এখানে ব্যক্তি নয়, কাজ করছে নেটওয়ার্ক- যাকে অনেকে বলেন বটবাহিনী।

এআই অপতথ্য এতটা কার্যকর হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলো ডিজিটাল লিটারেসির দুর্বলতা। বাংলাদেশের বড় অংশের মানুষ এখনো জানেন না কীভাবে অনলাইনের তথ্য যাচাই করতে হয়, কীভাবে আসল-নকল আলাদা করতে হয়। ফলে ডিপফেক বা চিপফেক সহজেই বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে।

সমস্যা আরও গভীর, যখন দেখা যায় রাজনৈতিক নেতা, বিশিষ্ট ব্যক্তি এমনকি কিছু গণমাধ্যমও সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো যাচাইহীন তথ্যকে সত্য ধরে বক্তব্য দিচ্ছেন বা প্রকাশ করছেন। এতে অপতথ্যের বৈধতা যেন আরো বেড়ে যায়। সাধারণ মানুষ তখন ধরে নেন- নেতা বা মিডিয়া বললে নিশ্চয়ই সত্য।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, অপতথ্য ছড়ানোর পেছনে মূলত দুই ধরনের গোষ্ঠী কাজ করে। একদল রাজনৈতিক বা আদর্শিকভাবে উৎসাহিত। তাদের লক্ষ্য ক্ষমতা, প্রভাব বা প্রতিশোধ। অন্য দলটি অর্থের বিনিময়ে কাজ করে- এটি তাদের কাছে একটি ব্যবসা। এ ছাড়া রয়েছে ভুয়া পরিচয়ের অসংখ্য পেইজ ও অ্যাকাউন্ট, যেগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করে। একটি মিথ্যা তথ্য আগে ছড়ানো হয়, তারপর সেটিকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে একই কনটেন্ট বারবার পোস্ট করা হয়। অ্যালগরিদম তখন সেটিকে ‘ট্রেন্ডিং’ মনে করে আরো ছড়িয়ে দেয়। কিছু ক্ষেত্রে বিদেশে বসেও বাংলাদেশের নির্বাচন ও রাজনীতি নিয়ে অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এতে দেশের ভেতরের পরিস্থিতি আরো অস্থির হয়ে ওঠার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

ডিপফেক এবং এআই অপতথ্যকে শুধু নির্বাচনী সমস্যা হিসেবে দেখলে ভুল হবে বরং এটি জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়। কারণ এর মাধ্যমে—

• ভোটারদের ভোট দেয়া থেকে বিরত রাখা যায়

• সহিংসতা উসকে দেয়া যায়

• রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা নষ্ট করা যায়

• নির্বাচন পরবর্তী অস্থিরতা তৈরি করা যায়

বিশ্বের কিছু দেশে ডিপফেক ও সাইবার আক্রমণের কারণে নির্বাচন পেছানোর নজিরও আছে। অর্থাৎ এটি শুধু তথ্যযুদ্ধ নয়, এটি গণতন্ত্রের স্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে একটি নীরব যুদ্ধ।

বাংলাদেশে অপতথ্য মোকাবিলায় বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে সাইবার নজরদারি, ফ্যাক্টচেকিং, বিশেষ সেল গঠন ইত্যাদি উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও সামাজিক মাধ্যমে নজরদারি বাড়িয়েছে।

কিন্তু প্রশ্ন হলো- এই উদ্যোগগুলো কি বাস্তব ঝুঁকির তুলনায় যথেষ্ট? ডিপফেক প্রযুক্তি যেভাবে দ্রুত উন্নত হচ্ছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কি আমাদের সক্ষমতা বাড়ছে? অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, নজরদারি থাকলেও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এখনো দুর্বল। অপতথ্য ছড়ানোর পর ব্যবস্থা নেয়া হয়, কিন্তু ততক্ষণে ক্ষতি হয়ে যায়।

এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে কয়েকটি বিষয় নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে হবে-

• ডিজিটাল লিটারেসি বাড়াতে হবে। স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ- সবাইকে শেখাতে হবে কীভাবে তথ্য যাচাই করতে হয়, কীভাবে সন্দেহ করতে হয়। সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে দ্রুত কর্মসূচি নেয়া জরুরি।

• রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি। স্বল্পমেয়াদি লাভের জন্য অপতথ্যকে হাতিয়ার করলে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতি হবে পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থার।

• গণমাধ্যমকে আরো সতর্ক হতে হবে। সামাজিক মাধ্যমের কনটেন্ট যাচাই ছাড়া প্রকাশ করলে মিডিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ে।

• আইনি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা জোরদার করতে হবে। ডিপফেক শনাক্তকরণ প্রযুক্তি, দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

এআই নিজে কোনো শত্রু নয়। এটি একটি শক্তিশালী প্রযুক্তি। কিন্তু নির্বাচনের মতো সংবেদনশীল সময়ে এআই যদি অপতথ্যের অস্ত্রে পরিণত হয়, তাহলে তা গণতন্ত্রের জন্য মারাত্মক হুমকি। আজ যদি আমরা বিষয়টিকে হালকাভাবে নিই, কাল এর ফল হবে ভয়াবহ। নির্বাচন মানে শুধু ক্ষমতা বদল নয়, এটি নাগরিকের বিশ্বাসের প্রতিফলন। সেই বিশ্বাস ভাঙলে রাষ্ট্রই দুর্বল হয়। তাই ডিপফেক এবং এআই অপতথ্যের বিরুদ্ধে লড়াই এখন আর কোনো বিকল্প ইস্যু নয়- এটি গণতন্ত্র রক্ষার মূল লড়াই।

সিরাজুল ইসলাম : লেখক, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

কাশি–শ্বাসকষ্টকে হালকা ভাবছেন? ফুসফুস ক্যানসারের ৫ সতর্ক সংকেত জেনে নিন

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:১৮ এএম
কাশি–শ্বাসকষ্টকে হালকা ভাবছেন? ফুসফুস ক্যানসারের ৫ সতর্ক সংকেত জেনে নিন

ফুসফুসের ক্যানসার সবচেয়ে নীরব ও প্রাণঘাতী ক্যানসারগুলোর একটি। কারণ, এটি শরীরের ভেতরে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। প্রাথমিক পর্যায়ে এই ক্যানসারের তেমন কোনো স্পষ্ট উপসর্গ দেখা যায় না। তাই অনেক সময় এই উপসর্গগুলো সাধারণ সর্দি, কাশি বা অ্যাজমার লক্ষণ ভেবে অনেকে গুরুত্ব দেন না। ফলে রোগ ধরা পড়ে অনেক দেরিতে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিচের পাঁচটি সাধারণ লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকলে আগে থেকেই রোগ শনাক্ত করা অনেক সহজ হতে পারে—

১️. তিন সপ্তাহের বেশি স্থায়ী কাশি

তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে যদি কাশি না সারে, সেটি ফুসফুসের ক্যানসারের প্রাথমিক ইঙ্গিত হতে পারে। সাধারণ ঠান্ডা বা অ্যালার্জির চিকিৎসায়ও যদি উপশম না হয়, তবে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা উচিত। অনেকে একে ‘সাধারণ কাশি’ ভেবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেন না। অথচ ফুসফুসে ক্যানসারজনিত টিউমার শ্বাসনালিতে জ্বালা সৃষ্টি করে, যা দীর্ঘস্থায়ী কাশির কারণ হতে পারে। কাশি ক্রমশ বেড়ে গেলে বা পরিবর্তন হলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

২️. হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া ও অবসাদ

হঠাৎ করে ওজন কমে যাওয়া ও ক্লান্তি অনেক সময় মানসিক চাপ বা বয়সের কারণে হয় বলে মনে করা হয়। কিন্তু অজানা কারণে ওজন কমে যাওয়া শরীরে কোনো গুরুতর অসুস্থতার ইঙ্গিতও হতে পারে। এর মধ্যে ফুসফুসের ক্যানসার অন্যতম। এই অবস্থায় শরীর ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে অতিরিক্ত শক্তি ব্যবহার করে, ফলে ওজন দ্রুত কমে যায়। অন্যদিকে ক্যানসার কোষ শরীরের শক্তি নিঃশেষ করে দেয়, ফলে সারাক্ষণ অবসাদ অনুভূত হয়।

৩️. গলায় কর্কশতা বা স্বরে পরিবর্তন

গলা ব্যথা বা ঠান্ডা না থাকলেও যদি দীর্ঘদিন ধরে গলা ভাঙা বা কর্কশতা থাকে, সেটিও ফুসফুস ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে। কারণ, ফুসফুসে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়লে তা ভোকাল কর্ড নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ুগুলোর ওপর প্রভাব ফেলে। ফলে স্বরে স্থায়ী পরিবর্তন আসে। গলা ভাঙা অবস্থায় যদি কাশি বা বুকের ব্যথাও দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৪️. শ্বাসকষ্ট বা নিঃশ্বাস নিতে অসুবিধা

সাধারণ হাঁটাচলা বা দৈনন্দিন কাজের সময় যদি হঠাৎ শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, এটি ফুসফুসে টিউমার তৈরি হওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে। টিউমার শ্বাসনালিতে বাধা সৃষ্টি করে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। অনেকে একে বয়স, স্থূলতা বা অলস জীবনযাত্রার কারণ বলে ভাবেন। অথচ দ্রুত পরীক্ষা করালে অনেক সময় রোগ প্রাথমিক পর্যায়েই ধরা সম্ভব।

৫️. অজানা বুক বা কাঁধের ব্যথা

বুক বা কাঁধের ব্যথাকে অনেকে সাধারণ মাংসপেশির টান বা ঘুমের ভঙ্গির কারণে হয়েছে বলে মনে করেন। কিন্তু ফুসফুসের ক্যানসার টিউমার স্নায়ু বা বুকের আশপাশের গঠনে চাপ সৃষ্টি করলে এই ব্যথা দেখা দিতে পারে। হাসা, কাশি বা গভীরভাবে শ্বাস নেওয়ার সময় ব্যথা বেড়ে গেলে সেটি আরও উদ্বেগজনক। বিশেষ করে এ ধরনের ব্যথার সঙ্গে কাশি বা ওজন কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

সতর্কবার্তা

চিকিৎসকরা বলছেন, এই উপসর্গগুলো দেখা মানেই যে, ফুসফুসের ক্যানসার, বিষয়টি এমন নয়। তবে এগুলো দীর্ঘদিন ধরে থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসা অনেক সহজ ও কার্যকর হয়।

সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া