খুঁজুন
শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ২১ চৈত্র, ১৪৩২

নতুন সরকারের অপেক্ষায় দেশ—কবে হচ্ছে শপথ?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:১১ পূর্বাহ্ণ
নতুন সরকারের অপেক্ষায় দেশ—কবে হচ্ছে শপথ?

ভোট গ্রহণ শেষ হবার পরদিনই নির্বাচিত সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট বা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। নিয়ম অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের শপথ নেয়ার মাধ্যমে শুরু হবে নতুন সংসদের যাত্রা।

এরপরেই দায়িত্ব গ্রহণ করবে নতুন সরকার। কিন্তু কবে নির্বাচিতরা শপথ নেবেন তা এখনো পরিষ্কার নয়।

বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে আগামী মঙ্গলবার সংসদ সদস্য হিসাবে নির্বাচিত ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের শপথ নেয়ার কথা রয়েছে।

এই বিলম্বের কারণ হিসেবে সামনে আসছে আইনি বিভিন্ন জটিলতার বিষয়টি।

নতুন সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য সংবিধানে বেশ কিছু নিয়মের বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। রীতি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি।

তবে বিভিন্ন আসনে যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের শপথ পাঠের পর মন্ত্রিসভার শপথ হবে। কিন্তু সংসদ সদস্য হিসাবে নির্বাচিতদেরকে শপথ পাঠ করাবেন, তা পরিষ্কার নয়।

সংবিধানের বাইরে কোনো প্রক্রিয়ায় শপথ পাঠ বা সরকার গঠন হলে তা নিয়ে ভবিষ্যতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে বলে সতর্ক করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

এ কারণেই আইনি জটিলতা এড়াতে গেজেট প্রকাশের তিনদিন পরে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে শপথ পাঠ করার কথা ভাবা হচ্ছে।

সেই হিসাবে আগামী ১৭ই ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সকালে সংসদ সদস্য হিসাবে নির্বাচিতদের শপথ পাঠ করাবেন সিইসি। আর সেদিন বিকালে নতুন সরকারের শপথ পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি।

বিএনপির দুইজন শীর্ষ নেতা বিবিসি বাংলাকে এই আভাস দিয়েছেন।

এদিকে সরকার ও বিএনপির বিভিন্ন সূত্র থেকে ১৭ তারিখের কথা বলে হলেও, নির্বাচিত কয়েকজন সংসদ সদস্যরা জানিয়েছেন, রোববারের মধ্যে তাদের ঢাকায় থাকার জন্য দল থেকে বলা হয়েছে। নিজ এলাকা থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনাও দিয়েছেন তাদের কেউ কেউ।

খুলনা পাঁচ আসনের নির্বাচিত বিএনপির মোহাম্মদ আলি আসগার শনিবার ১১টা ৫১ মিনিটে তার ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, “আগামীকাল শপথ গ্রহণের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় যেতে হচ্ছে”।

দুপুর দুইটার দিকে সাংবাদিকদের সাথে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, “আগামী তিন দিন, সর্বোচ্চ চারদিনের মধ্যে শপথ হয়ে যাবে।

তবে আগামীকালও যদি শপথ হয়ে যায়, তাদের সেই প্রস্তুতি আছে বলেও জানান তিনি।

শপথ পাঠ নিয়ে আইনে কী আছে?

নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর আসে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথ পড়ানোর বিষয়টি। আর বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার সংসদ সদস্যদের এই শপথ পাঠ করান।

সংবিধানে বলা হয়েছে, গেজেট প্রকাশের পর স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার অথবা রাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তি নির্বাচিতদের শপথ পাঠ করাবেন। তবে তারা শপথ পাঠ করাতে অসমর্থ হলে গেজেট প্রকাশের তিনদিন পরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পাঠ করাবেন।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে যখন দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী কোথায় আছেন, সেটি পরিষ্কার নয়। ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু কারাগারে রয়েছেন।

এক্ষেত্রে দুটি বিকল্প আছে। একটি হলো রাষ্ট্রপতির মনোনীত প্রতিনিধিকে দিয়ে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানো অথবা গেজেট প্রকাশের তিন দিন পর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে শপথ পাঠ।

এক্ষেত্রে প্রথম পদ্ধতি অবলম্বন করে শপথ নিলে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে বিএনপি নেতাদের মধ্যে।

সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের দফা দুই অনুযায়ী, যেসব ক্ষেত্রে রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তি নিজে কর্তৃপক্ষ কেবল সেসব ক্ষেত্রেই তিনি প্রতিনিধি নিয়োগ করতে পারবেন।

কিন্তু সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানোর কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রপতি না, বরং স্পিকার। আর স্পিকারের প্রতিনিধি হতে হলে তার স্বাক্ষর থাকা জরুরি। ফলে এই মুহূর্তে সেই সুযোগ না থাকায় উপায় আছে দুইটি।

একটিতো আগেই বলা হয়েছে, সংবিধানের ৭৪ ধারা অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি একজনকে নিয়োগ দিতে পারেন এবং “সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী কোনো সংসদ সদস্য তাহা পালন করিবেন”।

অথবা কোনো কারণে স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার না থাকলে তিন দিন পর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের শপথ পড়ানো, যা ১৪৮ অনুচ্ছেদের ২(ক)-এ উল্লেখ আছে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে পরবর্তী সময়ের জটিলতা বা বিতর্ক এড়ানোর জন্য দ্বিতীয়টিকেই ‘নিরাপদ’ মনে করছে নতুন সরকার গঠন করতে যাওয়া দল বিএনপি।

দলটির দুইজন শীর্ষ নেতা আভাস দিয়েছেন, ১৭ই ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সকালে নির্বাচিত সংসদ সদস্যের শপথ হতে পারে, সেদিন বিকালে হবে মন্ত্রিসভার শপথ।

তবে এখনো এ নিয়ে আইনি বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছেন দলটির নেতারা।

এর আগেই সরকারের তরফ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে যে ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করে দেওয়া হবে।

জানা গেছে, রমজান মাস শুরু হওয়ার আগেই ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চায় সব পক্ষ।

অন্যদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের শপথ পাঠ করানোর বিষয়ে কোনো আলোচনা চলছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, শপথ পড়ানোর দায়িত্ব সরকারের।

নির্বাচন কমিশনের কাজ গেজেট প্রকাশ করা, তা তারা করে দিয়েছেন। ফলে আগামী তিন দিনের মধ্যে যদি সরকারের তরফ থেকে শপথ পড়ানো না হয়, সেক্ষেত্রে প্রধান নির্বাচন কমিশনার “এটা করতে পারে বা করবে আর কি”।

তবে সরকারের দিক থেকে এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি নিয়োগের বিষয়টিই বেশি সামনে এসছে।

গত বৃহস্পতিবার আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছিলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়ালে অপেক্ষা করতে হবে। “আমরা আসলে অপেক্ষা করতে চাই না, আমরা নির্বাচন হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করতে চাই”।

অনেকটা একই দিকে ইঙ্গিত দিয়েছেন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আলী ইমাম মজুমদার।

তিনি জানান, শপথ পাঠের জন্য রাষ্ট্রপতি একজন প্রতিনিধি নিয়োগ করবেন বলে আলোচনা চলছে।

“আমি যতটুকু জানি সম্ভবত মঙ্গলবার শপথ গ্রহণ হবে”, বলেন এই উপদেষ্টা।

তবে শনিবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ জানিয়েছেন, ১৭ই ফেব্রুয়ারির মধ্যে যেকোনো দিন নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সব প্রস্তুতি রাখছে।

শনিবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, “আগামীকালও যদি শপথ হয়ে যায়, আমাদের প্রস্তুতি আছে।”

সচিব বলেন, নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে কম-বেশি এক হাজার অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। শপথ অনুষ্ঠানের অন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সংসদ সদস্যদের শপথ কে পড়াবেন এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, সরকার থেকে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে, প্রধান বিচারপতি বা প্রধান নির্বাচন কমিশনারও শপথ পাঠ করাতে পারেন বলেও জানান তিনি।

সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাসহ মন্ত্রিপরিষদকে নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিই শপথ পড়াবেন, বলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

সাংবিধানিক উপায়ে শপথ নেয়াকেই সবচেয়ে ভালো উপায় বলে মনে করছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

তার মতে, সংবিধান অনুযায়ী আগের স্পিকারের ‘সম্মতি’কে গুরুত্ব সহকারে নেয়া প্রয়োজন।

আর তা করতে প্রয়োজনে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সাথে ফোনে না হলেও মেইলে যোগাযোগ করা যেতে পারে। কিংবা ডেপুটি স্পিকারকে প্যারোলে মুক্তি দিয়েও তা করা সম্ভব, কারণ আইন অনুযায়ী এই বিষয়ে কোনো বাধা নেই।

কিন্তু শুরু থেকেই এই সরকারের ‘এটিচিউট’ বা মনোভাব আলাদা ছিল আর তাদের মধ্যে ‘ইগো’ থাকার কারণে, সংবিধানের বাইরে তারা অনেক কিছু করেছে। সে কারণেই এসমস্ত জটিলতাগুলো হচ্ছে বলে মনে করেন মনজিল মোরসেদ। আবার সংবিধানের বাইরে গেলে ভবিষ্যতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অবশ্য মি. মোরসেদ বলছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছ থেকে শপথ নেয়া সংবিধান অনুযায়ী তৃতীয় বিকল্প। সেক্ষেত্রে প্রথম বিষয়গুলো এড়িয়ে গেলে বিতর্ক থেকেই যাবে বলে মনে করেন তিনি।

যেভাবে হয় সরকার গঠন

প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠের মাধ্যমে সংসদ গঠিত হয়। সেই সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রধানকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানান রাষ্ট্রপতি।

অতীতে সংসদ সদস্যদের শপথের দিন বিকালে অথবা পরদিন মন্ত্রিসভার শপথ হয়ে থাকে।

এবার রমজান এগিয়ে আসার কারণে ধারণা করা হচ্ছে, সকালে সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠের পর একইদিন বিকেলের দিকে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নিতে পারেন।

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২১২টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল – বিএনপি ও তাদের নির্বাচনী মিত্ররা।

এর আগে বাংলাদেশে সবশেষ গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়েছিল ২০০৮ সালে। সে সময় দুই বছর ক্ষমতায় ছিল সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার।

তবে ২৯শে ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তেসরা জানুয়ারি বিএনপি আমলের স্পিকার জমির উদ্দিন সরকারের কাছেই শপথ নেয় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা।

এর তিন দিন পর ছয়ই জানুয়ারি শপথ নেয় রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদর কাছে শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিপরিষদের সদস্য।

সর্বশেষ ২০২৪ সালের সাতই জানুয়ারির নির্বাচনের পর ৮ই জানুয়ারি গেজেট প্রকাশ হয়। ১০ই জানুয়ারি স্পিকারের শপথ নেন সংসদ সদস্যরা আর ১১ই জানুয়ারি শপথ নেয় মন্ত্রিসভা।

এর আগে ২০০১ সালে পহেলা অক্টোবর নির্বাচন হলেও গেজেট হয়েছিল পাঁচই অক্টোবর।

তবে তিনদিন ধরে চলা সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রথমদিনে খালেদা জিয়াসহ চারদলীয় ঐক্যজোটের ১৯৭ জন নির্বাচিত তৎকালীন স্পিকার আবদুল হামিদের কাছে শপথ নিয়েছিলেন নয়ই অক্টোবর।

পরদিন ১০ই অক্টোবর রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের কাছে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করে।

স্পিকার কীভাবে নির্বাচিত হবে?

সংবিধানের ৭৪(১) অনুযায়ী নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে সংসদ পরিচালনা করেন আগের সংসদের স্পিকার। “নতুন সংসদ নির্বাচনের পর প্রথম বৈঠকেই সংসদ সদস্যরা নিজেদের মধ্য থেকে একজনকে স্পিকার নির্বাচিত করেন”।

২০০১ সালের ২৮শে অক্টোবর যেমন আওয়ামী লীগের সরকারের সময়ের স্পিকার আবদুল হামিদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়ে নতুন স্পিকার জমিরউদ্দিন সরকারকে নির্বাচিত করা হয়।

এরপরে আবদুল হামিদ আধাঘণ্টার বিরতি দিয়ে বিদায় নিয়ে চলে যান। বিরতির পর নতুন স্পিকার দায়িত্ব পালন শুরু করেন।

কিন্তু এবার কী করা হবে সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

সংবিধানের ৭৪ ধারার অনুযায়ী “সংসদের কোনো বৈঠকে স্পিকারের স্পিকারের অনুপস্থিতিতে ডেপুটি স্পিকার কিংবা ডেপুটি স্পিকারও অনুপস্থিত থাকিলে সংসদের কার্যপ্রনালী বিধি অনুযায়ী কোনো সংসদ সদস্য স্পিকারের দায়িত্ব পালন করিবেন।”

আবার একই ধারার ছয় অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্পিকার পদত্যাগ করলেও ‘ক্ষেত্রমত’ পরবর্তী কেউ সেই পদে নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত তিনিই “স্বীয় পদে বহাল রহিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে”।

কিন্তু পাঁচ অগাস্টের পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ সংসদ সদস্য পলাতক বা কারাগারে রয়েছেন। আওয়ামী লীগের নেতাদের শপথ পাঠ করা নিয়েও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতভিন্নতা রয়েছে।

ফলে কী প্রক্রিয়ায় নতুন স্পিকার নির্বাচিত হবেন এখনই সেটা পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। এ নিয়ে আইনি দিকগুলো খতিয়ে দেখছে সরকার ও বিএনপির আইনজীবীরা।

আইন বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, সিইসি নির্বাচিতদের শপথ পাঠ করালে তাদের মধ্য থেকে কোনো একজন সংসদ সদস্য প্রাথমিকভাবে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর অধিবেশনে নতুন স্পিকার নির্বাচন করার পর তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

এছাড়া নিয়ম অনুযায়ী, নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী শপথ নেয়ার সাথে সাথে আগের সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বের অবসান হয়ে যায়।

২০০৮ সালের নির্বাচনে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার পর সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দীন আহমদ ক্ষেত্রেও এমন দেখা গিয়েছিল।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৮ ধারার চার অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে বা নিজ পদে বহাল না থাকলে মন্ত্রীদের প্রত্যেকে পদত্যাগ করেছেন বলে গণ্য হবে।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

নগরকান্দা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বেহাল চিত্রে ক্ষোভ: দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস দিলেন প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ২:২৯ অপরাহ্ণ
নগরকান্দা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বেহাল চিত্রে ক্ষোভ: দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস দিলেন প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নাজুক অবস্থা দেখে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

শনিবার (০৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “নগরকান্দা আমার নির্বাচনী এলাকা। আমি আগে বহুবার এখানে রোগী দেখতে এসেছি। তখনও হাসপাতালের অবস্থা করুণ ছিল, এখনও তেমন উন্নতি হয়নি। আজকের পরিস্থিতি দেখে আমি সত্যিই ব্যথিত।”

তিনি আরও বলেন, “এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নানা ধরনের সমস্যা রয়েছে। যন্ত্রপাতি অপ্রতুল ও অনেকটাই অকার্যকর, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল নেই, এমনকি ডাক্তারদের বসারও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য আমরা কাজ শুরু করব।”

প্রতিমন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়ন সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচির অংশ এবং নগরকান্দা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে একটি কার্যকর সেবাকেন্দ্রে পরিণত করতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. কামরুল হাসান মোল্যা, পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নজরুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান এবং নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘদিনের অবহেলার চিত্র তুলে ধরে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’। সেই প্রতিবেদনের পরই বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে এবং প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রতিমন্ত্রীর এই পরিদর্শনের পর হাসপাতালের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান হবে এবং সাধারণ মানুষ পাবে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা।

সালথায় মাদক বিক্রির অভিযোগে যুবকের চুল কেটে দিল জনতা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১:০৫ অপরাহ্ণ
সালথায় মাদক বিক্রির অভিযোগে যুবকের চুল কেটে দিল জনতা

ফরিদপুরের সালথায় মাদক বিক্রির অভিযোগে জুনায়েদ ওরফে জুনা (১৮) নামে এক যুবককে আটকের পর তার মাথার চুল কেটে দিয়েছে স্থানীয় উত্তেজিত জনতা।

শনিবার (০৪ এপ্রিল) সকাল থেকে এই ঘটনার ৫৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

এর আগে শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের ভাবুকদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তোভোগী মাদক ব্যবসায়ী জুনায়েদ ভাবুকদিয়া গ্রামের সামাদ মিয়ার ছেলে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, কেচি দিয়ে এক যুবকের মাথার চুল কেটে দিচ্ছি এক ব্যক্তি। আর ঘটনার চারপাশ দিয়ে দাঁড়িয়ে চুল কাটার দৃশ্য দেখছেন উৎসুক জনতা। এদের মধ্যে ঘটনার দৃশ্যটি মোবাইল দিয়ে ভিডিও ধারণ করছেন।

ভাবুকদিয়া গ্রামের বাসিন্দারা জানান, জুনায়েদ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গাঁজা ও ইয়াবা বিক্রির অভিযোগ আসছিল। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর বারবার তাকে সতর্ক করার পরেও তিনি মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিল। শুক্রবার রাতে কয়েকজন বহিরাগত ব্যক্তি ভাবুকদিয়া গ্রামে জুনায়েদের কাছে মাদক ক্রয় করতে আসেন। বিষয় স্থানীরা টের পেয়ে তখন জুনায়দেকে আটক করেন। পরে উত্তেজিত জনতা প্রকাশ্যে তার মাথার চুল কেটে দিয়ে প্রতিবাদ জানান।

ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা কয়েকজন ব্যক্তি জানান, চুল কাটার সময় জুনায়েদ ভুল স্বীকার করে আর মাদক ব্যবসায় জড়াবে না বলে আশ্বাস দেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে আটক মাদক ব্যবসায়ী জুনায়েদকে এভাবে চুল কেটে ছেড়ে না দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করলে ভাল হতো বলে মনে করেন অনেকে।

সালথা থানার ওসি (তদন্ত) ইন্দ্রজিৎ মল্লিক বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি খোঁজ খবর নিচ্ছি। ঘটনাটি তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেশেই তৈরি পেট্রোল-অকটেন, তবু কেন বাজারে সংকট?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:১৫ পূর্বাহ্ণ
দেশেই তৈরি পেট্রোল-অকটেন, তবু কেন বাজারে সংকট?

তেল ফুরিয়ে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঢাকার আসাদগেটের একটি ফিলিং স্টেশনে গাড়ি ঠেলে নিয়ে আসেন ফারুক মোল্লা। বুধবার সকাল সাড়ে ছয়টা থেকে পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষার পর সাড়ে এগারোটা নাগাদ জ্বালানি তেল পান তিনি।

ফারুক মোল্লা বলেন, চালক হিসেবে ৩০ বছরের কর্মজীবনে এমন সংকট তিনি দেখেননি।

‘সোনার বাংলা’ নামের ওই ফিলিং স্টেশনে দেখা যায়, ব্যক্তিগত গাড়িতে সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা এবং মোটরসাইকেলে ৫শ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে।

সড়কের ঠিক উল্টো দিকে আরেকটি ফিলিং স্টেশন রয়েছে সকাল থেকে সেটি দুপুর পর্যন্ত সেখানে পেট্রোল অকটেন বরাদ্দ না থাকায় বন্ধ থাকতে দেখা যায়। তবে পাম্প থেকে ডিজেলে সরবরাহ করতে দেখা যায়।

আমদানি করা তেলের মধ্যে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি চাহিদা ডিজেলের। কিন্তু এখন শহরে গ্রামে তেলের জন্য যে হাহাকার এবং দীর্ঘ সারি তার অধিকাংশই অকটেন ও পেট্রোলের জন্য।

তেলের চাহিদা পূরণ করতে হিমশিম অবস্থা তৈরি হয়েছে অধিকাংশ পেট্রোল পাম্পে। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বরাদ্দকৃত তেল ফুরিয়ে অনেক ফিলিং স্টেশন বন্ধ থাকতেও দেখা যাচ্ছে।

বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা ডিজেলের। অথচ অনেক পাম্পে ডিজেল থাকলেও টান পড়েছে অকটেন ও পেট্রোলের।

ডিজেল বাংলাদেশ প্রায় পুরোটাই আমদানি করে।

অন্যদিকে বাংলাদেশে নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাওয়া কনডেনসেট থেকে দৈনিক প্রায় সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার ব্যারেল পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদন করছে।

পেট্রোল-অকটেনের উৎপাদন কত

বাংলাদেশে তেলের মজুদ এবং উৎপাদন সক্ষমতা মিলিয়ে পেট্রোল অকটেনের এমন সংকট হওয়ার কথা নয়। কারণ বাংলাদেশে পেট্রোল ও অকটেনের নিজস্ব উৎপাদন ব্যবস্থা রয়েছে।

সিলেটের গ্যাসক্ষেত্রগুলোয় গ্যাসের সঙ্গে যে কনডেনসেট (গ্যাস উৎপাদনের সময় উপজাত হিসেবে পাওয়া তরল হাইড্রোকার্বন) পাওয়া যায়, সেটি প্রক্রিয়াজাত করে বাংলাদেশ পেট্রোল ও অকটেনের চাহিদার একটা বড় অংশ উৎপাদন করে।

বাংলাদেশে বছরে পেট্রোলের চাহিদা চার লাখ ৬২ হাজার টন ও অকটেনের চাহিদা চার লাখ ১৫ হাজার টন। বাংলাদেশে নিজস্ব উৎপাদন ও ক্রুড অয়েল থেকে ইস্টার্ন রিফাইনারি পরিশোধন করে পেট্রোল আমদানির প্রয়োজন হয় না।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে উৎপাদিত কনডেনসেট থেকে দুই লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি, অর্থাৎ মোট চাহিদার প্রায় অর্ধেক পেট্রোল উৎপাদন হয়েছে।

এছাড়া অকটেনও হয়েছে মোট চাহিদার চাহিদার প্রায় চারভাগের একভাগ।

এ বিবেচনায় বিশ্ববাজার থেকে তেল আমদানি পুরো বন্ধ হয়ে গেলেও বাংলাদেশে এই মুহূর্তে পেট্রোল ও অকটেনের দিক থেকে একেবারে জ্বালানিশূন্য হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা নেই।

এরমধ্যে পেট্রোবাংলার কোম্পানি সিলেট গ্যাস ফিল্ডের দুটি প্ল্যান্টে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশীয় কনডেনসেট প্রক্রিয়াকরণ করে প্রায় এক লাখ ১৬ হাজার ৬৬২ মেট্রিকটন পেট্রোল এবং ৫৫ হাজার ৩৩৯ মেট্রিকটন অকটেন উৎপাদন করেছে।

ইরান যুদ্ধ এবং তেলের মজুদ নিয়ে নানা খবরে আতঙ্ক থেকেই পেট্রোল ও অকটেনের অস্বাভাবিক চাহিদা তৈরি করেছে।

উৎপাদন কোথায় কতটুকু

বাংলাদেশের নিজস্ব কনডেনসেট থেকে পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদন করে সরকারি কোম্পানি সিলেট গ্যাস ফিল্ডের দুটি প্ল্যান্ট এবং চারটি বেসরকারি রিফাইনারি।

দেশের নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্র থেকে আসা কনডেনসেট থেকে সবচেয়ে বেশি পেট্রোল ও অকটেন, কেরোসিন ও ডিজেল এবং অল্প পরিমাণ এলপিজি উৎপাদন করে হবিগঞ্জ অবস্থিত সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের (এসজিএফএল) ফ্র্যাকশনেশন প্ল্যান্ট ও ক্যাটালাইটিক রিফর্মিং ইউনিট বা সিআরইউ।

হবিগঞ্জের প্ল্যান্টে বর্তমানে প্রতিদিন সাড়ে চার হাজার ব্যারেল কনডেনসেট বিভাজন করে ৬শ ব্যারেলের (৭৪ মেট্রিকটন) মতো অকটেন, তিন হাজার ৪৫০ ব্যারেল বা ৪২০ মেট্রিকটন পেট্রোল, ১৫০ ব্যারেল বা ২০ মেট্রিকটন ডিজেল ও ১শ ব্যারেল বা ১৩ মেট্রিকটন কেরোসিন এবং ১৭ ব্যারেল বা ১.৫ মেট্রিকটন এলপিজি উৎপাদন হচ্ছে।

এসজিএফএল এর লিকুইড পেট্রোলিয়াম মার্কেটিং বিভাগের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী জীবন শান্তি সরকার বিবিসি বাংলাকে জানান, এসজিএফএল এর প্ল্যান্ট দেশীয় কনডেনসেট থেকে দৈনিক চার হাজার ব্যারেলের বেশি পেট্রোল এবং অকটেন উৎপাদন করছে।

এই তেল দেশের মোট পেট্রোলের চাহিদার ৩৩-৩৫ শতাংশ এবং অকটেনের চাহিদার ৭-৮ শতাংশ, কেরোসিনের চাহিদার ৭ শতাংশ এবং ডিজেলের চাহিদার ০.২ শতাংশ পূরণ করতে পারে।

বাংলাদেশে সিলেট গ্যাসফিল্ডসের কনডেনসেট ফ্র্যাকশনেশন প্ল্যান্ট ছাড়াও চারটি বেসরকারি রিফাইনারি দেশীয় কনডেনসেট থেকে প্রক্রিয়াজাত করে পেট্রোল অকটেন, কেরোসিন ও ডিজেল উৎপাদন করে।

মি. সরকার বলেন, বাংলাদেশে ফিনিশড প্রোডাক্ট হিসেবে পেট্রোলের আমদানি করা প্রয়োজন হয় না।

“দেশীয় যে উৎপাদিত কনডেনসেট সেটি থেকে দেশের মোট পেট্রোলের চাহিদার প্রায় ৪০-৪৫ শতাংশ পূরণ হচ্ছে। আর বাকিটা ইআরএল (ইস্টার্ন রিফাইনারি লি.) তারা ক্রুড অয়েল থেকে এবং প্রাইভেট যারা আছে তারা ইমপোর্টেড কনডেনসেট থেকে পেট্রোলের চাহিদা পূরণ করছে। “

অকটেনের চাহিদা কতটা পূরণ হয় সে হিসেব দিয়ে মি. সরকার জানান, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিপিসি প্রায় ৬২ শতাংশ অকটেন উৎপাদন করেছে, বাকি চাহিদা দেশীয়ভাবে পূরণ করা সম্ভব হয়েছে।

নিজস্ব কনডেনসেট থেকে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি তেল উৎপাদন করে সিলেট গ্যাস ফিল্ড।

সিলেটের দুটি প্ল্যান্টে দৈনিক সাড়ে সাত হাজার ব্যারেল কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা রয়েছে। তবে গ্যাসের উৎপাদন ও কনডেনসেট উৎপাদন কমে গিয়ে এখন প্রতিদিন সাড়ে চার হাজার ব্যারেল কনডেনসেট বরাদ্দ পায় সিলেট গ্যাসফিল্ডের কনডেনসেট ফ্র্যাকশনেশন প্ল্যান্ট।

ইরান যুদ্ধের কারণে তেল সংকট সৃষ্টির পর পেট্রোবাংলার নির্দেশনা অনুযায়ী হবিগঞ্জ সিআরইউতে দৈনিক অকটেন উৎপাদন ১শ ব্যারেল বৃদ্ধি করে ৭শ ব্যারেল উৎপাদন করা হচ্ছে এবং সপ্তাহে পাঁচদিনের পরিবর্তে সাতদিন লরিতে তের সরবরাহ করা হচ্ছে।

হবিগঞ্জে উৎপাদিত পেট্রোল-অকটেন সিলেট অঞ্চল এবং রংপুর, পার্বতীপুর ও বাঘাবাড়ি এলাকায় সরবরাহ করা হয়।

পেট্রোল-অকটেনের এত চাহিদা কেন

বর্তমানে দেশে অকটেন ও পেট্রোলের সংকটের মূল কারণ অতিরিক্ত চাহিদা।

কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এবং ক্রেতাদেরও অনেকে অবৈধ মজুদ করার চেষ্টা করছে, প্রয়োজন ছাড়াও বেশি কিনছেন অনেকে।

সরকার বলছে, স্বাভাবিক চাহিদা পূরণের জন্য বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় মজুদ ও তেল আমদানি করা হচ্ছে। মে মাস পর্যন্ত মজুদ সব ধরনের তেলের মজুদ নিশ্চিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলপাম্প মালিক সমিতি জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে গ্রাহকদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল না কেনার আহ্বান জানিয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পাম্পে সবার হিমশিম খেতে হচ্ছে বলেও জানায় পাম্প মালিকরা।

বৃহত্তর ময়মনসিংহ পেট্রোলপাম্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান বলেন মানুষ অতিরিক্ত তেল কিনে মজুত করার কারণে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

“প্রতিদিন আমি ৫-৬ হাজার লিটার তেল বিক্রি করতাম। পেট্রোল দুই হাজার লিটার আর ডিজেল তিন হাজার লিটার। এখন আমার সেই ডিমান্ড হয়ে গেছে ২০ হাজার- ৩০ হাজার লিটার। সবাই তার গাড়ির তেলের ট্যাংক ফুল করতে চাচ্ছে। আগে যেখানে দুই লিটার তিন লিটার তেল নিত, এখন ৫-১০ লিটার কিনছে। একারণে একটা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়েছে।”

পেট্রোল অকটেনের মজুত এবং উৎপাদন পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে পেট্রোল অকটেনের এই চাহিদা অস্বাভাবিক।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এবং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে আইইউবির উপাচার্য অধাপক ম তামিম বলেন, বাংলাদেশে কনডেনসেটের উৎপাদনও কমেছে।

“রশিদপুর হবিগঞ্জ, বিবিয়ানা সিলেটের কয়েকটি ফিল্ড থেকে কনডেনসেট আসে। বিবিয়ানার উৎপাদন ১২শ ১৩শ মিলিয়ন থেকে ৮শ-৯শ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে গেছে। সুতরাং আমাদের নিজস্ব সরবরাহ থেকে পেট্রোলটা মোটামুটি মেটানো যাবে। তবে অকটেন ডেফিনেটলি আমদানি করতে হবে।”

“আমরা জানলাম আগামী মাসের জন্য অকটেন যা প্রয়োজন তার দ্বিগুণ আসছে। সুতরাং গাড়ির লাইন আমরা যেটা দেখছি এটা ডেফেনেটলি প্যানিক পারচেজ।”

সরকারের পদক্ষেপ কী

সরকার জানাচ্ছে, যে দেশে জ্বালানি তেলের যথেষ্ট মজুত রয়েছে। চাহিদা পূরণে আরো কেনা হচ্ছে।

মে মাস পর্যন্ত তেলের চাহিদা পূরণ করতে বেশি দামে তেল আমদানি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

ইরান যুদ্ধের কারণে সংকট নিরসনে পদক্ষেপ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “বিশ্বব্যাপী প্রবলেম হয়েছে দেখেই তো আমি বেশি দাম দিয়ে সিঙ্গাপুর থেকে তেল এনে স্টক করতেছি।”

মে মাস পর্যন্ত চলার মতো জ্বালানি তেলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, “আরো জাহাজ আসবে, আরো তেল আসবে।”

সরকারি কোষাগারের ওপর চাপ পড়লেও তেলের সরবরাহ ঠিক রাখা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, “আর সেই সাপ্লাইকে ডিসরাপ্ট করতেছে কালোবাজারিরা।”

ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, সিরাজগঞ্জ জেলায় ফুয়েল কার্ড, রাজশাহীতে গাড়ির জোড় ও বেজোড় নম্বর অনুযায়ী আলাদা দিনে তেল সরবরাহের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঢাকায় মোটরসাইকেলের জন্য কিউআর কোড চালু করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ারও ব্যবস্থা করা হয়েছে।

“আমদের তো প্রবলেম বাইক। আমরা ঢাকাতে কিউআরকোড করতেছি। আমরা প্রত্যেকটা বাইকারদের কাছে কিউআর কোড দিয়ে দেব। ওই কিউআর কোড ধরলে কী পরিমাণে তেল সে পাবার কথা পেয়ে যাবে। সারাদিনে অন্য কোনো পাম্পে গিয়ে আর তেল পাবে না।”

মন্ত্রী জানান, দেশে অভিযান পরিচালনা করে তেল অবৈধ মজুত উদ্ধার করা হচ্ছে। সব পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয় করতে ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ করা হয়েছে।

“আমাদের মজুদের কোনো অসুবিধা নাই। আমাদের তেলের সাপ্লাই হচ্ছে। এখন আমার সারা বছরের যে প্ল্যানিং থাকে কোন পাম্পে কোন তেল দেব প্রতিদিন, সেই তেল সাপ্লাই করছি। এখন ডিমান্ড হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ায় সেই তেল যদি শেষ হয়ে যায় সেটা তো কিছু করার নাই আমার। আমার সাপ্লাই লাইন ও ঠিক আছে।”

ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, সরকার এই মুহূর্তে দৈনিক ১৬০ কোটি টাকা জ্বালানি তেলে ভর্তুকি দিচ্ছে।

“আমরা তেলের দাম এ মাসেও বাড়ালাম না। জনগণ যদি একটু সাশ্রয়ী হয়। প্রয়োজনের অতিরিক্ত যদি তেল না কেনে তাহলে পরে এসব ভিড় টিড় কিছুই থাকবে না এবং সাপ্লাইও স্বাভাবিক হয়ে যাবে।”

ইরান যুদ্ধের কারণে সারাবিশ্বের তেলের বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। আমদানি নির্ভর জ্বালানির মধ্যে বাংলাদেশের বড় চাহিদা হচ্ছে ডিজেল ও এলএনজির। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধের কারণে দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ সংকটে ভবিষ্যতে ডিজেল ক্রুড অয়েল ও এলএনজি আমদানি নিশ্চিত করাটাই হতে পারে বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জের।

জ্বালানিমন্ত্রী বলছেন, চাহিদা অনুযায়ী ডিজেলের আমদানির ব্যবস্থাও সরকার করছে।

সূত্র : বিবিসি বাংলা