খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

যুদ্ধ থামাতে নয়, দারিদ্র্য দূর করলেই আসবে শান্তি

মোহাম্মদ ফাছিহ-উল ইসলাম শাইয়্যান
প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৩৪ এএম
যুদ্ধ থামাতে নয়, দারিদ্র্য দূর করলেই আসবে শান্তি

রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বলতে আমরা কী বুঝি? সীমান্তে সেনা, আকাশে যুদ্ধবিমান, সমুদ্রে নৌবহর—এ দৃশ্যই আমাদের মানসচক্ষে ভাসে। জাতীয় বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হয়, যা নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু একটি মৌলিক প্রশ্ন থেকে যায়— ক্ষুধার্ত, বেকার ও হতাশ জনগোষ্ঠী নিয়ে কি কোনো রাষ্ট্র নিরাপদ থাকতে পারে?

আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বাস্তবতা বলছে, জাতীয় নিরাপত্তা শুধু সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর করে না; এটি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক শান্তির ওপর নির্ভরশীল। আর এ স্থিতিশীলতার ভিত্তি হলো দারিদ্র্য হ্রাস ও জীবিকার নিরাপত্তা।

বাজেটের আয়নায় নিরাপত্তা নীতি: প্রতিরক্ষা বনাম কৃষি

২০২৪-২৫ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় ৪২ হাজার ১৪ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। অন্যদিকে, একই বাজেটে কৃষি খাতে বরাদ্দ ছিল প্রায় ২৭ হাজার ২১৪ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের মাত্র ৩.৮ শতাংশ।

এ পরিসংখ্যান আমাদের সামনে একটি রাজনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরে—রাষ্ট্র নিরাপত্তার ধারণা এখনো প্রধানত সামরিক খাতে কেন্দ্রীভূত। অথচ দেশের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষিনির্ভর।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে কৃষি খাতে বরাদ্দের অংশ প্রায় ৫.৮-৬ শতাংশের কাছাকাছি, যা বিশেষজ্ঞদের মতে প্রয়োজনের তুলনায় কম। অর্থাৎ, বাজেটের আকার বাড়লেও কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির ভাগ বাড়ছে না।

কৃষি বাজেট কমে গেলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ে

বাজেটে কৃষির অংশ কমে গেলে এর রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব সুদূরপ্রসারী হয়। কৃষিতে বিনিয়োগ কমে গেলে উৎপাদন ঝুঁকি বাড়ে, গ্রামীণ দারিদ্র্য বাড়ে, শহরমুখী অভিবাসন বাড়ে এবং সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি পায়। ইতিহাস বলছে, খাদ্য সংকট ও অর্থনৈতিক বৈষম্য বহু দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা, গণঅভ্যুত্থান ও সংঘাতের জন্ম দিয়েছে। বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে গ্রামীণ দারিদ্র্য বাড়া মানে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি। অর্থনৈতিক হতাশা, রাজনৈতিক চরমপন্থা, সামাজিক বিভাজন ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমের জন্য উর্বর ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে, যা কোনো যুদ্ধবিমান দিয়ে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।

যৌথ কৃষি অবকাঠামো: নতুন ধরনের নিরাপত্তা বিনিয়োগ

এ প্রেক্ষাপটে একটি নতুন নীতিধারণা সামনে আসছে—যৌথ কৃষি অবকাঠামো (Shared Agricultural Infrastructure)। এটি শুধু কৃষি প্রযুক্তি নয়; এটি একটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক শাসন কাঠামো, যেখানে সরকার, আন্তর্জাতিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি কোম্পানি ও কৃষকরা যৌথভাবে কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থাকে আধুনিক করে তোলে।

এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে:

ক. স্যাটেলাইটভিত্তিক রোগ ও আবহাওয়া পূর্বাভাস

খ. ডিজিটাল কৃষি পরামর্শ ও ডেটা প্ল্যাটফর্ম

গ. স্মার্ট কৃষি ভ্যালু চেইন ও বাজার তথ্য ব্যবস্থা

ঘ. আন্তর্জাতিক কৃষি ডেটা শেয়ারিং অবকাঠামো

বাংলাদেশে GEOPOTATO প্রকল্প দেখিয়েছে, স্যাটেলাইট তথ্য ব্যবহার করে আগাম সতর্কতা দিলে ফসল ক্ষতি কমে এবং কৃষকের আয় বাড়ে। অর্থাৎ, কৃষিতে প্রযুক্তি বিনিয়োগ মানে দারিদ্র্য হ্রাস আর দারিদ্র্য হ্রাস মানে সামাজিক স্থিতিশীলতা।

আন্তর্জাতিক ব্যবসা: ভূরাজনৈতিক অংশীদার

আন্তর্জাতিক কৃষি ও প্রযুক্তি কোম্পানির কাছে রয়েছে উন্নত প্রযুক্তি, মূলধন ও বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক। তারা কৃষি অবকাঠামোতে বিনিয়োগ করলে তা শুধু CSR নয়, ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার কৌশল। স্থিতিশীল কৃষি অর্থনীতি মানে স্থিতিশীল বাজার, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা মানে বিনিয়োগ নিরাপত্তা। সামাজিক শান্তি মানে সরবরাহ চেইনের ধারাবাহিকতা। অতএব, কৃষি অবকাঠামোতে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ একটি নতুন ধরনের শান্তি কূটনীতি।

শান্তি: সামরিক ভারসাম্য নয়, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা

শান্তি সাধারণত সামরিক ভারসাম্য বা রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে অর্জিত হয় বলে মনে করা হয়। কিন্তু ইতিহাস দেখিয়েছে, অর্থনৈতিক ভিত্তি দুর্বল হলে রাজনৈতিক চুক্তি টেকে না। আফগানিস্তান, ইরাক বা দক্ষিণ সুদানের মতো দেশগুলোতে রাজনৈতিক সমঝোতা ব্যর্থ হয়েছে মূলত অর্থনৈতিক পুনর্গঠন দুর্বল থাকার কারণে। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, শান্তি একটি উদ্ভূত সামাজিক অবস্থা, যা দারিদ্র্য হ্রাস, অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা থেকে জন্ম নেয়। অর্থাৎ, শান্তি সামরিক বাজেটের মাধ্যমেই শুধু নয়, মানুষের জীবিকার মাধ্যমেও।

বাংলাদেশের জন্য নীতিগত প্রশ্ন

বাংলাদেশ কি প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়াবে, নাকি কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে কৌশলগত বিনিয়োগ করবে? প্রশ্নটি সামরিক বনাম কৃষি নয়; প্রশ্নটি স্বল্পমেয়াদি নিরাপত্তা বনাম দীর্ঘমেয়াদি শান্তি। যদি কৃষি অবকাঠামো, ডিজিটাল কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় আকারে বিনিয়োগ করা হয়, তবে তা—ক. দারিদ্র্য কমাবে; খ. গ্রামীণ স্থিতিশীলতা বাড়াবে; গ. শহরমুখী অভিবাসন কমাবে; ঘ. সামাজিক বিভাজন হ্রাস করবে; ঙ. দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে। এগুলোই রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার প্রকৃত ভিত্তি।

রাজনৈতিক অর্থনীতির নতুন দর্শন

এ দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের প্রচলিত রাজনৈতিক অর্থনীতিকে চ্যালেঞ্জ করে। আমরা দারিদ্র্যকে মানবিক সমস্যা হিসেবে দেখি; কিন্তু বাস্তবে এটি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ভূরাজনীতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। একটি ক্ষুধার্ত রাষ্ট্র কখনো নিরাপদ রাষ্ট্র হতে পারে না, যত যুদ্ধবিমানই থাকুক না কেন।

নিরাপত্তার নতুন সংজ্ঞা

একবিংশ শতাব্দীতে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার সংজ্ঞা বদলাতে হবে। নিরাপত্তা শুধু সীমান্তে নয়; নিরাপত্তা মানুষের পেটে, কৃষকের জমিতে, গ্রামীণ অর্থনীতিতে। যদি বাংলাদেশ দারিদ্র্য দূরীকরণ ও কৃষি অবকাঠামোকে জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলের অংশ হিসেবে গ্রহণ করে, তবে তা শুধু উন্নয়ন নয়, একটি টেকসই শান্তি রাষ্ট্রের ভিত্তি গড়ে তুলবে। সামরিক বাজেট প্রয়োজন; কিন্তু শান্তির সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হলো দারিদ্র্য দূরীকরণ।

লেখক: আইটি উদ্যোক্তা

 

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৪:০৩ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঈদের নামাজ শেষে দুই দল গ্রামবাসী মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ১৫/২০ টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হয় বলে জানা গেছে।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত দুই ঘন্টা ব্যাপী দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে চলে এ সংঘর্ষ। দুই পক্ষ ঢাল, সরকি, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে-অপরের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। এ সময় এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের ইসমাইল মুন্সি ও চুন্নু মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দিনগত রাত সাড়ে বারটার দিকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত ১২ জন আহত হন। এর জের ধরে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।