খুঁজুন
সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন, ১৪৩২

খেলাপি ঋণের ভারে নুয়ে পড়ছে অর্থনীতি, ঘুরে দাঁড়ানোর উপায় কী?

এম এম মাহবুব হাসান
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:৪৮ এএম
খেলাপি ঋণের ভারে নুয়ে পড়ছে অর্থনীতি, ঘুরে দাঁড়ানোর উপায় কী?

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে খেলাপি ঋণের ভয়াবহ চাপে পড়েছে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুতর হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা, যা দেশের ব্যাংক খাতের মোট বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৩৬ শতাংশ।

মাত্র তিন মাস আগেও, অর্থাৎ জুন ২০২৫ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা, যা তখনই মোট ঋণের প্রায় ৩০ শতাংশে পৌঁছে গিয়েছিল। অর্থাৎ অল্প সময়ের ব্যবধানে খেলাপি ঋণের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

এর মধ্যে ১৭টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ৫০-৯৯ শতাংশের শতাংশের বেশি, আর ছয়টি ব্যাংকের ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে, যেমন— ইউনিয়ন ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৯৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ৯৬ দশমিক ২০ শতাংশ, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ৯৫ দশমিক ৭০ শতাংশ, পদ্মা ব্যাংক ৯৪ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং আইসিবি ইসলামী ব্যাংক ৯১ দশমিক ৩৮ শতাংশ। এই চিত্র কেবল ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতাই নয়, বরং আর্থিক শাসনব্যবস্থার গভীর সংকটকেই স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।

ঠিক বিপরীতে ১৭টি ব্যাংক রয়েছে যাদের খেলাপি ঋণ মাত্র ১০ শতাংশের নিচে এবং তাদের মধ্যে ৬টির খেলাপি ঋণ ৫ শতাংশেরও নিচে। এ পার্থক্য স্পষ্টভাবে দেখায় যে, সুশাসন, কঠোর ঋণ মূল্যায়ন ও কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা থাকলে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। বিপরীতে, অনিয়ম, প্রভাব খাটানো ও দুর্বল তদারকি ব্যাংককে দ্রুত বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেয়।

খেলাপি ঋণ বলতে মূলত সেই ঋণকে বোঝায়, যা ঋণগ্রহীতা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়েছে কিংবা বাস্তব অর্থে আর আদায়যোগ্য নয়। এ ধরনের ঋণ ব্যাংকগুলোর ব্যালান্স শিটে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করে, প্রভিশনিংয়ের বোঝা বাড়ায় এবং মুনাফার সক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

এ খেলাপি ঋণের প্রভাব কেবল ব্যাংকিং খাতেই সীমাবদ্ধ নেই; এটি পুরো অর্থনীতিকে প্রভাবিত করছে। ব্যাংকগুলো যখন বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণের বোঝা বহন করে, তখন তারা নতুন ঋণ দিতে অনাগ্রহী হয়ে ওঠে। ফলে শিল্প, নির্মাণ, পরিবহন, বাণিজ্য ও সিএমএসএমই খাতে ঋণপ্রবাহ কমে যায়।

বিনিয়োগ স্থবির হয়, উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং সামগ্রিকভাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত প্রভিশনিংয়ের চাপ ব্যাংকগুলোর মুনাফা কমিয়ে দেয়, যা আবার মূলধন শক্তিশালী করার সক্ষমতাকে দুর্বল করে। এর প্রভাব পড়ে আমানতকারীদের আস্থার ওপর এবং বাজারে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। খেলাপি ঋণের এ দীর্ঘস্থায়ী সংকটের পেছনে কয়েকটি কাঠামোগত কারণ কাজ করছে।

প্রথমত, রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়ম। বহু ক্ষেত্রে দেখা গেছে, রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের সুপারিশে প্রকৃত আর্থিক সক্ষমতা যাচাই না করেই বড় অঙ্কের ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব ঋণের একটি বড় অংশ পরবর্তী সময়ে আর পরিশোধ হয়নি এবং খেলাপিতে পরিণত হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, ঋণ শ্রেণিকরণে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের ফলে খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র সাম্প্রতিক সময়ে আরও স্পষ্ট হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ঋণকে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করার সময়সীমা কমিয়ে আনার ফলে বহু ঋণ দ্রুত খেলাপি হিসেবে গণ্য হয়েছে। এতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ হঠাৎ বেড়েছে বলে মনে হলেও, বাস্তবে এটি দীর্ঘদিনের জমে থাকা ঝুঁকিকেই সামনে নিয়ে এসেছে।

তৃতীয়ত, ঋণ আদায়ের আইনি কাঠামো অত্যন্ত ধীর ও জটিল হওয়ায় খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধার কার্যত দুরূহ হয়ে পড়েছে। মামলা নিষ্পত্তিতে বছরের পর বছর লেগে যায়, যা ঋণগ্রহীতাদের জন্য এক ধরনের সুবিধা তৈরি করে।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য কেবল সমস্যার স্বীকৃতি নয়, প্রয়োজন সুস্পষ্ট ও বাস্তবমুখী নীতিগত পদক্ষেপ।

প্রথমত, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যকর স্বাধীনতা ও তদারকি ক্ষমতা নিশ্চিত করা জরুরি। রাজনৈতিক বা অন্য কোনো প্রভাবমুক্ত হয়ে যদি ঋণ-শৃঙ্খলা, শ্রেণীকরণ ও তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড কঠোরভাবে প্রয়োগ করা যেতে পারে, তাহলে খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র গোপন করার সুযোগ থাকবে না।

দ্বিতীয়ত, ঝুঁকিভিত্তিক ঋণ নীতি বাস্তবায়ন করতে হবে। ঋণ দেওয়ার আগে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা, ঋণগ্রহীতার আর্থিক সক্ষমতা ও বাজার ঝুঁকি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা ছাড়া বড় ঋণ অনুমোদনের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

তৃতীয়ত, ঋণ আদায়ের আইন ও বিচারব্যবস্থাকে দ্রুত ও কার্যকর করতে হবে, যাতে খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধার বাস্তবসম্মত হয়।

একই সঙ্গে বড় খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের জন্য আলাদা নজরদারি ও দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা প্রয়োজন। যারা বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিশোধ করছে না, তাদের ক্ষেত্রে কঠোর আইনি ও আর্থিক ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়া খেলাপি ঋণের লাগাম টানা সম্ভব নয়। পাশাপাশি দুর্বল ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে পুনঃমূলধন ও পুনর্গঠন পরিকল্পনা নেওয়া যেতে পারে, তবে তা অবশ্যই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির শর্তে।

সবশেষে বলা যায়, খেলাপি ঋণ আজ আর শুধু ব্যাংকিং খাতের একটি সমস্যা নয়; এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে। এ সংকট থেকে উত্তরণে প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, কঠোর তদারকি ও দীর্ঘমেয়াদি নীতি ধারাবাহিকতা।

এসব পদক্ষেপ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফিরবে, ঋণপ্রবাহ স্বাভাবিক হবে এবং অর্থনীতি আবারও গতিশীল হওয়ার সুযোগ পাবে।

(লেখক : এমএম মাহবুব হাসান, ব্যাংকার ও উন্নয়ন গবেষক)

ফরিদপুরে আ.লীগ নেতাকে জেলগেটে মালা পরালেন বিএনপির এমপি বাবুল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৪:০১ পিএম
ফরিদপুরে আ.লীগ নেতাকে জেলগেটে মালা পরালেন বিএনপির এমপি বাবুল

ফরিদপুরে ১৭৫ দিন কারাগারে থাকার পরে রবিবার (৮ মার্চ) দুপুরে জেলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হলেন আওয়ামী লীগ নেতা, ইউপি চেয়ারম্যান ও ভাঙ্গায় ইউনিয়ন রক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী ম. ম. সিদ্দিক মিঞা (৫৭)।

মুক্তির পরে তাকে ফুলের মালা পড়িয়ে জেলগেটে স্বাগত জানান বিএনপির মনোনয়ন নির্বাচিত ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা-সদরপুর-চরভদ্রাসন) আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল। এ সময় জেলগেটে একে অপরকে ফুলের মালা গলায় পরিয়ে দেন।

ম. ম. সিদ্দিক মিঞা ভাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। তিনি ভাঙ্গার আলগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। তিনি ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা-সালথা) সংসদীয় আসনে কেটে নেওয়ার প্রতিবাদে গড়ে ওঠা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী ছিলেন।

এ নিয়ে এলাকাবাসীর আন্দোলনের এক পর্যায়ে গত ১৩ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে তাকে ফরিদপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ আটক করে। পরদিন ১৪ সেপ্টেম্বর তাকে পুলিশের দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

রবিবার (৮ মার্চ) জেলমুক্তির পরে চেয়ারম্যান ম. ম. সিদ্দিক মিঞাকে জেলগেটে স্বাগত জানান ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা-সদরপুর-চরভদ্রাসন) আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল। এ সময় জেলগেটে তারা একে অপরকে ফুলের মালা গলায় পরিয়ে দেন।

কারামুক্তির পরে ইউপি চেয়ারম্যান ম. ম. সিদ্দিক মিঞা বলেন, আমার জেলমুক্তির জন্য নবনির্বাচিত এমপি শহিদুল ইসলাম বাবুলের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।

অন্যদিকে ফরিদপুর-৪ আসনের এমপি শহিদুল ইসলাম বাবুল রবিবার বিকালে তার ফেসবুক আইডিতে লেখেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আমরা কথা দিয়েছিলাম ভাঙ্গার ইউনিয়ন রক্ষার আন্দোলনে গ্রেপ্তারকৃত আলগী ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ সবাইকে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে মুক্ত করবো। আলহামদুলিল্লাহ আজকে সিদ্দিক চেয়ারম্যান মুক্ত হলো। আমি নিজে জেলগেটে থেকে তাকে রিসিভ করলাম।’

উল্লেখ্য, ভাঙ্গা উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মধ্যে আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন) থেকে কেটে ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা-সালথা) আসনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। গত ৪ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করে। নির্বাচন কমিশনের এ সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি এলাকাবাসী। এরপর থেকে ভাঙ্গায় প্রথমে দুই দফায় ৪ দিন মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষুব্ধ আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নবাসী। এ আন্দোলনে সমর্থন জানায় ভাঙ্গার অন্যান্য ইউনিয়নের বাসিন্দারা। সমর্থন জানায় ভাঙ্গার বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন। পুরো আন্দোলনের নেতৃত্বের প্রথম সারিতে ছিলেন আলগী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ম. ম. সিদ্দিক মিঞা।

চার দিন অবরোধ চলার পরে আলগী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সেপ্টেম্বরের ১৪ তারিখ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩ দিন সকাল-সন্ধ্যা ভাঙ্গায় মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেন আলগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। কর্মসূচি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরেই তাকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাকে পুলিশের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

উল্লেখ্য, পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের মাধ্যমে ওই দুই ইউনিয়ন পুনরায় ফরিদপুর-৪ আসনে ফিরে আসে। এবং গত নির্বাচনে এ দুটি ইউনিয়নের বাসিন্দারা ফরিদপুর-৪ আসনেই ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

শবে কদরের বিশেষ নামাজ ও আমলের বিধান

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৭:৫১ এএম
শবে কদরের বিশেষ নামাজ ও আমলের বিধান

লাইলাতুল কদর বা শবে কদর বছরের শ্রেষ্ঠ রাত। এই রাত হাজার বছরের চেয়ে উত্তম। রমজানের শেষ দশকের কোনো এক রাতে এই পবিত্র রজনী। নির্দিষ্ট করে লাইলাতুল কদর চিহ্নিত করা হয়নি। হাদিস শরিফে এসেছে, ‘তোমরা শেষ দশকের বেজোড় রাতে শবে কদর তালাশ করো।’ (বোখারি : ২০১৭)

মহিমান্বিত এই রজনী ঘিরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনেক ধারণা প্রচলিত রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ‘শবে কদরের বিশেষ নামাজ ও আমল’। বিভিন্ন পুস্তিকায় এই নামাজ ও আমল নিয়ে বিভিন্ন নিয়মের কথাও লেখা থাকে।

আবার কেউ কেউ দাবি করেন, বিশেষ সুরা দিয়ে নামাজ পড়া বা নির্ধারিত রাকাত নামাজ বিশেষ সুরা দ্বারা আদায় করতে হয়। তাই প্রশ্ন জাগে, হাদিস শরিফে এই রাতে বিশেষ পদ্ধতির কোনো নামাজ বা আমল আছে কি? থাকলে এ ব্যাপারে শরয়ি বিধান কী?

এ প্রসঙ্গে রাজধানীর জামিয়া ইকরার ফাজিল মুফতি ইয়াহইয়া শহিদ বলেন, কোরআন-হাদিসে শবে কদর বা শবে বরাতের জন্য বিশেষ পদ্ধতির কোনো নামাজ নেই। সবসময় যেভাবে নামাজ পড়া হয়, সেভাবেই পড়বেন। অর্থাৎ দুই রাকাত করে যত রাকাত সম্ভব হয় আদায় করবেন এবং যে সুরা দিয়ে সম্ভব হয় পড়বেন। তদ্রূপ রোজা বা অন্যান্য আমলেরও বিশেষ কোনো পন্থা নেই।

এই দুই রাতে কোরআন তেলাওয়াত, জিকির-আজকার, দোয়া-ইস্তেগফার ইত্যাদি নেক আমল যে পরিমাণ সম্ভব হয়, আদায় করবেন। তবে নফল নামাজ দীর্ঘ করা এবং সিজদায় দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করা উচিত, যা হাদিস থেকে প্রতীয়মান হয়।

বিভিন্ন বই-পুস্তকে নামাজে যে নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন লেখা আছে, অর্থাৎ এত রাকাত হতে হবে, প্রতি রাকাতে এই এই সুরা এতবার পড়তে হবে- এগুলো ঠিক নয়। হাদিস শরিফে এ ধরনের কোনো নিয়ম নেই, এগুলো মানুষের মনগড়া পন্থা।

নফল আমল আদায়ের পদ্ধতি কী?

বিশুদ্ধ মতানুসারে, শবে বরাত ও শবে কদরের নফল আমলগুলো একাকী করণীয়। ফরজ নামাজ তো অবশ্যই মসজিদে জামাতের সঙ্গে আদায় করতে হবে। এরপর যা কিছু নফল পড়ার তা নিজ নিজ ঘরে একাকী পড়বেন। এসব নফল আমলের জন্য দলে দলে মসজিদে এসে সমবেত হওয়ার প্রমাণ হাদিস শরিফে নেই , এমনকি সাহাবায়ে কেরামের যুগেও এর রেওয়াজ ছিল না। তবে কোনো আহ্বান ও ঘোষণা ছাড়া এমনিই কিছু লোক যদি মসজিদে এসে যায়, তাহলে প্রত্যেকে নিজ নিজ আমলে মশগুল থাকবে, একে অন্যের আমলে ব্যাঘাত সৃষ্টির কারণ হবে না। (ইকতিজাউস সিরাতিল মুস্তাকিম : ২/৬৩১-৬৪১ ও মারাকিল ফালাহ : পৃ. ২১৯)

সূত্র : কালবেলা

ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী নির্ধারণ করল সরকার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৭:৪৫ এএম
ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী নির্ধারণ করল সরকার

ইমাম-মুয়াজ্জিন ও খাদেমসহ ধর্মগুরুদের জন্য সম্মানী চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী ১৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জাবিউল্লাহ।

রোববার (৮ মার্চ) মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও অন্যান্য উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জাবিউল্লাহ জানান, পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি মসজিদের জন্য ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্য থেকে ইমাম ৫ হাজার, মুয়াজ্জিন ৩ হাজার এবং খাদেম ২ হাজার করে টাকা পাবেন। আর প্রতিটি মন্দিরের জন্য থাকছে ৮ হাজার টাকা, যা থেকে পুরোহিত ৫ হাজার টাকা এবং সেবাইত ৩ হাজার টাকা করে পাবেন।

প্রতিটি বৌদ্ধ বিহারের জন্য থাকছে ৮ হাজার টাকা, এ থেকে বিহার অধ্যক্ষ ৫ হাজার টাকা এবং উপাধ্যক্ষ ৩ হাজার টাকা করে পাবেন। এ ছাড়া প্রতি খ্রিস্টান চার্চের জন্য থাকছে ৮ হাজার টাকা, যা থেকে পালক বা যাজক ৫ হাজার টাকা, সহকারী পালক বা যাজক ৩ হাজার টাকা করে পাবেন।

প্রতি বছর ধর্মীয় উৎসবে মসজিদে কর্মরতদেরকে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার ক্ষেত্রে ১ হাজার টাকা করে বছরে ২ বার এবং দুর্গাপূজা, বৌদ্ধপূর্ণিমা বা বড়দিনের ক্ষেত্রে ২ হাজার টাকা করে বোনাস দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন ইসমাইল জাবিউল্লাহ। তবে যেসব মসজিদ সরকারি ও দেশি বা বিদেশি সংস্থার অনুদানপ্রাপ্ত, সেসব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এ সুবিধার বাইরে থাকবে।

তিনি আরও জানান, এ সম্মানী দেওয়ার ক্ষেত্রে চলতি অর্থবছরে মার্চ-জুনে ২৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে। সম্মানীগুলো ব্যাংকের মাধ্যমে দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ধর্মীয় উপাসনালয়ে দেওয়া হবে।