খুঁজুন
, ,

‘ছোট্ট রামিসার শেষ কান্না’

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৯:৩৪ পূর্বাহ্ণ
‘ছোট্ট রামিসার শেষ কান্না’

রাত তখন গভীর। ঢাকার পল্লবীর আকাশে ঝুলে ছিল একরাশ কালো মেঘ। চারদিকে নিস্তব্ধতা। রাস্তার বাতিগুলোও যেন কাঁপছিল ভয়ে। সেই রাতেই ছোট্ট রামিসা হারিয়ে যায়। রামিসা ছিল এক ফুটফুটে শিশু। তার হাসিতে ভরে উঠতো পুরো মহল্লা। ছোট ছোট পায়ে দৌড়ে বেড়াতো গলির একপ্রান্ত থেকে আরেকপ্রান্তে। মা ডাকলে মিষ্টি কণ্ঠে বলতো, “এই তো আসছি আম্মু!” তার ছোট্ট চোখে ছিল হাজার স্বপ্ন। একদিন ডাক্তার হবে, গরিব মানুষকে চিকিৎসা দেবে, মায়ের জন্য লাল শাড়ি কিনবে, বাবার জন্য পাঞ্জাবি আনবে। কিন্তু মানুষরূপী এক পশু সব স্বপ্ন শেষ করে দিল।

সোহেল রানা—নামের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক নৃশংস অন্ধকার। যে শিশুর নিষ্পাপ মুখ দেখেও থামেনি। যার হৃদয়ে ছিল না কোনো মায়া, ছিল না মানবতা। সেদিন বিকেলে রামিসা খেলছিল বাড়ির সামনে। হাতে ছিল একটি ভাঙা পুতুল। পুতুলটার নামও দিয়েছিল সে—“মিনি”। বন্ধুদের সাথে খেলতে খেলতে কখন যে দূরে চলে যায়, কেউ খেয়াল করেনি। মা ভেবেছিলেন একটু পরই ফিরে আসবে। কিন্তু সন্ধ্যা নামলো, আজানের ধ্বনি ভেসে এলো, তবুও রামিসা ফিরলো না। মায়ের বুক কেঁপে উঠলো। তিনি ছুটলেন গলির পর গলি। প্রতিটি দরজায় কড়া নেড়ে বললেন, “আমার মেয়েকে দেখেছেন?” কেউ দেখেনি। কেউ জানেনি। চারদিকে শুধু আতঙ্ক।

রাত বাড়তে লাগলো। বাবার চোখে তখন ভয়। কাঁপা গলায় তিনি বললেন, “আমার মেয়েকে ফিরিয়ে দিন।” মানুষ খুঁজতে বের হলো। মাইকিং হলো। পুলিশ এলো। পুরো এলাকা ভারী হয়ে উঠলো কান্নায়। তারপর এলো সেই ভয়ংকর মুহূর্ত। একটি নির্জন স্থানে পাওয়া গেল ছোট্ট রামিসাকে—নিথর, নীরব, রক্তাক্ত। চারপাশে তখন মানুষের আর্তনাদ। মায়ের চিৎকারে আকাশ ভারী হয়ে গেল। তিনি মেয়েকে বুকে জড়িয়ে বলছিলেন, “একবার চোখ খোল মা!” কিন্তু রামিসা আর চোখ খোলেনি। যে শিশুটি একটু আগেও হাসছিল, সে এখন সাদা কাপড়ে মোড়ানো।

পুরো দেশ স্তব্ধ হয়ে গেল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লো ক্ষোভ। মানুষ লিখলো—“এই হত্যার বিচার চাই।” স্কুলের শিশুরাও কেঁদেছে। মায়েরা সন্তানকে বুকে চেপে ধরেছে। বাবারা আতঙ্কে কেঁপে উঠেছেন। কারণ রামিসা শুধু একটি নাম নয়, রামিসা ছিল বাংলাদেশের প্রতিটি শিশুর প্রতিচ্ছবি। এরপর গ্রেফতার হলো সোহেল রানা। পুলিশের হাতে হাতকড়া পরা অবস্থায় দাঁড়িয়ে ছিল সে। চোখে কোনো অনুতাপ ছিল না, ছিল না অপরাধবোধ। মানুষ তার ছবি দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়লো। সবাই বললো, “এমন মানুষ বাঁচার অধিকার হারিয়েছে।”

আদালতে নেওয়া হলো তাকে। সেখানে সে নিজের দায় স্বীকার করলো। জবানবন্দিতে বেরিয়ে এলো ভয়ংকর সত্য। আদালত কক্ষ নিস্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। অনেকের চোখে জল ছিল। কেউ মাথা নিচু করে কাঁদছিলেন। একজন বৃদ্ধ বললেন, “শিশুরা যদি নিরাপদ না থাকে, তবে সমাজ বেঁচে থাকে কিভাবে?” একজন মা কাঁদতে কাঁদতে বললেন, “আজ রামিসা গেছে, কাল আমার সন্তানও যেতে পারে।” মানুষ রাজপথে নেমে এলো। মানববন্ধন হলো। মিছিল হলো। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল—“রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই।” কেউ ফুল নিয়ে দাঁড়িয়েছিল, কেউ মোমবাতি জ্বালিয়েছিল, কেউ চুপচাপ চোখ মুছছিল।

একটি ছোট শিশু মায়ের হাত ধরে জিজ্ঞেস করেছিল, “আম্মু, আপুটাকে কেন মেরে ফেললো?” মা উত্তর দিতে পারেননি। শুধু শিশুটিকে বুকে জড়িয়ে কেঁদেছেন। রামিসার ঘর এখন নিস্তব্ধ। তার বইগুলো টেবিলে পড়ে আছে। স্কুলব্যাগে এখনও খাতা রাখা। খাতার পাতায় আঁকা ছোট্ট ফুল। মা প্রতিদিন সেই খাতা খুলে দেখেন, কাঁদেন, আবার বন্ধ করেন। রাতে তিনি এখনও মেয়ের কণ্ঠ শুনতে পান। মনে হয় রামিসা বলছে, “আম্মু, আমি এসেছি।” কিন্তু দরজা খুললে কেউ থাকে না।

বাবা আর আগের মতো কথা বলেন না। চুপচাপ বসে থাকেন। মেয়ের পুরোনো জামা হাতে নিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। একদিন তিনি বললেন, “আমার মেয়ের কী অপরাধ ছিল?” কেউ উত্তর দিতে পারেনি। পল্লবীর সেই গলি আজও রামিসাকে খোঁজে। যেখানে সে খেলতো, যেখানে সে হাসতো। শিশুরা এখন সন্ধ্যার আগেই ঘরে ফিরে যায়। মায়েরা আতঙ্কে দরজা বন্ধ করে রাখেন। কারণ একটি ঘটনা পুরো সমাজকে বদলে দিয়েছে।

সোহেল রানার বিচার চেয়ে মানুষ এখনও সোচ্চার। কারণ তারা জানে—এই বিচার শুধু রামিসার জন্য নয়, এই বিচার প্রতিটি শিশুর নিরাপত্তার জন্য। যখন আদালতে বিচার শুরু হয়, মানুষ টিভির সামনে বসে খবর দেখেছে। প্রতিটি আপডেট শুনেছে। প্রতিটি তথ্য শুনে কেঁপে উঠেছে। একজন শিক্ষক বললেন, “যে শিশুদের ভালোবাসতে শেখেনি, সে মানুষ হতে পারে না।” একজন কবি লিখলেন—“রামিসার কান্না রাত জাগে।” একজন সাংবাদিক লিখলেন—“এই হত্যাকাণ্ড আমাদের বিবেককে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।”

মানুষ বিচার চায়। দ্রুত বিচার। দৃষ্টান্তমূলক বিচার। কারণ দেরি মানে অপরাধীদের সাহস বাড়ানো। রামিসার কবরের পাশে প্রায়ই মানুষ যায়। ফুল রেখে আসে। দোয়া করে। এক বৃদ্ধা সেখানে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, “আল্লাহ, আর কোনো মায়ের কোল খালি কইরেন না।” বাতাস তখন ভারী হয়ে উঠেছিল। ছোট্ট একটি জীবন, কত স্বপ্ন ছিল, কত আশা ছিল—সব শেষ হয়ে গেল নির্মমতার কাছে।

সোহেল রানার ছবি আজ মানুষের ঘৃণার প্রতীক। মানুষ তার দিকে তাকিয়ে অভিশাপ দেয়। কারণ সে শুধু একটি শিশুকে হত্যা করেনি, সে হত্যা করেছে মানবতাকে। রামিসার মা এখনও মাঝরাতে জেগে ওঠেন। মনে হয় মেয়ে পানি চাইছে। তিনি দৌড়ে যান। তারপর মনে পড়ে—রামিসা আর নেই। এই শূন্যতা কোনোদিন পূরণ হবে না।

একটি শিশুর হাসি হারিয়ে গেছে। একটি পরিবারের পৃথিবী ভেঙে গেছে। একটি সমাজ লজ্জিত হয়েছে। তবুও মানুষ আশায় বুক বাঁধে। বিচার হবে। অপরাধীর শাস্তি হবে। যাতে আর কোনো রামিসাকে এভাবে হারাতে না হয়। আজও পল্লবীর আকাশে রাত নামলে মানুষ সেই ঘটনার কথা মনে করে। কেউ চুপ হয়ে যায়, কেউ চোখ মুছে। আর দূরে কোথাও যেন ভেসে আসে এক শিশুর কান্না—“আমাকে বাঁচাও…”

রামিসা আর ফিরবে না। কিন্তু তার স্মৃতি বেঁচে থাকবে। তার জন্য মানুষের ভালোবাসা বেঁচে থাকবে। তার জন্য ন্যায়বিচারের দাবি বেঁচে থাকবে। যতদিন এই দেশের মাটিতে শিশুরা হাসবে, ততদিন মানুষ রামিসার কথা মনে রাখবে। আর বলবে—“শিশু হত্যাকারীদের কোনো ক্ষমা নেই।”

লেখক: সংবাদকর্মী, ফরিদপুর।

ফরিদপুরে আকিকার অনুষ্ঠানের মিষ্টি খেয়ে অসুস্থ ৮ শিশু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১:৩৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে আকিকার অনুষ্ঠানের মিষ্টি খেয়ে অসুস্থ ৮ শিশু

ফরিদপুর সদর উপজেলার বাখুন্ডায় এক স্বজনের বাড়ির আকিকা অনুষ্ঠান থেকে কেনা মিষ্টি খেয়ে আট শিশু অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় দায় অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট মিষ্টি দোকানের মালিক।

​মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে বাখুন্ডা পূর্বপাড়ায় আকরাম খান ও মাসুদের বাড়িতে মিষ্টি খাওয়ার পরপরই শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। চিকিৎসাধীন শিশুরা হলো— তাসফিয়া, তাওহিদ, সুমাইয়া, সামিয়া, সানভীর, শাহাদ, মাহাদি ও সাইম। তাদের সবার বয়স ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে।

​পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আকিকার অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসা স্বজন হারুন সরদার দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয় খলিল মন্ডলের হাটের ‘মোল্লা হোটেল অ্যান্ড মিষ্ঠান্ন ভাণ্ডার’ থেকে মিষ্টি কেনেন। খাওয়ার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে শিশুরা একের পর এক বমি করতে শুরু করে। প্রথমে ওরস্যালাইন দিয়ে চেষ্টা করা হলেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় সন্ধ্যা সাড় ৭টার দিকে তাদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে ভর্তি করা হয়।

​দায় অস্বীকার করে মোল্লা হোটেল অ্যান্ড মিষ্ঠান্ন ভাণ্ডারের মালিক জিয়ারত মোল্লা বলেন, “আমার দোকান থেকে নিয়মিত বহু মানুষ মিষ্টি নিচ্ছেন, কেউ অসুস্থ হয়নি। আপনারা পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। মিষ্টি কেনার পর অন্য কোনো কারণে বা ভেজালের কারণে এমনটা হতে পারে।”

​হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, শিশু দুটিকে জরুরি সেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

​ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করে চরমাধবদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান তুহিনুর রহমান মন্ডল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ওই দোকানের মিষ্টি খেয়েই শিশুরা অসুস্থ হয়েছে। বাজার কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সালথায় দুই পক্ষের সংঘর্ষ: কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক গ্রেপ্তার

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৫ অপরাহ্ণ
সালথায় দুই পক্ষের সংঘর্ষ: কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক গ্রেপ্তার

জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় ফরিদপুরের সালথায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন কৃষকলীগের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

​বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের চান্দাখোলা মোন্তারমোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

​গ্রেপ্তার হওয়া মো. আমিন খন্দকার (৪৫) সোনাপুর ইউনিয়নের চান্দাখোলা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি উপজেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক।

​পুলিশ জানায়, সোনাপুর ইউনিয়নের বড় বাংরাইল গ্রামের মনির বিশ্বাসের সঙ্গে মিশরু মিয়ার জমিজমা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জের ধরে মঙ্গলবার বিকেলে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী চলে এই ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া।

​সংঘর্ষের সময় অন্তত ১০টি বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকিদের দেওয়া হয়েছে প্রাথমিক চিকিৎসা।

​সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান জানান, মঙ্গলবার বিকেলের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় দায়ের করা মামলার আসামি ছিলেন আমিন খন্দকার। এছাড়া তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। বুধবার সকালে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

দীর্ঘক্ষণ ফোন ব্যবহারে কি ব্রেন টিউমার হয়? যা বলছেন বিশেষজ্ঞ

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪৭ পূর্বাহ্ণ
দীর্ঘক্ষণ ফোন ব্যবহারে কি ব্রেন টিউমার হয়? যা বলছেন বিশেষজ্ঞ

ভূমিকা বর্তমান যুগে আমাদের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে স্মার্টফোন। সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত হাতছাড়া হয় না এই প্রযুক্তি। কিন্তু এই অফুরন্ত ফোন ব্যবহারের সাথে সাথেই আমাদের মনের কোণে উঁকি দেয় একটি বড় সংশয়; দীর্ঘক্ষণ ফোন ব্যবহার করলে কি ব্রেন টিউমার হতে পারে? কিংবা বাড়ির পাশে থাকা মোবাইল টাওয়ার কি আমাদের ক্যান্সারের ঝুঁকিতে ফেলছে?

দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই বিতর্ক ও সাধারণ মানুষের মনের ভয় দূর করতে সম্প্রতি ‘হিন্দুস্তান টাইমস’-এর লাইফস্টাইল বিভাগে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ভারতের ফরিদাবাদের মারেঙ্গো এশিয়া হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল ডিরেক্টর এবং মেডিকেল অনকোলজি বিভাগের প্রধান ড. সানি জৈন।

তার মতে, মোবাইল ফোনের রেডিয়েশন বা মোবাইল টাওয়ারের কাছাকাছি থাকার কারণে ব্রেন টিউমার বা ক্যান্সারের আশঙ্কাটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং এটি একটি বিজ্ঞানসম্মত ভুল ধারণা বা ‘মিথ’।

তিনি বলেন, মোবাইল টাওয়ার বা সেলফোনের দীর্ঘ ব্যবহারের ফলে ব্রেন টিউমার হতে পারে—এমন দাবির সপক্ষে আজ পর্যন্ত কোনো বিজ্ঞানসম্মত তত্ত্ব বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। চিকিৎসা পরিভাষায় একে তিনি ‘করিডোর নলেজ’ বা লোকমুখে ছড়িয়ে পড়া ভিত্তিহীন তথ্য হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

বিশেষজ্ঞ এই চিকিৎসকের দাবি, সমাজের এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে ছড়িয়ে পড়া এই মনগড়া তথ্যগুলোই কালক্রমে মানুষের মনে অবৈজ্ঞানিক ভয়ের জন্ম দেয়, যার সাথে বাস্তব বিজ্ঞানের কোনো সম্পর্ক নেই।

রেডিয়েশনের প্রকারভেদ: আয়নাইজিং বনাম নন-আয়নাইজিং

ড. জৈনের মতে, রেডিয়েশনের সব ধরন এক নয় এবং আমাদের ভয়ের মূল কারণ হলো সব ধরনের রেডিয়েশনকে এক পাল্লায় মাপা। ক্ষতিকারক প্রভাবের ওপর ভিত্তি করে রেডিয়েশনকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়:

১. আয়নাইজিং রেডিয়েশন: এই ধরনের রেডিয়েশনের শক্তি অত্যন্ত বেশি থাকে। এটি মানবদেহের কোষ ভেদ করে প্রবেশ করতে পারে এবং সরাসরি ডিএনএ বা জিনগত কাঠামো ভেঙে ফেলতে সক্ষম। এই ডিএনএ মিউটেশন বা বিকৃতির ফলেই পরবর্তীতে ক্যান্সার বা টিউমার সৃষ্টি হয়।

২. নন-আয়নাইজিং রেডিয়েশন: মোবাইল ফোন এবং মোবাইল টাওয়ার থেকে যে রেডিয়েশন নির্গত হয়, তা মূলত রেডিওফ্রিকোয়েন্সি (Radiofrequency energy) তরঙ্গ, যা সম্পূর্ণভাবে নন-আয়নাইজিং রেডিয়েশনের অন্তর্ভুক্ত।

মোবাইল রেডিয়েশন কি ডিএনএ-র ক্ষতি করতে পারে?

ড. সানি জৈন স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যে, মোবাইল ফোন বা টাওয়ার থেকে নির্গত রেডিওফ্রিকোয়েন্সি তরঙ্গের শক্তি অত্যন্ত দুর্বল। মানবদেহের কোষে প্রবেশ করে ডিএনএ ভেঙে ফেলার মতো কোনো শক্তি বা ক্ষমতা নন-আয়নাইজিং রেডিয়েশনের নেই। সুতরাং, এই দুর্বল রেডিও তরঙ্গ আমাদের শরীরের ডিএনএ বা জিনের কোনো ক্ষতি করতে পারে না, যার ফলে ক্যান্সার বা ব্রেন টিউমার হওয়ার কোনো ঝুঁকি থাকে না।

বৈশ্বিক গবেষণা ও ডব্লিউএইচও-র মতামত

মোবাইল রেডিয়েশনের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে বিশ্বজুড়ে বছরের পর বছর ধরে ব্যাপক গবেষণা চালানো হয়েছে। ড. জৈন উল্লেখ করেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক গবেষণা এবং দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষণমূলক ট্র্যাকিং, যেমন—‘কসমস’ স্টাডি, নিবিড়ভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মোবাইল ফোন ব্যবহার কিংবা মোবাইল টাওয়ারের কাছাকাছি বসবাসের সাথে ব্রেন টিউমারের সরাসরি কোনো সম্পর্ক বা কারণ খুঁজে পায়নি। বিজ্ঞানের বর্তমান প্রমাণ অনুযায়ী, সব রেডিয়েশনের কার্যকারিতা ও শক্তির মাত্রা ভিন্ন হওয়ায় মোবাইল ফোন নিয়ে অহেতুক আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস