খুঁজুন
শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

‘ছোট্ট রামিসার শেষ কান্না’

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৯:৩৪ পূর্বাহ্ণ
‘ছোট্ট রামিসার শেষ কান্না’

রাত তখন গভীর। ঢাকার পল্লবীর আকাশে ঝুলে ছিল একরাশ কালো মেঘ। চারদিকে নিস্তব্ধতা। রাস্তার বাতিগুলোও যেন কাঁপছিল ভয়ে। সেই রাতেই ছোট্ট রামিসা হারিয়ে যায়। রামিসা ছিল এক ফুটফুটে শিশু। তার হাসিতে ভরে উঠতো পুরো মহল্লা। ছোট ছোট পায়ে দৌড়ে বেড়াতো গলির একপ্রান্ত থেকে আরেকপ্রান্তে। মা ডাকলে মিষ্টি কণ্ঠে বলতো, “এই তো আসছি আম্মু!” তার ছোট্ট চোখে ছিল হাজার স্বপ্ন। একদিন ডাক্তার হবে, গরিব মানুষকে চিকিৎসা দেবে, মায়ের জন্য লাল শাড়ি কিনবে, বাবার জন্য পাঞ্জাবি আনবে। কিন্তু মানুষরূপী এক পশু সব স্বপ্ন শেষ করে দিল।

সোহেল রানা—নামের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক নৃশংস অন্ধকার। যে শিশুর নিষ্পাপ মুখ দেখেও থামেনি। যার হৃদয়ে ছিল না কোনো মায়া, ছিল না মানবতা। সেদিন বিকেলে রামিসা খেলছিল বাড়ির সামনে। হাতে ছিল একটি ভাঙা পুতুল। পুতুলটার নামও দিয়েছিল সে—“মিনি”। বন্ধুদের সাথে খেলতে খেলতে কখন যে দূরে চলে যায়, কেউ খেয়াল করেনি। মা ভেবেছিলেন একটু পরই ফিরে আসবে। কিন্তু সন্ধ্যা নামলো, আজানের ধ্বনি ভেসে এলো, তবুও রামিসা ফিরলো না। মায়ের বুক কেঁপে উঠলো। তিনি ছুটলেন গলির পর গলি। প্রতিটি দরজায় কড়া নেড়ে বললেন, “আমার মেয়েকে দেখেছেন?” কেউ দেখেনি। কেউ জানেনি। চারদিকে শুধু আতঙ্ক।

রাত বাড়তে লাগলো। বাবার চোখে তখন ভয়। কাঁপা গলায় তিনি বললেন, “আমার মেয়েকে ফিরিয়ে দিন।” মানুষ খুঁজতে বের হলো। মাইকিং হলো। পুলিশ এলো। পুরো এলাকা ভারী হয়ে উঠলো কান্নায়। তারপর এলো সেই ভয়ংকর মুহূর্ত। একটি নির্জন স্থানে পাওয়া গেল ছোট্ট রামিসাকে—নিথর, নীরব, রক্তাক্ত। চারপাশে তখন মানুষের আর্তনাদ। মায়ের চিৎকারে আকাশ ভারী হয়ে গেল। তিনি মেয়েকে বুকে জড়িয়ে বলছিলেন, “একবার চোখ খোল মা!” কিন্তু রামিসা আর চোখ খোলেনি। যে শিশুটি একটু আগেও হাসছিল, সে এখন সাদা কাপড়ে মোড়ানো।

পুরো দেশ স্তব্ধ হয়ে গেল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লো ক্ষোভ। মানুষ লিখলো—“এই হত্যার বিচার চাই।” স্কুলের শিশুরাও কেঁদেছে। মায়েরা সন্তানকে বুকে চেপে ধরেছে। বাবারা আতঙ্কে কেঁপে উঠেছেন। কারণ রামিসা শুধু একটি নাম নয়, রামিসা ছিল বাংলাদেশের প্রতিটি শিশুর প্রতিচ্ছবি। এরপর গ্রেফতার হলো সোহেল রানা। পুলিশের হাতে হাতকড়া পরা অবস্থায় দাঁড়িয়ে ছিল সে। চোখে কোনো অনুতাপ ছিল না, ছিল না অপরাধবোধ। মানুষ তার ছবি দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়লো। সবাই বললো, “এমন মানুষ বাঁচার অধিকার হারিয়েছে।”

আদালতে নেওয়া হলো তাকে। সেখানে সে নিজের দায় স্বীকার করলো। জবানবন্দিতে বেরিয়ে এলো ভয়ংকর সত্য। আদালত কক্ষ নিস্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। অনেকের চোখে জল ছিল। কেউ মাথা নিচু করে কাঁদছিলেন। একজন বৃদ্ধ বললেন, “শিশুরা যদি নিরাপদ না থাকে, তবে সমাজ বেঁচে থাকে কিভাবে?” একজন মা কাঁদতে কাঁদতে বললেন, “আজ রামিসা গেছে, কাল আমার সন্তানও যেতে পারে।” মানুষ রাজপথে নেমে এলো। মানববন্ধন হলো। মিছিল হলো। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল—“রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই।” কেউ ফুল নিয়ে দাঁড়িয়েছিল, কেউ মোমবাতি জ্বালিয়েছিল, কেউ চুপচাপ চোখ মুছছিল।

একটি ছোট শিশু মায়ের হাত ধরে জিজ্ঞেস করেছিল, “আম্মু, আপুটাকে কেন মেরে ফেললো?” মা উত্তর দিতে পারেননি। শুধু শিশুটিকে বুকে জড়িয়ে কেঁদেছেন। রামিসার ঘর এখন নিস্তব্ধ। তার বইগুলো টেবিলে পড়ে আছে। স্কুলব্যাগে এখনও খাতা রাখা। খাতার পাতায় আঁকা ছোট্ট ফুল। মা প্রতিদিন সেই খাতা খুলে দেখেন, কাঁদেন, আবার বন্ধ করেন। রাতে তিনি এখনও মেয়ের কণ্ঠ শুনতে পান। মনে হয় রামিসা বলছে, “আম্মু, আমি এসেছি।” কিন্তু দরজা খুললে কেউ থাকে না।

বাবা আর আগের মতো কথা বলেন না। চুপচাপ বসে থাকেন। মেয়ের পুরোনো জামা হাতে নিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। একদিন তিনি বললেন, “আমার মেয়ের কী অপরাধ ছিল?” কেউ উত্তর দিতে পারেনি। পল্লবীর সেই গলি আজও রামিসাকে খোঁজে। যেখানে সে খেলতো, যেখানে সে হাসতো। শিশুরা এখন সন্ধ্যার আগেই ঘরে ফিরে যায়। মায়েরা আতঙ্কে দরজা বন্ধ করে রাখেন। কারণ একটি ঘটনা পুরো সমাজকে বদলে দিয়েছে।

সোহেল রানার বিচার চেয়ে মানুষ এখনও সোচ্চার। কারণ তারা জানে—এই বিচার শুধু রামিসার জন্য নয়, এই বিচার প্রতিটি শিশুর নিরাপত্তার জন্য। যখন আদালতে বিচার শুরু হয়, মানুষ টিভির সামনে বসে খবর দেখেছে। প্রতিটি আপডেট শুনেছে। প্রতিটি তথ্য শুনে কেঁপে উঠেছে। একজন শিক্ষক বললেন, “যে শিশুদের ভালোবাসতে শেখেনি, সে মানুষ হতে পারে না।” একজন কবি লিখলেন—“রামিসার কান্না রাত জাগে।” একজন সাংবাদিক লিখলেন—“এই হত্যাকাণ্ড আমাদের বিবেককে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।”

মানুষ বিচার চায়। দ্রুত বিচার। দৃষ্টান্তমূলক বিচার। কারণ দেরি মানে অপরাধীদের সাহস বাড়ানো। রামিসার কবরের পাশে প্রায়ই মানুষ যায়। ফুল রেখে আসে। দোয়া করে। এক বৃদ্ধা সেখানে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, “আল্লাহ, আর কোনো মায়ের কোল খালি কইরেন না।” বাতাস তখন ভারী হয়ে উঠেছিল। ছোট্ট একটি জীবন, কত স্বপ্ন ছিল, কত আশা ছিল—সব শেষ হয়ে গেল নির্মমতার কাছে।

সোহেল রানার ছবি আজ মানুষের ঘৃণার প্রতীক। মানুষ তার দিকে তাকিয়ে অভিশাপ দেয়। কারণ সে শুধু একটি শিশুকে হত্যা করেনি, সে হত্যা করেছে মানবতাকে। রামিসার মা এখনও মাঝরাতে জেগে ওঠেন। মনে হয় মেয়ে পানি চাইছে। তিনি দৌড়ে যান। তারপর মনে পড়ে—রামিসা আর নেই। এই শূন্যতা কোনোদিন পূরণ হবে না।

একটি শিশুর হাসি হারিয়ে গেছে। একটি পরিবারের পৃথিবী ভেঙে গেছে। একটি সমাজ লজ্জিত হয়েছে। তবুও মানুষ আশায় বুক বাঁধে। বিচার হবে। অপরাধীর শাস্তি হবে। যাতে আর কোনো রামিসাকে এভাবে হারাতে না হয়। আজও পল্লবীর আকাশে রাত নামলে মানুষ সেই ঘটনার কথা মনে করে। কেউ চুপ হয়ে যায়, কেউ চোখ মুছে। আর দূরে কোথাও যেন ভেসে আসে এক শিশুর কান্না—“আমাকে বাঁচাও…”

রামিসা আর ফিরবে না। কিন্তু তার স্মৃতি বেঁচে থাকবে। তার জন্য মানুষের ভালোবাসা বেঁচে থাকবে। তার জন্য ন্যায়বিচারের দাবি বেঁচে থাকবে। যতদিন এই দেশের মাটিতে শিশুরা হাসবে, ততদিন মানুষ রামিসার কথা মনে রাখবে। আর বলবে—“শিশু হত্যাকারীদের কোনো ক্ষমা নেই।”

লেখক: সংবাদকর্মী, ফরিদপুর।

রামিসা হত্যার প্রতিবাদে ফরিদপুরে বিভিন্ন সংগঠনের মানববন্ধন

হাসানউজ্জামান, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ১০:০৭ অপরাহ্ণ
রামিসা হত্যার প্রতিবাদে ফরিদপুরে বিভিন্ন সংগঠনের মানববন্ধন

শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে জেলার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও নাগরিক সংগঠনের উদ্যোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় অংশ নেয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে বন্ধুসভার উদ্যোগে ও সন্ধায়  হলিডে মার্কেটের উদ্যোগে ব্রাহ্ম সমাজ সড়কে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে নারী-পুরুষ, শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন।

বক্তারা শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডকে “পাশবিক ও নৃশংস” আখ্যা দিয়ে বলেন, এ ধরনের ঘটনা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য চরম উদ্বেগজনক।

বিকেলে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে “শিশু ও নারীর নিরাপত্তা চাই, ধর্ষক-নিপীড়কের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই” স্লোগানে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে প্রথম আলো বন্ধুসভা। এতে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি শিপ্রা রায়, নাট্য ব্যক্তিত্ব বিপ্লব বালা, সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব মফিজ ইমাম মিলন,  জেলা মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হোসনে আরা খানম, সিপিবির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রফিকুজ্জামান লায়েকসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা। ব্রাহ্ম সমাজ সড়কের  মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ডা. সালমা শাহনেওয়াজ পারভিন, তাহসিন জেবা ও লূবাবাতুল জান্নাত।

বক্তারা বলেন, দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। কিন্তু অধিকাংশ ঘটনায় দৃশ্যমান বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

বক্তারা বলেন, বর্তমানে শিশু ও নারীরা ঘর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল এমনকি জনপরিসরেও নিরাপদ নয়। ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মতো ঘটনা সমাজকে গভীর সংকটে ফেলছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত বিচার নিশ্চিত এবং কঠোর আইন প্রয়োগ জরুরি।

ফরিদপুরে চাকরি-বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে পতিতাপল্লীতে বিক্রির সময় আটক ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৯:৪৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে চাকরি-বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে পতিতাপল্লীতে বিক্রির সময় আটক ৩

বিয়ে ও ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে ফরিদপুর শহরের রথখোলা পতিতাপল্লীতে বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। 

শুক্রবার (২২ মে) এ ঘটনায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ, ২০২৬-এর বিভিন্ন ধারায় কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মোছা. জনি (১৯) বগুড়া জেলার শারিয়াকান্দি উপজেলার কাসাহাট এলাকার বাসিন্দা। তিনি ঢাকার ধামরাই এলাকায় মায়ের সঙ্গে বসবাস করে একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। সেখানে মনির শেখ (৩০), আলম ফকির (২০) ও মুন্নি (২০) নামে তিনজনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। অভিযুক্তরা ধামরাই এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন।

অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তরা প্রথমে বিয়ে ও ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে জনির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলে। পরে গত ১৪ মে তাকে ফরিদপুর শহরের শিবরামপুর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে আসে। কয়েকদিন সেখানে রাখার পর গত ২১ মে সকালে তাকে কোতোয়ালি থানাধীন রথখোলা পতিতাপল্লীতে নিয়ে যাওয়া হয়। তাকে পতিতাপল্লীতে বিক্রি করার চেষ্টা চলছে ভুক্তভোগী বুঝতে সেখানে যেতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা জোরপূর্বক ভিতরে নেওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে তিনি চিৎকার করে পালিয়ে গিয়ে পতিতাপল্লীর সামনে একটি দোকানে আশ্রয় নেন। তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তিন অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়।

পরে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার এবং আটক তিনজনকে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় তানিয়া ও দুখু নামে আরও দুইজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

শুক্রবার এ ঘটনায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ, ২০২৬-এর ১০(১), ১০(২), ১১(১) ও ১১(২) ধারায় কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নম্বর-৭৮।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

একটি হুইল চেয়ারে ফিরল বাঁচার স্বপ্ন, দুঃখীরামের পাশে দাঁড়াল রেজওয়ান আহমেদ

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৯:০৯ অপরাহ্ণ
একটি হুইল চেয়ারে ফিরল বাঁচার স্বপ্ন, দুঃখীরামের পাশে দাঁড়াল রেজওয়ান আহমেদ

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার সদর ইউনিয়নের জাটিগ্রাম মমতাজউদ্দিন মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত দপ্তরী বাবু সুকুমার বিশ্বাস। তবে এলাকায় তিনি ‘দুঃখীরাম’ নামেই বেশি পরিচিত। জীবনের দীর্ঘ সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করলেও বার্ধক্য ও অসুস্থতা যেন তাকে এনে দিয়েছে চরম অসহায়ত্বের জীবন।

দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তার একটি পা কেটে ফেলতে হয়। এরপর থেকেই স্বাভাবিক চলাফেরার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন দুঃখীরাম। পরিবারের সীমিত সামর্থ্য আর শারীরিক অক্ষমতায় মানবেতর জীবন কাটছিল তার।

এমন সময় মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন এলাকার কৃতি সন্তান ও গ্রাম বাংলা সমাজ কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক রেজওয়ান আহমেদ। শুক্রবার (২২ মে) সকালে তিনি দুঃখীরামের বাড়িতে গিয়ে একটি হুইল চেয়ার তুলে দেন তার হাতে।

হুইল চেয়ার পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন দুঃখীরাম। দীর্ঘদিন পর যেন তার মুখে ফুটে ওঠে স্বস্তি আর নতুন করে বাঁচার হাসি। স্থানীয়দের ভাষ্য, এতদিন অন্যের সহায়তা ছাড়া নড়াচড়া করাও ছিল তার জন্য কষ্টকর। এখন অন্তত নিজের মতো করে কিছুটা চলাফেরা করতে পারবেন তিনি।

এসময় উপস্থিত এলাকাবাসী রেজওয়ান আহমেদের এই মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তারা বলেন, সমাজে এমন সহমর্মী মানুষই অসহায়দের নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখান।
জানা যায়, গ্রাম বাংলা সমাজ কল্যাণ সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে এলাকার অসহায়, দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করে যাচ্ছে। চিকিৎসা সহায়তা, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, খাদ্য সহায়তা এবং কর্মসংস্থান তৈরির মতো নানা মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে সংগঠনটি।

রেজওয়ান আহমেদ বলেন, “মানুষের সেবা করাই সবচেয়ে বড় মানবতা। অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারলে নিজের ভেতর এক ধরনের আত্মিক শান্তি কাজ করে। দুঃখীরামের মতো একজন পা হারানো মানুষের পাশে দাঁড়াতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত। একটি হুইল চেয়ার হয়তো তার জীবনের সব কষ্ট দূর করতে পারবে না, কিন্তু তাকে নতুন করে চলার সাহস দেবে।”

তিনি আরও বলেন, “গ্রাম বাংলা সমাজ কল্যাণ সংস্থা সবসময় মানুষের পাশে ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে। সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষদেরও অসহায় মানুষের পাশে এগিয়ে আসা উচিত।”