খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ১৭ বৈশাখ, ১৪৩৩

সদরপুর ক্রীড়াঙ্গনে প্রাণ ফেরাতে এ্যাডহক কমিটি গঠন

সদরপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৩৪ অপরাহ্ণ
সদরপুর ক্রীড়াঙ্গনে প্রাণ ফেরাতে এ্যাডহক কমিটি গঠন

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার নতুন এ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুসরণ করে পূর্ববর্তী কমিটি বাতিল করে ৭ সদস্যবিশিষ্ট নতুন এ্যাডহক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গত ২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে জারি করা এ আদেশে কমিটির সদস্যদের দায়িত্ব ও করণীয় নির্ধারণ করা হয়।

নতুন কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। সদস্য হিসেবে রয়েছেন সদরপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি), উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এবং স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক ও সাবেক ফুটবলার মো. মাহফুজুর রহমান (পলাশ)।
এছাড়া কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন কে. এম. আবু সাঈদ।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, এ কমিটি উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া কার্যক্রমের সার্বিক ব্যবস্থাপনা, প্রতিভাবান খেলোয়াড় বাছাই, নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু, আন্তঃউপজেলা ও জেলা পর্যায়ের টুর্নামেন্ট আয়োজনসহ ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন স্থবির থাকা ক্রীড়া কার্যক্রমে নতুন গতি ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন কমিটির অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে গ্রাম পর্যায়ে খেলাধুলা ছড়িয়ে দেওয়া, স্কুল-কলেজভিত্তিক প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি এবং তরুণদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে ক্রীড়ার প্রতি আগ্রহী করে তোলা। বিশেষ করে ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবলসহ জনপ্রিয় খেলাগুলোর পাশাপাশি স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী খেলাও পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সদস্য সচিব কে. এম. আবু সাঈদের নেতৃত্বে মাঠ পর্যায়ে ক্রীড়া সংগঠনগুলোকে সক্রিয় করা, নিয়মিত লিগ আয়োজন এবং নতুন খেলোয়াড় তৈরিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

এদিকে, নতুন কমিটি গঠনের খবরে স্থানীয় ক্রীড়ামোদীদের মধ্যে আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, এ উদ্যোগের মাধ্যমে সদরপুরের ক্রীড়াঙ্গন আবারও প্রাণ ফিরে পাবে এবং ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরি হবে।

“ভেজা চাদরের নিচে চাপা পড়ে থাকা এক পৃথিবীর কান্না”

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৮ অপরাহ্ণ
“ভেজা চাদরের নিচে চাপা পড়ে থাকা এক পৃথিবীর কান্না”

ফরিদপুর রেলস্টেশন। গভীর রাতের এক অদ্ভুত নিরবতা চারপাশে ছড়িয়ে আছে। দিনের কোলাহল, মানুষের ব্যস্ততা, ট্রেনের শব্দ—সব যেন কোথাও মিলিয়ে গেছে।

প্ল্যাটফর্মের লাইটগুলো মৃদু আলো ছড়াচ্ছে, যেন ক্লান্ত হয়ে পড়েছে তারাও। দূরে কোথাও একটি কুক চড়ুই ডাকছে, তার সেই একঘেয়ে শব্দ যেন রাতের নিস্তব্ধতাকে আরও গভীর করে তুলছে। আর মাঝেমধ্যে কয়েকটি কুকুর ঘেউ ঘেউ করে উঠছে, যেন তারা এই নির্জনতার একমাত্র প্রহরী।

আমি হাঁটছিলাম আনমনে। কোনো গন্তব্য ছিল না, কোনো তাড়া ছিল না। শুধু হাঁটছিলাম, নিজের ভেতরের অজানা ভাবনাগুলোর সঙ্গে। হঠাৎ চোখ পড়লো স্টেশনের এক কোণের পুরোনো একটি বেঞ্চে। সেখানে শুয়ে আছে একজন মানুষ। উসকোখুসকো চুল, এলোমেলো দাড়ি, শরীরজুড়ে একটি মলিন চাদর। প্রথমে মনে হলো তিনি হয়তো ঘুমাচ্ছেন। কিন্তু তার সেই নিশ্চুপ, নিস্তব্ধ পড়ে থাকা ভঙ্গি যেন অন্য কিছু বলছিল।

আকাশে তখন মেঘ জমেছে। দূরে কোথাও বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। মনে হচ্ছিল, বৃষ্টি নামতে আর দেরি নেই। অথচ মানুষটি তবুও নিশ্চুপ। যেন এই পৃথিবীর কোনো পরিবর্তনই তার কাছে আর গুরুত্বপূর্ণ নয়। তার শরীরের উপর জড়ানো চাদরটি বাতাসে একটু নড়ছে, কিন্তু তার ভেতরের মানুষটি যেন স্থির—একেবারে পাথরের মতো।

মনে হলো, তার কোনো ঘর নেই। মাথা গোঁজার মতো একটুখানি আশ্রয়ও নেই। তাই হয়তো এই রেলস্টেশনই তার ঠিকানা হয়ে গেছে। এই বেঞ্চই তার বিছানা, এই খোলা আকাশই তার ছাদ। রাতে সে খেয়েছে কি না—তার খবর রাখার মতো কেউ নেই। তার জীবনের হিসাব রাখারও কেউ নেই।

একটু দূরে দাঁড়িয়ে আমি তাকে দেখছিলাম। মনে হচ্ছিল, এই মানুষটির জীবন যেন এক অজানা গল্পে ভরা। হয়তো একসময় তারও একটা পরিবার ছিল। কেউ তাকে ভালোবাসতো, কেউ তার জন্য অপেক্ষা করতো। হয়তো তারও ছিল স্বপ্ন—একটা ঘর, একটু শান্তি, একটু নিশ্চিন্ত জীবন। কিন্তু সময়ের নির্মমতায় সেই সবকিছুই হারিয়ে গেছে।

হঠাৎ ঝুমঝুম করে বৃষ্টি নামলো। বড় বড় ফোঁটা এসে পড়তে লাগলো প্ল্যাটফর্মে। কিছু মানুষ দৌড়ে আশ্রয় নিলো ছাদের নিচে। কিন্তু সেই মানুষটি—তিনি নড়লেন না। বৃষ্টির পানি ধীরে ধীরে ভিজিয়ে দিলো তার চাদর, তার শরীর, তার চুল। তবুও কোনো শব্দ নেই, কোনো প্রতিক্রিয়া নেই।

আমি বিস্মিত হয়ে তাকিয়ে রইলাম। একজন মানুষ কতটা কষ্ট পেলে এমন নির্বিকার হয়ে যেতে পারে? কতটা অভিমান জমে থাকলে নিজের ভিজে যাওয়াটাও আর গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় না? মনে হলো, তার ভেতরের অনুভূতিগুলো যেন অনেক আগেই মরে গেছে। অথবা হয়তো এতটাই ব্যথা জমেছে যে, আর নতুন করে কোনো অনুভূতি জাগে না।

বৃষ্টির শব্দের সঙ্গে মিশে যাচ্ছিলো তার নীরবতা। আশেপাশে কিছু মানুষ তাকে দেখে গেলো, কেউ একটু তাকালো, কেউ আবার তাকানোরও প্রয়োজন বোধ করলো না। যেন সে এই পৃথিবীর একজন মানুষ নয়—একটি অবহেলিত ছায়ামাত্র।

আমি ভাবলাম, আমরা কত সহজেই এমন মানুষদের পাশ কাটিয়ে যাই। তাদের কষ্ট, তাদের ক্ষুধা, তাদের অভাব—এসব যেন আমাদের চোখেই পড়ে না। অথচ তারাও আমাদের মতোই মানুষ। তাদেরও আছে অনুভূতি, আছে স্বপ্ন, আছে বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা।

বৃষ্টি থামলো কিছুক্ষণ পর। প্ল্যাটফর্মে জমে থাকা পানিতে আলো পড়ে চিকচিক করছে। সেই মানুষটি তখনো শুয়ে আছেন, ভেজা শরীর নিয়ে। হয়তো তিনি ঠান্ডায় কাঁপছেন, হয়তো তার শরীর ক্লান্তিতে অবশ হয়ে গেছে। কিন্তু তার মুখে কোনো অভিযোগ নেই, কোনো চাওয়া নেই।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাত আরও গভীর হলো। ট্রেনের কোনো শব্দ নেই, মানুষের কোলাহল নেই। শুধু সেই মানুষটি, আর তার নিঃসঙ্গতা। মনে হচ্ছিল, এই পুরো স্টেশনটাই যেন তার জীবনের প্রতিচ্ছবি—শূন্য, নির্জন, আর অবহেলায় ভরা।

হয়তো মাঝেমধ্যে তার মনে প্রশ্ন জাগে—কেন এমন হলো জীবন? কোথায় হারিয়ে গেলো সবকিছু? কিন্তু সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মতো কেউ নেই। কেউ তার পাশে বসে শোনে না তার গল্প, কেউ তার চোখের জল দেখে না।

তার জীবনের মানে এখন হয়তো খুব ছোট হয়ে গেছে—এক মুঠো ভাত, এক মগ পানি, আর একটি রাত পার করার মতো একটি আশ্রয়। তবুও সে বেঁচে আছে। কারণ মানুষ বাঁচতে চায়, যত কষ্টই থাকুক না কেন।

আমি ধীরে ধীরে সেখান থেকে চলে আসছিলাম। কিন্তু সেই দৃশ্যটা বারবার চোখের সামনে ভেসে উঠছিল। মনে হচ্ছিল, আমরা কতটা ভাগ্যবান—যাদের মাথার ওপর একটা ছাদ আছে, যাদের পাশে কিছু মানুষ আছে, যারা খোঁজ নেয়।

আর সেই মানুষটি? তিনি হয়তো এখনো শুয়ে আছেন সেই বেঞ্চে, আরেকটি রাত পার করার অপেক্ষায়। হয়তো আগামীকালও একইভাবে কাটবে তার দিন, একইভাবে কাটবে তার রাত।

এই পৃথিবীতে কত গল্পই না ছড়িয়ে আছে—যেগুলো আমরা দেখি, কিন্তু বুঝি না। অনুভব করি না। অথচ সেই গল্পগুলোই আমাদের মানুষ হতে শেখায়, আমাদের হৃদয়কে নরম করে, আমাদের মনে করিয়ে দেয়—একটু ভালোবাসা, একটু যত্ন, আর সামান্য সহানুভূতি একজন মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে।

হয়তো আমরা সবাই মিলে একটু করে এগিয়ে এলে, সেই মানুষটির মতো আর কেউ একা পড়ে থাকবে না কোনো রেলস্টেশনের বেঞ্চে। হয়তো কোনো একদিন, এই পৃথিবীটা একটু হলেও বেশি মানবিক হয়ে উঠবে।

লেখক: হারুন-অর-রশীদ, সংবাদকর্মী, ফরিদপুর

আলফাডাঙ্গায় কৃষকদের দক্ষতা উন্নয়নে “পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস”

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৩৯ অপরাহ্ণ
আলফাডাঙ্গায় কৃষকদের দক্ষতা উন্নয়নে “পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস”

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে “পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস–২০২৬”।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) আলফাডাঙ্গা মাল্টিপারপাস হলরুমে আয়োজিত এই কংগ্রেসে কৃষি উন্নয়ন, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদন, কৃষি উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান। তিনি বলেন, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার এবং নিরাপদ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষকদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি করতে হবে। কৃষিকে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক খাতে রূপান্তর করতে হলে প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদের বিকল্প নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিশেষ অতিথি উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ তুষার সাহা বলেন, কৃষকদের মাঠ পর্যায়ের প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে উৎপাদন ও আয় বৃদ্ধিতে কৃষি বিভাগ ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পার্টনার প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিফাত নূর মৌসুমী। তিনি বলেন, কৃষি খাত দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। এ ধরনের আয়োজন কৃষকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।

কংগ্রেসে কৃষকদের সফলতার গল্প উপস্থাপন, অভিজ্ঞতা বিনিময়, কৃষি প্রযুক্তি প্রদর্শনী এবং বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা সক্রিয়ভাবে মতবিনিময় করেন এবং আধুনিক কৃষি চর্চা সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ভুবেন বাইনসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কৃষক-কৃষাণী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকরা জানান, এ ধরনের কংগ্রেস কৃষকদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং টেকসই কৃষি উন্নয়নে এটি কার্যকর অবদান রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানটি উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হয়। অংশগ্রহণকারীরা ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজন আরও বিস্তৃতভাবে অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

ফরিদপুরে কামড় দেওয়া জীবিত সাপ নিয়েই হাসপাতালে যুবক

সদরপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৫৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে কামড় দেওয়া জীবিত সাপ নিয়েই হাসপাতালে যুবক

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় গোখরা সাপের ছোবলে আহত হয়ে সাপসহ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন রিপন শিকদার (৩৫) নামের এক যুবক।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে নিজ দোকানে একটি বয়ামে হাত দেওয়ার সময় ভেতরে লুকিয়ে থাকা একটি বিষধর গোখরা সাপ তাকে ছোবল দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

ঘটনার পরপরই রিপন শিকদার আশপাশের লোকজনের সহায়তায় দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। এসময় তিনি ছোবল দেওয়া সাপটিকেও সঙ্গে করে নিয়ে আসেন, যা উপস্থিত সবার মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

রিপন উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের আমিরাবাদ গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন দোকানদার।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আহত রিপনকে দ্রুত সাপের বিষনাশক (এন্টিভেনম) প্রয়োগ করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. এফতেখার জানান, সময়মতো হাসপাতালে আনার কারণে তার অবস্থা এখন স্থিতিশীল থাকলেও পরবর্তী কয়েক ঘণ্টা তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দোকান বা ঘরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা সাপ সম্পর্কে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।