সালথায় ছাত্রদলের ১৫ সদস্যের কমিটিতে ৪ নেতা বিবাহিত, দু’জনের রয়েছে সন্তানও
ফরিদপুরের সালথা উপজেলা ছাত্রদলের সদ্য ঘোষিত ১৫ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটিকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কমিটির চারজন নেতা বিবাহিত এবং তাদের মধ্যে দু’জনের সন্তান রয়েছে—এমন তথ্য সামনে আসার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন, তৃণমূল নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ছাত্রদলের গঠনতন্ত্র অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
গত ২২ জুন ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ আদনান হোসেন অনু এবং সাধারণ সম্পাদক তানজিমুল হাসান কায়েস স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সালথা উপজেলা ছাত্রদলের ১৫ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে রেজাউল ইসলাম (রাজ)কে সভাপতি এবং সোহেল মাতুব্বরকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কমিটির সাধারণ সম্পাদক সোহেল মাতুব্বর, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. তানভীর হোসেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির আহমেদ রাকিব এবং সহ-সভাপতি মো. রাজীব হোসেন—এই চারজনই বিবাহিত।
তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ সম্পাদক সোহেল মাতুব্বরের গ্রামের বাড়ি উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের খালিশপট্টি গ্রামে। তিনি ২০২১ সালের ১ ডিসেম্বর প্রেমের সম্পর্কের পর মধুখালী উপজেলার বেলেশ্বর রামকান্তপুর গ্রামের সুরাইয়া সুলতানাকে বিয়ে করেন। পরে দাম্পত্য কলহের জেরে দেনমোহর ও ভরণপোষণ সংক্রান্ত মামলা হয় এবং তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। বর্তমানে তিনি পুনরায় বিয়ে করে সংসার করছেন বলে স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
অন্যদিকে, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. তানভীর হোসেন ২০২৩ সালের ২২ সেপ্টেম্বর পারিবারিকভাবে ফরিদপুর সদর উপজেলার হাটগোবিন্দপুর গ্রামের আবিদাকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।
সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির আহমেদ রাকিব প্রায় চার বছর আগে মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মুরাটিয়া গ্রামের এক নারীকে সামাজিকভাবে বিয়ে করেন। তাদের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। এছাড়া সহ-সভাপতি মো. রাজীব হোসেনও উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের লক্ষণদিয়া গ্রামের এক নারীর সঙ্গে সামাজিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সংসার করছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে বিবাহিত নেতাদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ এটিকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন, ছাত্র রাজনীতির নেতৃত্বে ছাত্র পরিচয় ও সাংগঠনিক নীতিমালার বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়া উচিত।
এ বিষয়ে সালথা উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সোহেল মাতুব্বর বলেন, “আগে বিবাহিতদের নিয়ে কিছু জটিলতা থাকলেও বর্তমানে এ ধরনের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। আমাদের কমিটি সম্পর্কে জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ অবগত আছেন। তাই এ নিয়ে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।”
অন্যদিকে, সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার বলেন, “কমিটি গঠনের আগে আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। পরে জানতে পারি, কমিটির চারজন নেতা বিবাহিত এবং দু’জনের সন্তানও রয়েছে। আমার মতে, এটি ছাত্রদলের গঠনতন্ত্রের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে যোগ্য ও সক্রিয় ছাত্রনেতাদের সমন্বয়ে নতুন কমিটি গঠন করা উচিত।”

আপনার মতামত লিখুন
Array