খুঁজুন
, ,

সালথায় অন্ধকার গোয়ালঘরে সোহেলের সংসার, পাশে দাঁড়ালেন ইউএনও

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ
সালথায় অন্ধকার গোয়ালঘরে সোহেলের সংসার, পাশে দাঁড়ালেন ইউএনও

একটি ঘর। কারও কাছে চার দেয়াল, আর কারো কাছে মাথার ওপর একটি ছাদ। আবার কারও কাছে সংসার গুছিয়ে নেওয়ার স্বাভাবিক জায়গা। কিন্তু ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর গ্রামের সোহেলের কাছে একটি ঘর মানে এর চেয়েও অনেক বেশি—নিরাপদে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা, সন্তানদের ভবিষ্যতের ঠিকানা এবং দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তির একটি স্বপ্ন। সেই স্বপ্নটুকুও এখনো পূরণ হয়নি সোহেলের।

নিজের নামে নেই এক শতাংশ জমি। নেই বসতভিটা কিংবা স্থায়ী কোনো ঘর। অন্যের গরু রাখার জন্য তৈরি ছোট্ট একটি গোয়ালঘরসদৃশ কক্ষেই স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করছেন তিনি। যে ঘরে মানুষের বসবাসের কথা নয়, সেই ঘরটিই এখন চার সদস্যের পরিবারের রাত কাটানোর আশ্রয়।

শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আটঘর গ্রামে সোহেলের সেই ঘরে গিয়ে দেখা যায়, অল্প জায়গার মধ্যেই গাদাগাদি করে রাখা সংসারের প্রয়োজনীয় সামগ্রী। ঘরের একটি অংশে কোনো রকমে পরিবারের সদস্যদের থাকার ব্যবস্থা। চারপাশের পরিবেশে নেই স্বাভাবিক বসবাসের সুযোগ-সুবিধা। তবুও অভাবের কাছে হার মেনে এই ঘরেই দিন-রাত কাটছে তাঁদের।

সোহেলের নিজের শরীরও ভালো নয়। শারীরিক অসুস্থতার কারণে নিয়মিত কাজ করতে পারেন না। ফলে সংসারে নেই স্থায়ী কোনো আয়। পরিবারের আরেকটি বড় সংকট তাঁর স্ত্রীকে ঘিরে। দুই কিডনি নষ্ট হয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ তিনি। একসময় ভিক্ষা করে সংসারে সামান্য সহযোগিতা করতেন। কিন্তু অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ায় এখন সেটিও আর সম্ভব হয় না।

ফলে একদিকে চিকিৎসার প্রয়োজন, অন্যদিকে প্রতিদিনের খাবারের ব্যবস্থা—দুইয়ের মধ্যে প্রতিনিয়ত টানাপোড়েন চলছে পরিবারটিতে। আয় নেই, চিকিৎসার সামর্থ্য নেই; আবার অসুস্থতার কারণে কাজ করাও সম্ভব নয়। এমন বাস্তবতায় কখনো খাবার জোটে, কখনো অভাবের কারণে চুলা জ্বলে না।

অভাব শুধু সোহেল ও তাঁর স্ত্রীর জীবনকেই থামিয়ে দেয়নি, এর ছাপ পড়েছে সন্তানদের জীবনেও।

১৩ বছর বয়সী বড় ছেলের হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা। কাঁধে স্কুলব্যাগ নিয়ে তার বিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা। সহপাঠীদের সঙ্গে পড়াশোনা আর খেলাধুলায় কাটার কথা ছিল। কিন্তু পরিবারের আর্থিক সংকট তাকে সেই বয়সেই বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।

পড়াশোনা ছেড়ে এখন একটি দোকানে কাজ করে সে। বয়স কম হলেও পরিবারের প্রয়োজনের কথা ভেবে উপার্জনের চেষ্টা করছে। যে বয়সে তার স্বপ্ন দেখার কথা, সেই বয়সেই তাকে পরিবারের অভাবের সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে।

অন্যদিকে সাত বছরের ছোট ছেলে এখনো প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। বড় ভাইয়ের মতো তাকেও যেন অভাবের কারণে পড়াশোনা ছাড়তে না হয়—এটাই পরিবারের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা। ছোট্ট শিশুটি বিদ্যালয়ে যাচ্ছে, বই-খাতা নিয়ে ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু পরিবারের বর্তমান পরিস্থিতিতে তার পড়াশোনা কতদিন চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে, সেটিও এক ধরনের অনিশ্চয়তা।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি রাজিয়া বেগম বলেন, পরিবারটির অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। সোহেলের নিজের কোনো জায়গা-জমি নেই। পরিবারটির জন্য সবার আগে একটি স্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা দরকার।

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এগিয়ে এলে পরিবারটি অন্তত মাথা গোঁজার মতো একটি নিরাপদ জায়গা পাবে। পাশাপাশি অসুস্থ সোহেল ও তাঁর স্ত্রীর চিকিৎসার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল মাতুব্বর বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁরা পরিবারটির এমন দুরবস্থা দেখে আসছেন। অসুস্থতার কারণে সোহেল কাজ করতে পারেন না। তাঁর স্ত্রীও গুরুতর অসুস্থ। ফলে সংসার চালানো তাঁদের জন্য খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, শুধু একটি ঘর নয়, পরিবারটির স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার জন্য আয়ের একটি ব্যবস্থাও দরকার। সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ এবং প্রশাসন পাশে দাঁড়ালে পরিবারটি ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পেতে পারে।

সোহেলের পরিবারের মানবেতর জীবনযাপনের খবর পেয়ে শুক্রবার বিকেলে তাঁদের বাড়িতে ছুটে যান সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন।

তিনি সরেজমিনে গিয়ে সোহেলের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। ঘরের ভেতরের পরিবেশ দেখেন এবং তাঁদের জীবনযাপনের বাস্তব চিত্র সম্পর্কে জানতে পারেন।

পরিবারটির অবস্থা দেখে ইউএনও দবির উদ্দিন বলেন, সোহেলের পরিবারের অবস্থা অত্যন্ত মানবেতর। তাঁদের মাথা গোঁজার মতো কোনো ঘর নেই। একই সঙ্গে পরিবারের আয়েরও কোনো ব্যবস্থা নেই।

তিনি জানান, সালথা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সোহেলের পরিবারের জন্য একটি ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঘর তৈরির কাজ শুরু হবে। পাশাপাশি তাঁদের জীবিকা নির্বাহের জন্য একটি দোকানের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।

ইউএনওর এই উদ্যোগে নতুন আশার আলো দেখছে পরিবারটি। কারণ দীর্ঘদিন ধরে যে পরিবারটির কাছে একটি ঘর ছিল অধরা স্বপ্ন, প্রশাসনের উদ্যোগে সেটিই এখন বাস্তব হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সোহেলের পরিবারের গল্পটি কেবল একটি অসহায় পরিবারের গল্প নয়। এটি গ্রামবাংলার এমন বহু পরিবারের প্রতিচ্ছবি, যাদের কাছে নিরাপদ একটি ঘর, চিকিৎসার সুযোগ কিংবা নিয়মিত আয়ের ব্যবস্থা এখনো বিলাসিতা। একটি ছোট ঘর আর একটি ছোট দোকান হয়তো তাদের জীবনকে রাতারাতি বদলে দেবে না। কিন্তু সেটিই হতে পারে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রথম সিঁড়ি।

গোয়ালঘরসদৃশ ছোট্ট ঘরটির অন্ধকারে তাই এখন অপেক্ষা—কবে আসবে সেই কাঙ্ক্ষিত ঘর, কবে একটু নিশ্চিন্তে ঘুমাবে পরিবারটি, আর কবে সাত বছরের শিশুটির ভবিষ্যৎ দারিদ্র্যের কাছে হার না মেনে নিজের মতো করে এগিয়ে যাবে।

কতক্ষণ ঘুমানো ভালো?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ
কতক্ষণ ঘুমানো ভালো?

প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত প্রতিদিন প্রায় ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমের পরামর্শ দেওয়া হয়। বয়স, শারীরিক অবস্থা ও ব্যক্তিভেদে প্রয়োজন কিছুটা কমবেশি হতে পারে।

তাই শুধু ঘুমের সময় নয়, ঘুমের মান, নিয়মিত জীবনযাপন এবং শারীরিক সক্রিয়তার দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
দীর্ঘদিন ধরে ৯ ঘণ্টার বেশি ঘুমানোর প্রয়োজন হলে, ঘুম থেকে ওঠার পরও অতিরিক্ত ক্লান্তি থাকলে বা দিনের বেশিরভাগ সময় ঘুমঘুম ভাব থাকলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সুস্থ থাকার জন্য পর্যাপ্ত ঘুমের পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটা বা শরীরচর্চা, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং সক্রিয় জীবনযাপনও জরুরি।
সুস্থ শরীর ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত জরুরি।

তবে ঘুমের ঘাটতি যেমন শরীর ও মনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, তেমনি নিয়মিত অতিরিক্ত ঘুম এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তাও ডেকে আনতে পারে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমনই সতর্কবার্তা উঠে এসেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ঘুমান এবং একই সঙ্গে শারীরিকভাবে কম সক্রিয় থাকেন, তাদের অকালমৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। বিশেষ করে দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা ঘুমানোর পাশাপাশি যারা অলস জীবনযাপন করেন, তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় প্রায় চারগুণ পর্যন্ত বেশি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় ঘুমানোর সঙ্গে শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা যুক্ত হলে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও স্থূলতার মতো বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশ্বজুড়ে অসংক্রামক রোগে বিপুলসংখ্যক মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। তাই ঘুমের সময়ের পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা ও সক্রিয় জীবনযাপনও সুস্থ থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

অতিরিক্ত ঘুমে যেসব সমস্যা হতে পারে

বিষণ্ণতা ও মানসিক সমস্যার ঝুঁকি

দীর্ঘ সময় ঘুমানোর সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যের বিভিন্ন সমস্যার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। ২০১৮ সালের একটি গবেষণায় দেখা যায়, যারা নিয়মিত ১০ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় ঘুমান, তাদের মধ্যে বিষণ্ণতার লক্ষণ তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত ঘুম বিষণ্ণতার সরাসরি কারণ—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার আগে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

কর্মক্ষমতা কমতে পারে

অতিরিক্ত ঘুমের ফলে ঘুম থেকে ওঠার পরও অনেকের মধ্যে অলসতা, ঝিমুনি ও ক্লান্তি থাকতে পারে। এতে দৈনন্দিন কাজের প্রতি আগ্রহ ও কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে। দীর্ঘদিন এমন জীবনযাপন শারীরিক নিষ্ক্রিয়তাকেও বাড়িয়ে দিতে পারে।

ওজন বাড়ার আশঙ্কা

দীর্ঘ সময় ঘুমানো এবং কম শারীরিক পরিশ্রমের ফলে দৈনন্দিন ক্যালরি খরচ কমে যেতে পারে। এর সঙ্গে অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস যুক্ত হলে ওজন বৃদ্ধি ও স্থূলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে শুধু বেশি ঘুমের কারণেই ওজন বাড়ে-এমন সরল সম্পর্ক সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে

নিয়মিত দীর্ঘ সময় ঘুমানোর সঙ্গে হৃদরোগের ঝুঁকির সম্পর্ক বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘ সময় ঘুমান এবং শারীরিকভাবে সক্রিয় নন, তাদের মধ্যে হৃদ্‌রোগসহ বিভিন্ন কার্ডিওভাসকুলার সমস্যার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি দেখা যেতে পারে।

অকালমৃত্যুর ঝুঁকি বাড়তে পারে

বিভিন্ন গবেষণায় দীর্ঘ সময় ঘুমানোর সঙ্গে মৃত্যুঝুঁকি বৃদ্ধির একটি সম্পর্ক পাওয়া গেছে। প্রায় ১৪ লাখ মানুষের ওপর পরিচালিত গবেষণাগুলোর সমন্বিত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অতিরিক্ত ঘুমানো ব্যক্তিদের মধ্যে অকালমৃত্যুর ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কিছুটা বেশি হতে পারে।

তবে গবেষণাগুলো মূলত সম্পর্ক বা association দেখায়; অতিরিক্ত ঘুমই যে সরাসরি অকালমৃত্যুর কারণ, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। দীর্ঘ ঘুমের পেছনে বিষণ্ণতা, স্থূলতা, হৃদরোগ, ঘুমের ব্যাধি বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যাও ভূমিকা রাখতে পারে।

সালথার সেই সোহেলের অন্ধকার ঘরে আশার আলো, নতুন ঘর দিলেন ইউএনও দবির উদ্দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৫ অপরাহ্ণ
সালথার সেই সোহেলের অন্ধকার ঘরে আশার আলো, নতুন ঘর দিলেন ইউএনও দবির উদ্দিন

ফরিদপুরের সালথায় অন্ধকার গোয়ালঘরসদৃশ কক্ষে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করা সেই সোহেলের জন্য অবশেষে নতুন ঘরের কাজ শুরু হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার আটঘর গ্রামে নতুন ঘর নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন।

এর আগে সোহেলের দুর্দশার চিত্র নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি নজরে আসে উপজেলা প্রশাসনের। সরেজমিনে সোহেলের পরিবারের অবস্থা দেখে ইউএনও তাঁদের জন্য একটি ঘর নির্মাণ এবং জীবিকা নির্বাহের জন্য একটি দোকানের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেন।

নতুন ঘরের কাজ শুরু হওয়ায় দীর্ঘদিনের কষ্ট ও অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা সোহেলের পরিবারে এখন বইছে আনন্দের হাওয়া।

খুশি হয়ে সোহেল বলেন, “গোয়ালঘরের মতো ছোট্ট একটি ঘরে পরিবার নিয়ে কত কষ্টে দিন কাটিয়েছি, তা বলে বোঝাতে পারব না। নিজের কোনো জমি-ঘর নেই বলে সবসময় একটা ভয় কাজ করত। এখন ইউএনও স্যার আমাদের জন্য ঘর করে দিচ্ছেন। নতুন ঘর পাওয়ার আশা কখনো করিনি। আমি ও আমার পরিবার খুব খুশি। এই সহযোগিতা আমাদের নতুন করে বাঁচার সাহস দিয়েছে।”

সোহেলের স্ত্রী বলেন, “অসুস্থ শরীর নিয়ে এই ঘরে অনেক কষ্টে থেকেছি। বৃষ্টি হলে, রাতে ঘুমানোর সময়ও চিন্তা হতো। সন্তানদের নিয়ে খুব অসহায় লাগত। নতুন ঘর হবে শুনে মনে হচ্ছে আমাদেরও একটি নিরাপদ ঠিকানা হবে। ইউএনও স্যার আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, আমরা তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ।”

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “সোহেলের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে খুব কষ্টে ছিল। এমন একটি পরিবারের পাশে প্রশাসন দাঁড়ানো সত্যিই প্রশংসনীয়। শুধু ঘর নয়, তাঁদের জীবিকা নির্বাহের জন্য দোকানের ব্যবস্থা করা হলে পরিবারটি স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবে।”

ইউএনও দবির উদ্দিন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “সোহেলের পরিবারের বাস্তব অবস্থা দেখে আমরা তাঁদের জন্য একটি ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি। পাশাপাশি জীবিকা নির্বাহের জন্য একটি দোকানের ব্যবস্থাও করা হবে। পরিবারটি যেন নিরাপদে বসবাস করতে পারে এবং ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারে, সেটিই আমাদের লক্ষ্য।”

নতুন ঘরের কাজ শুরু হওয়ায় সোহেলের পরিবারের দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসানের পথ তৈরি হয়েছে। অন্ধকার গোয়ালঘরসদৃশ কক্ষ থেকে এবার একটি নিরাপদ ঘরে যাওয়ার অপেক্ষায় পরিবারটি।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অটো-অ্যাম্বুলেন্সের দখলে, চরম ভোগান্তিতে রোগীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪২ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অটো-অ্যাম্বুলেন্সের দখলে, চরম ভোগান্তিতে রোগীরা

হাসপাতাল নাকি অটোস্ট্যান্ড—ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মূল চত্বরে প্রবেশ করলেই এমন প্রশ্ন উঠছে রোগী ও স্বজনদের মনে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ ও বিভিন্ন ওয়ার্ডের সামনের ফাঁকা জায়গা দখল করে দাঁড়িয়ে থাকছে ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক ও অ্যাম্বুলেন্স। এতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের চলাচলে তৈরি হচ্ছে বাড়তি ভোগান্তি। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন গুরুতর অসুস্থ ও জরুরি রোগীরা।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের নতুন ও পুরোনো ভবনের নিচের ফাঁকা জায়গার বড় একটি অংশ বিভিন্ন যানবাহনের দখলে রয়েছে। রোগী নামানো বা ওঠানোর পরও অনেক চালক দীর্ঘসময় হাসপাতাল চত্বরেই অবস্থান করছেন। হাসপাতাল থেকে বের হওয়া রোগী কিংবা স্বজনদের যাত্রী হিসেবে পাওয়ার আশায় তারা সেখানে অপেক্ষা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

জরুরি বিভাগের সামনের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। সংকটাপন্ন রোগী নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশের সময় সামনে থাকা রিকশা, ইজিবাইক ও অন্যান্য যানবাহনের কারণে অনেক সময় যানজট তৈরি হচ্ছে। এতে রোগীকে দ্রুত জরুরি বিভাগে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিড়ম্বনায় পড়ছেন স্বজনরা।

রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, যানবাহনের ভিড় এড়িয়ে কখনো কখনো রোগীকে স্ট্রেচারে করে কিংবা কোলে তুলে হাসপাতালের ভেতরে নিতে হচ্ছে। জরুরি মুহূর্তে কয়েক মিনিটের দেরিও যেখানে গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে প্রবেশপথে যানবাহনের এমন অবস্থান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।

হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি ষাটোর্ধ্ব রফিকুল ইসলাম বলেন, “বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। এখানে এসে একটু শান্তিতে বিশ্রাম নেব, সেটাও পারছি না। দিন-রাত গাড়ির হর্ন বাজে, চালকেরা চিৎকার করে ডাকাডাকি করেন। এতে মাথা ধরে যায়, বুক আরও ধড়ফড় করে। হাসপাতাল নাকি বাসস্ট্যান্ড—বোঝার উপায় নেই এখানে।”

শুধু যানবাহনের জট নয়, হাসপাতাল চত্বরে অপ্রয়োজনীয় হর্ন, চালকদের উচ্চস্বরে ডাকাডাকি ও যাত্রী ডাকার কারণে চিকিৎসার পরিবেশও বিঘ্নিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রোগী ও স্বজনদের।

বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জন্য এই শব্দদূষণ বাড়তি অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসাধীন রোগীদের বিশ্রাম ও স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করার কথা থাকলেও হাসপাতালের ভেতরে সারাক্ষণ যানবাহনের শব্দ থাকায় ক্ষোভ জানিয়েছেন স্বজনরা।

এক রোগীর স্বজন কাকলি চৌধুরী বলেন, “আমাদের রোগীকে নিয়ে যখন হাসপাতালে আসি, তখন প্রথমেই গাড়ির জটের মুখে পড়তে হয়। রোগী যদি গুরুতর হয়, তখন কয়েক মিনিটও অনেক গুরুত্বপূর্ণ সময়। অথচ হাসপাতালের গেট থেকে জরুরি বিভাগ পর্যন্ত যেতে যদি গাড়ির ভিড় সামলাতে হয়, তাহলে এর থেকে আর কষ্টদায়ক কী হতে পারে।”

অন্যদিকে হাসপাতাল চত্বরে শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালনকারী আনসার সদস্যদেরও যানবাহন নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে দেখা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আনসার সদস্য বলেন, “রোগী নিয়ে আসার পর অনেক চালক গাড়ি নিয়ে আর বের হতে চান না। হাসপাতাল থেকে বের হওয়া রোগী বা স্বজনদের যাত্রী হিসেবে পাওয়ার আশায় তারা চত্বরে দাঁড়িয়ে থাকেন। গাড়ি সরাতে বললে অনেক সময় বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। সীমিত জনবল দিয়ে এতগুলো যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা বড়ই কঠিন।”

অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের সীমানা ঘেঁষে অ্যাম্বুলেন্স রাখার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা থাকার পরও অনেক অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালের মূল চত্বরেই অবস্থান করছে। ফলে হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ সড়ক ও প্রবেশপথ সংকুচিত হয়ে পড়ছে।

রোগী ও স্বজনদের দাবি, জরুরি বিভাগের সামনে কোনো যানবাহন দাঁড়াতে না দেওয়া, হাসপাতালের ভেতরে অপ্রয়োজনীয় রিকশা ও ইজিবাইকের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং অ্যাম্বুলেন্সগুলোকে নির্ধারিত পার্কিং এলাকায় রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।

তাদের মতে, একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মূল চত্বর হওয়া উচিত জরুরি রোগীর দ্রুত চলাচল, চিকিৎসকদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত এবং রোগীদের শান্তিপূর্ণ চিকিৎসার পরিবেশ নিশ্চিত করার জায়গা। সেখানে অটো-ইজিবাইক, অ্যাম্বুলেন্সের জট আর হর্ন-হাকডাক নিয়মিত চিত্র হয়ে উঠলে চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি রোগীদের ভোগান্তিও বাড়বে।

এ বিষয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. হুমায়ুন কবিরের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে প্রতিবেদকের ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে বিষয়টি জানানো হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।

অন্যদিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মানস কৃষ্ণ কুন্ডুর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, “হাসপাতালে বিষয়টি নিয়ে আমাদের পরিচালক স্যারের সঙ্গে কথা বললেই ভালো হবে।”

তবে তিনি আরও বলেন, “আমাদের মাসিক আইন-শৃঙ্খলা মিটিংয়ে আমরা বরাবরের মতোই বিষয়গুলো তুলে ধরি। মাঝেমধ্যে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। যেহেতু আবার নতুন করে হাসপাতাল চত্বরে ইজিবাইক এবং মাইক্রোবাস পার্কিং শুরু হয়েছে, সেক্ষেত্রে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

রোগী ও স্বজনরা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে হাসপাতাল চত্বরকে অনিয়ন্ত্রিত যানবাহনের দখলমুক্ত করে রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নিয়মিত নজরদারি, নির্দিষ্ট পার্কিং ব্যবস্থাপনা এবং জরুরি বিভাগের সামনে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।