খুঁজুন
শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ২১ চৈত্র, ১৪৩২

সালথায় ‘রিকশা’ বিতর্কে সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি দোষারোপে সরব বিএনপি নেতারা

হারুন-অর-রশীদ ও এহসানুল হক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:১৭ অপরাহ্ণ
সালথায় ‘রিকশা’ বিতর্কে সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি দোষারোপে সরব বিএনপি নেতারা

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় ‘রিকশা’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিএনপির এক এজেন্টকে মারধর, কয়েকটি বাড়িঘরে হামলা ও মিথ্যা প্রচারের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীরা।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় উপজেলার রামকান্তপুর গ্রামে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা যুব জমিয়তে ওলামা ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি মুফতি এনায়েত তালুকদার অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা ও জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার ভাতিজা এসকেন তালুকদারকে কেন্দ্রের এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ভোটগ্রহণ চলাকালে তিনি লক্ষ্য করেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদারের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যক্তি ‘রিকশা’ প্রতীকে ভোট দিচ্ছেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানালে নির্বাচন শেষে ক্ষুব্ধ হয়ে এসকেন তালুকদারকে ধাওয়া করে মারধর করা হয়। প্রাণভয়ে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

তিনি আরও দাবি করেন, এ সময় ইশারত মোল্লার ছেলে মোস্তাকিনসহ কয়েকজনকে মারধর করে একটি দোকানের ভেতরে আটকে রাখা হয়। এতে তারা আহত হন। বর্তমানে এসকেন তালুকদার অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন বলে জানান তিনি।

মুফতি এনায়েত তালুকদার বলেন, জুমার নামাজের পর হাফিজুর মৃধার ছেলে সিয়াম মসজিদ থেকে বের হলে কয়েকজন তাকে মারধর করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয় এবং পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। তার অভিযোগ, প্রথমে প্রতিপক্ষ মৃধা বাড়িতে হামলা চালায়। পরে ধানের শীষের সমর্থক রবিউল মৃধার বাড়িসহ শহিদ ও রিপন তালুকদারের বাড়িতে ভাঙচুর করা হয়। বাধা দিতে গেলে তাদের ওপরও হামলা হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, আসন্ন চেয়ারম্যান নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি পক্ষ বাহিরদিয়া গ্রামের সঙ্গে সমঝোতা করে ‘রিকশা’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার চেষ্টা করছিল। বিষয়টি প্রকাশ পেয়ে গেলে উল্টো তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার চালানো হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক তালুকদার আমান হুসাইন বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিজয় মিছিল না করার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং কেন্দ্রীয় নেতা শামা ওবায়েদও সংঘাতে না জড়াতে পরামর্শ দেন। তারা সেই নির্দেশনা মেনে পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করলেও নির্বাচনের দিন ও পরবর্তী সময়ে হুমকি, মারধর ও ভাঙচুরের ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

অভিযোগের বিষয়ে সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার বলেন, সংবাদ সম্মেলনে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তার দাবি, যারা অভিযোগ তুলেছেন তারা আ.লীগের কর্মী এবং ‘রিকশা’ প্রতীকের পক্ষে কাজ করেছেন। তিনি আরও বলেন, গলায় ধানের শীষ ঝুলিয়ে রিকশায় ভোট দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে এবং এদের আশ্রয় দিয়েছেন বিএনপি নেতা আছাদ মাতুব্বর।

তবে আছাদ মাতুব্বর এসব অভিযোগ নাকচ করে বলেন, সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সবাই বিএনপির কর্মী এবং তারা ধানের শীষে ভোট দিয়েছেন। সিদ্দিকুর রহমান তালুকদারের বক্তব্য বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, একই গোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব থেকেই এ বিরোধের সৃষ্টি।

এদিকে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই স্থানীয় নেতৃত্বের কোন্দল প্রকাশ্যে আসায় সালথার রাজনীতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

নগরকান্দায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ১০

নগরকান্দা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১০ অপরাহ্ণ
নগরকান্দায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় দীর্ঘদিনের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন

শনিবার (০৪ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার পুড়াপাড়া ইউনিয়নের গোয়ালদী গ্রামে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, পুড়াপাড়া ইউনিয়নের বনগ্রামের মোল্লা গ্রুপ এবং পাশের গোয়ালদী গ্রামের তালুকদার গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জের ধরেই শনিবার বিকেলে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। পরে তা দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও ধারালো সরঞ্জাম ব্যবহার করে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে থাকে। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এতে কমপক্ষে ১০ জন আহত হন বলে জানা গেছে, যদিও আহতদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

খবর পেয়ে নগরকান্দা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ উপস্থিত হলে সংঘর্ষে জড়িতরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মাঝে মাঝেই উত্তেজনা দেখা দেয়। এর আগেও কয়েকবার ছোটখাটো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তবে এবারের সংঘর্ষ তুলনামূলক বেশি সহিংস ছিল।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসূল সামদানী আজাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “মোল্লা গ্রুপ ও তালুকদার গ্রুপের মধ্যে পূর্ব বিরোধ ছিল। শনিবার বিকেলে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটি থেকে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তারা। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পুলিশ দ্রুত গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।”

তিনি আরও জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে পুলিশ নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

ফরিদপুরের সদরপুরে তেল পাচারের ভিডিও করায় থানা চত্বরে সাংবাদিকদের ওপর হামলা

সদরপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৪৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের সদরপুরে তেল পাচারের ভিডিও করায় থানা চত্বরে সাংবাদিকদের ওপর হামলা

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় তেল পাচারের ভিডিও ধারণ করায় থানা চত্বরে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তেল ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী মোল্যা, রফিকুল ইসলাম মন্টুসহ তাদের সহযোগীরা জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (০৪ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে সদরপুর হামলার শিকার হন চ্যানেল এস-এর সাংবাদিক তোফাজ্জেল হোসেন টিটু এবং দৈনিক ঢাকা প্রতিদিনের সাংবাদিক আলমগীর হোসেন।

হামলার শিকার ওই দুই সাংবাদিক জানান, শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার চর বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের গাবতলা এলাকায় তেলের ডিলার মোহাম্মদ আলী মোল্যা ও তার ছেলে সামী মোল্যার তেল পাচারের ভিডিও ধারণ করলে তারা (সাংবাদিকরা) প্রথম দফা হামলার শিকার হন। এ ঘটনায় তারা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

তারা জানান, অভিযোগের পর শনিবার সকাল ১০টার দিকে থানায় গেলে, অভিযোগের জের ধরে ওই তেলের ডিলার ও তার লোকজন থানার চত্বরে সাংবাদিকদের ওপর দ্বিতীয় দফা হামলা চালায়। এ সময় থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

পরে সাংবাদিকরা থানা চত্বরের সামনে সড়কে অবস্থান নিলে রফিকুল ইসলাম মন্টু এবং তার সহযোগী মোস্তাকি বাবু তৃতীয় দফায় তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযুক্ত তেলের ডিলার সরাসরি হামলার বিষয় জানতে চাইলে তারা কোন মন্তব্য করেনি।

এ বিষয়ে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ জানান, হামলার বিষয়টি নিয়ে আমি এমপি মহাদয়ের সাথে কথা বলেছি। বিষয়টি আমারা খতিয়ে দেখছি।

নগরকান্দা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বেহাল চিত্রে ক্ষোভ: দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস দিলেন প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ২:২৯ অপরাহ্ণ
নগরকান্দা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বেহাল চিত্রে ক্ষোভ: দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস দিলেন প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নাজুক অবস্থা দেখে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

শনিবার (০৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “নগরকান্দা আমার নির্বাচনী এলাকা। আমি আগে বহুবার এখানে রোগী দেখতে এসেছি। তখনও হাসপাতালের অবস্থা করুণ ছিল, এখনও তেমন উন্নতি হয়নি। আজকের পরিস্থিতি দেখে আমি সত্যিই ব্যথিত।”

তিনি আরও বলেন, “এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নানা ধরনের সমস্যা রয়েছে। যন্ত্রপাতি অপ্রতুল ও অনেকটাই অকার্যকর, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল নেই, এমনকি ডাক্তারদের বসারও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য আমরা কাজ শুরু করব।”

প্রতিমন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়ন সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচির অংশ এবং নগরকান্দা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে একটি কার্যকর সেবাকেন্দ্রে পরিণত করতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. কামরুল হাসান মোল্যা, পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নজরুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান এবং নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘদিনের অবহেলার চিত্র তুলে ধরে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’। সেই প্রতিবেদনের পরই বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে এবং প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রতিমন্ত্রীর এই পরিদর্শনের পর হাসপাতালের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান হবে এবং সাধারণ মানুষ পাবে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা।