খুঁজুন
শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১ ফাল্গুন, ১৪৩২

সালথায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০, বাড়ি-ঘর ভাংচুর

হারুন-অর-রশীদ ও এহসানুল হক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:৩০ পিএম
সালথায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০, বাড়ি-ঘর ভাংচুর

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় মসজিদের ভেতরে ভোট দেওয়া নিয়ে তর্কের জেরে বিএনপির দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা ও বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের রামকান্তপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জুমার নামাজের সময় স্থানীয় একটি মসজিদের ভেতরে রিকশা প্রতীকে ভোট দেওয়া নিয়ে সন্দেহ থেকে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় বিএনপি নেতা সিদ্দিকুর রহমান তালুকদারের পক্ষের নেতৃত্বদানকারী কুদ্দুস তালুকদারের সমর্থকদের বিরুদ্ধে রিকশা প্রতীকে ভোট দেওয়ার অভিযোগ তোলেন অপর পক্ষের নেতা আছাদ মাতুব্বরের অনুসারী রবিউল তালুকদারের সমর্থকরা। এ নিয়ে নামাজ চলাকালীনই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

নামাজ শেষে উভয়পক্ষের সমর্থকরা মসজিদের সামনে জড়ো হলে তর্কাতর্কি একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, রবিউল তালুকদারের সমর্থকরা কুদ্দুস তালুকদারের পক্ষের লোকজনের ওপর হামলা চালায়। এ সময় কয়েকটি বসতবাড়িতে ভাঙচুর করা হয়। আহত হন অন্তত ১০ জন।

এব্যাপারে রবিউল তালুকদারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে রবিউলের চাচাতে ভাই সেকেন্দার হোসেন বলেন, রবিউল সহ আমরা ধানের শীষে ভোট দিয়েছি। স্থানীয় বিএনপি নেতা সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার তার দল ভারি করতে তার গ্রুপে আমাদের নেওয়ার জন্য আমাদের একজন লোকের উপর শুক্রবার সকালে হামলা করেন। স্থানীয় আধিপত্য ও নিজের দলে লোকজন ভিড়ানোর জন্য আমাদের বলা হচ্ছে রিকশায় ভোট দিয়েছি। এগুলো ভিত্তিহীন। আমরা এই সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এজেন্ট ছিলাম।

অভিযোগের ব্যাপারে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও স্থানীয় একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দেওয়া সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার বলেন, রবিউলরা উপজেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আছাদ মাতুব্বর ও ইশারতের লোক। রবিউলরা আ.লীগ করেন। তারা, আছাদের সাথে মিশে আমাদের ভোট কেন্দ্রে বিএনপিকে হারাতে রিকশায় ভোট দেন। যাতে আমাকে দলের কাছে ভিন্নভাবে দেখানো যায়। কারণ, আছাদ সামনে উপজেলা পরিষদের বিএনপির হয়ে নির্বাচন করবেন। এটা তাদের কৌশল।

হামলায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন- মো. ওয়াদুদ তালুকদার (৫০), টিটুল তালুকদার (৩০), মুসা কাজী (৫০), রয়েল কাজী (৩০), সোহরাব তালুকদার (৪৫), শরিফুল ইসলাম (১৬), ফরিদ তালুকদার (২২)সহ আরও কয়েকজন। টিটুল তালুকদারকে গুরুতর অবস্থায় ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার মাথায় ধারালো অস্ত্রের কোপ রয়েছে বলে দাবি করেছেন কুদ্দুস তালুকদার। আহতরা তার সমর্থক বলে দাবি তার। ওয়াদুদ তালুকদারের বাঁ পায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে; তিনি সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

তবে অভিযোগের ব্যাপারে আছাদ মাতুব্বর দাবি করেছেন, তার অনুসারী রবিউল তালুকদারের পক্ষেরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে, তিনি আহতের সংখ্যা জানাতে পারেনি। তিনি বলেন, “রবিউলের লোকজনের ওপর আগে হামলা করা হয়েছে। এখন বিষয়টি আমাদের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা চলছে।” তিনি আরও দাবি করেন, কুদ্দুস তালুকদারের লোকজন প্রকাশ্যে রিকশা প্রতীকে ভোট দিয়েছেন বলে এলাকায় অভিযোগ রয়েছে। রবিউলের চাচাতো ভাই এনায়েত বিএনপির নির্বাচনী এজেন্ট ছিলেন। তারা সবাই বিএনপি করেন এবং বিএনপিতে ভোট দিয়েছেন। বরং সিদ্দিক তালুকদার ও কুদ্দুস তালুকদারের অনেক লোকজন রিকশায় ভোট দিয়েছেন।

অন্যদিকে কুদ্দুস তালুকদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। রবিউল সহ যারা বিএনপির পক্ষে প্রচার করেছে, তারাই রিকশা প্রতীকে ভোট দিয়েছে। তারাই পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে।”

সালথা সেনা ক্যাম্প সূত্র জানায়, সহিংসতার খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে।

এব্যাপারে সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা-সালথা সার্কেল) মাহমুদুল হাসান বলেন, ছোট-খাট কোনো বিষয় নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সালথা উপজেলা ফরিদপুর-২ আসনের অন্তর্গত। এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা আকরাম আলী রিকশা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনের পর থেকেই এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: গণভোটের হার এতো বেশি কেন?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৪৩ এএম
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: গণভোটের হার এতো বেশি কেন?

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ ভোটের তুলনায় গণভোটে ভোটার উপস্থিতি বেশি হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

তিনি জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশনায় দুটি সংসদীয় আসনের ফল স্থগিত থাকলেও সেখানে গণভোটের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকায় গণভোটের মোট ভোটের হার বেশি হয়েছে।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

ইসি সচিব বলেন, ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলেও আদালতের নির্দেশনার কারণে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হচ্ছে না। বাকি ২৯৭টি আসনের বেসরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২০৯টি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয়ী হয়েছে।

তিনি জানান, অন্যান্য দলের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে ৬টি আসন। এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ও গণসংহতি আন্দোলন একটি করে আসনে জয় পেয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন ৭টি আসনে।

ভোটের হার প্রসঙ্গে আখতার আহমেদ বলেন, সংসদ নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের হার ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। অন্যদিকে গণভোটে কাস্ট হওয়া ভোটের হার ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ। তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, যে দুটি আসনের সংসদ ফল স্থগিত রয়েছে, সেখানে গণভোটের ভোট গণনায় যুক্ত হয়েছে—এ কারণেই গণভোটের হার তুলনামূলক বেশি।

গণভোটের ফলাফল তুলে ধরে তিনি জানান, পরিবর্তনের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯টি এবং বিপক্ষে ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭টি।

গেজেট প্রকাশের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছ থেকে চূড়ান্ত ফলাফলের হার্ড কপি পাওয়ার পর যাচাই-বাছাই শেষে যত দ্রুত সম্ভব গেজেট প্রকাশ করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সন্ধ্যার মধ্যেই হার্ড কপি আসা শুরু হবে।

এ সময় নির্বাচনসংক্রান্ত সংবাদ প্রচারে সহযোগিতার জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতাও জানান তিনি।

 

রুমিন ফারহানার সঙ্গে ছবি প্রকাশ, কী জানালেন অপু বিশ্বাস?

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:১৪ এএম
রুমিন ফারহানার সঙ্গে ছবি প্রকাশ, কী জানালেন অপু বিশ্বাস?

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) বিজয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা। বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থীকে ৩৮ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছেন তিনি।  

নির্বাচনী এই সাফল্যের পর শুভেচ্ছায় ভাসছেন সাবেক এই বিএনপির নেত্রী। দলীয় কর্মী থেকে শুরু করে নানা অঙ্গনের মানুষ তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন।

রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি সংস্কৃতি জগৎ থেকেও আসছে শুভেচ্ছা বার্তা।

ঢালিউডের চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস নিজের ফেসবুক স্টোরিতে রুমিন ফারহানার সঙ্গে একটি ছবি শেয়ার করে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

তার এই শুভেচ্ছা বার্তা সামাজিকমাধ্যমে ইতোমধ্যেই নজর কেড়েছে ভক্তদের।

বলা দরকার, ‘হাঁস’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে রুমিন ফারহানা এক লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭টি ভোট পেয়েছেন।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থী জুনায়েদ আল হাবীব ‘খেজুর গাছ’ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৮০ হাজার ৪৩৪টি ভোট।

ভালোবাসা দিবস: ইসলামে বৈধ না বিদআত?

মুফতি নিজাম উদ্দিন আল আদনান
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:৪৪ এএম
ভালোবাসা দিবস: ইসলামে বৈধ না বিদআত?

বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সময়ে হরেক রকম দিবস উদযাপন হয়ে থাকে। তার মধ্যে একটি হচ্ছে ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’ বা ‘ভালোবাসা দিবস’। প্রতি বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি আসলে এক শ্রেণির লোকজন এ দিবস উদযাপন করে। তবে ইসলামে এই দিবসের কোনো ভিত্তি নেই।

তাহলে কীভাবে এলো ভালোবাসা দিবস?

ভ্যালেন্টাইনস ডে-এর উৎপত্তি সম্পর্কে বিভিন্ন মত রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত ইতিহাসটি হচ্ছে ধর্মযাজক সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের। তিনি ছিলেন শিশুপ্রেমিক, সামাজিক ও সদালাপি এবং খ্রিস্টধর্ম প্রচারক। আর রোম সম্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াস ছিলেন বিভিন্ন দেব-দেবীর পূজায় বিশ্বাসী।

সম্রাটের পক্ষ থেকে তাকে দেব-দেবীর পূজা করতে বলা হলে, ভ্যালেন্টাইন তা অস্বীকার করায় তাকে কারারুদ্ধ করা হয়। সেন্ট ভ্যালেন্টাইন কারারুদ্ধ হওয়ার পর প্রেমাসক্ত যুবক-যুবতীদের অনেকেই প্রতিদিন তাকে কারাগারে দেখতে আসত এবং ফুল উপহার দিত। তারা বিভিন্ন উদ্দীপনামূলক কথা বলে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে উদ্দীপ্ত রাখত। এক কারারক্ষীর এক অন্ধ মেয়েও ভ্যালেন্টাইনকে দেখতে যেত। অনেকক্ষণ ধরে তারা দুজন প্রাণ খুলে কথা বলত। একসময় ভ্যালেন্টাইন তার প্রেমে পড়ে যায়। সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের আধ্যাত্মিক চিকিৎসায় অন্ধ মেয়েটি দৃষ্টিশক্তি ফিরে পায়। ভ্যালেন্টাইনের ভালোবাসা ও তার প্রতি দেশের যুবক-যুবতীদের ভালোবাসার কথা সম্রাটের কানে গেলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ২৬৯ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে তার স্মরণে ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবস পালিত হতে থাকে। (সূত্র : দৈনিক ইত্তেফাক, ১৪ ফেব্রুয়ারি-২০১৪)

প্রচলিত ভালোবাসা দিবসে যা হয়

এই দিনে অনেক তরুণ-তরুণী ভালোবাসা আদান-প্রদানের নামে সাক্ষাৎ, কথোপকথন, মদ্যপান, কনসার্ট এবং যাবতীয় অবৈধ মেলামেশা করে থাকেন। বিশেষ করে রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা, উত্তরা, টিএসসি প্রাঙ্গনসহ বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় এসব নোংরা চিত্র দেখা যায়।

ভালোবাসা দিবসের সমস্যা ও ইসলামি বিধান

১. বিজাতীয় সংস্কৃতি অনুসরণ করা হারাম

হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি যে জাতির অনুকরণ করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে’ (আবু দাউদ : ৪০৩১) । তাই ইমানদারগণ ভালোবাসা দিবস পালন করতে পারবে না, কারণ তা খ্রিস্টানদের সংস্কৃতি।

২. অবৈধ সম্পর্ক ও ব্যভিচারের প্রসার

ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা ব্যভিচারের নিকটেও যেও না। নিশ্চয়ই এটা একটি অশ্লীল কাজ ও নিকৃষ্ট পথ’ (সুরা আল ইসরা : ৩২)। ১৪ ফেব্রুয়ারি অধিকাংশ মানুষ অবৈধ প্রেম, শারীরিক সম্পর্ক ও হারাম কাজের দিকে ধাবিত হয়।

৩. ফিতনার (পাপাচার) কারণ

এই দিনে তরুণ-তরুণীরা বেহায়াপনা ও অনৈতিক কাজের প্রতি আকৃষ্ট হয়।

৪. অপচয় ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয়

ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই অপচয়কারী শয়তানের ভাই’ (সুরা আল ইসরা : ২৭)। ভালোবাসা দিবসে ফুল, কার্ড, উপহার ও ডিনারের নামে প্রচুর অর্থ অপচয় হয়, যা ইসলাম সমর্থন করে না।

৫. ইসলামিক সমাজ ও সংস্কৃতির ক্ষতি

মুসলমানদের মধ্যে পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে ইসলামি মূল্যবোধ নষ্ট হয়।

ইসলামে ভালোবাসা দিবসের বিকল্প কী?

১. স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা বৃদ্ধির জন্য যে কোনো দিন উপহার দেওয়া যেতে পারে।

২. মা-বাবা, আত্মীয়স্বজন ও গরিব-দুঃখীদের ভালোবাসা ও দয়া দেখানো উচিত।

৩. আল্লাহ ও রাসুলের ভালোবাসার প্রতি মনোযোগী হওয়া উচিত।

৪. হারাম সম্পর্কের পরিবর্তে ইসলামের বিধান অনুসারে বিবাহের মাধ্যমে পবিত্র সম্পর্ক স্থাপন করা উচিত।

লেখক : মুহতামিম, জামিয়াতুল কোরআন, ঢাকা

সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি, ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ