খুঁজুন
শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯ মাঘ, ১৪৩২

কী আছে তারেক রহমানের পরিকল্পনায়?

তানভীর আহমেদ, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৪:০২ পিএম
কী আছে তারেক রহমানের পরিকল্পনায়?
বাংলাদেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে এখন একটিই আলোচনা—বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সেই আশাব্যাঞ্জক উক্তি, ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ (আমার একটি পরিকল্পনা আছে)।দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকা একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের প্রধানের এই ঘোষণা দেশের সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে আশার প্রদীপ জ্বালিয়েছে। তারেক রহমানের এই ‘প্ল্যান’ বা পরিকল্পনা আসলে কী, তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে চায়ের দোকান পর্যন্ত চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

তারেক রহমান হুট করে কোনো পরিকল্পনার কথা বলেননি।

তার এই নতুন ‘প্ল্যান’ মূলত তার আগের ঘোষণাগুলোর একটি সমন্বিত রূপ বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে তিনি রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য ‘৩১ দফা’ ঘোষণা করেছিলেন, যা দেশের শাসনতান্ত্রিক কাঠামো পরিবর্তনের একটি ব্লুপ্রিন্ট হিসেবে বিবেচিত। এছাড়া সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তিনি ‘ফ্যামেলি কার্ড’ চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তার মূল সুর হলো— ‘সবাই মিলে শান্তির দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি’।
তারেক রহমানের পরিকল্পনার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো রাষ্ট্র সংস্কারের সেই ৩১ দফা। বিশ্লেষকদের মতে, এই ৩১ দফায় কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং রাষ্ট্রের গুণগত পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ প্রবর্তন এবং ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করাই এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমান যে নতুন পরিকল্পনার কথা বলছেন, তা সম্ভবত এই ৩১ দফাকে আরও আধুনিক এবং বাস্তবায়নযোগ্য করার একটি সুসংহত রূপ।

বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের কাছে তারেক রহমানের ‘ফ্যামেলি কার্ড’ একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ধারণা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি এবং অর্থনৈতিক সংকটের এই সময়ে সাধারণ মানুষ এমন একটি ব্যবস্থার স্বপ্ন দেখছে যেখানে রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণের নিশ্চয়তা থাকবে। তারেক রহমান তার পরিকল্পনায় এই কার্ডের মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের কাছে সরাসরি সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার যে অঙ্গীকার করেছেন, তা সাধারণ জনগণের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

১৭ বছরের নির্বাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশে ফেরা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সংবর্ধনা দিয়েছে তার দল। সেখানে তিনি দেশবাসীদের উদ্দেশে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা দেন।

তার বক্তব্যে প্রখ্যাত আমেরিকান মানবাধিকারকর্মী মার্টিন লুথার কিংয়ের একটি উক্তির প্রসঙ্গে টেনে তিনি বলেন, মার্টিন লুথার কিংয়ের একটি বিখ্যাত উক্তি আছে— ‘আই হ্যাভ আ ড্রিম’। আজ বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে আপনাদের সকলের সামনে আমি বলতে চাই। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সদস্য হিসেবে আমি বলতে চাই— ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান, ফর দ্য পিপল অব মাই কান্ট্রি, ফর মাই কান্ট্রি’। আজ এই পরিকল্পনা দেশের মানুষের স্বার্থে, দেশের উন্নয়নের জন্য, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য। যদি সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হয়, এই জনসমুদ্রে যত মানুষ উপস্থিত আছেন, এই বাংলাদেশে গণতন্ত্রের শক্তি যত মানুষ আছেন, প্রত্যেকটি মানুষের সহযোগিতা আমাদের লাগবে। আপনারা যদি আমাদের সহযোগিতা করেন, ইনশাআল্লাহ—আই হ্যাভ আ প্ল্যান, আমরা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবো।”

বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মতে, তারেক রহমানের এই ‘প্ল্যান’ কোনো কল্পনাপ্রসূত বিষয় নয়। এটি দীর্ঘদিনের গবেষণা এবং দেশের তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা মনে করেন, এই পরিকল্পনা কেবল বিএনপিকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য নয়, বরং ক্ষমতায় যাওয়ার পর দেশকে কীভাবে একটি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা যায়, তার একটি পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন। তারা মনে করেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে দল এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সুসংগঠিত এবং লক্ষ্য অভিমুখী।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ উক্তিটি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী রাজনৈতিক কৌশল। এটি একই সাথে রহস্য এবং আশার জন্ম দেয়। বিশ্লেষকরা মনে করেন, যদি তারেক রহমান তার এই পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করতে পারেন এবং সুশাসনের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ দিতে পারেন, তবে তা দেশের রাজনীতিতে একটি বড় মাইলফলক হবে। তবে তারা এটিও সতর্ক করেছেন যে, পরিকল্পনার ঘোষণা যতটা সহজ, তার বাস্তবায়ন ততটাই চ্যালেঞ্জিং।

তারেক রহমানের পরিকল্পনার বিষয়ে কেবল দেশের অভ্যন্তরে নয়, আন্তর্জাতিক মহলেও ব্যাপক কৌতূহল দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলো এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগীরা দেখতে চায় তারেক রহমানের এই পরিকল্পনায় গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার, মানবাধিকার রক্ষা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়ে কী ধরনের অঙ্গীকার রয়েছে। বিদেশি কূটনীতিকরা বিএনপির এই পরিবর্তনশীল এবং সংস্কারমুখী অবস্থানকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন বলে বিভিন্ন সূত্র ইঙ্গিত দিচ্ছে।

একজন সাধারণ নাগরিক যখন শোনেন যে নেতার কাছে একটি পরিকল্পনা আছে, তখন তিনি সেখানে নিজের উন্নত ভবিষ্যতের ছায়া দেখতে পান। সাধারণ মানুষ এখন সংঘাতের রাজনীতির চেয়ে উন্নয়নের এবং স্থিতিশীলতার রাজনীতি বেশি পছন্দ করে। তারেক রহমানের ‘সবাই মিলে দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি’ সাধারণ মানুষকে এই বার্তা দিচ্ছে যে, আগামীর বাংলাদেশ হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, যেখানে কোনো বিভেদ থাকবে না।

তারেক রহমানের এই ‘প্ল্যান’ সফল হবে কি না, তা নির্ভর করবে এর সফল প্রয়োগের ওপর। তবে বর্তমানে এটি যে দেশের রাজনীতিতে একটি নতুন আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে এবং জনমনে আশার সঞ্চার করেছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ৩১ দফা, ফ্যামেলি কার্ড এবং জাতীয় ঐক্যের ডাক—এই তিনটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়েই সম্ভবত তৈরি হচ্ছে তারেক রহমানের সেই কাঙ্ক্ষিত ‘প্ল্যান’।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রফেসর দিলারা চৌধুরী বলেছেন, দেশের মানুষ নতুন কিছু দেখতে চায়। তারা চায় পরিবর্তন। এই পরিবর্তনের জন্য দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন সংগ্রাম করেছে। যদি তারেক রহমান তার এই পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করতে পারেন এবং সুশাসনের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ দিতে পারেন, তবে তা দেশের রাজনীতিতে একটি বড় মাইলফলক হবে।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহবায়ক আমিনুল হক বলেছেন, তারেক রহমানের এই পরিকল্পনাটি মূলত দেশের মানুষের উন্নয়নের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা। এর আওতায় দেশের প্রতিটি পরিবারের নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ প্রবর্তন করা হবে। এছাড়া খেলাধুলাকে একটি পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণ করে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেখানে ৮০ শতাংশই হবেন নারী। পরিবেশ রক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানো এবং ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হবে। এছাড়া ধর্মীয় ও সামাজিক কাঠামোর অংশ হিসেবে ইমাম ও মোয়াজ্জিনদের জন্য সম্মানী ভাতার ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি আরো বলেন, এই পরিকল্পনার একটি বড় দিক হলো মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা দুর্নীতি বন্ধ করা। পাশাপাশি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন করার প্রতিশ্রুতিও এই পরিকল্পনায় রয়েছে।

আমিনুল ইসলাম উল্লেখ করেন, এগুলো কেবল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং এগুলো সুপরিকল্পিত উদ্যোগ যা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ তার ফেইসবুক পেজে লিখেছেন, একবিংশ শতাব্দীর একজন দূরদর্শী নেতা, যিনি জনগণের জন্য স্পষ্ট পরিকল্পনা এবং জাতির প্রতি গভীর অঙ্গীকার প্রদর্শন করেছেন।

নির্বাচনের মাঠে জামায়াতসহ ১০ দলীয় জোট: প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী কে?

তাফসীর বাবু
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:২১ পিএম
নির্বাচনের মাঠে জামায়াতসহ ১০ দলীয় জোট: প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী কে?

বাংলাদেশে বরাবরই কোনো একজন শীর্ষ নেতাকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দল বা জোটকে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে দেখা গেলেও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গঠিত ১০ দলীয় জোটে এবার সেভাবে কাউকে সামনে রাখা হয়নি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা ২২শে ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়েছে এবং দলগুলো ব্যস্ত সময় পার করছে।

এই নির্বাচনে প্রার্থী প্রায় দুই হাজার। তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে দুটি বড় রাজনৈতিক পক্ষের মধ্যে। একদিকে আছে বিএনপি এবং দলটি যাদের সঙ্গে আসন সমঝোতা করেছে তারা। অন্যদিকে জামায়াত ও ও তার সঙ্গে সমঝোতায় আসা দলগুলো।

বিএনপি, গণতন্ত্রমঞ্চ, গণঅধিকার পরিষদসহ যে জোট হয়েছে, সেখানে নেতৃত্ব দিচ্ছে বিএনপি এবং এই জোটের নেতৃত্বেও আছেন তারেক রহমান।

বিপরীতে জামায়াতসহ ১০ দলের যে জোট হয়েছে, সেখানে একক কোনো নেতৃত্ব নেই। বরং জোটটি চলছে যৌথ নেতৃত্বে।

এই জোটে ১০ দলের মধ্যে জামায়াত, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন––এই পাঁচটি দল ইসলামপন্থি।

বাকি পাঁচটি দল হলো–– জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি বা এলডিপি, আমার বাংলাদেশ বা এবি পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি বা জাগপা এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি।

বিভিন্ন ধরনের ১০টি দল একসঙ্গে এলেও কীসের ভিত্তিতে ঐক্য হলো সেটা স্পষ্ট নয়। এই ঐক্যের উদ্দেশ্য কী, আদর্শিক ভিত্তি কী সেটা নিয়েও কোনো রূপরেখা নেই, বক্তব্য নেই।

এছাড়া এই জোট নির্বাচনে জয়ী হলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন কিংবা নির্বাচনে বিরোধী দলে বসলে বিরোধী দলীয় নেতা কে হবেন, সেটাও নির্ধারিত হয়নি। ফলে অস্পষ্ট নেতৃত্ব এবং দলীয় রূপরেখা নিয়ে এই জোট নির্বাচনের মাঠে বিএনপির কতটা শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠবে, তা নিয়ে সংশয় আছে অনেকের মধ্যে।

নেতা সামনে রেখে প্রচারণার রীতি

বাংলাদেশের রাজনীতির দল বা জোটগুলো অনেকটা ঐতিহ্যগতভাবেই একজন শীর্ষ নেতাকে সামনে রেখেই ভোটের যুদ্ধে মাঠে নামে।

একসময় আওয়ামী লীগ সামনে রেখেছে শেখ মুজিবুর রহমানকে। পরে যখন শেখ হাসিনা দলের হাল ধরেন, তখন তার নেতৃত্বেই দল এগিয়েছে। জোট হলে সেই জোটের নেতৃত্বে থেকেছেন শেখ হাসিনা।

পরবর্তীকালে বিএনপির ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমান থেকে খালেদা জিয়া পর্যন্ত একই চিত্র দেখা গেছে।

এমনকি জাতীয় পার্টির ক্ষেত্রেও দলটি নির্বাচনের সময় সামনে রেখেছিলো হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদকে।

এবারের নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সামনে রেখেছে তারেক রহমানকে। কিন্তু ১০ দলীয় ঐক্যে এভাবে একক কোনো নেতৃত্ব সামনে রাখা হচ্ছে না।

এতে করে যে প্রশ্ন উঠছে–– এই জোট যদি নির্বাচনে জয়ী হয়, তাহলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন?

দশ দলের নির্বাচনী ঐক্য গঠনের আগেই অবশ্য এই প্রশ্ন উঠেছিলো। বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে জোট গঠনের আগেই এর সুরাহা করার কথা তোলা হয়। যদিও সেটা নিয়ে পরে আর আলোচনা এগোয়নি।

পরবর্তীকালে ইসলামী আন্দোলন অবশ্য আদর্শিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে ঐক্যপ্রক্রিয়া থেকেও বেরিয়ে যায়

তবে ইসলামী আন্দোলন বেরিয়ে যাওয়ার পর জোটে জামায়াতের গুরুত্ব এবং প্রভাব আরো বেড়েছে। দলটি এককভাবে ২১৫টি আসন নেওয়ার পর এটা স্পষ্ট হয়েছে যে জোটের মূল শক্তি জামায়াত।

ফলে, ঘোষণা না হলেও এই জোটে জামায়াতই এখন অঘোষিত নেতৃত্বে, যেটা দলগুলোর বক্তব্যেও পরিষ্কার হয়।

তাহলে কি জামায়াতের শীর্ষ নেতাই প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী–– এমন প্রশ্নে জাতীয় নাগরিক পার্টির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বিবিসি বাংলাকে বলেন, শীর্ষ নেতা, প্রধানমন্ত্রী বা বিরোধী দলীয় নেতা -এসব নিয়ে দলগুলার মধ্যে কোনো আলোচনা হয়নি।

“এখানে এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি বা স্পিকার বা এ ধরনের পদ পেলে সেখানে কে বসবেন তা নিয়ে আলোচনা হয়নি। সাধারণত, ধরে নেওয়া হয় যে দলের বেশি সংসদ সদস্য জয়ী হোন, তারাই প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পান,” তিনি বলেন।

এবারের নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে জামায়াত একাই লড়ছে ২১৫টি আসনে। এরপরেই আছে এনসিপি, দলটির প্রার্থী মাত্র ৩০টি আসনে।

১০ দলীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় শেষ সময়ে যুক্ত হয়েছে এনসিপি। নিজ আগ্রহে জোটে যুক্ত হওয়ার পর দলটি নেতৃত্ব কিংবা নির্বাচনে জিতলে কে কোন পদে বসবে, সেসব নিয়ে দরকষাকষির সুযোগ পায়নি। আবার এসব ইস্যুতে নিজেদের চাহিদা জানানোর মতো অবস্থাতেও নেই দলটি।

অন্য দলগুলোও বাস্তবতা দেখে জামায়াতের নেতৃত্বের কথাই বলছে।

“জামায়াত দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে নির্বাচন করছে। কাজেই এখানে প্রধান্য বা মুখ্য ভূমিকা তাদেরই। যদি আপনি বিএনপি জোটে বড় দল হিসেবে বিএনপির শীর্ষ নেতাকে ধরেন, তাহলে আমাদের জোটেও বড় দল আছে। সেই দলের নেতাও তো একজনই আছে,” বলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক।

কিন্তু জামায়াত এক্ষেত্রে কী বলছে?

দলটি অবশ্য নেতৃত্বের বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চায় না। বিশেষ করে জামায়াতের একক নেতৃত্ব বা প্রাধান্য নিয়ে এর আগে ইসলামী আন্দোলনের আপত্তির নজির থাকায় জামায়াত চায় নির্বাচনের পরই এর সুরাহা হবে।

“নির্বাচন হয়ে গেলে পরে যাদের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে, তারা কে কতটি আসন পেয়েছে সেটা দেখা যাবে। তখন সেটার ভিত্তিতেই শীর্ষ নেতারা সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে দলের পক্ষ থেকে আমরা তো আমাদের শীর্ষ নেতাকেই সামনে রাখবো,” বলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

১০ দলের আদর্শিক ভিত্তি কী?

বাংলাদেশের ইসলামপন্থি দলগুলোর নির্বাচনী জোটের প্রক্রিয়া শুরু হয় বছরখানেক আগে, মূলত এই দলগুলোর ভোট এক বাক্সে আনার কথা বলে।

শুরুতে ইসলামপন্থি পাঁচটি দল জোটের প্রক্রিয়া শুরু করলেও পরে সেখানে ধর্মভিত্তিক নয়, এমন দলগুলোও যুক্ত হয়।

শেষপর্যন্ত গত সপ্তাহে জানানো হয় ১০ দলের এই নির্বাচনী ঐক্যের কথা যেখানে ইসলামী আন্দোলন যোগ দেয়নি।

তবে নির্বাচনী ঐক্য হওয়ার পর গত একসপ্তাহে দলগুলো ব্যস্ত থেকেছে মূলত আসন ভাগাভাগি নিয়ে।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, ইসলামপন্থি এবং ইসলামপন্থি নয় এরকম বিভিন্ন দল নিয়ে এই যে জোট গঠিত হলো, তার আদর্শিক ভিত্তি আসলে কী?

এক্ষেত্রে দলগুলো জুলাই স্পিরিটের কথা বলছে।

“আমাদের ঐক্যের সূচনাটা হয় মূলত ঐকমত্য কমিশন থেকে। সেই সময় এই দলগুলোর বক্তব্য ছিল অনেকটা একই রকম। আমরা সবাই সংস্কার চেয়েছি, বিচার চেয়েছি, আধিপত্যবাদবিরোধী অবস্থান নিয়েছি। এই বিষয়গুলোতেই ঐক্যপ্রক্রিয়ায় থাকা সব দল একমত। কোনো ভেদাভেদ নেই,” বলেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকও বলেন, এই জোটের ঐক্যে সূত্র হচ্ছে “জুলাই স্পিরিট ধারণ, ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রগঠন এবং আধিপত্যবাদবিরোধী অবস্থান”।

শরিয়া আইন নিয়ে অবস্থান কী?

ইসলামপন্থি দলগুলোর ভোট এক বাক্সে আনার কথা যখন উঠেছিল, তখন সেই দলগুলোর কোনো কোনো নেতা ইসলানি বা শরিয়া আদর্শভিত্তিক রাষ্ট্রগঠনের কথাও বলেছেন।

কিন্তু পরবর্তীকালে এই জোটে এনসিপি, এবি পার্টির মতো ধর্মভিত্তিক নয়, এমন দলগুলোও যুক্ত হয়। ফলে জুলাই সনদে একমত থাকলেও এই জোট শরিয়া রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করবে, নাকি প্রচলিত রাষ্ট্রব্যবস্থাকেই গ্রহণ করবে সেটা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

জানতে চাইলে জাতীয় নাগরিক পার্টির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব অবশ্য দাবি করেন, শরিয়া রাষ্ট্র গঠন করা হবে এমন কথা জামায়াত বা অন্য দলগুলো বলছে না।

তিনি বলেন, “ক্ষমতায় গেলে জামায়াত যে ইসলামি রাষ্ট্র করবে এমনটা তারা কিন্তু বলেনি। কারণ তারা সেই জায়গা থেকে বের হয়ে সবগুলো দল মিলে কিন্তু গণতান্ত্রিক জায়গায় এসেছে, জোট করেছে”।

কিন্তু তাহলে ধর্মভিত্তিক দলগুলো কি শরিয়া রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আদর্শ থেকে বের হয়ে এসেছে?

এই প্রশ্ন উঠছে, কারণ গত সপ্তাহে ঐক্য প্রক্রিয়া থেকে সরে যাওয়ার আগে এই কারণটিকেই সামনে এনেছিলো ইসলামী আন্দোলন।

যদিও জামায়াতসহ ইসলামী দলগুলো অবশ্য সেটা নাকচ করছে।

“যার যার আদর্শ, যার যার রাষ্ট্রকল্প, যার যার রাজনৈতিক দর্শন, তার তার কাছে অটুট আছে, অক্ষুণ্ন আছে। আমরা এই মুহূর্তে বাংলাদেশটাকে সবার আগে ইনসাফের বাংলাদেশ হিসেবে গড়তে চাই,” বলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক।

ইসলামপন্থি দলগুলো বলছে, তাদের শরিয়া বা ইসলামি আইনভিত্তিক রাষ্ট্রের ধারণা আছে। কিন্তু বাস্তবায়ন তারা হঠাৎ করে করতে চান না। “জনগণকে প্রস্তুত করে ধাপে ধাপে এটা হবে” বলেন মামুনুল হক।

একই রকম কথা বলছে জামায়াতও। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “এখন তো দেশে বিদ্যমান একটা আইন আছে। যে দলই জিতুক, কালকে গিয়েই তো সে সব আইন বদলাতে পারবে না। তার জন্য একটা প্রসিডিউর (প্রক্রিয়া) এর মধ্য দিয়ে যেতে হবে। সংসদ লাগবে।

“যারা সংখ্যাগরিষ্ঠ হবে তাদের মধ্যে একটা মিউচুয়াল আন্ডারস্টান্ডিং দরকার হবে। মানুষের জন্য কল্যাণকর, মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয় -এমন সকল বিধান আমরা অ্যালাউ করবো। তো এটাতো ইসলামও অ্যালাউ করে” বলেন মি. পরওয়ার।

তথ্য সূত্র : বিবিসি বাংলা

ফরিদপুরে সেনাবাহিনীর পরিচয়ে চাঁদাবাজি: ভুয়া সাংবাদিক গ্রেপ্তার

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:৪২ পিএম
ফরিদপুরে সেনাবাহিনীর পরিচয়ে চাঁদাবাজি: ভুয়া সাংবাদিক গ্রেপ্তার

ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকার কিষাণহাটে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজির সময় মো. আরিফ শেখ (৩৯) নামে এক ভুয়া সাংবাদিককে হাতেনাতে আটক করেছে সেনাবাহিনী। পরে তাকে কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হলে বিশেষ আইনে প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে এক প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ফরিদপুর সেনা ক্যাম্প।

সেনা ক্যাম্প সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফরিদপুর আর্মি ক্যাম্পের নেতৃত্বে ১৫ রিভারাইন ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন এবং স্থানীয় পুলিশের একটি যৌথ দল কিষাণহাট এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের সময় সেনাবাহিনীর পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে মো. আরিফ শেখকে আটক করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি নিজেকে ‘দৈনিক ঘোষণা’ পত্রিকার প্রতিনিধি দাবি করেন। তবে পরবর্তীতে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হেনস্তা ও চাঁদাবাজির বিষয়টি স্বীকার করেন তিনি। আটক আরিফ শেখ গোয়ালচামট এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
পরে তাকে কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ বিষয়ে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন জানান, সেনাবাহিনীর ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিশেষ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগেও গত বুধবার (২১ জানুয়ারি) ভোররাতে সেনাবাহিনীর অভিযানে মো. জহির মোল্যা (৪১) নামে আরেক ভুয়া সাংবাদিককে আগ্নেয়াস্ত্রসহ আটক করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

সেনা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক জহির মোল্যা ও আরিফ শেখ ফরিদপুরের একটি ভূঁইফোড় সাংবাদিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত।

 

ফরিদপুর জেলা এনসিপির আহ্বায়ক অপু ঠাকুরকে অব্যাহতি

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:০৮ পিএম
ফরিদপুর জেলা এনসিপির আহ্বায়ক অপু ঠাকুরকে অব্যাহতি

ফরিদপুর জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক মো. হাসিবুর রহমান (অপু ঠাকুর)-কে দলীয় সকল দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অমান্য করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) জাতীয় নাগরিক পার্টির দপ্তর সেলের সদস্য মো. তৌহিদ আহমেদ আশিক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ও নীতিগত অবস্থান বজায় রাখার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে মো. হাসিবুর রহমানের ভূমিকা নিয়ে কেন্দ্রে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি দলীয় নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করেননি বলে অভিযোগ ওঠে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নজরে এলে তদন্ত ও পর্যালোচনার মাধ্যমে তাকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেনের নির্দেশক্রমে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। অব্যাহতির ফলে মো. হাসিবুর রহমান এখন থেকে দলের কোনো সাংগঠনিক পদে বহাল থাকবেন না এবং দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনায় তার কোনো ভূমিকা থাকবে না।

এ বিষয়ে দলীয় একাধিক নেতা জানান, এনসিপি একটি শৃঙ্খলাভিত্তিক রাজনৈতিক দল। এখানে ব্যক্তির চেয়ে দলের নীতি, আদর্শ ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলাই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়। কেউ যদি দলীয় সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনার বাইরে গিয়ে কাজ করেন, তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এটাই দলের অবস্থান।

ফরিদপুর জেলা এনসিপির রাজনীতিতে এই সিদ্ধান্ত নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে দলের কার্যক্রমে সাময়িক প্রভাব পড়লেও কেন্দ্রীয় নেতারা আশাবাদী, দ্রুতই সাংগঠনিক শূন্যতা পূরণ করা হবে এবং দলীয় কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক গতিতে এগিয়ে যাবে।

এদিকে অব্যাহতির বিষয়ে মো. হাসিবুর রহমানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ঘটনাকে এনসিপির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা জোরদারের অংশ হিসেবে দেখছেন।