খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

তিতুমীর: স্বাধীনতার সংগ্রামে এক অনন্য অধ্যায়

মোহাম্মদ হাসান শরীফ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:৪৪ এএম
তিতুমীর: স্বাধীনতার সংগ্রামে এক অনন্য অধ্যায়

তিতুমীর নামেই তিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিত। তার পুরো নাম মীর নিসার আলী। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে ভারতবর্ষে প্রথম প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন তিনি। ১৮২৭ সালে শুরু হয়ে ১৮৩১ সালে শেষ হয় এ আন্দোলন। সময়ের হিসাবে খুব একটা বড় নয়। কিন্তু এ আন্দোলন যে প্রভাব রেখে গেছে, তা এখনো অনুভূত হয়। তিতুমীরের আন্দোলন এবং কাছাকাছি সময়ে গড়ে ওঠা ফরায়েজি আন্দোলন মিলে যে গণজাগরণের সৃষ্টি করেছিল, তার প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী।

তিনি ১৭৮২ সালে চব্বিশ পরগনার বারাসারের চাঁদপুর নামের গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ২৭ জানুয়ারি। আর ১৮৩১ সালে তিনি শাহাদতবরণ করেন। তিনি নারকেলবাড়িয়ায় বাঁশের কেল্লার জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত। কিন্তু তিনি যে ভালো কুস্তিগিরও ছিলেন, সেটা খুব বেশি প্রচার হয়নি। মনে রাখতে হবে, অনেক পরে ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র সংগ্রামে বিশ্বাসী যুবকরা নানা প্রশিক্ষণে শরীর চর্চার ওপর যে গুরুত্বারোপ করত, সেটা কিন্তু তিতুমীরেরই দান।

গৌতম ভদ্র অভিমত প্রকাশ করেছেন, তিতুর মূল সামাজিক আবেদন ছিল গ্রামের নিম্নকোটির মানুষদের কাছে। যারা জাতিতে তারা যুগী, জোলা আর কৃষক। প্রায় সবাই গরিব। কলভিন বলেছেন, যাদের কিছু হারানোর আছে, তারা তিতুর দলে যোগ দিয়ে ঝুঁকি নিতে চায়নি। লক্ষণীয় হিন্দুদের পাশাপাশি তিতুর আক্রমণের লক্ষ্য হয়েছে অত্যাচারী মুসলিম জমিদাররাও। সুতরাং এ আন্দোলন শুধু হিন্দুদের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়েছিল এ অতিশয়োক্তি। যারা গো-হত্যা ইত্যাদির মতো দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনায় সাম্প্রদায়িকতার গন্ধ খুঁজে পান, তারা পুরোটা দেখছেন না বা দেখতে চাইছেন না। ড. ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত লিখেছিলেন, জমিদারদের শোষণ উৎপীড়নই তিতুমীরের ‘শান্তিপূর্ণ ধর্মসংস্কার আন্দোলনকে ব্যাপক বিদ্রোহে রূপান্তরিত করেছিল। পরে বিদ্রোহ দমিত হলে যে ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়েছিল তাতে হিন্দু জমিদারদের সঙ্গে মুসলিম জোতদার, মহাজনরা শামিল হয়।

দাড়ি রাখা, লুঙ্গি পরার মাধ্যমে এ আন্দোলনের সদস্যরা তাদের স্বাতন্ত্র্য জাহির করত। তিতু যখন তার আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তোলেন, তখন নিম্নবর্গীয় মুসলমান সমাজের ভেতরেও কাছা দিয়ে ধুতি পরাটাই ছিল সাধারণ দস্তুর। এভাবে ধুতি পরাতে নামাজ আদায়ে কিছু সমস্যা তৈরি হতো। তাই তিতু তহবন্দের আকারে তা পরার অভ্যাসটি চালু করেন। এমন আদেশ বাংলার কৃষক আন্দোলনের আরেক পথিকৃৎ হাজী শরিয়তউল্লাহও দিয়েছিলেন। স্বকীয়তা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দাড়িও ছিল একটি উপাদান। এ দাড়ি ঘিরে তিতুমীর এবং তার সহমর্মীদের ওপর ‘দাড়ি ট্যাক্স’ বসানো হয়েছিল। জমিদারি আইনকে ব্রিটিশ কেবল যে হিন্দু-মুসলমানের বিরুদ্ধে সংঘাত তৈরিতেই ব্যবহার করেছিল, তেমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। মুসলমানের বিরুদ্ধে মুসলমানকে, বিশেষ করে প্রাচীনপন্থিদের সঙ্গে আধুনিকচেতনা, মানসিকতাসম্পন্ন মানুষদের সংঘাত তৈরি করতেও এ জমিদারি আইনকে ব্রিটিশরা ব্যবহার করে।

তিতুমীর বা হাজী শরীয়তুল্লাহরা কৃষক আন্দোলনের সঙ্গে ধর্মীয় বিষয়টি কেন জুড়ে দিয়েছিলেন? তিতুমীরের বিদ্রোহের নাম ছিল ‘তারিক-ই-মুহম্মদিয়া’ আর হাজী শরীয়তুল্লাহটির নাম ছিল ফরায়েজি আন্দোলন। নামকরণকে ব্যবহার করে আন্দোলন দুটিকে এমনভাবে প্রচার করা হয়, উভয়টিই ছিল নিছক ধর্মীয় শুদ্ধি আন্দোলন। ধর্ম অবশ্যই ছিল। তবে এ ব্যাপারে গৌতম ভদ্রের মন্তব্যটি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি তার ইমান ও নিশানে দেখিয়েছেন, সমাজের নিম্নবর্গের মানুষ চরম নির্যাতনের মধ্যে মসজিদ আর ইসলামের মধ্যেই তাদের অভয়ের জায়গা পেয়েছিল। আন্দোলনের নেতারাও এটাকে হাতিয়ার হিসাবে গ্রহণ করেছিলেন।

অবশ্য মনে রাখতে হবে, ধর্মকে ব্রিটিশরাও ব্যবহার করত। তারা কিন্তু কেবল শোষণ, লুণ্ঠন করতেই এখানে আসেনি। তাদের অন্যতম লক্ষ্য ছিল খ্রিষ্টধর্ম প্রচার ও প্রসার। সেই যে প্রথম ইউরোপিয়ান হিসাবে ভাস্কো ডা গামা উপমহাদেশের এসেছিলেন, তার সঙ্গেও ছিল বিপুলসংখ্যক খ্রিষ্ট প্রচারক। ১৮৫৭ সালে মহাবিদ্রোহের প্রধান কারণই ছিল খ্রিষ্টধর্ম। মহাবিদ্রোহ নিয়ে ব্রিটিশদের প্রশ্নের জবাবে স্যার সৈয়দ আহমদ পর্যন্ত স্বীকার করেছিলেন, ভারতবর্ষের বিদ্রোহের মূলে ছিল ওই ব্যাপক জনবিশ্বাস যে, ব্রিটিশরা জনসাধারণকে খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত করতে এবং তাদের ওপর ইউরোপীয় রীতিনীতি চাপিয়ে দিতে বদ্ধপরিকর। একইসঙ্গে গৌতম ভদ্রের মন্তব্যটির দিকেও নজর রাখতে হবে। তিনি তার ইমান ও নিশানে দেখিয়েছেন, তিতুমীর-সম্পর্কিত চালু বইগুলোতে প্রচলিত একটি ভুল ধারণার উল্লেখ করতে হয়। তা হলো, তিতুমীরকে ‘ওহাবি’ বলা। এ নামটি তিতুমীরের সময় বড় একটা চালু ছিল না। উনিশ শতকের অষ্টম দশকে উইলিয়াম হান্টারই এ নামটি ব্যাপকভাবে চালু করেন। যে কোনো ইংরেজবিরোধী মুসলিমের প্রতি শব্দটি প্রয়োগ করা হতো, গোঁড়া ধর্মান্ধ আর বিদ্রোহী মুসলমানের বদলি শব্দ হিসাবে গৃহীত হতো।

ব্রিটিশদের খ্রিষ্টধর্ম প্রচারের আগ্রহ নিয়ে রেজা আসলান নো গড বাট গড গ্রন্থে বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন যে প্রকৃতপক্ষে, ১৮৫৭ সালে যে বাঙালি সৈন্যরা ভারতবর্ষে বিদ্রোহের সূচনা করেছিল, তারা শুধু তাদের প্রাকৃতিক সম্পদ লুণ্ঠনকারী উপনিবেশিক নীতির কারণেই ক্ষুব্ধ ছিল না। বরং, তারা নিশ্চিত ছিল এবং তা যথার্থই ছিল, যে ব্রিটিশ সেনাবাহিনী তাদের জোর করে খ্রিষ্টধর্মে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করছে। তাদের কমান্ডিং অফিসার সব সামরিক ক্লাসে প্রকাশ্যে সুসমাচার (গসপেল) প্রচার করতেন, যা ছিল উদ্বেগের একটি কারণ। কিন্তু, সিপাহিরা যখন জানতে পারল, তাদের রাইফেলের কার্তুজে গরু ও শূকরের চর্বি মাখানো হয়েছে, যা হিন্দু ও মুসলিম উভয়কেই অপবিত্র করে দেবে, তখন তাদের সেই চরম আশঙ্কা সত্যে পরিণত হলো। নাগরিক অবাধ্যতার নিদর্শন হিসাবে একদল সৈন্য ওই কার্তুজ ব্যবহার করতে অস্বীকার করে। এর জবাবে ব্রিটিশ কমান্ডাররা তাদের শিকলবন্দি করেন, সামরিক কারাগারে নিক্ষেপ করেন। ব্রিটিশরা যে ‘সভ্যকরণ মিশন’ চালু করেছিল বিশ্বজুড়ে, সেটাও কার্যত ছিল খ্রিষ্টকরণ মিশন। ডি বিয়ার্স ডায়মন্ড কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা এবং এক সময়কার আধুনিক দক্ষিণ আফ্রিকার কার্যত একনায়ক সেসিল যেমনটি ঘোষণা করেছিলেন : ‘আমরা ব্রিটিশরা পৃথিবীর প্রথম জাতি এবং আমরা বিশ্বের যত বেশি অংশে বাস করব, মানবজাতির জন্য তা তত বেশি মঙ্গলজনক হবে।’

এই তথাকথিত ‘সভ্য করার মিশন’-এর অন্যতম প্রধান সমস্যা ছিল, এটি যতটা না সদিচ্ছা থেকে প্রণোদিত ছিল, তার চেয়েও বেশি এটি একটি ‘খ্রিষ্টান করার মিশন’ দিয়ে আচ্ছন্ন ছিল। মাদ্রাজের গভর্নর স্যার চার্লস ট্রেভেলিয়ানের ভাষায়, যার মূল লক্ষ ছিল ‘স্থানীয়দের খ্রিষ্টধর্মে ধর্মান্তরিত করা ছাড়া অন্য কিছু নয়।’ ভারতবর্ষে খ্রিষ্টান ধর্মপ্রচারকদের সরকারের সর্বোচ্চ পদগুলোতে বসানো হয়েছিল। এমনকি ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর প্রতিটি স্তরেও তাদের উপস্থিতি ছিল। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পরিচালক চার্লস গ্র্যান্ট (১৮৫৮ সাল পর্যন্ত যার হাতে সরকারের প্রায় সব ক্ষমতা ছিল) নিজে একজন সক্রিয় খ্রিষ্টান মিশনারি ছিলেন। তিনি এবং তার বেশিরভাগ দেশবাসী বিশ্বাস করতেন, ঈশ্বর ব্রিটেনকে ভারতবর্ষের শাসনভার দিয়েছেন, যাতে এ দেশকে পৌত্তলিকতার অন্ধকার থেকে বের করে এনে খ্রিষ্টের আলোর পথে পরিচালিত করা যায়। উপমহাদেশের প্রায় অর্ধেক স্কুল পরিচালনা করত গ্র্যান্টের মতো মিশনারিরা, যারা স্থানীয়দের খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত করার জন্য ব্রিটিশ সাম্রাজ্য থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সাহায্য পেত।

অবশ্য সব ঔপনিবেশিক শাসক ব্রিটেনের এ মিশনারি এজেন্ডার সঙ্গে একমত ছিলেন না। ১৮৪২-১৮৪৪ সাল পর্যন্ত গভর্নর জেনারেল হিসাবে দায়িত্ব পালন করা লর্ড এলেনবরো বারবার তার দেশবাসীকে সতর্ক করেছিলেন, সাম্রাজ্যের পক্ষ থেকে খ্রিষ্টধর্ম প্রচারের এই উৎসাহ শুধু সাম্রাজ্যের নিরাপত্তার জন্যই ক্ষতিকর নয়, বরং এটি ব্যাপক জনরোষ এবং সম্ভবত প্রকাশ্য বিদ্রোহের দিকে নিয়ে যেতে পারে। তা সত্ত্বেও এলেনবরোও সম্ভবত ট্রেভেলিয়ানের সঙ্গে একমত হতেন, যিনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে ভারতবর্ষের ধর্ম ‘এত বেশি অনৈতিকতা এবং শারীরিক অসারতার সঙ্গে জড়িত, ইউরোপীয় বিজ্ঞানের আলোর সামনে এটি মুহূর্তেই ভেঙে পড়বে।’

তিতুমীর তার লক্ষ্য অর্জনে সফল হননি। তবে তাই বলে তার বিদ্রোহ ব্যর্থ হয়েছে, তাও বলা যাবে না। তার এবং অন্যদের আন্দোলনের রেশ ধরেই ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহ ব্রিটিশরাজকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। আর এর রেশ ধরেই আরও পরে আমাদের স্বাধীনতা আসে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে কৃষক বিদ্রোহের যে অল্প কয়েকজন নেতা অবহেলিত নন, তাদের মধ্যে তিতুমীর একজন। স্কুলপাঠ্য ইতিহাসে তার জায়গা আছে, তাকে ঘিরে লেখা হয়েছে নাটক, উপন্যাস। বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক ইবনে মিজান ‘শহীদ তিতুমীর’ নামে সিনেমাও বানিয়েছিলেন। তবে একটু খুঁটিয়ে দেখলে দেখা যাবে, তিতুমীর সম্পর্কে জানি আমরা সবচেয়ে কম। এ অভাবটাই আমাদের পূরণ করতে হবে।

মোহাম্মদ হাসান শরীফ : সাংবাদিক

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৪:০৩ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঈদের নামাজ শেষে দুই দল গ্রামবাসী মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ১৫/২০ টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হয় বলে জানা গেছে।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত দুই ঘন্টা ব্যাপী দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে চলে এ সংঘর্ষ। দুই পক্ষ ঢাল, সরকি, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে-অপরের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। এ সময় এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের ইসমাইল মুন্সি ও চুন্নু মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দিনগত রাত সাড়ে বারটার দিকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত ১২ জন আহত হন। এর জের ধরে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।