খুঁজুন
শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১২ বৈশাখ, ১৪৩৩

২০২৬ সালে ভ্রমণের জন্য সেরা ২০ আন্তর্জাতিক গন্তব্য

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:৩৫ অপরাহ্ণ
২০২৬ সালে ভ্রমণের জন্য সেরা ২০ আন্তর্জাতিক গন্তব্য

যেখানে নীল লেগুন ঘেরা পলিনেশিয়ার দ্বীপ থেকে শুরু করে চিলির ওয়াইন ক্ষেত্রের হার্ট অবভেন্যু—এই বছর জাগানো অভিজ্ঞতার জন্য বিশ্বের নানা প্রান্তের গন্তব্য।

ভ্রমণপ্রেমীরা সাধারণত দব্রোভনিকে পছন্দ করেন; কিন্তু দুনিয়ার অনেকে তাই করে। তবে ক্রোয়েশিয়ার কাছাকাছি মন্টেনেগ্রোও রয়েছে অসাধারণ সাগরতীর শহর, নতুন হাইকিং ট্রেইল এবং পাহাড়ি কমিউনিটিগুলোর সঙ্গে সংযোগ।

অন্যদিকে, বুয়েনাস আইরেসের থেকে জলপথ পেরিয়ে মন্টেভিডিওর সবুজ শহর, যেখানে বিশ্বের মানের টাঙ্গো, স্টেক এবং স্থাপত্য উপভোগ করা যায়। আর রোম হয়তো চিরন্তন, তবে আলজেরিয়ার প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ জনসমুদ্র ছাড়াই ঘুরে দেখার সুযোগ দেয়।

এই বছরের ভ্রমণ গাইডে আমরা এমন জায়গাগুলো তুলে ধরেছি, যেখানে অসাধারণ অভিজ্ঞতার সঙ্গে ট্যুরিজম স্থানীয় কমিউনিটি, পরিবেশ এবং সংস্কৃতির রক্ষায় সাহায্য করছে। তালিকা তৈরিতে আমরা বিশ্বস্ত সাংবাদিক, ট্যুরিজম বিশেষজ্ঞ এবং সাস্টেনেবল ট্র্যাভেলের নেতৃত্বদানকারী অভিজ্ঞদের পরামর্শ নিয়েছি।

আবুধাবি
কেন যাবেন: নতুন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও থিম পার্ক অভিজ্ঞতার জন্য

মরুভূমির বাতাসে এক উত্তেজনার ঢেউ। লুভর আবু ধাবি খোলার পর, শহরের সাদিয়াত কালচারাল জেলা ধাপে ধাপে নতুন রূপ নিচ্ছে। বিশ্বের বৃহত্তম ডিজিটাল আর্ট মিউজিয়াম, টিমল্যাব ফেনোমেনা, এবং জায়েদ ন্যাশনাল মিউজিয়াম দর্শকদের জন্য খুলেছে। এখানে আবু ধাবির ইতিহাস, ইসলামিক প্রভাব এবং দেশের প্রতিষ্ঠাতার ভিশন দেখতে পারবেন।

মিউজিয়ামের বাইরে, আবুধাবি থিম পার্কেও এগিয়ে যাচ্ছে। ইয়াস আইল্যান্ডে ওয়ানার ব্রোস ওয়ার্ল্ড এবং ইয়াস ওয়াটারওয়ার্ল্ডে নতুন রাইড ও বিনোদন যোগ হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম ডিজনিল্যান্ডও এখানে আসছে।

আলজেরিয়া
কেন যাবেন: রোমান ধ্বংসাবশেষ, মরুভূমি এবং সাংস্কৃতিক রক্ষণাবেক্ষণ

রোমান ধ্বংসাবশেষ, বিস্ময়কর মরুভূমি এবং ঐতিহাসিক শহরগুলোতে আলজেরিয়ার অনন্য সৌন্দর্য। দেশটি পর্যটন বৃদ্ধি করতে নতুন ভিসা নীতি এবং ফ্লাইট সংযোগ চালু করেছে। আলজিয়ার্সের সৈকত শহর, কনস্টান্টিনের ইউনেস্কো সাইট এবং টিমগাদ ও জেমিলা রোমান ধ্বংসাবশেষ সহজে ঘুরে দেখার সুযোগ। সাহারা মরুভূমির দ্যুতি আর জ্যানেট শহর থেকে মরুভূমি অভিযান শুরু করা যায়।

চিলি, কলচাগুয়া ভ্যালি
কেন যাবেন: ওয়াইন, কওয়বয় এবং তারামণ্ডল

সান্তিয়াগোর দুই ঘণ্টা দক্ষিণে, চিলির কলচাগুয়া ভ্যালি ওয়াইন, ঐতিহ্যবাহী হ্যাসিয়েন্ডা এবং পাহাড়ি হাইকিং-এর জন্য বিখ্যাত। এখানে অতিথিরা ওয়াইন চেখে দেখতে পারবেন, রাত কাটাতে পারবেন আঙ্গুর ক্ষেত্রের মাঝের আধুনিক ভিলায়। ছাড়াও, রোডিও, তারামণ্ডল পর্যবেক্ষণ এবং স্থানীয় বাজার ও উপকণ্ঠের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করার সুযোগ রয়েছে।

কুক দ্বীপপুঞ্জ
কেন যাবেন: শান্ত ও স্বচ্ছ নীল লেগুনের প্যারাডাইস

রারোটোঙ্গা, বৃহত্তম দ্বীপ, দক্ষিণ প্রশান্তির স্বপ্নের মতো। এছাড়াও, ১৩টি ছোট দ্বীপে প্রায় স্বতন্ত্রভাবে ঘুরে দেখা যায়। নতুন পরিবেশগত উদ্যোগ এবং সংস্কৃতিক সংরক্ষণ কার্যক্রম ২০২৬ সালে আরও শক্তিশালী হবে।

কোস্টারিকা
কেন যাবেন: পৃথিবীর সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় বায়োস্ফিয়ার হটস্পট

রেইনফরেস্ট, সৈকত, প্যাসিফিক এবং বিপুল জীববৈচিত্র্য—সবই এক জায়গায়। ২০২৬ সালে স্থানীয় সংস্থা ও ন্যাশনাল পার্টনাররা সুরক্ষিত এলাকা বৃদ্ধি করবে এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক ইকো-ট্যুরিজমকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।

স্কটল্যান্ড, হেব্রাইডিস
কেন যাবেন: প্রাচীন স্মারক, হোয়াইট-স্যান্ড সৈকত এবং স্কটিশ আতিথেয়তা

লুইস, বারারা এবং আইলেই-এর দ্বীপগুলো প্রাচীন স্থাপত্য, নতুন হুইস্কি ডিস্টিলারি এবং শান্ত সৈকতের জন্য বিখ্যাত। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন এই দ্বীপগুলোকে অনন্য করে তোলে।

জাপান, ইশিকাও
কেন যাবেন: ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প ও সাকের জন্য

নোটো উপদ্বীপে ২০২৪ সালের ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পুনর্নির্মাণের পথে। স্থানীয় হস্তশিল্প ও পরিবার-নির্বাহিত ইন্সে থাকার মাধ্যমে ভ্রমণকারীরা কমিউনিটি ও সংস্কৃতি রক্ষায় সাহায্য করতে পারেন।

ইন্দোনেশিয়া, কমোডো দ্বীপপুঞ্জ
কেন যাবেন: প্রাগৈতিহাসিক প্রাণী, প্রবাল রিফ এবং সংরক্ষণ

কমোডো ড্রাগন, মন্টা রে এবং প্রবাল উদ্যানের সঙ্গে এক অনন্য অভিজ্ঞতা। সঠিক নিয়ন্ত্রণ ও ইকো-লজ ব্যবস্থার মাধ্যমে স্থানীয় কমিউনিটি ও পরিবেশ সংরক্ষণে সাহায্য করা যায়।

অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গন্তব্য
লোরেতো, মেক্সিকো: বায়ু ও সমুদ্র সংরক্ষণ এবং পর্যটক অভিযানের জন্য।

মন্টেনেগ্রো: কোতার উপসাগর ও অপ্রদূষিত পাহাড়ি অঞ্চলে হাইকিং।

ওরেগন কোস্ট, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র: অসাধারণ সমুদ্র তীর এবং সাইক্লিং।

ওউলু, ফিনল্যান্ড: আর্কটিক সংস্কৃতি ও সৃজনশীল উদযাপন।

ফিলাডেলফিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র: ২৫০ বছর উদযাপন এবং খেলা।

ফ্নোম পেন, কম্বোডিয়া: নতুন বিমানবন্দর, টেকসই পর্যটন।

গুইমারায়েস, পর্তুগাল: ইউরোপীয় সবুজ রাজধানী ও ঐতিহাসিক শহর।

সামবুরু, কেনিয়া: বিরল বন্যপ্রাণী ও তারা পর্যবেক্ষণ।

সান্টো ডমিংগো, ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র: উৎসব ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা।

স্লোকান ভ্যালি, কানাডা: ইতিহাস-উদ্দেশ্যমূলক হাইকিং ট্রেইল।

উলুরু, অস্ট্রেলিয়া: প্রাচীন পবিত্র ভূমি এবং ন্যাচার ওয়ার্কশপ।

উরুগুয়ে: ফ্লামিংগো লেগুন, স্টেক এবং টেকসই পর্যটন।

২০২৬ সালে ভ্রমণ মানে শুধুই দেখার নয়—অভিজ্ঞতা, শিক্ষা এবং প্রভাব। এই গন্তব্যগুলো কেবল দর্শনের জন্য নয়, বরং স্থানীয় কমিউনিটি ও পরিবেশকে সমর্থন করার সুযোগ দেয়। চাই সেটা পাহাড়ে হাইকিং হোক বা সমুদ্রের নীল জলে শোভা, এই ভ্রমণগুলো মনে রাখার মতো এবং দায়িত্বশীল। পর্যটক হিসেবে আমাদের পদক্ষেপই এই বিশ্বের ভবিষ্যতকে সুন্দর করে তোলে।

সূত্র : BBC Travels

সংবাদ প্রকাশের পর: জমিদার বাড়ি সংরক্ষণে পদক্ষেপের ঘোষণা দিলেন এমপি বাবুল

সদরপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:২৯ অপরাহ্ণ
সংবাদ প্রকাশের পর: জমিদার বাড়ি সংরক্ষণে পদক্ষেপের ঘোষণা দিলেন এমপি বাবুল

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাইশরশি জমিদার বাড়ি সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন ফরিদপুর-৪ (সদরপুর, ভাঙ্গা ও চরভদ্রাসন) আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। এরই প্রেক্ষিতে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টার দিকে এমপি বাবুল সরেজমিনে জমিদার বাড়িটি পরিদর্শন করেন এবং সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, এই জমিদার বাড়িটি আমাদের এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন। এটিকে রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। ইতোমধ্যে আমরা এটি অধিদপ্তর-এর আওতায় এনে সংরক্ষণের চেষ্টা করছি।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে থাকা এই জমিদার বাড়ির বিভিন্ন অংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি গুপ্তধনের আশায় বউঘাট খননের ঘটনাও এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

শহিদুল ইসলাম বাবুলের এ ঘোষণায় এলাকাবাসীর মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।

ফরিদপুরে ৫ প্রাণহানির পরও নিরাপত্তাহীন কাফুরা রেলক্রসিং, নেই গেট-গেটম্যান—ঝুঁকিতে মানুষ

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৫০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ৫ প্রাণহানির পরও নিরাপত্তাহীন কাফুরা রেলক্রসিং, নেই গেট-গেটম্যান—ঝুঁকিতে মানুষ

ফরিদপুর সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়নের কাফুরা রেলক্রসিংটি দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই রেলক্রসিংয়ে নেই কোনো লেভেল ক্রসিং গেট, নেই গেটম্যান—ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন পথচারী ও যানবাহন চালকরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বহুবার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৭ জানুয়ারি এই কাফুরা রেলক্রসিংয়েই ভয়াবহ এক দুর্ঘটনায় ট্রেন ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে ৫ জন নিহত হন। আহত হন আরও কয়েকজন, যাদের তাৎক্ষণিকভাবে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকাগামী একটি ট্রেন রেলগেট অতিক্রম করার সময় একটি মাইক্রোবাস হঠাৎ লাইনের ওপর উঠে পড়লে এ সংঘর্ষ ঘটে। ট্রেনের ধাক্কায় মাইক্রোবাসটি প্রায় ৫০ গজ দূরে ছিটকে গিয়ে পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায়।

দুর্ঘটনার সময় সেখানে কোনো গেট বা গেটম্যান না থাকাই বড় কারণ হিসেবে উঠে আসে। এরপর স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে কর্তৃপক্ষ একাধিকবার ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কাফুরা রেলক্রসিংয়ে এখনো নেই কোনো স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ট্রেন আসার সময় সতর্কবার্তা বা ব্যারিয়ার না থাকায় হঠাৎ করেই যানবাহন লাইনে উঠে পড়ছে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ওহিদুল ফকির বলেন, “প্রতিদিনই ভয় নিয়ে রাস্তা পার হতে হয়। ট্রেন কখন আসবে, কোনো ধারণা থাকে না। দ্রুত এখানে গেটম্যান নিয়োগ জরুরি।”

অটোরিকশা চালক হামিদ শরীফ বলেন, “হঠাৎ ট্রেন চলে এলে দুর্ঘটনা এড়ানো কঠিন হয়ে যায়। অনেক সময় অল্পের জন্য বেঁচে যাই।”

এলাকার চা দোকানদার হেলাল বেপারি জানান, “ট্রেন এলে আমরা নিজেরাই রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে গাড়ি থামানোর চেষ্টা করি।”

ঝালমুড়ি বিক্রেতা রফিক মোল্যা বলেন, “এখানে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। এত মানুষ মারা গেলেও কর্তৃপক্ষের কোনো মাথাব্যথা নেই।”

চটপটি বিক্রেতা মো. হায়দার মন্ডল বলেন, “প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে এই রাস্তা দিয়ে। ঝুঁকি থাকলেও যেন কারো নজর নেই—এটা খুবই দুঃখজনক।”

এ বিষয়ে ফরিদপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার প্রহলাদ বিশ্বাস ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে জানান, “গেটম্যান নিয়োগ ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন।”

এ ব্যাপারে রেলওয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাহাবুব হাসান ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, এ ব্যাপারে পাকশীতে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও এখনও এর কোনো সমাধান মিলেনি।

রেলওয়ের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মোসা. হাসিনা খাতুন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “এটি সম্ভবত অননুমোদিত রেলগেট হওয়ায় গেটম্যান নেই। তবে বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, বিষয়টি আমরা ইতোমধ্যে জেনেছি। আমরা এলাকাবাসী ও ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুতই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সোহরাব হোসেন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “জননিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাইতো সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে শ্রীঘ্রই সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

যে বটগাছ জানে আমার হারিয়ে যাওয়া দিনগুলোর কথা

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ
যে বটগাছ জানে আমার হারিয়ে যাওয়া দিনগুলোর কথা

গ্রামের বটের ছায়ায় বসে থাকা হারানো শৈশব
বিকেলের আলোটা আজও ঠিক আগের মতোই নরম হয়ে আসে। হালকা সোনালি রোদ ধানের ক্ষেতে পড়ে যেন একরাশ স্মৃতি ঝলমল করে ওঠে।

গ্রামের সেই পুরোনো বটগাছটা—যার শেকড়গুলো মাটিতে নেমে এসে যেন আরেকটা পৃথিবী তৈরি করেছে—আজও দাঁড়িয়ে আছে ঠিক আগের মতোই। শুধু বদলে গেছে সময়, বদলে গেছে মানুষ, আর হারিয়ে গেছে এক টুকরো শৈশব।

রফিক আজ অনেক বছর পর গ্রামে ফিরেছে। শহরের ব্যস্ততা, চাকরি, সংসার—সব মিলিয়ে সে যেন ভুলেই গিয়েছিল এই মাটির গন্ধ। কিন্তু আজ হঠাৎ করেই মনে হলো, একবার ফিরে দেখা দরকার। সেই জায়গাগুলোকে, যেগুলো তার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময়গুলোকে আগলে রেখেছিল।

বটগাছটার নিচে এসে দাঁড়াতেই বুকের ভেতর কেমন একটা হাহাকার উঠে গেল। কতদিন, কত বছর পরে সে এখানে এসেছে! অথচ জায়গাটা যেন ঠিক আগের মতোই আছে—শুধু নেই সেই মানুষগুলো, নেই সেই হাসির শব্দ।

ছোটবেলায় এই বটগাছটার নিচেই ছিল তাদের আস্তানা। বিকেল হলেই সে, বাবু, করিম, লিপি—সবাই একসাথে জড়ো হতো এখানে। কখনও গোল্লাছুট, কখনও কাবাডি, আবার কখনও শুধু গল্প আর হাসাহাসি। সময় যেন তখন থেমে থাকতো তাদের জন্য।

রফিক ধীরে ধীরে গাছটার একপাশে বসে পড়ল। হাত দিয়ে ছুঁয়ে দেখল গাছের খসখসে গা। মনে হলো, গাছটা যেন তাকে চিনে ফেলেছে। যেন বলছে—“এতদিন কোথায় ছিলি?”

হঠাৎ করেই তার মনে পড়ল এক বিকেলের কথা।
সেদিন আকাশে মেঘ ছিল, হালকা বাতাস বইছিল। তারা সবাই মিলে লুকোচুরি খেলছিল। রফিক লুকিয়ে ছিল বটগাছের পেছনে। তখন লিপি এসে বলেছিল— “এই, তুই এখানে! আমি তোকে খুঁজেই পাচ্ছিলাম না।”

রফিক তখন মুচকি হেসে বলেছিল— “তুই খুঁজে পাবি না, আমি খুব ভালো লুকাই।”
লিপি হেসে বলেছিল— “বড় হয়ে তুই নিশ্চয়ই গুপ্তচর হবি!”

সেই হাসির শব্দটা আজও যেন বাতাসে ভাসে। কিন্তু লিপি এখন কোথায়? কেমন আছে? হয়তো সংসার নিয়ে ব্যস্ত, হয়তো এই গ্রাম ছেড়ে অনেক দূরে চলে গেছে।

রফিক একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
শৈশবের বন্ধুরা একে একে হারিয়ে গেছে জীবনের স্রোতে। কেউ শহরে, কেউ বিদেশে, কেউ বা এই পৃথিবী ছেড়েই চলে গেছে। শুধু এই বটগাছটা রয়ে গেছে, সব স্মৃতি আগলে রেখে।
তার চোখের কোণে জল এসে গেল। সে চুপচাপ বসে রইল।

হঠাৎ দূর থেকে একটা বাচ্চার হাসির শব্দ ভেসে এলো। সে তাকিয়ে দেখল—কয়েকটা ছোট ছেলে-মেয়ে খেলছে ঠিক সেই জায়গায়, যেখানে একসময় তারা খেলত।

একটা ছোট ছেলে দৌড়ে এসে গাছটার পাশে দাঁড়াল, ঠিক যেভাবে রফিক দাঁড়াত ছোটবেলায়। ছেলেটা হাসতে হাসতে বলল— “ধরতে পারবি না!”
এই দৃশ্যটা দেখে রফিকের বুকটা কেমন যেন কেঁপে উঠল। সময় বদলায়, মানুষ বদলায়, কিন্তু শৈশব—সে তো একই থাকে, শুধু মানুষ বদলে যায়।
সে উঠে দাঁড়াল। ধীরে ধীরে ছেলেগুলোর দিকে এগিয়ে গেল।

“তোমরা কী খেলছো?”—সে জিজ্ঞেস করল।
একটা মেয়ে উত্তর দিল— “লুকোচুরি!”
রফিক হেসে বলল— “আমরাও এই গাছটার নিচে এই খেলাটাই খেলতাম।”

ছেলেমেয়েগুলো অবাক হয়ে তার দিকে তাকাল। যেন তারা বুঝতে পারছে না—এই মানুষটা কীভাবে তাদের মতোই একসময় এখানে খেলেছে।
একটা ছেলে বলল— “আপনি এখানে থাকতেন?”
রফিক মাথা নেড়ে বলল— “হ্যাঁ, অনেক দিন আগে।”

ছেলেটা বলল— “তাহলে আপনি আমাদের সাথে খেলবেন?”

প্রশ্নটা শুনে রফিক একটু থমকে গেল। কত বছর হয়ে গেছে সে এমন করে খেলেনি! কিন্তু আজ কেন যেন মনে হলো—আবার একবার ফিরে যাওয়া যাক সেই সময়ে।

সে মুচকি হেসে বলল— “খেলব।”
খেলা শুরু হলো। রফিক দৌড়াচ্ছে, লুকাচ্ছে, হাসছে—ঠিক যেমনটা করত ছোটবেলায়। কিছুক্ষণ জন্য সে ভুলেই গেল যে সে এখন বড় হয়ে গেছে, তার দায়িত্ব আছে, তার বাস্তবতা আছে।
সেই মুহূর্তে সে শুধু একজন শিশু—একজন হারানো শৈশব ফিরে পাওয়া মানুষ।

খেলা শেষ হওয়ার পর সে হাঁপাতে হাঁপাতে বটগাছটার নিচে বসে পড়ল। ছেলেমেয়েগুলোও তার পাশে এসে বসলো।
একটা মেয়ে জিজ্ঞেস করল— “আপনি আবার আসবেন?”

রফিক একটু চুপ করে থেকে বলল— “হ্যাঁ, আসব।”
কিন্তু সে জানে—জীবনের ব্যস্ততা তাকে আবার টেনে নিয়ে যাবে। হয়তো আবার অনেক বছর কেটে যাবে।

তবুও সে একটা প্রতিজ্ঞা করল—এই জায়গাটা, এই বটগাছটা, এই স্মৃতিগুলো—সে আর ভুলে যাবে না।
সূর্য তখন ধীরে ধীরে পশ্চিমে ঢলে পড়ছে। আকাশ লাল হয়ে উঠেছে। পাখিরা বাসায় ফিরছে।
রফিক উঠে দাঁড়াল। একবার শেষবারের মতো গাছটার দিকে তাকাল।

তার মনে হলো—এই গাছটা শুধু একটা গাছ নয়। এটা তার শৈশব, তার স্মৃতি, তার হারানো সময়।
সে ধীরে ধীরে হাঁটতে শুরু করল। পেছনে পড়ে রইল বটগাছটা—কিন্তু তার ভেতরে থেকে গেল এক টুকরো শৈশব।

হাঁটতে হাঁটতে তার মনে হলো—শৈশব কখনও পুরোপুরি হারিয়ে যায় না। সেটা কোথাও না কোথাও থেকে যায়—একটা গাছের ছায়ায়, একটা বিকেলের রোদে, বা কোনো পুরোনো হাসির শব্দে।
আর যখনই মানুষ একটু থেমে ফিরে তাকায়—সেই শৈশব আবার ফিরে আসে, খুব নীরবে, খুব গভীরভাবে।

রফিকের চোখে তখন আর জল নেই। আছে একরাশ শান্তি।
কারণ সে জানে—তার হারানো শৈশব পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি।
সে এখনো বসে আছে—গ্রামের বটের ছায়ায়। 🌿

লেখক: সংবাদকর্মী, ফরিদপুর