খুঁজুন
বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

২০২৬ সালে ভ্রমণের জন্য সেরা ২০ আন্তর্জাতিক গন্তব্য

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:৩৫ অপরাহ্ণ
২০২৬ সালে ভ্রমণের জন্য সেরা ২০ আন্তর্জাতিক গন্তব্য

যেখানে নীল লেগুন ঘেরা পলিনেশিয়ার দ্বীপ থেকে শুরু করে চিলির ওয়াইন ক্ষেত্রের হার্ট অবভেন্যু—এই বছর জাগানো অভিজ্ঞতার জন্য বিশ্বের নানা প্রান্তের গন্তব্য।

ভ্রমণপ্রেমীরা সাধারণত দব্রোভনিকে পছন্দ করেন; কিন্তু দুনিয়ার অনেকে তাই করে। তবে ক্রোয়েশিয়ার কাছাকাছি মন্টেনেগ্রোও রয়েছে অসাধারণ সাগরতীর শহর, নতুন হাইকিং ট্রেইল এবং পাহাড়ি কমিউনিটিগুলোর সঙ্গে সংযোগ।

অন্যদিকে, বুয়েনাস আইরেসের থেকে জলপথ পেরিয়ে মন্টেভিডিওর সবুজ শহর, যেখানে বিশ্বের মানের টাঙ্গো, স্টেক এবং স্থাপত্য উপভোগ করা যায়। আর রোম হয়তো চিরন্তন, তবে আলজেরিয়ার প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ জনসমুদ্র ছাড়াই ঘুরে দেখার সুযোগ দেয়।

এই বছরের ভ্রমণ গাইডে আমরা এমন জায়গাগুলো তুলে ধরেছি, যেখানে অসাধারণ অভিজ্ঞতার সঙ্গে ট্যুরিজম স্থানীয় কমিউনিটি, পরিবেশ এবং সংস্কৃতির রক্ষায় সাহায্য করছে। তালিকা তৈরিতে আমরা বিশ্বস্ত সাংবাদিক, ট্যুরিজম বিশেষজ্ঞ এবং সাস্টেনেবল ট্র্যাভেলের নেতৃত্বদানকারী অভিজ্ঞদের পরামর্শ নিয়েছি।

আবুধাবি
কেন যাবেন: নতুন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও থিম পার্ক অভিজ্ঞতার জন্য

মরুভূমির বাতাসে এক উত্তেজনার ঢেউ। লুভর আবু ধাবি খোলার পর, শহরের সাদিয়াত কালচারাল জেলা ধাপে ধাপে নতুন রূপ নিচ্ছে। বিশ্বের বৃহত্তম ডিজিটাল আর্ট মিউজিয়াম, টিমল্যাব ফেনোমেনা, এবং জায়েদ ন্যাশনাল মিউজিয়াম দর্শকদের জন্য খুলেছে। এখানে আবু ধাবির ইতিহাস, ইসলামিক প্রভাব এবং দেশের প্রতিষ্ঠাতার ভিশন দেখতে পারবেন।

মিউজিয়ামের বাইরে, আবুধাবি থিম পার্কেও এগিয়ে যাচ্ছে। ইয়াস আইল্যান্ডে ওয়ানার ব্রোস ওয়ার্ল্ড এবং ইয়াস ওয়াটারওয়ার্ল্ডে নতুন রাইড ও বিনোদন যোগ হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম ডিজনিল্যান্ডও এখানে আসছে।

আলজেরিয়া
কেন যাবেন: রোমান ধ্বংসাবশেষ, মরুভূমি এবং সাংস্কৃতিক রক্ষণাবেক্ষণ

রোমান ধ্বংসাবশেষ, বিস্ময়কর মরুভূমি এবং ঐতিহাসিক শহরগুলোতে আলজেরিয়ার অনন্য সৌন্দর্য। দেশটি পর্যটন বৃদ্ধি করতে নতুন ভিসা নীতি এবং ফ্লাইট সংযোগ চালু করেছে। আলজিয়ার্সের সৈকত শহর, কনস্টান্টিনের ইউনেস্কো সাইট এবং টিমগাদ ও জেমিলা রোমান ধ্বংসাবশেষ সহজে ঘুরে দেখার সুযোগ। সাহারা মরুভূমির দ্যুতি আর জ্যানেট শহর থেকে মরুভূমি অভিযান শুরু করা যায়।

চিলি, কলচাগুয়া ভ্যালি
কেন যাবেন: ওয়াইন, কওয়বয় এবং তারামণ্ডল

সান্তিয়াগোর দুই ঘণ্টা দক্ষিণে, চিলির কলচাগুয়া ভ্যালি ওয়াইন, ঐতিহ্যবাহী হ্যাসিয়েন্ডা এবং পাহাড়ি হাইকিং-এর জন্য বিখ্যাত। এখানে অতিথিরা ওয়াইন চেখে দেখতে পারবেন, রাত কাটাতে পারবেন আঙ্গুর ক্ষেত্রের মাঝের আধুনিক ভিলায়। ছাড়াও, রোডিও, তারামণ্ডল পর্যবেক্ষণ এবং স্থানীয় বাজার ও উপকণ্ঠের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করার সুযোগ রয়েছে।

কুক দ্বীপপুঞ্জ
কেন যাবেন: শান্ত ও স্বচ্ছ নীল লেগুনের প্যারাডাইস

রারোটোঙ্গা, বৃহত্তম দ্বীপ, দক্ষিণ প্রশান্তির স্বপ্নের মতো। এছাড়াও, ১৩টি ছোট দ্বীপে প্রায় স্বতন্ত্রভাবে ঘুরে দেখা যায়। নতুন পরিবেশগত উদ্যোগ এবং সংস্কৃতিক সংরক্ষণ কার্যক্রম ২০২৬ সালে আরও শক্তিশালী হবে।

কোস্টারিকা
কেন যাবেন: পৃথিবীর সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় বায়োস্ফিয়ার হটস্পট

রেইনফরেস্ট, সৈকত, প্যাসিফিক এবং বিপুল জীববৈচিত্র্য—সবই এক জায়গায়। ২০২৬ সালে স্থানীয় সংস্থা ও ন্যাশনাল পার্টনাররা সুরক্ষিত এলাকা বৃদ্ধি করবে এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক ইকো-ট্যুরিজমকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।

স্কটল্যান্ড, হেব্রাইডিস
কেন যাবেন: প্রাচীন স্মারক, হোয়াইট-স্যান্ড সৈকত এবং স্কটিশ আতিথেয়তা

লুইস, বারারা এবং আইলেই-এর দ্বীপগুলো প্রাচীন স্থাপত্য, নতুন হুইস্কি ডিস্টিলারি এবং শান্ত সৈকতের জন্য বিখ্যাত। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন এই দ্বীপগুলোকে অনন্য করে তোলে।

জাপান, ইশিকাও
কেন যাবেন: ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প ও সাকের জন্য

নোটো উপদ্বীপে ২০২৪ সালের ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পুনর্নির্মাণের পথে। স্থানীয় হস্তশিল্প ও পরিবার-নির্বাহিত ইন্সে থাকার মাধ্যমে ভ্রমণকারীরা কমিউনিটি ও সংস্কৃতি রক্ষায় সাহায্য করতে পারেন।

ইন্দোনেশিয়া, কমোডো দ্বীপপুঞ্জ
কেন যাবেন: প্রাগৈতিহাসিক প্রাণী, প্রবাল রিফ এবং সংরক্ষণ

কমোডো ড্রাগন, মন্টা রে এবং প্রবাল উদ্যানের সঙ্গে এক অনন্য অভিজ্ঞতা। সঠিক নিয়ন্ত্রণ ও ইকো-লজ ব্যবস্থার মাধ্যমে স্থানীয় কমিউনিটি ও পরিবেশ সংরক্ষণে সাহায্য করা যায়।

অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গন্তব্য
লোরেতো, মেক্সিকো: বায়ু ও সমুদ্র সংরক্ষণ এবং পর্যটক অভিযানের জন্য।

মন্টেনেগ্রো: কোতার উপসাগর ও অপ্রদূষিত পাহাড়ি অঞ্চলে হাইকিং।

ওরেগন কোস্ট, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র: অসাধারণ সমুদ্র তীর এবং সাইক্লিং।

ওউলু, ফিনল্যান্ড: আর্কটিক সংস্কৃতি ও সৃজনশীল উদযাপন।

ফিলাডেলফিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র: ২৫০ বছর উদযাপন এবং খেলা।

ফ্নোম পেন, কম্বোডিয়া: নতুন বিমানবন্দর, টেকসই পর্যটন।

গুইমারায়েস, পর্তুগাল: ইউরোপীয় সবুজ রাজধানী ও ঐতিহাসিক শহর।

সামবুরু, কেনিয়া: বিরল বন্যপ্রাণী ও তারা পর্যবেক্ষণ।

সান্টো ডমিংগো, ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র: উৎসব ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা।

স্লোকান ভ্যালি, কানাডা: ইতিহাস-উদ্দেশ্যমূলক হাইকিং ট্রেইল।

উলুরু, অস্ট্রেলিয়া: প্রাচীন পবিত্র ভূমি এবং ন্যাচার ওয়ার্কশপ।

উরুগুয়ে: ফ্লামিংগো লেগুন, স্টেক এবং টেকসই পর্যটন।

২০২৬ সালে ভ্রমণ মানে শুধুই দেখার নয়—অভিজ্ঞতা, শিক্ষা এবং প্রভাব। এই গন্তব্যগুলো কেবল দর্শনের জন্য নয়, বরং স্থানীয় কমিউনিটি ও পরিবেশকে সমর্থন করার সুযোগ দেয়। চাই সেটা পাহাড়ে হাইকিং হোক বা সমুদ্রের নীল জলে শোভা, এই ভ্রমণগুলো মনে রাখার মতো এবং দায়িত্বশীল। পর্যটক হিসেবে আমাদের পদক্ষেপই এই বিশ্বের ভবিষ্যতকে সুন্দর করে তোলে।

সূত্র : BBC Travels

তালাক ছাড়াই অন্যের স্ত্রীকে বিয়ে, নাসির-তামিমা খালাস

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২:১৮ অপরাহ্ণ
তালাক ছাড়াই অন্যের স্ত্রীকে বিয়ে, নাসির-তামিমা খালাস

তালাক ছাড়াই অন্যের স্ত্রীকে বিয়ে করার অভিযোগে জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (১০ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ রায় দেন।

এর আগে বুধবার (৬ মে) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম রায়ের জন্য এ দিন ধার্য করেন।

গত ১৬ এপ্রিল মামলাটিতে বাদীপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।

মামলাটিতে বাদীপক্ষে ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। এরপর আসামিরা সাফাই সাক্ষ্য দেন।

মামলাটিতে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনও শেষ হয়।
২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাম্মির সাবেক স্বামী রাকিব হাসান বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তাম্মি ও রাকিবের বিয়ে হয়।

তাদের আট বছরের একটি মেয়েও রয়েছে। তাম্মি পেশায় একজন কেবিন ক্রু। ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তাম্মি ও ক্রিকেটার নাসির হোসেনের বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা রাকিবের নজরে আসে। পরে পত্র-পত্রিকায় তিনি ঘটনার বিষয়ে সম্পূর্ণ জানেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, রাকিবের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক চলমান অবস্থাতেই তাম্মি নাসিরকে বিয়ে করেছেন; যা ধর্মীয় এবং রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ। তাম্মিকে প্রলুব্ধ করে নিজের কাছে নিয়ে গেছেন নাসির। তাদের এমন অনৈতিক ও অবৈধ সম্পর্কের কারণে রাকিব ও তার আট বছর বয়সী কন্যা মারাত্মকভাবে মানসিক বিপর্যস্ত হয়েছেন। আসামিদের এমন কার্যকলাপে রাকিবের চরমভাবে মানহানি হয়েছে, যা তার জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

এ মামলায় ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। তবে নাসিরের শাশুড়ি সুমি আক্তারকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এরপর একই বছরের ৬ মার্চ মহানগর দায়রা জজ আদালতে নাসির ও তামিমা অভিযোগ গঠনের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন করেন। অন্যদিকে সুমি আক্তারকে অব্যাহতির আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন দায়ের করেন বাদীপক্ষ।

২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষের রিভিশন আবেদন নামঞ্জুর করে ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুর্শিদ আহাম্মেদ মামলাটির বিচার চলবে বলে আদেশ দেন। এরপর নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

ফরিদপুর জেলা কারাগারে বন্দিদের মাঝে মৌসুমী ফল লিচু বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুর জেলা কারাগারে বন্দিদের মাঝে মৌসুমী ফল লিচু বিতরণ

ফরিদপুর জেলা কারাগারে বন্দিদের মানবিক ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে সকল বন্দির মাঝে মৌসুমী ফল লিচু বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) সকালে জেলা কারাগার প্রাঙ্গণে এ কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়।

কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, বন্দিদের পুষ্টি চাহিদা পূরণ এবং তাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত বিভিন্ন কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গ্রীষ্মকালীন জনপ্রিয় ও পুষ্টিকর ফল লিচু বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

লিচু বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার শওকত হোসেন মিয়া এবং জেলার মনির হোসেন। তারা বন্দিদের খোঁজখবর নেন এবং কারাগারের সার্বিক পরিবেশ ও বন্দিদের কল্যাণমূলক বিষয়গুলো পরিদর্শন করেন।

এ সময় জেল সুপার শওকত হোসেন মিয়া বলেন, বন্দিদের মানবিক মর্যাদা রক্ষা এবং তাদের সুস্থতা নিশ্চিত করতে কারা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন কল্যাণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। বন্দিদের জন্য স্বাস্থ্যকর খাদ্য, চিকিৎসাসেবা, বিনোদন ও পুনর্বাসনমূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি মৌসুমী ফল বিতরণও তার একটি অংশ।

তিনি আরও বলেন, কারাগার শুধু শাস্তি প্রদানের স্থান নয়, বরং সংশোধন ও পুনর্বাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। বন্দিদের মানসিক বিকাশ ও ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

লিচু বিতরণ পেয়ে বন্দিদের মধ্যেও সন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায়। কারা কর্তৃপক্ষের এমন উদ্যোগকে তারা ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।

ফরিদপুর জেলা কারাগার সূত্রে জানা গেছে, ভবিষ্যতেও বন্দিদের কল্যাণ ও সুস্থতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

সদরপুরের পদ্মাবেষ্টিত ইউনিয়নে নির্মাণ হচ্ছে পরিষদ ভবন, অবসান হবে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৮:১২ পূর্বাহ্ণ
সদরপুরের পদ্মাবেষ্টিত ইউনিয়নে নির্মাণ হচ্ছে পরিষদ ভবন, অবসান হবে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পদ্মাবেষ্টিত প্রত্যন্ত চরাঞ্চল দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়ন অবশেষে পেতে যাচ্ছে নিজস্ব ইউনিয়ন পরিষদ ভবন। দীর্ঘদিন ধরে পরিষদ ভবন না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের বিভিন্ন নাগরিক সেবা নিতে ট্রলারে প্রায় দুই ঘণ্টা পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে উপজেলা সদরে যেতে হতো। প্রায় দুই হাজার পরিবারের এই ইউনিয়নে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উচ্ছ্বাস।

মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে ইউনিয়নের নুরুদ্দিন সরদার কান্দী বাজার সংলগ্ন এলাকায় সেমি-পাকা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাজহারুল ইসলাম।

এর আগে একই ইউনিয়নের উপজেলা প্রশাসন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দীন সরদার, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেন, উপজেলা প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব ভবন না থাকায় প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণে তাদের নানা ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হতো। নতুন ভবন নির্মিত হলে ইউনিয়নবাসী নিজ এলাকাতেই সহজে নাগরিক সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। এতে চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

এদিকে বহুদিনের প্রত্যাশিত ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশা, দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে চরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।