খুঁজুন
, ,

আজ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন তারেক রহমান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৩৯ পূর্বাহ্ণ
আজ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন তারেক রহমান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী সদস্যরা শপথ নিচ্ছেন আজ মঙ্গলবার সকালে। বিকেলেই অনুষ্ঠিত হবে মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান। এর মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী একটি নির্বাচিত সরকার গঠন এবং এর যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে। তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রিত্বে এ যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে।

জাতীয় সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ হবে পর্যায়ক্রমে। এরপর বিকেল চারটায় মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ হবে।

ঐতিহ্যগতভাবে নতুন মন্ত্রিসভার শপথের আনুষ্ঠানিকতা হতো বঙ্গভবনের দরবার হলে। এবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খোলা আকাশে শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে ব্যতিক্রম এবং ‘প্রতীকী’ ঘটনা হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। সাধারণত জাতীয় সংসদের স্পিকার এ দায়িত্ব পালন করেন, কিন্তু গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতিতে সংবিধান অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভার শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন দেশি ও বিদেশি অতিথি অংশগ্রহণ করার কথা রয়েছে, যার মধ্যে ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন রাষ্ট্রের প্রতিনিধি রয়েছেন।

সবার দৃষ্টি মন্ত্রিসভায়

১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এককভাবে ২০৯টিতে জয়ী হয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত হচ্ছেন। এখন সারা দেশে আলোচনার কেন্দ্রে নতুন মন্ত্রিসভায় কারা থাকছেন। এ বিষয়ে গণমাধ্যমগুলোতে কয়েক দিন ধরে নানা রকম সংবাদ ছাপা হচ্ছে। প্রথম আলোও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছে, কিন্তু কেউ সুনির্দিষ্ট করে কোনো তথ্য জানাতে পারেননি। বিএনপির প্রধান তারেক রহমান নিজেই মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে কাজ করছেন। তাঁকে দলের স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্য সহায়তা করছেন বলে জানা গেছে।বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে এবার মন্ত্রিসভা খুব ভেবেচিন্তে করা হচ্ছে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, সেলিমা রহমান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদসহ জ্যেষ্ঠ নেতাদের অনেকেই মন্ত্রিসভায় থাকতে পারেন। সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ওসমান ফারুকসহ আরও কয়েকজন সাবেক মন্ত্রীর নামও আলোচনায় আছে।পাশাপাশি তরুণ অনেক নেতাকেও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ও হুমায়ুন কবির, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, খন্দকার আবদুল মুক্তাদির (সিলেট-১), অনিন্দ্য ইসলাম (যশোর-৩), জাকারিয়া তাহের (কুমিল্লা-৮) ও ফারজানা শারমিন (নাটোর-১) মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেতে পারেন, এমন আলোচনা রয়েছে।

বিএনপির জোটের শরিকদের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) আন্দালিভ রহমান পার্থ, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি ও গণ অধিকার পরিষদের নুরুল হকের নামও আলোচনায় আছে।এ ছাড়া সুষ্ঠু ও দক্ষতার সঙ্গে সরকার পরিচালনার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি টিম কাজ করবে, যাঁরা মন্ত্রিপরিষদসহ সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন। এ ক্ষেত্রে দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন বিষয়ে অভিজ্ঞ ও দক্ষ ব্যক্তিদের সহায়তা নেওয়া হবে।

একটি নতুন যাত্রার প্রত্যাশা

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি নতুন যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বিগত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে স্বৈরাচারী সরকারের জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয় বিএনপি। সরকারবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে বিএনপি। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী সরকারের পতন হয়। এরপর দায়িত্ব নেয় অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। এই সরকারের অধীন গত বৃহস্পতিবার একটি উৎসবমুখর সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পায় বিএনপি।

ইতিমধ্যে তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে বিভেদ ঘুচিয়ে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন। এতে সর্বস্তরে একটা আশাবাদ তৈরি হয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী গতকাল সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার দিকে তাঁদের বিশেষ দৃষ্টি থাকবে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, দেশকে নতুন করে গড়ে তোলার জন্য বিএনপির সামনে এটি একটি বড় সুযোগ এসেছে। এ জন্য মন্ত্রিসভায় সৎ, দক্ষ ও দূরদর্শী ব্যক্তিদের প্রাধান্য কতটা থাকছে, সেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা তপন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘একজন ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা হিসেবে নতুন সরকারের কাছে আমার প্রথম প্রত্যাশা—দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তারা এমন কিছু উদ্যোগ বা ব্যবস্থা নেবে, যাতে উদ্যোক্তাদের হারানো আস্থা ফিরে আসে। ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে, মর্নিং শোজ দ্য ডে। সেটির প্রতিফলন সরকারকে শুরুতে দেখাতে হবে।’

নতুন সরকারের যাত্রার প্রাক্কালে রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার, সংসদ নেতা, সংসদ উপনেতাসহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েও নানা আলোচনা-গুঞ্জন চলছে।

নানা হিসাব-নিকাশে রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম দলের ভেতরে-বাইরে আলোচনায় রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু জানা যায়নি। তবে বিএনপির সূত্রগুলো বলছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আরও সময় আছে। জাতীয় সংসদে স্পিকার হিসেবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খানের নাম আলোচনায় রয়েছে।

স্মৃতিতে ফিরছে ১৯৭৯ ও ১৯৯১ সাল

আজ ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি; তারেক রহমান যখন প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত হচ্ছেন, তখন অনেকের স্মৃতিতে ফিরে আসছে ১৯৭৯ ও ১৯৯১ সাল। ৪৬ বছর আগে ১৯৭৯ সালের ১৬ এপ্রিল তাঁর বাবা জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। একদলীয় শাসনব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে বহুদলীয় রাজনৈতিক ধারায় প্রত্যাবর্তন করেন তিনি। তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন ৪২ জন। আর এখন থেকে ৩৪ বছর আগে ১৯৯১ সালে তাঁর মা খালেদা জিয়া প্রথম বাংলাদেশের নারী প্রধানমন্ত্রী হন। সেটি ছিল ১৯৯১ সালের ১৯ মার্চ। তৎকালীন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ তাঁকে শপথ পড়ান। সে মন্ত্রিসভা ছিল ৩১ সদস্যের। খালেদা জিয়া সর্বশেষ ২০০১ সালে যখন তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন, সে মন্ত্রিসভায় সদস্য ছিলেন ৬০ জন।

জাতীয় সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র ইস্যু করা হচ্ছে। তাঁদের কাছে শপথের আমন্ত্রণপত্র কোনো কারণবশত হাতে না পৌঁছালে সংসদ ভবনের টানেলের অভ্যন্তরের মূল প্রবেশপথে অবস্থিত ‘ফ্রন্ট ডেস্ক’ থেকে তাঁরা সংগ্রহ করতে পারবেন। তবে সংসদ সচিবালয় নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সঙ্গে রাখার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা আর প্রত্যাশার মধ্যেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন, দীর্ঘ অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার একটি দল কীভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে, তার প্রতিচ্ছবি অনেকটাই স্পষ্ট হবে নতুন মন্ত্রিসভার চেহারায়।

সূত্র : প্রথম আলো

ফরিদপুর বিভাগ ও সিটি করপোরেশনের ঘোষণা আসছে, বিশ্ববিদ্যালয়ও হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ৮:৩০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুর বিভাগ ও সিটি করপোরেশনের ঘোষণা আসছে, বিশ্ববিদ্যালয়ও হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ফরিদপুরকে বিভাগ ঘোষণা, পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীতকরণ, পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ, কৃষকদের জন্য পেঁয়াজ সংরক্ষণাগার এবং একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

শনিবার (০৪ জুলাই) বিকেলে ফরিদপুর শহরের থানা রোডের ব্যাংক এশিয়া মোড়ে ফরিদপুরের নাগরিক কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত ‘নাগরিক আলোচনা ও বিজয়ের বর্ষপূর্তি’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, “পদ্মা ব্যারেজ হবে। এটি একনেকে পাস হয়েছে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন। দেশের পানির সমস্যা সমাধানে পদ্মা ব্যারেজের পাশাপাশি তিস্তা ব্যারেজও বাস্তবায়ন করা হবে।”

তিনি বলেন, দেশের পানি সংকট মোকাবিলায় খাল খননের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচির কথা বলেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ফরিদপুরের উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ফরিদপুরবাসীর ভাগ্য উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো ফরিদপুরকে বিভাগ ঘোষণা এবং ফরিদপুর পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগে ফরিদপুরের জনসভায় এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ইনশাআল্লাহ, আপনাদের সহযোগিতায় ফরিদপুর বিভাগ হবে এবং সিটি করপোরেশনও হবে।”

নিজের নির্বাচনী এলাকা সালথা ও নগরকান্দার কৃষকদের দুর্দশার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে অনেক কৃষক উৎপাদিত পেঁয়াজ ফেলে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এ সমস্যা সমাধানে কৃষি মন্ত্রণালয় পেঁয়াজ সংরক্ষণের একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, “খুব শিগগিরই পেঁয়াজ চাষিদের জন্য আধুনিক স্টোরেজ বা সংরক্ষণাগারের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তারা ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে পারেন।”

ফরিদপুরে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবির বিষয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, “ফরিদপুর একটি গুরুত্বপূর্ণ গেটওয়ে। এখানে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন রয়েছে। ফরিদপুরের চারজন সংসদ সদস্যই এ দাবি তুলেছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন। অবশ্যই ফরিদপুরে বিশ্ববিদ্যালয় হবে।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিভাগীয় প্রধান ডা. মো. রফিকুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. মো. ইলিয়াস মোল্লা, ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ এবং জেলা বিএনপির সভাপতি মোদাররেস আলী ইছাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনীতিবীদ ও ব্যবসায়ীক নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ফরিদপুর নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব ও রাজবাড়ী সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. শওকত আলী মোল্লা।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ফরিদপুরে ১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ৩:০৭ অপরাহ্ণ
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ফরিদপুরে ১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই সনদ দ্রুত কার্যকরের দাবিতে ফরিদপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্য জোট। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মভিত্তিক দলের নেতারা অংশ নেন। তারা দাবি করেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

শনিবার (৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জনতা ব্যাংক মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় সমাবেশ।

সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের ফরিদপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক মাওলানা মো. বদরুদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং দলীয় মুখপাত্র মুফতি আবু নাসির আইয়ুবী ও অধ্যাপক আব্দুল ওহাবের যৌথ সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য প্রফেসর আবদুত তাওয়াব।

এ সময় আরও বক্তব্য দেন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ফরিদপুর জেলা সভাপতি মাওলানা আমজাদ হোসাইন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ফরিদপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক ডা. বায়েজিদ আহমাদ শাহেদ, খেলাফত আন্দোলন ফরিদপুর জেলা সভাপতি মাওলানা মিজানুর রহমান, এলডিপি সভাপতি মো. কামরুল ইসলামসহ ১১ দলীয় ঐক্য জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

বক্তারা বলেন, গণভোটের মাধ্যমে প্রকাশিত জনগণের মতামত এবং জুলাই সনদের প্রস্তাবনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা সময়ের দাবি। জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান জানিয়ে সরকারকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।

নেতারা আরও বলেন, দাবি বাস্তবায়নে গড়িমসি করা হলে সারাদেশে আরও বৃহত্তর ও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। গণতান্ত্রিক উপায়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও তারা ঘোষণা দেন।

সমাবেশে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা ১১ দলীয় ঐক্য জোটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচি চলাকালে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় ছিল এবং বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন দাবিসংবলিত স্লোগান দেন।

ভাঙ্গায় গুলিতে যুবক নিহত: স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে মামলা, কমিটি বিলুপ্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ১:২৯ অপরাহ্ণ
ভাঙ্গায় গুলিতে যুবক নিহত: স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে মামলা, কমিটি বিলুপ্ত

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে গুলিতে সুমন শেখ নামে এক যুবক নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলায় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিবকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ মামলার একদিন পরই ভাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল।

শনিবার (৪ জুলাই) সকালে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান হত্যা মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

জানা যায়, গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পূর্বশত্রুতার জেরে ভাঙ্গা পৌরসভার হাসামদিয়া ও কাপুড়িয়া সদরদী মহল্লার বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হন কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মিলন শেখের ছেলে সুমন শেখ (২৩)। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা মিলন শেখ গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৩০ থেকে ৩৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। মামলার এক নম্বর আসামি করা হয়েছে ভাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ও পূর্ব হাসামদিয়া মহল্লার বাসিন্দা সজীব মাতুব্বরকে (২৮)।

পুলিশ জানায়, মামলার পর থেকে অভিযান চালিয়ে এ পর্যন্ত ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মামলার প্রধান আসামি সজীব মাতুব্বর এখনও পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, ঘটনার পর শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে নিহত সুমন শেখের বাড়িতে যান ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন) আসনের সংসদ সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল। তিনি নিহতের কবর জিয়ারত করেন এবং পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান।

সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সংসদ সদস্য বলেন, “মামলা তার নিজস্ব গতিতেই চলবে। এই মামলায় কেউ কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। যারা অভিযুক্ত হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে আজই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দলীয় সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।”

সংসদ সদস্যের ওই বক্তব্যের প্রায় তিন ঘণ্টার মধ্যেই জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হোসেন ও সদস্যসচিব শাহরিয়ার শিথিল স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “অনিবার্য কারণবশত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল, ভাঙ্গা উপজেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটি ৩ জুলাই থেকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো।”

কমিটি বিলুপ্তির বিষয়ে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব শাহরিয়ার শিথিল বলেন, ভাঙ্গা উপজেলা কমিটির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। সর্বশেষ কমিটির এক শীর্ষ নেতা হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি হওয়ায় এবং মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সুপারিশে উপজেলা কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক প্রভাব যেন তদন্তে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব সজীব মাতুব্বরের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তিনি পলাতক থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।