খুঁজুন
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২১ মাঘ, ১৪৩২

আন্দােলন মোকাবিলায় শক্তি প্রয়োগ চলতেই থাকবে?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৫, ৩:১২ পিএম
আন্দােলন মোকাবিলায় শক্তি প্রয়োগ চলতেই থাকবে?

বিগত প্রতিটি সরকারের সময় এবং প্রায় প্রতিবছর বাংলাদেশে বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষকদের আন্দোলন করতে হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে সব সরকারই কঠোর ছিল। এটা খুবই হতাশাজনক; বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারও এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হতে পারল না। বাড়ি ভাড়াসহ বিভিন্ন ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে রোববার ‘লাগাতার অবস্থান’ কর্মসূচি পালন করছিলেন। পুলিশ লাঠিপেটা ও জলকামান ব্যবহার করে সে কর্মসূচি পণ্ড করে দেয় । 

এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন পান। তারা মূল বেতনের সঙ্গে মাসে ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান। বাড়ি ভাড়া ভাতা পান এক হাজার টাকা। বছরে দুটি উৎসব ভাতা পান মূল বেতনের ৫০ শতাংশ হারে। শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবিতে গত ১৩ আগস্ট জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নিয়ে সমাবেশ করেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। পরে শিক্ষকদের ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দল সচিবালয়ে গিয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরারের সঙ্গে দেখা করে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতনের কমপক্ষে ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া দেওয়ার দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু ৫ অক্টোবর জানা গেল, সরকার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বাড়ি ভাড়া মাত্র ৫০০ টাকা বাড়িয়েছে। এর ফলে শিক্ষকদের বাড়ি ভাড়া ভাতা দাঁড়ায় মাত্র দেড় হাজার টাকা। এই টাকায় কোথায় ভাড়া পাওয়া যায় বাড়ি? একটা ছাপরা ঘরের ভাড়াও তো এখন এর চেয়ে অনেক বেশি। স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষক-কর্মচারীরা এ বাড়ি ভাড়া ভাতা প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। সে অনুসারে রোববার তারা রাজধানীতে সমবেত হয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ তাদের ওপর ন্যক্কারজনক হামলা চালায়।

শিক্ষা একটি ব্যবস্থাপনা, যার সঙ্গে জড়িত শিক্ষার দর্শন, শিক্ষক, শিক্ষা বরাদ্দ, কারিকুলাম, সিলেবাস, পাঠ্যপুস্তক, পাঠ পদ্ধতি, শিক্ষা উপকরণ, বিদ্যালয়ের পরিবেশ; সর্বোপরি শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত বাজেট। কয়েক দশকজুড়ে এগুলো নিয়ে বিস্তর আলাপ-আলোচনা চললেও অগ্রগতি তেমন কিছুই হয়নি। আশা জেগেছিল, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের আমূল সংস্কার ও বৈষম্য নিরসনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তী সরকার উল্লেখযোগ্য কিছু করবে। কিন্তু তারাও আগের ধারায় লাঠিপেটা ও জলকামান ব্যবহার করে শিক্ষকদের আন্দোলনকে অভ্যর্থনা জানাল। অবশ্য গত এক বছরে বিভিন্ন স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে বয়কট, মব সন্ত্রাস ইত্যাদির মাধ্যমে যেভাবে প্রায় বিনা বাধায় ডজন ডজন শিক্ষককে হেনস্তা ও পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে, তাতেই শিক্ষকদের আন্দোলন সম্পর্কে এ সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝা গিয়েছিল। এ রাষ্ট্র কখনও শিক্ষকদের আন্দোলনকে শিক্ষা আন্দোলনের পাঠ হিসেবে গ্রহণ করেনি। সবাইকে ‘ডান্ডা মেরে ঠান্ডা করা’র ওষুধ প্রয়োগে তাই কোনো সরকারেরই হাত কাঁপেনি।
পাঠ্যপুস্তক নিয়ে যা হচ্ছে, তাতেও এর প্রমাণ মেলে। গত এক বছরে আওয়ামী ভূত তাড়ানোর নামে পাঠ্যপুস্তকের ‘টেক্সট’ পরিবর্তনের নানা আয়োজন দেখা গেছে, যেখানে অতীতের মতোই রাজনীতির রং ছিল স্পষ্ট। প্রথম দফায় টেক্সট বুক সংশোধনের দায়িত্ব একটি কমিটিকে দেওয়া হয়। হেফাজতে ইসলাম কমিটির কিছু সদস্যের ব্যাপারে আপত্তি করলে সে সময়ের শিক্ষা উপদেষ্টা সেই কমিটির ‘অফিসিয়াল’ অস্তিত্বই অস্বীকার করেছিলেন। এ ঘটনার রেশ না কাটতেই ভুঁইফোঁড় সংগঠন ‘স্টুডেন্ট ফর সভরেন্টি’র ঝটিকা আন্দোলনের মুখে পাঠ্যপুস্তক থেকে তুলে নেওয়া হয় গ্রাফিতি। অথচ এ গ্রাফিতি ছিল গণঅভ্যুত্থানের স্মারক; সরকারেরই বহুল উচ্চারিত দায়, দরদ ও বহুত্ববাদের প্রকাশ। সম্প্রতি ঘটেছে আরও অদ্ভুত এক ঘটনা। সরকার প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যবই জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের পরিবর্তে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমে মুদ্রণ ও বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে। যেখানে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ হলো সময়ের দাবি, সেখানে ক্ষমতাকে আরও কেন্দ্রীভূত করা হলো। কোনো প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতার কারণগুলো সামনে না এলে ব্যর্থতা-অনিয়ম-দুর্নীতির ছিদ্র কখনোই বন্ধ হবে না। তাই সেগুলোকে জিইয়ে রেখে এক প্রতিষ্ঠান থেকে আরেক প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব অর্পণ আদতে হাতের পরিবর্তনের বাইরে আর কিছুই নয়।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও কি এখন ঠিকঠাক চলছে? কয়েকদিন আগে উপদেষ্টা মাহফুজ আলম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা যখন দায়িত্ব নিলাম তখন বিএনপি-জামায়াতের লোকেরা এসে বলল, সব ফেয়ার হতে হবে– ভিসি নিয়োগ হলো দশজন বিএনপির, তিনজন জামায়াতের, অ্যাডমিন কে নেবে সেটা নিয়ে কাড়াকাড়ি হলো। এগুলো আমার চোখের সামনেই হয়েছে।’ উপদেষ্টার এ বক্তব্যের মধ্য দিয়েই আমরা আসলে বুঝতে পারি, এই সময়েও শিক্ষা ব্যবস্থাপনা কীভাবে কাজ করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য পদ এখন অনেকটাই রাজনৈতিক দলগুলোর ইজারা। আগের সরকারের নাম-গন্ধ থেকে নিজেদের দূরত্বে রাখলেও প্রতিষ্ঠান চালানোর পন্থা হিসেবে পছন্দ আগের সরকারের ‘পরিচালনা পদ্ধতি’। অথচ বলা হয়েছিল, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অতীতের দলীয় নেতৃত্বে পরিচালিত হওয়ার ধারা থেকে বেরিয়ে আসবে। আর সব ক্ষেত্রের মতো শিক্ষাঙ্গনেও এক দল যাবে, আরেক দল আসবে– এটিই যেন অলিখিত নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশ কয়েকজন শিক্ষককে এখনও একাডেমিক কার্যক্রম থেকে স্থগিত রাখা হয়েছে। প্রতিশোধের রাজনীতির চাকায় ঘুরছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।
শিক্ষকদের মেরে-ধরে, লাঠিচার্জ করে, জলকামান ব্যবহার করে আদতে ক্ষতি করা হচ্ছে শিক্ষার। এ বিষয়ে কারও মনোযোগ নেই। পাড়ার মোড়ে মোড়ে বিদ্যালয় কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করলেই শিক্ষার প্রসার ঘটে না। উপযুক্ত বেতন-ভাতা না দিলে যোগ্য শিক্ষক সেখানে আসবেন না। ফলে ইট-কাঠ-পাথরের মূল্যবান ভবন হয়তো গড়া যাবে; সেখানে চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীও ভর্তি করা যাবে, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা মিলবে না।

শিক্ষকদের আন্দোলনের দাবিকে অগ্রাহ্য না করে কান পেতে শুনুন– কোথায় সমস্যা হচ্ছে, কেন হচ্ছে। সেগুলো নিয়ে কথা বলুন। আগের সরকারের জুতা পরে ‘ফ্যাসিস্ট ফ্যাসিস্ট’ বলে লাভ হবে না। ফ্যাসিজম কোনো বস্তু বা ব্যক্তি নয়; এটি আদর্শ, কর্মপদ্ধতি, ব্যবস্থাপনা, কৌশল। সেগুলোকে বদলানো না গেলে বদল হবে না কিছুই।

জোবাইদা নাসরীন: শিক্ষক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় zobaidanasreen@gmail.com

১০ কেজি ধানের শীষ গায়ে ফরিদপুরে সেলিম, তারেক রহমান দেখার অদম্য আকাঙ্ক্ষা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:০২ পিএম
১০ কেজি ধানের শীষ গায়ে ফরিদপুরে সেলিম, তারেক রহমান দেখার অদম্য আকাঙ্ক্ষা

প্রথমবারের মতো ফরিদপুরে আসছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার এই আগমন ও বিভাগীয় জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুর জেলাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। সকাল থেকেই শহর ও আশপাশের এলাকা পরিণত হয়েছে জনসমুদ্রে। দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের স্লোগান, মিছিল আর পতাকায় মুখরিত পুরো জেলা।

বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিএনপির বিভাগীয় জনসভা। এই জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান। তার বক্তব্য শুনতে ও এক নজর দেখতে ভোর থেকেই বিভিন্ন উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী সমাবেশস্থলে জড়ো হতে শুরু করেন।

সকাল থেকেই ফরিদপুর শহরের প্রবেশপথগুলোতে দেখা যায় খণ্ড খণ্ড মিছিল। কেউ হাতে দলীয় পতাকা, কেউ মাথায় পতাকা সংবলিত টুপি, আবার অনেকেই গায়ে জড়িয়ে নিয়েছেন বিএনপির নির্বাচনী প্রতীক ধানের শীষ। সমাবেশস্থল রাজেন্দ্র কলেজ মাঠ ও আশপাশের সড়কগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

এই ভিড়ের মধ্যেই সবার দৃষ্টি কেড়েছেন শরীয়তপুর থেকে আসা বিএনপি সমর্থক সেলিম মন্ডল। তিনি পুরো শরীরজুড়ে প্রায় ১০ কেজি ধানের শীষ বেঁধে সমাবেশে উপস্থিত হয়েছেন। ব্যতিক্রমী এই উপস্থিতি মুহূর্তেই আকর্ষণ করে আশপাশের মানুষের দৃষ্টি।

সেলিম মন্ডল জানান, শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলা থেকে তিনি বুধবার ভোরেই ফরিদপুরের উদ্দেশে রওনা দেন। তারেক রহমানকে কাছ থেকে দেখবেন এবং সরাসরি তার বক্তব্য শুনবেন—এই আশা নিয়েই কাকডাকা ভোরে রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে প্রবেশ করেন তিনি।

তিনি বলেন, “এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কয়েকবার সরাসরি দেখার সুযোগ হয়েছে। ঢাকায় দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছি। এবার দলের নতুন কাণ্ডারী তারেক রহমানকে নিজ চোখে দেখতে চাই বলেই এত কষ্ট করে এসেছি।”

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুরসহ আশপাশের জেলাগুলো থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর সমাগম ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মাঠ ও এর আশপাশে পুলিশ, র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।

বিএনপি নেতারা আশা করছেন, ফরিদপুরের এই বিভাগীয় জনসভা দলের সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থনের বড় ধরনের বার্তা দেবে। তারেক রহমানের বক্তব্য ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে বাড়তি আগ্রহ ও প্রত্যাশা।

তারেক রহমানের জনসভা ঘিরে ফরিদপুরে উৎসবের আমেজ, শহরজুড়ে মিছিল

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
তারেক রহমানের জনসভা ঘিরে ফরিদপুরে উৎসবের আমেজ, শহরজুড়ে মিছিল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে আসতে শুরু করেন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। দলীয় পতাকা, ব্যানার-ফেস্টুন হাতে নিয়ে ‘তারেক রহমান আসছে, গণতন্ত্র বাঁচছে’, ‘স্বাগতম তারেক রহমান’সহ নানা স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে শহরের প্রধান সড়কগুলো।

বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিতব্য বিভাগীয় জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। জনসভাকে ঘিরে মাঠ ও আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন বলেন, “তারেক রহমানের এই জনসভা শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ফরিদপুরবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে মানুষ পরিবর্তন চায়।”

তিনি আরও বলেন, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে জনসভা সফল করতে দলীয় নেতাকর্মীরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।

মিছিল নিয়ে আসা বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী তাদের প্রত্যাশার কথা জানান। সদর উপজেলার বিএনপি কর্মী আব্দুল মালেক বলেন, “দীর্ঘদিন পর তারেক রহমানের এমন সরাসরি বার্তা শোনার সুযোগ পাচ্ছি। আমরা আশা করছি, তিনি দেশ ও দলের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা দেবেন।” একই কথা জানান ছাত্রদলের নেতা রুবেল হোসেন। তিনি বলেন, “তরুণদের জন্য তারেক রহমানের নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের জনসভা আমাদের নতুন করে অনুপ্রাণিত করবে।”

এদিকে মহিলা দলের নেত্রী নাজমা বেগম বলেন, “নারীদের অধিকার ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিএনপির ভূমিকা নিয়ে আমরা আশাবাদী। তারেক রহমানের বক্তব্যে আমরা সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখতে চাই।”

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জনসভায় ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জ জেলার বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নিচ্ছেন। জনসভাকে কেন্দ্র করে আশপাশের এলাকায় অস্থায়ী খাবার ও পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাঠে প্রবেশের জন্য একাধিক গেট নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

সব মিলিয়ে তারেক রহমানের এই জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুরে রাজনৈতিক উত্তাপ ও উৎসাহ তুঙ্গে। নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, এই সমাবেশ বিএনপির রাজনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে এবং আগামীর আন্দোলনে দিকনির্দেশনা দেবে।

ফরিদপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি, শেষরক্ষা হলো না সাদ্দামের

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০৯ এএম
ফরিদপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি, শেষরক্ষা হলো না সাদ্দামের

ফরিদপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সাজাপ্রাপ্ত ও দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১০)। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. সাদ্দাম শেখ (২৪)। তিনি ফরিদপুর শহরের খোদাবক্স রোড, কসাই বাড়ি সড়ক এলাকার বাসিন্দা এবং মো. শেখ শহিদের ছেলে।

র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্প থেকে বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টা ৪৫ মিনিটে ফরিদপুর সদরের শিবরামপুর বাজার এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় র‌্যাব-১০-এর একটি চৌকস আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে কোতয়ালী থানার জিআর মামলা নম্বর- ৫৫৬/১৪ এর আলোকে ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯(১) ধারার টেবিল ২২(গ) অনুযায়ী ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত সাজা পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি মো. সাদ্দাম শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামি স্বীকার করেছে যে, সাজা এড়াতে সে দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিল। র‌্যাবের নিয়মিত নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতার ফলে শেষ পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

র‌্যাব-১০-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মাদক সংক্রান্ত অপরাধ দমনে র‌্যাবের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।

র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লীডার তারিকুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “মাদকদ্রব্য সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের জন্য ভয়াবহ হুমকি। মাদকের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র‌্যাব সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আমাদের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।”