খুঁজুন
, ,

আন্দােলন মোকাবিলায় শক্তি প্রয়োগ চলতেই থাকবে?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৫, ৩:১২ অপরাহ্ণ
আন্দােলন মোকাবিলায় শক্তি প্রয়োগ চলতেই থাকবে?

বিগত প্রতিটি সরকারের সময় এবং প্রায় প্রতিবছর বাংলাদেশে বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষকদের আন্দোলন করতে হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে সব সরকারই কঠোর ছিল। এটা খুবই হতাশাজনক; বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারও এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হতে পারল না। বাড়ি ভাড়াসহ বিভিন্ন ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে রোববার ‘লাগাতার অবস্থান’ কর্মসূচি পালন করছিলেন। পুলিশ লাঠিপেটা ও জলকামান ব্যবহার করে সে কর্মসূচি পণ্ড করে দেয় । 

এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন পান। তারা মূল বেতনের সঙ্গে মাসে ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান। বাড়ি ভাড়া ভাতা পান এক হাজার টাকা। বছরে দুটি উৎসব ভাতা পান মূল বেতনের ৫০ শতাংশ হারে। শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবিতে গত ১৩ আগস্ট জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নিয়ে সমাবেশ করেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। পরে শিক্ষকদের ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দল সচিবালয়ে গিয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরারের সঙ্গে দেখা করে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতনের কমপক্ষে ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া দেওয়ার দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু ৫ অক্টোবর জানা গেল, সরকার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বাড়ি ভাড়া মাত্র ৫০০ টাকা বাড়িয়েছে। এর ফলে শিক্ষকদের বাড়ি ভাড়া ভাতা দাঁড়ায় মাত্র দেড় হাজার টাকা। এই টাকায় কোথায় ভাড়া পাওয়া যায় বাড়ি? একটা ছাপরা ঘরের ভাড়াও তো এখন এর চেয়ে অনেক বেশি। স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষক-কর্মচারীরা এ বাড়ি ভাড়া ভাতা প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। সে অনুসারে রোববার তারা রাজধানীতে সমবেত হয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ তাদের ওপর ন্যক্কারজনক হামলা চালায়।

শিক্ষা একটি ব্যবস্থাপনা, যার সঙ্গে জড়িত শিক্ষার দর্শন, শিক্ষক, শিক্ষা বরাদ্দ, কারিকুলাম, সিলেবাস, পাঠ্যপুস্তক, পাঠ পদ্ধতি, শিক্ষা উপকরণ, বিদ্যালয়ের পরিবেশ; সর্বোপরি শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত বাজেট। কয়েক দশকজুড়ে এগুলো নিয়ে বিস্তর আলাপ-আলোচনা চললেও অগ্রগতি তেমন কিছুই হয়নি। আশা জেগেছিল, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের আমূল সংস্কার ও বৈষম্য নিরসনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তী সরকার উল্লেখযোগ্য কিছু করবে। কিন্তু তারাও আগের ধারায় লাঠিপেটা ও জলকামান ব্যবহার করে শিক্ষকদের আন্দোলনকে অভ্যর্থনা জানাল। অবশ্য গত এক বছরে বিভিন্ন স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে বয়কট, মব সন্ত্রাস ইত্যাদির মাধ্যমে যেভাবে প্রায় বিনা বাধায় ডজন ডজন শিক্ষককে হেনস্তা ও পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে, তাতেই শিক্ষকদের আন্দোলন সম্পর্কে এ সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝা গিয়েছিল। এ রাষ্ট্র কখনও শিক্ষকদের আন্দোলনকে শিক্ষা আন্দোলনের পাঠ হিসেবে গ্রহণ করেনি। সবাইকে ‘ডান্ডা মেরে ঠান্ডা করা’র ওষুধ প্রয়োগে তাই কোনো সরকারেরই হাত কাঁপেনি।
পাঠ্যপুস্তক নিয়ে যা হচ্ছে, তাতেও এর প্রমাণ মেলে। গত এক বছরে আওয়ামী ভূত তাড়ানোর নামে পাঠ্যপুস্তকের ‘টেক্সট’ পরিবর্তনের নানা আয়োজন দেখা গেছে, যেখানে অতীতের মতোই রাজনীতির রং ছিল স্পষ্ট। প্রথম দফায় টেক্সট বুক সংশোধনের দায়িত্ব একটি কমিটিকে দেওয়া হয়। হেফাজতে ইসলাম কমিটির কিছু সদস্যের ব্যাপারে আপত্তি করলে সে সময়ের শিক্ষা উপদেষ্টা সেই কমিটির ‘অফিসিয়াল’ অস্তিত্বই অস্বীকার করেছিলেন। এ ঘটনার রেশ না কাটতেই ভুঁইফোঁড় সংগঠন ‘স্টুডেন্ট ফর সভরেন্টি’র ঝটিকা আন্দোলনের মুখে পাঠ্যপুস্তক থেকে তুলে নেওয়া হয় গ্রাফিতি। অথচ এ গ্রাফিতি ছিল গণঅভ্যুত্থানের স্মারক; সরকারেরই বহুল উচ্চারিত দায়, দরদ ও বহুত্ববাদের প্রকাশ। সম্প্রতি ঘটেছে আরও অদ্ভুত এক ঘটনা। সরকার প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যবই জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের পরিবর্তে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমে মুদ্রণ ও বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে। যেখানে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ হলো সময়ের দাবি, সেখানে ক্ষমতাকে আরও কেন্দ্রীভূত করা হলো। কোনো প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতার কারণগুলো সামনে না এলে ব্যর্থতা-অনিয়ম-দুর্নীতির ছিদ্র কখনোই বন্ধ হবে না। তাই সেগুলোকে জিইয়ে রেখে এক প্রতিষ্ঠান থেকে আরেক প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব অর্পণ আদতে হাতের পরিবর্তনের বাইরে আর কিছুই নয়।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও কি এখন ঠিকঠাক চলছে? কয়েকদিন আগে উপদেষ্টা মাহফুজ আলম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা যখন দায়িত্ব নিলাম তখন বিএনপি-জামায়াতের লোকেরা এসে বলল, সব ফেয়ার হতে হবে– ভিসি নিয়োগ হলো দশজন বিএনপির, তিনজন জামায়াতের, অ্যাডমিন কে নেবে সেটা নিয়ে কাড়াকাড়ি হলো। এগুলো আমার চোখের সামনেই হয়েছে।’ উপদেষ্টার এ বক্তব্যের মধ্য দিয়েই আমরা আসলে বুঝতে পারি, এই সময়েও শিক্ষা ব্যবস্থাপনা কীভাবে কাজ করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য পদ এখন অনেকটাই রাজনৈতিক দলগুলোর ইজারা। আগের সরকারের নাম-গন্ধ থেকে নিজেদের দূরত্বে রাখলেও প্রতিষ্ঠান চালানোর পন্থা হিসেবে পছন্দ আগের সরকারের ‘পরিচালনা পদ্ধতি’। অথচ বলা হয়েছিল, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অতীতের দলীয় নেতৃত্বে পরিচালিত হওয়ার ধারা থেকে বেরিয়ে আসবে। আর সব ক্ষেত্রের মতো শিক্ষাঙ্গনেও এক দল যাবে, আরেক দল আসবে– এটিই যেন অলিখিত নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশ কয়েকজন শিক্ষককে এখনও একাডেমিক কার্যক্রম থেকে স্থগিত রাখা হয়েছে। প্রতিশোধের রাজনীতির চাকায় ঘুরছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।
শিক্ষকদের মেরে-ধরে, লাঠিচার্জ করে, জলকামান ব্যবহার করে আদতে ক্ষতি করা হচ্ছে শিক্ষার। এ বিষয়ে কারও মনোযোগ নেই। পাড়ার মোড়ে মোড়ে বিদ্যালয় কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করলেই শিক্ষার প্রসার ঘটে না। উপযুক্ত বেতন-ভাতা না দিলে যোগ্য শিক্ষক সেখানে আসবেন না। ফলে ইট-কাঠ-পাথরের মূল্যবান ভবন হয়তো গড়া যাবে; সেখানে চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীও ভর্তি করা যাবে, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা মিলবে না।

শিক্ষকদের আন্দোলনের দাবিকে অগ্রাহ্য না করে কান পেতে শুনুন– কোথায় সমস্যা হচ্ছে, কেন হচ্ছে। সেগুলো নিয়ে কথা বলুন। আগের সরকারের জুতা পরে ‘ফ্যাসিস্ট ফ্যাসিস্ট’ বলে লাভ হবে না। ফ্যাসিজম কোনো বস্তু বা ব্যক্তি নয়; এটি আদর্শ, কর্মপদ্ধতি, ব্যবস্থাপনা, কৌশল। সেগুলোকে বদলানো না গেলে বদল হবে না কিছুই।

জোবাইদা নাসরীন: শিক্ষক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় zobaidanasreen@gmail.com

ডিজেলের দামে কৃষির খরচে আগুন, লোকসানের শঙ্কায় ফরিদপুরের কৃষক

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৮ অপরাহ্ণ
ডিজেলের দামে কৃষির খরচে আগুন, লোকসানের শঙ্কায় ফরিদপুরের কৃষক

জ্বালানি তেলের বাজার মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পদ্মাপাড়ের কৃষিপ্রধান জেলা ফরিদপুরে। জমি প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে সেচ, ফসল কাটা, মাড়াই ও বাজারে পরিবহন—কৃষিকাজের প্রতিটি ধাপে ডিজেলচালিত যন্ত্রপাতির ব্যবহার আবশ্যক হওয়ায় উৎপাদন খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। উৎপাদনের প্রতিটি খাতে ব্যয় বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত শস্যের বাজারদর না পাওয়ায় লোকসানের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় প্রান্তিক ও মাঝারি চাষিরা।

​ফরিদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় চাষাবাদকৃত মোট রোপা আমন ও অন্যান্য ফসলি জমির একটি বড় অংশে সেচ ব্যবস্থার জন্য ডিজেলচালিত শ্যালোমেশিন ও পাওয়ার পাম্পের ওপর নির্ভর করতে হয়। পদ্মার চরাঞ্চল এবং সালথা, নগরকান্দা, বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা ও সদর উপজেলার মতো বিস্তীর্ণ কৃষি বেল্টে বৈদ্যুতিক সেচের সুবিধা অপ্রতুল হওয়ায় ডিজেলই কৃষকদের একমাত্র ভরসা। ফলে তেলের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি সরাসরি আঘাত হেনেছে কৃষকদের পকেটে।

কৃষকদের দেওয়া তথ্যমতে, ধানের চারা রোপণ থেকে শুরু করে কাটা ও মাড়াই পর্যন্ত এক বিঘা (৩৩ শতক) জমিতে গড়ে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হয়। ডিজেলের লিটারপ্রতি দাম ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকায় উন্নীত হওয়ায় প্রতি বিঘায় শুধুমাত্র জ্বালানি বাবদ কৃষকের বাড়তি গুনতে হচ্ছে প্রায় ৬৬০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা।

​ফরিদপুর সদর উপজেলার অম্বিকাপুর ইউনিয়নের কৃষক মান্নান মাতুব্বর বলেন, “আমি এ বছর ৮ বিঘা জমিতে আমন ধান এবং পাট চাষ করেছি। আগের খরচের হিসাব অনুযায়ী সেচ পাম্প মালিকেরা এখন বিঘাপ্রতি সেচ মাশুল ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া ট্রলি ও হারভেস্টার মালিকরাও বাড়তি ভাড়া হাঁকাচ্ছেন। ফসল ঘরে তোলার আগেই আমাদের বাজেট লাল বাতি জ্বালিয়ে দিয়েছে।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতি মণ ধান উৎপাদনে ও প্রসেসিংয়ে গড়ে ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা খরচ হলেও ডিজেল, সার ও শ্রমিকের মজুরি বাড়ায় বর্তমানে তা ৯৫০ থেকে ১,০৫০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। কিন্তু বাজারে বর্তমানে প্রতি মণ নতুন বা পুরনো ধান বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৯৫০ থেকে ১,০০০ টাকার মধ্যে।

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় রোপা আমন ধানের চাষ হয়েছে ৮৯ হাজার ৬২৫ হেক্টর জমিতে। তবে, সেচ নয় অধিকাংশ বৃষ্টির উপর নির্ভরশীল রোপা আমন ধান। তবে, আউশধান ৪ হাজার ১৫২ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে। যেগুলো সেচের উপর নির্ভরশীল। জেলায় বোরোধান আবাদ হয়েছে ২৪ হাজার হেক্টর জমিতে।

​নগরকান্দা উপজেলার কৃষক মো. শামীম হোসেন জানান, “বীজ, সার, শ্রমিক ও ডিজেলের যে চড়া দাম, তাতে ১ মণ ধান উৎপাদনে ১,০০০ টাকার বেশি লেগে যাচ্ছে। অথচ হাটে নিয়ে সেই দাম পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা মূলত কোনো মতে টিকে থাকার জন্য চাষাবাদ করছি, লাভের মুখ দেখা এখন স্বপ্নে পরিণত হয়েছে।”

ফরিদপুর জেলা শুধু ধান নয়, বরং পেঁয়াজ, পাট, সরিষা ও বিভিন্ন শীতকালীন সবজি উৎপাদনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। বোয়ালমারী ও সালথা উপজেলার পেঁয়াজ চাষিরা জানান, জমি চষা এবং চারা রোপণের সেচ কাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলার। ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধিতে ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলারের ঘণ্টাপ্রতি চাষের ভাড়া বহুগুণ বেড়েছে। ফলে রোপা আমন বা বোরো মৌসুমের পাশাপাশি রবিশস্য উৎপাদনেও অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা বইতে হবে তাদের।

কৃষি বিশ্লেষকদের মতে, বর্ষা বা আমন মৌসুমে বৃষ্টির কারণে সেচ তুলনামূলক কম লাগে। কিন্তু আসন্ন বোরো মৌসুমে সেচের জন্য ১০০% কৃত্রিম ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হয়, যার বড় একটি অংশই চলে ডিজেলচালিত পাম্পে। দুই-তিন মাস পরেই বোরো ধানের বীজতলা প্রস্তুত শুরু হবে। আমন মৌসুমেই যদি এই অবস্থা হয়, তবে সম্পূর্ণ সেচনির্ভর বোরো মৌসুমে খরচ কোথায় গিয়ে ঠেকবে—তা ভেবে আতঙ্কে রয়েছেন ফরিদপুরের কৃষকেরা।

ফরিদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান বাংলানিউজকে জানান, “জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় কৃষকদের সার্বিক উৎপাদন ব্যয় কিছুটা বেড়েছে। আমরা কৃষকদের পার্লাইনিং, পার্চিং ও আধুনিক সেচ প্রযুক্তি ব্যবহার করে পানির অপচয় কমানোর পরামর্শ দিচ্ছি। একই সাথে সরকার যদি কৃষক পর্যায়ে সরকারি ক্রয়ের মাধ্যমে ধানের ন্যায্য ও বাড়তি সমর্থক মূল্য নির্ধারণ করে, তবে তারা এই সংকট ও লোকসান থেকে রেহাই পাবেন।”

সদরপুরে ডেঙ্গু ও মাদকের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের লিফলেট বিতরণ

শিশির খাঁন
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪০ অপরাহ্ণ
সদরপুরে ডেঙ্গু ও মাদকের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের লিফলেট বিতরণ

ফরিদপুরের সদরপুরে ডেঙ্গু ও মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফরিদপুর-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুলের পক্ষে উপজেলা ছাত্রদল নেতা তুষার মাহমুদের নেতৃত্বে এ কর্মসূচি পরিচালিত হয়।

​বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দিনব্যাপী সদরপুর সরকারি কলেজ, সদরপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বিশ্ব জাকের মঞ্জিল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়সহ উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের মাঝে এসব লিফলেট বিতরণ করা হয়।

​লিফলেটে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, কোথাও পানি জমতে না দেওয়া এবং মশার বংশবিস্তার রোধে করণীয় বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করতে এবং তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে উৎসাহিত করা হয়।

​কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সদরপুর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থী তুষার মাহমুদ, সদরপুর কলেজ শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহিন মোল্লা, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হামিম সিয়াম, ছাত্রদল নেতা রাজীব মোল্লা, সোহাগ মোল্লা, সোহান বয়াতি, তরিকুল ইসলাম ও আহসান হাবিবসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

​এ সময় ছাত্রদল নেতারা বলেন, সন্তানদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পরিবারের ভূমিকাই মুখ্য। মাদকের ভয়াবহতা থেকে শিক্ষার্থীদের রক্ষা করা এবং বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে অভিভাবকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তারা।

​ছাত্রদল নেতা তুষার মাহমুদ জানান, দলীয় নির্দেশনায় প্রশাসন ও সচেতন সমাজকে সঙ্গে নিয়ে সামাজিক নানা অসংগতির বিরুদ্ধে তাদের এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

ফরিদপুরে বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি

‘সমন্বিত ডাক নেটওয়ার্ক, সীমাহীন সম্ভাবনা’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে ফরিদপুরে বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের ফরিদপুর কার্যালয়ের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে র‍্যালিটি বের করা হয়। শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে র‍্যালিটি পুনরায় একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়।

​ফরিদপুর বিভাগের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল তহমিনা মমতাজের সভাপতিত্বে র‍্যালিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম।

​এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. রায়হান গফুর, সহকারী কমিশনার দেব কুমার পাল ও সহকারী পোস্টমাস্টার রিপন বিশ্বাসসহ ডাক বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

​র‍্যালি শেষে বক্তারা আধুনিক ও সমন্বিত ডাক নেটওয়ার্কের নানা সম্ভাবনা এবং সাধারণ মানুষের কাছে ডাকসেবার গুরুত্ব তুলে ধরেন।