খুঁজুন
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২১ মাঘ, ১৪৩২

বিপ্লব-পরবর্তী শিক্ষাঙ্গন, শিক্ষকের পদত্যাগ ও সমস্যা থেকে উত্তরণ

মো. হাফিজুর রহমান শিকদার
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:০২ এএম
বিপ্লব-পরবর্তী শিক্ষাঙ্গন, শিক্ষকের পদত্যাগ ও সমস্যা থেকে উত্তরণ

পৃথিবীতে কিছু ব্যর্থতার মূল্য হয় অনেক চড়া। বিগত সরকারের দেড়যুগ ধরে ব্যর্থ শাসনের মূল্য বেশ চড়া দামে দিতে হচ্ছে দেশকে। প্রতিটি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে রাজনীতিকীকরণ করে প্রশাসনিক কাঠামো একেবারে ভেঙে দিয়েছে। যার ফল মারাত্মকভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে শিক্ষাঙ্গনে।

বিগত সরকারের পতনের পর দেশের আনাচ-কানাচ থেকে নানা অপ্রীতিকর সংবাদ আসছে। কোথাও স্কুলের প্রধান শিক্ষককে জোর করে পদত্যাগ করানো হচ্ছে, কোথাও শিক্ষকের বাড়িঘর ভেঙে ফেলা হচ্ছে কিংবা কোথাও প্রতিবাদী জনতার ভয়ে শিক্ষক পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এতে যেমন অপরাধী শিক্ষকের নাম আসছে তেমনি নিরপরাধ কিংবা নিরপেক্ষ শিক্ষকও পদলোভী অন্য শিক্ষকের ইন্ধনে আক্রান্ত হচ্ছেন। এটা রাষ্ট্রের জন্য মোটেও সুখকর কোনো সংবাদ নয়। স্বাধীনতার দুই দশক পর অর্থাৎ ১৯৯০-৯১ সালের দিকে শিক্ষার প্রতি যে অবহেলার সূচনা হয়েছিল বিগত সরকারের ১৫ বছরের শাসনামলে তার পূর্ণতা ছাপিয়ে দেশকে এক শিক্ষাহীন রাষ্ট্রে পরিণত করার চক্রান্তে লিপ্ত ছিল একটি মহল।

উল্লেখ্য, বিগত প্রায় সব গণতান্ত্রিক সরকারই শিক্ষক সমাজকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কমবেশি ব্যবহার করেছে। দলীয় শিক্ষককে দিয়েছে পদোন্নতি আর প্রত্যাশিত পদায়ন। কোনো নির্দিষ্ট দলের হয়ে কাজ না করলে প্রমোশন, পদায়নসহ অন্যান্য বৈধ সুবিধা থেকেও স্থানভেদে বঞ্চিত হতে হতো। ফলে শিক্ষকের সামাজিক মর্যাদা হলো ক্রমক্ষয়িষ্ণু, ছিল না কোনো অর্থনৈতিক নিরাপত্তা কিংবা দায়িত্ব পালনে নিরাপত্তা। এক ধরনের শঙ্কার মধ্যে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নিতে হতো। অসাদুপায় অবলম্বনের দায়ে কোনো শিক্ষার্থীকে শাস্তি দিলে কিংবা পরীক্ষার উত্তরপত্রে নম্বর কম দিলে শিক্ষক এক ধরনের অপমান-অপদস্তের ভয়ে থাকতেন। এসব ক্ষেত্রে শিক্ষকের প্রতি সরকারের আচরণ ছিল এক ধরনের বিমাতাসুলভ। যে কারণে পড়ালেখা শেষ করে চাকরিপ্রার্থীরা এই অনিরাপদ পেশায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে দিন দিন। মেধাবীরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে আর ক্ষমতার পেছনে ছুটছে। শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসের অন্যতম প্রধান ভিকটিম শিক্ষকরা।

সম্রাট আওরঙ্গজেব একদিন দেখেন তার ছেলে শিক্ষকের পায়ে পানি ঢালছে। এসব দেখেই শিক্ষকের কাছে অনুযোগ করলেন, ছেলে কেন হাত দিয়ে পা ধুইয়ে দিল না অর্থাৎ শিক্ষকের অসম্মান হয়েছে। গত বছর এক শিক্ষক ছাত্রের চুল বড় থাকায় বেত্রাঘাত করায় শিক্ষককে জেলে যেতে হয়েছিল। সম্প্রতি বহু স্কুলের প্রধান শিক্ষক কিংবা কলেজের অধ্যক্ষকে জোর করে পদত্যাগ করিয়েছে ক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। কোথাও পদলোভী তাদেরই সহকর্মীদের ইন্ধনে কিছু শিক্ষার্থী এ কাজটি সমাধা করেছে।

দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের পর হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে স্বৈরাচারের পতন হয় ৫ আগস্ট। এর পর পরই বৈষম্য নিরসনে ছাত্র-জনতা দেশের শিক্ষাঙ্গনে হাত দেন। বিগত সরকারের সঙ্গে কোনোরূপ সম্পর্ক ছিল কিংবা আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিয়েছে প্রকাশ্যে এমন শিক্ষকদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে দিতে ছাত্র-জনতা অনেকটা জোরাজুরি করেছেন। বেশকিছু প্রতিষ্ঠানে দেখা গেছে একপ্রকার অপমান করে শিক্ষক, প্রধানশিক্ষক এবং অধ্যক্ষদের পদত্যাগ করিয়েছে। ফলে দেশের শিক্ষাঙ্গনে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে।

গত ৪ সেপ্টেম্বর পদত্যাগের ক্রমাগত চাপে ‘হৃদরোগে আক্রান্ত’ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন কিশোরগঞ্জ শহরের আতরজান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু বকর সিদ্দিক। কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজের অধ্যক্ষকে টেনেহিঁচড়ে চেয়ার থেকে সরিয়ে দেওয়ার কিংবা বিভিন্ন সরকারি কলেজের অধ্যক্ষকে জোর করে পদত্যাগ করানোর ভিডিও সারা দেশবাসী দেখেছে, হয়েছে মর্মাহত।

এখন স্বাভাবিক প্রশ্ন আসতে পারে, শিক্ষকদের বেলায় শিক্ষার্থীরা এত মারমুখী হচ্ছে কেন। এর অন্যতম কারণ হলো- শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের খুব কাছ থেকে দেখে। তারা দেখে কিছু শিক্ষক কিভাবে কোনো দলের হয়ে দলীয় কর্মীর মতো আচরণ করেন। অনেক ক্ষেত্রে সরকারি চাপে রাজনৈতিক দলের হয়ে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়নে শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্টতা এই শিক্ষকদের নিশ্চিত করতে হয়। মন্ত্রণালয় থেকে অফিসিয়াল নির্দেশনা দেওয়া হলেও শিক্ষার্থীরা তাদের ক্ষোভ ঝাড়ে তাদের সন্নিকটে থাকা শিক্ষকদের উপর। এর মধ্যে কিছু শিক্ষক ব্যক্তিগত স্বার্থে দলীয় পরিচয়ে নানা সুবিধা নিতে অতিউৎসাহী হয়ে ভিন্ন মতের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের হেয়প্রতিপন্ন করেছে, করেছে নানা হয়রানি। কিছু শিক্ষকের আচরণ ছিল দলীয় কর্মীদের মতো যেগুলো একেবারেই অনুচিত এবং বাংলাদেশ সার্ভিস রুলের (বিএসআর) বিরোধী। যে কারণে সারা দেশে একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।

গত ৩ সেপ্টেম্বর শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষা ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তিনি কোনো শিক্ষককে জোর করে পদত্যাগে বাধ্য না করার আহ্বান জানিয়েছেন। এটি বেশ ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। বিগত সরকারকে টিকিয়ে রাখতে যারা ফ্রন্টলাইনে থেকে গণতন্ত্র ও জনবিরোধী কাজগুলোকে সমর্থন দিয়েছে তাদের কারও মধ্যে শিক্ষক সমাজ নেই। অথচ শিক্ষকরাই বেশি জনরোষের শিকার হচ্ছেন। এটা নিয়ে সরকারকে ভাবতে হবে।

দেশের শিক্ষার এহেন করুণ অবস্থা থেকে উত্তোরণের জন্য কিছু বিষয়ে সংশোধন আনা জরুরি। শিক্ষক একটি জাতির দর্পণ। প্রথমত, একাডেমিক পারপাসে তিনি সংশ্লিষ্ট যে কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। তা যদি বিদ্যমান সরকারের কোনো নীতি কিংবা সিস্টেমের বিরুদ্ধে হয় তবুও। কিন্তু এর ফলে এই শিক্ষককে কোনো শাস্তির সম্মুখীন করা যাবে না। শিক্ষার্থীকে কোনো বিষয়ে সঠিক শিক্ষা দিতে হলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা করতে হবে। ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক, কোনো তথ্য-উপাত্ত কিংবা তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপনে বাধাগ্রস্ত হলে কিংবা ভয়ের সঙ্গে পাঠদান করলে শিক্ষার্থী সঠিক কিছু শিখবে না, অন্ধকার কেটে আলো আসবে না। ফলে শিক্ষার সঠিক উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে।

দ্বিতীয়ত, কোনটি সরকারের সমালোচনা, কোনটি গৃহীত সিদ্ধান্তের গঠনমূলক সমালোচনা আর কোনটি দেশদ্রোহিতা এ বিষয়গুলো পরিষ্কার করা জরুরি। সাবেক স্বৈরশাসক এসব টুলস ব্যবহার করে শিক্ষার্থীকে প্রকৃত শিক্ষার্জন, জ্ঞানলাভ থেকে যেমনি বঞ্চিত করেছিল, তেমনি শিক্ষককে সঠিক কথা বলা থেকেও বিরত রাখতে সফল হয়েছিল। সৃষ্টি করেছিল এক ভয়ের সংস্কৃতি।

তৃতীয়ত, দলীয় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা বন্ধকরণ। দেশে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুটি ধারা। একটি রাজস্বভুক্ত এবং অন্যটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়। স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকদের জন্য রাজনীতি করার সুযোগ থাকলেও রাজস্বভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ‘সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯’-এর বিধি-২৫ এর উপবিধি-১ অনুসারে সরকারি কর্মচারী রাজনীতি এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। যেমন বলা আছে- “কোনো সরকারি কর্মচারী কোনো রাজনৈতিক দলের বা রাজনৈতিক দলের কোনো অঙ্গ সংগঠনের সদস্য হইতে অথবা অন্য কোনোভাবে উহার সহিত যুক্ত হইতে পারিবেন না, অথবা বাংলাদেশ বা বিদেশে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে বা কোনো প্রকারেই সহায়তা করতে পারবেন না।”

বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পদত্যাগে বাধ্য করার পেছনে এই একটি দ্বি-মুখী নীতি অন্যতম। শিক্ষার্থীরা দেখছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক রাষ্ট্রের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলছে, ছাত্রদের পাশে দাঁড়িয়ে আন্দোলন করেছে, অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছে কিন্তু সরকারি স্কুল, কলেজ কিংবা মাদ্রাসার শিক্ষকরা তাদের পাশে দাঁড়ায়নি। যে কারণে একটি ক্ষোভ কাজ করেছে। এর সমাধান হতে পারে, শিক্ষকদের দেশের নানা ইস্যুতে কথা বলার স্বাধীনতা দিতে হবে। শিক্ষক কোনো দলের হতে পারে না। একজন শিক্ষক দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে জ্ঞানদান করেন। তিনি যদি কথাই বলতে না পারেন তবে জ্ঞানদান একপেশে হবে যার ফলে প্রকৃত জ্ঞানলাভে ব্যর্থ হবে শিক্ষার্থীরা। রাষ্ট্র পিছিয়ে পড়বে।

কিছু শিক্ষক দলীয় কর্মীর মতো আচরণ করেছে এবং ভিন্নমতের শিক্ষকদের অপমান-অপদস্ত এবং ন্যায্য প্রাপ্যতা থেকে বঞ্চিত করেছে। ফলে বঞ্চিত সহকর্মী এবং প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। কিন্তু এসব ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকার এবং শিক্ষক সমাজের আরও সচেতন হওয়া দরকার। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য শিক্ষার দায়িত্ব শিক্ষকদের হাতেই থাকা উচিত।

ভবিষ্যতে কোনো দলীয় সরকার যেন জাতির বিবেক এই শিক্ষক সমাজকে নিজ স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে সেদিকে বর্তমান সরকারের নজর দেওয়া দরকার। সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যেসব সংস্কার কমিশন গঠন করেছে সেখানে শিক্ষা সংস্কার কমিশন স্থান পায়নি, অথচ এটি সর্বপ্রথমে দরকার ছিল। শিক্ষার প্রশাসনিক এবং সাংবিধানিক সংস্কার করে বিষয়টির একটি স্থায়ীরূপ দিতে না পারলে ২০২৪-েএর ছাত্র-জনতার বিপ্লব, হাজারো শহীদের রক্ত বৃথা যাবে।

মো. হাফিজুর রহমান শিকদার প্রভাষক (রাষ্ট্রবিজ্ঞান), বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজ

১০ কেজি ধানের শীষ গায়ে ফরিদপুরে সেলিম, তারেক রহমান দেখার অদম্য আকাঙ্ক্ষা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:০২ পিএম
১০ কেজি ধানের শীষ গায়ে ফরিদপুরে সেলিম, তারেক রহমান দেখার অদম্য আকাঙ্ক্ষা

প্রথমবারের মতো ফরিদপুরে আসছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার এই আগমন ও বিভাগীয় জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুর জেলাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। সকাল থেকেই শহর ও আশপাশের এলাকা পরিণত হয়েছে জনসমুদ্রে। দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের স্লোগান, মিছিল আর পতাকায় মুখরিত পুরো জেলা।

বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিএনপির বিভাগীয় জনসভা। এই জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান। তার বক্তব্য শুনতে ও এক নজর দেখতে ভোর থেকেই বিভিন্ন উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী সমাবেশস্থলে জড়ো হতে শুরু করেন।

সকাল থেকেই ফরিদপুর শহরের প্রবেশপথগুলোতে দেখা যায় খণ্ড খণ্ড মিছিল। কেউ হাতে দলীয় পতাকা, কেউ মাথায় পতাকা সংবলিত টুপি, আবার অনেকেই গায়ে জড়িয়ে নিয়েছেন বিএনপির নির্বাচনী প্রতীক ধানের শীষ। সমাবেশস্থল রাজেন্দ্র কলেজ মাঠ ও আশপাশের সড়কগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

এই ভিড়ের মধ্যেই সবার দৃষ্টি কেড়েছেন শরীয়তপুর থেকে আসা বিএনপি সমর্থক সেলিম মন্ডল। তিনি পুরো শরীরজুড়ে প্রায় ১০ কেজি ধানের শীষ বেঁধে সমাবেশে উপস্থিত হয়েছেন। ব্যতিক্রমী এই উপস্থিতি মুহূর্তেই আকর্ষণ করে আশপাশের মানুষের দৃষ্টি।

সেলিম মন্ডল জানান, শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলা থেকে তিনি বুধবার ভোরেই ফরিদপুরের উদ্দেশে রওনা দেন। তারেক রহমানকে কাছ থেকে দেখবেন এবং সরাসরি তার বক্তব্য শুনবেন—এই আশা নিয়েই কাকডাকা ভোরে রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে প্রবেশ করেন তিনি।

তিনি বলেন, “এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কয়েকবার সরাসরি দেখার সুযোগ হয়েছে। ঢাকায় দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছি। এবার দলের নতুন কাণ্ডারী তারেক রহমানকে নিজ চোখে দেখতে চাই বলেই এত কষ্ট করে এসেছি।”

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুরসহ আশপাশের জেলাগুলো থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর সমাগম ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মাঠ ও এর আশপাশে পুলিশ, র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।

বিএনপি নেতারা আশা করছেন, ফরিদপুরের এই বিভাগীয় জনসভা দলের সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থনের বড় ধরনের বার্তা দেবে। তারেক রহমানের বক্তব্য ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে বাড়তি আগ্রহ ও প্রত্যাশা।

তারেক রহমানের জনসভা ঘিরে ফরিদপুরে উৎসবের আমেজ, শহরজুড়ে মিছিল

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
তারেক রহমানের জনসভা ঘিরে ফরিদপুরে উৎসবের আমেজ, শহরজুড়ে মিছিল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে আসতে শুরু করেন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। দলীয় পতাকা, ব্যানার-ফেস্টুন হাতে নিয়ে ‘তারেক রহমান আসছে, গণতন্ত্র বাঁচছে’, ‘স্বাগতম তারেক রহমান’সহ নানা স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে শহরের প্রধান সড়কগুলো।

বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিতব্য বিভাগীয় জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। জনসভাকে ঘিরে মাঠ ও আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন বলেন, “তারেক রহমানের এই জনসভা শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ফরিদপুরবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে মানুষ পরিবর্তন চায়।”

তিনি আরও বলেন, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে জনসভা সফল করতে দলীয় নেতাকর্মীরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।

মিছিল নিয়ে আসা বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী তাদের প্রত্যাশার কথা জানান। সদর উপজেলার বিএনপি কর্মী আব্দুল মালেক বলেন, “দীর্ঘদিন পর তারেক রহমানের এমন সরাসরি বার্তা শোনার সুযোগ পাচ্ছি। আমরা আশা করছি, তিনি দেশ ও দলের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা দেবেন।” একই কথা জানান ছাত্রদলের নেতা রুবেল হোসেন। তিনি বলেন, “তরুণদের জন্য তারেক রহমানের নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের জনসভা আমাদের নতুন করে অনুপ্রাণিত করবে।”

এদিকে মহিলা দলের নেত্রী নাজমা বেগম বলেন, “নারীদের অধিকার ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিএনপির ভূমিকা নিয়ে আমরা আশাবাদী। তারেক রহমানের বক্তব্যে আমরা সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখতে চাই।”

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জনসভায় ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জ জেলার বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নিচ্ছেন। জনসভাকে কেন্দ্র করে আশপাশের এলাকায় অস্থায়ী খাবার ও পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাঠে প্রবেশের জন্য একাধিক গেট নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

সব মিলিয়ে তারেক রহমানের এই জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুরে রাজনৈতিক উত্তাপ ও উৎসাহ তুঙ্গে। নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, এই সমাবেশ বিএনপির রাজনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে এবং আগামীর আন্দোলনে দিকনির্দেশনা দেবে।

ফরিদপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি, শেষরক্ষা হলো না সাদ্দামের

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০৯ এএম
ফরিদপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি, শেষরক্ষা হলো না সাদ্দামের

ফরিদপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সাজাপ্রাপ্ত ও দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১০)। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. সাদ্দাম শেখ (২৪)। তিনি ফরিদপুর শহরের খোদাবক্স রোড, কসাই বাড়ি সড়ক এলাকার বাসিন্দা এবং মো. শেখ শহিদের ছেলে।

র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্প থেকে বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টা ৪৫ মিনিটে ফরিদপুর সদরের শিবরামপুর বাজার এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় র‌্যাব-১০-এর একটি চৌকস আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে কোতয়ালী থানার জিআর মামলা নম্বর- ৫৫৬/১৪ এর আলোকে ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯(১) ধারার টেবিল ২২(গ) অনুযায়ী ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত সাজা পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি মো. সাদ্দাম শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামি স্বীকার করেছে যে, সাজা এড়াতে সে দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিল। র‌্যাবের নিয়মিত নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতার ফলে শেষ পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

র‌্যাব-১০-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মাদক সংক্রান্ত অপরাধ দমনে র‌্যাবের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।

র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লীডার তারিকুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “মাদকদ্রব্য সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের জন্য ভয়াবহ হুমকি। মাদকের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র‌্যাব সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আমাদের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।”