খুঁজুন
শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ২৬ বৈশাখ, ১৪৩৩

আন্দােলন মোকাবিলায় শক্তি প্রয়োগ চলতেই থাকবে?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৫, ৩:১২ অপরাহ্ণ
আন্দােলন মোকাবিলায় শক্তি প্রয়োগ চলতেই থাকবে?

বিগত প্রতিটি সরকারের সময় এবং প্রায় প্রতিবছর বাংলাদেশে বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষকদের আন্দোলন করতে হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে সব সরকারই কঠোর ছিল। এটা খুবই হতাশাজনক; বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারও এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হতে পারল না। বাড়ি ভাড়াসহ বিভিন্ন ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে রোববার ‘লাগাতার অবস্থান’ কর্মসূচি পালন করছিলেন। পুলিশ লাঠিপেটা ও জলকামান ব্যবহার করে সে কর্মসূচি পণ্ড করে দেয় । 

এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন পান। তারা মূল বেতনের সঙ্গে মাসে ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান। বাড়ি ভাড়া ভাতা পান এক হাজার টাকা। বছরে দুটি উৎসব ভাতা পান মূল বেতনের ৫০ শতাংশ হারে। শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবিতে গত ১৩ আগস্ট জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নিয়ে সমাবেশ করেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। পরে শিক্ষকদের ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দল সচিবালয়ে গিয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরারের সঙ্গে দেখা করে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতনের কমপক্ষে ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া দেওয়ার দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু ৫ অক্টোবর জানা গেল, সরকার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বাড়ি ভাড়া মাত্র ৫০০ টাকা বাড়িয়েছে। এর ফলে শিক্ষকদের বাড়ি ভাড়া ভাতা দাঁড়ায় মাত্র দেড় হাজার টাকা। এই টাকায় কোথায় ভাড়া পাওয়া যায় বাড়ি? একটা ছাপরা ঘরের ভাড়াও তো এখন এর চেয়ে অনেক বেশি। স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষক-কর্মচারীরা এ বাড়ি ভাড়া ভাতা প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। সে অনুসারে রোববার তারা রাজধানীতে সমবেত হয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ তাদের ওপর ন্যক্কারজনক হামলা চালায়।

শিক্ষা একটি ব্যবস্থাপনা, যার সঙ্গে জড়িত শিক্ষার দর্শন, শিক্ষক, শিক্ষা বরাদ্দ, কারিকুলাম, সিলেবাস, পাঠ্যপুস্তক, পাঠ পদ্ধতি, শিক্ষা উপকরণ, বিদ্যালয়ের পরিবেশ; সর্বোপরি শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত বাজেট। কয়েক দশকজুড়ে এগুলো নিয়ে বিস্তর আলাপ-আলোচনা চললেও অগ্রগতি তেমন কিছুই হয়নি। আশা জেগেছিল, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের আমূল সংস্কার ও বৈষম্য নিরসনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তী সরকার উল্লেখযোগ্য কিছু করবে। কিন্তু তারাও আগের ধারায় লাঠিপেটা ও জলকামান ব্যবহার করে শিক্ষকদের আন্দোলনকে অভ্যর্থনা জানাল। অবশ্য গত এক বছরে বিভিন্ন স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে বয়কট, মব সন্ত্রাস ইত্যাদির মাধ্যমে যেভাবে প্রায় বিনা বাধায় ডজন ডজন শিক্ষককে হেনস্তা ও পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে, তাতেই শিক্ষকদের আন্দোলন সম্পর্কে এ সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝা গিয়েছিল। এ রাষ্ট্র কখনও শিক্ষকদের আন্দোলনকে শিক্ষা আন্দোলনের পাঠ হিসেবে গ্রহণ করেনি। সবাইকে ‘ডান্ডা মেরে ঠান্ডা করা’র ওষুধ প্রয়োগে তাই কোনো সরকারেরই হাত কাঁপেনি।
পাঠ্যপুস্তক নিয়ে যা হচ্ছে, তাতেও এর প্রমাণ মেলে। গত এক বছরে আওয়ামী ভূত তাড়ানোর নামে পাঠ্যপুস্তকের ‘টেক্সট’ পরিবর্তনের নানা আয়োজন দেখা গেছে, যেখানে অতীতের মতোই রাজনীতির রং ছিল স্পষ্ট। প্রথম দফায় টেক্সট বুক সংশোধনের দায়িত্ব একটি কমিটিকে দেওয়া হয়। হেফাজতে ইসলাম কমিটির কিছু সদস্যের ব্যাপারে আপত্তি করলে সে সময়ের শিক্ষা উপদেষ্টা সেই কমিটির ‘অফিসিয়াল’ অস্তিত্বই অস্বীকার করেছিলেন। এ ঘটনার রেশ না কাটতেই ভুঁইফোঁড় সংগঠন ‘স্টুডেন্ট ফর সভরেন্টি’র ঝটিকা আন্দোলনের মুখে পাঠ্যপুস্তক থেকে তুলে নেওয়া হয় গ্রাফিতি। অথচ এ গ্রাফিতি ছিল গণঅভ্যুত্থানের স্মারক; সরকারেরই বহুল উচ্চারিত দায়, দরদ ও বহুত্ববাদের প্রকাশ। সম্প্রতি ঘটেছে আরও অদ্ভুত এক ঘটনা। সরকার প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যবই জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের পরিবর্তে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমে মুদ্রণ ও বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে। যেখানে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ হলো সময়ের দাবি, সেখানে ক্ষমতাকে আরও কেন্দ্রীভূত করা হলো। কোনো প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতার কারণগুলো সামনে না এলে ব্যর্থতা-অনিয়ম-দুর্নীতির ছিদ্র কখনোই বন্ধ হবে না। তাই সেগুলোকে জিইয়ে রেখে এক প্রতিষ্ঠান থেকে আরেক প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব অর্পণ আদতে হাতের পরিবর্তনের বাইরে আর কিছুই নয়।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও কি এখন ঠিকঠাক চলছে? কয়েকদিন আগে উপদেষ্টা মাহফুজ আলম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা যখন দায়িত্ব নিলাম তখন বিএনপি-জামায়াতের লোকেরা এসে বলল, সব ফেয়ার হতে হবে– ভিসি নিয়োগ হলো দশজন বিএনপির, তিনজন জামায়াতের, অ্যাডমিন কে নেবে সেটা নিয়ে কাড়াকাড়ি হলো। এগুলো আমার চোখের সামনেই হয়েছে।’ উপদেষ্টার এ বক্তব্যের মধ্য দিয়েই আমরা আসলে বুঝতে পারি, এই সময়েও শিক্ষা ব্যবস্থাপনা কীভাবে কাজ করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য পদ এখন অনেকটাই রাজনৈতিক দলগুলোর ইজারা। আগের সরকারের নাম-গন্ধ থেকে নিজেদের দূরত্বে রাখলেও প্রতিষ্ঠান চালানোর পন্থা হিসেবে পছন্দ আগের সরকারের ‘পরিচালনা পদ্ধতি’। অথচ বলা হয়েছিল, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অতীতের দলীয় নেতৃত্বে পরিচালিত হওয়ার ধারা থেকে বেরিয়ে আসবে। আর সব ক্ষেত্রের মতো শিক্ষাঙ্গনেও এক দল যাবে, আরেক দল আসবে– এটিই যেন অলিখিত নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশ কয়েকজন শিক্ষককে এখনও একাডেমিক কার্যক্রম থেকে স্থগিত রাখা হয়েছে। প্রতিশোধের রাজনীতির চাকায় ঘুরছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।
শিক্ষকদের মেরে-ধরে, লাঠিচার্জ করে, জলকামান ব্যবহার করে আদতে ক্ষতি করা হচ্ছে শিক্ষার। এ বিষয়ে কারও মনোযোগ নেই। পাড়ার মোড়ে মোড়ে বিদ্যালয় কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করলেই শিক্ষার প্রসার ঘটে না। উপযুক্ত বেতন-ভাতা না দিলে যোগ্য শিক্ষক সেখানে আসবেন না। ফলে ইট-কাঠ-পাথরের মূল্যবান ভবন হয়তো গড়া যাবে; সেখানে চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীও ভর্তি করা যাবে, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা মিলবে না।

শিক্ষকদের আন্দোলনের দাবিকে অগ্রাহ্য না করে কান পেতে শুনুন– কোথায় সমস্যা হচ্ছে, কেন হচ্ছে। সেগুলো নিয়ে কথা বলুন। আগের সরকারের জুতা পরে ‘ফ্যাসিস্ট ফ্যাসিস্ট’ বলে লাভ হবে না। ফ্যাসিজম কোনো বস্তু বা ব্যক্তি নয়; এটি আদর্শ, কর্মপদ্ধতি, ব্যবস্থাপনা, কৌশল। সেগুলোকে বদলানো না গেলে বদল হবে না কিছুই।

জোবাইদা নাসরীন: শিক্ষক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় zobaidanasreen@gmail.com

ত্বকের জেল্লা বাড়তে যা খাবেন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ৮:৫০ পূর্বাহ্ণ
ত্বকের জেল্লা বাড়তে যা খাবেন?

ত্বকের জেল্লা ফিরিয়ে দেবে পানীয়! শুনে অবাক হওয়ার কথাই। ত্বক ভালো রাখতে, রোদ থেকে বাঁচাতে এত দিন সানস্ক্রিনের সুরক্ষাবর্মের কথা শুনেছেন, ত্বকের উজ্জ্বলতা ফেরাতে রকমারি রূপটানও রয়েছে।

কিন্তু তাই বলে পানীয় বদলে দেবে ত্বক! এমনটা কিন্তু হতেই পারে। তবে এজন্য তিতকুটে, স্বাদহীন কোনো পানীয় নয়, চুমুক দিতে হবে ঠান্ডা সুস্বাদু সবুজ পানীয়ে।

যার এক চুমুকে শরীর ও মন জুড়িয়ে যাবে। বাড়তি পাওনা ত্বকের সৌন্দর্য। তা হলে বরং খোলসা করা যাক। ত্বক ও চুলের সৌন্দর্য কিন্তু শুধু বাইরের রূপটানে ফেরে না।

এজন্য পেটও ভালো থাকা দরকার। হজমে সমস্যা, লিভারের গোলযোগ হলে তার প্রভাব পড়ে চোখেমুখে। কয়েক দিন পেট পরিষ্কার না হলে মুখে ব্রণ বের হয় অনেকেরই। লিভার ঠিক ভাবে কাজ না করলে মুখে ফুটে ওঠে কালচে ভাব। তার ওপর শরীরে পানির অভাব দেখা দিলে ত্বক রুক্ষ হয়ে যায়।

সেই সবুজ পানীয়ে এমন কী আছে?

শরীর আর্দ্র রাখতে ও সুস্থ রাখতে লেবু ও পুদিনা দিয়ে বানিয়ে ফেলুন শরবত। সবুজ রঙের এই শরবত নিয়মিত পান করলে রুক্ষ ত্বকেও আসবে প্রাণ।

কেন?

পুদিনার হরেক গুণ। হজমে সহায়ক। এর মধ্যে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা শরীর ঠান্ডা করে। প্রদাহজনিত কষ্ট কমায়। এতে আছে স্যালিসিলিক অ্যাসিড। ব্রণ বা পেট ভালো না থাকার জন্য কালচে ছোপ, পুদিনা নিয়মিত খেলে অনেক সমস্যারই সমাধান হতে পারে। পুদিনা দিয়ে গরমের দিনে মুখের মাস্কও তৈরি করা যায়।

লেবুর গুণও কম নয়। এতে থাকে ভিটামিন সি। রোগ প্রতিরোধে যা বিশেষ সহায়ক। এতে থাকে অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট। যা ত্বক ভালো রাখতে সাহায্য করে।

মধুও ব্যবহার করা হয় এই পানীয়। এতেও আছে অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট। যা ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে জরুরি। মধু ছাড়াও আরও যে সব উপাদান এতে ব্যবহার হয়, তার সব ক’টিই শরীরের জন্য উপকারী।

যেভাবে বানাবেন সবুজ পানীয়?

পুদিনা পাতা, লেবুর রস, বিট লবণ, মধু ও মৌরি বেল্ডার মেশিনে দিয়ে ব্লেন্ড করে নিন। কাচের গ্লাসে ঢেলে মিশিয়ে দিন কয়েক টুকরো বরফ। এখানেই শেষ নয়, পাতলা করে কাটা শসার টুকরো ও তুলসীর বীজ দিয়ে দিন। সবুজ এই পানীয় নিয়মিত পান করলে শরীর ভালো থাকবে। হজমশক্তি বাড়বে। বদল আসবে ত্বকেও। রুক্ষ, জেল্লাহীন ত্বক হয়ে উঠবে সজীব।

আবারও ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে শাকিরা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ৮:৪৩ পূর্বাহ্ণ
আবারও ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে শাকিরা

দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে আবারও ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরছেন ল্যাটিন পপ সম্রাজ্ঞী শাকিরা। আসন্ন ২০২৬ উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল থিম সং ‘দাই দাই’-এর টিজার প্রকাশ করে বিশ্বজুড়ে ভক্তদের চমকে দিয়েছেন শাকিরা। শাকিরার এবারের গানে তার সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন নাইজেরিয়ান মিউজিক সেনসেশন বার্না বয়।

সম্প্রতি ব্রাজিলের ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে ধারণ করা একটি টিজার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন শাকিরা। ভিডিওতে দেখা যায়, এবারের বিশ্বকাপের আয়োজক তিন দেশ মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার জাতীয় পতাকার রঙে সেজেছেন একদল নৃত্যশিল্পী।

তবে ভক্তদের সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করেছে ২০০৬, ২০১০ এবং ২০১৪ বিশ্বকাপের অফিসিয়াল ম্যাচ বলগুলোর উপস্থিতি, যা মূলত এই তিন আসরে শাকিরার কালজয়ী গানগুলোর স্মৃতিকে সম্মান জানাতেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এবারের ‘দাই দাই’ ট্র্যাকে ল্যাটিন পপের সঙ্গে আফ্রো-বিটের এক অনন্য ফিউশন দেখা যাবে বলে জানা গেছে।

শাকিরার জাদুকরী কণ্ঠ আর হিপস ডোন্ট লাইয়ের সেই চিরচেনা ছন্দ এবার বার্না বয়ের সুরের সঙ্গে মিশে নতুন এক উন্মাদনা তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগামী ১৪ মে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি পাবে পূর্ণাঙ্গ এই থিম সং। এর পর থেকেই ফুটবল উন্মাদনা নতুন মাত্রা পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে শাকিরা এক অবিচ্ছেদ্য নাম। ২০০৬ সালে জার্মানিতে ‘হিপস ডোন্ট লাই’, ২০১০-এ দক্ষিণ আফ্রিকায় কালজয়ী ‘ওয়াকা ওয়াকা’ এবং ২০১৪ সালে ব্রাজিলে ‘লা লা লা’ গেয়ে পুরো বিশ্বকে বুদ করে রেখেছিলেন তিনি। মাঝখানে বিরতি দিয়ে আবারও তার ফেরা ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে বাড়তি উদ্দীপনা যোগ করেছে।

আগামী ১১ জুন থেকে উত্তর আমেরিকায় শুরু হতে যাচ্ছে ফুটবলের এই মহাযজ্ঞ, যা চলবে ১৯ জুলাই পর্যন্ত। ৪৮টি দলের এই লড়াকু আসরের আগে শাকিরার এ গানটিকেই ধরা হচ্ছে বিশ্বকাপের মূল কাউন্টডাউন।

ভাইরালে আক্রান্ত লোভী সমাজ, প্রতিরোধের উপায় কী?

ইলিয়াস হোসেন
প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ৮:৩২ পূর্বাহ্ণ
ভাইরালে আক্রান্ত লোভী সমাজ, প্রতিরোধের উপায় কী?

উগ্র শাসক আর অপশক্তির উত্থানে বিশ্বজুড়ে দিন দিন গণমাধ্যমের ঝুঁকি বাড়ছে। যুদ্ধবাজ নেতা, সুযোগসন্ধানী বণিক শ্রেণি ও অপরাধ সংগঠনের হোতাদের নিষ্ঠুর টার্গেট হচ্ছেন সংবাদকর্মীরা। প্যাশন থেকে যুক্ত হওয়া অনিশ্চিত এ পেশায় টিকে থাকা সবসময়ই চ্যালেঞ্জের।

তথ্যপ্রযুক্তির অভূতপূর্ব উন্নতিতে মাধ্যমটি সহজলভ্য হওয়ায় দিন দিন আরও কঠিনের মুখোমুখি হচ্ছে মূলধারার গণমাধ্যম। একসময় দেশের জনপ্রিয় কয়েকটি গণমাধ্যম সভ্য দেশের অনুকরণে বাংলাদেশে ‘সিটিজেন জার্নালিজম’ বা ‘নাগরিক সাংবাদিকতা’ আমদানি করে। সেই উৎসাহ আর সহজলভ্য তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহারে এখন ঘরে ঘরে সাংবাদিক আর হাতে হাতে গণমাধ্যম ঘুরছে।

এদের দৌরাত্ম্যে সাংবাদিককে ‘সাংঘাতিক’ আর গণমাধ্যমকে ‘ঘনমাধ্যম’ বলে ভয় পাচ্ছে ভুক্তভোগীরা। রাজনীতি, রাজনীতিবিদ ও দেশ-জনতার সংকট নিয়ে মনগড়া গল্প ফেঁদে সাংবাদিকতার নামে ডলারে অখাদ্য বিক্রি করছে।

‘অমুককে বোনের স্বীকৃতি দিলেন তমুক’, ‘মানবতার ফেরিওয়ালার একি হাল’, ‘প্রয়াত মন্ত্রীর গোপন প্রেমিকার সন্ধান’ ‘তার সঙ্গে চিপা গলিতে হাঁটলেন তিনি’—এরকম হাজারো বেখবর ঘুরছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সাংবাদিকতার নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জনপ্রিয় ফেসবুককে ‘চটি বই’ বানিয়ে ফেলছে ভিউ শিকারিরা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে অসামাজিক করে তোলায় ভদ্রলোকদের বিব্রত হতে হচ্ছে। ইচ্ছা না থাকলেও সাধারণ মানুষ দেখতে বাধ্য হচ্ছে লগ্নি করা রিলস। নিজ নিজ ইউটিউব চ্যানেল বা ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রতিনিয়ত বিতর্কিত আইটেম তুলছে অতর্কিত ডলার আসার লোভে। অধুনা ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ নামের এ লোকগুলো বেশিরভাগই অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত, বেপরোয়া ও আনস্মার্ট। ভুল বানান, অশুদ্ধ উচ্চারণ, আপত্তিকর ছবিতে সয়লাব তাদের পরিবেশনা।

ডলারের লোভে স্বামী-স্ত্রী-সন্তান নিয়েও অনেকে নেমেছ এ প্ল্যাটফর্মে। কুকুর-বেড়ালের প্রতি মায়া দেখানো থেকে পিতা-মাতার বিরুদ্ধে নিষ্ঠুরতার নাটকও করে তারা। এমনকি বৃদ্ধা শাশুড়ির একাশিতম জন্মদিন উদযাপনের নামে একসিরা রোগী শ্বশুরকে নিয়ে ‘কাটা লাগা’ গানের সঙ্গে উদ্দাম নৃত্য করে কনটেন্ট ক্রিয়েটর পুত্রবধূ।

এসব নিয়ন্ত্রণের কথা বললে তারা মূলধারার গণমাধ্যমের ভুল ধরে। সরকারের তোষামোদ, রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি ও মালিকদের স্বার্থসিদ্ধির অভিযোগে জাতীয় গণমাধ্যমগুলোও প্রশ্নবিদ্ধ। প্রথম শ্রেণির টিভি টকশোতে জ্ঞানগর্ভ, মার্জিত আলোচনায় ভিউ হচ্ছে না। ঘাড়ের রগ ফুলিয়ে অসংযত ভাষায় কিলিয়ে দিতে পারলে শো ভাইরাল হয়। তাতে ডলার আসে। কাজেই ঘোমটার আড়ালে ক্ষ্যামটা নাচে নাম লেখাচ্ছে প্রায় সবাই। জনরুচি তৈরির ঝুঁকি না নিয়ে গণস্রোতে গা ভাসাচ্ছে।

ভাইরাস থেকে ভাইরাল শব্দটি এসেছে। উইকিপিডিয়া বলছে, ভাইরাল (Viral) বলতে সাধারণত এমন সংক্রমণ বা তথ্যকে বোঝায়, যা খুব দ্রুত এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তি বা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। এটি কোনো ভাইরাসজনিত রোগ

(যেমন—ফ্লু, কভিড-১৯) বা ইন্টারনেটে জনপ্রিয় হওয়া কোনো কনটেন্ট (ভিডিও, পোস্ট) হতে পারে। ভাইরাল রোগ সাধারণত হাঁচি-কাশি, সরাসরি স্পর্শ, বা দূষিত খাবার বা পানির মাধ্যমে ছড়ায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো ভিডিও, ছবি বা পোস্ট যখন অল্প সময়ে প্রচুর মানুষ শেয়ার করে এবং মুহূর্তের মধ্যে তা হাজারো-লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, তখন তাকে ভাইরাল বলা হয়।

ভাইরাল রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধে নিয়মিত সাবানপানি দিয়ে হাত ধোয়া, হাঁচি-কাশি দেওয়ার সময় মুখ ঢেকে রাখা, অসুস্থ ব্যক্তি থেকে দূরত্ব বজায় রাখা ও জনাকীর্ণ স্থানে মাস্ক ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভাইরাল রোগের ঠিক উল্টো হচ্ছে ভাইরাল ভোগ। রোগে যা বর্জনীয়, ভোগে তাই অর্জনীয়।

সম্প্রতি এক কর্মশালায় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ‘আজকের তরুণ প্রজন্ম; এমনকি যারা ইউনিফর্ম পরে, তারাও তাদের শিক্ষক কিংবা মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে যে কোনো ধরনের অশালীন মন্তব্য করতে দ্বিধা করে না।’ সেইসঙ্গে শিক্ষার্থীরা ভাইরাল হতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। সত্য প্রকাশের বদলে একটি চক্র সোশ্যাল মিডিয়াকে তাদের চাঁদাবাজি, মানুষের চরিত্রহনন, মিথ্যাচার, হিংস্রতা প্রচারের বড় কেন্দ্রে পরিণত করছে।

মিথ্যা ও ভিত্তিহীন গুজব ছড়িয়ে কেউ কেউ রাষ্ট্র ও সরকারকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে। অনেকটাই যেন প্যারালাল সরকার হয়ে উঠছে এরা! যখন যাকে খুশি অপরাধী বানিয়ে দিচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণের আগেই তাদের গ্রেপ্তার করতে বাধ্য করা হচ্ছে। বিচারকও ‘ভিউ ব্যবসায়ীদের’ কুৎসিত নোংরা আক্রমণের ভয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিতে হিমশিম খাচ্ছেন। সরকারের ভালো কাজও ট্রল করা হচ্ছে।

এই গুজব ভাইরাল বাহিনী যেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। আইন ও বিচারের ঊর্ধ্বে! আরও ভয়ের ব্যাপার হচ্ছে, মানুষ বুঝে না বুঝে ভুয়া ফটোকার্ডসহ নানা রকম গুজব শেয়ার করে দিচ্ছে। এতে করে সাধারণ মানুষ নিজের অজান্তেই ভাইরাল বাহিনীর রাজনীতি ও বাণিজ্যে সহযোগিতা করছে। ‘শেষে মজা আছে’, ‘চোখের পানি ধরে রাখতে পারবেন না’, ‘জীবনে এমন দৃশ্য দেখিনি’—এ রকম চটকদার ও ইঙ্গিতপূর্ণ ক্যাপশন দিয়ে মানুষকে প্রতিনিয়ত বিভ্রান্ত করছে।

বাংলাদেশে এটা এখন নিয়ন্ত্রণহীন মহামারির আকার ধারণ করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য সন্ত্রাস প্রতিরোধ করতে হলে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশ্বব্যাপী এ অপতথ্য বন্ধে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তাদের দায়িত্বজ্ঞানহীন বেপরোয়া কাজকর্মের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হচ্ছে। ইউটিউব দাবি করে, তাদের সাইটে কোনো আপত্তিকর কনটেন্ট তারা থাকতে দেয় না।

কিন্তু বাংলাদেশের মতো দেশগুলোয় ফেসবুক বা ইউটিউবের এ নজরদারি অনেক কম। এ রকম হাজারো কনটেন্ট আছে, যেগুলো হিংসাত্মক, ভুয়া। তবু ফেসবুক বা ইউটিউব সেগুলো বন্ধ করেনি। কোম্পানিগুলোকে বিচারের আওতায় আনার জন্য অনেক দেশ এখন আইন করেছে। সম্প্রতি ব্রিটিশ সরকার নিয়ম ভঙ্গকারী সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের জরিমানা থেকে শুরু করে তাদের সেবা পুরোপুরি বন্ধ বা ব্লক করে দেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে।

জার্মানিতে ২০১৮ সালের শুরু থেকে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যাপারে এক নতুন আইন কার্যকর হয়। যেসব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের ২০ লাখের বেশি ব্যবহারকারী আছে, তারা সবাই এ আইনের আওতায় পড়বে। কোনো কনটেন্ট সম্পর্কে অভিযোগ আসার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা তদন্ত ও পর্যালোচনা করতে হবে। আইনবিরোধী কোনো কনটেন্ট শেয়ার করলে ৫০ লাখ ইউরো পর্যন্ত জরিমানা করা যাবে। আর ওই কোম্পানিকে জরিমানা করা যাবে ৫ কোটি ইউরো পর্যন্ত।

এ আইনের ফলে সেখানে সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ও উসকানিমূলক পোস্ট উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন সোশ্যাল মিডিয়ায় আপত্তিকর কনটেন্টের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বিবেচনা করছে। বিশেষ করে জঙ্গিবাদে উৎসাহ জোগায় এমন ভিডিও দিলেই ব্যবস্থা। ইউরোপীয় ইউনিয়নে জেনারেল ডাটা প্রোটেকশন রেগুলেশন (জিডিপিআর) নামে এক নতুন আইন ২০১৮ সালেই কার্যকর হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ায় এক কঠোর আইন চালু করা হয়েছে। যাতে সহিংস ও জঘন্য কোনো কিছু অনলাইনে শেয়ার করা না যায়। এ আইন লঙ্ঘন করলে সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ এনে জেল-জরিমানার বিধানও রাখা হয়েছে। জরিমানার অঙ্কটি বেশ বড়। অর্থাৎ, ওই কোম্পানির গ্লোবাল টার্নওভারের ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা যাবে।

রাশিয়ায় ২০১৫ সালের ডাটা আইন অনুযায়ী, সব সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিকেই রুশ নাগরিকদের সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য রাশিয়াতেই কোনো সার্ভারে সংরক্ষণ করতে হয়। টুইটার, গুগল বা হোয়াটসঅ্যাপ চীনে নিষিদ্ধ। তবে সেখানে একই ধরনের কিছু চীনা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম আছে। যেমন—ওয়াইবো, বাইডু, উইচ্যাট। চীনে কিছু ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক আছে। কিন্তু চীনা কর্তৃপক্ষ সেগুলোর ব্যবহারও সীমিত করে দিতে সক্ষম হয়েছে।

তবে, বাংলাদেশের অনেক আইনপ্রণেতা, বুদ্ধিজীবী, সৃষ্টিশীল ব্যক্তি এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও ভাইরাল বাণিজ্যে জড়িত। এমনকি, সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার সময়ও কেউ কেউ ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে লাইভে ছিলেন। নিজেদের পোস্টে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে নিজস্ব বৈষয়িক এবং পারিবারিক বিষয় তুলে দেন।

তাদের অনুসারীরা হাজার হাজার শেয়ার দিয়ে লাখ লাখ সম্মতি উৎপাদন করে। হুজুগে জাতি তা দেখে আনন্দে কাঁদে, ক্ষোভে হিংসা ছড়ায় এবং তর্কে মেতে ওঠে। দিন শেষে অ্যাকাউন্টওয়ালা ডলার গোনে। ভুয়া স্ট্যাটাস, ফটোকার্ড দেখে সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনাও ঘটছে। রাজনীতিতে অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।

ভাইরাল প্রবণতা দিন দিন অবক্ষয়ের নতুন অস্ত্র হিসেবে সমাজে আঘাত হানছে। অধিক রিচ অর্জনে কাউকেই ছাড় দিচ্ছে না তারা। সর্বজন শ্রদ্ধেয় মৃত ব্যক্তিও রেহাই পাচ্ছে না নাদান ভিউ শিকারির হাত থেকে। ইতিহাসে প্রতিষ্ঠিত বিষয়কেও বিতর্কিত করছে ভিউ লোভে। অসংখ্য স্বঘোষিত বুদ্ধিজীবী ও বিশ্লেষক দেশপ্রেমিক মুখোশের আড়ালে মেরে কেটে খাচ্ছে। নিজেদের রক্ষায় এ ব্যাপারে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে দায়িত্বশীলদের। কেননা, দায়িত্বে থাকার সময় এবং ছাড়ার পরও ভাইরাল আইটেম তারা।

লেখক: হেড অব নিউজ, আরটিভি