খুঁজুন
শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১২ বৈশাখ, ১৪৩৩

এলপি গ্যাসের তীব্র সংকট, ১৩০০ টাকার সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২০০০ টাকায়

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
এলপি গ্যাসের তীব্র সংকট, ১৩০০ টাকার সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২০০০ টাকায়

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) নিয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে দেশ। ১২৫৩ টাকার ১২ কেজির গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার টাকায়। শীতে গ্যাসের চাহিদা বেশি থাকে বাসা-বাড়িতে। পাইপলাইনের গ্যাস সরবরাহ কম। তীব্র সংকট বাসাবাড়ি ও সিএনজি স্টেশনগুলোয়। অন্যদিকে এলপিজির সিলিন্ডার সহজে পাওয়া যাচ্ছে না। এলপি গ্যাসের সংকট ভয়াবহ। পেলেও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে ১২ কেজির এলপিজির সিলিন্ডার। সংশ্লিষ্টরা জানান, এলপিজি সিলিন্ডারের সংকট সহজে কাটবে না। কারণ, বিভিন্ন কারণে আগের চেয়ে এলপিজি আমদানি কমে গেছে। এ অবস্থায় সামনের দিনগুলোয় সাধারণ মানুষকে আরও কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

হাবিবুর রহমান থাকেন রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায়। বাসায় ব্যবহার করেন এলপি গ্যাস। এক সপ্তাহ ধরে বেশ সমস্যা যাচ্ছে এলপিজি নিয়ে। তিনি বলেন, আগে এক ফোন কলে এলপিজি পাওয়া যেত। এখন কল বা চাহিদা দিলেও ২/৩ দিনেও পাওয়া যাচ্ছে না। তাও ১২/১৩শ টাকার এলপিজি চাইছে ২ হাজার টাকা। হঠাৎ এমন পরিস্থিতি কেন হলো?

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে খবর নিয়ে জানা যায়, বাসাবাড়িতে পাইপলাইনের গ্যাস বলতে গেলে থাকে না। মধ্যরাতে বা ভোরে যা আসে, তা দিয়ে রান্না করা যায় না। তাই অনেকে এলপিজি দিয়ে রান্না করছেন। কিন্তু এলপিজি কিনতে গিয়ে তারা বিপাকে পড়ছেন। ১৩০০ টাকার এলপিজি বিক্রি হচ্ছে ১৯০০/২০০০ টাকায়।

তেজগাঁও এলাকার সিএনজি স্টেশনগুলোয় খবর নিয়ে জানা গেছে, অনেকদিন ধরে গ্যাসের সংকট। তবে ২/৩ দিনে এ সংকট আরও বেড়েছে। বিশেষ করে শীতের প্রকোপ বাড়ার পর লাইনে গ্যাস নেই বললেই চলে। সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ফারহান নুর বলেন, সিএনজি স্টেশনে অনেকদিন ধরে গ্যাসের সমস্যা চলছে। এ ব্যাপারে জ্বালানি উপদেষ্টা ও সচিবকে বারবার বলা হলেও কোনো সমাধান হচ্ছে না। তিনি বলেন, এতে একদিকে ব্যবসায়িক ক্ষতি হচ্ছে। অন্যদিকে সিএনজি ব্যবহারকারীরা চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।

সারা দেশে ৪০০’র মতো সিএনজি স্টেশন থাকলেও রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় আছে ২০০’র বেশি স্টেশন। খবর নিয়ে জানা যায়, শুক্রবার তিতাসের ডেমরা সিজিএস থেকে তেজগাঁও টিবিএসগামী পাইপলাইনের মেরামতের কাজ হয়েছে। এ কারণে গুলশান, বনানী, রামপুরা, মালিবাগ থেকে চৌধুরীপাড়া পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ছিল।

এছাড়া শীতের কারণে চুলায় পানি গরম করাসহ বিভিন্ন কারণে তিতাস এলাকায় গ্যাসের চাহিদা বেড়েছে দৈনিক ১০ কোটি ঘনফুটের মতো। তিতাস গ্যাস কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহনেওয়াজ পারভেজ বলেন, পাইপলাইন মেরামতের কারণে ঢাকার বেশকিছু এলাকায় গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। রোববার থেকে ওইসব এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বাড়বে। তবে এর আগে থেকেই গ্যাসের সংকট কিছুটা রয়েছে। শীতে গ্যাসের চাহিদা বাড়ে বলে জানান তিনি।

এলপিজির সংকট কেন : কিছু দিন আগেও এলপিজি চাহিদামতো পাওয়া যেত। এখন কেন পাওয়া যায় না। এর উত্তরে ভিন্ন ভিন্ন মত পাওয়া গেছে। আজ বিইআরসি এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা করবে। কিন্তু এর আগে বাজারে এলপিজির তীব্র সংকট। সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশে এলপিজি আমদানিতে ব্যবহার হতো এমন ২৯টি জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়েছে। এ কারণে জাহাজ পাওয়া যাচ্ছে না। তবে এলপিজি আমদানি এবং বোটলিং কোম্পানিদের সংগঠন এলপিজি অপারেটরস অব বাংলাদেশ-লোয়াবের সভাপতি আমিরুল হক যুগান্তরকে বলেন, এলপিজির সংকট তৈরি হয়েছে নানা কারণে। মাসিক চাহিদা ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টন। কিন্তু এখন সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৯০ হাজার টনের মতো। তিনি বলেন, এলপিজি ব্যবসায় জড়িত ৫টি কোম্পানি এখন নানা কারণে তরল এলপিজি আমদানি বন্ধ রেখেছে। তাদের জায়গায় অন্য কোম্পানিগুলো আমদানি করতে চাইলেও সরকার তা করতে দিচ্ছে না। এ কারণে সংকট ভয়াবহ হচ্ছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বেশ কয়েকটি এলপিজিবাহী জাহাজকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় এলপিজির খরচ টনে ১২০ ডলার থেকে বেড়ে ১৮০ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। তাই এলপিজির দাম পড়ছে বেশি। অন্য এক ব্যবসায়ী জানান, এলপিজির চাহিদা মাসে ১ লাখ ৫০ হাজার টনের বেশি।

সিটি গ্রুপের এলপিজি কোম্পানির পরিচালক ফিরোজ আহমেদ জানান, এলপিজির পরিস্থিতি ভালো নয়। আগের মতো এ খাতে ট্রেডার নেই। চাহিদামতো এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ, আগে অনেকে আমদানি করত। তারা এখন করে না। স্বভাবত এতে কিছুটা সংকট দেখা দিয়েছে।

তেজগাঁও এলাকার এলপিজির ডিলার তাহের এন্টারপ্রাইজের মালিক আবু তাহের বলেন, এলপিজি পরিস্থিতি ভয়াবহ। আগে দৈনিক ২০০ সিলিন্ডার বিক্রি করতাম। এখন সপ্তাহে ২০০টি বিক্রি করার মতো সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ, এলপিজি সংকট। তিনি বলেন, তাহের এন্টারপ্রাইজ ৮টি কোম্পানির ডিলার। কিন্তু এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে নিয়মিতভাবে শুধু ওমেরা থেকে। তাও চাহিদামতো নয়। বাকিগুলো নিয়মিত এলপিজি দেয় না বললেই চলে। তাছাড়া এলপিজি সংগ্রহে খরচও বেড়েছে। যেমন : একটি গাড়ি আগে একদিনে এলপিজি প্ল্যান্ট থেকে নিয়ে আসতে পারত। এখন ৩/৪ দিন প্ল্যান্টে বসে থাকতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা লোকসান দিতে হচ্ছে। একই কারণে এলপিজির দামও পড়ছে বেশি। তার তথ্যানুযায়ী, তাহের এন্টারপ্রাইজ প্রতি সিলিন্ডার বিক্রি করছে ১৩০০ বা ১৪০০ টাকায়। কিন্তু চাহিদা বেশি থাকায় সেই সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ১৮০০ থেকে ২০০০ হাজার টাকায়।

এলপিজির দাম সমন্বয় করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন-বিইআরসি। কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ শনিবার বলেন, এলপিজি সংকটের বিষয়টি নজরে এসেছে। কিন্তু বাজার তদারকি করার দায়িত্ব তো বিইআরসির নয়। তাই এ ব্যাপারে কিছু করা যাচ্ছে না।

 

যুগান্তর

ফরিদপুরে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছিল শিক্ষা কর্মকর্তার লাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:১০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছিল শিক্ষা কর্মকর্তার লাশ

ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌর এলাকায় গোপালগঞ্জ উপজেলা সদরের সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ রাজু ইসলাম (৩৬)-এর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ

শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ভাঙ্গা পৌরসভার পূর্ব হাসামদিয়া এলাকার মাতৃকুঞ্জ নামে একটি আবাসিক ভবনের চতুর্থ তলার ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত শেখ রাজু ইসলাম গোপালগঞ্জ উপজেলা সদরে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার মউতলা গ্রামে। তিনি নুরুল ইসলাম শেখের ছেলে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ভাঙ্গা পৌরসভার আতাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা হ্যাপি আক্তারের স্বামী। তাদের সংসারে দুই কন্যা সন্তান রয়েছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুর আনুমানিক ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। বিষয়টি বুঝতে পেরে দ্রুত স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে নিচে নামানো হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহতের স্ত্রী হ্যাপি আক্তার জানান, দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে তিনি বাসায় ফোন করেন। এ সময় তার মেয়েরা জানায়, তাদের বাবা ঘরের ভেতরে গলায় রশি দিয়েছেন। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত বাসায় এসে স্বামীর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান।

নিহতের জমজ ভাই শেখ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মায়ের ফোন পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে আসেন। বাসায় পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পর উপরের তলা থেকে চিৎকার শুনে দৌড়ে গিয়ে ভাইয়ের মরদেহ দেখতে পান। ঘটনাটি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।

এদিকে নিহতের ছোট মেয়ে আমেনা আক্তার (প্রায় ৪ বছর) জানায়, কিছুক্ষণ আগে তার বাবা তার পাশে শুয়ে ছিলেন। পরে তাকে পাশে না পেয়ে পাশের কক্ষে গিয়ে বাবাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে তিনি জানান।

পুলিশ জানিয়েছে, এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা খতিয়ে দেখতে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিহতের সহকর্মী ও স্বজনদের সঙ্গেও কথা বলছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সংবাদ প্রকাশের পর: জমিদার বাড়ি সংরক্ষণে পদক্ষেপের ঘোষণা দিলেন এমপি বাবুল

সদরপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:২৯ অপরাহ্ণ
সংবাদ প্রকাশের পর: জমিদার বাড়ি সংরক্ষণে পদক্ষেপের ঘোষণা দিলেন এমপি বাবুল

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাইশরশি জমিদার বাড়ি সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন ফরিদপুর-৪ (সদরপুর, ভাঙ্গা ও চরভদ্রাসন) আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। এরই প্রেক্ষিতে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টার দিকে এমপি বাবুল সরেজমিনে জমিদার বাড়িটি পরিদর্শন করেন এবং সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, এই জমিদার বাড়িটি আমাদের এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন। এটিকে রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। ইতোমধ্যে আমরা এটি অধিদপ্তর-এর আওতায় এনে সংরক্ষণের চেষ্টা করছি।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে থাকা এই জমিদার বাড়ির বিভিন্ন অংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি গুপ্তধনের আশায় বউঘাট খননের ঘটনাও এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

শহিদুল ইসলাম বাবুলের এ ঘোষণায় এলাকাবাসীর মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।

ফরিদপুরে ৫ প্রাণহানির পরও নিরাপত্তাহীন কাফুরা রেলক্রসিং, নেই গেট-গেটম্যান—ঝুঁকিতে মানুষ

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৫০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ৫ প্রাণহানির পরও নিরাপত্তাহীন কাফুরা রেলক্রসিং, নেই গেট-গেটম্যান—ঝুঁকিতে মানুষ

ফরিদপুর সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়নের কাফুরা রেলক্রসিংটি দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই রেলক্রসিংয়ে নেই কোনো লেভেল ক্রসিং গেট, নেই গেটম্যান—ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন পথচারী ও যানবাহন চালকরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বহুবার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৭ জানুয়ারি এই কাফুরা রেলক্রসিংয়েই ভয়াবহ এক দুর্ঘটনায় ট্রেন ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে ৫ জন নিহত হন। আহত হন আরও কয়েকজন, যাদের তাৎক্ষণিকভাবে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকাগামী একটি ট্রেন রেলগেট অতিক্রম করার সময় একটি মাইক্রোবাস হঠাৎ লাইনের ওপর উঠে পড়লে এ সংঘর্ষ ঘটে। ট্রেনের ধাক্কায় মাইক্রোবাসটি প্রায় ৫০ গজ দূরে ছিটকে গিয়ে পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায়।

দুর্ঘটনার সময় সেখানে কোনো গেট বা গেটম্যান না থাকাই বড় কারণ হিসেবে উঠে আসে। এরপর স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে কর্তৃপক্ষ একাধিকবার ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কাফুরা রেলক্রসিংয়ে এখনো নেই কোনো স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ট্রেন আসার সময় সতর্কবার্তা বা ব্যারিয়ার না থাকায় হঠাৎ করেই যানবাহন লাইনে উঠে পড়ছে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ওহিদুল ফকির বলেন, “প্রতিদিনই ভয় নিয়ে রাস্তা পার হতে হয়। ট্রেন কখন আসবে, কোনো ধারণা থাকে না। দ্রুত এখানে গেটম্যান নিয়োগ জরুরি।”

অটোরিকশা চালক হামিদ শরীফ বলেন, “হঠাৎ ট্রেন চলে এলে দুর্ঘটনা এড়ানো কঠিন হয়ে যায়। অনেক সময় অল্পের জন্য বেঁচে যাই।”

এলাকার চা দোকানদার হেলাল বেপারি জানান, “ট্রেন এলে আমরা নিজেরাই রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে গাড়ি থামানোর চেষ্টা করি।”

ঝালমুড়ি বিক্রেতা রফিক মোল্যা বলেন, “এখানে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। এত মানুষ মারা গেলেও কর্তৃপক্ষের কোনো মাথাব্যথা নেই।”

চটপটি বিক্রেতা মো. হায়দার মন্ডল বলেন, “প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে এই রাস্তা দিয়ে। ঝুঁকি থাকলেও যেন কারো নজর নেই—এটা খুবই দুঃখজনক।”

এ বিষয়ে ফরিদপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার প্রহলাদ বিশ্বাস ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে জানান, “গেটম্যান নিয়োগ ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন।”

এ ব্যাপারে রেলওয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাহাবুব হাসান ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, এ ব্যাপারে পাকশীতে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও এখনও এর কোনো সমাধান মিলেনি।

রেলওয়ের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মোসা. হাসিনা খাতুন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “এটি সম্ভবত অননুমোদিত রেলগেট হওয়ায় গেটম্যান নেই। তবে বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, বিষয়টি আমরা ইতোমধ্যে জেনেছি। আমরা এলাকাবাসী ও ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুতই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সোহরাব হোসেন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “জননিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাইতো সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে শ্রীঘ্রই সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”