খুঁজুন
শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৩ মাঘ, ১৪৩২

তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায়ে রাসূল (ছা.) এর নির্দেশনা

মো. বাকী বিল্লাহ খান পলাশ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৫, ৪:০২ পিএম
তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায়ে রাসূল (ছা.) এর নির্দেশনা

মসজিদে প্রবেশ করে দুই রাক‘আত ছালাত আদায় করাই হচ্ছে তাহিয়্যাতুল মসজিদ। যা আদায় করা অত্যাবশ্যক। কেননা মসজিদ মহান আল্লাহ তা’য়ালার ঘর। সুতরাং এর প্রতি হক আদায়ে যে কোন সময়ে মসজিদে প্রবেশ করলেই দুই রাক‘আত ছালাত আদায় করে মসজিদে বসা আবশ্যক।

এ সম্পর্কে আবু ক্বাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (ছা.) বলেন, যখন তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করবে, তখন সে যেন বসার পূর্বে দুই রাক‘আত ছালাত আদায় করে (ছহীহ বুখারী, হাদীস : ৪৪৪, ইফাবা হা. ৪৩১)।১
এ সম্পর্কে আরো বর্ণিত হয়েছে, আবু ক্বাতাদা (রা.) বলেন, রাসূল (ছা.) বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করবে তখন সে যেন না বসে, যতক্ষণ দুই রাক‘আত ছালাত না পড়বে (ছহীহ বুখারী, হাদীস : ১১৬৩)।

মসজিদে প্রবেশ করে দুই রাক‘আত ছালাত আদায়কে এতটাই গুরুপ্ত দেয়া হয়েছে যে, আবু ক্বাতাদা (রা.) বলেন, আমি একদা মসজিদে প্রবেশ করলাম। তখন রাসূল (ছা.) লোকদের মাঝে বসেছিলেন। আমি গিয়ে বসে গেলাম। রাসূল (ছা.) আমাকে বললেন, বসার আগে দুই রাক‘আত ছালাত আদায় করতে তোমাকে কিসে বাধা দিল? আমি বললাম, আপনাকে এবং জনগণকে বসে থাকতে দেখলাম তাই। তখন তিনি বললেন, তোমাদের কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করবে তখন সে যেন দুই রাক‘আত ছালাত আদায় না করা পর্যন্ত না বসে (ছহীহ মুসলিম, হাদীস : ১৬৮৮, ইফাবা, হা. ১৫২৫)।

এমনকি জুম‘আর খুৎবা চলাকালীন সময়েও কেউ যদি মসজিদে প্রবেশ করে তবুও তাকে দুই রাক‘আত ছালাত আদায় করে বসতে হবে। বর্ণিত হয়েছে, জাবের (রা.) বলেন, নবী করীম (ছা.) জুম‘আর দিনে খুৎবা দিচ্ছিলেন। এমতাবস্থায় জনৈক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করে। রাসূল (ছা.) তখন তাকে বললেন, তুমি কি ছালাত আদায় করেছ? সে বলল, না। তখন তিনি বললেন, তুমি দাঁড়াও দুই রাক‘আত ছালাত আদায় কর (ছহীহ বুখারী, হাদীস : ৯৩০, ৯৩১, ইফাবা, হা. ৮৮৩, ৮৮৪)।২

যে সকল সময়ে ছালাত আদায় নিষিদ্ধ। সে সকল সময়েও কেউ যদি মসজিদে প্রবেশ করে তবে তাকেও ছালাত আদায় না করে বসা যাবে না। কেননা ্আবু ক্বাতাদা (রা.) বলেন, রাসূল (ছা.) বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করে, তখন সে যেন দুই রাক‘আত ছালাত আদায় না করা পর্যন্ত না বসে (ছহীহ মুসলিম, হাদীস : ৭১৪, রিয়াযুছ ছালেহীন, হাদীস : ১১৪৪)।৩

তবে ফজরের ওয়াক্তে ফজরের ছালাত আদায়ে মসজিদে প্রবেশের পর ফজরের দুই রাক‘আত সুন্নত আদায় ব্যতিত তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায় করা যায় না মর্মে উল্লেখ করা হয়েছে জাগো নিউজ, ইসলাম ডেস্ক, ০৮ আগস্ট ২০২৪ খ্রি. প্রকাশিত ‘ফজরের ওয়াক্তে তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায়ের বিধান’ প্রবন্ধে। সেখানে বলা হয়েছে হাফসা (রা.) বলেন, যখন সুবহে সাদিক হয়ে যেত, তখন রাসূল(ছা.) শুধু ফজরের দুই রাক‘আত সুন্নত সংক্ষেপে পড়তেন (সহীহ মুসলিম, হাদীস ৭২৩)।

আরো বর্ণিত হয়েছে, আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বলেন, রাসূল (ছা.) বলেছেন, সুবহে সাদিক হওয়ার পর দুই রাক‘আত সুন্নত ছাড়া কোন ছালাত নেই (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক)।৪

উল্লেখ্য যে, মসজিদে প্রবেশ করে ফরয কিংবা সুন্নাত অথবা ওয়াক্তের ছালাতের পূর্বের সুন্নাত আদায় করলে মসজিদের হক্ব আদায় হয়ে যাবে বিধায় তাকে আর তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায় করতে হবে না মর্মে উল্লেখিত হয়েছে আব্দুর রাযযাক বিন ইউসুফ রচিত ‘রাসূল (ছা.)-এর ছালাত বনাম প্রচলিত ছালাত’ গ্রন্থের ২৩৭ পৃষ্ঠায়।
মাগরিবের আযানের পূর্বে মসজিদে প্রবেশ করলে তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায় করতে হবে কি মর্মে প্রশ্নের জবাবে মাসিক আত-তাহরীক, আগস্ট ২০১৫ খ্রি. সংখ্যার প্রশ্নোত্তর পর্বে বুখারী হাদীস : ৪৪৪ এর উদৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, আযানের পূর্বে মসজিদে প্রবেশ করার পর যদি দু‘রাকআত ছালাত আদায় করার মত সময় থাকে তবে তা আদায় করে বসবে। তবে সময় না থাকলে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করবে। অতঃপর মাগরিবের পূর্বের দু‘রাকআত নফল ছালাত আদয় করবে (সহীহ বুখারি, হাদীস : ১১৮৩, ইফাবা, হা. ১১১২)।৫

সাম্প্রতিক সময়ে কোন কোন মসজিদে মাগরিরের আযানের পর ইমাম কর্র্তৃক ছোট ছোট হাদীস বর্ণনা করতে দেখা যায়। যা নিয়মিত করা যাবেনা মর্মে উল্লেখ করা হয়েছে মাসিক আত-তাহরীক এর অক্টোরব ২০২২ খ্রি. এর প্রশ্নোত্তর পর্বে। উল্লেখিত হয়েছে রাসূল (ছা.) মাগরিরের আযানের পর ও ফরয ছালাতের পূর্বে দুই রাক‘আত ছালাত আদায় করতে উৎসাহ দিতেন। রাসূল (ছা.) একদিন তিনবার নির্দেশনা দিয়ে বলেন, তোমরা মাগরিবের পূর্বে দু‘রাকআত ছালাত আদায় কর। তবে যে ব্যক্তি ইচ্ছা করে (মুত্তাফাক্ক আলাইহ মিশকাত, হাদীস : ১১৬৫)। আনাস ইবনে মালেক (রা.) বলেন, আমরা রাসূল (ছা.) এর যুগে মাগরিবের ছালাতের পূর্বে সূর্য ডোবার পর দু‘রাকআত ছালাত আদায় করতাম। তাঁকে বলা হল তিনি কি সেই দুই রাক‘আত পড়তেন? আনাস (রা.) বলেন, তিনি আমাদেরকে দু‘রাকআত ছালাত আদায় করতে দেখতেন, তিনি আদেশ করতেন না, নিষেধও করতেন না (মুসলিম, হাদীস : ৩০৩)।৬

মহান আল্লাহ‘তায়ালা আমাদের সঠিকটি জানার ও তা মানার তৌফিক দান করুন। আমিন।

সহায়ক গ্রন্থ ও উৎসসমূহ :
স্বালাতে মুবাশ্শির (ছা.), আব্দুল হামীদ ফাইযী আল-মাদানী, পৃষ্ঠা : ১১১
জাল হাদীছের কবলে রাসূলুল্লাহ (ছা.)-এর ছালাত, ড. মুযাফফর বিন মুহসিন, পৃষ্ঠা : ১১৫, ১১৬।
রাসূল (ছা.)-এর ছালাত বনাম প্রচলিত ছালাত, আব্দুর রাযযাক বিন ইউসুফ, পৃষ্ঠা : ২৩৯, ২৪০।
ফজরের ওয়াক্তে তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায়ের বিধান, জাগো নিউজ, ইসলাম ডেস্ক, ০৮ আগস্ট ২০২৪ খ্রি.্
মাসিক আত-তাহরীক, প্রশ্নোত্তর, আগস্ট ২০১৫ খ্রি.
মাসিক আত-তাহরীক, প্রশ্নোত্তর, অক্টোবর ২০২২ খ্রি.

বাংলাদেশে ২০২৬ নির্বাচন: ভোটের রাজনীতি ও গণতন্ত্রের কঠিন পরীক্ষা

রহমান মৃধা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৪ এএম
বাংলাদেশে ২০২৬ নির্বাচন: ভোটের রাজনীতি ও গণতন্ত্রের কঠিন পরীক্ষা

বাংলাদেশ এখন একটি ঐতিহাসিক মোড়ে দাঁড়িয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেবল একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা যাবে না। এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভিত্তি, রাষ্ট্রীয় বিশ্বাস এবং ভবিষ্যৎ‑পরিকল্পনার প্রতি জাতির আত্মবিশ্বাসের পরীক্ষাও বটে।

এই নির্বাচনের স্বচ্ছতা, গ্রহণযোগ্যতা ও কার্যকারিতা নিয়ে দেশের মানুষের মনেই গভীর প্রশ্ন ও সংশয় রয়েছে। প্রশ্নগুলো কেবল একদলীয় দাবির নয়; বরং এগুলো বিস্তৃত রাজনৈতিক আলোচনার, গণমত ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের প্রতিফলন।

১. নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে কি?

এ প্রশ্ন এখন সবচেয়ে বড় এবং বাস্তব উদ্বেগ। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে ভোট পরিবেশ ‘এখন পর্যন্ত সন্তোষজনক’ এবং সবাই সহযোগিতা করলে ‘সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব’। তবু নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা শুধু সময়মতো আয়োজন দ্বারা নির্ধারিত হয় না; এটি নির্ভর করে সাধারণ জনগণের আস্থা, প্রতিদ্বন্দ্বী দলের অংশগ্রহণ, স্বচ্ছ প্রশাসন এবং ভোটারদের নিরাপত্তার ওপর।

হেট‑স্পিচের ঝুঁকি রয়েছে।

• রাজনৈতিক দল, নাগরিক সংগঠন ও মিডিয়ার দায়িত্ব হলো সতর্ক ও দায়িত্বশীল আচরণ করা।

• ভোটারদের সঠিক তথ্য প্রদান এবং শান্তিপূর্ণ অংশগ্রহণের পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চূড়ান্ত মতামত

বাংলাদেশের ২০২৬ নির্বাচন কেবল একটি ভোট নয়; এটি দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, সামাজিক বিশ্বাস ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির এক অন্তর্দ্বন্দ্বময় পরীক্ষা।

সফল ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য প্রয়োজন:

১. স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী নির্বাচন প্রক্রিয়া।

২. প্রতিটি দলের সমান সুযোগ ও বিরোধী দলের অংশগ্রহণ।

৩. প্রশাসন ও ইসির নিরপেক্ষ ভূমিকা।

৪. ভোটার নিরাপত্তা, সংখ্যালঘু অধিকার ও সামাজিক স্থিতিশীলতা।

৫. আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক, স্বচ্ছ গণনা ও তথ্য পরিবেশ নিশ্চিত করা।

ফলাফল যাই হোক, যদি এই শর্তগুলো নিশ্চিত করা হয়, তবে নির্বাচন কেবল অনুষ্ঠিত হবে না; এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পুনরুজ্জীবন এবং জাতির ঐক্যের প্রতীক হিসেবে বিশ্বে স্বীকৃত হবে।

বাংলাদেশের জনগণ চায় নির্বাচন, বিশ্বাস ও স্থিরতার সমন্বয়। এটি আজকের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এবং দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

লেখক: রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন

 

আধুনিক জীবনে রোজা: জরুরি ৩০টি মাসআলার সহজ ব্যাখ্যা

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:০৫ এএম
আধুনিক জীবনে রোজা: জরুরি ৩০টি মাসআলার সহজ ব্যাখ্যা

রমজান মাসে রোজা পালন করতে গিয়ে আধুনিক চিকিৎসা ও দৈনন্দিন জীবনের নানা বিষয়কে ঘিরে মানুষের মনে বহু প্রশ্ন দেখা দেয়। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে চিকিৎসা পদ্ধতি ও পরীক্ষানিরীক্ষার ধরন বদলে যাওয়ায় ইনজেকশন, ইনহেলার, বিভিন্ন মেডিকেল টেস্ট, অপারেশন কিংবা ওষুধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে রোজা ভঙ্গ হবে কি না—এ নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব তৈরি হয়।

ফিকহের কিতাব ও সমসাময়িক আলেমদের গবেষণায় দেখা যায়, রোজা ভঙ্গ হওয়ার মূলনীতি হলো, শরীরের স্বাভাবিক গ্রহণপথ দিয়ে কোনো বস্তু ভেতরে প্রবেশ করে পাকস্থলী বা অভ্যন্তরীণ খালি স্থানে পৌঁছানো। এ নীতির আলোকে আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলেমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং সেসব মাসআলার সমাধান দিয়েছেন।

নিচে রোজা সম্পর্কিত ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ আধুনিক মাসআলা একনজরে তুলে ধরা হলো—

১. ইনজেকশন (Injection)

ইনজেকশন নিলে রোজা ভঙ্গ হবে না।

২. ইনহেলার (Inhaler)

শ্বাসকষ্ট দূর করার লক্ষ্যে তরলজাতীয় একটি ওষুধ স্প্রে করে মুখের ভিতর দিয়ে গলায় প্রবেশ করানো হয়। এভাবে ইনহেলার স্প্রে করার দ্বারা রোজা ভেঙ্গে যাবে।

৩. এনজিও গ্রাম (Angio Gram)

হার্ট ব্লক হয়ে গেলে উরুর গোড়া দিয়ে কেটে বিশেষ রগের ভিতর দিয়ে হার্ট পর্যন্ত যে ক্যাথেটার ঢুকিয়ে পরীক্ষা করা হয়, তার নাম এনজিও গ্রাম। এ যন্ত্রটিতে কোনো ধরনের ওষুধ লাগানো থাকলেও রোজা ভঙ্গ হবে না।

৪. এন্ডোস কপি (Endos Copy)

চিকন একটি পাইপ ; যার মাথায় বাল্ব জাতীয় একটি বস্তু থাকে। পাইপটি পাকস্থলিতে ঢুকানো হয় এবং বাইরে থাকা মনিটরের মাধ্যমে রোগীর পেটের অবস্থা নির্নয় করা হয়। এ নলে যদি কোনো ওষুধ ব্যবহার করা হয় বা পাইপের ভিতর দিয়ে পানি/ওষুধ ছিটানো হয়ে থাকে, তাহলে রোজা ভেঙ্গে যাবে। আর যদি কোনো ওষুধ লাগানো না থাকে তাহলে রোজা ভঙ্গ হবে না।

৫. নাইট্রোগ্লিসারিন (Nitro Glycerin)

এরোসলজাতীয় ওষুধ, যা হার্টের জন্য দুই-তিন ফোটা জিহ্বার নিচে দিয়ে মুখ বন্ধ করে রাখা হয়। ওষুধটি শিরার মাধ্যমে রক্তের সাথে মিশে যায়। এ ওষুধের কিছু অংশ গলায় প্রবেশ করার প্রবল সম্ভবনা রয়েছে। অতএব- এতে রোজা ভেঙে যাবে।

৬. লেপারোস কপি (Laparoscopy)

শিক্জাতীয় একটি যন্ত্র দ্বারা পেট ছিদ্র করে পেটের ভিতরের কোনো অংশ বা গোশত ইত্যাদি পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে বের করে নিয়ে আসার জন্য ব্যবহৃত যন্ত্র। এতে যদি ঔষধ লাগানো থাকে, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে। অন্যথায় রোজা ভঙ্গ হবে না।

৭.অক্সিজেন (Oxygen)

রোজা অবস্থায় ওষুধ ব্যবহৃত অক্সিজেন ব্যবহার করলে রোজা ভেঙে যাবে। তবে শুধু বাতাসের অক্সিজেন নিলে রোজা ভঙ্গ হবে না।

৮. মস্তিস্ক অপারেশন (Brain Operation)

রোজা অবস্থায় মস্তিস্ক অপারেশন করলে (ওষুধ ব্যবহার করা হোক বা না হোক) রোজা ভঙ্গ হবে না।

৯. রক্ত নেওয়া বা দেওয়া

রোজা অবস্থায় রক্ত দিলে রোযা ভাঙ্গে না। তাই টেস্ট বা পরীক্ষার জন্য রক্ত দেওয়া যাবে। তবে এ পরিমাণ রক্ত দেওয়া মাকরুহ যার কারণে শরীর অধিক দুর্বল হয়ে পড়ে এবং রোজা রাখা কষ্টকর হয়ে যায়। তাই দুর্বল লোকদের জন্য (বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া) রোজা অবস্থায় অন্য রোগীকে রক্ত না দেওয়া উচিত। আর এমন সবল ব্যক্তি যে রোজা অবস্থায় অন্যকে রক্ত দিলে রোজা রাখা তার জন্য কষ্টকর হবে না, সে রক্ত দিতে পারবে। এতে কোনো অসুবিধা নেই।

১০. সিস্টোসকপি (cystoscopy)

প্রসাবের রাস্তা দিয়ে ক্যাথেটার প্রবেশ করিয়ে যে পরীক্ষা করা হয়, এর দ্বারা রোজা ভঙ্গ হবে না।

১১. প্রক্টোসকপি (proctoscopy)

পাইলস, পিসার, অর্শ, হারিশ, বুটি ও ফিস্টুলা ইত্যাদি রোগের পরীক্ষাকে প্রক্টোসকপি বলে। মলদ্বার দিয়ে নল প্রবেশ করিয়ে পরীক্ষাটি করা হয়। রোগী যাতে ব্যথা না পায়, সে জন্য নলের মধ্যে গ্লিসারিন জাতীয় পিচ্ছিল বস্তু ব্যবহার করা হয়। নলটি পুরোপুরী ভিতরে প্রবেশ করে না। চিকিৎসকদের মতানুসারে ওই পিচ্ছিল বস্তুটি নলের সাথে মিশে থাকে এবং নলের সাথেই বেরিয়ে আসে, ভেতরে থাকে না। আর থাকলেও তা পরবর্তীতে বেরিয়ে আসে। যদিও শরীর তা চোষে না কিন্তু ঐ বস্তুটি ভিজা হওয়ার কারণে রোজা ভেঙ্গে যাবে।

১২. কপার-টি (Coper-T)

যোনিদ্বারে প্লাস্টিক লাগানোকে কপার-টি বলা হয়। সহবাসের সময় বীর্যপাত হলে যেন বীর্য জরায়ুতে পৌঁছতে না পারে এজন্য এটি লাগানো হয়। এ কপার-টি লাগিয়েও সহবাস করলে রোজা ভেঙে যাবে। কাজা কাফফারা উভয়টি ওয়াজিব হবে।

১৩.সিরোদকার অপারেশন (Shirodkar Operation)

সিরোদকার অপারেশন হলো, অকাল গর্ভপাত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে জরায়ুর মুখের চতুর্পার্শ্বে সেলাই করে মুখকে খিচিয়ে রাখা। এতে অকাল গর্ভপাত রোধ হয়। যেহেতু এতে কোনো ঔষধ বা বস্তু রোজা ভঙ্গ হওয়ার গ্রহণযোগ্য খালি স্থানে পৌঁছে না, তাই এর দ্বারা রোজা ভঙ্গ হবে না।

১৪. ডি এন্ড সি (Dilatation and Curettage)

ডি এন্ড সি হলো, আট থেকে দশ সপ্তাহের মধ্য Dilator এর মাধ্যমে জীবত কিংবা মৃত বাচ্চাকে মায়ের গর্ভ থেকে বের করে নিয়ে আসা। এতে রোজা ভেঙ্গে যাবে। অযথা এমন করলে কাজা ও কাফফারা উভয়টি দিতে হবে এবং তওবা করতে হবে।

১৫. এম.আর (M.R)

এম আর হলো, গর্ভ ধারণের পাঁচ থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে যোনিদ্বার দিয়ে জরায়ুতে এম আর সিরঞ্জ প্রবেশ করিয়ে জীবত কিংবা মৃত ব্রুণ নিয়ে আসা। যারপর ঋতুস্রাব পুনরায় হয়। অতএব ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার কারণে রোজা ভেঙ্গে যাবে এবং কাজা করতে হবে।

১৬. আলট্রাসনোগ্রাম (Ultrasongram)

আলট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষায় যে ওষুধ বা যন্ত্র ব্যবহার করা হয়, সবই চামড়ার উপরে থাকে। তাই আলট্রাসনোগ্রাম করলে রোজা ভঙ্গ হবে না।

১৭. স্যালাইন (Saline)

স্যালাইন নেওয়া হয় রগে, আর রগ যেহেতু রোজা ভঙ্গ হওয়ার গ্রহণযোগ্য রাস্তা নয়, তাই স্যালাইন নিলে রোজা ভঙ্গ হবে না। তবে রোজার কষ্ট লাঘবের জন্য স্যালাইন নেওয়া মাকরূহ।

১৮. টিকা নেওয়া (Vaccine)

টিকা নিলে রোজা ভাঙবে না। কারণ, টিকা রোজা ভঙ্গ হওয়ার গ্রহণযোগ্য রাস্তায় দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে না।

১৯. ঢুস লাগানো (Douche)

ঢুস মলদ্বারের মাধ্যমে দেহের ভেতরে প্রবেশ করে, তাই ঢুস নিলে রোজা ভেঙে যাবে।

২০. ইনসুলিন গ্রহণ করা (Insulin)

ইনসুলিন নিলে রোজা ভঙ্গ হবে না। কারণ, ইনসুলিন রোজা ভঙ্গ হওয়ার গ্রহণযোগ্য রাস্তা দিয়ে প্রবেশ করে না এবং গ্রহণযোগ্য খালি জায়গায়ও ( পাকস্থলি) প্রবেশ করে না।

২১. দাঁত তোলা

রোজা অবস্থায় একান্ত প্রয়োজন হলে দাঁত তোলা জায়েজ আছে। তবে অতি প্রয়োজন না হলে এমনটা করা মাকরূহ। দাঁত তোলার সময় ওষুধ যদি গলায় চলে যায় অথবা থুথু থেকে বেশি অথবা সমপরিমাণ রক্ত গলাধঃকরণ হয়, তাহলে রোজা ভেঙ্গে যাবে।

২২. পেস্ট, টুথ পাউডার ব্যবহার করা

রোজা অবস্থায় দিনের বেলায় টুথ পাউডার, পেস্ট, মাজন ইত্যাদি ব্যবহার করা মাকরূহ। কিন্তু গলাধঃকরণ হলে রোজা ভেঙে যাবে।

২৩. মিসওয়াক করা

শুকনা বা কাঁচা মিসওয়াক দিয়ে দাঁত মাজার দ্বারা রোজার কোনো ক্ষতি হয় না।

২৪. মুখে ওষুধ ব্যবহার করা

মুখে ওষুধ ব্যবহার করে তা গিলে ফেললে বা ওষুধের অংশ বিশেষ গলাধঃকরণ হলে রোজা ভেঙে যাবে। গলায় প্রবেশ না করলে রোজা ভঙ্গ হবে না।

২৫. রক্ত পরীক্ষার জন্য রক্ত দেওয়া

রক্ত পরীক্ষার জন্য রক্ত দিলে রোজার কোনো ক্ষতি হবে না। তবে খুব বেশি পরিমাণে রক্ত দেওয়া, যার দ্বারা শরীরে দুর্বলতা আসে, মাকরূহ।

২৬. ডায়াবেটিসের সুগার মাপা

ডায়াবেটিসের সুগার মাপার জন্য সুচ ঢুকিয়ে যে একফোটা রক্ত নেওয়া হয়, এতে রোজার কোনো ক্ষতি হবে না।

২৭. নাকে ওষুধ দেওয়া

নাকে পানি বা ওষুধ দিলে যদি তা খাদ্য নালীতে চলে যায়, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে এবং কাজা করতে হবে।

২৮. চোখে ওষুধ বা সুরমা ব্যবহার করা

চোখে ওষুধ বা সুরমা ব্যবহার করার দ্বারা রোজা ভাঙবে না। যদিও এগুলোর স্বাদ গলায় অনুভব হয়।

২৯. কানে ওষুধ প্রদান করা

কানে ওষুধ, তেল ইত্যাদি ঢুকালে রোজা ভঙ্গ হবে না। তবে কারো কানের পর্দা ছিদ্র হলে ভিন্ন কথা।

৩০. নকল দাঁত মুখে রাখা

রোজা রেখে নকল দাঁত মুখে স্থাপন করে রাখলে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না।

বিস্তারিত জানতে দেখুন

الإسلام والطب الحديث لفقيه الإسلا الشيخ العلامة دلاور حسين ، ضابط المفطرات من الأدوية ونحوها في الصيام للفقيه العلامة رفيع العثماني ، جديد فقهي مسائل للفقيه العلامة خالد سيف الله الرحماني.

সমাধান জানিয়েছেন

মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী

উস্তাজুল ফিকহ, আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালাম, মিরপুর, ঢাকা

রোজা রেখে রক্তদান: রোজা কি ভেঙে যায়?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৪৬ এএম
রোজা রেখে রক্তদান: রোজা কি ভেঙে যায়?

রমজান মাসে রোজা পালন করতে গিয়ে দৈনন্দিন প্রয়োজন ও মানবিক দায়িত্ব সম্পর্কিত নানা মাসআলা সামনে আসে। বিশেষ করে অসুস্থ রোগীর জন্য রক্ত দেওয়ার প্রয়োজন হলে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, রোজা অবস্থায় রক্ত দিলে কি রোজা নষ্ট হয়ে যায়?

কারণ, রোজা অবস্থায় শরীর থেকে রক্ত বের হওয়া, দুর্বলতা সৃষ্টি হওয়া কিংবা চিকিৎসাজনিত প্রয়োজনে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা—এসব বিষয়ে শরিয়তের বিধান সম্পর্কে অনেকেই স্পষ্ট ধারণা রাখেন না।

হাদিস ও ফিকহের কিতাবে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট আলোচনা রয়েছে। আলেমরা ব্যাখ্যা করেছেন, রোজা ভঙ্গ হওয়ার মূল কারণ শরীরের ভেতরে কোনো কিছু প্রবেশ করা; শরীর থেকে কিছু বের হলে সাধারণত রোজা নষ্ট হয় না, তবে অতিরিক্ত রক্ত দিলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকায় সে বিষয়ে সতর্কতার নির্দেশনা রয়েছে।

তাই রোজা অবস্থায় রক্ত দেওয়া যাবে কি না, কার জন্য তা মাকরূহ হতে পারে এবং কোন অবস্থায় দেওয়া বৈধ—এসব বিষয় জানা রোজাদারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যাতে মানবিক দায়িত্ব পালন ও ইবাদত—দুটিই শরিয়তের বিধান অনুযায়ী করা যায়।

রোজা অবস্থায় রক্ত দিলে কি রোজা নষ্ট হয়ে যাবে?

ফুক্বাহায়ে কেরামরা বলছেন, রোজা অবস্থায় রক্ত দিলে রোজা ভাঙ্গে না। তাই টেস্ট বা পরীক্ষার জন্য রক্ত দেওয়া যাবে। তবে এ পরিমাণ রক্ত দেওয়া মাকরুহ, যার কারণে শরীর অধিক দুর্বল হয়ে পড়ে এবং রোজা রাখা কষ্টকর হয়ে যাবে। তাই দুর্বল লোকদের জন্য রোজা অবস্থায় অন্য রোগীকে রক্ত দেওয়া ঠিক নয়। আর এমন সবল ব্যক্তি যে রোজা অবস্থায় অন্যকে রক্ত দিলে রোজা রাখা তার জন্য কষ্টকর হবে না, সে রক্ত দিতে পারবে। এতে কোন অসুবিধা নেই।

(বোখারি : ১৯৩৬-১৯৪০, আলবাহরুর রায়েক : ২/২৭৩, কিতাবুল আসল : ২/১৬৮, মাজমাউল আনহুর : ১/৩৬০)