খুঁজুন
সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

ফিতরা কার ওপর ওয়াজিব? কত সম্পদ থাকলে দিতে হবে

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৫০ পূর্বাহ্ণ
ফিতরা কার ওপর ওয়াজিব? কত সম্পদ থাকলে দিতে হবে

সাদাকাতুল ফিতর মূলত দুটি আরবি শব্দের সমষ্টি। এর মধ্যে সাদাকা শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো দান, আর ফিতর শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো উন্মুক্তকরণ বা রোজা ভঙ্গকরণ।

দীর্ঘ এক মাস সিয়াম পালনের পর যেহেতু তা ভঙ্গ করা হয় এবং এ উপলক্ষে শরিয়ত কর্তৃক আরোপিত এই দান অসহায় ও দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করা হয়, তাই একে সাদাকাতুল ফিতর নামে আখ্যায়িত করা হয়।

কাদের ওপর সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব

ঈদুল ফিতরের দিন অর্থাৎ ১ শাওয়াল ভোরে নিজের মৌলিক প্রয়োজন ও ব্যবহার্য জিনিসপত্রের বাইরে যেসব মুসলিম নর-নারী এমন পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, যার মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার দামের সমান বা তার বেশি; তাদের ওপর সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব।

সাদাকাতুল ফিতরের নেসাবের ক্ষেত্রে টাকা-পয়সা, সোনা- রুপা, অলংকার, ব্যবসায়িক পণ্যের সাথে বসবাস ও খোরাকির প্রয়োজনে আসে না এমন জমি, বসবাসের অতিরিক্ত বাড়ি, অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্র– এসব কিছুও হিসাবযোগ্য। এসব মিলে যদি সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমূল্যের সম্পদ থাকে, তাহলেও সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হবে।

চলতি বছর অর্থাৎ ১৪৪৭ হিজরি/২০২৬ সালে একজন ব্যক্তির কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত কত টাকা থাকলে ফিতরা আদায় করতে হবে, তা জানিয়েছে রাজধানী ঢাকার জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার ফতোয়া বিভাগ।

প্রতিষ্ঠানটির দারুল ইফতা জানায়, ইসলামি শরিয়তের মানদণ্ড অনুযায়ী ৫২.৫ ভরি রূপার মূল্য ধরে এ বছর জাকাত-ফিতরার নেসাব ২,৩০,০০০ টাকা। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দারুল ইফতার প্রধান মুফতি মনসূরুল হক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নেসাব ঘোষণা করা হয়।

ঘোষিত নেসাব অনুযায়ী, কোনো মুসলিমের কাছে পূর্ণ এক বছর ২,৩০,০০০ টাকা থাকলে তাকে জাকাত আদায় করতে হবে এবং ঈদুল ফিতরের দিন সকালে এই পরিমাণ সম্পদ বা নগদ টাকা থাকলে ফিতরা দিতে হবে।

তীব্র দুর্গন্ধ উপেক্ষা করেই মানববন্ধন, সড়কের পাশে আলফাডাঙ্গা পৌরসভার ময়লার ভাগাড়

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১০:৫৪ অপরাহ্ণ
তীব্র দুর্গন্ধ উপেক্ষা করেই মানববন্ধন, সড়কের পাশে আলফাডাঙ্গা পৌরসভার ময়লার ভাগাড়

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের হিদাডাঙ্গা গ্রামে বসতবাড়ি ও সুইচগেট সংলগ্ন খালের পাড়ে উন্মুক্ত স্থানে সমগ্র পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা ফেলে মারাত্মক পরিবেশ দূষণের প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (৩১ মে) সকালে উপজেলার হিদাডাঙ্গা গ্রামে পৌরসভার ময়লার ভাগাড়ের সামনে হিদাডাঙ্গা গ্রামবাসীর ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই মানববন্ধনে তীব্র দুর্গন্ধ উপেক্ষা করেই এলাকার সর্বস্তরের নারী, পুরুষ, শিশুসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন, সাবেক পৌর কাউন্সিলর সৈয়দ রোমান আলী, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক সৈয়দ মিজানুর রহমান, স্থানীয় ব্যক্তিত্ব নজরুল ইসলাম মৃধা, আব্দুল খালেক সিকদার, শরীফ মোহাম্মদ গোলাম মওলা, আনিসুজ্জামান জনি ও আলী রাজ শরীফ প্রমুখ।

​মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘হিদাডাঙ্গা সুইচগেট সংলগ্ন এলাকাটি একসময় সুন্দর ও মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য পরিচিত ছিল। প্রতিদিন আশপাশের বহু প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ এখানে ঘুরতে ও খোলামেলা পরিবেশে সময় কাটাতে আসতেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, বর্তমানে পাকা সড়কের পাশেই প্রতিদিন সমগ্র পৌরসভার টনকে টন দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা-আবর্জনা এনে ফেলা হচ্ছে।’

​বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, ‘ময়লার তীব্র দুর্গন্ধে এই এলাকায় এখন শ্বাস নেওয়াই দায় হয়ে পড়েছে। পথচারীদের চলাচলে পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। শুধু তাই নয়, এই ময়লার ভাগাড়কে কেন্দ্র করে এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে, যা প্রায়ই শিশু ও পথচারীদের কামড়ে জখম করছে। অনেক সময় দুষ্কৃতকারীরা এই ময়লার স্তূপে আগুন ধরিয়ে দেয় যার ফলে সৃষ্ট বিষাক্ত ধোঁয়ায় পুরো এলাকার বাতাস দূষিত হচ্ছে এবং মানুষ ফুসফুসের নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।’ বক্তারা অবিলম্বে এই উন্মুক্ত স্থানে ময়লা ফেলা বন্ধ করে এলাকার বাসযোগ্য পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

​এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক রিফাত নূর মৌসুমী সাংবাদিকদের বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি ও নাগরিক ভোগান্তি তৈরি করে এমন সমস্যার স্থায়ী সমাধানে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”

হত্যার আতঙ্কে ঈদে বাড়ি ফেরা হয়নি, কাঁদলেন ফরিদপুরের এনসিপি নেত্রী বর্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ৮:২৯ অপরাহ্ণ
হত্যার আতঙ্কে ঈদে বাড়ি ফেরা হয়নি, কাঁদলেন ফরিদপুরের এনসিপি নেত্রী বর্ষা

ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় এক বছর আগে হামলার শিকার হওয়ার পরও বিচার না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় ছাত্রশক্তি ফরিদপুর জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব বৈশাখী ইসলাম (বর্ষা)। একইসঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কোরবানির ঈদে তাকে ও তার পরিবারকে সামাজিকভাবে বয়কট করা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

রবিবার (৩১ মে) দুপুরে সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় এসব অভিযোগ করেন বৈশাখী ইসলাম বর্ষা।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত বছরের ৩১ মে ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোয় স্থানীয় এক ব্যক্তি বাদল ও বিএনপির এক নেতার নেতৃত্বে তার ওপর হামলা চালানো হয়। ঘটনার এক বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো বিচারিক অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বর্ষা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “একসময় ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী সরাসরি ইভটিজিং ও হামলার সঙ্গে জড়িত থাকলেও এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানি ও সাইবার বুলিংয়ের মাধ্যমে একই ধরনের আচরণ করা হচ্ছে। এটাই শুধু পার্থক্য।”

তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমানে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অঙ্গসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তি ফরিদপুর জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারী হওয়ায় তাকে এবং তার পরিবারকে সামাজিকভাবে একঘরে করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তার অভিযোগ, চলতি কোরবানির ঈদে আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তার পরিবার নিজেরা পশু কোরবানি দিতে পারেনি। ফলে গ্রামের প্রচলিত রেওয়াজ অনুযায়ী প্রতিবেশীদের কাছ থেকে কোরবানির মাংস পাওয়ার আশা ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাদের পরিবারকে কোনো মাংস দেওয়া হয়নি।

বর্ষা বলেন, “শুধু আমাদের পরিবারই নয়, যেসব আত্মীয়-স্বজন আমাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখেন বা আমাদের খোঁজখবর নেন, তাদের অনেককেও কোরবানির মাংসের ভাগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, এলাকায় গেলে তাকে ‘মব’ সৃষ্টি করে হামলা বা হত্যার হুমকি দেওয়া হতে পারে—এমন আশঙ্কার কথা বিভিন্ন মানুষের মুখে শুনেছেন। পরিবারের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এবং বাবা-মায়ের অনুরোধে তিনি ঈদের সময় নিজ গ্রামে যাননি।

বর্ষা বলেন, “বাবা-মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে এলাকায় যাইনি। ফলে পরিবার নিয়ে স্বাভাবিকভাবে ঈদ উদযাপন করাও সম্ভব হয়নি।”

উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বৈশাখী ইসলাম বর্ষা ফরিদপুর জেলা শাখার একজন সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি জাতীয় ছাত্রশক্তি ফরিদপুর জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তবে বৈশাখী ইসলাম বর্ষার এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এব্যাপারে ফরিদপুরের নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ বলেন, এ ব্যাপারে বর্ষার পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী যুবরাজ খাঁনের মায়ের ইন্তেকাল, মধুখালীতে শোকের ছায়া

মো. ইনামুল খন্দকার, মধুখালী:
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী যুবরাজ খাঁনের মায়ের ইন্তেকাল, মধুখালীতে শোকের ছায়া

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার মেগচামী গ্রামে বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী যুবরাজ খাঁনের মা ছৈয়েদাতুর রহমান (৭৫)। মঙ্গলবার (২৬ মে) রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে নিজ বাড়িতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বয়সজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন ছৈয়েদাতুর রহমান। মৃত্যুকালে তিনি এক ছেলে, এক মেয়ে, নাতি-নাতনীসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, শুভানুধ্যায়ী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

মরহুমা ছৈয়েদাতুর রহমান ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রাক্তন শিক্ষক মরহুম হারুন অর-রশীদ খাঁনের সহধর্মিণী। স্বামীর জীবদ্দশায় তিনি শিক্ষা, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এলাকার মানুষের কাছে তিনি একজন ধর্মপ্রাণ, সজ্জন ও পরোপকারী নারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

বুধবার (২৭ মে) দুপুর ১২টায় মেগচামী গ্রামের খাঁন বাড়ি জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে মরহুমার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় আত্মীয়-স্বজন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ শত শত মানুষ অংশ নেন। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর স্বামী ও এক পুত্রের কবরের পাশে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

মরহুমার মৃত্যুতে মধুখালী উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন।

এদিকে প্রবাসে অবস্থানরত ছেলে যুবরাজ খাঁন মায়ের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে সকলের কাছে তাঁর মায়ের জন্য দোয়া কামনা করেছেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, মরহুমার স্নেহ, মমতা ও আদর্শ তাদের জীবনের পথচলায় চিরকাল প্রেরণা হয়ে থাকবে।