খুঁজুন
, ,

ক্ষমতা আইনকে অপহরণ করেছে

জিয়াদ মোতালা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ
ক্ষমতা আইনকে অপহরণ করেছে

ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের ঘটনা আন্তর্জাতিক আইনের কোনো ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে নেই। এটিকে সীমান্তের বাইরে বিস্তৃত কোনো বৈধ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার উদ্যোগ বলা যায় না। এটি আসলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নগ্ন শক্তির প্রকাশ। এক ধরনের রাষ্ট্রীয় আগ্রাসন, যেখানে কোনো আড়াল বা লজ্জা নেই।

এখানে আইনের জায়গা দখল করেছে ক্ষমতা। ন্যায়নীতির বদলে প্রাধান্য পেয়েছে নিজের পছন্দ ও স্বার্থ। বলপ্রয়োগকে দেখানো হচ্ছে নৈতিকতা ও সদগুণ হিসেবে। কিন্তু এটি আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা রক্ষার চেষ্টা নয়। বরং নীরবে সেই শৃঙ্খলাকেই হত্যা করা হচ্ছে।

যখন একটি রাষ্ট্র আইনকে অপহরণ করে অন্য একটি রাষ্ট্রের নেতাকে অপহরণের বৈধতা দেখাতে চায়, তখন সে আইন বা শৃঙ্খলা রক্ষা করে না, বরং সে স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দেয় যে তার আইনের প্রতি কোনো শ্রদ্ধা নেই। এ ধরনের কাজ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে না; উল্টো তা ভেঙে ফেলে এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি ভয়ংকর দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। এটি শুধু একটি দেশের বিরুদ্ধে অন্য একটি দেশের আগ্রাসন নয়। এটি বিশ্বব্যবস্থার জন্য একটি সতর্কবার্তা, যেখানে শক্তিশালী রাষ্ট্র চাইলে আইনকে পাশ কাটিয়ে নিজের ইচ্ছা চাপিয়ে দিতে পারে। আর সেখানেই সবচেয়ে বড় বিপদ লুকিয়ে আছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দ্বারা কোনো দেশের বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধানকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক আইনের কোথাও কোনো ভিত্তি পায় না, একেবারেই না। এটি জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার হিসেবেও গ্রহণযোগ্য নয়। আবার এটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনপ্রাপ্ত কোনো পদক্ষেপও নয়। আন্তর্জাতিক আইন অনেক কিছু হতে পারে, কিন্তু এটি কখনোই এমন কোনো খোলা অনুমতিপত্র নয়, যার মাধ্যমে বড় শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো অপহরণ করে সরকার পরিবর্তন করার অধিকার পায়।

মানবাধিকার লঙ্ঘন বা মাদক পাচারের অভিযোগ দেখিয়ে কোনো বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে সরিয়ে দেওয়ার যে দাবি তোলা হচ্ছে, তা বিশেষভাবে ক্ষতিকর ও বিপজ্জনক। কারণ, আন্তর্জাতিক আইনে এমন কোনো নিয়মই নেই। কোনো চুক্তিতে নেই, প্রথাগত আইনে নেই, এমনকি কোনো গ্রহণযোগ্য আইনি ব্যাখ্যা বা বিচারিক সিদ্ধান্তেও নেই।

মানবাধিকার আইন মূলত রাষ্ট্রগুলোকে কিছু আচরণগত মানদণ্ড মেনে চলতে বাধ্য করে। কিন্তু এই আইন কোনো রাষ্ট্রকে একতরফাভাবে সামরিক শক্তি ব্যবহার করে অন্য দেশের নেতাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয় না। যদি এমনটাই নিয়ম হতো, তাহলে বিশ্ব সবসময়ই এক ধরনের ‘আইনসম্মত বিশৃঙ্খলার’ মধ্যে ডুবে থাকত।

আসলে যুক্তরাষ্ট্র যদি এ তথাকথিত নীতির ব্যাপারে সত্যিই আন্তরিক হতো, তাহলে তাদের অবস্থানে ধারাবাহিকতা থাকা জরুরি ছিল। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের ফলে বিপুলসংখ্যক বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। এ নিয়ে বিস্তৃত নথি রয়েছে এবং গণহত্যার বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগও উঠেছে। সেই যুক্তি মানলে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আটক করার পক্ষে আইনগত ও নৈতিক যুক্তি আরও বেশি জোরালো হতো।

এ বাস্তবতা দেখায় যে, এখানে আসলে নীতি বা আইন নয়, ক্ষমতা ও রাজনৈতিক সুবিধাই মুখ্য হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক আইনকে বেছে বেছে ব্যবহার করা হচ্ছে নিজের স্বার্থে। আর এর ফল হচ্ছে এমন এক বিশ্বব্যবস্থা, যেখানে আইন দুর্বলদের জন্য কঠোর, কিন্তু শক্তিশালীদের জন্য প্রায় অকার্যকর। তবুও এ ধরনের কোনো যুক্তি বাস্তবে বিবেচনাই করা হয় না। এর কারণ খুবই স্পষ্ট। এখানে আইন কাজ করছে না; কাজ করছে ক্ষমতা। ক্ষমতাই ঠিক করছে কে লক্ষ্যবস্তু হবে আর কে হবে না।

সরকার পরিবর্তন বা রেজিম চেঞ্জ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে কোনো বিচ্ছিন্ন বা ব্যতিক্রমী ঘটনা নয়। বরং এটি একটি দীর্ঘদিনের অভ্যাস, যার পেছনে স্পষ্ট ঐতিহাসিক প্রমাণ রয়েছে। ১৯৫৩ সালে ইরান, ১৯৫৪ সালে গুয়াতেমালা, ১৯৭৩ সালে চিলি এবং ২০০৩ সালে ইরাক। এসব ঘটনাই দেখায় যে, যুক্তরাষ্ট্র বারবার অন্য দেশের সরকার পরিবর্তনে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জড়িত থেকেছে।

কিন্তু কোনো দেশের বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধানকে অপহরণ করা একেবারেই নতুন এবং আরও ভয়ংকর এক ধাপ। এটি নৈতিক বা রাজনৈতিক দিক থেকে শুধু নিন্দনীয়ই নয়, বরং এটি সেই আচরণ, যাকে ঠেকানোর জন্যই ১৯৪৫ সালের পরের আন্তর্জাতিক আইনব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল। বলপ্রয়োগের ওপর নিষেধাজ্ঞা কোনো ছোটখাটো নিয়ম নয়, কোনো আনুষ্ঠানিক জটিলতাও নয়। এটি আন্তর্জাতিক আইনের মূল ভিত্তি, তার প্রাণকেন্দ্র।

এ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোনো অনুমোদন ছাড়াই শক্তি প্রয়োগ করার অর্থ হলো, খোলাখুলিভাবে ঘোষণা করা যে, আইন শুধু দুর্বলদের জন্য, শক্তিশালীদের জন্য নয়। এর মাধ্যমে বলা হচ্ছে, নিয়ম মানতে হবে শুধু তাদেরই, যাদের হাতে ক্ষমতা নেই।

যুক্তরাষ্ট্র এ বাস্তবতা খুব ভালো করেই বোঝে। তারা জানে যে, তারা আন্তর্জাতিক আইনের মূল নীতিগুলো ভেঙে ফেলছে। তবুও তারা তা করছে। আর এ কাজের মধ্য দিয়েই তারা আসলে জাতিসংঘ সনদভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ময়নাতদন্ত চালাচ্ছে। অর্থাৎ, যে ব্যবস্থা বিশ্বকে যুদ্ধ ও বিশৃঙ্খলা থেকে রক্ষা করার জন্য তৈরি হয়েছিল, সে ব্যবস্থাকেই ধীরে ধীরে ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে।

এ পচন এখানেই থেমে যায়নি। ওয়াশিংটন বহুবার জাতিসংঘ সনদ এবং জাতিসংঘ সদর দপ্তর চুক্তির অধীনে নিজেদের দায়িত্ব লঙ্ঘন করেছে। যেসব কর্মকর্তা তাদের পছন্দ নয়, তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বারবার বাধা দেওয়া হয়েছে। গত বছর ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্টকে সরাসরি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে না দেওয়া কোনো কূটনৈতিক ভুল বা সামান্য অসৌজন্য ছিল না। এটি ছিল বিশ্বের প্রধান বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠানের স্বাগতিক রাষ্ট্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্পষ্ট চুক্তিভঙ্গ।

এ ঘটনার বার্তা ছিল একেবারে পরিষ্কার। আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার এবং জাতিসংঘ সনদ মানার বিষয়টি এখন আর সবার জন্য সমান নয়; এটি নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদনের ওপর।

জাতিসংঘ তৈরি করা হয়েছিল ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য, ক্ষমতার তোষামোদ করার জন্য নয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এ সংস্থা ক্রমেই গুরুতর আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন ঠেকাতে ব্যর্থ হচ্ছে। ভেটো ক্ষমতার কারণে অচল হয়ে পড়া, স্বাগতিক দেশের চাপে নত হওয়া এবং সনদ ভাঙতে সক্ষম সবচেয়ে শক্তিশালী দেশগুলোর দ্বারা উপেক্ষিত হওয়ার ফলে, জাতিসংঘ ধীরে ধীরে আইনের রক্ষক থেকে আইনের ক্ষয়কে বৈধতা দেওয়ার এক ধরনের মঞ্চসজ্জায় পরিণত হয়েছে।

এক সময় সত্য অস্বীকার করা আত্মপ্রবঞ্চনায় পরিণত হয়। এ ব্যবস্থা তার মূল প্রতিশ্রুতিতে ব্যর্থ হয়েছে। এর কারণ এই নয় যে, আন্তর্জাতিক আইন অবাস্তব বা সরল চিন্তার ফল। যে রাষ্ট্র এই ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী, সে নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে আইন মানা ঐচ্ছিক।

এ কারণে এখন সে কথাটাই বলার সময় এসেছে, যা এতদিন বলা হয়নি। জাতিসংঘের সদর দপ্তর স্থায়ীভাবে এমন কোনো দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়া উচিত, যে দেশ চুক্তিগত দায়বদ্ধতাকে বিরক্তিকর বাধা হিসেবে দেখে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একটি নতুন, বাস্তবসম্মত ও গভীর আলোচনা শুরু করতে হবে এমন একটি বিকল্প বৈশ্বিক কাঠামো নিয়ে, যার কর্তৃত্ব কোনো একটি রাজধানী, একটি ভেটো ক্ষমতা বা একটি মুদ্রার কাছে জিম্মি থাকবে না। প্রয়োজন হলে এমন একটি ব্যবস্থার কথাও ভাবতে হবে, যার ক্ষমতা জাতিসংঘের চেয়েও বেশি। কারণ, জাতিসংঘকে ভেতর থেকে ধীরে ধীরে ফাঁপা করে দেওয়া হয়েছে।

আইন শুধু স্লোগান হয়ে টিকে থাকতে পারে না। হয় এটি সবচেয়ে বেশি শক্তি প্রয়োগকারীদেরও নিয়ন্ত্রণ করবে, নয়তো এটি শুধু দুর্বলদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত ফাঁকা বুলি হয়ে থাকবে। ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্র যা করেছে, তা কোনো শৃঙ্খলা রক্ষার উদাহরণ নয়। বরং এটি প্রমাণ করে যে, আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলার জায়গা দখল করেছে ক্ষমতাবানদের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ। আর পছন্দের কোনো সীমা নেই—কিছুই বেঁধে রাখতে পারে না।

লেখক: হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটি স্কুল অব লর আইন বিভাগের অধ্যাপক। তিনি ১৯৯৫ সাল থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন কেপে পরিচালিত তুলনামূলক ও আন্তর্জাতিক আইন কর্মসূচির পরিচালক ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান শহরের বাসিন্দা তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার মুক্তি আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং সেই সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

আলজাজিরায় প্রকাশিত নিবন্ধটি ভাষান্তর করেছেন আবিদ আজাদ

ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় বিষাক্ত সাপের কামড়ে সেক আব্দুল্লাহ (৫) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত আব্দুল্লাহ উপজেলার গাজিরটেক ইউনিয়নের চর অমরাপুর গ্রামের সেক শাহেদের ছেলে। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল পরিবারের সবার ছোট এবং অত্যন্ত আদরের সন্তান।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৯টার দিকে বাড়ির পেছনে খেলাধুলা করছিল আব্দুল্লাহ। এ সময় একটি কংক্রিটের স্ল্যাবের নিচে থাকা বিষাক্ত সাপ তার পায়ে কামড় দেয়। কামড় খাওয়ার পর শিশুটি বাড়িতে এসে মাকে জানায়, তাকে ‘ব্যাঙে কামড় দিয়েছে’। প্রথমে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে না নেওয়ায় পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে নিয়ে যান, যিনি নিজেকে ঝাড়ফুঁক ও চিকিৎসাজ্ঞানসম্পন্ন বলে পরিচয় দেন।

শিশুটির চাচি আখি আক্তার জানান, স্থানীয় শহীদ ফকির নামে এক ব্যক্তির কাছে নেওয়ার পর তিনি কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেন, এটি সাপের কামড় নয়। তার কথায় আশ্বস্ত হয়ে কিছু সময় সেখানে কাটানো হয়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই আব্দুল্লাহর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে শুরু করে।

পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও দুপুরের দিকে শিশুটি মারা যায়।

গাজিরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “প্রথমে শিশুটিকে স্থানীয় এক ফকিরের কাছে নেওয়া হয়েছিল। পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।”

আব্দুল্লাহর অকাল মৃত্যুতে পরিবারজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো চর অমরাপুর গ্রাম। প্রতিবেশীরাও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

নগরকান্দায় স্ত্রীর তালাকের এক সপ্তাহ পর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলছিল জামাতার মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ণ
নগরকান্দায় স্ত্রীর তালাকের এক সপ্তাহ পর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলছিল জামাতার মরদেহ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে শ্বশুরবাড়িতে এসে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন আব্দুল কারিম মুন্সী (৪২) নামে এক ব্যক্তি।

শনিবার (২০ জুন) সকালে উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের আলগাদিয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল কারিম মুন্সী ভাঙ্গা উপজেলার কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মৃত জালাল মুন্সীর ছেলে। তিনি নগরকান্দার আলগাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ওমর আলী শেখের জামাতা ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আব্দুল কারিম ও তার স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন এবং কোনো স্থায়ী পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। এসব কারণে তাদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি লেগেই থাকত। একপর্যায়ে কোরবানির ঈদের প্রায় এক সপ্তাহ আগে তার স্ত্রী একতরফাভাবে তাকে তালাক দেন।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের ধারণা, তালাকের পর থেকেই আব্দুল কারিম মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। ঘটনার আগের রাতে তিনি শ্বশুরবাড়িতে আসেন। পরে শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় শ্বশুর ওমর আলী শেখের টিনশেড বসতঘরের সিঁড়ির আড়ার সঙ্গে দড়ি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

শনিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। পরে খবর পেয়ে নগরকান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানি আজাদ জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নে শ্বশুরের সেবাযত্নকে কেন্দ্র করে স্বামীর সঙ্গে বিরোধের জেরে রিমা আক্তার (৩৩) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২০ জুন) ভোরে সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াজউদ্দিন মুন্সির ডাঙ্গী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রিমা আক্তার ওই এলাকার শাহেদ আলীর স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, রিমার শ্বশুর জহির উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছেন। তাকে দেখাশোনা ও সেবাযত্ন করার বিষয় নিয়ে প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হতো।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় শ্বশুরের দেখভাল করা নিয়ে রিমা আক্তার ও তার স্বামী শাহেদ আলীর মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে রিমা আক্তার স্বামীকে বিভিন্ন কথা বলেন। পরে রাতের খাবার খেয়ে স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন।

পরদিন শনিবার ভোরে শাহেদ আলী ঘুম থেকে উঠে ঘরের বাইরে গেলে ওই সুযোগে রিমা আক্তার ঘরের বাঁশের ধরনার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।কিছুক্ষণ পর তার মেয়ে সাবিহা (৯) মাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। পরে শাহেদ আলী ওড়না কেটে তাকে নিচে নামালেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খায়রুল বাশার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে এসআই খায়রুল বাশার বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”