খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

নব্য ফ্যাসিবাদের শঙ্কা মুক্তির পথ কী

মো. ইলিয়াস হোসেন
প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ জুন, ২০২৫, ১২:০৭ পিএম
নব্য ফ্যাসিবাদের শঙ্কা মুক্তির পথ কী

বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বেশি আলোচিত সংবাদ হচ্ছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক ঘোষিত নির্বাচনী রোডম্যাপ যা আগামী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমার্ধের যে কোনোদিনে অনুষ্ঠিত হতে পারে। কেঊ কেউ বলছে, দ্রুত সাধারণ নির্বাচন দিয়ে নতুন সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর, আবার কোনো কোনো রাজনৈতিক দল এবং দেশি-বিদেশি কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক বা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মনে করছেন, গত ১৫ বছরের সব জঞ্জাল দূর করতে ‘রাষ্ট্র সংস্কার’-এ হাত দিক, তাতে যদি ৩ থেকে ৫ বছর সময় লাগে তাতেও সমস্যা নেই।

তারা মনে করেন, গত ১৫ বছরে আওয়ামী স্বৈরাচারী এবং ফ্যাসিবাদী সরকার দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, যেমন বিচার বিভাগ থেকে শুরু করে নির্বাহী বিভাগ, ব্যাংকিং বিভাগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্বাচন কমিশন, পুলিশ, বিজিবি এবং আনসারসহ দেশের যেসব প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করে সাধারণ জনগণের কাছে বিতর্কিত করেছে, সেই প্রতিষ্ঠানগুলোর পূর্ণাঙ্গ সংস্কার করাসহ যতক্ষণ না পর্যন্ত দেশে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিদ্যমান থাকা প্রয়োজন। সেই দাবি পূরণ করতে বর্তমান সরকার বেশকিছু সংস্কার কমিটিও গঠন করেছে, ওইসব সংস্কার কমিটির রিপোর্টও ইতোমধ্যে সরকারের হাতে এসে পৌঁছেছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে একটি জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়েছে। উদ্দেশ্য হলো তারা সব সংস্কার রিপোর্টগুলো পর্যালোচনা করে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবে এবং সবার ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংস্কারের একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা নির্ধারণ করবে যা জাতির কাছে উপস্থাপন করা হবে। তবে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, ‘রাষ্ট্র-সংস্কার’ শব্দটি ক্ষুদ্র হলেও এর ব্যাপকতা অনেক বেশি।

তাই দেশের বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, সাংবাদিক, রাজনীতিক, লেখক, গবেষক এবং সুশীল সমাজসহ সব পর্যায়ের জ্ঞানী ব্যক্তিদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ রাষ্ট্রের অনেক সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান আছে, আছে ’৭২-এর সংবিধান, অনেক স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, এসবের সংস্কারের জন্য প্রয়োজন বুদ্ধিভিত্তিক ইনপুট এবং পর্যাপ্ত সময়। এমন এমন সব প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যার সংস্কার ৬ মাসে সম্ভব, কোনোটা ১ বছর, আবার কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের সংস্কার ১ বছরের অধিক সময়ও লাগতে পারে। এসব বিষয়ে চিন্তাভাবনা করে সর্বাগ্রে দরকার সংস্কারের গুরুত্ব অনুযায়ী একটি প্রায়োরিটি লিস্ট করা। অতঃপর সেই প্রায়োরিটি অনুসারে সংস্কার কার্যক্রমে মনোনিবেশ করা। তবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি, ফ্যাসিবাদের পতনের পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব একটি শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করা এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। এই কাজের জন্য যে যে সংস্কার প্রয়োজন তা দ্রুত শেষ করে ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজন করা। তারা মনে করেন, সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া যা নির্বাচিত সরকার পরবর্তী সময়েও চলমান রাখতে পারবে। এ প্রেক্ষিতে বর্তমান সরকারের উচিত একটা রোডম্যাপ প্রস্তুত করে তা জনগণের কাছে উন্মুক্ত করা।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বরাতে জানা যায়, সংস্কারসহ জুলাই-আগস্ট ২০২৪ সালে সংঘটিত নৃশংস ও বর্বরিত হত্যাকাণ্ডের ওপর একটি দলিল যাকে ‘জুলাই সনদ ২০২৪’ নামে প্রস্তুত করে তা সব রাজনৈতিক দলের স্বাক্ষরের জন্য উপস্থাপন করা হবে যা ভবিষ্যতে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহৃত হবে। এসব করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পর্যাপ্ত সময়ের প্রয়োজন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেবল পুরনো পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে নির্বাচন করলেই কাক্সিক্ষত পরিবর্তন আসবে না। নির্বাচন ব্যবস্থায় মৌলিক সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। প্রস্তাব এসেছে, স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত সরকার গঠনের একটি নতুন কাঠামো প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এই কাঠামোর আওতায় গ্রাম, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে নির্বাচিত পরিষদ গঠন করা হবে, যার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় থাকবে। এ ক্ষেত্রে জাতীয় নির্বাচনের জন্য একটি ভিন্নধর্মী ভোটিং কাঠামো প্রস্তাব করা যেতে পারে, যেখানে সাধারণ ভোটারের ভোটের ওজন হবে ৭৫% এবং স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিদের ভোটের ওজন থাকবে ২৫%। এতে জনগণের চাওয়ার প্রতিফলন যেমন নিশ্চিত হবে, তেমনি স্থানীয় নেতৃত্বের অংশগ্রহণও সুনিশ্চিত হবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ, নির্বাচনকালীন রোডম্যাপ ও কাঠামো নিয়ে চলমান রাজনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণে রাষ্ট্র সংস্কার, ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করাই হতে পারে কার্যকর সমাধান। এর জন্য দরকার সময়সীমা নির্ধারণ, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন এবং আন্তরিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সংলাপ। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সে পথে হাঁটতে দেখছি না। দেখছি না সেই বৈষম্য ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জেগে ওঠা সংগ্রামী ছাত্রদের, যাদের প্রতিবাদী কণ্ঠে মানুষ দেখেছিল নতুন এক ভোরের স্বপ্ন। সেই স্বপ্নে ছিল মুক্তি, ছিল স্বাধীনতা, ছিল গণতান্ত্রিক অধিকার এবং ছিল একটি ন্যায়ের সমাজ গঠনের প্রত্যাশা।

জাতীয় নির্বাচন, যা হওয়া উচিত ছিল জনগণের মতপ্রকাশের প্রধান মাধ্যম, যার জন্য গত ১৫ বছর মানুষ সংগ্রাম করেছে, আজ তার দিন-তারিখ ঠিক করতেই অতিবাহিত হয়েছে ১০ মাস। কবে সেই কাক্সিক্ষত নির্বাচন? আদৌ হবে কী? এরই মধ্যে বিরোধী মতের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার, প্রশাসনিক পক্ষপাতÑ সব মিলিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়া, অন্যদিকে সম্ভাব্য ক্ষমতাগ্রহী রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতার স্বাদ পেতে সব আদর্শ বিসর্জন দিয়ে কেবল নির্বাচনের তাড়াহুড়া, পতিত ফ্যাসিবাদী সরকারের সাম্রাজ্যের দখল নেওয়ায় ব্যস্ত থাকা ইত্যাদি সব মিলিয়ে বর্তমান তরুণদের অনেকেই এখন রাজনীতিকে দেখছে আজ ব্যক্তিগত সুযোগ-সুবিধার এক বিশাল ক্ষেত্র হিসেবে। এতে রাজনৈতিক সংস্কৃতি ক্রমেই কলুষিত হয়ে পড়ছে। দেশ একটি কঠিন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সংকট শুধু রাজনৈতিক নয়Ñ এটি একটি নৈতিক সংকট, একটি চেতনার সংকট। সেজন্য প্রয়োজন আদর্শনিষ্ঠ এবং মূল্যবোধভিত্তিক রাজনীতি, যা হতে পারে ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক। ইতিহাস বলে, যে জাতি অধিকার আদায়ে রক্ত দিতে জানে, তারা কখনও চিরকাল নিপীড়িত থাকে না। তাই আমাদের সামনে এখনও পথ আছে। সেই পথ সংগ্রামের, প্রশ্নের, আত্মজিজ্ঞাসার। স্বপ্ন এখনও বেঁচে আছে, তবে তাকে বাস্তব করতে হলে দরকার একটানা চেষ্টা, দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এবং সত্যিকারের সাহস। যদি আমরা সেই পথে হাঁটতে পারি, তবে নিশ্চিতভাবেই একদিন মুক্তি আসবে, গণতন্ত্র ফিরে আসবে এবং মানুষ আবার বিশ্বাস করতে পারবেÑ এই দেশটি সত্যিই আমার এবং আমাদের।

কর্নেল মো. ইলিয়াস হোসেন : প্রকৌশলী ও গবেষক

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৪:০৩ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঈদের নামাজ শেষে দুই দল গ্রামবাসী মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ১৫/২০ টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হয় বলে জানা গেছে।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত দুই ঘন্টা ব্যাপী দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে চলে এ সংঘর্ষ। দুই পক্ষ ঢাল, সরকি, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে-অপরের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। এ সময় এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের ইসমাইল মুন্সি ও চুন্নু মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দিনগত রাত সাড়ে বারটার দিকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত ১২ জন আহত হন। এর জের ধরে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও মন্ত্রী কে এম ওবায়দুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ১:৩০ পিএম
বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও মন্ত্রী কে এম ওবায়দুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বিএনপির সাবেক মহাসচিব, সাবেক মন্ত্রী কে এম ওবায়দুর রহমানের ২১ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০০৭ সালের ২১ মার্চ ঢাকা অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তাঁর ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।  

কেএম ওবায়দুর রহমান ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্র রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন ও নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি ১৯৬২-৬৩ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৬৩ থেকে ৬৫ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি ফরিদপুরের কোতোয়ালি ও নগরকান্দা থানা নিয়ে গঠিত আসন থেকে জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। স্বাধীনতার  পরে ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ফরিদপুরের নগরকান্দা আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ও সরকারের প্রতিমন্ত্রী হন। ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ফরিদপুরের নগরকান্দা আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ও সরকারের মন্ত্রী হন। এরপর তিনি বিএনপির মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্য হন।তিনি ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের ৭ম জাতীয় সংসদ ও ২০০১ সালের ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর -২ (নগরকান্দা ও সালথা) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

তাঁর ১৯ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক বাণীতে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বাংলাদেশে মরহুম কে এম ওবায়দুর রহমান একজন গণসম্পৃক্ত জাতীয় নেতা হিসেবে সবার নিকট সমাদৃত ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকে শুরু পরবর্তীতে জাতীয় রাজনৈতিক জীবনে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র তথা সকল আন্দোলন -সংগ্রামে সোচ্চার থেকে তিনি আজীবন দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের পক্ষে নিজেকে নিবেদিত রেখেছিলেন। ‘

কেএম ওবায়দুর রহমানের একমাত্র সন্তান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘তিনি ছিলেন গণমানুষের নেতা, ন্যায় ও গণতন্ত্রের নির্ভীক সৈনিক। তার আদর্শ, সততা মানুষের জন্য কাজ আমাদের পথচলার প্রেরণা হয়ে আছে এবং থাকবে।

কে এম ওবায়দুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ফরিদপুর জেলা বিএনপি, নগরকান্দা ও সালথা উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে আজ শুক্রবার বিকাল ৩ টায় নগরকান্দার লস্করদিয়ায় কে এম ওবায়দুর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা অর্পণ ও আগামী ২৩ মার্চ বিকালে নগরকান্দা সরকারি মহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমি মাঠে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন