ফরিদপুরে ভাইরাল অজ্ঞাত মানসিক প্রতিবন্ধী নারীর পচন ধরা হাত কেটে জীবন বাঁচালেন চিকিৎসকরা
গরমের দিনে ঠান্ডা তরমুজের এক টুকরো মুখে তুলেছেন, আর অসাবধানতাবশত একটি কালো বীজ গিলে ফেললেন—এ অভিজ্ঞতা কমবেশি সবারই আছে। অনেকেই তখন চিন্তায় পড়ে যান, শরীরে কোনো ক্ষতি হবে কি না!
কারণ ছোটবেলা থেকেই প্রচলিত একটি ধারণা, তরমুজের বীজ গিলে ফেললে বিপদ হতে পারে। তবে বাস্তবতা ভিন্ন। পুষ্টিবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই বীজ মোটেই ক্ষতিকর নয়; বরং সঠিকভাবে খেলে এটি হতে পারে পুষ্টির এক সমৃদ্ধ উৎস। গরমের এই সময়ে তরমুজের বীজ নিয়ে ভুল ধারণা ভেঙে সঠিক তথ্য জানা জরুরি।
তরমুজের বীজ : মিথ থেকে সুপারফুড
তরমুজের বীজ খাওয়া সম্পূর্ণ নিরাপদ। কাঁচা অবস্থায় গিলে ফেললে এটি মূলত আঁশ হিসেবে কাজ করে এবং পরিপাকতন্ত্র দিয়ে প্রায় অপরিবর্তিত অবস্থায় বের হয়ে যায়। তবে আসল উপকার পেতে হলে বীজকে সঠিকভাবে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
ভারতীয় উপমহাদেশে বিভিন্ন মিষ্টান্ন ও রান্নায় তরমুজসহ অন্যান্য ফলের বীজ ব্যবহারের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। গবেষণাতেও দেখা গেছে, উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে প্রোটিন ও খনিজের বৈচিত্র্য বাড়াতে এই বীজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
পুষ্টিগুণে ভরপুর
ছোট দেখতে হলেও তরমুজের বীজ পুষ্টিগুণে ভরপুর, যা আধুনিক খাদ্যাভ্যাসে অনেক সময় ঘাটতি থেকে যায়।
১. প্রোটিনের ভালো উৎস
তরমুজের বীজে প্রায় ৩০ শতাংশ প্রোটিন থাকে। এতে রয়েছে আর্জিনিন নামের অ্যামিনো অ্যাসিড, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
২. উপকারী চর্বি (ফ্যাট)
এতে রয়েছে মনোআনস্যাচুরেটেড ও পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড, যা খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কমাতে ও শরীরের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
৩. খনিজ উপাদানের ভাণ্ডার
ম্যাগনেসিয়াম : স্নায়ুর কার্যক্রম ও হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে
জিংক : রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ
আয়রন : রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে সহায়ক, শক্তি বাড়ায়
স্বাস্থ্য উপকারিতা
গরমকালে শরীরের পানিশূন্যতা, ক্লান্তি ও ত্বকের সমস্যা বাড়ে। এ সময় তরমুজের বীজ উপকারী হতে পারে।
ত্বক ও আর্দ্রতা বজায় রাখতে সহায়ক : বীজে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। জিংক ও ম্যাগনেসিয়াম ত্বকের সমস্যা কমাতে ভূমিকা রাখে।
হৃদ্স্বাস্থ্যে উপকারী : গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে হৃদ্যন্ত্রকে বেশি কাজ করতে হয়। তরমুজের বীজে থাকা ম্যাগনেসিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে।
শক্তি ও বিপাকক্রিয়া বাড়ায় : এতে থাকা বি-ভিটামিন (যেমন নায়াসিন ও ফলেট) খাবারকে শক্তিতে রূপান্তর করতে সাহায্য করে। ফলে ক্লান্তি কমে।
কীভাবে খাবেন তরমুজের বীজ : কাঁচা অবস্থায় গিলে ফেললে ক্ষতি নেই, তবে পুষ্টিগুণ পুরোপুরি পেতে হলে বীজ ভেঙে বা প্রক্রিয়াজাত করে খাওয়া ভালো।
ভেজানো, অঙ্কুরিত বা ভাজা : বীজ ভিজিয়ে অঙ্কুরিত করলে খনিজ শোষণে বাধা দেওয়া উপাদান কমে যায়। এরপর রোদে শুকিয়ে বা হালকা ভেজে খাওয়া যায়।
সহজ ভাজা রেসিপি
তরমুজের বীজ ধুয়ে শুকিয়ে নিন। সামান্য ঘি বা তেলে হালকা ভেজে নিন। চাইলে লবণ, শুকনা আমচুর বা মরিচ গুঁড়া ছিটিয়ে স্বাদ বাড়াতে পারেন। এতে বাদামের মতো মচমচে স্বাদ পাওয়া যায়।
খাবারে ব্যবহার
১. সকালের নাস্তায় পোহা বা উপমার সঙ্গে
২. স্মুদি বা লাচ্ছিতে ব্লেন্ড করে
৩. সালাদে টপিং হিসেবে
সতর্কতা
সবকিছুর মতো এটিও পরিমিত খাওয়া জরুরি।
হজমের সমস্যা : কাঁচা বীজ বেশি খেলে পেটে গ্যাস বা অস্বস্তি হতে পারে
ক্যালরি বেশি : অল্প পরিমাণ (২৫–৩০ গ্রাম) যথেষ্ট
শেষ কথা
তরমুজের বীজ কোনো ভয় পাওয়ার বিষয় নয়। বরং এটি প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া একটি পুষ্টিকর উপাদান। তাই পরেরবার তরমুজ খাওয়ার সময় বীজকে ফেলে না দিয়ে সচেতনভাবে খাবারের অংশ করে তুলতে পারেন। ছোট এই বীজই হতে পারে আপনার শরীরের জন্য বড় উপকারের উৎস।
সূত্র : এনডিটিভি
জুতা পুরোনো হয়ে গেলে আমরা বুঝি নতুন কিনতে হবে, পোশাকের রঙ ফিকে হলে সেটাও বদলাই। কিন্তু টুথব্রাশ? প্রতিদিন ব্যবহার করলেও অনেকেই জানেন না, কখন সময় হয় পুরোনো টুথব্রাশ বদলে নতুনটি ব্যবহার করার। বিষয়টি নির্ভর করে ব্যবহার, স্বাস্থ্য ও ব্যক্তিগত অভ্যাসের ওপর। তাই পরেরবার দাঁত মাজার আগে ভেবে দেখুন, আপনার টুথব্রাশ বদলানোর সময় কি এসে গেছে?
এক টুথব্রাশ কতদিন ব্যবহার করবেন?
দাঁতের বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, প্রতি ৩ থেকে ৪ মাস পর টুথব্রাশ পরিবর্তন করা উচিত। তবে কেউ সম্প্রতি অসুস্থ থাকলে বা একাধিক টুথব্রাশ একসঙ্গে রাখলে আরও আগে পরিবর্তন করাই ভালো। ব্রাশের ব্রিসল বা কাঁটা যদি ছেঁড়া বা বেঁকে যায়, সেটি আর ঠিকভাবে পরিষ্কার করতে পারে না, তখনই বুঝতে হবে, সময় হয়েছে নতুন টুথব্রাশ নেওয়ার। শিশুরা সাধারণত বেশি জোরে ব্রাশ করে, তাই তাদের টুথব্রাশ বড়দের তুলনায় বেশি ঘনঘন বদলানো প্রয়োজন।
টুথব্রাশের ধরন
মূলত দুই ধরনের টুথব্রাশ ব্যবহৃত হয়। একটি ম্যানুয়াল (হাতে চালানো) ও অন্যটি ইলেকট্রিক (বিদ্যুৎচালিত)। এর মধ্যে যেটি ব্যবহার করে আপনার আরাম লাগে এবং নিয়মিত দাঁত মাজতে উৎসাহ পান, সেটিই বেছে নেওয়া সবচেয়ে ভালো।
ম্যানুয়াল টুথব্রাশ সহজে বহনযোগ্য, শব্দহীন এবং ব্যবহারকারী নিজের ইচ্ছেমতো চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। অন্যদিকে, ইলেকট্রিক টুথব্রাশে ঘূর্ণায়মান ব্রিসল দাঁতের ফাঁক ও মাড়ির কাছের ময়লা সহজে দূর করে। অনেক ইলেকট্রিক ব্রাশে টাইমার ও প্রেসার সেন্সর থাকে, যা নির্দিষ্ট সময় ধরে সঠিকভাবে ব্রাশ করতে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত চাপ পড়া থেকে মাড়িকে রক্ষা করে।
টুথব্রাশের যত্ন
যে ধরনের টুথব্রাশই ব্যবহার করুন, পরিষ্কার রাখা সবচেয়ে জরুরি। আমেরিকান ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশন (ADA)-এর পরামর্শ অনুযায়ী, প্রতিবার ব্যবহারের পর টুথব্রাশ ভালোভাবে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে, যেন পেস্ট বা ময়লার কোনো অংশ আটকে না থাকে। ব্যবহারের পর টুথব্রাশ সোজা করে দাঁড়ানো অবস্থায় শুকাতে দিন। ভেজা অবস্থায় ঢাকনা দেওয়া বা বন্ধ কনটেইনারে রাখলে সেখানে ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
ভ্রমণে গেলে ব্রাশ আর্দ্র থেকে ব্যাকটেরিয়া ছড়াতে পারে, তাই চাইলে ডিসপোজেবল টুথব্রাশ ব্যবহার করতে পারেন।
নিয়মিত অভ্যাসে আনুন পরিবর্তন
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবারের সবার জন্য বছরে কয়েকবার নতুন টুথব্রাশ কেনার অভ্যাস গড়ে তুলুন। ব্রাশ পরিবর্তনের সময় নির্ভর করে ব্যবহার, বয়স ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার ওপর; তবে সবচেয়ে ভালো হয় যদি বাথরুম ক্যাবিনেটে সব সময় বাড়তি একটি নতুন টুথব্রাশ মজুত থাকে, প্রয়োজনে যেন সঙ্গে সঙ্গে বদলানো যায়।
সূত্র : মায়ো ক্লিনিক ও কোলগেট
বাজারে গেলে দেখা যায় নানান ধরনের চাল। কোথাও চিকন, কোথাও মোটা; কোনোটা ঝরঝরে, কোনোটা একটু আঠালো। অনেকেই স্বাদ, দামের পার্থক্য বা অভ্যাস অনুযায়ী চাল বেছে নেন। কিন্তু স্বাস্থ্যের দিক থেকে কোন চাল বেশি উপকারী, এই প্রশ্নের উত্তর জানেন না অনেকেই।
বিশেষ করে ডায়াবেটিস, ওজন বৃদ্ধি বা হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়ার এই সময়ে সঠিক চাল নির্বাচন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই নিয়মিত খাদ্যাভ্যাসে কোন ধরনের চাল রাখা উচিত, তা নিয়ে সচেতন হওয়া জরুরি। এ বিষয়ে একটি জাতীয় দৈনিককে বিস্তারিত জানিয়েছেন ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ তামান্না চৌধুরী। নিচে তা তুলে ধরা হলো।
পুষ্টিগুণে এগিয়ে যে চাল
চালের বাইরের স্তরে আমাদের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় বেশ কিছু পুষ্টি উপাদান থাকে। কিন্তু চাল প্রক্রিয়াজাত করার সময় এই বাইরের স্তর অনেকাংশে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে হারিয়ে যায় গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিগুণ।
এসব পুষ্টি উপাদানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ভিটামিন বি। যার মধ্যে রয়েছে থায়ামিন, নায়াসিন ও পাইরিডক্সিন। এছাড়া জিংক, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ ও ফসফরাসের মতো খনিজ উপাদানও অনেকটাই কমে যায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আঁশ বা ফাইবারও কমে যায়। অর্থাৎ চাল যত বেশি পরিশোধিত ও চিকন হবে, তাতে পুষ্টিগুণ তত কমে যাবে। সেই হিসেবে চিকন চালের তুলনায় মোটা চাল পুষ্টিগুণে অনেকটাই এগিয়ে।
আরও সুবিধা-অসুবিধা
মোটা চালে আঁশের পরিমাণ বেশি থাকে। ফলে এই চালের ভাত অল্প পরিমাণে খেলেও পেট ভরে যায় এবং দীর্ঘ সময় তৃপ্তি থাকে। এটি ধীরে হজম হয়, ফলে রক্তের শর্করা হঠাৎ বেড়ে যায় না; বরং ধীরে ধীরে বাড়ে। এতে শরীর দীর্ঘ সময় শক্তি পায় এবং ঘন ঘন ক্ষুধা লাগে না।
অন্যদিকে চিকন চালে আঁশ কম থাকায় এটি দ্রুত হজম হয়। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যায় এবং কিছুক্ষণ পরই তা কমতে শুরু করে। এতে দ্রুত ক্ষুধা লাগে এবং অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণের প্রবণতা তৈরি হয়, যা ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়ায়।
শেষ কথা
পুষ্টিবিদদের মতে, মোটা চালে পর্যাপ্ত আঁশ থাকায় এটি ক্যালরি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। ওজন নিয়ন্ত্রণ, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ এবং খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে মোটা চাল বেশি উপকারী।
বিশেষ করে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদ্রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং যাদের কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি, তাদের জন্য মোটা চাল বেছে নেওয়াই ভালো। সুস্থ ব্যক্তির ক্ষেত্রেও দীর্ঘমেয়াদে ভালো থাকার জন্য মোটা চাল উপকারী। তবে যাদের হজমে সমস্যা বেশি, কিংবা খাবার চিবাতে বা গিলতে অসুবিধা হয়, তাদের জন্য চিকন চাল সুবিধাজনক। এছাড়া সাময়িক হজম সমস্যার সময় কিছুদিনের জন্য চিকন চাল খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে।
আপনার মতামত লিখুন
Array