খুঁজুন
বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ১৮ চৈত্র, ১৪৩২

মশামুক্ত ফরিদপুর গড়ার লড়াই শুরু, মাঠে নামলো পৌরসভা

মানিক কুমার দাস, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ৯:২১ অপরাহ্ণ
মশামুক্ত ফরিদপুর গড়ার লড়াই শুরু, মাঠে নামলো পৌরসভা

ফরিদপুর শহরকে মশামুক্ত ও পরিচ্ছন্ন রাখতে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে পৌরসভা। এর অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল ১১টায় শহরের ঝিলটুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (মডেল স্কুল) মাঠে মশক নিধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুর পৌরসভার প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সোহরাব হোসেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্যা।

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামছুল আজম, সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মহিউদ্দিন আহমেদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া, ফরিদপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এএফএম কাইয়ুম জঙ্গি এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েল। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পৌরসভার সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা সৈয়দ মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান।

বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে শহরে মশার উপদ্রব উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে, যা ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও ম্যালেরিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তাই শুধু পৌরসভার উদ্যোগই নয়, নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া এ সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। তারা বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

পৌর কর্তৃপক্ষ জানায়, এ কর্মসূচির আওতায় শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে নিয়মিত ফগিং কার্যক্রম, লার্ভিসাইড ছিটানো, ড্রেন পরিষ্কার এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হবে। পাশাপাশি রাস্তা ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হবে।

অনুষ্ঠানের পর অতিথিরা পার্শ্ববর্তী একটি পুকুর পরিষ্কার কার্যক্রমে অংশ নিয়ে কর্মসূচির বাস্তবায়ন কার্যক্রমের সূচনা করেন। এ সময় পৌরসভার বিভিন্ন বিভাগের প্রকৌশলী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

পৌরসভার এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিত চালু থাকলে শহরবাসী একটি সুস্থ, নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশে বসবাস করতে পারবে।

ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেলেন আফজাল হোসেন খান পলাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেলেন আফজাল হোসেন খান পলাশ

দেশের ১৪টি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। জেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪-এর ক্ষমতাবলে ফরিদপুরসহ ১৪ জেলা পরিষদে এই নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব খোন্দকার ফরহাদ আহমদ স্বাক্ষরিত এই আদেশে বলা হয়েছে, নিয়োগকৃত প্রশাসকগণ পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট জেলা পরিষদের পূর্ণকালীন দায়িত্ব পালন করবেন ।

নিয়োগপ্রাপ্তরা হলেন— 

১. ফরিদপুর:  মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ
২. ঢাকা: মো. ইয়াছিন ফেরদৌস
৩. গাজীপুর: চৌধুরী ইশরাক আহমদ সিদ্দিকী
৪. ফেনী: অধ্যাপক এম এ খালেক
৫. নীলফামারী: মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী
৬. লালমনিরহাট: এ কে এম মমিনুল হক
৭. পাবনা: মোহাম্মাদ জহুরুল ইসলাম
৮. নড়াইল: মো. মোস্তাফিজুর রহমান আলেক
৯. বরগুনা: মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা
১০. জামালপুর: মো. সিরাজুল হক
১১. মানিকগঞ্জ: জামিলুর রশিদ খান
১২. নরসিংদী: তোফাজ্জল হোসেন
১৩. হবিগঞ্জ: আহমেদ আলী
১৪. চাঁদপুর: এ কে এম সলিম উল্যা সেলিম

প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, নিয়োগকৃত প্রশাসকগণ জেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন। তারা বিধি মোতাবেক নির্ধারিত ভাতা প্রাপ্য হবেন।

জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফরিদপুরে যুবতী ধর্ষণ মামলায় প্রতিবেশীর যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ৬:১১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে যুবতী ধর্ষণ মামলায় প্রতিবেশীর যাবজ্জীবন

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় এক যুবতীকে ধর্ষণের দায়ে প্রতিবেশী জামান খালাসী (৫৩) নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাকে আরও তিন বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। তবে রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত না থাকায় তার অনুপস্থিতিতেই এই রায় প্রদান করা হয়। পরে আদালত পলাতক ওই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, দণ্ডপ্রাপ্ত জামান খালাসী ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের একটি গ্রামের বাসিন্দা। মামলার এজাহার অনুযায়ী, ভুক্তভোগী ওই যুবতীর বিয়ে ২০১৬ সালে পাশের একটি গ্রামে হয়। তবে দাম্পত্য জীবনে বনিবনা না হওয়ায় তিনি বাবার বাড়িতে ফিরে এসে বসবাস শুরু করেন।

২০১৮ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাড়ির পাশের একটি দোকান থেকে ফেরার পথে ওই যুবতীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় জামান খালাসী ও তার এক অজ্ঞাত সহযোগী। পরে বাড়ির পাশের একটি ফসলি জমিতে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়। এ সময় ভুক্তভোগীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পরদিন ২৫ ফেব্রুয়ারি ভুক্তভোগী নারী নিজেই বাদী হয়ে ভাঙ্গা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলায় জামান খালাসীসহ এক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।

মামলাটি তদন্ত করেন ভাঙ্গা থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মিরাজ হোসেন। তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ১৮ জুন তিনি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে প্রমাণের ভিত্তিতে জামান খালাসীকে একমাত্র অভিযুক্ত করা হয় এবং অজ্ঞাত সহযোগীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) গোলাম রব্বানী রায়ের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “আদালতের এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।” তিনি আরও জানান, আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করতে তৎপর রয়েছে।

তিনি বলেন, “যেদিন আসামি গ্রেপ্তার হবেন, সেদিন থেকেই তার দণ্ড কার্যকর শুরু হবে।”

নগরকান্দায় ভাগ্নের হাতে খালা খুন—৪ দিনেই পুলিশের রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ভাগ্নে

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
নগরকান্দায় ভাগ্নের হাতে খালা খুন—৪ দিনেই পুলিশের রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ভাগ্নে

ফরিদপুরের নগরকান্দায় চাঞ্চল্যকর জামেলা বেগম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করে ঘটনার মাত্র চার দিনের মাথায় মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয় গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে পরিচালিত অভিযানে এ সাফল্য আসে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে ফরিদপুরের নগরকান্দায় পুলিশের সার্কেল অফিসে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ এ তথ্য নিশ্চিত করে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ জানায়, নিহত জামেলা বেগম (৬৫) জেলার সদরপুর উপজেলার জাকেরডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা শেখ মোতালেবের বড় বোন। গত ২৭ মার্চ রাত থেকে ২৮ মার্চ ভোরের মধ্যে কোনো এক সময়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে বাড়ির পাশের সেফটি ট্যাংকে ফেলে দেয়।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই শেখ মোতালেব বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা রুজুর পরপরই সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। টিমে ছিলেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসূল সামদানী আজাদ এবং তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. নাজমুল ইসলামসহ অন্যান্য সদস্যরা।

পুলিশ জানায়, ঘটনার বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ, সম্ভাব্য মোটিভ খোঁজা এবং সন্দেহভাজনদের ওপর নজরদারির মাধ্যমে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য যাচাই-বাছাই করে অবশেষে মূল আসামির পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

অতঃপর মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ভোর ৪টা ১৫ মিনিটে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার গাড়ীরটেক এলাকা থেকে মো. আলমগীর হোসেন (৪১) নামে এক ব্যক্তিকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি নিহত জামেলা বেগমের ভাগ্নে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আলমগীর হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সে দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর দেশে ফিরে আর্থিক সংকটে পড়ে। বিভিন্ন জায়গায় ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ায় সে তার খালা জামেলা বেগমের কাছে টাকা ধার চায়। কিন্তু খালা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার প্রতি ক্ষোভ জন্ম নেয়।

তদন্তে জানা যায়, জামেলা বেগমের স্বামী মৃত এবং তার দুই মেয়ে থাকলেও কোনো ছেলে সন্তান নেই। তিনি একাই বাড়িতে বসবাস করতেন। এছাড়া জমি বিক্রির কিছু টাকা স্থানীয় একটি এনজিওতে এফডিআর হিসেবে জমা ছিল, যা হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করে আলমগীর।

ঘটনার দিন জুমার নামাজের পর ঢাকা যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হলেও সে নগরকান্দার কৃষ্ণপুর বাজারে অবস্থান নেয়। পরে রাত ৮টার দিকে খালার বাড়িতে গিয়ে টাকা-পয়সা নিয়ে কথা বলে। একপর্যায়ে খালা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে রাতে ঘুমানোর পর ভোররাতে আলমগীর গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে।

হত্যার পর মরদেহ গোপন করতে বাড়ির পাশের সেফটি ট্যাংকে ফেলে রেখে বাইরে তালা লাগিয়ে ফজরের নামাজের পরপরই পালিয়ে যায় সে।

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. নাজমুল ইসলাম জানান, মামলার পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং ঘটনার সাথে অন্য কেউ জড়িত কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয়দের মধ্যে এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেফতারে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।