খুঁজুন
শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ২১ চৈত্র, ১৪৩২

চিনি না খেয়েও কেন রক্তে সুগার বাড়ে? জানলে অবাক হবেন

আলমগীর আলম
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৩১ পূর্বাহ্ণ
চিনি না খেয়েও কেন রক্তে সুগার বাড়ে? জানলে অবাক হবেন

আমি চিনি খাই না। তাহলে আমার রক্তে চিনির মাত্রা এত বেশি কেন? এমন প্রশ্ন আমরা হরহামেশাই করে থাকি। বিশেষ করে চিকিৎসককেই করা হয়।

আসলে আপনি সবকিছু ঠিকঠাক করছেন। চিনি ছেড়ে দিয়েছেন। রুটি-পাউরুটি খাওয়া বাদ দিয়েছেন। অনেক দিন ধরে কোনো মিষ্টিজাতীয় খাবার খাননি। তারপরও রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে মনে হয়, কী হচ্ছে এটা? আমার ব্লাড সুগার তো এখনো বেশি!

চিকিৎসক হয়তো আপনার দিকে এমনভাবে তাকাবেন যেন আপনি লুকিয়ে মিষ্টি বা তেমন কিছু খাচ্ছেন বলেই এমন হচ্ছে। অথচ আপনি সত্যিই কিছুই করছেন না।
আপনাকে দেখাব, আসলে কী হচ্ছে। এই পুরো ধাঁধার একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ অনেকেই জানেন না।

অধিকাংশ মানুষ মনে করেন, তাঁদের রক্তে চিনির মাত্রা শুধু যা খাচ্ছেন, তার ওপর নির্ভর করে—চিনি, স্টার্চ ইত্যাদি। কিন্তু এটা অর্ধেক সত্য।

চলুন, আপনাকে লিভারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিই। আপনার লিভারের ৫০০টি কাজ আছে। এটি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়, কিন্তু এটি আসলে একটা চিনির কারখানা। শরীরের একটা ছোট অংশের জন্য চিনি একান্ত দরকার। মস্তিষ্কের কিছু অংশ, কিডনি এবং আরও কিছু টিস্যু, যেগুলো সরাসরি চিনির ওপর নির্ভর করে। তাই আপনি চিনি না খেলেও, লিভার নিজে থেকে চিনি তৈরি করে।

যখন কেউ খুব কম চিনি বা কম কার্বোহাইড্রেটের ডায়েট করে, তখন শরীর চর্বি থেকে শক্তি নেয়, যে চর্বি খাবার থেকে আসে এবং শরীরের নিজের চর্বি থেকে। আর লিভার চিনি তৈরি করে এমন জিনিস থেকে যা আসলে চিনি নয়। এটি চর্বি থেকে চিনি বানায়, প্রোটিন থেকে চিনি বানায় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশকে সরবরাহ করে।

তাহলে আমার রক্তে চিনি কেন বেশি?

আসলে এই চিনি তৈরির প্রক্রিয়ার একটা ‘অফ সুইচ’ আছে। সেই অফ সুইচ হলো ইনসুলিন। যদি ইনসুলিন পর্যাপ্ত না থাকে, তাহলে লিভার অবিরাম চিনি তৈরি করতেই থাকবে।

এখানে একটা দ্বন্দ্ব দেখা যায়। যদি আমি কার্বোহাইড্রেট না খাই, তাহলে ইনসুলিন কমে যাবে। তাহলে তো শরীর আরও বেশি চিনি তৈরি করবে!

ব্যাপারটা হলো, এই হরমোনকে অনেক বছর ধরে (১০-১৫ বছর) অতিরিক্ত উত্তেজিত করা হয়েছে। ফলে কোষগুলো এত বেশি ইনসুলিনের আঘাত সহ্য করেছে যে তারা এই ‘অফ সুইচ’কে আর গুরুত্ব দেয় না। এর ফলে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়। লিভার তখন ভাবে, ‘অফ সুইচ’ তো কাজ করছে না, তাহলে আরও বেশি চিনি তৈরি করি।

আরও সহজ করে বলি, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স থাকলে লিভার অতিরিক্ত চিনি তৈরি করে। দীর্ঘদিন (১০-২০ বছর) ধরে প্রচুর কার্বোহাইড্রেট খেলে এই ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স হয়। কারণ, ইনসুলিন সেই চিনিকে রক্ত থেকে পরিষ্কার করে ফেলে। এভাবে ১০-২০ বছর ধরে অনেক চিনি খাওয়া যায়, ডায়াবেটিসও হয় না। কিন্তু ইনসুলিনের মাত্রা খুব বেশি থাকে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা সাধারণত ফাস্টিং ইনসুলিন পরীক্ষা করেন না।

একদিন এমন অবস্থা হয় যে ইনসুলিন আর কাজ করে না। তখন ইনসুলিনের ঘাটতি দেখা দেয়। ফলে রক্ত থেকে চিনি পরিষ্কার করা যায় না এবং লিভারের ‘অফ সুইচ’ও বন্ধ হয় না। তখনই রক্তে গ্লুকোজ বাড়তে শুরু করে। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে রক্তের ৮০% চিনি আসে এই লিভার থেকেই। এ জন্য মেটফর্মিনের মতো ওষুধ লিভার ও ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের ওপর কাজ করে। কিন্তু এটা শুধু লক্ষণ নিয়ন্ত্রণ করে, মূল কারণকে ঠিক করে না।

আপনার যদি চিনি না খাওয়ার পরও ব্লাড সুগার বেশি থাকে, তাহলে দুটো কারণ হতে পারে:
১. ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স: লিভার থেকে অতিরিক্ত চিনি তৈরি হচ্ছে।
২. অতিরিক্ত স্ট্রেস: স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল রক্তে চিনি ছাড়ছে।
আগের দিন চিনি বা মিষ্টি না খেলেও সকালে ঘুম থেকে উঠে মাপার পর ব্লাড সুগার বেশি দেখালে এটাকে বলে ডন ফেনোমেনান। এর পেছনে কর্টিসল এবং লিভারের ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স দায়ী। সকাল আটটার দিকে কর্টিসলের সবচেয়ে বড় স্পাইক হয়।

কীভাবে এটি ঠিক করবেন?

১. লো-কার্ব ডায়েট করা। শুধু চিনি নয়, স্টার্চও কমাতে হবে।
২. স্ন্যাকিং একদম বন্ধ করা, বিশেষ করে রাতে। দিনে দুই-তিনবার খাওয়াই যথেষ্ট। আমি পরামর্শ দেব দুইবেলা খাওয়ার জন্য। সকালের নাশতা বাদ দিন। দুপুর ১২টায় খান, তারপর সন্ধ্যা ৬টায় খান। খাওয়ার পর রান্নাঘর বন্ধ।
৩. স্ট্রেস কমান। ভালো ঘুমান, নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করুন, রোদে বের হন।
ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স সারাতে সময় লাগে। যদি আপনার ফাস্টিং ইনসুলিন ১২-এর বেশি থাকে, তাহলে কয়েক মাস লাগতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহ, কারও কয়েক মাস, আবার কারও এক বছরের বেশি সময় লাগতে পারে।
মূল কথা: ইনসুলিনকে দীর্ঘদিন কম রাখতে হবে, যাতে রিসেপ্টরগুলো আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়।

লেখক: খাদ্য ও পথ্যবিশেষজ্ঞ, প্রধান নির্বাহী, প্রাকৃতিক নিরাময় কেন্দ্র

দেশেই তৈরি পেট্রোল-অকটেন, তবু কেন বাজারে সংকট?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:১৫ পূর্বাহ্ণ
দেশেই তৈরি পেট্রোল-অকটেন, তবু কেন বাজারে সংকট?

তেল ফুরিয়ে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঢাকার আসাদগেটের একটি ফিলিং স্টেশনে গাড়ি ঠেলে নিয়ে আসেন ফারুক মোল্লা। বুধবার সকাল সাড়ে ছয়টা থেকে পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষার পর সাড়ে এগারোটা নাগাদ জ্বালানি তেল পান তিনি।

ফারুক মোল্লা বলেন, চালক হিসেবে ৩০ বছরের কর্মজীবনে এমন সংকট তিনি দেখেননি।

‘সোনার বাংলা’ নামের ওই ফিলিং স্টেশনে দেখা যায়, ব্যক্তিগত গাড়িতে সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা এবং মোটরসাইকেলে ৫শ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে।

সড়কের ঠিক উল্টো দিকে আরেকটি ফিলিং স্টেশন রয়েছে সকাল থেকে সেটি দুপুর পর্যন্ত সেখানে পেট্রোল অকটেন বরাদ্দ না থাকায় বন্ধ থাকতে দেখা যায়। তবে পাম্প থেকে ডিজেলে সরবরাহ করতে দেখা যায়।

আমদানি করা তেলের মধ্যে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি চাহিদা ডিজেলের। কিন্তু এখন শহরে গ্রামে তেলের জন্য যে হাহাকার এবং দীর্ঘ সারি তার অধিকাংশই অকটেন ও পেট্রোলের জন্য।

তেলের চাহিদা পূরণ করতে হিমশিম অবস্থা তৈরি হয়েছে অধিকাংশ পেট্রোল পাম্পে। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বরাদ্দকৃত তেল ফুরিয়ে অনেক ফিলিং স্টেশন বন্ধ থাকতেও দেখা যাচ্ছে।

বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা ডিজেলের। অথচ অনেক পাম্পে ডিজেল থাকলেও টান পড়েছে অকটেন ও পেট্রোলের।

ডিজেল বাংলাদেশ প্রায় পুরোটাই আমদানি করে।

অন্যদিকে বাংলাদেশে নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাওয়া কনডেনসেট থেকে দৈনিক প্রায় সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার ব্যারেল পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদন করছে।

পেট্রোল-অকটেনের উৎপাদন কত

বাংলাদেশে তেলের মজুদ এবং উৎপাদন সক্ষমতা মিলিয়ে পেট্রোল অকটেনের এমন সংকট হওয়ার কথা নয়। কারণ বাংলাদেশে পেট্রোল ও অকটেনের নিজস্ব উৎপাদন ব্যবস্থা রয়েছে।

সিলেটের গ্যাসক্ষেত্রগুলোয় গ্যাসের সঙ্গে যে কনডেনসেট (গ্যাস উৎপাদনের সময় উপজাত হিসেবে পাওয়া তরল হাইড্রোকার্বন) পাওয়া যায়, সেটি প্রক্রিয়াজাত করে বাংলাদেশ পেট্রোল ও অকটেনের চাহিদার একটা বড় অংশ উৎপাদন করে।

বাংলাদেশে বছরে পেট্রোলের চাহিদা চার লাখ ৬২ হাজার টন ও অকটেনের চাহিদা চার লাখ ১৫ হাজার টন। বাংলাদেশে নিজস্ব উৎপাদন ও ক্রুড অয়েল থেকে ইস্টার্ন রিফাইনারি পরিশোধন করে পেট্রোল আমদানির প্রয়োজন হয় না।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে উৎপাদিত কনডেনসেট থেকে দুই লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি, অর্থাৎ মোট চাহিদার প্রায় অর্ধেক পেট্রোল উৎপাদন হয়েছে।

এছাড়া অকটেনও হয়েছে মোট চাহিদার চাহিদার প্রায় চারভাগের একভাগ।

এ বিবেচনায় বিশ্ববাজার থেকে তেল আমদানি পুরো বন্ধ হয়ে গেলেও বাংলাদেশে এই মুহূর্তে পেট্রোল ও অকটেনের দিক থেকে একেবারে জ্বালানিশূন্য হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা নেই।

এরমধ্যে পেট্রোবাংলার কোম্পানি সিলেট গ্যাস ফিল্ডের দুটি প্ল্যান্টে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশীয় কনডেনসেট প্রক্রিয়াকরণ করে প্রায় এক লাখ ১৬ হাজার ৬৬২ মেট্রিকটন পেট্রোল এবং ৫৫ হাজার ৩৩৯ মেট্রিকটন অকটেন উৎপাদন করেছে।

ইরান যুদ্ধ এবং তেলের মজুদ নিয়ে নানা খবরে আতঙ্ক থেকেই পেট্রোল ও অকটেনের অস্বাভাবিক চাহিদা তৈরি করেছে।

উৎপাদন কোথায় কতটুকু

বাংলাদেশের নিজস্ব কনডেনসেট থেকে পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদন করে সরকারি কোম্পানি সিলেট গ্যাস ফিল্ডের দুটি প্ল্যান্ট এবং চারটি বেসরকারি রিফাইনারি।

দেশের নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্র থেকে আসা কনডেনসেট থেকে সবচেয়ে বেশি পেট্রোল ও অকটেন, কেরোসিন ও ডিজেল এবং অল্প পরিমাণ এলপিজি উৎপাদন করে হবিগঞ্জ অবস্থিত সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের (এসজিএফএল) ফ্র্যাকশনেশন প্ল্যান্ট ও ক্যাটালাইটিক রিফর্মিং ইউনিট বা সিআরইউ।

হবিগঞ্জের প্ল্যান্টে বর্তমানে প্রতিদিন সাড়ে চার হাজার ব্যারেল কনডেনসেট বিভাজন করে ৬শ ব্যারেলের (৭৪ মেট্রিকটন) মতো অকটেন, তিন হাজার ৪৫০ ব্যারেল বা ৪২০ মেট্রিকটন পেট্রোল, ১৫০ ব্যারেল বা ২০ মেট্রিকটন ডিজেল ও ১শ ব্যারেল বা ১৩ মেট্রিকটন কেরোসিন এবং ১৭ ব্যারেল বা ১.৫ মেট্রিকটন এলপিজি উৎপাদন হচ্ছে।

এসজিএফএল এর লিকুইড পেট্রোলিয়াম মার্কেটিং বিভাগের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী জীবন শান্তি সরকার বিবিসি বাংলাকে জানান, এসজিএফএল এর প্ল্যান্ট দেশীয় কনডেনসেট থেকে দৈনিক চার হাজার ব্যারেলের বেশি পেট্রোল এবং অকটেন উৎপাদন করছে।

এই তেল দেশের মোট পেট্রোলের চাহিদার ৩৩-৩৫ শতাংশ এবং অকটেনের চাহিদার ৭-৮ শতাংশ, কেরোসিনের চাহিদার ৭ শতাংশ এবং ডিজেলের চাহিদার ০.২ শতাংশ পূরণ করতে পারে।

বাংলাদেশে সিলেট গ্যাসফিল্ডসের কনডেনসেট ফ্র্যাকশনেশন প্ল্যান্ট ছাড়াও চারটি বেসরকারি রিফাইনারি দেশীয় কনডেনসেট থেকে প্রক্রিয়াজাত করে পেট্রোল অকটেন, কেরোসিন ও ডিজেল উৎপাদন করে।

মি. সরকার বলেন, বাংলাদেশে ফিনিশড প্রোডাক্ট হিসেবে পেট্রোলের আমদানি করা প্রয়োজন হয় না।

“দেশীয় যে উৎপাদিত কনডেনসেট সেটি থেকে দেশের মোট পেট্রোলের চাহিদার প্রায় ৪০-৪৫ শতাংশ পূরণ হচ্ছে। আর বাকিটা ইআরএল (ইস্টার্ন রিফাইনারি লি.) তারা ক্রুড অয়েল থেকে এবং প্রাইভেট যারা আছে তারা ইমপোর্টেড কনডেনসেট থেকে পেট্রোলের চাহিদা পূরণ করছে। “

অকটেনের চাহিদা কতটা পূরণ হয় সে হিসেব দিয়ে মি. সরকার জানান, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিপিসি প্রায় ৬২ শতাংশ অকটেন উৎপাদন করেছে, বাকি চাহিদা দেশীয়ভাবে পূরণ করা সম্ভব হয়েছে।

নিজস্ব কনডেনসেট থেকে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি তেল উৎপাদন করে সিলেট গ্যাস ফিল্ড।

সিলেটের দুটি প্ল্যান্টে দৈনিক সাড়ে সাত হাজার ব্যারেল কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা রয়েছে। তবে গ্যাসের উৎপাদন ও কনডেনসেট উৎপাদন কমে গিয়ে এখন প্রতিদিন সাড়ে চার হাজার ব্যারেল কনডেনসেট বরাদ্দ পায় সিলেট গ্যাসফিল্ডের কনডেনসেট ফ্র্যাকশনেশন প্ল্যান্ট।

ইরান যুদ্ধের কারণে তেল সংকট সৃষ্টির পর পেট্রোবাংলার নির্দেশনা অনুযায়ী হবিগঞ্জ সিআরইউতে দৈনিক অকটেন উৎপাদন ১শ ব্যারেল বৃদ্ধি করে ৭শ ব্যারেল উৎপাদন করা হচ্ছে এবং সপ্তাহে পাঁচদিনের পরিবর্তে সাতদিন লরিতে তের সরবরাহ করা হচ্ছে।

হবিগঞ্জে উৎপাদিত পেট্রোল-অকটেন সিলেট অঞ্চল এবং রংপুর, পার্বতীপুর ও বাঘাবাড়ি এলাকায় সরবরাহ করা হয়।

পেট্রোল-অকটেনের এত চাহিদা কেন

বর্তমানে দেশে অকটেন ও পেট্রোলের সংকটের মূল কারণ অতিরিক্ত চাহিদা।

কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এবং ক্রেতাদেরও অনেকে অবৈধ মজুদ করার চেষ্টা করছে, প্রয়োজন ছাড়াও বেশি কিনছেন অনেকে।

সরকার বলছে, স্বাভাবিক চাহিদা পূরণের জন্য বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় মজুদ ও তেল আমদানি করা হচ্ছে। মে মাস পর্যন্ত মজুদ সব ধরনের তেলের মজুদ নিশ্চিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলপাম্প মালিক সমিতি জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে গ্রাহকদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল না কেনার আহ্বান জানিয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পাম্পে সবার হিমশিম খেতে হচ্ছে বলেও জানায় পাম্প মালিকরা।

বৃহত্তর ময়মনসিংহ পেট্রোলপাম্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান বলেন মানুষ অতিরিক্ত তেল কিনে মজুত করার কারণে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

“প্রতিদিন আমি ৫-৬ হাজার লিটার তেল বিক্রি করতাম। পেট্রোল দুই হাজার লিটার আর ডিজেল তিন হাজার লিটার। এখন আমার সেই ডিমান্ড হয়ে গেছে ২০ হাজার- ৩০ হাজার লিটার। সবাই তার গাড়ির তেলের ট্যাংক ফুল করতে চাচ্ছে। আগে যেখানে দুই লিটার তিন লিটার তেল নিত, এখন ৫-১০ লিটার কিনছে। একারণে একটা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়েছে।”

পেট্রোল অকটেনের মজুত এবং উৎপাদন পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে পেট্রোল অকটেনের এই চাহিদা অস্বাভাবিক।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এবং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে আইইউবির উপাচার্য অধাপক ম তামিম বলেন, বাংলাদেশে কনডেনসেটের উৎপাদনও কমেছে।

“রশিদপুর হবিগঞ্জ, বিবিয়ানা সিলেটের কয়েকটি ফিল্ড থেকে কনডেনসেট আসে। বিবিয়ানার উৎপাদন ১২শ ১৩শ মিলিয়ন থেকে ৮শ-৯শ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে গেছে। সুতরাং আমাদের নিজস্ব সরবরাহ থেকে পেট্রোলটা মোটামুটি মেটানো যাবে। তবে অকটেন ডেফিনেটলি আমদানি করতে হবে।”

“আমরা জানলাম আগামী মাসের জন্য অকটেন যা প্রয়োজন তার দ্বিগুণ আসছে। সুতরাং গাড়ির লাইন আমরা যেটা দেখছি এটা ডেফেনেটলি প্যানিক পারচেজ।”

সরকারের পদক্ষেপ কী

সরকার জানাচ্ছে, যে দেশে জ্বালানি তেলের যথেষ্ট মজুত রয়েছে। চাহিদা পূরণে আরো কেনা হচ্ছে।

মে মাস পর্যন্ত তেলের চাহিদা পূরণ করতে বেশি দামে তেল আমদানি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

ইরান যুদ্ধের কারণে সংকট নিরসনে পদক্ষেপ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “বিশ্বব্যাপী প্রবলেম হয়েছে দেখেই তো আমি বেশি দাম দিয়ে সিঙ্গাপুর থেকে তেল এনে স্টক করতেছি।”

মে মাস পর্যন্ত চলার মতো জ্বালানি তেলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, “আরো জাহাজ আসবে, আরো তেল আসবে।”

সরকারি কোষাগারের ওপর চাপ পড়লেও তেলের সরবরাহ ঠিক রাখা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, “আর সেই সাপ্লাইকে ডিসরাপ্ট করতেছে কালোবাজারিরা।”

ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, সিরাজগঞ্জ জেলায় ফুয়েল কার্ড, রাজশাহীতে গাড়ির জোড় ও বেজোড় নম্বর অনুযায়ী আলাদা দিনে তেল সরবরাহের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঢাকায় মোটরসাইকেলের জন্য কিউআর কোড চালু করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ারও ব্যবস্থা করা হয়েছে।

“আমদের তো প্রবলেম বাইক। আমরা ঢাকাতে কিউআরকোড করতেছি। আমরা প্রত্যেকটা বাইকারদের কাছে কিউআর কোড দিয়ে দেব। ওই কিউআর কোড ধরলে কী পরিমাণে তেল সে পাবার কথা পেয়ে যাবে। সারাদিনে অন্য কোনো পাম্পে গিয়ে আর তেল পাবে না।”

মন্ত্রী জানান, দেশে অভিযান পরিচালনা করে তেল অবৈধ মজুত উদ্ধার করা হচ্ছে। সব পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয় করতে ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ করা হয়েছে।

“আমাদের মজুদের কোনো অসুবিধা নাই। আমাদের তেলের সাপ্লাই হচ্ছে। এখন আমার সারা বছরের যে প্ল্যানিং থাকে কোন পাম্পে কোন তেল দেব প্রতিদিন, সেই তেল সাপ্লাই করছি। এখন ডিমান্ড হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ায় সেই তেল যদি শেষ হয়ে যায় সেটা তো কিছু করার নাই আমার। আমার সাপ্লাই লাইন ও ঠিক আছে।”

ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, সরকার এই মুহূর্তে দৈনিক ১৬০ কোটি টাকা জ্বালানি তেলে ভর্তুকি দিচ্ছে।

“আমরা তেলের দাম এ মাসেও বাড়ালাম না। জনগণ যদি একটু সাশ্রয়ী হয়। প্রয়োজনের অতিরিক্ত যদি তেল না কেনে তাহলে পরে এসব ভিড় টিড় কিছুই থাকবে না এবং সাপ্লাইও স্বাভাবিক হয়ে যাবে।”

ইরান যুদ্ধের কারণে সারাবিশ্বের তেলের বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। আমদানি নির্ভর জ্বালানির মধ্যে বাংলাদেশের বড় চাহিদা হচ্ছে ডিজেল ও এলএনজির। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধের কারণে দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ সংকটে ভবিষ্যতে ডিজেল ক্রুড অয়েল ও এলএনজি আমদানি নিশ্চিত করাটাই হতে পারে বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জের।

জ্বালানিমন্ত্রী বলছেন, চাহিদা অনুযায়ী ডিজেলের আমদানির ব্যবস্থাও সরকার করছে।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

রাষ্ট্রীয় খরচে হজ করলে নিজের ফরজ হজ আদায় হবে কি-না?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:০১ পূর্বাহ্ণ
রাষ্ট্রীয় খরচে হজ করলে নিজের ফরজ হজ আদায় হবে কি-না?

একজন সরকারি কর্মকর্তা। সরকার তাকে রাষ্ট্রীয় খরচে হজে পাঠাচ্ছে প্রশিক্ষক হিসেবে। জানার বিষয় হলো, রাষ্ট্রীয় খরচে সে হজ করছে। অপরদিকে তার ওপর হজ ফরজ, কিন্তু এখনো সে তা আদায় করেনি। অতএব রাষ্ট্রীয় খরচে হজ করার কারণে তার নিজের ফরজ হজ আদায় হবে কি না?

উত্তর : রাষ্ট্রীয় খরচে হজ করার সময় নিজের ফরজ হজ আদায়ের নিয়ত করলে তা আদায় হয়ে যাবে। (আল আশবাহ : ১/১৩৫, আল হিন্দিয়াহ : ১/২১৭, ফাতাওয়া দারুল উলুম করাচি : ৩/১১৫)

শাওয়াল মাসে ওমরাহ করলে কি হজ ফরজ হয়ে যায়?

-মাওলানা জুবায়ের

উত্তরা, ঢাকা

উত্তর : হজ ফরজ নয় এমন ব্যক্তি যদি শাওয়াল মাসে ওমরা করার জন্য যায় অথবা রমজান মাসে ওমরা আদায়ের জন্য যায়, এরপর শাওয়াল মাসে ওমরা আদায় করে, তাহলে নিম্নবর্ণিত তিনটি শর্ত পাওয়া গেলে তাঁর ওপর হজ ফরজ হয়ে যাবে।

১. হজ আদায় করা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করার আর্থিক সক্ষমতা থাকা, অথবা দেশে এসে পুনরায় যাওয়ার সক্ষমতা থাকা এবং যাদের ভরণ-পোষণ তাঁর জিম্মায় রয়েছে, হজ থেকে ফিরে আসা পর্যন্ত তাদের খরচ নির্বাহের সক্ষমতা থাকা। ২. রাষ্ট্রীয় পক্ষ থেকে হজ পর্যন্ত অবস্থান করার অনুমতি থাকা। ৩. ইতোপূর্বে ফরজ হজ আদায় না করা।

কিন্তু যদি আর্থিক সক্ষমতা না থাকে, কিংবা সক্ষমতা আছে তবে সৌদির রাষ্ট্রীয় পক্ষ থেকে হজ পর্যন্ত অবস্থান করার অনুমতি না থাকে, তাহলে হজ ফরজ হবে না। তেমনিভাবে যে ব্যক্তি ইতোপূর্বে ফরজ হজ আদায় করেছে, শাওয়াল মাসে উমরা করার কারণে তাঁর ওপরও হজ ফরজ হবে না।

উল্লেখ্য, বর্তমানে সৌদির রাষ্ট্রীয় পক্ষ থেকে ওমরা আদায়কারীদের জন্য হজ পর্যন্ত অবস্থান করার অনুমতি নেই। এজন্য বর্তমানে শাওয়াল মাসে ওমরা আদায় করলেও হজ ফরজ হবে না।

উত্তরদাতা

মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী

ফতোয়া বিভাগীয় প্রধান, জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালাম, (মিরপুর-১২) ঢাকা

শিশু হাম আক্রান্ত হলে কী খাওয়াবেন, কী খাওয়ানো যাবে না

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৫২ পূর্বাহ্ণ
শিশু হাম আক্রান্ত হলে কী খাওয়াবেন, কী খাওয়ানো যাবে না

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় শিশুদের মধ্যে হাম ছড়িয়ে পড়ার খবর অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। যদিও হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ, তবুও এতে আক্রান্ত হলে শিশুদের নানা জটিলতার মুখে পড়তে হয়। কখনো কখনো পরিস্থিতি মারাত্মক আকারও ধারণ করতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক পরিচর্যার পাশাপাশি রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পুষ্টিকর খাবারের দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন রাজধানীর পপুলার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বিভাগীয় প্রধান ও প্রধান পুষ্টিবিদ নিশাত শারমিন নিশি। দেশের প্রথম সারির একটি টিভি চ্যানেলের সঙ্গে আলাপকালে এসব পরামর্শ দেন তিনি।

রোগ-প্রতিরোধ বাড়াতে কী খাওয়াবেন?

পুষ্টিবিদ নিশাত শারমিন নিশির মতে, শিশু হাম আক্রান্ত হলে প্রথমেই তাদের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। এ জন্য খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর খাবার।

শিশুকে উষ্ণ গরম স্যুপ খাওয়ানো যেতে পারে। স্যুপে অল্প পরিমাণ মুরগির মাংস ও ডিমের সাদা অংশ যোগ করা যেতে পারে, যা শিশুর শরীরের জন্য উপকারী। তবে এতে কোনো ধরনের মসলা ব্যবহার না করাই ভালো।

প্রোসেসড খাবার থেকে দূরে রাখুন

অনেক সময় দেখা যায়, শিশু কিছু খেতে না চাইলে অভিভাবকরা তাকে চিপস বা প্রোসেসড খাবার দিয়ে দেন। কিন্তু এ অভ্যাসটি একেবারেই ঠিক নয়। প্রোসেসড ফুড সাধারণত শরীরের জন্য উপকারী নয়, বরং অসুস্থতার সময় তা আরও ক্ষতির কারণ হতে পারে।

পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী, হাম আক্রান্ত অবস্থায় শিশুকে এ ধরনের খাবার থেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখতে হবে।

চা-কফি কেন এড়িয়ে চলবেন?

শুধু শিশু নয়, অনেক প্রাপ্তবয়স্ক রোগীও অসুস্থ অবস্থায় কিছু খেতে না পারলে চা বা কফি পান করতে চান। অনেকেই মনে করেন এতে হয়তো কিছুটা স্বস্তি মিলবে। কিন্তু বাস্তবে এসব পানীয় উল্টো জটিলতা বাড়াতে পারে। তাই হাম আক্রান্ত অবস্থায় চা-কফি পরিহার করাই উত্তম।

তরল ও প্রাকৃতিক খাবারের গুরুত্ব

হাম আক্রান্ত রোগীর জন্য তরল খাবার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে ডাবের পানি অত্যন্ত উপকারী। এর পাশাপাশি ফলমূল এবং ঘরে তৈরি ফলের জুস খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত। তবে জুস অবশ্যই বাসায় তৈরি হতে হবে এবং এতে কোনো ধরনের কৃত্রিম বা রাসায়নিক উপাদান মেশানো যাবে না। প্রয়োজন হলে অল্প পরিমাণ চিনি যোগ করা যেতে পারে। কারণ এ সময় শরীরে ক্যালোরির চাহিদা কিছুটা বেড়ে যায়। ডায়াবেটিসজনিত সমস্যা না থাকলে পরিমিত চিনি গ্রহণ করা যেতে পারে।

অল্প অল্প করে, বারবার খাওয়ান

শিশুরা অসুস্থ অবস্থায় একসঙ্গে বেশি খাবার খেতে চায় না। তাই অল্প অল্প করে বারবার খাওয়ানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে খাবারের বৈচিত্র্য আনা জরুরি, যাতে শিশু আগ্রহ পায়।

খাবারের তালিকায় গাজর ও মিষ্টিকুমড়ার মতো পুষ্টিকর সবজি রাখা যেতে পারে (যদি পেটের সমস্যা না থাকে)। স্যুপ বা সবজির সঙ্গে এগুলো ব্লেন্ড করে দেওয়া যেতে পারে। এছাড়া নরম ভাত বা খিচুড়ির সঙ্গে মিশিয়ে অল্প অল্প করে খাওয়ালে শিশুর জন্য তা সহজপাচ্য হয় এবং উপকার মেলে।

সব মিলিয়ে, হাম আক্রান্ত হলে ভয় না পেয়ে সচেতনভাবে শিশুর যত্ন নিতে হবে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠা সম্ভব।