খুঁজুন
বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

চিনি না খেয়েও কেন রক্তে সুগার বাড়ে? জানলে অবাক হবেন

আলমগীর আলম
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৩১ পূর্বাহ্ণ
চিনি না খেয়েও কেন রক্তে সুগার বাড়ে? জানলে অবাক হবেন

আমি চিনি খাই না। তাহলে আমার রক্তে চিনির মাত্রা এত বেশি কেন? এমন প্রশ্ন আমরা হরহামেশাই করে থাকি। বিশেষ করে চিকিৎসককেই করা হয়।

আসলে আপনি সবকিছু ঠিকঠাক করছেন। চিনি ছেড়ে দিয়েছেন। রুটি-পাউরুটি খাওয়া বাদ দিয়েছেন। অনেক দিন ধরে কোনো মিষ্টিজাতীয় খাবার খাননি। তারপরও রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে মনে হয়, কী হচ্ছে এটা? আমার ব্লাড সুগার তো এখনো বেশি!

চিকিৎসক হয়তো আপনার দিকে এমনভাবে তাকাবেন যেন আপনি লুকিয়ে মিষ্টি বা তেমন কিছু খাচ্ছেন বলেই এমন হচ্ছে। অথচ আপনি সত্যিই কিছুই করছেন না।
আপনাকে দেখাব, আসলে কী হচ্ছে। এই পুরো ধাঁধার একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ অনেকেই জানেন না।

অধিকাংশ মানুষ মনে করেন, তাঁদের রক্তে চিনির মাত্রা শুধু যা খাচ্ছেন, তার ওপর নির্ভর করে—চিনি, স্টার্চ ইত্যাদি। কিন্তু এটা অর্ধেক সত্য।

চলুন, আপনাকে লিভারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিই। আপনার লিভারের ৫০০টি কাজ আছে। এটি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়, কিন্তু এটি আসলে একটা চিনির কারখানা। শরীরের একটা ছোট অংশের জন্য চিনি একান্ত দরকার। মস্তিষ্কের কিছু অংশ, কিডনি এবং আরও কিছু টিস্যু, যেগুলো সরাসরি চিনির ওপর নির্ভর করে। তাই আপনি চিনি না খেলেও, লিভার নিজে থেকে চিনি তৈরি করে।

যখন কেউ খুব কম চিনি বা কম কার্বোহাইড্রেটের ডায়েট করে, তখন শরীর চর্বি থেকে শক্তি নেয়, যে চর্বি খাবার থেকে আসে এবং শরীরের নিজের চর্বি থেকে। আর লিভার চিনি তৈরি করে এমন জিনিস থেকে যা আসলে চিনি নয়। এটি চর্বি থেকে চিনি বানায়, প্রোটিন থেকে চিনি বানায় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশকে সরবরাহ করে।

তাহলে আমার রক্তে চিনি কেন বেশি?

আসলে এই চিনি তৈরির প্রক্রিয়ার একটা ‘অফ সুইচ’ আছে। সেই অফ সুইচ হলো ইনসুলিন। যদি ইনসুলিন পর্যাপ্ত না থাকে, তাহলে লিভার অবিরাম চিনি তৈরি করতেই থাকবে।

এখানে একটা দ্বন্দ্ব দেখা যায়। যদি আমি কার্বোহাইড্রেট না খাই, তাহলে ইনসুলিন কমে যাবে। তাহলে তো শরীর আরও বেশি চিনি তৈরি করবে!

ব্যাপারটা হলো, এই হরমোনকে অনেক বছর ধরে (১০-১৫ বছর) অতিরিক্ত উত্তেজিত করা হয়েছে। ফলে কোষগুলো এত বেশি ইনসুলিনের আঘাত সহ্য করেছে যে তারা এই ‘অফ সুইচ’কে আর গুরুত্ব দেয় না। এর ফলে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়। লিভার তখন ভাবে, ‘অফ সুইচ’ তো কাজ করছে না, তাহলে আরও বেশি চিনি তৈরি করি।

আরও সহজ করে বলি, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স থাকলে লিভার অতিরিক্ত চিনি তৈরি করে। দীর্ঘদিন (১০-২০ বছর) ধরে প্রচুর কার্বোহাইড্রেট খেলে এই ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স হয়। কারণ, ইনসুলিন সেই চিনিকে রক্ত থেকে পরিষ্কার করে ফেলে। এভাবে ১০-২০ বছর ধরে অনেক চিনি খাওয়া যায়, ডায়াবেটিসও হয় না। কিন্তু ইনসুলিনের মাত্রা খুব বেশি থাকে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা সাধারণত ফাস্টিং ইনসুলিন পরীক্ষা করেন না।

একদিন এমন অবস্থা হয় যে ইনসুলিন আর কাজ করে না। তখন ইনসুলিনের ঘাটতি দেখা দেয়। ফলে রক্ত থেকে চিনি পরিষ্কার করা যায় না এবং লিভারের ‘অফ সুইচ’ও বন্ধ হয় না। তখনই রক্তে গ্লুকোজ বাড়তে শুরু করে। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে রক্তের ৮০% চিনি আসে এই লিভার থেকেই। এ জন্য মেটফর্মিনের মতো ওষুধ লিভার ও ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের ওপর কাজ করে। কিন্তু এটা শুধু লক্ষণ নিয়ন্ত্রণ করে, মূল কারণকে ঠিক করে না।

আপনার যদি চিনি না খাওয়ার পরও ব্লাড সুগার বেশি থাকে, তাহলে দুটো কারণ হতে পারে:
১. ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স: লিভার থেকে অতিরিক্ত চিনি তৈরি হচ্ছে।
২. অতিরিক্ত স্ট্রেস: স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল রক্তে চিনি ছাড়ছে।
আগের দিন চিনি বা মিষ্টি না খেলেও সকালে ঘুম থেকে উঠে মাপার পর ব্লাড সুগার বেশি দেখালে এটাকে বলে ডন ফেনোমেনান। এর পেছনে কর্টিসল এবং লিভারের ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স দায়ী। সকাল আটটার দিকে কর্টিসলের সবচেয়ে বড় স্পাইক হয়।

কীভাবে এটি ঠিক করবেন?

১. লো-কার্ব ডায়েট করা। শুধু চিনি নয়, স্টার্চও কমাতে হবে।
২. স্ন্যাকিং একদম বন্ধ করা, বিশেষ করে রাতে। দিনে দুই-তিনবার খাওয়াই যথেষ্ট। আমি পরামর্শ দেব দুইবেলা খাওয়ার জন্য। সকালের নাশতা বাদ দিন। দুপুর ১২টায় খান, তারপর সন্ধ্যা ৬টায় খান। খাওয়ার পর রান্নাঘর বন্ধ।
৩. স্ট্রেস কমান। ভালো ঘুমান, নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করুন, রোদে বের হন।
ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স সারাতে সময় লাগে। যদি আপনার ফাস্টিং ইনসুলিন ১২-এর বেশি থাকে, তাহলে কয়েক মাস লাগতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহ, কারও কয়েক মাস, আবার কারও এক বছরের বেশি সময় লাগতে পারে।
মূল কথা: ইনসুলিনকে দীর্ঘদিন কম রাখতে হবে, যাতে রিসেপ্টরগুলো আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়।

লেখক: খাদ্য ও পথ্যবিশেষজ্ঞ, প্রধান নির্বাহী, প্রাকৃতিক নিরাময় কেন্দ্র

শিং ভাঙা পশু কি কোরবানি করা যাবে?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ৭:৩৬ পূর্বাহ্ণ
শিং ভাঙা পশু কি কোরবানি করা যাবে?

ইসলাম সামর্থ্যবান মুসলিমদের জন্য কোরবানি আদায় বাধ্যতামূলক করেছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘অতএব তুমি তোমার রবের উদ্দেশে নামাজ আদায় করো এবং কোরবানি করো’ (সুরা কাওসার: ২)। তাই প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমস্তিষ্ক সম্পন্ন প্রত্যেক মুসলিম নর-নারী, যে ১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রয়োজন-অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হবে, তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব। (আলমুহিতুল বুরহানি: ৮/৪৫৫, ফাতাওয়া তাতারখানিয়া: ১৭/৪০৫)

হাদিসে রাসুল (সা.) হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ‘যার কোরবানি করার সামর্থ্য আছে অথচ সে কোরবানি করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের নিকটবর্তী না হয়।’ (মুসনাদে আহমদ: ২/৩২১, মুস্তাদরাকে হাকেম: ৭৬৩৯, আত্তারগীব ওয়াত্তারহীব: ২/১৫৫)

কোরবানির দিতে হয় অহিংস্র গৃহপালিত চতুষ্পদ জন্তু দিয়ে। শরিয়তে কোরবানি দেওয়ার ক্ষেত্রে উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা ইত্যাদি পছন্দের পশু। মহানবী (সা.) উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা ছাড়া অন্য কোনো পশু কোরবানির অনুমোদন দেননি। তাই এসব পশু দিয়েই কোরবানি করতে হবে। পশুর ক্ষেত্রে সুস্থ ও ত্রুটিমুক্ত পশু নির্বাচন করা আবশ্যক। বড় ধরনের অসুস্থতা বা ত্রুটি আছে এমন পশু দিয়ে কোরবানি শুদ্ধ হয় না। হাদিসে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘চার প্রকারের পশু কোরবানি করলে তা যথেষ্ট হবে না। অন্ধ পশু যার অন্ধত্ব সুস্পষ্ট, রুগ্ন পশু যার রোগ সুস্পষ্ট, খোঁড়া পশু যার পঙ্গুত্ব সুস্পষ্ট এবং কৃশকায় দুর্বল পশু যার হাড়ের মজ্জা শুকিয়ে গেছে। উবাইদ (রা.) বলেন, আমি ক্রটিযুক্ত কানবিশিষ্ট পশু কোরবানি করা অপছন্দ করি। বারাআ (রা.) বলেন, যে ধরনের পশু তুমি নিজে অপছন্দ করো তা পরিহার করো, কিন্তু অন্যদের জন্য তা হারাম করো না ‘ (ইবনে মাজাহ: ৩১৪৪)

এখন প্রশ্ন জাগে, কোরবানির জন্য কেনা বা কোরবানির জন্য নির্ধারণ করা পশুর যদি জন্মগতভাবে শিং না থাকে বা শিং ভেঙে যায়, তাহলে এই পশু দিয়ে কোরবানি হবে কি না?

এ প্রসঙ্গে ইসলামি গবেষণা পত্রিকা মাসিক আল কাউসারে বলা হয়েছে, ‘যে পশুর শিং একেবারে গোড়া থেকে ভেঙ্গে গেছে, যে কারণে মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; সে পশুর কোরবানি জায়েজ নয়। কিন্তু শিং ভাঙ্গার কারণে মস্তিষ্কে যদি আঘাত না পৌঁছে তাহলে সেই পশু দ্বারা কোরবানি জায়েজ। তাই যে পশুর অর্ধেক শিং বা কিছু শিং ফেটে বা ভেঙ্গে গেছে কিংবা শিং একেবারে উঠেইনি, সে পশু দ্বারা কোরবানি করা জায়েজ। (তিরমিজি: ১/২৭৬, আবু দাউদ: ৩৮৮, বাদায়েউস সানায়ে: ৪/২১৬, রদ্দুল মুহতার: ৬/৩২৪, আলমগীরী: ৫/২৯৭)

সূত্র : মাসিক আল কাউসার পত্রিকা

জবাইয়ের পর কোরবানির পশুর পেটে বাচ্চা পাওয়া গেলে কী করবেন?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ৭:২৯ পূর্বাহ্ণ
জবাইয়ের পর কোরবানির পশুর পেটে বাচ্চা পাওয়া গেলে কী করবেন?

কোরবানি ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান। এটা আদম (আ.)-এর যুগ থেকে বিদ্যমান ছিল। সুরা মায়েদায় (আয়াত ২৭-৩১) আদম (আ.)-এর দু’সন্তানের কোরবানির কথা এসেছে। তবে প্রত্যেক নবীর শরিয়তে কোরবানির পন্থা এক ছিল না। ইসলামি শরিয়তে কোরবানির যে পদ্ধতি নির্দেশিত হয়েছে, তার মূল সূত্র ‘মিল্লাতে ইবরাহিমি’তে বিদ্যমান ছিল।

কোরআন মাজিদ ও সহিহ হাদিস থেকে তা স্পষ্ট জানা যায়। এজন্য কোরবানিকে ‘সুন্নতে ইবরাহিমি’ নামে অভিহিত করা হয়। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি এই ইবাদত পালন করে না, তার ব্যাপারে হাদিস শরিফে কঠোর বার্তা এসেছে।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যার কোরবানির সামর্থ্য আছে তবুও সে কোরবানি করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে।’ (মুসনাদে আহমদ: ২/৩২১, মুস্তাদরাকে হাকেম: ৭৬৩৯, আত্তারগীব ওয়াত্তারহীব: ২/১৫৫)

কোরবানির দিতে হয় অহিংস্র গৃহপালিত চতুষ্পদ জন্তু দিয়ে। শরিয়তে কোরবানি দেওয়ার ক্ষেত্রে উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা ইত্যাদি পছন্দের পশু। মহানবী (সা.) উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা ছাড়া অন্য কোনো পশু কোরবানির অনুমোদন দেননি। তাই এসব পশু দিয়েই কোরবানি করতে হবে। পশুর ক্ষেত্রে সুস্থ ও ত্রুটিমুক্ত পশু নির্বাচন করা আবশ্যক। বড় ধরনের অসুস্থতা বা ত্রুটি আছে এমন পশু দিয়ে কোরবানি শুদ্ধ হয় না।

এখন প্রশ্ন জাগে, ‘জবাইয়ের পর কোরবানির পশুর পেটে বাচ্চা পাওয়া গেলে কী করব?’

এ প্রসঙ্গে ইসলামি গবেষণা পত্রিকা মাসিক আল কাউসারে বলা হয়েছে, কোরবানির পশু জবাই করার পর তার পেটে জীবিত বাচ্চা পাওয়া গেলে তাকেও জবেহ করে দেবে এবং তার গোশতও খেতে পারবে। সাদকাও করতে পারবে। আর কোরবানির পশু খরিদ করার পর জবাইয়ের আগে তার বাচ্চা হলে ওই বাচ্চাকে জীবিত সাদকা করে দেবে। কেউ যদি জবাই করে তার গোশত খেয়ে ফেলে, তবে বাচ্চাটির মূল্য সাদকা করে দিতে হবে। (খুলাসাতুল ফাতাওয়া: ৪/৩২২, আল মুহীতুল বুরহানী: ৮/৪৭১, ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ৫/৩০১, রদ্দুল মুহতার: ৬/৬২২)

সূত্র : মাসিক আল কাউসার

বিয়ে করার আগে অর্থ সংক্রান্ত যে ৫ শিক্ষা আপনার জেনে রাখা প্রয়োজন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ৭:২১ পূর্বাহ্ণ
বিয়ে করার আগে অর্থ সংক্রান্ত যে ৫ শিক্ষা আপনার জেনে রাখা প্রয়োজন?

একটি বিয়ের পরিকল্পনা করা প্রচণ্ড ক্লান্তিকর হতে পারে, যেখানে অতিথিদের তালিকা তৈরি, খাবারের মেনু নির্বাচন এবং নিখুঁত পোশাক বেছে নিতেই সপ্তাহের পর সপ্তাহ কেটে যায়। কিন্তু এই উত্তেজনার আড়ালে অধিকাংশ দম্পতিই একটি বিশাল এবং অস্বস্তিকর বাস্তবতাকে এড়িয়ে যান, তা হলো ‘অর্থ’।

টাকা-পয়সা নিয়ে কথা বলাটা হয়তো খুব একটা রোমান্টিক শোনায় না, কিন্তু দাম্পত্যের ‘সুখী সমাপ্তি’ যদি হানিমুনের রেশ কাটার পরেও বজায় রাখতে চান, তবে বিয়ের আগেই সঙ্গীর সঙ্গে আর্থিক বিষয়ে পুরোপুরি স্বচ্ছ হওয়া জরুরি। আপনাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট কীভাবে পরিচালিত হবে, সেটিই মূলত আপনাদের ভবিষ্যৎ জীবনের গতিপথ নির্ধারণ করে দেবে।

সম্পর্ক মনোবিজ্ঞান এবং সম্পদ তৈরির মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে এখানে ৫টি মৌলিক শিক্ষা দেওয়া হলো যা বিয়ের পিঁড়িতে বসার আগে আপনাদের অবশ্যই আয়ত্ত করা উচিত:

১. পরিবারের ‘মানি স্ক্রিপ্ট’ বা আর্থিক মানসিকতা বোঝা

মানুষ ছোটবেলায় তার পরিবারে অর্থের ব্যবহার যেভাবে দেখে বড় হয়, তার অবচেতন মনে একটি ‘মানি স্ক্রিপ্ট’ তৈরি হয়। আপনাদের বাবা-মায়েরা কি অর্থ নিয়ে দুশ্চিন্তা করতেন, নাকি অর্থকে নিরাপত্তার হাতিয়ার হিসেবে দেখতেন? এই পুরনো অভ্যাসগুলোই ঠিক করে দেয় আপনার সঙ্গী কেন খরচ করতে ভয় পান বা কেন অকারণে কেনাকাটা করতে ভালোবাসেন। বিয়ের আগে নিজেদের এই ভিন্ন ভিন্ন আর্থিক ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করুন।

২. ক্ষুদ্র বিষয়ে নজর না দিয়ে বড় বিষয়ে গুরুত্ব দিন

প্রতিদিনের ছোটখাটো খরচ যেমন: এক কাপ দামি কফি বা শখের কেনাকাটা নিয়ে ঝগড়া করে সময় নষ্ট করবেন না। বরং বড় লক্ষ্যগুলোতে নজর দিন। আপনারা কি ঋণের বিষয়ে একমত? অবসরের পরিকল্পনা বা সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আপনাদের ভাবনা কী? এই বড় স্তম্ভগুলো ঠিক থাকলে ছোটখাটো খরচ নিয়ে খুব একটা সমস্যা হবে না।

৩. লোক দেখানো বিলাসিতা নয়, গুরুত্ব দিন আর্থিক নিরাপত্তায়

ইনস্টাগ্রামে লাইক পাওয়ার জন্য বা অন্যকে দেখানোর জন্য সম্পদ কেনা আর প্রকৃত ধনী হওয়া; এই দুটির মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। সুখী দম্পতিরা অনেক সময় ‘কোয়াইট লাক্সারি’ বা শান্ত বিলাসিতায় বিশ্বাসী হন। তারা লোক দেখানোর চেয়ে পর্দার আড়ালে একটি শক্তিশালী আর্থিক নিরাপত্তার জাল তৈরি করতে বেশি আগ্রহী হন। প্রকৃত বিলাসিতা হলো যেকোনো জরুরি মুহূর্তে আর্থিক সংকটে না পড়া।

৪. ‘তোমার, আমার এবং আমাদের’ কৌশল

সব টাকা একটি যৌথ অ্যাকাউন্টে রাখা সবসময় ভালো সমাধান নাও হতে পারে। আধুনিক অনেক দম্পতি একটি সংকর পদ্ধতি (Hybrid system) বেছে নেন। বাড়ি ভাড়া, বাজার বা ইউটিলিটি বিলের মতো যৌথ খরচের জন্য একটি যৌথ অ্যাকাউন্ট থাকবে এবং ব্যক্তিগত শখের বা খরচের জন্য থাকবে আলাদা ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট। এতে যেমন দলীয় সংহতি বজায় থাকে, তেমনি কেনাকাটার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্বাধীনতাও ক্ষুণ্ণ হয় না।

৫. আর্থিক বিশ্বস্ততা এবং ঋণের বিষয়ে স্বচ্ছতা

লুকানো ঋণ অনেক সময় দাম্পত্য জীবনে বড় সমস্যার সৃষ্টি করে। বিয়ের অর্থ হলো আপনার সঙ্গীর আর্থিক দায়ভার এখন আপনার ওপরও বর্তাবে, বিশেষ করে যখন আপনারা যৌথভাবে বাড়ি বা গাড়ির ঋণের জন্য আবেদন করবেন। তাই এখনই সব ঋণ, ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া বা স্টুডেন্ট লোন নিয়ে খোলামেলা কথা বলুন। শুরুতে এটি অস্বস্তিকর মনে হলেও, একসঙ্গে কাজ করলে যেকোনো বড় ঋণ থেকে মুক্তি পাওয়া সহজ হয়।দাম্পত্য জীবনে সুখী হতে হলে কেবল মনের মিল নয়, বরং আর্থিক স্বচ্ছতা ও সঠিক পরিকল্পনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া