খুঁজুন
, ,

দেশেই তৈরি পেট্রোল-অকটেন, তবু কেন বাজারে সংকট?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:১৫ পূর্বাহ্ণ
দেশেই তৈরি পেট্রোল-অকটেন, তবু কেন বাজারে সংকট?

তেল ফুরিয়ে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঢাকার আসাদগেটের একটি ফিলিং স্টেশনে গাড়ি ঠেলে নিয়ে আসেন ফারুক মোল্লা। বুধবার সকাল সাড়ে ছয়টা থেকে পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষার পর সাড়ে এগারোটা নাগাদ জ্বালানি তেল পান তিনি।

ফারুক মোল্লা বলেন, চালক হিসেবে ৩০ বছরের কর্মজীবনে এমন সংকট তিনি দেখেননি।

‘সোনার বাংলা’ নামের ওই ফিলিং স্টেশনে দেখা যায়, ব্যক্তিগত গাড়িতে সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা এবং মোটরসাইকেলে ৫শ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে।

সড়কের ঠিক উল্টো দিকে আরেকটি ফিলিং স্টেশন রয়েছে সকাল থেকে সেটি দুপুর পর্যন্ত সেখানে পেট্রোল অকটেন বরাদ্দ না থাকায় বন্ধ থাকতে দেখা যায়। তবে পাম্প থেকে ডিজেলে সরবরাহ করতে দেখা যায়।

আমদানি করা তেলের মধ্যে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি চাহিদা ডিজেলের। কিন্তু এখন শহরে গ্রামে তেলের জন্য যে হাহাকার এবং দীর্ঘ সারি তার অধিকাংশই অকটেন ও পেট্রোলের জন্য।

তেলের চাহিদা পূরণ করতে হিমশিম অবস্থা তৈরি হয়েছে অধিকাংশ পেট্রোল পাম্পে। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বরাদ্দকৃত তেল ফুরিয়ে অনেক ফিলিং স্টেশন বন্ধ থাকতেও দেখা যাচ্ছে।

বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা ডিজেলের। অথচ অনেক পাম্পে ডিজেল থাকলেও টান পড়েছে অকটেন ও পেট্রোলের।

ডিজেল বাংলাদেশ প্রায় পুরোটাই আমদানি করে।

অন্যদিকে বাংলাদেশে নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাওয়া কনডেনসেট থেকে দৈনিক প্রায় সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার ব্যারেল পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদন করছে।

পেট্রোল-অকটেনের উৎপাদন কত

বাংলাদেশে তেলের মজুদ এবং উৎপাদন সক্ষমতা মিলিয়ে পেট্রোল অকটেনের এমন সংকট হওয়ার কথা নয়। কারণ বাংলাদেশে পেট্রোল ও অকটেনের নিজস্ব উৎপাদন ব্যবস্থা রয়েছে।

সিলেটের গ্যাসক্ষেত্রগুলোয় গ্যাসের সঙ্গে যে কনডেনসেট (গ্যাস উৎপাদনের সময় উপজাত হিসেবে পাওয়া তরল হাইড্রোকার্বন) পাওয়া যায়, সেটি প্রক্রিয়াজাত করে বাংলাদেশ পেট্রোল ও অকটেনের চাহিদার একটা বড় অংশ উৎপাদন করে।

বাংলাদেশে বছরে পেট্রোলের চাহিদা চার লাখ ৬২ হাজার টন ও অকটেনের চাহিদা চার লাখ ১৫ হাজার টন। বাংলাদেশে নিজস্ব উৎপাদন ও ক্রুড অয়েল থেকে ইস্টার্ন রিফাইনারি পরিশোধন করে পেট্রোল আমদানির প্রয়োজন হয় না।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে উৎপাদিত কনডেনসেট থেকে দুই লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি, অর্থাৎ মোট চাহিদার প্রায় অর্ধেক পেট্রোল উৎপাদন হয়েছে।

এছাড়া অকটেনও হয়েছে মোট চাহিদার চাহিদার প্রায় চারভাগের একভাগ।

এ বিবেচনায় বিশ্ববাজার থেকে তেল আমদানি পুরো বন্ধ হয়ে গেলেও বাংলাদেশে এই মুহূর্তে পেট্রোল ও অকটেনের দিক থেকে একেবারে জ্বালানিশূন্য হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা নেই।

এরমধ্যে পেট্রোবাংলার কোম্পানি সিলেট গ্যাস ফিল্ডের দুটি প্ল্যান্টে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশীয় কনডেনসেট প্রক্রিয়াকরণ করে প্রায় এক লাখ ১৬ হাজার ৬৬২ মেট্রিকটন পেট্রোল এবং ৫৫ হাজার ৩৩৯ মেট্রিকটন অকটেন উৎপাদন করেছে।

ইরান যুদ্ধ এবং তেলের মজুদ নিয়ে নানা খবরে আতঙ্ক থেকেই পেট্রোল ও অকটেনের অস্বাভাবিক চাহিদা তৈরি করেছে।

উৎপাদন কোথায় কতটুকু

বাংলাদেশের নিজস্ব কনডেনসেট থেকে পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদন করে সরকারি কোম্পানি সিলেট গ্যাস ফিল্ডের দুটি প্ল্যান্ট এবং চারটি বেসরকারি রিফাইনারি।

দেশের নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্র থেকে আসা কনডেনসেট থেকে সবচেয়ে বেশি পেট্রোল ও অকটেন, কেরোসিন ও ডিজেল এবং অল্প পরিমাণ এলপিজি উৎপাদন করে হবিগঞ্জ অবস্থিত সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের (এসজিএফএল) ফ্র্যাকশনেশন প্ল্যান্ট ও ক্যাটালাইটিক রিফর্মিং ইউনিট বা সিআরইউ।

হবিগঞ্জের প্ল্যান্টে বর্তমানে প্রতিদিন সাড়ে চার হাজার ব্যারেল কনডেনসেট বিভাজন করে ৬শ ব্যারেলের (৭৪ মেট্রিকটন) মতো অকটেন, তিন হাজার ৪৫০ ব্যারেল বা ৪২০ মেট্রিকটন পেট্রোল, ১৫০ ব্যারেল বা ২০ মেট্রিকটন ডিজেল ও ১শ ব্যারেল বা ১৩ মেট্রিকটন কেরোসিন এবং ১৭ ব্যারেল বা ১.৫ মেট্রিকটন এলপিজি উৎপাদন হচ্ছে।

এসজিএফএল এর লিকুইড পেট্রোলিয়াম মার্কেটিং বিভাগের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী জীবন শান্তি সরকার বিবিসি বাংলাকে জানান, এসজিএফএল এর প্ল্যান্ট দেশীয় কনডেনসেট থেকে দৈনিক চার হাজার ব্যারেলের বেশি পেট্রোল এবং অকটেন উৎপাদন করছে।

এই তেল দেশের মোট পেট্রোলের চাহিদার ৩৩-৩৫ শতাংশ এবং অকটেনের চাহিদার ৭-৮ শতাংশ, কেরোসিনের চাহিদার ৭ শতাংশ এবং ডিজেলের চাহিদার ০.২ শতাংশ পূরণ করতে পারে।

বাংলাদেশে সিলেট গ্যাসফিল্ডসের কনডেনসেট ফ্র্যাকশনেশন প্ল্যান্ট ছাড়াও চারটি বেসরকারি রিফাইনারি দেশীয় কনডেনসেট থেকে প্রক্রিয়াজাত করে পেট্রোল অকটেন, কেরোসিন ও ডিজেল উৎপাদন করে।

মি. সরকার বলেন, বাংলাদেশে ফিনিশড প্রোডাক্ট হিসেবে পেট্রোলের আমদানি করা প্রয়োজন হয় না।

“দেশীয় যে উৎপাদিত কনডেনসেট সেটি থেকে দেশের মোট পেট্রোলের চাহিদার প্রায় ৪০-৪৫ শতাংশ পূরণ হচ্ছে। আর বাকিটা ইআরএল (ইস্টার্ন রিফাইনারি লি.) তারা ক্রুড অয়েল থেকে এবং প্রাইভেট যারা আছে তারা ইমপোর্টেড কনডেনসেট থেকে পেট্রোলের চাহিদা পূরণ করছে। “

অকটেনের চাহিদা কতটা পূরণ হয় সে হিসেব দিয়ে মি. সরকার জানান, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিপিসি প্রায় ৬২ শতাংশ অকটেন উৎপাদন করেছে, বাকি চাহিদা দেশীয়ভাবে পূরণ করা সম্ভব হয়েছে।

নিজস্ব কনডেনসেট থেকে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি তেল উৎপাদন করে সিলেট গ্যাস ফিল্ড।

সিলেটের দুটি প্ল্যান্টে দৈনিক সাড়ে সাত হাজার ব্যারেল কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা রয়েছে। তবে গ্যাসের উৎপাদন ও কনডেনসেট উৎপাদন কমে গিয়ে এখন প্রতিদিন সাড়ে চার হাজার ব্যারেল কনডেনসেট বরাদ্দ পায় সিলেট গ্যাসফিল্ডের কনডেনসেট ফ্র্যাকশনেশন প্ল্যান্ট।

ইরান যুদ্ধের কারণে তেল সংকট সৃষ্টির পর পেট্রোবাংলার নির্দেশনা অনুযায়ী হবিগঞ্জ সিআরইউতে দৈনিক অকটেন উৎপাদন ১শ ব্যারেল বৃদ্ধি করে ৭শ ব্যারেল উৎপাদন করা হচ্ছে এবং সপ্তাহে পাঁচদিনের পরিবর্তে সাতদিন লরিতে তের সরবরাহ করা হচ্ছে।

হবিগঞ্জে উৎপাদিত পেট্রোল-অকটেন সিলেট অঞ্চল এবং রংপুর, পার্বতীপুর ও বাঘাবাড়ি এলাকায় সরবরাহ করা হয়।

পেট্রোল-অকটেনের এত চাহিদা কেন

বর্তমানে দেশে অকটেন ও পেট্রোলের সংকটের মূল কারণ অতিরিক্ত চাহিদা।

কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এবং ক্রেতাদেরও অনেকে অবৈধ মজুদ করার চেষ্টা করছে, প্রয়োজন ছাড়াও বেশি কিনছেন অনেকে।

সরকার বলছে, স্বাভাবিক চাহিদা পূরণের জন্য বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় মজুদ ও তেল আমদানি করা হচ্ছে। মে মাস পর্যন্ত মজুদ সব ধরনের তেলের মজুদ নিশ্চিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলপাম্প মালিক সমিতি জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে গ্রাহকদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল না কেনার আহ্বান জানিয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পাম্পে সবার হিমশিম খেতে হচ্ছে বলেও জানায় পাম্প মালিকরা।

বৃহত্তর ময়মনসিংহ পেট্রোলপাম্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান বলেন মানুষ অতিরিক্ত তেল কিনে মজুত করার কারণে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

“প্রতিদিন আমি ৫-৬ হাজার লিটার তেল বিক্রি করতাম। পেট্রোল দুই হাজার লিটার আর ডিজেল তিন হাজার লিটার। এখন আমার সেই ডিমান্ড হয়ে গেছে ২০ হাজার- ৩০ হাজার লিটার। সবাই তার গাড়ির তেলের ট্যাংক ফুল করতে চাচ্ছে। আগে যেখানে দুই লিটার তিন লিটার তেল নিত, এখন ৫-১০ লিটার কিনছে। একারণে একটা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়েছে।”

পেট্রোল অকটেনের মজুত এবং উৎপাদন পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে পেট্রোল অকটেনের এই চাহিদা অস্বাভাবিক।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এবং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে আইইউবির উপাচার্য অধাপক ম তামিম বলেন, বাংলাদেশে কনডেনসেটের উৎপাদনও কমেছে।

“রশিদপুর হবিগঞ্জ, বিবিয়ানা সিলেটের কয়েকটি ফিল্ড থেকে কনডেনসেট আসে। বিবিয়ানার উৎপাদন ১২শ ১৩শ মিলিয়ন থেকে ৮শ-৯শ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে গেছে। সুতরাং আমাদের নিজস্ব সরবরাহ থেকে পেট্রোলটা মোটামুটি মেটানো যাবে। তবে অকটেন ডেফিনেটলি আমদানি করতে হবে।”

“আমরা জানলাম আগামী মাসের জন্য অকটেন যা প্রয়োজন তার দ্বিগুণ আসছে। সুতরাং গাড়ির লাইন আমরা যেটা দেখছি এটা ডেফেনেটলি প্যানিক পারচেজ।”

সরকারের পদক্ষেপ কী

সরকার জানাচ্ছে, যে দেশে জ্বালানি তেলের যথেষ্ট মজুত রয়েছে। চাহিদা পূরণে আরো কেনা হচ্ছে।

মে মাস পর্যন্ত তেলের চাহিদা পূরণ করতে বেশি দামে তেল আমদানি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

ইরান যুদ্ধের কারণে সংকট নিরসনে পদক্ষেপ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “বিশ্বব্যাপী প্রবলেম হয়েছে দেখেই তো আমি বেশি দাম দিয়ে সিঙ্গাপুর থেকে তেল এনে স্টক করতেছি।”

মে মাস পর্যন্ত চলার মতো জ্বালানি তেলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, “আরো জাহাজ আসবে, আরো তেল আসবে।”

সরকারি কোষাগারের ওপর চাপ পড়লেও তেলের সরবরাহ ঠিক রাখা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, “আর সেই সাপ্লাইকে ডিসরাপ্ট করতেছে কালোবাজারিরা।”

ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, সিরাজগঞ্জ জেলায় ফুয়েল কার্ড, রাজশাহীতে গাড়ির জোড় ও বেজোড় নম্বর অনুযায়ী আলাদা দিনে তেল সরবরাহের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঢাকায় মোটরসাইকেলের জন্য কিউআর কোড চালু করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ারও ব্যবস্থা করা হয়েছে।

“আমদের তো প্রবলেম বাইক। আমরা ঢাকাতে কিউআরকোড করতেছি। আমরা প্রত্যেকটা বাইকারদের কাছে কিউআর কোড দিয়ে দেব। ওই কিউআর কোড ধরলে কী পরিমাণে তেল সে পাবার কথা পেয়ে যাবে। সারাদিনে অন্য কোনো পাম্পে গিয়ে আর তেল পাবে না।”

মন্ত্রী জানান, দেশে অভিযান পরিচালনা করে তেল অবৈধ মজুত উদ্ধার করা হচ্ছে। সব পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয় করতে ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ করা হয়েছে।

“আমাদের মজুদের কোনো অসুবিধা নাই। আমাদের তেলের সাপ্লাই হচ্ছে। এখন আমার সারা বছরের যে প্ল্যানিং থাকে কোন পাম্পে কোন তেল দেব প্রতিদিন, সেই তেল সাপ্লাই করছি। এখন ডিমান্ড হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ায় সেই তেল যদি শেষ হয়ে যায় সেটা তো কিছু করার নাই আমার। আমার সাপ্লাই লাইন ও ঠিক আছে।”

ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, সরকার এই মুহূর্তে দৈনিক ১৬০ কোটি টাকা জ্বালানি তেলে ভর্তুকি দিচ্ছে।

“আমরা তেলের দাম এ মাসেও বাড়ালাম না। জনগণ যদি একটু সাশ্রয়ী হয়। প্রয়োজনের অতিরিক্ত যদি তেল না কেনে তাহলে পরে এসব ভিড় টিড় কিছুই থাকবে না এবং সাপ্লাইও স্বাভাবিক হয়ে যাবে।”

ইরান যুদ্ধের কারণে সারাবিশ্বের তেলের বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। আমদানি নির্ভর জ্বালানির মধ্যে বাংলাদেশের বড় চাহিদা হচ্ছে ডিজেল ও এলএনজির। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধের কারণে দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ সংকটে ভবিষ্যতে ডিজেল ক্রুড অয়েল ও এলএনজি আমদানি নিশ্চিত করাটাই হতে পারে বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জের।

জ্বালানিমন্ত্রী বলছেন, চাহিদা অনুযায়ী ডিজেলের আমদানির ব্যবস্থাও সরকার করছে।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

ভাঙেনি সততা, হার মানেনি বিবেক: এক গ্রামীণ সাংবাদিকের জীবনগাথা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ৮:৪৫ অপরাহ্ণ
ভাঙেনি সততা, হার মানেনি বিবেক: এক গ্রামীণ সাংবাদিকের জীবনগাথা

আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার চেয়ে নিজের কাজটিকে নিভৃতে করে যেতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তিনি। প্রচার-প্রচারণা, আত্মপ্রচার কিংবা নিজের অর্জন নিয়ে উচ্চকণ্ঠ হওয়া—এসব যেন তার স্বভাবের সঙ্গে যায় না। বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলম ধরতে, মানুষের কষ্টের কথা তুলে ধরতে এবং সত্যের পক্ষে দাঁড়াতেই তিনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করেন। তিনি ফরিদপুরের নগরকান্দার পরিচিত সাংবাদিক মিজানুর রহমান বাবু, যিনি সবার কাছে মিজান বাবু নামেই অধিক পরিচিত।

১৯৭৫ সালের ১ আগস্ট ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের কুমারপট্টি গ্রামে জন্ম তার। বাবা ছিলেন একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। কিন্তু জীবনের শুরুতেই নেমে আসে বড় এক দুঃখ। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে, ১৯৮০ সালে বাবাকে হারান তিনি। বাবার স্নেহ হারিয়ে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম যেন তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে।

অভাব-অনটনের মধ্যেও থেমে থাকেননি। শিক্ষাজীবন এগিয়ে নিয়েছেন নিজের চেষ্টায়। ১৯৯১ সালে নগরকান্দার এম.এন. একাডেমি থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি এবং ১৯৯৩ সালে ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পরে একই কলেজে বাংলা বিভাগে অনার্সে ভর্তি হলেও নানা বাস্তবতার কারণে নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি। এরপর প্রাইভেট পরীক্ষার্থী হিসেবে ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।

শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার আগেই মানুষের কথা বলার এক অদম্য ইচ্ছা তাকে টেনে আনে সাংবাদিকতায়। ২০১০ সালে ফরিদপুরের স্থানীয় দৈনিক কুমার পত্রিকার মাধ্যমে সাংবাদিকতার যাত্রা শুরু করেন। একই বছর জাতীয় দৈনিক ভোরের ডাক-এর নগরকান্দা উপজেলা সংবাদদাতা হিসেবে দায়িত্ব পান। এরপর একে একে কাজ করেন দৈনিক সংবাদ, সকালের খবর, আলোকিত বাংলাদেশ এবং মানবকণ্ঠ পত্রিকায়। ২০১৬ সাল থেকে তিনি জাতীয় দৈনিক যুগান্তর-এর নগরকান্দা উপজেলা সংবাদদাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ এই পথচলায় সংবাদ সংগ্রহের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের আস্থা অর্জনই ছিল তার সবচেয়ে বড় অর্জন।

গ্রামীণ সাংবাদিকতার বাস্তবতা সহজ নয়। সীমিত সুযোগ-সুবিধা, আর্থিক অনিশ্চয়তা, নানা ধরনের চাপ ও ঝুঁকির মধ্য দিয়েই কাজ করতে হয়। তবু মিজান বাবু বিশ্বাস করেন, সাংবাদিকতার মূল শক্তি সত্যনিষ্ঠা। সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি বহুবার ক্ষমতাবানদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করেছেন, অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছেন এবং সাধারণ মানুষের পক্ষে কলম ধরেছেন।

এই পথচলায় তাকে নানা প্রতিকূলতারও মুখোমুখি হতে হয়েছে। সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে হামলা, মামলা, হুমকি—সবকিছুরই শিকার হয়েছেন। অনেক সময় সামাজিক ও পেশাগতভাবে একঘরে করার চেষ্টাও হয়েছে। তবু তিনি থেমে যাননি। কারণ তার বিশ্বাস, সাংবাদিকতা যদি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার না হয়, তবে সেই সাংবাদিকতার মূল্য অনেকটাই কমে যায়।

তার সহকর্মীদের অনেকেই বলেন, মিজান বাবুর সবচেয়ে বড় শক্তি তার স্পষ্টবাদিতা। তিনি যেটিকে সত্য মনে করেন, সেটিই বলতে চেষ্টা করেন। এই স্বভাবের কারণে যেমন অনেকের শ্রদ্ধা পেয়েছেন, তেমনি অনেকের বিরাগভাজনও হয়েছেন। কিন্তু জনপ্রিয় হওয়ার চেয়ে নিজের বিবেকের কাছে সৎ থাকাকেই তিনি বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন।

আর্থিক দিক থেকেও তার জীবন খুব স্বচ্ছল নয়। দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা করেও বিলাসী জীবন তার ভাগ্যে জোটেনি। কিন্তু অর্থকষ্ট কখনোই তাকে নীতির সঙ্গে আপস করতে শেখাতে পারেনি। পরিচিতজনদের ভাষ্য, তিনি কখনো কাউকে ভয় দেখিয়ে, ব্ল্যাকমেইল করে কিংবা কারও দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেননি। সংবাদকে কখনো ব্যক্তিগত লাভের মাধ্যম বানানোর চেয়ে মানুষের আস্থাকে বেশি মূল্য দিয়েছেন।

অপ-সাংবাদিকতার বিরুদ্ধেও তিনি বরাবরই সোচ্চার। সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল কিংবা সংবাদকে বাণিজ্যের হাতিয়ার বানানোর প্রবণতার সমালোচনা করেন তিনি। তার মতে, একটি সমাজে সাংবাদিকতার প্রতি মানুষের আস্থা টিকিয়ে রাখতে হলে সাংবাদিকদের নিজেদেরও জবাবদিহির মধ্যে থাকতে হবে।

পেশাগত ব্যস্ততার বাইরেও তার রয়েছে কিছু ভিন্ন আগ্রহ। তিনি ছবি আঁকতে ভালোবাসেন, কবিতা আবৃত্তি করতে পছন্দ করেন এবং সুযোগ পেলেই নতুন নতুন জায়গায় ঘুরে বেড়ান। প্রকৃতি, গ্রামবাংলার জীবন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে থাকতেই যেন তিনি সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

ব্যক্তিজীবনে তিনি অত্যন্ত সাদাসিধে। চাকচিক্যপূর্ণ পোশাক বা বিলাসী জীবন তাকে আকর্ষণ করে না। একটি সাধারণ টি-শার্ট ও ট্রাউজার পরেই তাকে অধিকাংশ সময় দেখা যায়। স্ত্রী রাকিবা আক্তারী পরিবার পরিকল্পনা সহকারী হিসেবে কর্মরত। এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তার ছোট্ট সংসার। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও পরিবারের প্রতি দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করে চলেছেন তিনি।

মজার বিষয় হলো, নিজের সম্পর্কে লেখা বা প্রচার তিনি একেবারেই পছন্দ করেন না। পরিচিতদের ভাষ্য, নিজের কাজের চেয়ে কাজের ফলাফলকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দেন। এমনকি তাকে নিয়ে এই ধরনের লেখা প্রস্তুতের সময়ও তিনি বারবার লেখকের ফোন সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন, যাতে নিজের বিষয়ে কিছু লেখা না হয়। নিজের ছবি তুলতেও অনীহা প্রকাশ করেন। অনেক অনুরোধের পর একটি ছবি তোলা সম্ভব হয়েছে।

এই অনীহা হয়তো তার ব্যক্তিত্বেরই একটি অংশ। কারণ তিনি বিশ্বাস করেন, একজন সাংবাদিকের কাজ নিজেকে নয়, সমাজকে সামনে নিয়ে আসা। সংবাদে যেন মানুষ থাকে, সাংবাদিক নয়—এমন একটি দর্শন তিনি ধারণ করেন।

বাংলাদেশের গ্রামীণ সাংবাদিকতার ইতিহাসে অসংখ্য মানুষ আছেন, যারা আলোচনার বাইরে থেকেও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। মিজান বাবুও সেই সারির একজন। জাতীয় পর্যায়ে খুব বেশি পরিচিত না হলেও স্থানীয় মানুষের সুখ-দুঃখ, অন্যায়-অনিয়ম, সম্ভাবনা ও সংকটের গল্প বছরের পর বছর ধরে তুলে ধরেছেন তিনি।

সাংবাদিকতার পেশায় সাফল্যকে অনেকেই পদ-পদবি, খ্যাতি কিংবা আর্থিক অবস্থান দিয়ে মাপেন। কিন্তু আরেক ধরনের সাফল্যও আছে—যেখানে একজন মানুষ নিজের নীতি, সততা ও বিবেককে অক্ষুণ্ন রেখে পথ চলেন। সেই পথ হয়তো সহজ নয়, অনেক সময় নিঃসঙ্গও। তবু সেই পথই সমাজে কিছু মানুষের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকে।

মিজান বাবুর জীবনগল্প হয়তো কোনো রূপকথা নয়। এতে নেই বড় কোনো ক্ষমতার গল্প কিংবা বিত্তের ঝলকানি। আছে সংগ্রাম, সততা, দায়িত্ববোধ এবং সত্যের প্রতি এক ধরনের অবিচল আস্থা। সেই কারণেই তিনি হয়তো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নন, কিন্তু নীরবে নিজের দায়িত্ব পালন করে যাওয়া একজন গ্রামীণ সাংবাদিক হিসেবে অনেকের কাছে সম্মানের নাম।

লেখক: সংবাদকর্মী, ফরিদপুর।

ফরিদপুরে হাম আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়াল, মৃত্যু ২১

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ৪:১২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে হাম আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়াল, মৃত্যু ২১

ফরিদপুরে হামের সংক্রমণ এখনও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আরও ৩৪ জন শিশু ভর্তি হয়েছেন। তবে একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৪৬ জন। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৩ হাজার ৪’শত ৭ জন রোগী বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে হামের উপসর্গে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে হামের উপসর্গে আক্রান্ত ৭৯ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের অধিকাংশই শিশু। আক্রান্তদের বেশিরভাগেরই জ্বর, সর্দি, কাশি এবং শরীরে লালচে দাগের মতো উপসর্গ দেখা যাচ্ছে।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ৩৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে ৪৬ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু।

তিনি বলেন, হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী শিশুদের হাম-রুবেলা (এমআর) টিকা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো শিশুর জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া কিংবা শরীরে লালচে র্যাশ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতাল বা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি-কাশির মাধ্যমে খুব সহজেই অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে টিকাবঞ্চিত শিশুদের ক্ষেত্রে এ রোগের ঝুঁকি বেশি থাকে। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অপুষ্টি, এমনকি মৃত্যুর মতো জটিলতাও দেখা দিতে পারে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত নজরদারি, রোগী শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসাসেবা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি টিকাদান কর্মসূচি আরও কার্যকর করতে মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের সক্রিয় রাখা হয়েছে। অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করা গেলে হামের সংক্রমণ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্বাস্থ্য বিভাগ সবাইকে অপ্রয়োজনে ভিড় এড়িয়ে চলা, আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রেখে পরিচর্যা করা, পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে হামের কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

সালথায় হচ্ছে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ২:৫০ অপরাহ্ণ
সালথায় হচ্ছে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় একটি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ইউএনও দবির উদ্দিন বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে নির্দেশনা এসেছে। এখন সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য উপযুক্ত স্থান নির্বাচন, প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম ধাপে ধাপে এগিয়ে নেওয়া হবে। সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।”

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ মো. উজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত ১৮ জুন ২০২৬ তারিখের এক পত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম তাঁর নির্বাচনী এলাকায় একটি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন।

প্রতিমন্ত্রীর পাঠানো আধা-সরকারি (ডিও) পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বিষয়টি বিবেচনা করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অগ্রগতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রতিবেদন পাঠানোরও অনুরোধ জানানো হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সালথা উপজেলায় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় না থাকায় এলাকার বিপুলসংখ্যক ছাত্রীকে দূরবর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে লেখাপড়া করতে হয়। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের কারণে তারা নিরাপত্তা ঝুঁকি, অতিরিক্ত যাতায়াত ব্যয় এবং বিভিন্ন সামাজিক প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়। এসব কারণে অনেক শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। তাই স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার অনুলিপি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, অর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে সালথায় একটি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দাবি ছিল। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মেয়েদের উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষার সুযোগ আরও সহজ হবে। পাশাপাশি ঝরে পড়ার হার কমবে এবং নারী শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।

এদিকে, সরকারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বিদ্যালয়টির স্থান নির্ধারণ, অবকাঠামো নির্মাণ এবং শিক্ষা কার্যক্রম চালুর বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। বিদ্যালয়টি বাস্তবায়িত হলে সালথার শিক্ষা খাতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হবে।