খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

“তুমি নেই, তবু আছো—স্মৃতির গভীরে বেঁচে থাকা নানু”

আবরাব নাদিম ইতু
প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৩৪ অপরাহ্ণ
“তুমি নেই, তবু আছো—স্মৃতির গভীরে বেঁচে থাকা নানু”

আজ সাত বছর পূর্ণ হলো—তুমি নেই, তবু সময় ঠিকই বয়ে যায় নিজের নিয়মে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তোমাকে ভুলে যাওয়া হয়নি, বরং স্মৃতির পলি জমে তোমার অস্তিত্ব যেন আরও ভারী হয়ে বসেছে বুকের গভীরে।

কিছু মানুষ এই পৃথিবীতে জন্ম নেয় অন্যের জন্য বাঁচতে—নিজের সুখ বিসর্জন দিয়ে অন্যের মুখে হাসি ফোটাতে। তুমি ছিলে ঠিক তেমনই একজন, নিঃস্বার্থ ভালোবাসার এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।

তোমার মায়ার বাঁধনে আমরা সবাই এমনভাবে জড়িয়ে ছিলাম, যেন সেই বন্ধন ছিন্ন হওয়ার নয় কোনোদিনই। আমাদের ছোট্ট পরিবারটাকে তুমি আগলে রেখেছিলে অসীম মমতায়, স্নেহে, আর নির্ভরতার এক নিরাপদ ছায়ায়। আজও মনে হয়, দূর কোথাও বসে তুমি চুপিচুপি আমাদের জন্য আশীর্বাদ করে যাচ্ছো।

নিজে অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন না হয়েও শিক্ষার প্রতি তোমার যে অদম্য ভালোবাসা ছিল, তা ভাবলে আজও বিস্মিত হই। তুমি বুঝতে—শিক্ষাই মানুষের প্রকৃত সম্পদ। তাই ছেলেমেয়ের ভেদাভেদ না করে সবার জন্য সমানভাবে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলে। তোমার সেই দৃঢ় সংকল্প ছিল পাহাড়সম অটল। শুধু পড়াশোনা নয়, জীবনের প্রতিটি ধাপে আমাদের সুপ্রতিষ্ঠিত করতে তোমার অবদান ছিল নিঃশব্দ অথচ অসীম।

নিজের কোনো আয়ের উৎস না থাকলেও, প্রয়োজনের সময় কোথা থেকে যেন তুমি সব ব্যবস্থা করে ফেলতে। আজও ভাবি—কী করে পারতে তুমি? আমাদের বড় হয়ে ওঠার প্রতিটি ধাপে তোমার ত্যাগ, তোমার সংগ্রাম মিশে আছে অদৃশ্যভাবে।

নানাভাই চাকরির কারণে অধিকাংশ সময় বাইরে থাকতেন, কিন্তু সেই অভাব আমরা কখনো টের পাইনি। কারণ তুমি ছিলে—একাই ছিলে এই সংসারের কাণ্ডারি, অতন্দ্র প্রহরী। তোমার অসীম ধৈর্য, সাহস আর ভালোবাসা দিয়ে তুমি সব শূন্যতা পূর্ণ করে রেখেছিলে।

নানু, তুমি কি ভালো আছো?
এখন কি তুমি ওই দূর আকাশের কোনো নক্ষত্র হয়ে আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকো?

আজ জীবন অনেক সহজ হয়ে গেছে—অনেক কিছুই হাতের নাগালে। তবুও মনে হয়, আমরা যেন ভেতর থেকে অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছি। মমতার সেই গভীর বন্ধন, সেই শক্ত মনের জোর—কোথায় যেন হারিয়ে ফেলেছি আমরা। অল্প আঘাতেই ভেঙে পড়ি, দিশেহারা হয়ে যাই।

চলে যাওয়ার সময় তুমি কি তোমার সেই অসীম শক্তিটুকু আমাদের দিয়ে যাওনি?
যদি আর একবার তোমাকে কাছে পেতাম, খুব করে বলতাম—আমাদেরও একটু শক্ত করে দাও, তোমার মতো করে বাঁচতে শেখাও।

তোমাকে খুব মনে পড়ে, নানু।
যেখানেই থেকো—ভালো থেকো।
আর যদি সত্যিই নক্ষত্র হয়ে থাকো, তবে তোমার আলোটা যেন আমাদের পথ দেখাতে থাকে সারাজীবন।

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে ৮ বছরের বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টা

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৯:৪৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে ৮ বছরের বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টা

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় ৮ বছর বয়সী এক বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (২৫ মে) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্ব বিএস ডাঙ্গী অবস্থিত পরিত্যাক্ত জেলখানার একটি ভবনের বারান্দায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, শিশুটি প্রতি দিনের মতন বাড়ির পাশের পরিত্যাক্ত ওই জেলখানার উন্মুক্ত স্থানে খেলা করতে আসে। এ সময় শিশুটির সরলতার সুযোগ নিয়ে আলতাফ ওরফে আদু (৬৫) তাকে পাশেই পরিত্যাক্ত একটি ভবনের বারান্দায় ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। অভিযুক্ত আদু ওই ভবনের পাশেই একটি জরাজীর্ণ ছাপড়া ঘরে বসবাস করেন।

ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, আদুর বর্তমান স্ত্রী প্রতিবন্ধী। সে পেশায় একজন ভ্যান চালক। শিশুটি মাঝে মধ্যেই আদুর মেয়েদের সাথে খেলা করতে আদুর বাড়ির সামনে আসত।

ঘটনার প্রত্যক্ষ্যদর্শী এক নারী জানান, তিনি ও তার বোন সকালে জেলখানার সামনের ওই স্থান দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। হঠাৎ তিনি খারাপ কাজ করার দৃশ্য দেখতে পায়। প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন স্বামী স্ত্রী হতে পারে, পরে তিনি আবার তাকিয়ে শিশুটিকে দেখতে পেয়ে ওই স্থানে এগিয়ে যান।

তিনি বলেন, তাকে দেখে আদু শিশুকে প্যান্ট পরিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টো করে। তখন ওই নারী এগিয়ে গিয়ে আদুকে শাসালে আদু পালিয়ে যায়।পরে শিশুটির পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। এই ঘটনায় স্থানীয়রা নিজেদের সন্তান নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।

এই ঘটনার বিষয়ে চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। এই ঘটনায় শিশুটির নানী বাদি হয়ে থানায় একটি ধর্ষণ চেষ্টার মামলা করেছেন।

সদরপুরে অনুমতি ছাড়াই বসেছে পশুর হাট, লাখ টাকার খাজনা আদায়ের অভিযোগ

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৭:০৪ অপরাহ্ণ
সদরপুরে অনুমতি ছাড়াই বসেছে পশুর হাট, লাখ টাকার খাজনা আদায়ের অভিযোগ

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই পশুর হাট বসিয়ে লাখ টাকার খাজনা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে।

সোমবার (২৫ মে) দুপুর ৩টার দিকে উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের পিঁয়াজখালী বাজার এলাকায় এ পশুর হাট বসানো হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হান্নান চাকলাদার নামে এক ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা কোনো ধরনের সরকারি অনুমতি ছাড়াই কোরবানির পশুর হাট পরিচালনা করছেন। হাটে আগত ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের খাজনা আদায় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই দীর্ঘ সময় ধরে একটি চক্র প্রভাব খাটিয়ে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এতে সরকার যেমন রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনি সাধারণ ব্যবসায়ীরাও অতিরিক্ত খাজনার চাপে পড়ছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত হান্নান চাকলাদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন বলেন, ওই বাজারে পশুর হাট বসানোর কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে উনারা জেলা প্রশাসকের আবেদন করেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঘাস কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ গেল বৃদ্ধের

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের সদরপুরে ঘাস কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ গেল বৃদ্ধের

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় বজ্রপাতে শেখ সামাদ (৭৬) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (২৫ মে) দুপুরে উপজেলার চর বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সলিমুদ্দিন ফকিরের ডাঙ্গী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শেখ সামাদ ওই গ্রামের মৃত শেখ ইয়াজউদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুপুর দেড়টার দিকে শেখ সামাদ গরুর জন্য নিজ জমিতে ঘাস কাটতে যান। এ সময় হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বজ্রপাত শুরু হলে তিনি বজ্রাঘাতে গুরুতর আহত হন। পরে তার স্ত্রী ছাহেরা বেগমের চিৎকারে স্বজন ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সদরপুর থানা পুলিশকে জানালে উপ-পরিদর্শক (নি:) মো. মিনারুল কাজী সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন এবং মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।