খুঁজুন
, ,

“তুমি নেই, তবু আছো—স্মৃতির গভীরে বেঁচে থাকা নানু”

আবরাব নাদিম ইতু
প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৩৪ অপরাহ্ণ
“তুমি নেই, তবু আছো—স্মৃতির গভীরে বেঁচে থাকা নানু”

আজ সাত বছর পূর্ণ হলো—তুমি নেই, তবু সময় ঠিকই বয়ে যায় নিজের নিয়মে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তোমাকে ভুলে যাওয়া হয়নি, বরং স্মৃতির পলি জমে তোমার অস্তিত্ব যেন আরও ভারী হয়ে বসেছে বুকের গভীরে।

কিছু মানুষ এই পৃথিবীতে জন্ম নেয় অন্যের জন্য বাঁচতে—নিজের সুখ বিসর্জন দিয়ে অন্যের মুখে হাসি ফোটাতে। তুমি ছিলে ঠিক তেমনই একজন, নিঃস্বার্থ ভালোবাসার এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।

তোমার মায়ার বাঁধনে আমরা সবাই এমনভাবে জড়িয়ে ছিলাম, যেন সেই বন্ধন ছিন্ন হওয়ার নয় কোনোদিনই। আমাদের ছোট্ট পরিবারটাকে তুমি আগলে রেখেছিলে অসীম মমতায়, স্নেহে, আর নির্ভরতার এক নিরাপদ ছায়ায়। আজও মনে হয়, দূর কোথাও বসে তুমি চুপিচুপি আমাদের জন্য আশীর্বাদ করে যাচ্ছো।

নিজে অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন না হয়েও শিক্ষার প্রতি তোমার যে অদম্য ভালোবাসা ছিল, তা ভাবলে আজও বিস্মিত হই। তুমি বুঝতে—শিক্ষাই মানুষের প্রকৃত সম্পদ। তাই ছেলেমেয়ের ভেদাভেদ না করে সবার জন্য সমানভাবে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলে। তোমার সেই দৃঢ় সংকল্প ছিল পাহাড়সম অটল। শুধু পড়াশোনা নয়, জীবনের প্রতিটি ধাপে আমাদের সুপ্রতিষ্ঠিত করতে তোমার অবদান ছিল নিঃশব্দ অথচ অসীম।

নিজের কোনো আয়ের উৎস না থাকলেও, প্রয়োজনের সময় কোথা থেকে যেন তুমি সব ব্যবস্থা করে ফেলতে। আজও ভাবি—কী করে পারতে তুমি? আমাদের বড় হয়ে ওঠার প্রতিটি ধাপে তোমার ত্যাগ, তোমার সংগ্রাম মিশে আছে অদৃশ্যভাবে।

নানাভাই চাকরির কারণে অধিকাংশ সময় বাইরে থাকতেন, কিন্তু সেই অভাব আমরা কখনো টের পাইনি। কারণ তুমি ছিলে—একাই ছিলে এই সংসারের কাণ্ডারি, অতন্দ্র প্রহরী। তোমার অসীম ধৈর্য, সাহস আর ভালোবাসা দিয়ে তুমি সব শূন্যতা পূর্ণ করে রেখেছিলে।

নানু, তুমি কি ভালো আছো?
এখন কি তুমি ওই দূর আকাশের কোনো নক্ষত্র হয়ে আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকো?

আজ জীবন অনেক সহজ হয়ে গেছে—অনেক কিছুই হাতের নাগালে। তবুও মনে হয়, আমরা যেন ভেতর থেকে অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছি। মমতার সেই গভীর বন্ধন, সেই শক্ত মনের জোর—কোথায় যেন হারিয়ে ফেলেছি আমরা। অল্প আঘাতেই ভেঙে পড়ি, দিশেহারা হয়ে যাই।

চলে যাওয়ার সময় তুমি কি তোমার সেই অসীম শক্তিটুকু আমাদের দিয়ে যাওনি?
যদি আর একবার তোমাকে কাছে পেতাম, খুব করে বলতাম—আমাদেরও একটু শক্ত করে দাও, তোমার মতো করে বাঁচতে শেখাও।

তোমাকে খুব মনে পড়ে, নানু।
যেখানেই থেকো—ভালো থেকো।
আর যদি সত্যিই নক্ষত্র হয়ে থাকো, তবে তোমার আলোটা যেন আমাদের পথ দেখাতে থাকে সারাজীবন।

ভাঙ্গায় অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

ভাঙ্গা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪১ অপরাহ্ণ
ভাঙ্গায় অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে অজ্ঞাতনামা গাড়ির ধাক্কায় সালাউদ্দিন মোল্লা (২২) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন তাঁর সঙ্গে থাকা আরও দুই আরোহী।

​সোমবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার মালিগ্রাম এলাকায় এক্সপ্রেসওয়েতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

​নিহত সালাউদ্দিন ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কুমারদিয়া গ্রামের আদম মোল্লার ছেলে। দুর্ঘটনায় আহতরা হলেন একই এলাকার সাব্বির শেখ (১৮) ও তামিম হোসেন (২৮)। তাঁরা নিহত সালাউদ্দিনের বন্ধু।

​স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নগরকান্দা থেকে এক মোটরসাইকেলে তিন বন্ধু ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের ঢাকাগামী লেন দিয়ে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে মালিগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে একটি দ্রুতগতির অজ্ঞাত গাড়ি তাঁদের মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই সালাউদ্দিনের মৃত্যু হয় এবং অপর দুই বন্ধু মারাত্মক আহত হন।

​পরে ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত সালাউদ্দিনের লাশ উদ্ধার করে এবং গুরুতর আহত সাব্বির ও তামিমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

​বিষয়টি নিশ্চিত করে শিবচর হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মামুন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেল ও লাশ উদ্ধার করেছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ঘাতক গাড়িটি শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

ফরিদপুরের মিলিটারি কলেজিয়েট স্কুল পরিদর্শনে পরিকল্পনা কমিশনের দুই সচিব

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের মিলিটারি কলেজিয়েট স্কুল পরিদর্শনে পরিকল্পনা কমিশনের দুই সচিব

মিলিটারি কলেজিয়েট স্কুল ফরিদপুর (এমসিএসএফ) পরিদর্শন করেছেন পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক বিভাগের সদস্য (সচিব) নাসরিন জাহান এবং আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের প্রধান (অতিরিক্ত সচিব) ড. শাহ মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

​রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে তারা প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শনে আসেন। এসময় তাদের ফুলেল অভ্যর্থনা জানানো হয়।

​পরিদর্শনকালে সচিব নাসরিন জাহান, অতিরিক্ত সচিব ড. শাহ মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এবং সচিবের একান্ত সচিব (উপসচিব) মো. মাসজানুল ইসলাম তৌহিদ মিলিটারি কলেজিয়েট স্কুল ফরিদপুরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এসময় সামরিক বাহিনীর কর্নেল এডমিনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

​সফরকালে অতিথিরা ক্যাডেটদের কাছ থেকে সালাম গ্রহণ করেন এবং স্কুল প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখেন। পরিদর্শন শেষে তারা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত সুবিধা, সুসংহত শিক্ষার মান ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। পরে সফররত অতিথিদের প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

​উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সূচনা লগ্ন থেকেই মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার মাধ্যমে সুশিক্ষিত, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় জ্ঞান, শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম ও নেতৃত্বগুণসম্পন্ন নাগরিক গড়ার লক্ষ্যে ‘মিলিটারি কলেজিয়েট স্কুল খুলনা (এমসিএসকে)’-এর আদলে ফরিদপুরে এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হয়েছে।

​এর আগে রোববার সকালেই সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আনুষ্ঠানিকভাবে মিলিটারি কলেজিয়েট স্কুল ফরিদপুর (এমসিএসএফ) এবং সেনা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ রাজবাড়ী (এসপিএসসি)-এর উদ্বোধন করেন।

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে আগুনে পুড়ল ৭টি ছাগল

শিশির খাঁন
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৪৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে আগুনে পুড়ল ৭টি ছাগল

রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন বাড়ির সবাই। এদিকে ছাগল রাখার ছাপড়া ঘরে কয়েল থেকে আগুন ধরে পুড়ে গেল সাতটি ছাগল। এমনকি পাড়া প্রতিবেশীরাও টের পায়নি। যখন সবাই টের পেল তখন সব পুড়ে শেষ। এমন একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায়।

রবিবার (২৩ আগস্ট) ভোর রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের টিলারচর গ্রামের বাসিন্দা শেখ আদেল (৬১) এর বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।

আগুনে ছাপড়া ঘরটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয় এবং রান্নাঘরের অর্ধেক অংশ পুড়ে যায়। এতে প্রায় দেড় লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবারটি।

অগ্নিকান্ডের বিষয়ে দিনমুজুর আদেল জানায়, ঘটনার রাতে প্রতিদিনের মতন ছাগল থাকার ঘরে মশার কয়েল জ্বালিয়ে রেখে তিনি ও তার স্ত্রী রাত এগারোটার দিকে পাশের ঘরে ঘুমিয়ে পরেন। পুড়ে যাওয়া ঘরটি তাদের বসত ঘরের পাশে ছাপড়া ঘর ছিল। ওই ঘরে তারা সাতটি ছাগল রাখত। রাত আনুমানিক একটার দিকে তারা অগ্নিকান্ডের বিষটি বুঝতে পেরে ঘরের দরজা খুলে বাহিরে বের হন। পরে তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আগুন নেভায়। মশার কয়েল থেকে এই অগ্নিকান্ড ঘটেছে বলে ধারনা করছে ওই পরিবার।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ বলেন, অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে সকালে ঘটনাস্থলে লোক পাঠানো হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমান যাচাই বাছাইয়ের পরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে সহযোগিতা করা হবে।