খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৪ আষাঢ়, ১৪৩৩

আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত আসামের চা বাগান শ্রমিকরা

আহমদ হুসাইন লস্কর, ভারতের আসাম থেকে
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:০৮ অপরাহ্ণ
আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত আসামের চা বাগান শ্রমিকরা

স্বাধীনতার সাত দশক পেরিয়ে গেলেও ভারতের আসাম রাজ্যের চা জনজাতি এখনও কার্যত অবহেলা ও বঞ্চনার মধ্যেই দিন কাটাচ্ছে—এমন অভিযোগ ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। উন্নয়নের মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বদলে এই জনগোষ্ঠী এখনও ঔপনিবেশিক আমলের জীবনযাত্রার সঙ্গে লড়াই করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চা শিল্পের সূচনালগ্নে ব্রিটিশরা শ্রমিক হিসেবে যাদের নিয়ে এসেছিল, সেই চা জনজাতির জীবনযাত্রায় আজও তেমন কোনো মৌলিক পরিবর্তন দেখা যায় না। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান, পানীয় জল—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তারা পিছিয়ে রয়েছে। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, একটি জাতির উন্নয়নের অন্যতম প্রধান সূচক হলো শিক্ষা, আর এই জায়গাটিতেই চা বাগান অঞ্চলগুলো সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে।

শিক্ষায় চরম পশ্চাৎপদতা:

চা বাগান এলাকাগুলোতে শিক্ষার হার এখনও আশঙ্কাজনকভাবে কম। প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও অধিকাংশই এক শিক্ষক নির্ভর, ফলে শিক্ষার মান নিম্নমানের। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা খুবই সীমিত। স্কুলছুট শিশু-কিশোরের সংখ্যাও উদ্বেগজনক।

অভিযোগ রয়েছে, ঐতিহাসিকভাবে শ্রমিকদের শিক্ষার প্রতি উৎসাহিত করা হয়নি, যাতে তারা শুধুমাত্র বাগানের কাজে নিয়োজিত থাকে। সেই ধারা এখনও অনেকাংশে বহাল রয়েছে। ফলে শিশু শ্রমের প্রবণতাও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

স্বাস্থ্যসেবায় চরম সংকট:

চা বাগান অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার চিত্র অত্যন্ত নাজুক। অধিকাংশ বাগানে এখনও পুরনো ডিসপেনসারিই ভরসা, যেখানে নেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স কিংবা আধুনিক সরঞ্জাম।

সরকারি স্বাস্থ্যসেবা অনেক ক্ষেত্রে পৌঁছায় না প্রত্যন্ত বাগান এলাকায়। উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো প্রায়ই বন্ধ থাকে, ওষুধের ঘাটতি লেগেই থাকে।

ফলে অধিকাংশ প্রসব হয় বাড়িতে, অপ্রশিক্ষিত ধাইয়ের মাধ্যমে—যা মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। সচেতনতার অভাবে পরিবার পরিকল্পনা, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যবিধি নিয়েও রয়েছে ব্যাপক ঘাটতি।

অবকাঠামো ও বাসস্থানে বেহাল অবস্থা:

চা শ্রমিকদের বাসস্থান এখনও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাঁশ, মাটি ও টিনের ঘরে সীমাবদ্ধ। সরকারি আবাসন প্রকল্পের সুবিধা খুব কমই পৌঁছেছে তাদের কাছে।

অভিযোগ রয়েছে, কিছু বাগানে বিশেষ আইন দেখিয়ে পাকা ঘর নির্মাণেও বাধা দেওয়া হয়। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে দুর্নীতির কারণেও উন্নয়ন প্রকল্পগুলো কার্যকর হচ্ছে না।

বিশুদ্ধ পানীয় জল ও স্যানিটেশন সংকট:

চা বাগান অঞ্চলে বিশুদ্ধ পানীয় জলের সংকট প্রকট। অনেক জায়গায় মানুষ এখনও নদী, নালা বা অপরিশোধিত কূপের পানির ওপর নির্ভরশীল।

এর ফলে জলবাহিত রোগ প্রায়ই দেখা যায়। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের প্রকল্প থাকলেও সেগুলোর বেশিরভাগই অচল বা অকার্যকর হয়ে রয়েছে।

অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও প্রভাব:

সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে চায়ের দাম কমে যাওয়ায় চা বাগানগুলোর আয় কমেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে শ্রমিকদের জীবনযাত্রা ও বাগানের স্বাস্থ্যসেবার ওপর।

দৈনিক মজুরি কম, কাজের নিশ্চয়তা নেই—এমন বাস্তবতায় দিন কাটাচ্ছেন হাজারো শ্রমিক পরিবার।

সমাধানের দাবি:

বিশেষজ্ঞদের মতে, চা জনজাতির উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনা জরুরি।

– শিক্ষার মানোন্নয়ন ও বিদ্যালয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি

– আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা

– নিরাপদ পানীয় জল ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা

– টেকসই আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন

– শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও সামাজিক নিরাপত্তা

এসব উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে এই জনগোষ্ঠী আরও পিছিয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, স্বাধীনতার এত বছর পরও আসামের চা জনজাতির জীবনমান উন্নয়নে যে অগ্রগতি প্রত্যাশিত ছিল, তা বাস্তবে প্রতিফলিত হয়নি—এমনটাই উঠে এসেছে নানা পর্যবেক্ষণে। এখন সময় এসেছে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার।

ফের পুলিশের জালে ফরিদপুরের সেই ‘সিরিঞ্জ তুফান’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৬:৩৮ অপরাহ্ণ
ফের পুলিশের জালে ফরিদপুরের সেই ‘সিরিঞ্জ তুফান’

ফরিদপুর শহরে ইনজেকশনের সিরিঞ্জে পচা রক্ত ভরে পথচারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ছিনতাইয়ের অভিযোগে আলোচিত ‘সিরিঞ্জ তুফান’ আবারও পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুর ২টার দিকে শহরের নিউমার্কেট এলাকার ইমামুদ্দিন স্কয়ারের পাশ থেকে তাকে আটক করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।

আটক তুফানের কাছ থেকে একটি ইনজেকশনের সিরিঞ্জ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন।

তিনি জানান, মাসখানেকেরও বেশি সময় আগে সিরিঞ্জে পচা রক্ত ভরে তা মানুষের শরীরে প্রবেশ করানোর ভয় দেখিয়ে ছিনতাইয়ের অভিযোগে তুফানকে আটক করা হয়েছিল। তবে তার বিরুদ্ধে কোনো লিখিত অভিযোগ না থাকায় সম্প্রতি তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। মুক্তি পাওয়ার পরপরই একই কায়দায় আবারও ছিনতাইয়ের চেষ্টা শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৭ জুন) শহরের হাজী শরীয়তুল্লাহ বাজারের লোহার ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় মাহফুজুর রহমান শাহিদ নামে এক যুবককে ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করেন তুফান। পরে ভুক্তভোগী বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরলে ঘটনাটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে। এরপরই তাকে আটকের জন্য অভিযান শুরু করে পুলিশ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমীর হোসেন বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানার পর আমরা তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনা করি। বৃহস্পতিবার দুপুরে নিউমার্কেট এলাকা থেকে তুফানকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”

এর আগে ভুক্তভোগী মাহফুজুর রহমান শাহিদ নিজের ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, র‌্যাফেলস মোড় থেকে লোহার ব্রিজের দিকে যাওয়ার সময় তুফান তাকে থামিয়ে টাকা দাবি করেন। টাকা না থাকায় তিনি প্রতিবাদ করলে তুফান নিজের পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং পুলিশকে নিয়েও অবমাননাকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ করেন শাহিদ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শহরের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করে আসছিলেন তুফান। বিশেষ করে সিরিঞ্জে রক্ত ভরে ভয় দেখানোর অভিনব কৌশলের কারণে তিনি ‘সিরিঞ্জ তুফান’ নামে পরিচিতি পান। ফলে তার পুনরায় আটকের ঘটনায় নগরবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে মনে করছেন অনেকে।

উল্লেখ্য, মাসখানেক আগে স্থানীয় সাংবাদিক শ্রাবণ হাসান ছিনতাইয়ের শিকার হওয়ার ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর ‘সিরিঞ্জ তুফান’ ব্যাপক আলোচনায় আসেন। এরপর থেকে তাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলতে থাকে। পরে স্থানীয় জনতা আটক করে তাকে পুলিশে দেয়। তবে, কিছুদিন কারাগারে থাকার পর জামিনে বেরিয়ে এসে ফের একই কাজ করতে থাকে। পরে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে আবার তুফানকে আটক করা হলো। এবার পুনরায় আটকের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

ফরিদপুরে আগুন নেভাতে গিয়ে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে প্রাণ গেল যুবকের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ১২:০৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে আগুন নেভাতে গিয়ে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে প্রাণ গেল যুবকের

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার একটি বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় বাবুল মোল্লা (৩৫) নামে এক ব্যক্তির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। আগুনে বাজারের অন্তত পাঁচটি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা হতে পারে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোরে উপজেলার পাঁচুড়িয়া ইউনিয়নের যোগিবরাট ভেন্নাতলা বাজারে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, ভোররাতে বাজারের নুর মিয়ার মুদি দোকানে প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো বাজার এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের খবর পেয়ে স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু করেন। তাদের সঙ্গে যোগ দেন বাবুল মোল্লাও।

আগুন নেভানোর একপর্যায়ে একটি দোকানের ভেতরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এতে বাবুল মোল্লা, আলামিন বিশ্বাস, নুর মিয়া শেখসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে এবং উপস্থিত লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পরে আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বাবুল মোল্লাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অন্যদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

খবর পেয়ে বোয়ালমারী ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ততক্ষণে বাজারের পাঁচটি দোকান পুড়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে রয়েছে নুর মিয়ার মুদি দোকান, সাহেব আলীর চায়ের দোকান, কেসমত আলীর সার ও কীটনাশকের দোকান, বাবর আলীর সাইকেল মেরামতের দোকান এবং জাকির মোল্লার কাপড়ের দোকান।

বোয়ালমারী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা রয়েল আহমেদ বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। আগুন নেভানোর সময় দোকানের ভেতরে থাকা একটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে একজনের মৃত্যু এবং তিনজন আহত হন।”

তিনি আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে। বাজারের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সরকারি সহযোগিতা কামনা করেছেন।

সালথায় ৭ নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৭:৪৪ পূর্বাহ্ণ
সালথায় ৭ নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষার সম্প্রসারণ ও শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে নতুন করে ৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়গুলোর প্রস্তাব ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই এসব বিদ্যালয়ের অনুমোদন পাওয়া যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-সংকটপূর্ণ এলাকায় বিদ্যালয় স্থাপনের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অনেক গ্রামের শিক্ষার্থীদের দূরবর্তী বিদ্যালয়ে গিয়ে পাঠ গ্রহণ করতে হয়। বিশেষ করে ছোট শিশুদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতে নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হয়। নতুন বিদ্যালয়গুলো স্থাপিত হলে এসব এলাকার শিক্ষার্থীরা নিজ এলাকার কাছেই মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ পাবে।

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন  বলেন, “সালথায় ৭টি নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের নির্দেশনায় প্রয়োজনীয় প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আমরা আশা করছি, অতিশীঘ্রই বিদ্যালয়গুলো অনুমোদন পাবে এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে।”

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নতুন বিদ্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত শিশুদের বিদ্যালয়মুখী করা সহজ হবে। একই সঙ্গে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমবে এবং প্রাথমিক শিক্ষায় ভর্তির হার আরও বৃদ্ধি পাবে।

ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ শিক্ষাখাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে এলাকায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই নতুন এসব বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

স্থানীয়রা মনে করছেন, নতুন বিদ্যালয়গুলো প্রতিষ্ঠিত হলে সালথার শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়বে এবং সরকারের ‘সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষা’ নিশ্চিত করার লক্ষ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই উদ্যোগ।

এদিকে বিদ্যালয়গুলোর অনুমোদনের খবরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আনন্দ ও আশাবাদের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।