খুঁজুন
, ,

সাংবাদিকতার চার দশক : পান্না বালার সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ
সাংবাদিকতার চার দশক : পান্না বালার সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প

ফরিদপুরের সাংবাদিকতা অঙ্গনে যে কজন মানুষ সততা, পেশাদারিত্ব ও ব্যক্তিত্বের দৃঢ়তায় আলাদা মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছেন, তাদের অন্যতম প্রবীর কান্তি বালা—যাকে সবাই বেশি চেনেন পান্না বালা নামে। কয়েক দশকের নিরলস সাংবাদিকতা জীবনে তিনি কেবল একজন সংবাদকর্মী হিসেবেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেননি, বরং হয়ে উঠেছেন সাংবাদিকতার এক জীবন্ত প্রতিষ্ঠান। সত্যের প্রতি দায়বদ্ধতা, নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন, সাহসী অবস্থান এবং মানবিক ব্যক্তিত্বের কারণে তিনি ফরিদপুরের সাংবাদিক সমাজে অত্যন্ত সম্মানিত এক নাম।

১৯৬৪ সালের ৮ জানুয়ারি এক বনেদি ও শিক্ষিত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন পান্না বালা। তাঁর বাবা গৌর চন্দ্র বালা ছিলেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, সাবেক যুক্তফ্রন্ট সরকারের বন ও খাদ্যমন্ত্রী এবং বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম রচয়িতা। সমাজ ও রাজনীতিতে তাঁর অবদান আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। অন্যদিকে মা অঞ্জলী বালা একজন সমাজসেবী ও শিশু সংগঠক। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী শিশু সংগঠন ‘ফুলকি’র সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে ছোটবেলা থেকেই পান্না বালা বেড়ে উঠেছেন সংস্কৃতি, শিক্ষা, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক মূল্যবোধের পরিবেশে।

পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ। তাঁদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ও সফল। বড় ভাই বিপ্লব বালা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক। সংস্কৃতি ও নাট্যাঙ্গনে তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। দ্বিতীয় ভাই প্রণব বালা পেশায় চিকিৎসক এবং বর্তমানে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। তৃতীয় বোন তন্দ্রা বালা অর্থনীতিতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পর বর্তমানে কানাডা প্রবাসী। ছোট বোন তৃপ্তি বালা একজন চিকিৎসক, যিনি পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে অবসরে রয়েছেন। এমন উচ্চশিক্ষিত ও প্রগতিশীল পরিবারে বেড়ে ওঠা পান্না বালার চিন্তা-চেতনা ও ব্যক্তিত্ব গঠনে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।

শিক্ষাজীবনেও তিনি ছিলেন মনোযোগী ও মেধাবী। ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। কলেজজীবনেই তাঁর সাংবাদিকতার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। ছাত্রাবস্থাতেই তিনি বুঝতে পারেন, সংবাদপত্র কেবল তথ্য পরিবেশনের মাধ্যম নয়; এটি সমাজ পরিবর্তনেরও শক্তিশালী হাতিয়ার। সেই উপলব্ধি থেকেই ১৯৮২ সালে ফরিদপুর থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ‘আল মুয়াজ্জিন’ পত্রিকার মাধ্যমে সাংবাদিকতা জীবনের সূচনা করেন তিনি। তখন তিনি ইন্টারমিডিয়েটের ছাত্র।

এরপর ধীরে ধীরে সাংবাদিকতার বিভিন্ন স্তর অতিক্রম করতে থাকেন। স্থানীয় দৈনিক গণসংহতি, সাপ্তাহিক প্রগতির দিন, দৈনিক ভোরের রানারসহ বিভিন্ন পত্রিকায় কাজ করেন। মাঠে ঘুরে সংবাদ সংগ্রহ, মানুষের সুখ-দুঃখের গল্প তুলে ধরা, সমাজের অসঙ্গতি নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি—এসবের মধ্য দিয়ে তিনি অর্জন করেন দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। ফরিদপুরের প্রায় সব স্থানীয় পত্রিকাতেই তাঁর লেখা কলাম ও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর লেখার ভাষা ছিল সহজ, প্রাঞ্জল ও বাস্তবমুখী। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, দুর্নীতি, অনিয়ম, উন্নয়ন ও সামাজিক সমস্যাগুলো তিনি অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তুলে ধরতেন।

দীর্ঘ সাংবাদিকতা অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৫ সালে দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর ফরিদপুর প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন পান্না বালা। এটি ছিল তাঁর সাংবাদিকতা জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। জাতীয় দৈনিকে কাজ করার মাধ্যমে তাঁর দায়িত্ব ও পরিধি আরও বেড়ে যায়। মাঠ পর্যায়ের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের কারণে তিনি অল্প সময়েই পাঠক ও সহকর্মীদের আস্থা অর্জন করেন। পরবর্তীতে ২০২২ সালে পেশাগত দক্ষতা ও সততার স্বীকৃতি হিসেবে প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ তাঁকে ‘নিজস্ব প্রতিবেদক’ পদে পদোন্নতি দেয়।

পান্না বালার সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো তাঁর নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব। তিনি কখনো কোনো রাজনৈতিক দল, গোষ্ঠী কিংবা প্রভাবশালী মহলের মুখপাত্র হয়ে সংবাদ পরিবেশন করেননি। পক্ষপাতহীন অবস্থান বজায় রেখে তিনি সব পক্ষের বক্তব্য গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে অন্যায়, দুর্নীতি কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার দেখলে নির্ভীকভাবে সমালোচনাও করেছেন। সত্য প্রকাশের ক্ষেত্রে তিনি কখনো আপস করেননি। অর্থ, প্রভাব কিংবা পেশিশক্তির কাছে মাথানত না করার দৃঢ় মানসিকতা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।

ফরিদপুরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সাংস্কৃতিক কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত সবাই তাঁকে সম্মানের চোখে দেখেন। কারণ তিনি ব্যক্তিগত সম্পর্কের ঊর্ধ্বে উঠে সংবাদকে গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর কাছে সাংবাদিকতা মানে দায়িত্ববোধ, জবাবদিহিতা ও সত্যের প্রতি অঙ্গীকার। তিনি বিশ্বাস করেন, সাংবাদিক যদি সত্যের পথে অবিচল না থাকেন, তাহলে সমাজে গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে যাবে।

তাঁর সহকর্মীরা বলেন, পান্না বালা শুধু একজন সাংবাদিক নন, তিনি নতুন প্রজন্মের জন্য এক অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। তরুণ সাংবাদিকদের প্রতি তাঁর আন্তরিকতা ও সহযোগিতার মনোভাব প্রশংসনীয়। অনেক তরুণ সাংবাদিক তাঁর কাছ থেকে সংবাদ লেখার কৌশল, তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্ব এবং পেশাগত নৈতিকতা সম্পর্কে শিখেছেন। তিনি নিয়মিত নবীনদের পরামর্শ দেন, ভুল ধরিয়ে দেন এবং ভালো কাজের জন্য উৎসাহিত করেন। ফলে ফরিদপুরের সাংবাদিক সমাজে তিনি একজন অভিভাবকসুলভ ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত।

জেলার প্রতিটি উপজেলার সাংবাদিকদের সঙ্গে তাঁর নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। কোনো সাংবাদিক সমস্যায় পড়লে তিনি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। সাংবাদিক সংগঠনের অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা কিংবা পেশাগত যেকোনো আয়োজনে তাঁকে প্রায়ই দেখা যায়। এসব অনুষ্ঠানে তিনি সাংবাদিকতার নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও বর্তমান চ্যালেঞ্জ নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা করেন। বয়স বাড়লেও তাঁর কর্মস্পৃহা ও প্রাণচাঞ্চল্য একটুও কমেনি।

সত্য কথা বলার কারণে জীবনে নানা প্রতিকূলতারও মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও সাহসী সংবাদ প্রকাশের কারণে একাধিকবার প্রভাবশালীদের রোষানলে পড়েছেন। হামলা, হুমকি ও চাপের শিকারও হয়েছেন। কিন্তু কখনো কলম থামিয়ে দেননি। বরং আরও দৃঢ়ভাবে সত্য প্রকাশের কাজ চালিয়ে গেছেন। তাঁর মতে, একজন সাংবাদিকের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো সততা ও সাহস। এই দুটি গুণ হারিয়ে গেলে সাংবাদিকতা কেবল পেশা হয়ে দাঁড়ায়, সমাজের জন্য আর কোনো ভূমিকা রাখতে পারে না।

ব্যক্তিজীবনেও তিনি অত্যন্ত সাদামাটা ও বিনয়ী। বনেদি পরিবারের সন্তান হয়েও কখনো অহংকার তাঁকে স্পর্শ করেনি। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহজভাবে মিশে যাওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে তাঁর। তাঁর সঙ্গে কথা বললে বোঝার উপায় নেই যে তিনি দেশের অন্যতম প্রভাবশালী সংবাদপত্রের একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক। সবসময় হাসিমুখে কথা বলেন, আন্তরিক আচরণ করেন এবং মানুষের কথা মন দিয়ে শোনেন। তবে ভুল তথ্য, মিথ্যাচার কিংবা অন্যায় দেখলে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করেন। এই স্পষ্টবাদী মনোভাবই তাঁকে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।

পান্না বালা মনে করেন, সাংবাদিকতার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত জনগণের পক্ষে কথা বলা। তাঁর ভাষায়, “সত্যকে সত্য আর মিথ্যাকে মিথ্যা বলার সৎ সাহস থাকতে হবে। জনগণের অধিকার, কষ্ট আর বঞ্চনার কথা তুলে ধরতে হবে। ক্ষমতাসীনদের ভুলত্রুটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়াই সাংবাদিকতার দায়িত্ব। কারো পক্ষ নিয়ে তোষামোদ করা সাংবাদিকতা নয়।”

তিনি আরও বিশ্বাস করেন, গণমাধ্যম সমাজের আয়না। সেই আয়নায় যদি বিকৃতি দেখা যায়, তাহলে পুরো সমাজই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই সাংবাদিকদের সততা, নিরপেক্ষতা ও দায়বদ্ধতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমান সময়ে অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারে তথ্যের গতি যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে গুজব ও অপতথ্যের ঝুঁকিও। এ পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার গুরুত্ব আরও বেড়েছে বলে মনে করেন তিনি।

দীর্ঘ চার দশকের সাংবাদিকতা জীবনে পান্না বালা শুধু সংবাদ পরিবেশন করেননি; তিনি সমাজকে দেখেছেন খুব কাছ থেকে। মানুষের কান্না, বেদনা, সংগ্রাম, স্বপ্ন ও প্রত্যাশার গল্প তিনি তুলে ধরেছেন নিষ্ঠার সঙ্গে। তাঁর সংবাদে যেমন ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, তেমনি ছিল মানবিকতার স্পর্শ। এ কারণেই তিনি পাঠকের কাছে বিশ্বাসযোগ্য এবং সহকর্মীদের কাছে অনুপ্রেরণার নাম।

ফরিদপুরের সাংবাদিকতা অঙ্গনে তাঁর অবদান নিঃসন্দেহে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। নতুন প্রজন্ম যখন সাংবাদিকতার নৈতিকতা ও আদর্শ নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হয়, তখন পান্না বালার মতো ব্যক্তিত্বরা পথ দেখান। তিনি প্রমাণ করেছেন, সততা ও পেশাদারিত্ব ধরে রেখেও দীর্ঘদিন সম্মানের সঙ্গে সাংবাদিকতা করা সম্ভব।

সময়ের পরিক্রমায় প্রযুক্তি বদলেছে, সংবাদ পরিবেশনের ধরন বদলেছে, কিন্তু বদলায়নি পান্না বালার আদর্শ। এখনও তিনি একই নিষ্ঠা, সততা ও সাহস নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। সংবাদপত্রের পাতা, ল্যাপটপের কিবোর্ড আর মাঠের বাস্তব অভিজ্ঞতা যেন তাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে। সাংবাদিকতা তাঁর কাছে শুধু পেশা নয়, এটি এক ধরনের দায়বদ্ধতা, এক ধরনের জীবনদর্শন।

ফরিদপুরের মানুষ তাই তাঁকে শুধু একজন সাংবাদিক হিসেবে নয়, একজন সৎ, সাহসী ও মানবিক মানুষ হিসেবেও মূল্যায়ন করেন। তাঁর মতো সাংবাদিকরা থাকেন বলেই গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা এখনো পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবিচল থাকা এই মানুষটির জীবন ও কর্ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য দীর্ঘদিন অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

লেখক: হারুন-অর-রশীদ, সংবাদকর্মী, ফরিদপুর

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও আ’লীগ নেতা ফারুক গ্রেপ্তার

এন কে বি নয়ন, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ৬:০৯ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও আ’লীগ নেতা ফারুক গ্রেপ্তার

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক এস এম ফারুক হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১২ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে উপজেলার ভীমপুর বাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি একই উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়নের পূবিলা গ্রামের মঈনুদ্দিনের ছেলে। তিনি দুই বারের ইউপি চেয়ারম্যান ছিলেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এস এম ফারুক হোসেনের নামে পাঁচটি মামলা রয়েছে। তিনি একাধিক মামলার আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে তাকে ফরিদপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

আপনার অতিরিক্ত ক্লান্তির প্রধান যে ১২ কারণ?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৪৭ পূর্বাহ্ণ
আপনার অতিরিক্ত ক্লান্তির প্রধান যে ১২ কারণ?

আপনার প্রতিদিনের ক্লান্তি কেবল কাজের চাপ নয়, বরং এর পেছনে থাকতে পারে গভীর কোনো কারণ। বিশ্ববিখ্যাত স্বাস্থ্যবিষয়ক পোর্টাল হেলথলাইন-এর এক প্রতিবেদনে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি বা অবসাদ অনেক সময় জীবনযাত্রার ভুল অভ্যাস কিংবা শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা কোনো রোগের লক্ষণ হতে পারে।

নিচে আপনার অতিরিক্ত ক্লান্তির ১২টি প্রধান কারণ ও প্রতিকার তুলে ধরা হলো:

১. পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুমের অভাব: ঘুমের সময় শরীর তার প্রয়োজনীয় মেরামত কাজ এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমোন নিঃসরণ করে। কেবল কয়েক ঘণ্টা ঘুমানো যথেষ্ট নয়, ঘুমের মান ভালো হওয়া জরুরি। ঘুমের অভাব সরাসরি শরীরকে অবসাদগ্রস্ত করে তোলে।

২. পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি: অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যায় ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানোর পরও ক্লান্তি যাচ্ছে না। এর কারণ হতে পারে আয়রন, ভিটামিন বি২ (রিবোফ্লাভিন), নিয়াসিন বা ভিটামিন বি১২-এর অভাব। সুষম খাবার গ্রহণের মাধ্যমে এই ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব।

৩. দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ: অতিরিক্ত মানসিক চাপ শরীর ও মনকে নিস্তেজ করে দেয়। দীর্ঘদিনের স্ট্রেস থেকে ‘এক্সহশন ডিসঅর্ডার’ বা অবসাদজনিত সমস্যা তৈরি হতে পারে।

৪. অপ্রকাশিত শারীরিক সমস্যা: যদি কোনো কারণ ছাড়াই সবসময় ক্লান্ত লাগে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। থাইরয়েড সমস্যা (হাইপোথাইরয়েডিজম), ডায়াবেটিস, স্লিপ অ্যাপনিয়া বা ডিপ্রেশন ক্লান্তির বড় কারণ হতে পারে।

৫. ভারসাম্যহীন খাদ্যাভ্যাস: শরীরের শক্তি বজায় রাখতে পুষ্টিকর খাবারের কোনো বিকল্প নেই। অতিরিক্ত প্রসেসড ফুড বা চিনিযুক্ত খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা ওঠানামা করিয়ে আপনাকে দ্রুত ক্লান্ত করে ফেলে।

৬. অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ: কফি বা এনার্জি ড্রিংক সাময়িকভাবে চাঙা ভাব দিলেও এর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা উল্টো ফল দেয়। বেশি ক্যাফেইন ঘুমের সাইকেল নষ্ট করে দেয়, যা পরের দিন আপনাকে আরও বেশি ক্লান্ত করে তোলে।

৭. পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন: শরীরের প্রতিটি জৈবিক প্রক্রিয়ার জন্য পানি অপরিহার্য। পর্যাপ্ত পানি পান না করলে শরীরের শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং অবসাদ দেখা দেয়।

৮. অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা: শরীরের বাড়তি ওজন হৃদরোগ বা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ানোর পাশাপাশি শরীরকে দ্রুত ক্লান্ত করে ফেলে। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখলে কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

৯. মাদক ও অ্যালকোহলের প্রভাব: যারা নিয়মিত অ্যালকোহল বা মাদকাসক্ত, তাদের শরীরে দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি এবং অবসাদ বাসা বাঁধে।

১০. শিফট ডিউটি ও অনিয়মিত রুটিন: কাজের প্রয়োজনে যাদের নিয়মিত শিফট পরিবর্তন করতে হয়, তাদের ঘুমের স্বাভাবিক চক্র বা ‘সার্কাডিয়ান রিদম’ ব্যাহত হয়। এটি দীর্ঘমেয়াদী ক্লান্তির অন্যতম কারণ।

১১. অলস জীবনযাপন: সারাদিন বসে থাকা বা শারীরিক পরিশ্রম না করা শরীরকে আরও দুর্বল করে দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত হালকা ব্যায়াম বা শারীরিক কার্যকলাপ শরীরের শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।

১২. ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: রক্তচাপের ওষুধ, স্টেরয়েড বা অ্যান্টি-ডিপ্রেসেন্টের মতো কিছু ওষুধের প্রভাবেও শরীর সবসময় ক্লান্ত থাকতে পারে।

পরিত্রাণের উপায়

বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্লান্তি দূর করতে প্রথমে আপনার ঘুমের পরিবেশ উন্নত করুন এবং জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনুন। তবে যদি জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনার পরও ক্লান্তি না কমে, তবে দেরি না করে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। মনে রাখবেন, আপনার শরীর আপনার চেয়ে ভালো আর কেউ বোঝে না; তাই অস্বাভাবিক ক্লান্তিকে অবহেলা করবেন না।

তথ্যসূত্র: হেলথ লাইন

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৪৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ১১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও নগদ ৩০ হাজার টাকাসহ বাশার মিয়া ওরফে চোরা বাশার (৫৫) নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে ফরিদপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুর ১২ টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলার পূর্ব বাকপুরা গ্রামে ফরিদপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি চৌকস দল এ অভিযান পরিচালনা করেন। গ্রেপ্তার বাশার মিয়া পূর্ব বাকপুরা গ্রামের শাহজাহান মিয়ার ছেলে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, অভিযানকালে বাশারের পরিহিত লুঙ্গির সামনের ডান দিকে গোজা একটি টিস্যু ব্যাগের ভেতর থেকে জীপারযুক্ত নীল রঙের পলিপ্যাকেটে রাখা কমলা বর্ণের মেথামফেটামিন (ইয়াবা) ১১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার মোট ওজন ১১ গ্রাম। এ সময় মাদক বিক্রির ৩০ হাজার টাকা নগদ উদ্ধার করা হয়।

ফরিদপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শিরীন আক্তার বলেন, এ ঘটনায় ফরিদপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক বেলায়েত হোসেন বাদী হয়ে বাশার মিয়ার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ (সংশোধিত) অনুযায়ী ভাঙ্গা থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন ও আসামীকে কোর্ট হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের এই কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।