খুঁজুন
শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ২৬ বৈশাখ, ১৪৩৩

সাংবাদিকতার চার দশক : পান্না বালার সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ
সাংবাদিকতার চার দশক : পান্না বালার সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প

ফরিদপুরের সাংবাদিকতা অঙ্গনে যে কজন মানুষ সততা, পেশাদারিত্ব ও ব্যক্তিত্বের দৃঢ়তায় আলাদা মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছেন, তাদের অন্যতম প্রবীর কান্তি বালা—যাকে সবাই বেশি চেনেন পান্না বালা নামে। কয়েক দশকের নিরলস সাংবাদিকতা জীবনে তিনি কেবল একজন সংবাদকর্মী হিসেবেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেননি, বরং হয়ে উঠেছেন সাংবাদিকতার এক জীবন্ত প্রতিষ্ঠান। সত্যের প্রতি দায়বদ্ধতা, নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন, সাহসী অবস্থান এবং মানবিক ব্যক্তিত্বের কারণে তিনি ফরিদপুরের সাংবাদিক সমাজে অত্যন্ত সম্মানিত এক নাম।

১৯৬৪ সালের ৮ জানুয়ারি এক বনেদি ও শিক্ষিত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন পান্না বালা। তাঁর বাবা গৌর চন্দ্র বালা ছিলেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, সাবেক যুক্তফ্রন্ট সরকারের বন ও খাদ্যমন্ত্রী এবং বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম রচয়িতা। সমাজ ও রাজনীতিতে তাঁর অবদান আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। অন্যদিকে মা অঞ্জলী বালা একজন সমাজসেবী ও শিশু সংগঠক। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী শিশু সংগঠন ‘ফুলকি’র সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে ছোটবেলা থেকেই পান্না বালা বেড়ে উঠেছেন সংস্কৃতি, শিক্ষা, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক মূল্যবোধের পরিবেশে।

পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ। তাঁদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ও সফল। বড় ভাই বিপ্লব বালা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক। সংস্কৃতি ও নাট্যাঙ্গনে তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। দ্বিতীয় ভাই প্রণব বালা পেশায় চিকিৎসক এবং বর্তমানে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। তৃতীয় বোন তন্দ্রা বালা অর্থনীতিতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পর বর্তমানে কানাডা প্রবাসী। ছোট বোন দিপ্তী বালা একজন চিকিৎসক, যিনি পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে অবসরে রয়েছেন। এমন উচ্চশিক্ষিত ও প্রগতিশীল পরিবারে বেড়ে ওঠা পান্না বালার চিন্তা-চেতনা ও ব্যক্তিত্ব গঠনে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।

শিক্ষাজীবনেও তিনি ছিলেন মনোযোগী ও মেধাবী। ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। কলেজজীবনেই তাঁর সাংবাদিকতার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। ছাত্রাবস্থাতেই তিনি বুঝতে পারেন, সংবাদপত্র কেবল তথ্য পরিবেশনের মাধ্যম নয়; এটি সমাজ পরিবর্তনেরও শক্তিশালী হাতিয়ার। সেই উপলব্ধি থেকেই ১৯৮২ সালে ফরিদপুর থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ‘আল মুয়াজ্জিন’ পত্রিকার মাধ্যমে সাংবাদিকতা জীবনের সূচনা করেন তিনি। তখন তিনি ইন্টারমিডিয়েটের ছাত্র।

এরপর ধীরে ধীরে সাংবাদিকতার বিভিন্ন স্তর অতিক্রম করতে থাকেন। স্থানীয় দৈনিক গণসংহতি, সাপ্তাহিক প্রগতির দিন, দৈনিক ভোরের রানারসহ বিভিন্ন পত্রিকায় কাজ করেন। মাঠে ঘুরে সংবাদ সংগ্রহ, মানুষের সুখ-দুঃখের গল্প তুলে ধরা, সমাজের অসঙ্গতি নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি—এসবের মধ্য দিয়ে তিনি অর্জন করেন দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। ফরিদপুরের প্রায় সব স্থানীয় পত্রিকাতেই তাঁর লেখা কলাম ও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর লেখার ভাষা ছিল সহজ, প্রাঞ্জল ও বাস্তবমুখী। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, দুর্নীতি, অনিয়ম, উন্নয়ন ও সামাজিক সমস্যাগুলো তিনি অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তুলে ধরতেন।

দীর্ঘ সাংবাদিকতা অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৫ সালে দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর ফরিদপুর প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন পান্না বালা। এটি ছিল তাঁর সাংবাদিকতা জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। জাতীয় দৈনিকে কাজ করার মাধ্যমে তাঁর দায়িত্ব ও পরিধি আরও বেড়ে যায়। মাঠ পর্যায়ের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের কারণে তিনি অল্প সময়েই পাঠক ও সহকর্মীদের আস্থা অর্জন করেন। পরবর্তীতে ২০২২ সালে পেশাগত দক্ষতা ও সততার স্বীকৃতি হিসেবে প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ তাঁকে ‘নিজস্ব প্রতিবেদক’ পদে পদোন্নতি দেয়।

পান্না বালার সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো তাঁর নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব। তিনি কখনো কোনো রাজনৈতিক দল, গোষ্ঠী কিংবা প্রভাবশালী মহলের মুখপাত্র হয়ে সংবাদ পরিবেশন করেননি। পক্ষপাতহীন অবস্থান বজায় রেখে তিনি সব পক্ষের বক্তব্য গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে অন্যায়, দুর্নীতি কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার দেখলে নির্ভীকভাবে সমালোচনাও করেছেন। সত্য প্রকাশের ক্ষেত্রে তিনি কখনো আপস করেননি। অর্থ, প্রভাব কিংবা পেশিশক্তির কাছে মাথানত না করার দৃঢ় মানসিকতা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।

ফরিদপুরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সাংস্কৃতিক কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত সবাই তাঁকে সম্মানের চোখে দেখেন। কারণ তিনি ব্যক্তিগত সম্পর্কের ঊর্ধ্বে উঠে সংবাদকে গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর কাছে সাংবাদিকতা মানে দায়িত্ববোধ, জবাবদিহিতা ও সত্যের প্রতি অঙ্গীকার। তিনি বিশ্বাস করেন, সাংবাদিক যদি সত্যের পথে অবিচল না থাকেন, তাহলে সমাজে গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে যাবে।

তাঁর সহকর্মীরা বলেন, পান্না বালা শুধু একজন সাংবাদিক নন, তিনি নতুন প্রজন্মের জন্য এক অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। তরুণ সাংবাদিকদের প্রতি তাঁর আন্তরিকতা ও সহযোগিতার মনোভাব প্রশংসনীয়। অনেক তরুণ সাংবাদিক তাঁর কাছ থেকে সংবাদ লেখার কৌশল, তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্ব এবং পেশাগত নৈতিকতা সম্পর্কে শিখেছেন। তিনি নিয়মিত নবীনদের পরামর্শ দেন, ভুল ধরিয়ে দেন এবং ভালো কাজের জন্য উৎসাহিত করেন। ফলে ফরিদপুরের সাংবাদিক সমাজে তিনি একজন অভিভাবকসুলভ ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত।

জেলার প্রতিটি উপজেলার সাংবাদিকদের সঙ্গে তাঁর নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। কোনো সাংবাদিক সমস্যায় পড়লে তিনি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। সাংবাদিক সংগঠনের অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা কিংবা পেশাগত যেকোনো আয়োজনে তাঁকে প্রায়ই দেখা যায়। এসব অনুষ্ঠানে তিনি সাংবাদিকতার নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও বর্তমান চ্যালেঞ্জ নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা করেন। বয়স বাড়লেও তাঁর কর্মস্পৃহা ও প্রাণচাঞ্চল্য একটুও কমেনি।

সত্য কথা বলার কারণে জীবনে নানা প্রতিকূলতারও মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও সাহসী সংবাদ প্রকাশের কারণে একাধিকবার প্রভাবশালীদের রোষানলে পড়েছেন। হামলা, হুমকি ও চাপের শিকারও হয়েছেন। কিন্তু কখনো কলম থামিয়ে দেননি। বরং আরও দৃঢ়ভাবে সত্য প্রকাশের কাজ চালিয়ে গেছেন। তাঁর মতে, একজন সাংবাদিকের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো সততা ও সাহস। এই দুটি গুণ হারিয়ে গেলে সাংবাদিকতা কেবল পেশা হয়ে দাঁড়ায়, সমাজের জন্য আর কোনো ভূমিকা রাখতে পারে না।

ব্যক্তিজীবনেও তিনি অত্যন্ত সাদামাটা ও বিনয়ী। বনেদি পরিবারের সন্তান হয়েও কখনো অহংকার তাঁকে স্পর্শ করেনি। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহজভাবে মিশে যাওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে তাঁর। তাঁর সঙ্গে কথা বললে বোঝার উপায় নেই যে তিনি দেশের অন্যতম প্রভাবশালী সংবাদপত্রের একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক। সবসময় হাসিমুখে কথা বলেন, আন্তরিক আচরণ করেন এবং মানুষের কথা মন দিয়ে শোনেন। তবে ভুল তথ্য, মিথ্যাচার কিংবা অন্যায় দেখলে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করেন। এই স্পষ্টবাদী মনোভাবই তাঁকে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।

পান্না বালা মনে করেন, সাংবাদিকতার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত জনগণের পক্ষে কথা বলা। তাঁর ভাষায়, “সত্যকে সত্য আর মিথ্যাকে মিথ্যা বলার সৎ সাহস থাকতে হবে। জনগণের অধিকার, কষ্ট আর বঞ্চনার কথা তুলে ধরতে হবে। ক্ষমতাসীনদের ভুলত্রুটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়াই সাংবাদিকতার দায়িত্ব। কারো পক্ষ নিয়ে তোষামোদ করা সাংবাদিকতা নয়।”

তিনি আরও বিশ্বাস করেন, গণমাধ্যম সমাজের আয়না। সেই আয়নায় যদি বিকৃতি দেখা যায়, তাহলে পুরো সমাজই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই সাংবাদিকদের সততা, নিরপেক্ষতা ও দায়বদ্ধতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমান সময়ে অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারে তথ্যের গতি যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে গুজব ও অপতথ্যের ঝুঁকিও। এ পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার গুরুত্ব আরও বেড়েছে বলে মনে করেন তিনি।

দীর্ঘ চার দশকের সাংবাদিকতা জীবনে পান্না বালা শুধু সংবাদ পরিবেশন করেননি; তিনি সমাজকে দেখেছেন খুব কাছ থেকে। মানুষের কান্না, বেদনা, সংগ্রাম, স্বপ্ন ও প্রত্যাশার গল্প তিনি তুলে ধরেছেন নিষ্ঠার সঙ্গে। তাঁর সংবাদে যেমন ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, তেমনি ছিল মানবিকতার স্পর্শ। এ কারণেই তিনি পাঠকের কাছে বিশ্বাসযোগ্য এবং সহকর্মীদের কাছে অনুপ্রেরণার নাম।

ফরিদপুরের সাংবাদিকতা অঙ্গনে তাঁর অবদান নিঃসন্দেহে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। নতুন প্রজন্ম যখন সাংবাদিকতার নৈতিকতা ও আদর্শ নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হয়, তখন পান্না বালার মতো ব্যক্তিত্বরা পথ দেখান। তিনি প্রমাণ করেছেন, সততা ও পেশাদারিত্ব ধরে রেখেও দীর্ঘদিন সম্মানের সঙ্গে সাংবাদিকতা করা সম্ভব।

সময়ের পরিক্রমায় প্রযুক্তি বদলেছে, সংবাদ পরিবেশনের ধরন বদলেছে, কিন্তু বদলায়নি পান্না বালার আদর্শ। এখনও তিনি একই নিষ্ঠা, সততা ও সাহস নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। সংবাদপত্রের পাতা, ল্যাপটপের কিবোর্ড আর মাঠের বাস্তব অভিজ্ঞতা যেন তাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে। সাংবাদিকতা তাঁর কাছে শুধু পেশা নয়, এটি এক ধরনের দায়বদ্ধতা, এক ধরনের জীবনদর্শন।

ফরিদপুরের মানুষ তাই তাঁকে শুধু একজন সাংবাদিক হিসেবে নয়, একজন সৎ, সাহসী ও মানবিক মানুষ হিসেবেও মূল্যায়ন করেন। তাঁর মতো সাংবাদিকরা থাকেন বলেই গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা এখনো পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবিচল থাকা এই মানুষটির জীবন ও কর্ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য দীর্ঘদিন অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

লেখক: হারুন-অর-রশীদ, সংবাদকর্মী, ফরিদপুর

ত্বকের জেল্লা বাড়তে যা খাবেন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ৮:৫০ পূর্বাহ্ণ
ত্বকের জেল্লা বাড়তে যা খাবেন?

ত্বকের জেল্লা ফিরিয়ে দেবে পানীয়! শুনে অবাক হওয়ার কথাই। ত্বক ভালো রাখতে, রোদ থেকে বাঁচাতে এত দিন সানস্ক্রিনের সুরক্ষাবর্মের কথা শুনেছেন, ত্বকের উজ্জ্বলতা ফেরাতে রকমারি রূপটানও রয়েছে।

কিন্তু তাই বলে পানীয় বদলে দেবে ত্বক! এমনটা কিন্তু হতেই পারে। তবে এজন্য তিতকুটে, স্বাদহীন কোনো পানীয় নয়, চুমুক দিতে হবে ঠান্ডা সুস্বাদু সবুজ পানীয়ে।

যার এক চুমুকে শরীর ও মন জুড়িয়ে যাবে। বাড়তি পাওনা ত্বকের সৌন্দর্য। তা হলে বরং খোলসা করা যাক। ত্বক ও চুলের সৌন্দর্য কিন্তু শুধু বাইরের রূপটানে ফেরে না।

এজন্য পেটও ভালো থাকা দরকার। হজমে সমস্যা, লিভারের গোলযোগ হলে তার প্রভাব পড়ে চোখেমুখে। কয়েক দিন পেট পরিষ্কার না হলে মুখে ব্রণ বের হয় অনেকেরই। লিভার ঠিক ভাবে কাজ না করলে মুখে ফুটে ওঠে কালচে ভাব। তার ওপর শরীরে পানির অভাব দেখা দিলে ত্বক রুক্ষ হয়ে যায়।

সেই সবুজ পানীয়ে এমন কী আছে?

শরীর আর্দ্র রাখতে ও সুস্থ রাখতে লেবু ও পুদিনা দিয়ে বানিয়ে ফেলুন শরবত। সবুজ রঙের এই শরবত নিয়মিত পান করলে রুক্ষ ত্বকেও আসবে প্রাণ।

কেন?

পুদিনার হরেক গুণ। হজমে সহায়ক। এর মধ্যে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা শরীর ঠান্ডা করে। প্রদাহজনিত কষ্ট কমায়। এতে আছে স্যালিসিলিক অ্যাসিড। ব্রণ বা পেট ভালো না থাকার জন্য কালচে ছোপ, পুদিনা নিয়মিত খেলে অনেক সমস্যারই সমাধান হতে পারে। পুদিনা দিয়ে গরমের দিনে মুখের মাস্কও তৈরি করা যায়।

লেবুর গুণও কম নয়। এতে থাকে ভিটামিন সি। রোগ প্রতিরোধে যা বিশেষ সহায়ক। এতে থাকে অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট। যা ত্বক ভালো রাখতে সাহায্য করে।

মধুও ব্যবহার করা হয় এই পানীয়। এতেও আছে অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট। যা ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে জরুরি। মধু ছাড়াও আরও যে সব উপাদান এতে ব্যবহার হয়, তার সব ক’টিই শরীরের জন্য উপকারী।

যেভাবে বানাবেন সবুজ পানীয়?

পুদিনা পাতা, লেবুর রস, বিট লবণ, মধু ও মৌরি বেল্ডার মেশিনে দিয়ে ব্লেন্ড করে নিন। কাচের গ্লাসে ঢেলে মিশিয়ে দিন কয়েক টুকরো বরফ। এখানেই শেষ নয়, পাতলা করে কাটা শসার টুকরো ও তুলসীর বীজ দিয়ে দিন। সবুজ এই পানীয় নিয়মিত পান করলে শরীর ভালো থাকবে। হজমশক্তি বাড়বে। বদল আসবে ত্বকেও। রুক্ষ, জেল্লাহীন ত্বক হয়ে উঠবে সজীব।

আবারও ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে শাকিরা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ৮:৪৩ পূর্বাহ্ণ
আবারও ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে শাকিরা

দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে আবারও ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরছেন ল্যাটিন পপ সম্রাজ্ঞী শাকিরা। আসন্ন ২০২৬ উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল থিম সং ‘দাই দাই’-এর টিজার প্রকাশ করে বিশ্বজুড়ে ভক্তদের চমকে দিয়েছেন শাকিরা। শাকিরার এবারের গানে তার সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন নাইজেরিয়ান মিউজিক সেনসেশন বার্না বয়।

সম্প্রতি ব্রাজিলের ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে ধারণ করা একটি টিজার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন শাকিরা। ভিডিওতে দেখা যায়, এবারের বিশ্বকাপের আয়োজক তিন দেশ মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার জাতীয় পতাকার রঙে সেজেছেন একদল নৃত্যশিল্পী।

তবে ভক্তদের সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করেছে ২০০৬, ২০১০ এবং ২০১৪ বিশ্বকাপের অফিসিয়াল ম্যাচ বলগুলোর উপস্থিতি, যা মূলত এই তিন আসরে শাকিরার কালজয়ী গানগুলোর স্মৃতিকে সম্মান জানাতেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এবারের ‘দাই দাই’ ট্র্যাকে ল্যাটিন পপের সঙ্গে আফ্রো-বিটের এক অনন্য ফিউশন দেখা যাবে বলে জানা গেছে।

শাকিরার জাদুকরী কণ্ঠ আর হিপস ডোন্ট লাইয়ের সেই চিরচেনা ছন্দ এবার বার্না বয়ের সুরের সঙ্গে মিশে নতুন এক উন্মাদনা তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগামী ১৪ মে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি পাবে পূর্ণাঙ্গ এই থিম সং। এর পর থেকেই ফুটবল উন্মাদনা নতুন মাত্রা পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে শাকিরা এক অবিচ্ছেদ্য নাম। ২০০৬ সালে জার্মানিতে ‘হিপস ডোন্ট লাই’, ২০১০-এ দক্ষিণ আফ্রিকায় কালজয়ী ‘ওয়াকা ওয়াকা’ এবং ২০১৪ সালে ব্রাজিলে ‘লা লা লা’ গেয়ে পুরো বিশ্বকে বুদ করে রেখেছিলেন তিনি। মাঝখানে বিরতি দিয়ে আবারও তার ফেরা ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে বাড়তি উদ্দীপনা যোগ করেছে।

আগামী ১১ জুন থেকে উত্তর আমেরিকায় শুরু হতে যাচ্ছে ফুটবলের এই মহাযজ্ঞ, যা চলবে ১৯ জুলাই পর্যন্ত। ৪৮টি দলের এই লড়াকু আসরের আগে শাকিরার এ গানটিকেই ধরা হচ্ছে বিশ্বকাপের মূল কাউন্টডাউন।

ভাইরালে আক্রান্ত লোভী সমাজ, প্রতিরোধের উপায় কী?

ইলিয়াস হোসেন
প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ৮:৩২ পূর্বাহ্ণ
ভাইরালে আক্রান্ত লোভী সমাজ, প্রতিরোধের উপায় কী?

উগ্র শাসক আর অপশক্তির উত্থানে বিশ্বজুড়ে দিন দিন গণমাধ্যমের ঝুঁকি বাড়ছে। যুদ্ধবাজ নেতা, সুযোগসন্ধানী বণিক শ্রেণি ও অপরাধ সংগঠনের হোতাদের নিষ্ঠুর টার্গেট হচ্ছেন সংবাদকর্মীরা। প্যাশন থেকে যুক্ত হওয়া অনিশ্চিত এ পেশায় টিকে থাকা সবসময়ই চ্যালেঞ্জের।

তথ্যপ্রযুক্তির অভূতপূর্ব উন্নতিতে মাধ্যমটি সহজলভ্য হওয়ায় দিন দিন আরও কঠিনের মুখোমুখি হচ্ছে মূলধারার গণমাধ্যম। একসময় দেশের জনপ্রিয় কয়েকটি গণমাধ্যম সভ্য দেশের অনুকরণে বাংলাদেশে ‘সিটিজেন জার্নালিজম’ বা ‘নাগরিক সাংবাদিকতা’ আমদানি করে। সেই উৎসাহ আর সহজলভ্য তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহারে এখন ঘরে ঘরে সাংবাদিক আর হাতে হাতে গণমাধ্যম ঘুরছে।

এদের দৌরাত্ম্যে সাংবাদিককে ‘সাংঘাতিক’ আর গণমাধ্যমকে ‘ঘনমাধ্যম’ বলে ভয় পাচ্ছে ভুক্তভোগীরা। রাজনীতি, রাজনীতিবিদ ও দেশ-জনতার সংকট নিয়ে মনগড়া গল্প ফেঁদে সাংবাদিকতার নামে ডলারে অখাদ্য বিক্রি করছে।

‘অমুককে বোনের স্বীকৃতি দিলেন তমুক’, ‘মানবতার ফেরিওয়ালার একি হাল’, ‘প্রয়াত মন্ত্রীর গোপন প্রেমিকার সন্ধান’ ‘তার সঙ্গে চিপা গলিতে হাঁটলেন তিনি’—এরকম হাজারো বেখবর ঘুরছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সাংবাদিকতার নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জনপ্রিয় ফেসবুককে ‘চটি বই’ বানিয়ে ফেলছে ভিউ শিকারিরা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে অসামাজিক করে তোলায় ভদ্রলোকদের বিব্রত হতে হচ্ছে। ইচ্ছা না থাকলেও সাধারণ মানুষ দেখতে বাধ্য হচ্ছে লগ্নি করা রিলস। নিজ নিজ ইউটিউব চ্যানেল বা ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রতিনিয়ত বিতর্কিত আইটেম তুলছে অতর্কিত ডলার আসার লোভে। অধুনা ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ নামের এ লোকগুলো বেশিরভাগই অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত, বেপরোয়া ও আনস্মার্ট। ভুল বানান, অশুদ্ধ উচ্চারণ, আপত্তিকর ছবিতে সয়লাব তাদের পরিবেশনা।

ডলারের লোভে স্বামী-স্ত্রী-সন্তান নিয়েও অনেকে নেমেছ এ প্ল্যাটফর্মে। কুকুর-বেড়ালের প্রতি মায়া দেখানো থেকে পিতা-মাতার বিরুদ্ধে নিষ্ঠুরতার নাটকও করে তারা। এমনকি বৃদ্ধা শাশুড়ির একাশিতম জন্মদিন উদযাপনের নামে একসিরা রোগী শ্বশুরকে নিয়ে ‘কাটা লাগা’ গানের সঙ্গে উদ্দাম নৃত্য করে কনটেন্ট ক্রিয়েটর পুত্রবধূ।

এসব নিয়ন্ত্রণের কথা বললে তারা মূলধারার গণমাধ্যমের ভুল ধরে। সরকারের তোষামোদ, রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি ও মালিকদের স্বার্থসিদ্ধির অভিযোগে জাতীয় গণমাধ্যমগুলোও প্রশ্নবিদ্ধ। প্রথম শ্রেণির টিভি টকশোতে জ্ঞানগর্ভ, মার্জিত আলোচনায় ভিউ হচ্ছে না। ঘাড়ের রগ ফুলিয়ে অসংযত ভাষায় কিলিয়ে দিতে পারলে শো ভাইরাল হয়। তাতে ডলার আসে। কাজেই ঘোমটার আড়ালে ক্ষ্যামটা নাচে নাম লেখাচ্ছে প্রায় সবাই। জনরুচি তৈরির ঝুঁকি না নিয়ে গণস্রোতে গা ভাসাচ্ছে।

ভাইরাস থেকে ভাইরাল শব্দটি এসেছে। উইকিপিডিয়া বলছে, ভাইরাল (Viral) বলতে সাধারণত এমন সংক্রমণ বা তথ্যকে বোঝায়, যা খুব দ্রুত এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তি বা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। এটি কোনো ভাইরাসজনিত রোগ

(যেমন—ফ্লু, কভিড-১৯) বা ইন্টারনেটে জনপ্রিয় হওয়া কোনো কনটেন্ট (ভিডিও, পোস্ট) হতে পারে। ভাইরাল রোগ সাধারণত হাঁচি-কাশি, সরাসরি স্পর্শ, বা দূষিত খাবার বা পানির মাধ্যমে ছড়ায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো ভিডিও, ছবি বা পোস্ট যখন অল্প সময়ে প্রচুর মানুষ শেয়ার করে এবং মুহূর্তের মধ্যে তা হাজারো-লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, তখন তাকে ভাইরাল বলা হয়।

ভাইরাল রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধে নিয়মিত সাবানপানি দিয়ে হাত ধোয়া, হাঁচি-কাশি দেওয়ার সময় মুখ ঢেকে রাখা, অসুস্থ ব্যক্তি থেকে দূরত্ব বজায় রাখা ও জনাকীর্ণ স্থানে মাস্ক ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভাইরাল রোগের ঠিক উল্টো হচ্ছে ভাইরাল ভোগ। রোগে যা বর্জনীয়, ভোগে তাই অর্জনীয়।

সম্প্রতি এক কর্মশালায় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ‘আজকের তরুণ প্রজন্ম; এমনকি যারা ইউনিফর্ম পরে, তারাও তাদের শিক্ষক কিংবা মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে যে কোনো ধরনের অশালীন মন্তব্য করতে দ্বিধা করে না।’ সেইসঙ্গে শিক্ষার্থীরা ভাইরাল হতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। সত্য প্রকাশের বদলে একটি চক্র সোশ্যাল মিডিয়াকে তাদের চাঁদাবাজি, মানুষের চরিত্রহনন, মিথ্যাচার, হিংস্রতা প্রচারের বড় কেন্দ্রে পরিণত করছে।

মিথ্যা ও ভিত্তিহীন গুজব ছড়িয়ে কেউ কেউ রাষ্ট্র ও সরকারকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে। অনেকটাই যেন প্যারালাল সরকার হয়ে উঠছে এরা! যখন যাকে খুশি অপরাধী বানিয়ে দিচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণের আগেই তাদের গ্রেপ্তার করতে বাধ্য করা হচ্ছে। বিচারকও ‘ভিউ ব্যবসায়ীদের’ কুৎসিত নোংরা আক্রমণের ভয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিতে হিমশিম খাচ্ছেন। সরকারের ভালো কাজও ট্রল করা হচ্ছে।

এই গুজব ভাইরাল বাহিনী যেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। আইন ও বিচারের ঊর্ধ্বে! আরও ভয়ের ব্যাপার হচ্ছে, মানুষ বুঝে না বুঝে ভুয়া ফটোকার্ডসহ নানা রকম গুজব শেয়ার করে দিচ্ছে। এতে করে সাধারণ মানুষ নিজের অজান্তেই ভাইরাল বাহিনীর রাজনীতি ও বাণিজ্যে সহযোগিতা করছে। ‘শেষে মজা আছে’, ‘চোখের পানি ধরে রাখতে পারবেন না’, ‘জীবনে এমন দৃশ্য দেখিনি’—এ রকম চটকদার ও ইঙ্গিতপূর্ণ ক্যাপশন দিয়ে মানুষকে প্রতিনিয়ত বিভ্রান্ত করছে।

বাংলাদেশে এটা এখন নিয়ন্ত্রণহীন মহামারির আকার ধারণ করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য সন্ত্রাস প্রতিরোধ করতে হলে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশ্বব্যাপী এ অপতথ্য বন্ধে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তাদের দায়িত্বজ্ঞানহীন বেপরোয়া কাজকর্মের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হচ্ছে। ইউটিউব দাবি করে, তাদের সাইটে কোনো আপত্তিকর কনটেন্ট তারা থাকতে দেয় না।

কিন্তু বাংলাদেশের মতো দেশগুলোয় ফেসবুক বা ইউটিউবের এ নজরদারি অনেক কম। এ রকম হাজারো কনটেন্ট আছে, যেগুলো হিংসাত্মক, ভুয়া। তবু ফেসবুক বা ইউটিউব সেগুলো বন্ধ করেনি। কোম্পানিগুলোকে বিচারের আওতায় আনার জন্য অনেক দেশ এখন আইন করেছে। সম্প্রতি ব্রিটিশ সরকার নিয়ম ভঙ্গকারী সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের জরিমানা থেকে শুরু করে তাদের সেবা পুরোপুরি বন্ধ বা ব্লক করে দেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে।

জার্মানিতে ২০১৮ সালের শুরু থেকে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যাপারে এক নতুন আইন কার্যকর হয়। যেসব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের ২০ লাখের বেশি ব্যবহারকারী আছে, তারা সবাই এ আইনের আওতায় পড়বে। কোনো কনটেন্ট সম্পর্কে অভিযোগ আসার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা তদন্ত ও পর্যালোচনা করতে হবে। আইনবিরোধী কোনো কনটেন্ট শেয়ার করলে ৫০ লাখ ইউরো পর্যন্ত জরিমানা করা যাবে। আর ওই কোম্পানিকে জরিমানা করা যাবে ৫ কোটি ইউরো পর্যন্ত।

এ আইনের ফলে সেখানে সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ও উসকানিমূলক পোস্ট উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন সোশ্যাল মিডিয়ায় আপত্তিকর কনটেন্টের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বিবেচনা করছে। বিশেষ করে জঙ্গিবাদে উৎসাহ জোগায় এমন ভিডিও দিলেই ব্যবস্থা। ইউরোপীয় ইউনিয়নে জেনারেল ডাটা প্রোটেকশন রেগুলেশন (জিডিপিআর) নামে এক নতুন আইন ২০১৮ সালেই কার্যকর হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ায় এক কঠোর আইন চালু করা হয়েছে। যাতে সহিংস ও জঘন্য কোনো কিছু অনলাইনে শেয়ার করা না যায়। এ আইন লঙ্ঘন করলে সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ এনে জেল-জরিমানার বিধানও রাখা হয়েছে। জরিমানার অঙ্কটি বেশ বড়। অর্থাৎ, ওই কোম্পানির গ্লোবাল টার্নওভারের ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা যাবে।

রাশিয়ায় ২০১৫ সালের ডাটা আইন অনুযায়ী, সব সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিকেই রুশ নাগরিকদের সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য রাশিয়াতেই কোনো সার্ভারে সংরক্ষণ করতে হয়। টুইটার, গুগল বা হোয়াটসঅ্যাপ চীনে নিষিদ্ধ। তবে সেখানে একই ধরনের কিছু চীনা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম আছে। যেমন—ওয়াইবো, বাইডু, উইচ্যাট। চীনে কিছু ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক আছে। কিন্তু চীনা কর্তৃপক্ষ সেগুলোর ব্যবহারও সীমিত করে দিতে সক্ষম হয়েছে।

তবে, বাংলাদেশের অনেক আইনপ্রণেতা, বুদ্ধিজীবী, সৃষ্টিশীল ব্যক্তি এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও ভাইরাল বাণিজ্যে জড়িত। এমনকি, সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার সময়ও কেউ কেউ ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে লাইভে ছিলেন। নিজেদের পোস্টে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে নিজস্ব বৈষয়িক এবং পারিবারিক বিষয় তুলে দেন।

তাদের অনুসারীরা হাজার হাজার শেয়ার দিয়ে লাখ লাখ সম্মতি উৎপাদন করে। হুজুগে জাতি তা দেখে আনন্দে কাঁদে, ক্ষোভে হিংসা ছড়ায় এবং তর্কে মেতে ওঠে। দিন শেষে অ্যাকাউন্টওয়ালা ডলার গোনে। ভুয়া স্ট্যাটাস, ফটোকার্ড দেখে সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনাও ঘটছে। রাজনীতিতে অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।

ভাইরাল প্রবণতা দিন দিন অবক্ষয়ের নতুন অস্ত্র হিসেবে সমাজে আঘাত হানছে। অধিক রিচ অর্জনে কাউকেই ছাড় দিচ্ছে না তারা। সর্বজন শ্রদ্ধেয় মৃত ব্যক্তিও রেহাই পাচ্ছে না নাদান ভিউ শিকারির হাত থেকে। ইতিহাসে প্রতিষ্ঠিত বিষয়কেও বিতর্কিত করছে ভিউ লোভে। অসংখ্য স্বঘোষিত বুদ্ধিজীবী ও বিশ্লেষক দেশপ্রেমিক মুখোশের আড়ালে মেরে কেটে খাচ্ছে। নিজেদের রক্ষায় এ ব্যাপারে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে দায়িত্বশীলদের। কেননা, দায়িত্বে থাকার সময় এবং ছাড়ার পরও ভাইরাল আইটেম তারা।

লেখক: হেড অব নিউজ, আরটিভি