খুঁজুন
সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ২৮ বৈশাখ, ১৪৩৩

ক্যানসারকে দূরে রাখতে চান? এই সহজ ৫ টিপস মানুন আজ থেকেই

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ৭:৩৭ পূর্বাহ্ণ
ক্যানসারকে দূরে রাখতে চান? এই সহজ ৫ টিপস মানুন আজ থেকেই

ক্যানসার— শব্দটি শুনলেই অনেকের মনে ভয় কাজ করে। সাম্প্রতিক সময়ে রোগটি যেভাবে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, তাতে উদ্বেগ বাড়াই স্বাভাবিক। তবে সুখবর হলো, ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

কারণ গবেষণা বলছে, আমাদের জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস এবং দৈনন্দিন অভ্যাসই এই রোগের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এগুলোতে পরিবর্তন আনতে পারলে ক্যানসারের সম্ভাবনাও কমে যায়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস বিখ্যাত চিকিৎসক ড. এরিক বার্গের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ প্রকাশ করেছে, যা নিয়মিত মেনে চললে ক্যানসারের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

পরামর্শগুলো দেখার আগে চলুন জেনে নিই, ক্যানসার আসলে হয় কীভাবে?

এ বিষয়ে ড. এরিক বলেন, ক্যানসার বুঝতে হলে প্রথমে জানতে হবে কীভাবে এটি তৈরি হয়। আমাদের শরীরের কোষে থাকা মাইটোকন্ড্রিয়া যখন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন কোষের স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। এই নিয়ন্ত্রণহীন কোষগুলো অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে— এটাই ক্যানসার। তাই ক্যানসার প্রতিরোধের জন্য মাইটোকন্ড্রিয়াকে সুস্থ রাখা সবচেয়ে জরুরি।

কী করলে ক্যানসার দূরে থাকবে?

১) পরিশোধিত খাবার বাদ দিন

ড. এরিকের মতে, ক্যানসার প্রতিরোধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো খাদ্যতালিকা থেকে পরিশোধিত খাবার বাদ দেওয়া। যেমন-পরিশোধিত চিনি, পরিশোধিত তেল, স্টার্চযুক্ত খাবার ইত্যাদি। এসব খাবার শরীরে প্রদাহ বাড়ায় এবং কোষের ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।

২) নিয়মিত রোদ পোহান

ডাক্তাররা পরামর্শ দেন, যত বেশি সম্ভব রোদ পোহানো উচিত। কারণ, আপনার শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি থাকলে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হবে, ফলে ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে। শীতকালে যদি রোদ না পাওয়া যায়, তবে ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট নিতে পারেন। মনে রাখবেন, ক্যানসার প্রতিরোধের জন্য এটি একটি অত্যন্ত জরুরি ভিটামিন।

৩) উপবাস বা ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং

আপনার রুটিনে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং অন্তর্ভুক্ত করা উচিত, যেখানে আপনি আপনার শরীরকে দীর্ঘ সময় ধরে উপবাসের অবস্থায় রাখেন। এ ছাড়া আপনি দীর্ঘমেয়াদী উপবাসও করতে পারেন। উপবাস মাইটোকন্ড্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে রক্ষা করে। এ ক্ষেত্রে ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী সিয়াম পালন একটি শ্রেষ্ঠ উপায়।

৪) নিয়মিত ব্যায়াম করুন

নিয়মিত ব্যায়াম করলে আপনার মাইটোকন্ড্রিয়া সুস্থ থাকে। শুধু তাই নয়, ব্যায়াম ক্ষতিগ্রস্ত মাইটোকন্ড্রিয়াকেও শরীর থেকে বের করে দিতে সাহায্য করে।

৫) মানসিক চাপ থেকে দূরে থাকুন

ড. এরিক বলেন, যতটা সম্ভব মানসিক চাপ থেকে দূরে থাকুন। এর জন্য আপনি দীর্ঘক্ষণ হাঁটতে যেতে পারেন, পর্যাপ্ত ঘুমোতে পারেন। এ ছাড়াও আপনার আশেপাশে যারা বিষাক্ত মানুষ আছেন, তাদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে পারেন।

তথ্যসূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

সাংবাদিক দম্পতি শাকিল-ফারজানা রুপার জামিন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ১২:০৫ অপরাহ্ণ
সাংবাদিক দম্পতি শাকিল-ফারজানা রুপার জামিন

সাংবাদিক শাকিল আহমেদ ও তার স্ত্রী ফারজানা রুপাকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (১১ মে) বিচারপতি কে এম জাহিদ সরওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

তারা পৃথক ১৩টি জামিন আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যে রুপার আট মামলা এবং শাকিলের রয়েছে পাঁচ মামলা।

 

শাকিল আহমেদ বার্তাপ্রধান হিসেবে ও ফারজানা রুপা প্রধান প্রতিবেদক হিসেবে একাত্তর টেলিভিশনে কাজ করছিলেন। ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয় একাত্তর টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ।

২১ আগস্ট তাদের ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটক করে পুলিশ। সেদিন তারা টার্কিশ এয়ারলাইনসে প্যারিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন।

কত সম্পদের মালিক থালাপতি বিজয়?

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ
কত সম্পদের মালিক থালাপতি বিজয়?

ইতিহাস গড়ে অভিনেতা থেকে ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন থালাপতি বিজয়। প্রায় সাত দশক পর প্রথমবার রাজ্যটিতে ডিএমকে বা এআইএডিএমকের বাইরে অন্য কোনও দল সরকার গঠন করল।

বিজয়ের এমন ঐতিহাসিক জয়ের পর তার সম্পত্তি নিয়ে আলোচনা চলছে।
ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, নির্বাচনি হলফনামায় বিজয়ের মোট সম্পত্তির দেখানো হয়েছে ৬২৪ কোটি রুপির।

এর মধ্যে স্থাবর সম্পত্তির মূল্য প্রায় ২২০ কোটি রুপি এবং অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য প্রায় ৪০৪ কোটি রুপি। কোনও ঋণ নেই তার।
বিজয়ের সম্পদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল- একটি সেভিংস অ্যাকাউন্টে জমা থাকা ২১৩ কোটি রুপিরও বেশি অর্থ। ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাংকের সালিগ্রামাম শাখার এই অ্যাকাউন্টেই তার মোট অস্থাবর সম্পদের বড় অংশ রাখা আছে।

২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তার মোট আয় ছিল ১৮৪ কোটি ৫৩ লাখ রুপি।
এ ছাড়া বিজয় বিভিন্ন ব্যাংকে মোট ১০০ কোটি রুপি ফিক্সড ডিপোজিট হিসেবে রেখেছেন। এর মধ্যে অ্যাক্সিস ব্যাংকে ৪০ কোটি, ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাংকে ২৫ কোটি, এইচডিএফসি ব্যাংকে ২০ কোটি, স্টেট ব্যাংকে অফ ইন্ডিয়ায় ১৫ কোটি রুপি রয়েছে। তার লিক্যুইড সম্পদের বড় অংশই ব্যাংক ডিপোজিটে রাখা।

তবে বিজয়ের শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ অত্যন্ত সীমিত। তার মোট ইক্যুইটি লগ্নির পরিমাণ ২০ লাখ রুপিরও কম। এর মধ্যে জয়া নগর প্রপার্টি প্রাইভেট লিমিটেডে শেয়ার ১৯ লাখ ৬৯ হাজার, ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাংকে শেয়ার ৯ হাজার ৬০০ রুপি এবং সান পেপার মিল লিমিটেডের শেয়ার ২৫ হাজার ভারতীয় রুপি।

বিজয়ের স্থাবর সম্পদের মোট মূল্য প্রায় ২২০ কোটি রুপি। ১০টি আবাসিক সম্পত্তি প্রায় ১১৫ কোটি, বাণিজ্যিক সম্পত্তি প্রায় ৮২ কোটি ৮০ লাখ, অনাবাদি জমি প্রায় ২২ কোটি এবং কোডাইকানালের ভাট্টাপাট্টি গ্রামে কৃষিজমি রয়েছে ২০ লাখ রুপির।

বিজয়ের নামে একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছে। ২০২৪ টয়োটা লেক্সাস ৩৫০- ৩ কোটি ১ লাখ, ২০২৪ বিএমডব্লিউ ১৭- ২ কোটি, ২০২৪ টয়োটা ভেলফায়ার- ১ কোটি ৬৩ লাখ, ২০২০ বিএমডব্লিউ ৫৩০- ৮০ কোটি ৫০ লাখ, ২০২৪ মারুতি সুইফ্ট- ৫ কোটি ৩৫ লাখ এবং ২০২৫ টিভিএস এক্সএল সুপার- ৬৭ হাজার ৪০০ রুপির।

বিজয়ের কাছে ৮৮৩ গ্রাম স্বর্ণ ও রুপার সামগ্রী রয়েছে, যার মোট মূল্য প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ রুপি। আর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে স্ত্রী সঙ্গীতা বিজয়কে ১২ কোটি ৬০ লাখ, ছেলে জেসন সঞ্জয়কে ৮ লাখ ৭৮ হাজার এবং মেয়ে দিব্যা সাশাকে ৪ লাখ ৬০ হাজার রুপি দিয়েছেন তিনি।

বিজয়ের আয়ের উৎস হিসেবে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে অভিনয় ও অন্যান্য পেশাগত আয়, ব্যাংকের সুদ এবং ভাড়া থেকে প্রাপ্ত টাকা।

ফলের মধ্যে খেজুরের স্থান এত উপরে কেন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ৭:৫৪ পূর্বাহ্ণ
ফলের মধ্যে খেজুরের স্থান এত উপরে কেন?

খেজুর এখন সারা বিশ্বেই জনপ্রিয়। খেজুরের আছে নানা জাত। প্রখ্যাত দার্শনিক প্লিনি দ্য এলডার খেজুরের প্রায় ৪৯টি জাতের কথা বলে গেছেন। পবিত্র কুরআন এবং হাদীসে খেজুরকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে কেবল সাধারণ দৃষ্টিভঙ্গিতেই নয়, আধুনিক পুষ্টিতত্ত্বেও খাদ্যমান অনুযায়ী বিভিন্ন ফলের মধ্যে খেজুরের স্থান সবচেয়ে উপরে।

ইসলামে খেজুর আল্লাহ প্রদত্ত অলৌকিক ফল। শরীর ও আত্মার সুস্থতায় ভূমিকা রাখে খেজুর। খেজুরবিহীন বাড়িকে দরিদ্র বাড়ি বলে অভিহিত করেছেন রাসুল (সা.)। কোরআনেও খেজুরের কথা বারবার উদ্ধৃত হয়েছে সৃষ্টিকর্তার অনুগ্রহ ও প্রাচুর্যের উদাহরণ হয়ে। বিশ্বাসীদের জন্য জান্নাতে খেজুর গাছ থাকবে। নবি মুহাম্মদ (সা.)-এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে খেজুরের স্মৃতি।

একবার এক খেজুর গাছ রাসুলের সামনে মাথা অবনত করে সম্মান জানায় বলে হাদিসে বর্ণিত রয়েছে। মদিনায় প্রতিষ্ঠিত ইসলামের প্রথম মসজিদ নির্মিত হয়েছিল খেজুর পাতায়। মুয়াজ্জিন বেলাল প্রায়ই খেজুর গাছ বেয়ে উঠে দিনে পাঁচবার আজান দিতেন। মুসলিম চিত্রকলায় খেজুর গাছ পাওয়া যায়। মুসলিম স্থাপত্যের অন্যতম বিশেষ উদাহরণ মিনার, যা প্রভাবিত খেজুর গাছ থেকে। বলা হয়, ‘খেজুর গাছের মতো হও, কেউ যখন ঢিল ছুড়বে, জবাব দেবে একটা মিষ্টি খেজুর ছুড়ে’।

আরব পরিচিতির স্মারক হিসেবে ভূমিকা পালন করেছে খেজুর গাছ। আরবরা যখন বাগদাদ থেকে স্পেনের আন্দালুসিয়ায় গেল, বিস্তার ঘটে খেজুরের। যা পরবর্তী ছড়িয়ে পড়েছে ইতালি ও ইউরোপের অন্যান্য অনুকূল আবহাওয়া অঞ্চলে। খেজুরের সমৃদ্ধ ইতিহাসের সঙ্গে খেজুরকেন্দ্রিক উৎসবের উদাহরণও কম নেই। দক্ষিণ লিবিয়া ও উত্তর শাদের সীমান্তবর্তী গ্রাম টিবেস্টিতে দেখা যায় খেজুরকেন্দ্রিক উৎসব। বর্তমানে খেজুর চাষ তাদের জীবনযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। উৎসবে খেজুর গাছকে কেন্দ্র করে নৃত্য ও খেজুরের মদ পান করা সাধারণ দৃশ্য।

মধ্যপ্রাচ্যে খেজুর সামাজিক উৎসবে প্রবেশ করেছে। বাহরাইনে বিয়ের অনুষ্ঠানে ফটক সাজানো হয় খেজুরের শাখা দিয়ে। খেজুর সেখানে আনন্দ ও আশীর্বাদের প্রতিনিধিত্ব করে। ওমানে এখনো ছেলেসন্তান জন্মের সঙ্গে সঙ্গে একটি খেজুর গাছ রোপণ করা হয় প্রাচীন ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে। উপসাগরীয় অঞ্চলে খেজুর চাষীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হয়। সবচেয়ে ভালো খেজুরচাষী লাভ করেন পুরস্কার। প্রতি বছর ফেব্রুয়ারিতে খোদ ক্যালিফোর্নিয়ায় উদযাপিত হয় খেজুর উৎসব।

মানবসভ্যতায় খেজুর চাষের ইতিহাস হাজার হাজার বছরের। খেজুর গাছের মধ্যে নারী ও পুরুষ রয়েছে। শুধু নারী গাছেই খেজুর জন্মায়। একটি প্রাপ্তবয়স্ক গাছ থেকে প্রতি বছর প্রায় ১০ হাজার খেজুর পাওয়া যায়। এই পরিমাণ খেজুরের ওজন ১০০ কেজিরও বেশি।

শুকনো বা তাজা উভয় অবস্থাতেই খেজুর গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন, খনিজ উপাদান ও হজমের জন্য সহায়ক আঁশ বা ফাইবারে পূর্ণ। এছাড়া বিভিন্ন রোগ ও অসুখ-বিসুখ থেকে মানবদেহকে রক্ষাকারী যে উপাদান সেই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টেরও একটি বড় উৎস এই খেজুর। পবিত্র মাহে রমজানে উচ্চমাত্রার প্রাকৃতিক চিনি বা ফ্রুকটোজ সমৃদ্ধ এই ফলটি উচ্চমাত্রার শক্তিবর্ধক হওয়ায় বেশ কাজে লাগে।

বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন স্বাদের, আকারের ও রঙের খেজুর পাওয়া যায়। তবে জনপ্রিয়তার বিচারে বৈশ্বিক বাজারে এগিয়ে আছে ৫টি জাতের খেজুর।

১. আজওয়া খেজুর : বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং পছন্দনীয় খেজুর আজওয়া। মদিনাসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে এই খেজুর উৎপাদন হয়। মাঝারি আকারের কালচে বাদামি রঙ্গের এই খেজুর বেশ নরম, গোশতল, রসালো ও খুবই মিষ্টি।

২. মেডজুল খেজুর : এই ধরনের খেজুরগুলো আকারে বড়, স্বাদে বেশ মিষ্টি এবং সুগন্ধী হয়। সাধারণত দু’ধরনের মেজদুল খেজুর পাওয়া যায় বাজারে কিং মেজদুল ও ব্ল্যাক মেজদুল।

৩. মাবরুম খেজুর : দৈর্ঘের তুলনায় কিছুটা বেশি প্রসারিত এই খেজুরের রং হয় লালচে বাদামী। মাবরুম খেজুর আঁশসমৃদ্ধ এবং অন্যান্য জাতের খেজুরের তুলনায় এর স্বাদ খানিকটা কম মিষ্টি।

৪. দেগলেত নূর খেজুর : মাঝারি আকারের বাদামি রঙ এই খেজুরের মিষ্টতা খানিকটা কম। তবে মিষ্টি খাবার রান্না ও কেক-রুটি তৈরির জন্য এই খেজুর আদর্শ।

৫. পিয়ারোম খেজুর : প্রায় কালো রঙের পিয়ারোম অন্যান্য খেজুরের তুলনায় খানিকটা শুকনো এবং অনন্য স্বাদের জন্য বিখ্যাত।

তবে বিশেষ খেজুরের মধ্যে আছে ইরাকের জাইদি। এটি বাগদাদের মূল অর্থনৈতিক ফসল বলা চলে। জাইদি দামে সস্তা এবং যেকোনো আবহাওয়ায় ভালো থাকে। চিনি বেশি থাকার কারণে বাগদাদের বিশেষ অ্যালকোহল ‘আরক’ তৈরিতে জাইদি ব্যবহার করা হয়।

মিসরে সবচেয়ে মূল্যবান খেজুর হায়ানি। হায়ান নামক গ্রামের নামে এর নামকরণ করা হয়েছে। হজযাত্রীরা এককালে এ গ্রামে থেমে বিশ্রাম করতেন। তিউনিসিয়ার মানখির খেজুর বেশ লম্বা আকারের। দেখতে নাকের মতো। খেতে অনেকটা দেগলেত নূর খেজুরের মতো। এ ছাড়া আলজেরিয়ার থুরিও, দক্ষিণ ইরানে মাজাফাতি নামের খেজুর ফলে।

আপস

বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর প্রায় ৯০ লাখ টন খেজুর উৎপাদন হয়। খেজুর উৎপাদনে শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে মিসর, সৌদি আরব, ইরান, আলজেরিয়া ও ইরাক উল্লেখযোগ্য। এর মধ্যে মিসর একাই বছরে প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টন খেজুর উৎপাদন করে এবং বিশ্ব উৎপাদনের প্রায় ১৮ শতাংশ সরবরাহ করে, অর্থাৎ প্রতি পাঁচটি খেজুরের একটি মিসরে উৎপাদিত হয়। সৌদি আরব ও ইরান যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে শুধু পাকিস্তান এই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।

খেজুর রপ্তানির ক্ষেত্রেও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এগিয়ে। সৌদি আরব বিশ্বের সবচেয়ে বড় খেজুর রপ্তানিকারক দেশ, যা ২০২১ সালে প্রায় ৩২ কোটি ৯০ লাখ ডলারের খেজুর রপ্তানি করেছে। এর পরেই রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তিউনিসিয়া। অন্যদিকে ইসরায়েল খেজুর রপ্তানিতে সবচেয়ে দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, মাত্র এক বছরে তাদের রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

খেজুর আমদানির ক্ষেত্রে ভারত বিশ্বের শীর্ষ দেশ। ২০২১ সালে দেশটি প্রায় ২৩ কোটি ৬০ লাখ ডলারের খেজুর আমদানি করেছে। এর পরের অবস্থানে রয়েছে মরক্কো ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। বাংলাদেশও খেজুর আমদানিতে এগিয়ে যাচ্ছে। মূলত ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, আলজেরিয়া ও পাকিস্তান থেকে বেশি খেজুর আমদানি করে থাকে বাংলাদেশ।

বিশ্বে খেজুর উৎপাদন, রপ্তানি ও আমদানির বাজারে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোর আধিপত্য এখন সবচেয়ে বেশি, আর বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশগুলো এসব দেশের ওপর আমদানির জন্য নির্ভরশীল।