খুঁজুন
সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন, ১৪৩২

মধু কি চিনি থেকে ভালো? বিজ্ঞানের আলোকে সত্য-মিথ্যা

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:৪৪ এএম
মধু কি চিনি থেকে ভালো? বিজ্ঞানের আলোকে সত্য-মিথ্যা

চিনি—এই এক উপাদানকে ঘিরেই স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের যত আপত্তি। কেউ একে বলেন ‘সাদা বিষ’, কেউ আবার নানাভাবে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করেন দৈনন্দিন খাদ্যতালিকা থেকে। কিন্তু মিষ্টি স্বাদ তো আর সহজে ছাড়ার নয়। তাই চিনির বিকল্প হিসেবে বেশিরভাগ মানুষের প্রথম পছন্দ হয়ে ওঠে মধু। সকালে লেবু-মধু পানি, চায়ের কাপেও এক চামচ মধু—ভাবটা এমন যেন চিনি বাদ দিলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে গেল।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, সত্যিই কি মধু চিনির তুলনায় এতটাই স্বাস্থ্যকর? নাকি এটিও এক ধরনের মিষ্টি ফাঁদ? পুষ্টিবিজ্ঞান ও গবেষণা কী বলছে—চিনির বদলে মধু খাওয়া আদৌ কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়েই এই প্রতিবেদন।

চিনি বনাম মধু : বিজ্ঞানের আয়নায় কার পাল্লা ভারী?

মধু ও চিনি দুটিই মূলত কার্বোহাইড্রেট এবং গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজের সমন্বয়ে তৈরি। তবে উৎপাদন প্রক্রিয়া ও পুষ্টিগুণের দিক থেকে এদের মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।

১. পুষ্টি উপাদানের পার্থক্য

চিনি : চিনি পুরোপুরি প্রক্রিয়াজাত একটি উপাদান। এতে কোনো ভিটামিন বা খনিজ উপাদান নেই। একে বলা হয় ‘অ্যাম্পটি ক্যালোরি’—যেখানে শক্তি পাওয়া গেলেও শরীর কোনো পুষ্টি পায় না।

মধু : মধু একটি প্রাকৃতিক উপাদান। এতে ক্যালোরির পাশাপাশি সামান্য পরিমাণে পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন এবং কিছু এনজাইম থাকে। তবে বাস্তবতা হলো, এই পুষ্টিগুণ থেকে উল্লেখযোগ্য উপকার পেতে হলে প্রচুর পরিমাণে মধু খেতে হবে, যা আবার অতিরিক্ত ক্যালোরির ঝুঁকি বাড়ায়।

২. গ্লাইসেমিক ইনডেক্স

চিনির তুলনায় মধুর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স সামান্য কম। অর্থাৎ চিনি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা যেভাবে দ্রুত বাড়ে, মধুর ক্ষেত্রে সেই বৃদ্ধি কিছুটা ধীর গতির। এই কারণে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য মধু চিনির চেয়ে সামান্য ভালো বিকল্প হতে পারে, তবে একে একেবারেই নিরাপদ বলা যায় না।

৩. অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের গুণ

মধুতে রয়েছে পলিফেনল ও ফ্ল্যাভোনয়েডের মতো অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা শরীরের প্রদাহ (Inflammation) কমাতে সাহায্য করে। চিনির মধ্যে এ ধরনের কোনো অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বা ঔষধি গুণ নেই।

মধু খাওয়ার আগে যেসব সতর্কতা জানা জরুরি

বিজ্ঞান বলছে, মধু যতটা উপকারী বলে প্রচলিত, এর কিছু নেতিবাচক দিকও মাথায় রাখা জরুরি—

অধিক ক্যালোরি : এক টেবিল চামচ চিনিতে থাকে প্রায় ৪৯ ক্যালোরি, আর সমপরিমাণ মধুতে থাকে প্রায় ৬৪ ক্যালোরি। ফলে ‘স্বাস্থ্যকর’ ভেবে বেশি মধু খেলে ওজন দ্রুত বাড়তে পারে।

দাঁতের ক্ষতি : মধুর গঠন আঠালো হওয়ায় এটি চিনির চেয়েও বেশি সময় দাঁতের সংস্পর্শে থাকে। ফলে দাঁতে ক্যাভিটি বা ক্ষয় হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

শিশুদের জন্য ঝুঁকি : এক বছরের কম বয়সী শিশুদের কখনোই মধু খাওয়ানো উচিত নয়। এতে ‘বটুলিজম’ নামক গুরুতর বিষক্রিয়া হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

চিনির বিকল্প হিসেবে মধু কি সেরা?

পুষ্টিবিদদের মতে, যারা প্রক্রিয়াজাত খাবার ও রিফাইন্ড সুগার এড়িয়ে চলতে চান, তাদের জন্য চিনির তুলনায় মধু একটি ‘বেটার অপশন’। তবে এটি কখনোই ‘সেরা বিকল্প’ নয়। কারণ মধুও শেষ পর্যন্ত এক ধরনের চিনি—যাকে বলা হয় ন্যাচারাল সুগার।

কাদের জন্য মধু তুলনামূলকভাবে ভালো?

১. যারা সাধারণ সর্দি-কাশির সমস্যায় ভুগছেন

২. যারা শরীর ডিটক্স করতে চান (যেমন লেবু-মধু পানি)

৩. যারা কৃত্রিম চিনির বদলে প্রাকৃতিক স্বাদ পছন্দ করেন

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সতর্কতা : মধু চিনির তুলনায় রক্তে শর্করা বাড়াতে কিছুটা সময় নিলেও শেষ পর্যন্ত এটি সুগার লেভেল বাড়ায়। তাই ডায়াবেটিস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া মধুকে নিরাপদ বিকল্প হিসেবে ধরা ঠিক নয়।

সবশেষে বলা যায়, চিনি বাদ দিয়ে মধু ধরলেই যে স্বাস্থ্য ঝুঁকি শূন্যে নেমে আসে—এমন ধারণা সঠিক নয়। পরিমিতি আর সচেতন ব্যবহারই এখানে মূল চাবিকাঠি।

সূত্র হিন্দুস্তান টাইমস

ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

সোহাগ মাতুব্বর, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:২৫ পিএম
ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের নিয়ে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যায় ভাঙ্গা উপজেলার হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের মিলনায়তনে এ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে হাসপাতালের চেয়ারম্যান সহিদুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, মানবসেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। দক্ষ ও মানবিক মনোভাবসম্পন্ন সেবাকর্মী তৈরি করতে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের চর্চাও প্রয়োজন। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ভবিষ্যতে মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করার আহ্বান জানান।

ইফতার মাহফিলে হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের বিভিন্ন ট্রেডের প্রশিক্ষক, প্রশিক্ষণার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। ইফতারের আগে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে রমজানের তাৎপর্য, সংযম ও মানবিকতার শিক্ষা নিয়ে বক্তব্য রাখেন উপস্থিত অতিথিরা।

পরে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং হাসপাতালের সার্বিক উন্নতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের কল্যাণ এবং সকলের সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষণার্থীরা জানান, এ ধরনের আয়োজন তাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে। একই সঙ্গে রমজানের পবিত্রতা ও সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে নতুন করে অনুপ্রাণিত হতে সহায়তা করে।

সর্বশেষে উপস্থিত সবাই একসঙ্গে ইফতার গ্রহণ করেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও প্রশিক্ষণার্থীদের অংশগ্রহণে এ ধরনের সামাজিক ও ধর্মীয় আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

‘দৃষ্টির চশমা’

গোলাম কিবরিয়া
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:১২ পিএম
‘দৃষ্টির চশমা’

নিশুতি রাত, থমথমে ভাব, পুকুর ঘাটের পাড়ে,
দুইটি মানুষ বসলো এসে খুব সাবধানে আড়ে।
এক পাড়ে এক পাকা চোর, অন্য পাড়ে মুমিন,
দুজনারই ব্যস্ততা আজ বেড়েছে অন্তহীন।

​চোর বেচারা হাত ধুয়ে নেয়, পোটলাটি তার পাশে,
ওপার পানে তাকিয়ে সে মুচকি মনে হাসে।
ভাবছে, “আহা! ওই বেটা তো মস্ত বড় চোর,
নিশ্চয় সেও সিঁধ কেটেছে ওস্তাদ বড় জোর!”

​মনেহয় সে কোনো বাড়ির সিন্দুক করেছে ফাঁকা,
আমার চেয়েও বেশি হয়তো মাল রয়েছে রাখা!
বড্ড সেয়ানা চোর তো ওটা, বসলো জলের ধারে,
কাজ সেরে আজ ফুরফুরে সে, শান্তি খোঁজে পাড়ে।

​ওপার পাড়ে ধার্মিক জন করছে ওযু ধীর,
ভাবছে, “আহা! ওই পাড়ে কে? বড্ড খোদাভীর!
আমার চেয়েও মস্ত বড় বুজুর্গ এক পীর,
ইবাদতে মত্ত হতে তাই তো হলেন স্থির।”

​তাহাজ্জুদের এই বেলাতে আমার সাথে জাগে,
খোদার প্রেমে মশগুল সে, মরণ কিসের আগে?
আহা! কপাল আমার ভালো, এমন সাথী পেলাম,
দূর থেকেই সেই বুজুর্গে জানাই হাজার সালাম!

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান,
বরগুনা সরকারি কলেজ

ফরিদপুরে ঈদের প্রধান জামাত কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল ৮ টায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪২ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের প্রধান জামাত কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল ৮ টায়

পবিত্র ঈদুল ফিতর ২০২৬ উদযাপনকে সামনে রেখে ফরিদপুর জেলায় সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণের লক্ষ্যে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বাকাহীদ হোসেন, পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সুস্মিতা সাহা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রামানন্দ পালসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা।

সভায় আসন্ন ঈদুল ফিতর উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফরিদপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টায় জেলার প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল হলে বিকল্প হিসেবে জেলার বিভিন্ন মসজিদে ঈদের জামাত আয়োজনের ব্যবস্থা রাখা হবে।

এছাড়া ঈদ উপলক্ষে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা না করার বিষয়ে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঈদকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনসমাগমস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলে জানানো হয়। বিশেষ করে ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।

সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয় যে, ঈদ যাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করতে গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি বাস টার্মিনাল ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হবে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যা সভায় বলেন, ঈদ মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। তাই এই উৎসবকে ঘিরে মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তিনি সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।

সভায় আরও জানানো হয়, ঈদের সময় হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ বিভাগসহ জরুরি সেবাগুলো চালু রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন।