খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা কেন সমাজের জন্য সত্যিকারের মঙ্গল?

মোহাম্মদ আনোয়ার
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৬ এএম
স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা কেন সমাজের জন্য সত্যিকারের মঙ্গল?

জাতীয় বিনির্মাণের নামে যদি শুধু উন্নয়নের পরিসংখ্যান দেখানো হয়; অথচ ক্ষমতার ভুল, অপচয় ও ব্যর্থতাকে প্রশ্ন করা বন্ধ থাকে, তাহলে তা প্রকৃত উন্নয়ন নয়, একটি সাজানো ভাস্কর্য মাত্র। এই বাস্তবতায় স্বাধীন সাংবাদিকতা কোনো বিলাসী আদর্শ নয়; এটি রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য একটি জরুরি প্রতিরোধ ব্যবস্থা।

যখন রাষ্ট্র, সমাজ ও নাগরিকের সম্পর্ক ধীরে ধীরে শাসক অধীনতার নিঃশব্দ বন্ধনে জড়িয়ে পড়ে, তখন সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা আর শুধু খবর পৌঁছে দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। এ সময়েই সাংবাদিকতাকে ক্ষমতার দরবারে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন তুলতে হয়, তাকে আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে জবাবদিহির মুখোমুখি করতে হয়। আজ সেই দায়িত্ব সততা ও সাহসের সঙ্গে বহন করাই সাংবাদিকতার সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা।

গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বাংলাদেশের সংবাদ পরিবেশ ছিল গভীর সংকটে। ভয়, স্বার্থ বা অনিচ্ছার কারণে বহু সংবাদমাধ্যম ক্ষমতার সঙ্গে সমন্বয় করে চলেছে। এর ফল ছিল একপাক্ষিক সংবাদচর্চা, যা গণতান্ত্রিক মানদণ্ডের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নিজ বাসভবন থেকে উচ্ছেদ, কারাবাস, চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে না দেওয়া, কিংবা তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচার না করার মতো মানবাধিকার-সংশ্লিষ্ট গুরুতর বিষয়গুলো জাতীয় গণমাধ্যমে তখন নিরপেক্ষ ও বিচারসাপেক্ষ আলোচনার সুযোগ পায়নি। বাস্তবতা হলো, অনেক সংবাদকক্ষ সত্য অনুসন্ধানের বদলে নিরাপদ নীরবতাকেই বেছে নিয়েছিল। অথচ স্বাধীন সাংবাদিকতার ভিত্তি হলো সত্য বলা এবং স্বাধীন মতপ্রকাশ। এ দায় এড়ালে সাংবাদিকতা তার নৈতিক বৈধতা হারায়।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে কিছুটা মতপ্রকাশের সুযোগ তৈরি হলেও আরেকটি সমস্যার উত্থান লক্ষ করা যাচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের একটি অংশ এখন পছন্দের রাজনৈতিক দলের নিয়মিত প্রশংসামূলক লেখা প্রকাশ করছে। এটি ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিফলন হতে পারে, কিন্তু একে নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা বলা যায় না। নিরপেক্ষতার অর্থ কোনো পক্ষের প্রশংসা বা বিরোধিতা নয়; বরং তথ্য যাচাই, প্রাসঙ্গিক বিশ্লেষণ এবং যে কোনো ক্ষমতার সামনে প্রশ্ন রাখা।

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা সবসময়ই ক্ষমতার মুখোমুখি প্রশ্ন তোলে, সে ক্ষমতা রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকুক, বিরোধী রাজনীতিতে থাকুক কিংবা কোনো দল, সংগঠন বা গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হোক। ক্ষমতার উৎস যেখানেই হোক, তাকে যাচাই ও জবাবদিহির আওতায় আনাই সাংবাদিকতার মূল দায়িত্ব। শক্তিশালী ও কার্যকর গণতন্ত্র গড়ে তুলতে এ দৃষ্টিভঙ্গির কোনো বিকল্প নেই।

অনেকেই মনে করেন, সরকারের সমালোচনা করলেই সাংবাদিকতা স্বাধীন হয়। এটি ভুল ধারণা। স্বাধীন সাংবাদিকতা মানে হলো যে কোনো ক্ষমতার মুখোমুখি সত্য বলার সাহস। সরকার বা বিরোধী দল যখন বাস্তবতা থেকে বিচ্যুত দাবি জনগণের সামনে তোলে, তখন সাংবাদিকতার দায়িত্ব সেটিকে যাচাই ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভেঙে দেওয়া। কারণ, জাতীয় বিনির্মাণের ভিত্তি হলো তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা, ন্যায্যতা ও জবাবদিহি। এ ভিত্তি দুর্বল হলে গণমাধ্যমই হয়ে ওঠে রাষ্ট্রের জন্য ঝুঁকি।

বর্তমান সংবাদপরিবেশ একটি স্পষ্ট চাপের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। রাজনৈতিক উত্তেজনা, মব জাস্টিস, নির্বাচনকেন্দ্রিক মেরূকরণ সংবাদপ্রবাহকে ক্রমশ সংকুচিত করে তুলছে। গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে হামলা, সাংবাদিক গ্রেপ্তার, সংবাদ প্রত্যাহার কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক চাপের মুখে নীতিমালার পরিবর্তন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখা যাচ্ছে না; এগুলো একটি ধারাবাহিক প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়। এ পরিস্থিতির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব হিসেবে সংবাদকক্ষে সতর্কতা ও আত্মসংযম বাড়ছে, যা শেষ পর্যন্ত সত্য প্রকাশের সক্ষমতাকে সীমিত করে দেয়।

এর ক্ষতি শুধু গণমাধ্যমের নয়, পুরো সমাজের। তথ্যের স্বচ্ছতা না থাকলে দুর্নীতি, প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও মানবিক অবহেলা আড়ালেই থেকে যায়। তখন উন্নয়ন হয় কাগজে, বাস্তবে নয়। আর জাতির আস্থার ভিত্তি ভেঙে পড়ে। এখানেই স্বাধীন সাংবাদিকতার দায়বদ্ধতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। দায়বদ্ধতা ছাড়া স্বাধীনতা অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার প্রথম শর্ত হলো তথ্য যাচাই। গুজব ও অপপ্রচারের এ সময়ে যাচাইহীন সংবাদ শুধু বিভ্রান্তি বাড়ায় এবং সামাজিক বিভাজনকে তীব্র করে।

এ প্রেক্ষাপটে হলুদ সাংবাদিকতার ঝুঁকি আরও প্রকট। ক্লিক ও দর্শক বাড়ানোর প্রতিযোগিতা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং অতিরঞ্জনের প্রবণতা অনেক সংবাদমাধ্যমকে নাটকীয় শিরোনাম ও অর্ধসত্যে ঠেলে দিচ্ছে। এটি শুধু পেশাগত অবক্ষয় নয়; এটি একটি সামাজিক বিপর্যয়। কারণ হলুদ সাংবাদিকতা ক্ষমতাকে প্রশ্ন করার শক্তিকে দুর্বল করে এবং সমাজে ভয়, ঘৃণা ও বিভাজন ছড়ায়।

তবে এ সংকটের দায় এককভাবে সাংবাদিকদের ওপর চাপানো যায় না। মালিকানার রাজনৈতিক সংযোগ, আর্থিক চাপ এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তাহীনতা একটি কাঠামোগত সমস্যা তৈরি করেছে। চাকরি হারানো বা মামলার ভয়ে অনেকেই সত্য বলার ঝুঁকি নিতে পারেন না। ফলে সংবাদকক্ষগুলো সত্যের বদলে সুবিধাজনক ব্যাখ্যাকে অগ্রাধিকার দেয়।

জাতীয় বিনির্মাণের প্রকৃত চ্যালেঞ্জ হলো এমন সমাজ গড়া, যেখানে সত্যের মূল্য আছে। যেখানে ক্ষমতার সামনে প্রশ্ন তোলা যায়, ভুল হলে সংশোধন সম্ভব এবং প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠ গুরুত্ব পায়। এ দায়িত্ববোধ ছাড়া উন্নয়ন শুধু সংখ্যায় সীমাবদ্ধ থাকে।

বিশ্বের অভিজ্ঞতা দেখায়, নিরপেক্ষ ও স্বাধীন সাংবাদিকতা কখনোই শুধু বিরোধীপক্ষের হাতিয়ার নয়। ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারিতে ওয়াশিংটন পোস্টের অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করেছিল। ব্রিটেনে বিবিসি সরকার ও বিরোধী উভয়ের কাছেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়, এটাই তার নিরপেক্ষতার প্রমাণ। এসব উদাহরণ দেখায়, স্বাধীন সাংবাদিকতা কোনোপক্ষের শত্রু নয়; এটি পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে শৃঙ্খলিত করে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এ সত্য অস্বীকার করার সুযোগ নেই। নিরপেক্ষ, স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা সরকার ও বিরোধী উভয়ের জন্যই কল্যাণকর। কারণ, সত্য কোনো পক্ষের সম্পত্তি নয়। সত্যই গণতন্ত্রের আসল শক্তি। সত্য, নিরপেক্ষতা ও দায়বদ্ধতা—এ তিনের সমন্বয়েই স্বাধীন সাংবাদিকতা জাতীয় বিনির্মাণের দৃঢ় ভিত্তি তৈরি করে। এ ভিত্তি না থাকলে রাষ্ট্র শুধু শাসনের কাঠামো হয়ে ওঠে, গণতন্ত্র নয়।

লেখক: দুবাই প্রতিনিধি, কালবেলা

 

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৪:০৩ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঈদের নামাজ শেষে দুই দল গ্রামবাসী মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ১৫/২০ টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হয় বলে জানা গেছে।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত দুই ঘন্টা ব্যাপী দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে চলে এ সংঘর্ষ। দুই পক্ষ ঢাল, সরকি, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে-অপরের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। এ সময় এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের ইসমাইল মুন্সি ও চুন্নু মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দিনগত রাত সাড়ে বারটার দিকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত ১২ জন আহত হন। এর জের ধরে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও মন্ত্রী কে এম ওবায়দুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ১:৩০ পিএম
বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও মন্ত্রী কে এম ওবায়দুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বিএনপির সাবেক মহাসচিব, সাবেক মন্ত্রী কে এম ওবায়দুর রহমানের ২১ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০০৭ সালের ২১ মার্চ ঢাকা অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তাঁর ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।  

কেএম ওবায়দুর রহমান ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্র রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন ও নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি ১৯৬২-৬৩ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৬৩ থেকে ৬৫ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি ফরিদপুরের কোতোয়ালি ও নগরকান্দা থানা নিয়ে গঠিত আসন থেকে জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। স্বাধীনতার  পরে ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ফরিদপুরের নগরকান্দা আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ও সরকারের প্রতিমন্ত্রী হন। ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ফরিদপুরের নগরকান্দা আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ও সরকারের মন্ত্রী হন। এরপর তিনি বিএনপির মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্য হন।তিনি ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের ৭ম জাতীয় সংসদ ও ২০০১ সালের ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর -২ (নগরকান্দা ও সালথা) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

তাঁর ১৯ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক বাণীতে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বাংলাদেশে মরহুম কে এম ওবায়দুর রহমান একজন গণসম্পৃক্ত জাতীয় নেতা হিসেবে সবার নিকট সমাদৃত ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকে শুরু পরবর্তীতে জাতীয় রাজনৈতিক জীবনে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র তথা সকল আন্দোলন -সংগ্রামে সোচ্চার থেকে তিনি আজীবন দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের পক্ষে নিজেকে নিবেদিত রেখেছিলেন। ‘

কেএম ওবায়দুর রহমানের একমাত্র সন্তান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘তিনি ছিলেন গণমানুষের নেতা, ন্যায় ও গণতন্ত্রের নির্ভীক সৈনিক। তার আদর্শ, সততা মানুষের জন্য কাজ আমাদের পথচলার প্রেরণা হয়ে আছে এবং থাকবে।

কে এম ওবায়দুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ফরিদপুর জেলা বিএনপি, নগরকান্দা ও সালথা উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে আজ শুক্রবার বিকাল ৩ টায় নগরকান্দার লস্করদিয়ায় কে এম ওবায়দুর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা অর্পণ ও আগামী ২৩ মার্চ বিকালে নগরকান্দা সরকারি মহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমি মাঠে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন