খুঁজুন
শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ২৬ বৈশাখ, ১৪৩৩

তিতুমীর: স্বাধীনতার সংগ্রামে এক অনন্য অধ্যায়

মোহাম্মদ হাসান শরীফ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
তিতুমীর: স্বাধীনতার সংগ্রামে এক অনন্য অধ্যায়

তিতুমীর নামেই তিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিত। তার পুরো নাম মীর নিসার আলী। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে ভারতবর্ষে প্রথম প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন তিনি। ১৮২৭ সালে শুরু হয়ে ১৮৩১ সালে শেষ হয় এ আন্দোলন। সময়ের হিসাবে খুব একটা বড় নয়। কিন্তু এ আন্দোলন যে প্রভাব রেখে গেছে, তা এখনো অনুভূত হয়। তিতুমীরের আন্দোলন এবং কাছাকাছি সময়ে গড়ে ওঠা ফরায়েজি আন্দোলন মিলে যে গণজাগরণের সৃষ্টি করেছিল, তার প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী।

তিনি ১৭৮২ সালে চব্বিশ পরগনার বারাসারের চাঁদপুর নামের গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ২৭ জানুয়ারি। আর ১৮৩১ সালে তিনি শাহাদতবরণ করেন। তিনি নারকেলবাড়িয়ায় বাঁশের কেল্লার জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত। কিন্তু তিনি যে ভালো কুস্তিগিরও ছিলেন, সেটা খুব বেশি প্রচার হয়নি। মনে রাখতে হবে, অনেক পরে ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র সংগ্রামে বিশ্বাসী যুবকরা নানা প্রশিক্ষণে শরীর চর্চার ওপর যে গুরুত্বারোপ করত, সেটা কিন্তু তিতুমীরেরই দান।

গৌতম ভদ্র অভিমত প্রকাশ করেছেন, তিতুর মূল সামাজিক আবেদন ছিল গ্রামের নিম্নকোটির মানুষদের কাছে। যারা জাতিতে তারা যুগী, জোলা আর কৃষক। প্রায় সবাই গরিব। কলভিন বলেছেন, যাদের কিছু হারানোর আছে, তারা তিতুর দলে যোগ দিয়ে ঝুঁকি নিতে চায়নি। লক্ষণীয় হিন্দুদের পাশাপাশি তিতুর আক্রমণের লক্ষ্য হয়েছে অত্যাচারী মুসলিম জমিদাররাও। সুতরাং এ আন্দোলন শুধু হিন্দুদের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়েছিল এ অতিশয়োক্তি। যারা গো-হত্যা ইত্যাদির মতো দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনায় সাম্প্রদায়িকতার গন্ধ খুঁজে পান, তারা পুরোটা দেখছেন না বা দেখতে চাইছেন না। ড. ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত লিখেছিলেন, জমিদারদের শোষণ উৎপীড়নই তিতুমীরের ‘শান্তিপূর্ণ ধর্মসংস্কার আন্দোলনকে ব্যাপক বিদ্রোহে রূপান্তরিত করেছিল। পরে বিদ্রোহ দমিত হলে যে ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়েছিল তাতে হিন্দু জমিদারদের সঙ্গে মুসলিম জোতদার, মহাজনরা শামিল হয়।

দাড়ি রাখা, লুঙ্গি পরার মাধ্যমে এ আন্দোলনের সদস্যরা তাদের স্বাতন্ত্র্য জাহির করত। তিতু যখন তার আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তোলেন, তখন নিম্নবর্গীয় মুসলমান সমাজের ভেতরেও কাছা দিয়ে ধুতি পরাটাই ছিল সাধারণ দস্তুর। এভাবে ধুতি পরাতে নামাজ আদায়ে কিছু সমস্যা তৈরি হতো। তাই তিতু তহবন্দের আকারে তা পরার অভ্যাসটি চালু করেন। এমন আদেশ বাংলার কৃষক আন্দোলনের আরেক পথিকৃৎ হাজী শরিয়তউল্লাহও দিয়েছিলেন। স্বকীয়তা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দাড়িও ছিল একটি উপাদান। এ দাড়ি ঘিরে তিতুমীর এবং তার সহমর্মীদের ওপর ‘দাড়ি ট্যাক্স’ বসানো হয়েছিল। জমিদারি আইনকে ব্রিটিশ কেবল যে হিন্দু-মুসলমানের বিরুদ্ধে সংঘাত তৈরিতেই ব্যবহার করেছিল, তেমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। মুসলমানের বিরুদ্ধে মুসলমানকে, বিশেষ করে প্রাচীনপন্থিদের সঙ্গে আধুনিকচেতনা, মানসিকতাসম্পন্ন মানুষদের সংঘাত তৈরি করতেও এ জমিদারি আইনকে ব্রিটিশরা ব্যবহার করে।

তিতুমীর বা হাজী শরীয়তুল্লাহরা কৃষক আন্দোলনের সঙ্গে ধর্মীয় বিষয়টি কেন জুড়ে দিয়েছিলেন? তিতুমীরের বিদ্রোহের নাম ছিল ‘তারিক-ই-মুহম্মদিয়া’ আর হাজী শরীয়তুল্লাহটির নাম ছিল ফরায়েজি আন্দোলন। নামকরণকে ব্যবহার করে আন্দোলন দুটিকে এমনভাবে প্রচার করা হয়, উভয়টিই ছিল নিছক ধর্মীয় শুদ্ধি আন্দোলন। ধর্ম অবশ্যই ছিল। তবে এ ব্যাপারে গৌতম ভদ্রের মন্তব্যটি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি তার ইমান ও নিশানে দেখিয়েছেন, সমাজের নিম্নবর্গের মানুষ চরম নির্যাতনের মধ্যে মসজিদ আর ইসলামের মধ্যেই তাদের অভয়ের জায়গা পেয়েছিল। আন্দোলনের নেতারাও এটাকে হাতিয়ার হিসাবে গ্রহণ করেছিলেন।

অবশ্য মনে রাখতে হবে, ধর্মকে ব্রিটিশরাও ব্যবহার করত। তারা কিন্তু কেবল শোষণ, লুণ্ঠন করতেই এখানে আসেনি। তাদের অন্যতম লক্ষ্য ছিল খ্রিষ্টধর্ম প্রচার ও প্রসার। সেই যে প্রথম ইউরোপিয়ান হিসাবে ভাস্কো ডা গামা উপমহাদেশের এসেছিলেন, তার সঙ্গেও ছিল বিপুলসংখ্যক খ্রিষ্ট প্রচারক। ১৮৫৭ সালে মহাবিদ্রোহের প্রধান কারণই ছিল খ্রিষ্টধর্ম। মহাবিদ্রোহ নিয়ে ব্রিটিশদের প্রশ্নের জবাবে স্যার সৈয়দ আহমদ পর্যন্ত স্বীকার করেছিলেন, ভারতবর্ষের বিদ্রোহের মূলে ছিল ওই ব্যাপক জনবিশ্বাস যে, ব্রিটিশরা জনসাধারণকে খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত করতে এবং তাদের ওপর ইউরোপীয় রীতিনীতি চাপিয়ে দিতে বদ্ধপরিকর। একইসঙ্গে গৌতম ভদ্রের মন্তব্যটির দিকেও নজর রাখতে হবে। তিনি তার ইমান ও নিশানে দেখিয়েছেন, তিতুমীর-সম্পর্কিত চালু বইগুলোতে প্রচলিত একটি ভুল ধারণার উল্লেখ করতে হয়। তা হলো, তিতুমীরকে ‘ওহাবি’ বলা। এ নামটি তিতুমীরের সময় বড় একটা চালু ছিল না। উনিশ শতকের অষ্টম দশকে উইলিয়াম হান্টারই এ নামটি ব্যাপকভাবে চালু করেন। যে কোনো ইংরেজবিরোধী মুসলিমের প্রতি শব্দটি প্রয়োগ করা হতো, গোঁড়া ধর্মান্ধ আর বিদ্রোহী মুসলমানের বদলি শব্দ হিসাবে গৃহীত হতো।

ব্রিটিশদের খ্রিষ্টধর্ম প্রচারের আগ্রহ নিয়ে রেজা আসলান নো গড বাট গড গ্রন্থে বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন যে প্রকৃতপক্ষে, ১৮৫৭ সালে যে বাঙালি সৈন্যরা ভারতবর্ষে বিদ্রোহের সূচনা করেছিল, তারা শুধু তাদের প্রাকৃতিক সম্পদ লুণ্ঠনকারী উপনিবেশিক নীতির কারণেই ক্ষুব্ধ ছিল না। বরং, তারা নিশ্চিত ছিল এবং তা যথার্থই ছিল, যে ব্রিটিশ সেনাবাহিনী তাদের জোর করে খ্রিষ্টধর্মে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করছে। তাদের কমান্ডিং অফিসার সব সামরিক ক্লাসে প্রকাশ্যে সুসমাচার (গসপেল) প্রচার করতেন, যা ছিল উদ্বেগের একটি কারণ। কিন্তু, সিপাহিরা যখন জানতে পারল, তাদের রাইফেলের কার্তুজে গরু ও শূকরের চর্বি মাখানো হয়েছে, যা হিন্দু ও মুসলিম উভয়কেই অপবিত্র করে দেবে, তখন তাদের সেই চরম আশঙ্কা সত্যে পরিণত হলো। নাগরিক অবাধ্যতার নিদর্শন হিসাবে একদল সৈন্য ওই কার্তুজ ব্যবহার করতে অস্বীকার করে। এর জবাবে ব্রিটিশ কমান্ডাররা তাদের শিকলবন্দি করেন, সামরিক কারাগারে নিক্ষেপ করেন। ব্রিটিশরা যে ‘সভ্যকরণ মিশন’ চালু করেছিল বিশ্বজুড়ে, সেটাও কার্যত ছিল খ্রিষ্টকরণ মিশন। ডি বিয়ার্স ডায়মন্ড কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা এবং এক সময়কার আধুনিক দক্ষিণ আফ্রিকার কার্যত একনায়ক সেসিল যেমনটি ঘোষণা করেছিলেন : ‘আমরা ব্রিটিশরা পৃথিবীর প্রথম জাতি এবং আমরা বিশ্বের যত বেশি অংশে বাস করব, মানবজাতির জন্য তা তত বেশি মঙ্গলজনক হবে।’

এই তথাকথিত ‘সভ্য করার মিশন’-এর অন্যতম প্রধান সমস্যা ছিল, এটি যতটা না সদিচ্ছা থেকে প্রণোদিত ছিল, তার চেয়েও বেশি এটি একটি ‘খ্রিষ্টান করার মিশন’ দিয়ে আচ্ছন্ন ছিল। মাদ্রাজের গভর্নর স্যার চার্লস ট্রেভেলিয়ানের ভাষায়, যার মূল লক্ষ ছিল ‘স্থানীয়দের খ্রিষ্টধর্মে ধর্মান্তরিত করা ছাড়া অন্য কিছু নয়।’ ভারতবর্ষে খ্রিষ্টান ধর্মপ্রচারকদের সরকারের সর্বোচ্চ পদগুলোতে বসানো হয়েছিল। এমনকি ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর প্রতিটি স্তরেও তাদের উপস্থিতি ছিল। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পরিচালক চার্লস গ্র্যান্ট (১৮৫৮ সাল পর্যন্ত যার হাতে সরকারের প্রায় সব ক্ষমতা ছিল) নিজে একজন সক্রিয় খ্রিষ্টান মিশনারি ছিলেন। তিনি এবং তার বেশিরভাগ দেশবাসী বিশ্বাস করতেন, ঈশ্বর ব্রিটেনকে ভারতবর্ষের শাসনভার দিয়েছেন, যাতে এ দেশকে পৌত্তলিকতার অন্ধকার থেকে বের করে এনে খ্রিষ্টের আলোর পথে পরিচালিত করা যায়। উপমহাদেশের প্রায় অর্ধেক স্কুল পরিচালনা করত গ্র্যান্টের মতো মিশনারিরা, যারা স্থানীয়দের খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত করার জন্য ব্রিটিশ সাম্রাজ্য থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সাহায্য পেত।

অবশ্য সব ঔপনিবেশিক শাসক ব্রিটেনের এ মিশনারি এজেন্ডার সঙ্গে একমত ছিলেন না। ১৮৪২-১৮৪৪ সাল পর্যন্ত গভর্নর জেনারেল হিসাবে দায়িত্ব পালন করা লর্ড এলেনবরো বারবার তার দেশবাসীকে সতর্ক করেছিলেন, সাম্রাজ্যের পক্ষ থেকে খ্রিষ্টধর্ম প্রচারের এই উৎসাহ শুধু সাম্রাজ্যের নিরাপত্তার জন্যই ক্ষতিকর নয়, বরং এটি ব্যাপক জনরোষ এবং সম্ভবত প্রকাশ্য বিদ্রোহের দিকে নিয়ে যেতে পারে। তা সত্ত্বেও এলেনবরোও সম্ভবত ট্রেভেলিয়ানের সঙ্গে একমত হতেন, যিনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে ভারতবর্ষের ধর্ম ‘এত বেশি অনৈতিকতা এবং শারীরিক অসারতার সঙ্গে জড়িত, ইউরোপীয় বিজ্ঞানের আলোর সামনে এটি মুহূর্তেই ভেঙে পড়বে।’

তিতুমীর তার লক্ষ্য অর্জনে সফল হননি। তবে তাই বলে তার বিদ্রোহ ব্যর্থ হয়েছে, তাও বলা যাবে না। তার এবং অন্যদের আন্দোলনের রেশ ধরেই ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহ ব্রিটিশরাজকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। আর এর রেশ ধরেই আরও পরে আমাদের স্বাধীনতা আসে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে কৃষক বিদ্রোহের যে অল্প কয়েকজন নেতা অবহেলিত নন, তাদের মধ্যে তিতুমীর একজন। স্কুলপাঠ্য ইতিহাসে তার জায়গা আছে, তাকে ঘিরে লেখা হয়েছে নাটক, উপন্যাস। বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক ইবনে মিজান ‘শহীদ তিতুমীর’ নামে সিনেমাও বানিয়েছিলেন। তবে একটু খুঁটিয়ে দেখলে দেখা যাবে, তিতুমীর সম্পর্কে জানি আমরা সবচেয়ে কম। এ অভাবটাই আমাদের পূরণ করতে হবে।

মোহাম্মদ হাসান শরীফ : সাংবাদিক

ত্বকের জেল্লা বাড়তে যা খাবেন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ৮:৫০ পূর্বাহ্ণ
ত্বকের জেল্লা বাড়তে যা খাবেন?

ত্বকের জেল্লা ফিরিয়ে দেবে পানীয়! শুনে অবাক হওয়ার কথাই। ত্বক ভালো রাখতে, রোদ থেকে বাঁচাতে এত দিন সানস্ক্রিনের সুরক্ষাবর্মের কথা শুনেছেন, ত্বকের উজ্জ্বলতা ফেরাতে রকমারি রূপটানও রয়েছে।

কিন্তু তাই বলে পানীয় বদলে দেবে ত্বক! এমনটা কিন্তু হতেই পারে। তবে এজন্য তিতকুটে, স্বাদহীন কোনো পানীয় নয়, চুমুক দিতে হবে ঠান্ডা সুস্বাদু সবুজ পানীয়ে।

যার এক চুমুকে শরীর ও মন জুড়িয়ে যাবে। বাড়তি পাওনা ত্বকের সৌন্দর্য। তা হলে বরং খোলসা করা যাক। ত্বক ও চুলের সৌন্দর্য কিন্তু শুধু বাইরের রূপটানে ফেরে না।

এজন্য পেটও ভালো থাকা দরকার। হজমে সমস্যা, লিভারের গোলযোগ হলে তার প্রভাব পড়ে চোখেমুখে। কয়েক দিন পেট পরিষ্কার না হলে মুখে ব্রণ বের হয় অনেকেরই। লিভার ঠিক ভাবে কাজ না করলে মুখে ফুটে ওঠে কালচে ভাব। তার ওপর শরীরে পানির অভাব দেখা দিলে ত্বক রুক্ষ হয়ে যায়।

সেই সবুজ পানীয়ে এমন কী আছে?

শরীর আর্দ্র রাখতে ও সুস্থ রাখতে লেবু ও পুদিনা দিয়ে বানিয়ে ফেলুন শরবত। সবুজ রঙের এই শরবত নিয়মিত পান করলে রুক্ষ ত্বকেও আসবে প্রাণ।

কেন?

পুদিনার হরেক গুণ। হজমে সহায়ক। এর মধ্যে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা শরীর ঠান্ডা করে। প্রদাহজনিত কষ্ট কমায়। এতে আছে স্যালিসিলিক অ্যাসিড। ব্রণ বা পেট ভালো না থাকার জন্য কালচে ছোপ, পুদিনা নিয়মিত খেলে অনেক সমস্যারই সমাধান হতে পারে। পুদিনা দিয়ে গরমের দিনে মুখের মাস্কও তৈরি করা যায়।

লেবুর গুণও কম নয়। এতে থাকে ভিটামিন সি। রোগ প্রতিরোধে যা বিশেষ সহায়ক। এতে থাকে অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট। যা ত্বক ভালো রাখতে সাহায্য করে।

মধুও ব্যবহার করা হয় এই পানীয়। এতেও আছে অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট। যা ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে জরুরি। মধু ছাড়াও আরও যে সব উপাদান এতে ব্যবহার হয়, তার সব ক’টিই শরীরের জন্য উপকারী।

যেভাবে বানাবেন সবুজ পানীয়?

পুদিনা পাতা, লেবুর রস, বিট লবণ, মধু ও মৌরি বেল্ডার মেশিনে দিয়ে ব্লেন্ড করে নিন। কাচের গ্লাসে ঢেলে মিশিয়ে দিন কয়েক টুকরো বরফ। এখানেই শেষ নয়, পাতলা করে কাটা শসার টুকরো ও তুলসীর বীজ দিয়ে দিন। সবুজ এই পানীয় নিয়মিত পান করলে শরীর ভালো থাকবে। হজমশক্তি বাড়বে। বদল আসবে ত্বকেও। রুক্ষ, জেল্লাহীন ত্বক হয়ে উঠবে সজীব।

আবারও ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে শাকিরা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ৮:৪৩ পূর্বাহ্ণ
আবারও ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে শাকিরা

দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে আবারও ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরছেন ল্যাটিন পপ সম্রাজ্ঞী শাকিরা। আসন্ন ২০২৬ উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল থিম সং ‘দাই দাই’-এর টিজার প্রকাশ করে বিশ্বজুড়ে ভক্তদের চমকে দিয়েছেন শাকিরা। শাকিরার এবারের গানে তার সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন নাইজেরিয়ান মিউজিক সেনসেশন বার্না বয়।

সম্প্রতি ব্রাজিলের ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে ধারণ করা একটি টিজার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন শাকিরা। ভিডিওতে দেখা যায়, এবারের বিশ্বকাপের আয়োজক তিন দেশ মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার জাতীয় পতাকার রঙে সেজেছেন একদল নৃত্যশিল্পী।

তবে ভক্তদের সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করেছে ২০০৬, ২০১০ এবং ২০১৪ বিশ্বকাপের অফিসিয়াল ম্যাচ বলগুলোর উপস্থিতি, যা মূলত এই তিন আসরে শাকিরার কালজয়ী গানগুলোর স্মৃতিকে সম্মান জানাতেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এবারের ‘দাই দাই’ ট্র্যাকে ল্যাটিন পপের সঙ্গে আফ্রো-বিটের এক অনন্য ফিউশন দেখা যাবে বলে জানা গেছে।

শাকিরার জাদুকরী কণ্ঠ আর হিপস ডোন্ট লাইয়ের সেই চিরচেনা ছন্দ এবার বার্না বয়ের সুরের সঙ্গে মিশে নতুন এক উন্মাদনা তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগামী ১৪ মে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি পাবে পূর্ণাঙ্গ এই থিম সং। এর পর থেকেই ফুটবল উন্মাদনা নতুন মাত্রা পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে শাকিরা এক অবিচ্ছেদ্য নাম। ২০০৬ সালে জার্মানিতে ‘হিপস ডোন্ট লাই’, ২০১০-এ দক্ষিণ আফ্রিকায় কালজয়ী ‘ওয়াকা ওয়াকা’ এবং ২০১৪ সালে ব্রাজিলে ‘লা লা লা’ গেয়ে পুরো বিশ্বকে বুদ করে রেখেছিলেন তিনি। মাঝখানে বিরতি দিয়ে আবারও তার ফেরা ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে বাড়তি উদ্দীপনা যোগ করেছে।

আগামী ১১ জুন থেকে উত্তর আমেরিকায় শুরু হতে যাচ্ছে ফুটবলের এই মহাযজ্ঞ, যা চলবে ১৯ জুলাই পর্যন্ত। ৪৮টি দলের এই লড়াকু আসরের আগে শাকিরার এ গানটিকেই ধরা হচ্ছে বিশ্বকাপের মূল কাউন্টডাউন।

ভাইরালে আক্রান্ত লোভী সমাজ, প্রতিরোধের উপায় কী?

ইলিয়াস হোসেন
প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ৮:৩২ পূর্বাহ্ণ
ভাইরালে আক্রান্ত লোভী সমাজ, প্রতিরোধের উপায় কী?

উগ্র শাসক আর অপশক্তির উত্থানে বিশ্বজুড়ে দিন দিন গণমাধ্যমের ঝুঁকি বাড়ছে। যুদ্ধবাজ নেতা, সুযোগসন্ধানী বণিক শ্রেণি ও অপরাধ সংগঠনের হোতাদের নিষ্ঠুর টার্গেট হচ্ছেন সংবাদকর্মীরা। প্যাশন থেকে যুক্ত হওয়া অনিশ্চিত এ পেশায় টিকে থাকা সবসময়ই চ্যালেঞ্জের।

তথ্যপ্রযুক্তির অভূতপূর্ব উন্নতিতে মাধ্যমটি সহজলভ্য হওয়ায় দিন দিন আরও কঠিনের মুখোমুখি হচ্ছে মূলধারার গণমাধ্যম। একসময় দেশের জনপ্রিয় কয়েকটি গণমাধ্যম সভ্য দেশের অনুকরণে বাংলাদেশে ‘সিটিজেন জার্নালিজম’ বা ‘নাগরিক সাংবাদিকতা’ আমদানি করে। সেই উৎসাহ আর সহজলভ্য তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহারে এখন ঘরে ঘরে সাংবাদিক আর হাতে হাতে গণমাধ্যম ঘুরছে।

এদের দৌরাত্ম্যে সাংবাদিককে ‘সাংঘাতিক’ আর গণমাধ্যমকে ‘ঘনমাধ্যম’ বলে ভয় পাচ্ছে ভুক্তভোগীরা। রাজনীতি, রাজনীতিবিদ ও দেশ-জনতার সংকট নিয়ে মনগড়া গল্প ফেঁদে সাংবাদিকতার নামে ডলারে অখাদ্য বিক্রি করছে।

‘অমুককে বোনের স্বীকৃতি দিলেন তমুক’, ‘মানবতার ফেরিওয়ালার একি হাল’, ‘প্রয়াত মন্ত্রীর গোপন প্রেমিকার সন্ধান’ ‘তার সঙ্গে চিপা গলিতে হাঁটলেন তিনি’—এরকম হাজারো বেখবর ঘুরছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সাংবাদিকতার নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জনপ্রিয় ফেসবুককে ‘চটি বই’ বানিয়ে ফেলছে ভিউ শিকারিরা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে অসামাজিক করে তোলায় ভদ্রলোকদের বিব্রত হতে হচ্ছে। ইচ্ছা না থাকলেও সাধারণ মানুষ দেখতে বাধ্য হচ্ছে লগ্নি করা রিলস। নিজ নিজ ইউটিউব চ্যানেল বা ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রতিনিয়ত বিতর্কিত আইটেম তুলছে অতর্কিত ডলার আসার লোভে। অধুনা ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ নামের এ লোকগুলো বেশিরভাগই অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত, বেপরোয়া ও আনস্মার্ট। ভুল বানান, অশুদ্ধ উচ্চারণ, আপত্তিকর ছবিতে সয়লাব তাদের পরিবেশনা।

ডলারের লোভে স্বামী-স্ত্রী-সন্তান নিয়েও অনেকে নেমেছ এ প্ল্যাটফর্মে। কুকুর-বেড়ালের প্রতি মায়া দেখানো থেকে পিতা-মাতার বিরুদ্ধে নিষ্ঠুরতার নাটকও করে তারা। এমনকি বৃদ্ধা শাশুড়ির একাশিতম জন্মদিন উদযাপনের নামে একসিরা রোগী শ্বশুরকে নিয়ে ‘কাটা লাগা’ গানের সঙ্গে উদ্দাম নৃত্য করে কনটেন্ট ক্রিয়েটর পুত্রবধূ।

এসব নিয়ন্ত্রণের কথা বললে তারা মূলধারার গণমাধ্যমের ভুল ধরে। সরকারের তোষামোদ, রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি ও মালিকদের স্বার্থসিদ্ধির অভিযোগে জাতীয় গণমাধ্যমগুলোও প্রশ্নবিদ্ধ। প্রথম শ্রেণির টিভি টকশোতে জ্ঞানগর্ভ, মার্জিত আলোচনায় ভিউ হচ্ছে না। ঘাড়ের রগ ফুলিয়ে অসংযত ভাষায় কিলিয়ে দিতে পারলে শো ভাইরাল হয়। তাতে ডলার আসে। কাজেই ঘোমটার আড়ালে ক্ষ্যামটা নাচে নাম লেখাচ্ছে প্রায় সবাই। জনরুচি তৈরির ঝুঁকি না নিয়ে গণস্রোতে গা ভাসাচ্ছে।

ভাইরাস থেকে ভাইরাল শব্দটি এসেছে। উইকিপিডিয়া বলছে, ভাইরাল (Viral) বলতে সাধারণত এমন সংক্রমণ বা তথ্যকে বোঝায়, যা খুব দ্রুত এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তি বা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। এটি কোনো ভাইরাসজনিত রোগ

(যেমন—ফ্লু, কভিড-১৯) বা ইন্টারনেটে জনপ্রিয় হওয়া কোনো কনটেন্ট (ভিডিও, পোস্ট) হতে পারে। ভাইরাল রোগ সাধারণত হাঁচি-কাশি, সরাসরি স্পর্শ, বা দূষিত খাবার বা পানির মাধ্যমে ছড়ায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো ভিডিও, ছবি বা পোস্ট যখন অল্প সময়ে প্রচুর মানুষ শেয়ার করে এবং মুহূর্তের মধ্যে তা হাজারো-লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, তখন তাকে ভাইরাল বলা হয়।

ভাইরাল রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধে নিয়মিত সাবানপানি দিয়ে হাত ধোয়া, হাঁচি-কাশি দেওয়ার সময় মুখ ঢেকে রাখা, অসুস্থ ব্যক্তি থেকে দূরত্ব বজায় রাখা ও জনাকীর্ণ স্থানে মাস্ক ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভাইরাল রোগের ঠিক উল্টো হচ্ছে ভাইরাল ভোগ। রোগে যা বর্জনীয়, ভোগে তাই অর্জনীয়।

সম্প্রতি এক কর্মশালায় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ‘আজকের তরুণ প্রজন্ম; এমনকি যারা ইউনিফর্ম পরে, তারাও তাদের শিক্ষক কিংবা মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে যে কোনো ধরনের অশালীন মন্তব্য করতে দ্বিধা করে না।’ সেইসঙ্গে শিক্ষার্থীরা ভাইরাল হতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। সত্য প্রকাশের বদলে একটি চক্র সোশ্যাল মিডিয়াকে তাদের চাঁদাবাজি, মানুষের চরিত্রহনন, মিথ্যাচার, হিংস্রতা প্রচারের বড় কেন্দ্রে পরিণত করছে।

মিথ্যা ও ভিত্তিহীন গুজব ছড়িয়ে কেউ কেউ রাষ্ট্র ও সরকারকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে। অনেকটাই যেন প্যারালাল সরকার হয়ে উঠছে এরা! যখন যাকে খুশি অপরাধী বানিয়ে দিচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণের আগেই তাদের গ্রেপ্তার করতে বাধ্য করা হচ্ছে। বিচারকও ‘ভিউ ব্যবসায়ীদের’ কুৎসিত নোংরা আক্রমণের ভয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিতে হিমশিম খাচ্ছেন। সরকারের ভালো কাজও ট্রল করা হচ্ছে।

এই গুজব ভাইরাল বাহিনী যেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। আইন ও বিচারের ঊর্ধ্বে! আরও ভয়ের ব্যাপার হচ্ছে, মানুষ বুঝে না বুঝে ভুয়া ফটোকার্ডসহ নানা রকম গুজব শেয়ার করে দিচ্ছে। এতে করে সাধারণ মানুষ নিজের অজান্তেই ভাইরাল বাহিনীর রাজনীতি ও বাণিজ্যে সহযোগিতা করছে। ‘শেষে মজা আছে’, ‘চোখের পানি ধরে রাখতে পারবেন না’, ‘জীবনে এমন দৃশ্য দেখিনি’—এ রকম চটকদার ও ইঙ্গিতপূর্ণ ক্যাপশন দিয়ে মানুষকে প্রতিনিয়ত বিভ্রান্ত করছে।

বাংলাদেশে এটা এখন নিয়ন্ত্রণহীন মহামারির আকার ধারণ করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য সন্ত্রাস প্রতিরোধ করতে হলে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশ্বব্যাপী এ অপতথ্য বন্ধে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তাদের দায়িত্বজ্ঞানহীন বেপরোয়া কাজকর্মের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হচ্ছে। ইউটিউব দাবি করে, তাদের সাইটে কোনো আপত্তিকর কনটেন্ট তারা থাকতে দেয় না।

কিন্তু বাংলাদেশের মতো দেশগুলোয় ফেসবুক বা ইউটিউবের এ নজরদারি অনেক কম। এ রকম হাজারো কনটেন্ট আছে, যেগুলো হিংসাত্মক, ভুয়া। তবু ফেসবুক বা ইউটিউব সেগুলো বন্ধ করেনি। কোম্পানিগুলোকে বিচারের আওতায় আনার জন্য অনেক দেশ এখন আইন করেছে। সম্প্রতি ব্রিটিশ সরকার নিয়ম ভঙ্গকারী সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের জরিমানা থেকে শুরু করে তাদের সেবা পুরোপুরি বন্ধ বা ব্লক করে দেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে।

জার্মানিতে ২০১৮ সালের শুরু থেকে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যাপারে এক নতুন আইন কার্যকর হয়। যেসব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের ২০ লাখের বেশি ব্যবহারকারী আছে, তারা সবাই এ আইনের আওতায় পড়বে। কোনো কনটেন্ট সম্পর্কে অভিযোগ আসার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা তদন্ত ও পর্যালোচনা করতে হবে। আইনবিরোধী কোনো কনটেন্ট শেয়ার করলে ৫০ লাখ ইউরো পর্যন্ত জরিমানা করা যাবে। আর ওই কোম্পানিকে জরিমানা করা যাবে ৫ কোটি ইউরো পর্যন্ত।

এ আইনের ফলে সেখানে সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ও উসকানিমূলক পোস্ট উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন সোশ্যাল মিডিয়ায় আপত্তিকর কনটেন্টের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বিবেচনা করছে। বিশেষ করে জঙ্গিবাদে উৎসাহ জোগায় এমন ভিডিও দিলেই ব্যবস্থা। ইউরোপীয় ইউনিয়নে জেনারেল ডাটা প্রোটেকশন রেগুলেশন (জিডিপিআর) নামে এক নতুন আইন ২০১৮ সালেই কার্যকর হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ায় এক কঠোর আইন চালু করা হয়েছে। যাতে সহিংস ও জঘন্য কোনো কিছু অনলাইনে শেয়ার করা না যায়। এ আইন লঙ্ঘন করলে সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ এনে জেল-জরিমানার বিধানও রাখা হয়েছে। জরিমানার অঙ্কটি বেশ বড়। অর্থাৎ, ওই কোম্পানির গ্লোবাল টার্নওভারের ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা যাবে।

রাশিয়ায় ২০১৫ সালের ডাটা আইন অনুযায়ী, সব সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিকেই রুশ নাগরিকদের সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য রাশিয়াতেই কোনো সার্ভারে সংরক্ষণ করতে হয়। টুইটার, গুগল বা হোয়াটসঅ্যাপ চীনে নিষিদ্ধ। তবে সেখানে একই ধরনের কিছু চীনা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম আছে। যেমন—ওয়াইবো, বাইডু, উইচ্যাট। চীনে কিছু ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক আছে। কিন্তু চীনা কর্তৃপক্ষ সেগুলোর ব্যবহারও সীমিত করে দিতে সক্ষম হয়েছে।

তবে, বাংলাদেশের অনেক আইনপ্রণেতা, বুদ্ধিজীবী, সৃষ্টিশীল ব্যক্তি এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও ভাইরাল বাণিজ্যে জড়িত। এমনকি, সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার সময়ও কেউ কেউ ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে লাইভে ছিলেন। নিজেদের পোস্টে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে নিজস্ব বৈষয়িক এবং পারিবারিক বিষয় তুলে দেন।

তাদের অনুসারীরা হাজার হাজার শেয়ার দিয়ে লাখ লাখ সম্মতি উৎপাদন করে। হুজুগে জাতি তা দেখে আনন্দে কাঁদে, ক্ষোভে হিংসা ছড়ায় এবং তর্কে মেতে ওঠে। দিন শেষে অ্যাকাউন্টওয়ালা ডলার গোনে। ভুয়া স্ট্যাটাস, ফটোকার্ড দেখে সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনাও ঘটছে। রাজনীতিতে অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।

ভাইরাল প্রবণতা দিন দিন অবক্ষয়ের নতুন অস্ত্র হিসেবে সমাজে আঘাত হানছে। অধিক রিচ অর্জনে কাউকেই ছাড় দিচ্ছে না তারা। সর্বজন শ্রদ্ধেয় মৃত ব্যক্তিও রেহাই পাচ্ছে না নাদান ভিউ শিকারির হাত থেকে। ইতিহাসে প্রতিষ্ঠিত বিষয়কেও বিতর্কিত করছে ভিউ লোভে। অসংখ্য স্বঘোষিত বুদ্ধিজীবী ও বিশ্লেষক দেশপ্রেমিক মুখোশের আড়ালে মেরে কেটে খাচ্ছে। নিজেদের রক্ষায় এ ব্যাপারে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে দায়িত্বশীলদের। কেননা, দায়িত্বে থাকার সময় এবং ছাড়ার পরও ভাইরাল আইটেম তারা।

লেখক: হেড অব নিউজ, আরটিভি