খুঁজুন
বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৩০ বৈশাখ, ১৪৩৩

বৈধ ভিসা থাকলেও যেসব কারণে আটকে যেতে পারে বিদেশযাত্রা?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৪৪ পূর্বাহ্ণ
বৈধ ভিসা থাকলেও যেসব কারণে আটকে যেতে পারে বিদেশযাত্রা?

বিদেশ ভ্রমণের প্রস্তুতি বলতে আমরা সাধারণত বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা আর টিকিটকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। কিন্তু অনেকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খেয়াল করেন না, সেটি হলো পাসপোর্টের শারীরিক অবস্থা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাসপোর্টের মেয়াদ ঠিক থাকলেও সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিমানবন্দরেই যাত্রা আটকে যেতে পারে, এমনকি গন্তব্য দেশে প্রবেশেও বাধা আসতে পারে।

কেন পাসপোর্টের অবস্থা এত গুরুত্বপূর্ণ

অনেক ভ্রমণকারী মনে করেন, পাসপোর্টের মেয়াদ ও ভিসা ঠিক থাকলেই ভ্রমণে কোনো সমস্যা হবে না। বাস্তবে বিমান সংস্থা ও ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা পাসপোর্টের সত্যতা ও অবস্থা খুব সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা করেন।

পাসপোর্টের কোণা ছেঁড়া, পানির দাগ, পৃষ্ঠা ছিঁড়ে যাওয়া কিংবা ডেটা চিপে আঁচড় থাকলেও তা সন্দেহের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিমানবন্দরগুলোতে চেক-ইনের সময়ই এমন পাসপোর্ট নিয়ে যাত্রীদের আটকে দেওয়া হতে পারে, যদি মনে হয় সীমান্ত পরীক্ষায় তা গ্রহণযোগ্য হবে না।

বিশ্বজুড়ে বাড়ছে এ ধরনের সমস্যা

ব্যবসা ও অবকাশ যাপনের উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ সমস্যাও বাড়ছে। অনেক যাত্রী বৈধ ভিসা থাকার পরও ক্ষতিগ্রস্ত পাসপোর্টের কারণে বিপাকে পড়ছেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশ পাসপোর্ট পরীক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে কঠোর। সামান্য ত্রুটির কারণেও ছুটি নষ্ট হওয়া, জরুরি সফর বাতিল হওয়া বা অতিরিক্ত খরচে নতুন টিকিট কাটার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

ক্ষতিগ্রস্ত পাসপোর্ট কেন ঝুঁকিপূর্ণ

আধুনিক পাসপোর্টে মাইক্রোচিপ, হলোগ্রাম এবং মেশিনে পড়ার উপযোগী বিশেষ অংশ থাকে। এসবের কোনোটি নষ্ট হলে স্ক্যানারে সমস্যা হতে পারে। আবার সীমান্ত কর্মকর্তারা পাসপোর্টে কারসাজির সন্দেহও করতে পারেন, ফলে প্রবেশে বাধা আসার ঝুঁকি বাড়ে।

ভ্রমণকারীদের সাধারণ কিছু ভুল

১. পৃষ্ঠা ছেঁড়া বা হারিয়ে যাওয়া

২. পানির বা অন্য তরলের দাগ

৩. লেমিনেশন উঠে যাওয়া বা বাঁধাই ঢিলে হয়ে যাওয়া

৪. ছবির পাশে কফির দাগ বা ময়লা

৫. কখন পাসপোর্টকে ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ ধরা হয়

সাধারণত কর্তৃপক্ষ দুইভাবে বিষয়টি বিবেচনা করে—

১. আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত : ছবি ও তথ্য পড়া যায়, কিন্তু পৃষ্ঠা ছেঁড়া বা দাগ রয়েছে।

২. গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত: ছবি বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অস্পষ্ট, ফলে পাসপোর্ট ব্যবহার অনুপযোগী।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত পাসপোর্টও বাতিল হতে পারে, তাই সন্দেহ থাকলে নতুন পাসপোর্ট করা নিরাপদ।

ইউএই বিমানবন্দরগুলোতে এয়ারলাইন্সের অবস্থান

দুবাই, আবুধাবি ও শারজাহ থেকে পরিচালিত এয়ারলাইন্সগুলো আইনগতভাবে নিশ্চিত করতে বাধ্য যে যাত্রীরা গন্তব্য দেশের প্রবেশ শর্ত পূরণ করছেন। পাসপোর্টে পানির দাগ, ছেঁড়া পৃষ্ঠা বা চিপের সমস্যা থাকলে ভিসা বৈধ হলেও তারা বোর্ডিং বাতিল করতে পারে।

ভ্রমণের আগে কীভাবে পাসপোর্ট পরীক্ষা করবেন

ভ্রমণের আগে কয়েকটি বিষয় দেখে নেওয়া জরুরি—

১. ছবির পৃষ্ঠা অক্ষত ও স্পষ্ট আছে কি না

২. বাঁধাই শক্ত আছে কি না এবং কোনো পৃষ্ঠা ঢিলে হয়েছে কি না

৩. ই-চিপ ঠিকভাবে কাজ করছে কি না

৪. সব তথ্য পরিষ্কার ও অক্ষত আছে কি না

এসব বিষয়ে সন্দেহ থাকলে ভ্রমণের আগে নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করা উচিত।

পাসপোর্ট ক্ষতিগ্রস্ত হলে কী করবেন

ভ্রমণের আগে : নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে হবে। অনেক দেশে ‘Lost/Damaged Passport’ ক্যাটাগরিতে পুনঃইস্যুর আবেদন করা যায়।

বিমানবন্দরে : এয়ারলাইন্সকে জানাতে হবে। বোর্ডিং বাতিল হলে সাধারণত দূতাবাস থেকে জরুরি ভ্রমণ নথি নিতে হতে পারে, যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিজ দেশে ফেরার জন্য ব্যবহৃত হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত পাসপোর্ট নিয়ে ইউএই নাগরিকদের দেশে ফেরা

সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাগরিকদের জন্য ‘রিটার্ন ডকুমেন্ট’ নামে একটি অস্থায়ী ভ্রমণ নথি রয়েছে। অনুমোদনের পর প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যে এটি ইস্যু করা যায়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট বা অ্যাপ এবং ইউএই পাস ব্যবহার করে আবেদন করা যায়। ক্ষতিগ্রস্ত পাসপোর্টের ক্ষেত্রে মূল কপি বা লিখিত ব্যাখ্যা, হারানো পাসপোর্টের ক্ষেত্রে পুলিশ রিপোর্ট, নবজাতকের ক্ষেত্রে জন্মসনদ প্রয়োজন হতে পারে। এই নথি ইমেইলে পাঠানো হয় এবং কেবল ইউএই-তে ফেরার জন্যই বৈধ থাকে।

এ ছাড়া ভ্রমণের সময় প্রয়োজনীয় নথির কপি সঙ্গে রাখা, ভিসা ও বিমা নিশ্চিত করা এবং প্রতারণা সম্পর্কে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিদেশ ভ্রমণ আনন্দের হলেও ছোট একটি অসাবধানতা পুরো পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে পারে। তাই ভিসার পাশাপাশি পাসপোর্টের শারীরিক অবস্থার দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

সূত্র : গালফ নিউজ

টিকাদানে অনীহায় ফরিদপুরে বাড়ছে হাম, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৪ রোগী, মৃত্যু ১০

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ১:১৭ অপরাহ্ণ
টিকাদানে অনীহায় ফরিদপুরে বাড়ছে হাম, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৪ রোগী, মৃত্যু ১০

ফরিদপুর জেলায় দিন দিন উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হাম রোগীর সংখ্যা। শিশুদের পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সী মানুষও আক্রান্ত হচ্ছেন এ ভাইরাসজনিত রোগে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে আরও ৫১ জন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তবে স্বস্তির খবর হলো, এ সময়ে নতুন কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

বুধবার (১৩ মে) জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৩ মে পর্যন্ত ফরিদপুর জেলায় মোট হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৯৯ জনে। একই সময়ে হামজনিত কারণে প্রাণ হারিয়েছেন ১০ জন।

উপজেলাভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ফরিদপুর সদর উপজেলায়। সেখানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩৫৯ জন। এছাড়া সালথায় ২২ জন, সদরপুরে ১৪ জন, বোয়ালমারীতে ১৪ জন, ভাঙ্গায় ১২ জন, চরভদ্রাসনে ৬ জন, মধুখালীতে ৩ জন এবং নগরকান্দায় ২ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক অভিভাবক এখনও শিশুদের নিয়মিত টিকাদানে উদাসীন থাকায় হাম সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে টিকাদান কার্যক্রমে অনীহা ও সচেতনতার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ৬৯ জন এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১৫ জন হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় দুই হাসপাতালে মোট ৫১ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৪ জন।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, হাম প্রতিরোধে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম, জনসচেতনতামূলক প্রচার এবং আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখা, পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে শিশুদের নির্ধারিত সময়ে এমআর টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

মনে মনে খারাপ কোনো চিন্তা করলে কি গোনাহ হয়?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৮:২৪ পূর্বাহ্ণ
মনে মনে খারাপ কোনো চিন্তা করলে কি গোনাহ হয়?

মানুষ আল্লাহর তৈরি সবচেয়ে সম্মানিত সৃষ্টির নাম। কিন্তু এই মানুষই মাঝে মাঝে নিজের অন্তরে এমন সব চিন্তা লালন করেন, যা পাপের দিকে ধাবিত করে। আমরা অনেক সময় দুশ্চিন্তায় পড়ে যাই, কারণ শয়তান মানুষের অন্তরে নানা ধরনের কু-চিন্তা ঢুকিয়ে দেয়।

নামাজের মধ্যে হোক বা নিরিবিলি সময়ে, কখনো এমন ভাবনা আসে যা নিজের কাছেই লজ্জাজনক মনে হয়। তখন মনে প্রশ্ন জাগে, শুধু মনে মনে খারাপ কোনো চিন্তা এলেই কি গোনাহ হয়ে যায়? আল্লাহ কি এর জন্য আমাদের পাকড়াও করবেন?

চলুন তাহলে শরিয়তের ভাষ্য জেনে নিই—

ইসলামি স্কলার মুফতি রেজাউল করীম আবরার বলেন, মনে মনে খারাপ চিন্তা করলে গোনাহ হবে কি না— এমন প্রশ্নের ক্ষেত্রে দেখতে হবে এই চিন্তার ধরন কীরকম। কারণ মনে মনে খারাপ চিন্তাকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।

প্রথমতো, কেউ যদি চিন্তা করে যে, আমি ওমুক খারাপ কাজটি করব, ওমুক খারাপ বন্ধুর সঙ্গে যাব, মদপান করব অথবা ওমুককে আঘাত করব, কিন্তু পরবর্তীতে আল্লাহর ভয়ে যদি সেই কল্পনাটি বাস্তবায়ন না করে, তবে এই ফিরে আসার জন্য আল্লাহ তার আমলনামায় সওয়াব যুক্ত করে দেবেন। কোনো গোনাহ হবে না।

দ্বিতীয়ত, কেউ যদি মনে মনে কারও সম্পর্কে খারাপ চিন্তা করে (চরিত্র হনন), কোনো নারীকে নিয়ে বাজে কল্পনা-জল্পনা করে, তাহলে তার আমলনামায় গোনাহ লেখা হবে। কারণ, সে মনের জেনা করেছে এবং অন্যের চরিত্র হনন করেছে।

হাদিসে কুদসিতে যা বলা হয়েছে

হাদিসে কুদসিতে বর্ণিত রয়েছে, আল্লাহ ভালো ও মন্দ কাজ লিখে রাখেন। তারপর তিনি ব্যাখ্যা করেন, যে ব্যক্তি ভালো কাজের জন্য দৃঢ় সংকল্প করে কিন্তু তা সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয়, আল্লাহ তার আমলনামায় একটি পূর্ণ নেকি দান করেন। আর যদি সে তা সম্পন্ন করে, তবে আল্লাহ তার আমলনামায় দশ নেকি থেকে সাতশ বা তার চেয়েও বেশি নেকি দান করেন।

অন্যদিকে, যদি কারও মনে মন্দ কাজের বাসনা জাগে কিন্তু তা সে কাজে পরিণত না করে, আল্লাহ তার জন্য একটি পূর্ণ নেকি দান করেন। আর যদি সে তার বাসনা বাস্তবে পরিণত করে, তবে তার জন্য একটি মন্দ কাজ লিখেন। (বোখারি : ৬৪৯১, মুসলিম : ১৩১)

সূত্র : কালবেলা

শরীরে কোলেস্টেরল বাড়ছে কি না, খেয়াল রাখুন ৫ লক্ষণ

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৮:১৭ পূর্বাহ্ণ
শরীরে কোলেস্টেরল বাড়ছে কি না, খেয়াল রাখুন ৫ লক্ষণ

আজকের ব্যস্ততম জীবনে অনিয়মিত খাবার, ফাস্টফুড, তেল-চর্বি বেশি খাওয়া, ব্যায়ামের অভাব- সব মিলিয়ে শরীরে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে নীরব কিন্তু মারাত্মক একটি সমস্যা হলো উচ্চ কোলেস্টেরল।

এটি বাড়তে থাকলে ধমনীতে ধীরে ধীরে চর্বি জমতে থাকে। যে কারণে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়; কিন্তু আমরা টেরই পাই না। এতে করে একসময় হঠাৎ বুকে ব্যথা, স্ট্রোক কিংবা হার্ট অ্যাটাকের মতো ভয়াবহ বিপদ দেখা দেয়। তবে, এসব বিপদের আগেভাগেই আমাদের শরীর কিছু সংকেত দিয়ে সতর্ক করে দেয় যে, কোলেস্টেরল বাড়ছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা সেসব সংকেতকে অনেক সময় সাধারণ ব্যথা বা ক্লান্তি ভেবে এড়িয়ে যাই। অথচ সময়মতো এসব লক্ষণ চিনে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে বাঁচা সম্ভব।

চলুন জেনে নিই, যেসব লক্ষণ দেখলে বুঝবেন শরীরে কোলেস্টেরল বাড়ছে—

পায়ে ব্যথা বা খিঁচুনি

হাঁটার সময় বা বিশ্রামে থেকেও পায়ে ভারিভাব কিংবা হঠাৎ ক্র্যাম্প হলে সতর্ক হওয়া জরুরি। এটি ধমনির রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার ইঙ্গিত দিতে পারে, যা উচ্চ কোলেস্টেরলের কারণে ঘটে।

বুকে ব্যথা বা চাপ

ধমনিতে কোলেস্টেরল জমতে শুরু করলে অনেকের বুকের মাঝামাঝি অংশে চাপ, জ্বালাপোড়া বা ব্যথা অনুভূত হয়। এটি হৃদ্‌রোগ কিংবা হার্ট অ্যাটাকের পূর্বাভাসও হতে পারে।

গলা, চোয়াল বা কাঁধে ব্যথা

শরীরের উপরের অংশে অস্বাভাবিক ব্যথা বা শক্তভাবও কোলেস্টেরল বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিতে পারে। রক্ত চলাচল কমে গেলে গলা, চোয়াল বা কাঁধে ব্যথা হয়, যা অনেক সময় আমরা পেশির ব্যথা ভেবে উপেক্ষা করি।

হাত-পায়ে অসাড়তা ও ঝিনঝিনি

হাত-পায়ে ঝিনঝিনি, অসাড়তা বা ঠান্ডা লাগার মতো অনুভূতি উচ্চ কোলেস্টেরলের লক্ষণ হতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে পায়ে নীলচে ভাবও দেখা দেয়। সিঁড়ি উঠার সময় দ্রুত হাঁপিয়ে যাওয়া বা ক্লান্ত হয়ে পড়াও একটি সতর্কবার্তা।

চোখের চারপাশে হলুদ দাগ

চোখের চারপাশে হলুদ বলয় বা হলদেটে স্তর তৈরি হওয়া শরীরে অতিরিক্ত কোলেস্টেরলের সরাসরি সংকেত। এটি বিপদসীমারও বেশি কোলেস্টেরল জমে যাওয়ার লক্ষণ।

করণীয়

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সঠিক খাবার গ্রহণ, ব্যায়াম এবং জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনলে উচ্চ কোলেস্টেরলের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

তথ্যসূত্র : এবিপি লাইভ