খুঁজুন
, ,

বিএনপি-আওয়ামী লীগ-জামায়াত-সে যেই হোক—দোষী হলে রেহাই নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

হারুন-অর-রশীদ ও মো. নুর ইসলাম, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ
বিএনপি-আওয়ামী লীগ-জামায়াত-সে যেই হোক—দোষী হলে রেহাই নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জেলা প্রশাসনকে উদ্দ্যেশ্য করে বলেছেন, আপনাদের দ্ল-মত দেখার দরকার নেই। কেউ যদি দোষী হয়—সে বিএনপি, আওয়ামী লীগ বা জামায়াত যেই হোক—তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। এটিই আমাদের সরকারের স্ট্যান্ড। নিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা নেবেন। সরকারের পক্ষ থেকে আপনাদের পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলার বিভিন্ন দপ্তর প্রধানদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই—আমি আপনাদের সহকর্মী হিসেবে কাজ করতে চাই। আমি এখানে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে বসিনি। আমরা যদি টিমওয়ার্ক করতে পারি, তাহলেই ফরিদপুর জেলাকে সুন্দরভাবে সাজাতে পারব। আপনারা আমাকে সহকর্মী হিসেবে বিবেচনা করবেন। বেশিরভাগের কাছেই আমার ফোন নম্বর আছে। যেকোনো সমস্যা সরাসরি আমাকে জানাতে পারেন।

রমজান মাস নিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, দ্রব্যমূল্য যাতে আর না বাড়ে, সে বিষয়ে সরকার সচেষ্ট আছে। কমার্স মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো ইতিমধ্যে সে বিষয়ে কাজ শুরু করেছে। আপনারা যারা গ্রাউন্ড লেভেলে আছেন, আপনাদের কোনো বিশেষ পরামর্শ থাকলে অবশ্যই দেবেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, রমজান মাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জনগণের মনে শান্তি রাখা, যাতে তারা সুন্দরভাবে রোজা পালন করতে পারে এবং ঈদ পালন করতে পারে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে একটি বিষয় দেখিয়ে দিয়েছেন। এই সরকার অনেক যুদ্ধের পরে, অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এসেছে। জনগণেরও অনেক আকাঙ্খা এই সরকারের ওপর। সুতরাং এটাকে হেলাফেলা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, বিশেষ করে মাদক নিয়ে ঘরে বসে কথা বললে হবে না। আমাদের কিছু স্ট্র‍্যাটেজিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যারা মাদক সেবন করে, তারা অনেক ক্ষেত্রে ভিকটিম। কিন্তু যারা মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে। শর্ট টার্মে অ্যাকশন দেখাতে হবে, পাশাপাশি লং টার্মে সামাজিক সচেতনতা চালিয়ে যেতে হবে।

শামা ওবায়েদ বলেন, রমজান মাসে সকল জনগণ দল-মত নির্বিশেষে সুন্দরভাবে রোজা ও ঈদ পালন করবে, দ্রব্যমূল্য সহনীয় থাকবে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হবে না। কোনো ষড়যন্ত্র যেন সফল না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

সভায় উপস্থিত ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন উপজেলা) আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, আমরা যে নানান পরিবর্তনের কথা বলছি, সেই পরিবর্তন অবশ্যই হবে। আপনারা ইতোমধ্যেই দেখেছেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই পরিবর্তন নিজে থেকেই শুরু করেছেন। আমরাও চাই এই পরিবর্তনটা সর্বব্যাপী হোক। তবে মানুষের যেমন চাওয়া যে একটা সুইচ দিলে সব পরিবর্তন হয়ে যাবে, এটা ঠিক না। তবে আবার পরিবর্তন যে হবে না, সেটাও না। পরিবর্তন অবশ্যই হবে। সবটুকু যদি অর্জন নাও করতে পারি, অন্তত কিছুটা ভালো অর্জন করতে পারব।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যার সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে এসময় বক্তব্য দেন, পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নজরুল ইসলাম, সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান, জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এ.এস.এম. আলী আহসান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শাহাদুজ্জামান, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ফরিদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী আজহারুল ইসলাম, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা, সদস্য সচিব একেএম কিবরিয়া স্বপন ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক কাজী রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ প্রমুখ।

ফরিদপুর মেডিকেলে প্রায় সাড়ে ২৩ কোটি টাকার সরকারি অর্থের অপচয়

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুর মেডিকেলে প্রায় সাড়ে ২৩ কোটি টাকার সরকারি অর্থের অপচয়

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুটি যন্ত্র ক্রয়ে প্রায় সাড়ে ২৩ কোটি টাকার সরকারি অর্থের অপচয় করা হয়েছে বলে দুদক জানিয়েছে। যার মধ্যে বিগত ৯ বছর আগে ক্যাথল্যাব স্থাপন করা হলেও চালু হয়নি এবং লিনিয়ার এক্সেলেটর বস্তাবন্দি অবস্থায় রয়েছে।  এছাড়া এমএসআর (চিকিৎসা সামগ্রী) ক্রয়ে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার তথ্য পেয়েছে সংস্থাটি। একই সাথে সেগুলোর রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে এবং অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণ শেষে ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮ টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশন জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান। এর আগে গতকাল সোমবার সকাল ১০ টা থেকে এ অভিযান শুরু হয় এবং মঙ্গলবার রাত ৮টায় শেষ করেন। এতে তাঁর নেতৃত্বে ৮ জন সদস্য অংশ নেন।

দুদক কর্মকর্তা জানান, চিকিৎসা সেবা প্রদানে হয়রানি, দালাল চক্রের মাধ্যমে রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানো এবং আউটসোর্সিং নিয়োগে অনিয়ম, ক্রয়-বিক্রয় সহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে এ অভিযান চালানো হয়। এ সময়ে নানা অনিয়মের তথ্য মিলেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে হাসপাতালের ক্যান্সার ইউনিটের জন্য সাড়ে ১৪ কোটি টাকা মূল্যের লিনিয়ার এক্সেলেটর যন্ত্র আনা হলেও আজও তা বাক্সবন্দি অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া একই অর্থ বছরে কার্ডিওলজি বিভাগে ৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা মূল্যের ক্যাথল্যাব যন্ত্র স্থাপন করা হলেও তা চালু করা হয়নি। যেগুলো চালু না করেই ওই অর্থ-বছরে দুটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

দুদক কর্মকর্তা বলেন, “অবকাঠামো নির্মাণ না করেই লিনিয়ার এক্সেলেটর মেশিনটি ক্রয় করা হয়েছে এবং ক্যাথল্যাব চালু না করায় সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে। এক্ষেত্রে সকল নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে এবং অধিকতর যাচাই-বাছাই শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে৷”

এমএসআর ক্রয়ে অনিয়ম:

হাসপাতালের এমএসআর (চিকিৎসা সামগ্রী) ক্রয়ে তথ্যের গড়মিল পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করেন দুদক কর্মকর্তা। তিনি বলেন- “ফেব্রিক্স নামক একটি ওষুধের ৭৬২ বোতল ঘাটতি এবং হেক্সাটন নামক ওষুধের বেশি বোতল পাওয়া গেছে। যা আমাদের কাছে অস্বাভাবিক বলে মনে হয়েছে।

এছাড়া হাসপাতালটিতে দীর্ঘদিন যাবৎ সিটিস্ক্যান ও এক্স-রে পরীক্ষা বন্ধ থাকার ক্ষেত্রে অনিয়ম পেয়েছে দুদক। ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে এমএসআর ক্রয়ের কার্যাদেশে সকল সামগ্রীর মধ্যে সিটিস্ক্যান ও এক্স-রে ফ্লিম থাকলেও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সরবরাহ করেনি বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বরাদ দিয়ে দুদক জানান। এগুলো ব্যতিত সকল বিল পরিশোধ করে নিয়েছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। বিষয়টি নিয়ে দুদক কর্মকর্তা মোস্তাফিজ বলেন- এখানে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি-না, সে বিষয়ে অধিকতর যাচাইয়ের জন্য রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে৷

জমা হয়নি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া:

অপরদিকে গত এক মাসে হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ার কোনো অর্থ জমা হয়নি বলে তাঁরা অনুসন্ধানে তথ্য পেয়েছেন। দুদক বলেন- হাসপাতালে ৫টি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে এবং দুটি নষ্ট রয়েছে। তিনটি চালু থাকলেও ভাড়ার টাকা জমা হয়নি এবং এখানে অনিয়ম হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে। এছাড়া আউটসোর্সিং নিয়োগ সংক্রান্ত রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে বলে দুদক জানান।

দুদক কর্মকর্তা মোস্তাফিজ সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা আমরা প্রতিটি রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করেছি এবং রেকর্ডপত্র বিশ্লেষণ শেষে দায় নির্ধারণ করা হবে। এরপর ব্যবস্থাগ্রহনের জন্য প্রধান কমিশনার বরাবর পাঠানো হবে।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত পরিচালক) মানষ কৃষ্ণ কুন্ডু  বলেন, “দুদক আমাদের কাছে যা যা চেয়েছি সকল তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছি। হাসপাতালের ওই মেশিন দুটি দীর্ঘদিন যাবৎ পড়ে আছে, যে বিষয়ে মন্ত্রণালয়েও জানানো হয়েছে। এছাড়া অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ার বিষয়টি সঠিক নয় এবং এমএসআর ক্রয়ে অনিয়ম হয়েছে কি-না সেটা আমার জানা নেই।

সালথায় ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১২

ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ
সালথায় ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১২

ফরিদপুরের সালথায় মাদ্রাসাছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষচলাকালে দুটি দোকান ভাঙচুর ও একটি খড়ের গাদায় আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার রামকান্তুপুর ও আটঘর ইউনিয়নের সীমান্তে অবস্থিত বিভাগদী ব্রিজের ওপর এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মাদরাসা থেকে ফেরার পথে আটঘর ইউনিয়নের বিভাগদী গ্রামের তিন মাদরাসাছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করেন রামকান্তপুর এলাকার কয়েক যুবক। খবর পেয়ে উত্ত্যক্তকারী ওই যুবকদের ওপর হামলা চালায় বিভাগদী গ্রামের কয়েকজন যুবক। বিষয়টি জানাজানি হলে উভয় ইউনিয়নের দুটি পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

প্রায় ঘন্টাব্যাপী চলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ। এ সময় হামলা চালিয়ে দুটি দোকান ভাঙচুর করা হয় এবং একটি খড়ের গাদায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

ঘুম থেকে উঠে যে দোয়া পড়তেন মহানবী (সা.)

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০০ পূর্বাহ্ণ
ঘুম থেকে উঠে যে দোয়া পড়তেন মহানবী (সা.)

সর্বকালের শ্রেষ্ঠ মহামানব ও মানবতার সর্বোত্তম আদর্শ হজরত মুহাম্মদ (সা.)। তাঁর জীবন ছিল পবিত্র কোরআনের শিক্ষার বাস্তব প্রতিফলন।

আল্লাহ তাআলা তাঁকে মানবজাতির জন্য আদর্শ হিসেবে পাঠিয়েছেন। কীভাবে উত্তম মানুষ হওয়া যায়, কীভাবে সুন্দর চরিত্র গঠন করা যায় এবং কীভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে জান্নাতের পথে চলতে হয়—এসব বিষয়ে তিনি মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন।

মহান চরিত্রের অধিকারী ছিলেন তিনি। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী।
’ (সুরা আল-কলম, আয়াত: ৪)
রাসুলুল্লাহ (সা.) মানুষের দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা দিয়েছেন। খাবার গ্রহণ থেকে শুরু করে শৌচকর্ম, ঘুমানো এবং ঘুম থেকে জেগে ওঠা—সব ক্ষেত্রেই তিনি অনুসরণীয় আদর্শ রেখে গেছেন।

ঘুমানোর আগে কোন আমল করতে হবে, কোন দোয়া পড়তে হবে এবং কীভাবে ঘুমানো উত্তম, তা তিনি শিখিয়েছেন। একইভাবে ঘুম থেকে জেগে ওঠার পর আল্লাহর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের শিক্ষাও দিয়েছেন।ঘুম আল্লাহর নেয়ামত

ঘুম মহান আল্লাহর অন্যতম নেয়ামত। ঘুমের মাধ্যমে মানুষের শারীরিক ক্লান্তি ও মানসিক অবসাদ দূর হয়। পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুম সুস্থ থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ঘুমের আগে ও পরে সুন্নতসম্মত আমল করা হলে দৈনন্দিন জীবনেও ইবাদতের চর্চা করা সম্ভব হয়।

রাতে যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি ঘুমানো এবং ফজরের নামাজের জন্য সময়মতো জেগে ওঠার অভ্যাস করা উচিত। ঘুমের কারণে যেন ফরজ নামাজ ছুটে না যায়, সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখা প্রয়োজন।

ঘুম থেকে উঠে আল্লাহর শুকরিয়া আদায়

ঘুম থেকে জেগে ওঠার পর মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা মুমিনের অন্যতম আমল। ঘুম ও জাগরণ মানুষের জীবনের এমন দুটি অবস্থা, যা আল্লাহর ক্ষমতা ও অনুগ্রহের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তাই ঘুম থেকে উঠে আল্লাহর প্রশংসা করা এবং তাঁর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা সুন্নত।

রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘুম থেকে জেগে যে দোয়াটি পড়তেন, তা হলো—

আরবি:

الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ

উচ্চারণ: আলহামদু লিল্লাহিল্লাজি আহইয়ানা বা‘দা মা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন নুশুর।

অর্থ: সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের মৃত্যুর মতো নিদ্রার পর জীবিত করেছেন। আর তাঁর কাছেই পুনরুত্থান।

(সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৩২৪)

রাতের ঘুম থেকে জেগে যে দোয়া পড়বেন

রাতের ঘুম থেকে জেগে আল্লাহর জিকির ও দোয়া করারও বিশেষ ফজিলত রয়েছে। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ঘুম থেকে জেগে আল্লাহর জিকির করার পর কেউ দোয়া করলে তার দোয়া কবুল হওয়ার সুসংবাদ রয়েছে। এরপর অজু করে নামাজ আদায় করলেও তার জন্য বিশেষ ফজিলতের কথা এসেছে।

দোয়াটি হলো—

আরবি:

لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، الْحَمْدُ لِلَّهِ، وَسُبْحَانَ اللَّهِ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي

উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির। আলহামদু লিল্লাহি, ওয়া সুবহানাল্লাহি, ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার। ওয়া লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ। আল্লাহুম্মাগফির লি।

অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই। রাজত্ব তাঁরই, সব প্রশংসাও তাঁরই। তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আল্লাহ পবিত্র। আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো উপায় ও শক্তি নেই। হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করুন।

ঘুম থেকে ওঠার পর এসব দোয়া পাঠের মাধ্যমে একজন মুমিন তার দিন শুরু করতে পারেন আল্লাহর স্মরণ ও কৃতজ্ঞতার মধ্য দিয়ে। নিয়মিত সুন্নতসম্মত আমল মানুষের জীবনে আল্লাহর প্রতি নির্ভরতা, আত্মশুদ্ধি ও ইবাদতের অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়তা করে।