খুঁজুন
শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২৮ চৈত্র, ১৪৩২

স্ট্রেসজনিত মাথাব্যথা ও চোখের চাপ কমানোর ঘরোয়া উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:০১ পূর্বাহ্ণ
স্ট্রেসজনিত মাথাব্যথা ও চোখের চাপ কমানোর ঘরোয়া উপায়

আধুনিক জীবনে মাথাব্যথা এবং চোখের উপর চাপ সাধারণ লক্ষণ; কাজ এবং পরিবারের চাপ, সেইসাথে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, এই অবস্থার প্রধান কারণ।

ক্লান্তি, চাপজনিত মাথাব্যথা এবং চোখের চাপ কমাতে, রোগীরা কিছু সহজ ব্যবস্থা চেষ্টা করতে পারেন:

 আকুপ্রেসার, ম্যাসাজ

বাড়িতে মাথাব্যথা এবং চোখের চাপ কমানোর জন্য আকুপ্রেশার এবং ম্যাসাজ জনপ্রিয় পদ্ধতি। যদিও এটি জটিল শোনাতে পারে, সঠিকভাবে করা গেলে, এই পদ্ধতিটি বেশ সহজ এবং লক্ষণীয় শিথিলতা প্রদান করে। আকুপ্রেশার শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে, চাপ কমাতে এবং এইভাবে মাথাব্যথা এবং চোখের ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে।

কন্টেন্ট

 আকুপ্রেসার, ম্যাসাজ

 বরফের প্যাক লাগান।

 ভেষজ বাষ্প

 মুগওয়ার্ট এবং লবণ

 মাথাব্যথা এবং চোখের চাপ কমাতে জীবনযাত্রার পরিবর্তন।

অনুশীলনকারী আলতো করে কানের মস্তক ম্যাসাজ করতে পারেন, তারপর ধীরে ধীরে কপাল এবং কানের দিকে যেতে পারেন। কানের চারপাশের আকুপয়েন্টগুলিতে হালকাভাবে চাপ দিন এবং ঘাড় ম্যাসাজ করতে থাকুন। উভয় হাত পরস্পর সংযুক্ত করে, ঘাড়ের পিছনে রাখুন এবং বাম থেকে ডানে, উপরে থেকে নীচে ম্যাসাজ করুন। প্রতিদিন নিয়মিত এটি করলে শরীর আরও আরামদায়ক এবং স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে।

 বরফের প্যাক লাগান

হালকা মাথাব্যথা এবং চোখের ব্যথার জন্য ঠান্ডা কম্প্রেস প্রয়োগ করা একটি সহজ এবং কার্যকর প্রতিকার। বরফ রক্তনালীগুলিকে সংকুচিত করতে সাহায্য করে, রক্ত ​​প্রবাহ হ্রাস করে এবং এইভাবে ব্যথা উপশম করে। অতিরিক্তভাবে, ঠান্ডা কম্প্রেস মনকে শিথিল করতে এবং চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে।

সেরা ফলাফলের জন্য আপনি কয়েকটি বরফের টুকরো একটি পরিষ্কার কাপড়ে মুড়িয়ে প্রতিদিন প্রায় ১০-১৫ মিনিটের জন্য আপনার দাঁতের গুদে লাগাতে পারেন।

 ভেষজ বাষ্প

ভেষজ বাষ্প শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করা একটি ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি যা কেবল সর্দি-কাশি এবং ফ্লুতেই সাহায্য করে না বরং কার্যকরভাবে মাথাব্যথা এবং চোখের চাপ থেকে মুক্তি দেয়। কিছু গবেষণা অনুসারে, ভেষজের প্রয়োজনীয় তেল রক্ত ​​সঞ্চালন উন্নত করতে, চাপ কমাতে এবং মাথাব্যথার পুনরাবৃত্তি সীমিত করতে সহায়তা করে।

রোগীরা আদা, পুদিনা, ল্যাভেন্ডার, অথবা ইউক্যালিপটাস সিদ্ধ করতে পারেন, তারপর জ্বালা এড়াতে চোখ বন্ধ করে ২-৫ মিনিটের জন্য গভীরভাবে বাষ্পটি শ্বাস নিতে পারেন।

দ্রষ্টব্য: চোখের সাথে সরাসরি অপরিহার্য তেলের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন, অপরিহার্য তেল গিলে ফেলবেন না; শুধুমাত্র একটি বিশ্বস্ত উৎস থেকে প্রাপ্ত বিশুদ্ধ অপরিহার্য তেল ব্যবহার করুন, জ্বালা দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করুন এবং খুব বেশিক্ষণ ব্যবহার করবেন না।

 মুগওয়ার্ট এবং লবণ

স্নায়বিক এবং রক্তনালী রোগের চিকিৎসার জন্য মুগওয়ার্ট এবং লবণকে উপকারী উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মুগওয়ার্টে অনেক সক্রিয় যৌগ রয়েছে যা রক্ত ​​সঞ্চালন উন্নত করে এবং মাথাব্যথা উপশম করে, অন্যদিকে লবণ স্নায়ু শিথিল করতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

মাথাব্যথা এবং চোখের চাপ কমাতে আপনি লবণ দিয়ে মাগওয়ার্ট গরম করতে পারেন এবং এটি কম্প্রেস বা বালিশ হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।

মাথাব্যথা এবং চোখের চাপ কমাতে জীবনযাত্রার পরিবর্তন:

 ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ব্যবহার সীমিত করুন: স্ক্রিন থেকে আসা নীল আলো চোখের উপর চাপ এবং মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। লক্ষণগুলি দেখা দিলে, আপনার কাজ বন্ধ করুন এবং প্রায় ১৫-২০ মিনিটের জন্য আপনার চোখকে বিশ্রাম দিন।

 পর্যাপ্ত ঘুম পান: ঘুমের অভাব মাথাব্যথা এবং চোখের চাপের একটি সাধারণ কারণ। আপনার প্রতিদিন ৬-৮ ঘন্টা ঘুমানো উচিত, দেরি করে জেগে থাকা বা অতিরিক্ত কাজ করা এড়িয়ে চলা উচিত।

 যোগব্যায়াম অনুশীলন: যোগব্যায়াম মানসিক চাপ উপশম করতে, মেজাজ উন্নত করতে এবং মাথাব্যথা এবং চোখের চাপ কমাতে সাহায্য করে। যারা নিয়মিত যোগব্যায়াম করেন তাদের স্বাস্থ্য এবং মানসিক সুস্থতা ভালো থাকে।

 পর্যাপ্ত পানি পান করুন: পানিশূন্যতার কারণে ক্লান্তি, মনোযোগ দিতে অসুবিধা এবং মাথাব্যথা হতে পারে। সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য প্রতিদিন ১-১.৫ লিটার পানি পান করার লক্ষ্য রাখুন এবং আপনার খাদ্যতালিকায় পানি সমৃদ্ধ খাবার অন্তর্ভুক্ত করুন।

সূত্র: https://suckhoedoisong.vn/bi-quyet-giam-dau-dau-nhuc-mat-do-cang-thang-hieu-qua-169260128174253248.htm

ধর্মীয় কাজে বাধা দেওয়া অমার্জনীয় পরিণতি

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৫৩ অপরাহ্ণ
ধর্মীয় কাজে বাধা দেওয়া অমার্জনীয় পরিণতি

বহু মানুষ ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থে কিংবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য আল্লাহর দ্বিনের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, তারা সাময়িকভাবে সফল হলেও চূড়ান্ত পরিণতিতে ব্যর্থতা তাদের জন্য অবধারিত। এরা ইহকালে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, পরকালেও জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে।

মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিঃসন্দেহে যেসব লোক কাফির, তারা ব্যয় করে নিজেদের ধন-সম্পদ, যাতে বাধা দান করতে পারে আল্লাহর পথে। বস্তুত এখন তারা আরো ব্যয় করবে।

তারপর তা-ই তাদের জন্য আক্ষেপের কারণ হবে এবং শেষ পর্যন্ত তারা হেরে যাবে। আর যারা কাফির, তাদের জাহান্নামের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।


(সুরা : আনফাল, আয়াত : ৩৬)
যুগে যুগে মানুষ আল্লাহদ্রোহী কাজে লিপ্ত হয়েছে। এবং আল্লাহর দ্বিনের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে।

আদ, সামুদ, কওমে লুত, আহলে মাদইয়ান প্রভৃতি গোত্র আল্লাহদ্রোহী কাজে লিপ্ত হয়েছে। ফলে আল্লাহ তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়েছেন। কিন্তু মানুষ তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে না বলেই এ যুগেও সুনামি, সিডর, নার্গিস, ভূমিকম্প, ভূমিধস প্রভৃতি প্রাকৃতিক বিপর্যয় দিয়ে আল্লাহ পৃথিবীর মানুষকে সতর্ক-সাবধান করেন। তবে মানুষ খুব কমই উপদেশ গ্রহণ করে।

দ্বিনের কাজ করা আল্লাহর নির্দেশ। এ নির্দেশ বাস্তবায়নে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.) বিভিন্নভাবে নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি দ্বিনি কাজে বাধা প্রদান করতে মহান আল্লাহ কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা পথে-ঘাটে এ কারণে বসে থেকো না যে আল্লাহ বিশ্বাসীদের হুমকি দেবে, আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করবে এবং তাতে বক্রতা অনুসন্ধান করবে। স্মরণ করো, যখন তোমরা সংখ্যায় অল্প ছিলে অতঃপর আল্লাহ তোমাদের অধিক করেছেন এবং লক্ষ করো—কেমন অশুভ পরিণতি হয়েছে অনর্থকারীদের!’
(সুরা : আরাফ, আয়াত : ৮৬)

আল্লাহর দ্বিনের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা মূলত শয়তানি কাজ।
মানব সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকে শয়তান এ কাজ করে আসছে। প্রথম মানব ও প্রথম নবী আদম (আ.) থেকে অদ্যাবধি শয়তানের এ কাজ অব্যাহত আছে। শয়তানের সঙ্গে কিছু মানুষও দ্বিনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘শয়তান তো চায় মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের পরস্পরের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সঞ্চারিত করে দিতে এবং আল্লাহর স্মরণ ও সালাত থেকে তোমাদের বিরত রাখতে। অতএব, তোমরা এখনো কি নিবৃত্ত হবে?’
(সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৯১)

আল্লাহর দ্বিনে বাধা দেওয়া ইহুদি-নাসারাদের কাজ। তারা একদিকে নবী-রাসুলদের অস্বীকার করত, অন্যদিকে কেউ কেউ আল্লাহর দ্বিনের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করত। মহান আল্লাহ বলেন, ‘বলুন, হে কিতাবধারীরা! কেন তোমরা আল্লাহর পথে ঈমানদারদের বাধা দান করো, তোমরা তাদের দ্বিনের মধ্যে বক্রতা অনুপ্রবেশ করানোর পন্থা অনুসন্ধান করো, অথচ তোমরা এ পথের সত্যতা প্রত্যক্ষ করছ। বস্তুত আল্লাহ তোমাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অনবগত নন।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ৯৯)

দ্বিনের পথে বাধা দান করলে বহু কল্যাণকর জিনিস থেকে বঞ্চিত হতে হয়। ইহুদিরা আল্লাহর দ্বিনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করত। ফলে তাদের জন্য অনেক কল্যাণকর বস্তু হারাম করা হয়, যা আগে তাদের জন্য হালাল ছিল। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘বস্তুত ইহুদিদের জন্য আমি হারাম করে দিয়েছি বহু পূতঃপবিত্র বস্তু, যা তাদের জন্য হালাল ছিল, তাদের পাপের কারণে এবং আল্লাহর পথে অধিক পরিমাণে বাধা দানের দরুন।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১৬০)

অনুরূপভাবে এখনো কেউ আল্লাহর দ্বিনে বাধা দিলে সেও কল্যাণকর বহু জিনিস থেকে বঞ্চিত হবে।

দ্বিনি কাজে বাধা দান করা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। এ অপরাধ করে কেউ তাওবা না করলে আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করবেন না। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই যারা কাফির এবং আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে ফিরিয়ে রাখে, অতঃপর কাফির অবস্থায় মারা যায়, আল্লাহ কখনোই তাদের ক্ষমা করবেন না।’ (সুরা : মুহাম্মদ, আয়াত : ৩৪)

দ্বিনের পথে বাধা দান জঘন্য অপরাধ। এ জন্য আল্লাহ পরকালে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা রেখেছেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদাররা, পণ্ডিত ও সংসারবিরাগীদের অনেকে মানুষের মালপত্র অন্যায়ভাবে ভোগ করে চলেছে এবং আল্লাহর পথ থেকে লোকদের নিবৃত রেখেছে। আর যারা স্বর্ণ ও রৌপ্য জমা করে রাখে এবং তা ব্যয় করে না আল্লাহর পথে, তাদের কঠোর আজাবের সংবাদ শুনিয়ে দিন।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৩৪)

অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘যারা কাফির হয়েছে এবং আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করেছে, আমি তাদের আজাবের পর আজাব বাড়িয়ে দেব। কারণ তারা অশান্তি সৃষ্টি করত।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ৮৮)

অন্যত্র তিনি বলেন, ‘তোমরা নিজেদের কসমগুলোকে পারস্পরিক কলহ-দ্বন্দ্বের বাহানা কোরো না। তাহলে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর পা ফসকে যাবে এবং তোমরা শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করবে এ কারণে যে তোমরা আমার পথে বাধা দান করেছ এবং তোমাদের কঠোর শাস্তি হবে।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ৯৪)

আল্লাহ আরো বলেন, ‘যারা কুফরি করে ও আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করে এবং সেই মসজিদে হারাম থেকে বাধা দেয়, যাকে আমি প্রস্তুত করেছি স্থানীয় ও বহিরাগত সব মানুষের জন্য সমভাবে এবং যে মসজিদে হারামে অন্যায়ভাবে কোনো ধর্মদ্রোহী কাজ করার ইচ্ছা করে, আমি তাদের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আস্বাদন করাব।’ (সুরা : হজ, আয়াত : ২৫)

দ্বিনের পথে বাধা দানকারীরা যত কৌশল অবলম্বন করুক, তারা যতই প্রভাবশালী হোক, একসময় ব্যর্থ হতে হবে। পরাজয়ের মালা তাদের গলায় পরতেই হবে। এটা মহান আল্লাহর ঘোষণা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা কুফরি করে এবং আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করে, আল্লাহ তাদের সব কর্ম ব্যর্থ করে দেন।’ (সুরা : মুহাম্মদ, আয়াত : ১)

সৌজন্যে: কালের কণ্ঠ

ইসলামে ব্যক্তিস্বাধীনতার নানা দিক

আলেমা হাবিবা আক্তার
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৪৬ অপরাহ্ণ
ইসলামে ব্যক্তিস্বাধীনতার নানা দিক

ইসলাম মানুষের ব্যক্তিস্বাধীনতার স্বীকৃতি প্রদান করে। আল্লাহ মানবজাতিকে যে সম্মান ও শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন তার দাবিও মানুষের ব্যক্তিস্বাধীনতা নিশ্চিত করা।

তবে ইসলামে ব্যক্তির স্বাধীনতা নিঃশর্ত নয়। কেননা নিঃশর্ত স্বাধীনতা মানুষের পশু প্রবৃত্তিকে জাগ্রত করে।

ফলে সে নিজের ও অন্যের ক্ষতি করে, তার ভ্রুক্ষেপহীন আচরণ মনুষ্যত্বকে অপমান করে। শুধু ইসলাম নয়, পৃথিবীর কোনো ধর্ম, সমাজ ও সভ্যতায় ব্যক্তিস্বাধীনতা নিঃশর্ত নয়।

সমাজেই ধর্মীয় বিধান ও আইনি বাধ্যবাধকতার মাধ্যমে মানুষের মন্দ প্রবণতা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ রয়েছে।
ইসলামের দৃষ্টিতে ব্যক্তির স্বাধীনতা নিছক কোনো বস্তুগত বিষয় নয়, বরং এর সঙ্গে ব্যক্তির আধ্যাত্মিক মুক্তির প্রশ্নটিও গভীরভাবে জড়িত।

ইসলামে ব্যক্তিস্বাধীনতার মূল দর্শন হলো ব্যক্তি গাইরুল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া সবকিছু) থেকে মুক্তি লাভ করবে এবং সে প্রবৃত্তির দাসত্ব থেকে দূরে থাকবে। সুতরাং ইসলাম ততক্ষণ পর্যন্ত মানুষের স্বাধীনতা স্বীকার করে, যতক্ষণ পর্যন্ত সে নিজের বা অন্যের ক্ষতির কারণ না হয়। ইসলাম সেই ব্যক্তির স্বাধীনতা স্বীকার করে না যে সমাজে ফেতনা ও বিশৃঙ্খলা ছড়াতে চায়। বিপরীতে আধুনিক সমাজের কেউ কেউ মানুষের এমন অবাধ স্বাধীনতার দাবিদার, যা মানুষের মনুষ্যত্বকে ধ্বংস করে এবং তাকে প্রবৃত্তির বলি বানায়; তারা এমন স্বাধীনতার কথা বলে, যা মানুষের দেহ ও আত্মার জন্য অপমানজনক।
ব্যক্তিস্বাধীনতার নানা দিক

ইসলামে ব্যক্তিস্বাধীনতার কয়েকটি দিক ও দর্শন তুলে ধরা হলো—

১. মানুষ স্বাধীন সত্তার অধিকারী : ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষ স্বাধীন সত্তার অধিকারী। তাকে দাসে পরিণত করা এবং তার সঙ্গে দাসসুলভ আচরণ করা অন্যায়। মানুষ দাসত্ব করবে কেবল তার মহান স্রষ্টার। এ জন্য মিসরের প্রশাসক আমর ইবনুল আস (রা.)-এর ছেলে এক নাগরিককে বেত্রাঘাত করলে ওমর (রা.) বলেন, ‘তোমরা কখন মানুষকে দাসে পরিণত করলে, অথচ তাদের মা তাদের স্বাধীন হিসেবে জন্ম দিয়েছে।’
(আল ফারুক ওমর (রা.) : ২/১৯৮)

এ কারণেই পবিত্র কোরআনে মানুষকে এই প্রার্থনা শেখানো হয়েছে, ‘আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং আপনারই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি।’
(সুরা : ফাতিহা, আয়াত : ৫)

২. জ্ঞান আহরণের স্বাধীনতা : ইসলাম সর্বশ্রেণির মানুষের জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও গবেষণার দরজা উন্মুক্ত রেখেছে এবং ইসলাম মানুষকে শৈশব থেকে মৃত্যু পর্যন্ত জ্ঞান আহরণে উদ্বুদ্ব করেছে। পবিত্র কোরআনের একাধিক আয়াতে মানুষকে আল্লাহর সৃষ্টিজগত নিয়ে গভীর অনুসন্ধান ও গবেষণা করার আহবান জানানো হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে, রাত-দিনের পরিবর্তনে, যা মানুষের উপকার করে তাসহ সমুদ্রে বিচরণশীল নৌযানগুলোতে, আল্লাহ আকাশ থেকে যে বারিবর্ষণ দ্বারা পৃথিবীকে তার মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করেন তাতে এবং তার মধ্যে যাবতীয় জীবজন্তুর বিস্তারণে, বায়ুর দিক পরিবর্তনে, আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যে নিয়ন্ত্রিত মেঘমালায় জ্ঞান জাতির জন্য নিদর্শন আছে।’
(সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৬৪)

৩. রাজনৈতিক স্বাধীনতা : মানুষের ব্যক্তিজীবনে রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিশেষ গুরুত্ব আছে। ইসলাম মানুষের এই অধিকার প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে। ফলে ইসলামী রাষ্ট্রে ব্যক্তি শাসক নির্বাচনে মতামত দিতে পারে, শরিয়তের সীমার মধ্যে থেকে শাসককে ভালো-মন্দের পরামর্শ দিতে পারে, শাসকের যৌক্তিক সমালোচনা করতে পারে, কোনো জুলুম ও অবিচারের শিকার হলে তার প্রতিকার রাষ্ট্রের কাছে চাইতে পারে, শাসক যদি আল্লাহর অবাধ্য হয় তবে ব্যক্তিও তার অবাধ্য হতে পারে। আর জনগণের মতামতের মূল্যায়ন করতে আল্লাহর নির্দেশনা হলো, ‘আর কাজে-কর্মে তাদের সঙ্গে পরামর্শ কোরো।’
(সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৫৯)

৪. সমাজজীবনে স্বাধীনতা : ইসলাম ব্যক্তিকে সমাজজীবনে স্বাধীনভাবে নিজের মতামত প্রকাশের অধিকার দিয়েছে। ফলে সে সমাজের মানুষকে মন্দ থেকে বারণ করতে পারবে এবং নেক কাজে উৎসাহিত করতে পারবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মুমিন নর ও মুমিন নারী একে অন্যের বন্ধু, তারা সৎকাজের নির্দেশ দেয় এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করে, নামাজ কায়েম করে, জাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, তাদেরই আল্লাহ কৃপা করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী।’
(সুরা : তাওবা, আয়াত : ৭১)

৫. ধর্মবিশ্বাসের স্বাধীনতা : ইসলাম মানুষের ধর্মীয় জীবনের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। ইসলাম মনে করে, ব্যক্তি বিশ্বাসের ক্ষেত্রে স্বাধীন এবং পরকালে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি তাকেই করতে হবে। তবে কেউ ইসলাম গ্রহণের পর তা ত্যাগ করার অধিকার রাখে না। কেননা এতে মহান আল্লাহ, তাঁর রাসুল ও দ্বিন ইসলামের অসম্মান হয়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘দ্বিন সম্পর্কে জোর-জবরদস্তি নেই; সত্যপথ ভ্রান্ত পথ থেকে সুস্পষ্ট হয়েছে। যে তাগুতকে অস্বীকার করবে এবং আল্লাহে ঈমান আনবে সে এমন এক মজবুত হাতল ধরবে যা কখনো ভাঙবে না। আল্লাহ সর্বশ্রোতা, প্রজ্ঞাময়।’
(সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৫৬)

৬. ভাষা ও সংস্কৃতির স্বাধীনতা : পৃথিবীর মানুষ বিচিত্র ভাষা, বর্ণ ও সংস্কৃতির মধ্যে বসবাস করে। প্রত্যেকের জীবনধারা ও রীতিনীতি ভিন্ন। ইসলাম মৌলিক কিছু শর্তে পৃথিবীর ভাষা, বর্ণ ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের স্বীকৃতি দেয়। আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহর নিদর্শন হলো আসমানগুলো ও পৃথিবীর সৃষ্টি, তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য। নিশ্চয়ই এতে জানীদের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে।’
(সুরা : রোম, আয়াত : ২২)

মোট কথা, ইসলাম মানবপ্রকৃতি ও মানবকল্যাণের শর্তে মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে স্বাধীনতা স্বীকার করে। ইসলামে ব্যক্তিস্বাধীনতার মূলকথা হলো, মানুষ আল্লাহর দাসত্বের অধীনে থেকে যাবতীয় স্বাধীনতা ভোগ করবে। আল্লাহ সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন। আমিন।

সংলাপে যোগ দিতে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৩৮ অপরাহ্ণ
সংলাপে যোগ দিতে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদল

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সংলাপে যোগ দিতে ইসলামাবাদ পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের প্রতিনিধিদল।

শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে পাকিস্তান পৌঁছায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল।

তার সঙ্গে আছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার।
এর আগে শুক্রবার মধ্যরাতে ইরান পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফের নেতৃত্বে ইসলামাবাদ পৌঁছায় দেশটির প্রতিনিধিদল।

তার সঙ্গে আছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

সূত্র: আল-জাজিরা