খুঁজুন
শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ২২ ফাল্গুন, ১৪৩২

সেহরিতে দুধ-কলা: শক্তি নাকি ক্ষতি—জানুন সত্যটা

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬, ৯:০৪ পিএম
সেহরিতে দুধ-কলা: শক্তি নাকি ক্ষতি—জানুন সত্যটা

রোজায় সেহরিতে এমন খাবার বেছে নিতে হয়, যা সারাদিনের রোজা রাখার শক্তি জোগাবে। তাই সেহরিতে কী খাওয়া হচ্ছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশে অনেক পরিবারেই সেহরির টেবিলে দেখা যায় দুধ, কলা ও ভাত খেয়ে থাকে।

পেট ভরানো ও দ্রুত প্রস্তুত করা যায় বলে এটি বেশ জনপ্রিয়। অনেকেই সেহরিতে দুধ ভাত না হলে চলে না। তবে প্রশ্ন হলো সেহরিতে দুধ,কলা ভাত খেলে শরীরে কী প্রভাব পড়ে তা জেনে নেওযা যাক ।

শক্তির ভালো উৎস

দুধ,কলা ভাত তিনটি খাবারই শক্তির ভালো উৎস। ভাত থেকে পাওয়া যায় কার্বোহাইড্রেট, যা শরীরে গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়ে দ্রুত শক্তি দেয়। কলা প্রাকৃতিক চিনি, পটাশিয়াম ও ফাইবারে সমৃদ্ধ। এটি পেশির কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার সময় দুর্বলতা কমাতে সহায়ক হতে পারে। অন্যদিকে দুধে রয়েছে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও কিছু স্বাস্থ্যকর চর্বি, যা শরীরকে ধীরে ধীরে শক্তি জোগায়।

দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে

এই তিনটি একসঙ্গে খেলে শরীর কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও খনিজ পাওয়া যায়। ফলে অনেকের ক্ষেত্রে দুপুর পর্যন্ত ক্ষুধা কম লাগে। বিশেষ করে যারা শারীরিক পরিশ্রম করেন বা দীর্ঘ সময় কাজ করতে হয়, তাদের জন্য এই সংমিশ্রণটি তাৎক্ষণিক ও স্থায়ী শক্তি দুটোই দিতে পারে।

ঘুম হয়

ভাতে থাকা কার্বোহাইড্রেট শরীরে ট্রিপটোফ্যান নামের অ্যামিনো অ্যাসিডের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে, যা থেকে ‘সেরোটোনিন’ হরমোন তৈরি হয়। সেরোটোনিন মনের স্থিতি ভালো রাখতে এবং শরীরকে শান্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সেহরিতে ভাত খেলে এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শরীর কিছুটা আরাম অনুভব করতে পারে, ফলে খাওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই ঘুম ঘুম ভাব আসতে পারে।

পুষ্টিবিদদের মতে, সেহরির খাবারে জটিল কার্বোহাইড্রেট, পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ফাইবার থাকা উচিত। দুধ,কলা,ভাতের সঙ্গে যদি সামান্য বাদাম, চিয়া সিড বা এক টুকরো ফল যোগ করা যায়, তাহলে পুষ্টিমান আরও বাড়ে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে সারাদিন পানিশূন্যতা না হয়।

তবে সেহরিতে দুধ ভাত খেলে সমস্যা ও হয় যেমন –

অ্যাসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিক

দুধ ও কলা একসঙ্গে খেলে অনেকের ক্ষেত্রে হজমে সমস্যা হয়। আবার কারো কারোক্ষেত্রে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যাদের ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স রয়েছে, তারা দুধ খেলে পেট ফাঁপা, গ্যাস, পেটব্যথা কিংবা ডায়রিয়ার মতো সমস্যায় ভুগতে পারেন।

একইভাবে যাদের দুধে অ্যালার্জি আছে, তাদের জন্য দুধ–ভাতের সংমিশ্রণও হজমে সমস্যা তৈরি করতে পারে। ভাত বেশি পরিমাণে খাওয়া হলে তা হজম হতে সময় নেয়, ফলে পেটে ভারী ভাব বা অস্বস্তি বাড়তে পারে।

দ্রুত রক্তে শর্করা ওঠানামা

ভাত ও কলা-দুটিই কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ। একসঙ্গে বেশি পরিমাণে খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। কিছুক্ষণ পর আবার তা কমে গিয়ে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা বা অতিরিক্ত ক্ষুধা লাগতে পারে। তাই যাদের ডায়াবেটিস বা হজমের সমস্যা আছে, তারা চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে সেহরির খাবার ঠিক করাই ভালো।

হজম ধীর হওয়া

দুধে থাকা প্রোটিন ও চর্বি এবং ভাতে থাকা কার্বোহাইড্রেট একসঙ্গে হজম হতে সময় নেয়। কারো কারো ক্ষেত্রে এতে অম্বল বা বুক জ্বালাপোড়া দেখা দিতে পারে এবং অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।

যেভাবে অসুবিধা কমানো যায়

১. পরিমাণ কম রাখুন।

২. দুধের বদলে ল্যাকটোজ-ফ্রি দুধ ব্যবহার করতে পারেন (যদি সহ্য না হয়)।

৩. সাদা ভাতের বদলে লাল চাল বা পরিমিত পরিমাণ নিন।

৪. পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

৫. খাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়বেন না।

নারীরা পরকীয়ায় বেশি জড়িয়ে পড়ে কেন? জানলে অবাক হবেন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ৯:৫৪ এএম
নারীরা পরকীয়ায় বেশি জড়িয়ে পড়ে কেন? জানলে অবাক হবেন

পরকীয়ায় নারীরা জড়িয়ে পড়ে কেন? সমাজে একটি ভুল ধারণা প্রচলিত-নারী পরকীয়ায় জড়ালে সেটা নাকি “চরিত্রের সমস্যা”। কিন্তু বাস্তবতা হলো, অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারীর পরকীয়া শরীর থেকে নয়, শুরু হয় মন থেকে।

১. মানসিক অবহেলা ও একাকীত্ব অনেক নারী সংসারে থেকেও ভীষণ একা। স্বামী শারীরিকভাবে পাশে থাকলেও মানসিকভাবে অনুপস্থিত। কথা নেই, যত্ন নেই, অনুভব করার কেউ নেই। এই দীর্ঘ একাকীত্ব একদিন তাকে এমন একজনের দিকে ঠেলে দেয়, যে অন্তত তার কথা শোনে।

২. ভালোবাসা ও স্বীকৃতির অভাব নারী চায় না অনেক কিছু-সে শুধু চায় কেউ তাকে বুঝুক, বলুক- “তুমি গুরুত্বপূর্ণ।” যখন স্বামীর কাছ থেকে সে স্বীকৃতি পায় না, আর অন্য কেউ একটু প্রশংসা করে, তখন সেই প্রশংসাই হয়ে ওঠে ভয়ংকর মায়া।

৩. দাম্পত্য জীবনের একঘেয়েমি প্রতিদিন একই রুটিন, কোনো আবেগ নেই, কোনো রোমান্স নেই। নারীর মনও তো অনুভূতির-সে চায় নতুন করে ভালোবাসা অনুভব করতে। এই একঘেয়েমিই অনেক সময় তাকে ভুল সিদ্ধান্তে ঠেলে দেয়।

৪. দীর্ঘদিনের দমন করা কষ্ট অনেক নারী বছরের পর বছর অপমান, অবহেলা, কঠিন কথা, কিংবা নির্যাতন সহ্য করে। এক সময় সে ভেঙে পড়ে। আর তখন যে একটু সহানুভূতি দেখায়, সেই মানুষটাকেই সে নিরাপদ আশ্রয় মনে করে।

৬৫. সামাজিক মাধ্যম ও সহজ যোগাযোগ ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ-আজ যোগাযোগ খুব সহজ। একটা ইনবক্স, একটা “তুমি কেমন আছো?” এই ছোট কথাগুলোই অনেক সময় নারীর দীর্ঘদিনের শূন্যতা পূরণ করে ফেলে।

৬. আত্মমূল্যবোধ হারিয়ে ফেলা যখন একজন নারী বারবার শুনতে থাকে-“তুমি কিছুই পারো না”, “তোমার কোনো মূল্য নেই”-তখন সে নিজেকেই ভুলে যায়। আর কেউ যদি তাকে নতুন করে মূল্যবান মনে করায়, সে সেখানে জড়িয়ে পড়ে।

কিন্তু সত্যিটা কী?

নারীর পরকীয়া খুব কম ক্ষেত্রেই পরিকল্পিত। এটা বেশিরভাগ সময় অবহেলার প্রতিক্রিয়া। ভালোবাসা না পেলে, মানুষ মায়া খোঁজে। আর সেই মায়া একদিন পরকীয়ায় রূপ নেয়।

সমাধান কোথায়?

স্ত্রীকে শুধু দায়িত্ব নয়, মানুষ হিসেবে অনুভব করুন।

তার কথা শুনুন, তার অনুভূতিকে গুরুত্ব দিন।

ভালোবাসা প্রকাশে কৃপণতা করবেন না।

← মনে রাখুন-

যেখানে ভালোবাসা থাকে, সেখানে পরকীয়ার জায়গা হয় না।

শেষ কথা:

পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়া কোনো নারী হঠাৎ খারাপ হয়ে যায় না।

সে ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ে-

অবহেলা, একাকীত্ব আর না-পাওয়ার ভারে।

তাই প্রশ্নটা হওয়া উচিত-

“নারী কেন পরকীয়ায় জড়ায়?” না, “আমরা তাকে কী দিতে পারিনি?”

‘গ্রামের সেই বন্ধুরা আজ আর নেই’

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ৮:৪০ এএম
‘গ্রামের সেই বন্ধুরা আজ আর নেই’

অনেক বছর পর আজ আবার গ্রামে ফিরেছি। বাস থেকে নামতেই কাঁচা রাস্তার ধুলো, বাতাসে ধানের গন্ধ আর দূরে বাঁশবাগানের মৃদু শব্দ—সব মিলিয়ে মনে হলো যেন সময় থমকে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু সত্যি বলতে কী, সময় কখনও থামে না। শুধু মানুষ বদলে যায়, দৃশ্যপট বদলে যায়, আর একসময় বুঝতে পারি—যাদের সঙ্গে জীবনটা শুরু হয়েছিল, তারা কেউ আর পাশে নেই।

আমি ধীরে ধীরে হাঁটতে লাগলাম সেই পুরোনো রাস্তা ধরে। রাস্তার পাশে সেই পুকুরটা এখনও আছে। তবে আগের মতো কচুরিপানায় ভরা নয়। পাড়ে এখন ইট বসানো হয়েছে। পুকুরের দিকে তাকাতেই মনে পড়ে গেল সেই বিকেলগুলোর কথা—যখন আমরা পাঁচজন বন্ধু এখানে এসে ঝাঁপ দিতাম।

আমি, রফিক, জাহিদ, বাবলু আর শামীম।
আমাদের বন্ধুত্বটা ছিল খুব সাধারণ, কিন্তু তাতে ছিল অদ্ভুত এক শক্তি। তখন মোবাইল ছিল না, ইন্টারনেট ছিল না। ছিল শুধু মাঠ, নদী, কাদামাটি আর একে অপরের সঙ্গ।

স্কুল ছুটির পর আমরা দৌড়ে চলে যেতাম মাঠে। কেউ বল নিয়ে আসত, কেউ ব্যাট। কখনও ফুটবল, কখনও ক্রিকেট—যেটা পাওয়া যেত সেটাই খেলতাম। খেলার শেষে সবাই মিলে পুকুরে ঝাঁপ দিতাম। কারও মা দূর থেকে চিৎকার করে ডাকত—
“এই রফিক! বাড়ি আয়, সন্ধ্যা হয়ে গেছে!”
রফিক তখন হেসে বলত,
“আর পাঁচ মিনিট!”

সেই পাঁচ মিনিট কখনও পাঁচ মিনিটে শেষ হতো না।
একদিন বর্ষার বিকেলে আমরা সবাই মিলে নদীতে সাঁতার কাটতে গিয়েছিলাম। নদীটা তখন বেশ ফুলে উঠেছিল। জাহিদ একটু ভয় পেয়েছিল। সে বলেছিল,
“দোস্ত, আজ না যাই?”
কিন্তু বাবলু বলেছিল,
“আরে ভয় কিসের? আমরা তো আছিই!”
আমরা সবাই হেসেছিলাম। সেই হাসির শব্দ এখনও যেন বাতাসে ভেসে আসে।

গ্রামের জীবন ছিল সহজ। বিকেলে তালগাছের ছায়ায় বসে গল্প করা, মেলা এলে সবাই মিলে ঘুরতে যাওয়া, ঈদের দিন নতুন জামা পরে একে অপরের বাড়িতে বেড়ানো—সবকিছুতেই ছিল এক ধরনের আনন্দ।

কিন্তু সময় ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করল।
প্রথমে জাহিদ চলে গেল শহরে পড়তে। সে বলেছিল,
“ভালো রেজাল্ট করলে ঢাকায় কলেজে পড়ব।”
আমরা সবাই তাকে স্টেশন পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছিলাম। তখন মনে হয়েছিল কয়েকদিনের জন্যই যাচ্ছে। কিন্তু সেই কয়েকদিন ধীরে ধীরে কয়েক বছরে বদলে গেল।

তারপর রফিকও কাজের জন্য চলে গেল চট্টগ্রামে। বাবলু বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন দেখত। একদিন সত্যিই সে মালয়েশিয়া চলে গেল। শামীম গ্রামের বাজারে একটা দোকান দিল।
আমি তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে শহরে চলে গেছি।

প্রথম দিকে আমরা ফোনে কথা বলতাম। মাঝে মাঝে ঈদের সময় দেখা হতো। কিন্তু সময় যত এগোতে লাগল, ততই যোগাযোগ কমে গেল।
একদিন খবর পেলাম—রফিক আর নেই।
কারখানায় কাজ করার সময় একটা দুর্ঘটনা হয়েছিল। খবরটা শুনে অনেকক্ষণ চুপ করে বসে ছিলাম। বিশ্বাসই হচ্ছিল না।
তারপর কয়েক বছর পর শুনলাম শামীম অসুস্থ হয়ে মারা গেছে।

বাবলু এখনও বিদেশেই আছে, কিন্তু বহু বছর তার কোনো খবর নেই। জাহিদ নাকি ঢাকায় বড় চাকরি করে, কিন্তু তার সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল প্রায় দশ বছর আগে।

আজ এত বছর পর গ্রামে ফিরে বুঝতে পারছি—আমাদের সেই ছোট্ট পৃথিবীটা আর নেই।
আমি হাঁটতে হাঁটতে সেই পুরোনো স্কুলের সামনে এসে দাঁড়ালাম। স্কুলের দেয়াল নতুন করে রং করা হয়েছে। মাঠটাও আগের চেয়ে ছোট মনে হচ্ছে।
এক কোণে কয়েকটা ছোট ছেলে ক্রিকেট খেলছে। তাদের হাসির শব্দ শুনে হঠাৎ মনে হলো—আমরাও তো একদিন এমনই ছিলাম।

হয়তো তারা এখন বুঝতে পারছে না, কিন্তু একদিন তারাও বড় হবে। কেউ শহরে যাবে, কেউ বিদেশে। কেউ হয়তো আর ফিরেও আসবে না।
আমি মাঠের এক পাশে দাঁড়িয়ে অনেকক্ষণ তাদের খেলা দেখলাম।
হঠাৎ মনে হলো, যদি এখন রফিক এসে বলে—
“এই দোস্ত, খেলবি?”
যদি জাহিদ এসে বলে—
“আজ নদীতে যাবি?”

যদি বাবলু সেই আগের মতো হেসে ওঠে।
কিন্তু জানি, সেটা আর কখনও হবে না।
বিকেলের সূর্য তখন ধীরে ধীরে পশ্চিমে ঢলে পড়ছে। বাতাসে আবার সেই পুরোনো গ্রামের গন্ধ। কিন্তু এই গন্ধের ভেতরেও একটা শূন্যতা আছে।
আমি পুকুরের পাড়ে গিয়ে বসে পড়লাম। পানিতে সূর্যের আলো ঝিলমিল করছে।

মনে হলো, আমাদের শৈশবটা ঠিক এই পানির ঢেউয়ের মতো—একসময় ছিল, খুব কাছেই ছিল। কিন্তু এখন শুধু স্মৃতি হয়ে রয়ে গেছে।
আমি ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালাম।
হাঁটতে হাঁটতে মনে মনে বললাম—
“বন্ধুরা, তোমরা যেখানেই থাকো, ভালো থেকো।
এই গ্রামটা এখনও আছে, এই পুকুরটা এখনও আছে…
শুধু তোমরা আর নেই।”

সন্ধ্যার আজানের ধ্বনি ভেসে এলো দূরের মসজিদ থেকে।
আর আমি বুঝলাম—জীবন সামনে এগিয়ে যায়, কিন্তু হৃদয়ের ভেতর কোথাও না কোথাও সেই গ্রামের বন্ধুরা চিরকাল বেঁচে থাকে।

লেখক: হারুন-অর-রশীদ, সংবাদকর্মী, ফরিদপুর।

বসন্তে বাড়ে নানা রোগ, সুস্থ থাকতে খান যেসব মৌসুমি খাবার?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ৮:০৩ এএম
বসন্তে বাড়ে নানা রোগ, সুস্থ থাকতে খান যেসব মৌসুমি খাবার?

ঋতু পরিবর্তনের সময়, বিশেষ করে বসন্তকালে বিভিন্ন ধরনের অসুখ-বিসুখের প্রকোপ বাড়ে। তবে প্রকৃতিতে যেমন রোগ আছে, তেমনি রয়েছে তার সমাধানও। বিশেষজ্ঞদের মতে, যে ঋতুর যে রোগ, সেই ঋতুর শাক-সবজি ও ফলেই লুকিয়ে থাকে তার প্রতিকার। তাই বাজারি খাবারের বদলে মৌসুমি খাবার খেলে শরীর সুস্থ থাকে।

ছেলেবেলায় অনেকের সকাল শুরু হতো নিমপাতা ও কাঁচা হলুদ খেয়ে। খালি পেটে ৪-৫টি নিমপাতা চিবিয়ে খাওয়ার পর মুখের তেতো কাটাতে খাওয়া হতো কাঁচা হলুদ, গোলমরিচ ও আখের গুড়। এসব উপাদান জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করে। এগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে হাঁচি-কাশি, জ্বর ও পেটের সমস্যার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

নিমপাতায় থাকা নিম্বিন ও নিম্বোলাইডসহ প্রায় ১৩০টি উপাদান, হলুদের কারকিউমিন এবং গোলমরিচের পিপারিন শরীরকে বিভিন্ন সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তি জোগায়।

কাঁচা নিমপাতা খেতে না পারলে ভাতের সঙ্গে নিম-বেগুনের তরকারি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে একদিকে জীবাণুনাশক গুণ পাওয়া যায়, অন্যদিকে বেগুনের পুষ্টিগুণও শরীরকে সমৃদ্ধ করে। এতে প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান পাওয়া যায়।

কম ক্যালোরি ও বেশি ফাইবার থাকায় ওজন নিয়ন্ত্রণেও এটি সহায়ক।

এ সময় সজনে ডাঁটা ও ফুল খাওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে শরীর প্রোটিন, ভিটামিন, ক্যালশিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট পায়। এটি শরীরের প্রদাহ কমাতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। পাশাপাশি রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও হাঁপানির প্রকোপ কমাতেও সজনে উপকারী।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বসন্তকালে বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি খাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। পালং শাক, মেথি শাক, মুলা শাক, ধনেপাতা, পেঁয়াজকলি, বাঁধাকপি, ফুলকপি, মুলা, মটরশুঁটি, বিট, গাজর, ব্রোকোলি, ক্যাপসিকাম, টমেটো, নতুন আলু, শিম, বিনস, কুমড়ো ও পটল, এসব সবজি বিভিন্নভাবে খাওয়া যেতে পারে। সেদ্ধ, তরকারি, স্যুপ বা সালাদ হিসেবে এসব খেলে শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও ফাইটোকেমিক্যাল পায়। এতে ঋতু পরিবর্তনের সময় অসুখ-বিসুখের ঝুঁকি কমে।

ভাতের সঙ্গে লেবু খাওয়াও উপকারী। ডাল, সালাদ বা ধনেপাতার চাটনির সঙ্গে লেবু খেলে শরীর কিছুটা ভিটামিন সি পায়।

রাতে নয়, দিনে ফল

ফল দিনে খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে প্রাকৃতিক চিনি থাকায় রাতে ফল খেলে ওজন বাড়ার আশঙ্কা থাকতে পারে। দিনের বেলায় ফল খেলে শরীরের বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে সেই চিনি খরচ হয়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঋতু পরিবর্তনের সময় সুস্থ থাকতে বেশি দাম দিয়ে অসময়ের ফল-সবজি না কিনে মরসুমি শাক-সবজি ও ফল খাওয়াই সবচেয়ে ভালো। এতে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে।