খুঁজুন
মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ২৫ ফাল্গুন, ১৪৩২

শবে কদরের রাতে যে দোয়া পড়তে বলেছেন মহানবী (সা.)?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ৬:৫৩ এএম
শবে কদরের রাতে যে দোয়া পড়তে বলেছেন মহানবী (সা.)?

লাইলাতুল কদর বা শবেকদর বছরের শ্রেষ্ঠ রাত। এই রাত হাজার বছরের চেয়ে উত্তম। মহাগ্রন্থ আল কোরআনে রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন, ‘তুমি কি জানো শবে কদর কী?

শবে কদর এক হাজার মাস অপেক্ষাও শ্রেষ্ঠ। সে রাতে ফেরেশতাগণ ও রূহ প্রত্যেক কাজে তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে অবতীর্ণ হয়। সে রাত (আদ্যোপান্ত) শান্তি ফজরের আবির্ভাব পর্যন্ত। (সুরা কদর : ১-৫)

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘ রমজানে এমন একটি রাত আছে, যা হাজার রাতের চেয়ে উত্তম। যে এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো, সে সত্যিই বঞ্চিত হলো। ’ (সুনানে নাসায়ি: ২১০৮)

অন্য হাদিসে তিনি (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় কদরের রাতে ইবাদতের মধ্যে রাত জাগবে, তার আগের গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (বোখারি : ৩৫)

বরকতময় এই রাতে আপনি আপনার প্রয়োজনীয় জিনিস মহান রাব্বুল আলামিনের কাছ থেকে চেয়ে নিতে পারেন। তিনি দিতে চান, আপনি না নিলে তিনি অসন্তুষ্ট হন। আল্লাহর হাবিব (সা.) বলেন, ‘যে আল্লাহর কাছে চায় না, আল্লাহ তার প্রতি রাগান্বিত হন।’ (তিরমিজি : ৩৩৭৩)

তাহলে শবেকদের কী দোয়া করবেন, কী চাইবেন?

লাইলাতুল কদর যেহেতু বিশেষ রজনী, তাই এ রাতে বিশেষ কিছুই চাওয়া দরকার। সেই বিশেষ প্রার্থনা নবীজি (সা.) আমাদের শিখিয়ে গেছেন। হজরত আয়েশা (রা.) নবীজিকে (সা.) জিজ্ঞাসা করেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ, যদি আমি জানতে পারি আজ লাইলাতুল কদর তাহলে আমি কী দোয়া করতে পারি? নবীজি (সা.) বললেন, তুমি বলো, اللّهُمّ إِنّكَ عُفُوّ تُحِبّ الْعَفْوَ ।فَاعْفُ عَنِّي

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আননি।

অর্থ : হে আল্লাহ, আপনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। আপনি ক্ষমা করতেই ভালোবাসেন। সুতরাং আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন। (তিরমিজি : ৩৫১৩)

খুব শিগগিরই শেষ হবে ইরান যুদ্ধ: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ৮:১৭ এএম
খুব শিগগিরই শেষ হবে ইরান যুদ্ধ: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হয়ে যাবে। ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এ কথা বলেন তিনি। এর আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নিয়ে তিনি আলোচনা করেছেন বলেও জানান।

ফ্লোরিডার ডোরাল শহরে সাংবাদিকদের সামনে ট্রাম্প বলেন, গত ১০ দিনের এই যুদ্ধ, যাতে ইরানে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটেছে।

তিনি এটিকে একটি ‘স্বল্পমেয়াদি অভিযান’ হিসেবে দেখছেন।

তিনি দাবি করেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে প্রায় ৫ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। ওই দিনই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন।

যদিও ট্রাম্প বলেছেন সংঘাত দ্রুত শেষ হতে পারে, তবুও তিনি সতর্ক করেছেন ইরান যদি হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা দিতে থাকে, তাহলে আরও বড় হামলার মুখে পড়তে হবে।

এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যাপক বেড়ে গেছে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড একসময় ব্যারেলপ্রতি ১১৯ ডলারের ওপরে উঠে যায়।

ট্রাম্প বলেন, “আমি কোনো সন্ত্রাসী শাসনকে বিশ্বকে জিম্মি করে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ বন্ধ করার চেষ্টা করতে দেব না। ইরান যদি এমন কিছু করার চেষ্টা করে, তাহলে তাদের ওপর আরও অনেক কঠোর হামলা হবে।”

তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় অঞ্চলে চলাচলকারী তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি বিমা দিচ্ছে এবং প্রয়োজনে তাদের সুরক্ষায় পাশে থাকবে।

ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এখনো ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “আজ থেকে আমরা জানি তারা কোথায় কোথায় ড্রোন তৈরি করে এবং একের পর এক সেসব স্থাপনায় হামলা চলছে।” তার দাবি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এখন ‘প্রায় ১০ শতাংশে নেমে এসেছে, সম্ভবত তারও কম’।

‘স্বল্পমেয়াদি অভিযান’

এর আগে ডোরালে নিজের গলফ ক্লাবে রিপাবলিকান নেতাদের এক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ইরানে এই যুদ্ধ একটি ‘স্বল্পমেয়াদি অভিযান’। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, শত্রুকে পুরোপুরি ও চূড়ান্তভাবে পরাজিত না করা পর্যন্ত এই অভিযান চলবে।

ট্রাম্প বলেন, “আমরা একটু অভিযান চালিয়েছি, কারণ কিছু লোককে সরিয়ে দিতে এটি প্রয়োজন ছিল। অনেক দিক থেকে আমরা ইতোমধ্যেই জিতেছি, কিন্তু এখনো পুরোপুরি জিতিনি।”

ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নিয়ে পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপের পর ট্রাম্প এই সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন। তিনি জানান, পুতিন মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত সমাধানে ‘সহায়তা করতে চান’।

ট্রাম্প বলেন, “আমি তাকে বলেছি—ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করতে পারলে সেটাই বেশি সহায়ক হবে। তবে আমাদের মধ্যে খুব ভালো আলোচনা হয়েছে।”

ট্রাম্পের বিপরীতে পুতিন সোমবার নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং তেহরানের প্রতি মস্কোর সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

নতুন সর্বোচ্চ নেতা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, তিনি এই নির্বাচনে ‘হতাশ’। তার মতে, “এতে দেশটির একই সমস্যাই আরও বাড়বে।”

নতুন নেতাকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, এ বিষয়ে মন্তব্য করা তার জন্য ‘উপযুক্ত হবে না’।

এর আগে ইসরায়েল জানিয়েছে, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পরিবর্তে যে নতুন ইরানি নেতা নির্বাচিত হবে, তাকেও হত্যার লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।

গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প আবারও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি ইরানের সম্ভাব্য শক্তি ধ্বংস করতে যৌথ হামলা না চালাত, তাহলে ইরান এখন পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হয়ে যেত।

তিনি বলেন, “তারা অনেক আগেই এটি ব্যবহার করত, আর অন্তত ইসরায়েল নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত।”

সূত্র: আল জাজিরা

জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু, কী জানা গেল এখন পর্যন্ত?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ৭:৫৯ এএম
জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু, কী জানা গেল এখন পর্যন্ত?

বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ডে ‘সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল’ হিসেবে পরিচিত জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ অভিযানে চালিয়েছে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‍্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় চার হাজার সদস্য।

সোমবার ভোর থেকে শুরু হয়ে দিনভর চালানো এই অভিযানে ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে দেখা গেছে। অভিযানে ১৫ জনকে আটকের পাশাপাশি কিছু অস্ত্র উদ্ধারের কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশ বলছে, এই অভিযানের মাধ্যমে জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

এর আগে বিভিন্ন সময়ে এই এলাকায় অভিযান চালাতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা হামলার শিকার হয়েছেন।

সবশেষ গত ১৯শে জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চালানোর সময় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন র‍্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া।

মূলত ওই ঘটনার কারণেই মাদক, অস্ত্র ও নানা বাহিনীর জন্য আলোচিত হয়ে ওঠা জঙ্গল সলিমপুরে বড় ধরনের অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন।

যদিও পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্য থেকে ধারণা পাওয়া গেছে যে, ব্যাপক আয়োজনে চালানো এই অভিযানের প্রস্তুতি সম্পর্কিত তথ্য আগেই ফাঁস হয়ে গেছে।

পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ বলেছেন, জঙ্গল সলিমপুরে এখন থেকে পুলিশ ও র‍্যাবের দুটি স্থায়ী কেন্দ্রের কার্যক্রম চলবে।

“আমাদের মূল ফোকাস ছিল এই বিশাল অংশে আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা এবং আমরা সেটি করতে পেরেছি৷ আজ থেকে পুলিশ ও র‍্যাবের দুটি ক্যাম্প এখানে কাজ করবে। ক্যাম্পের নিরাপত্তাবিধানে যদি এখানে কামান দেওয়া লাগে, আমরা কামান দেব,” সাংবাদিকদের বলেছেন তিনি।

অভিযানে যা যা হয়েছে

চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকা থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার পশ্চিমে এশিয়ান উইমেন ইউনিভার্সিটির বিপরীতে, লিংক রোডের উত্তর পাশে বিস্তৃত তিন হাজার ১০০ একর জায়গাজুড়ে জঙ্গল সলিমপুর নামক এলাকাটি অবস্থিত।

পাহাড় কেটে বানানো এই খাসজমির ওপর গড়ে ওঠা এলাকাটি কার্যত ‘সন্ত্রাসীদের’ কয়েকটি গোষ্ঠী নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। সেখানে প্রায় ২০-২৫ হাজার মানুষ বাস করলেও তাদের জন্য রয়েছে আলাদা পরিচয়পত্র।

মূলত নিম্নআয়ের বিভিন্ন পেশার শ্রমজীবী মানুষরা কম খরচে বসবাসের জন্য এই এলাকায় বাস করেন। এর বাইরে রয়েছে বিপুল সংখ্যক ছিন্নমূল মানুষের উপস্থিতি।

আজ ভোরেই পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা। র‍্যাবের গাড়ি বহরের সাথে একাধিক অ্যাম্বুলেন্সও ঢুকতে দেখা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকরা জানিয়েছেন।

পুলিশ বলছে, বিভিন্ন ধরনের যানবাহন নিয়ে জঙ্গল সলিমপুরে ঢুকেই প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়েছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যদের।

পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে, ভেতরে ছোটো কালভার্ট ভেঙ্গে রাখার পাশাপাশি রাস্তায় ট্রাক আড়াআড়ি ফেলে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে অনেক স্পিড ব্রেকার দিয়ে রাখা হয়েছে।

“এগুলো সরিয়ে আমাদের যেতে হয়েছে,” বলেছেন তিনি।

এর আগে যৌথ বাহিনীর সদস্য একাধিক ভাগে ভাগ হয়ে ভোরে অভিযান শুরু করেন। একই সাথে ওই এলাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার পথগুলোতে যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করতে বসানো হয় চেকপোস্ট।

এর আগে বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর সন্ত্রাসীদের হামলার উদাহরণ থাকায় এবার সার্বক্ষণিক ড্রোন ব্যবহার করা হয় নজরদারির জন্য।

কিন্তু অভিযানে ওই এলাকায় সন্ত্রাসের জন্য যারা বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছিল, তাদের কাউকে গ্রেফতার বা আটক করা গেছে কি-না সে সম্পর্কে পুলিশের দিক থেকে কিছু জানানো হয়নি।

অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসান বলেছেন, পুলিশ ও র‍্যাবের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও বিজিবি যৌথভাবে একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে এই অভিযান পরিচালনা করছে।

জঙ্গল সলিমপুর আলোচনায় কেন

দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কেটে কেটে তৈরি হওয়া এলাকাটিতে প্লট বাণিজ্য, অস্ত্র ও মাদক নিয়ে প্রায়ই বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই চলে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এবার ২০২৪ সালের অগাস্টে সরকার পরিবর্তনের পর দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে দ্বন্দ্ব চরমে ওঠে ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

গত উনিশে জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চালানোর সময় র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে এবং এতে র‍্যাবের এক সদস্য নিহত হন।

এ ঘটনায় ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে ও আর দুশো জন অজ্ঞাত পরিচয়ধারীকে আসামি করে মামলা হয়েছে। মামলায় বলা হয়েছে, র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলা ও চার র‍্যাব সদস্যকে অপহরণ করা হয়েছিল। পরে তাদের সেনাবাহিনী ও পুলিশ উদ্ধার করে।

পুলিশ ও র‍্যাব তখন বলেছিল, এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করে বিভিন্ন গ্রুপ। এর মধ্যে রয়েছে ইয়াসিন গ্রুপ, রোকন গ্রুপ কিংবা রিদোয়ান গ্রুপ।

র‍্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান তখন র‍্যাবের ওপর হামলার জন্য ইয়াসিন গ্রুপকে অভিযুক্ত করেছিলেন।

স্থানীয় সাংবাদিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগে সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণ ছিল মশিউর-গফুর গ্রুপের হাতে এবং এরপর তা চলে যায় রোকন গ্রুপের হাতে।

অন্যদিকে আলীনগর নিয়ন্ত্রণ করতো ইয়াসিন গ্রুপ। কিন্তু এই ইয়াসিন গ্রুপ সম্প্রতি রোকন গ্রুপকে সরিয়ে সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণও নিয়ে নেয়।

আওয়ামী লীগ আমলে ২০২২ সালে একবার র‍্যাবের সাথে ‘সন্ত্রাসীদের’ গোলাগুলি হয় এবং ওই বছরই সলিমপুরে অবৈধ ঘরবাড়ি উচ্ছেদ অভিযান শেষে জেলা প্রশাসনের লোকদের বাধা দেওয়া হয়। একই বছর আলীনগরে অবৈধ বসতি ভাঙতে গেলে আলীনগরের ‘সন্ত্রাসীরা’ পুলিশের ওপর হামলা চালায়।

ওই বছরই জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের শাখা, মডেল মসজিদ, স্পোর্টস ভিলেজ ও নভোথিয়েটারসহ বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু জঙ্গল সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণ প্রশাসনের হাতে না থাকায় প্রকল্পগুলোর কোনো অগ্রগতি হয়নি।

এখন পুলিশ কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে, আজকের যৌথ অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল জঙ্গল সলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ করে র‍্যাব ও পুলিশের দুটি স্থায়ী কেন্দ্র নিশ্চিত করা, যার মাধ্যমে ওই এলাকায় প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ তৈরি হবে বলে তারা আশা করছেন।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

ভ্যাট ফাঁকির নতুন কৌশল কী ‘শূন্য রিটার্ন’?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ৭:৩৫ এএম
ভ্যাট ফাঁকির নতুন কৌশল কী ‘শূন্য রিটার্ন’?

কর ছাড়ের বড় সুবিধা পাওয়ার পরও বছরের পর বছর ভ্যাট ফাঁকি দেওয়ার এক অভিনব কৌশল উন্মোচন করেছে ভ্যাট নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। ভ্যাটযোগ্য পণ্য বিক্রি করেও তা গোপন রেখে ‘শূন্য ভ্যাট রিটার্ন’ দাখিল করেছে এমন ৯৫৩টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান খুঁজে পেয়েছে সংস্থাটি।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, হুইলচেয়ার, কমোড চেয়ার ও পোর্টেবল চিকিৎসা সরঞ্জাম আমদানিতে এসব প্রতিষ্ঠানকে আমদানি পর্যায়ে কোনো শুল্ক-কর পরিশোধ করতে হয় না। তবে স্থানীয় পর্যায়ে বিপণনের ক্ষেত্রে ভ্যাট প্রদানের বিধান থাকলেও তা বছরের পর বছর ফাঁকি দিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানগুলো।

অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের ক্রয়-বিক্রয় তথ্য যাচাই করে ভ্যাট ফাঁকির এই বিশাল চিত্র পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ৯৫৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২১টির বিরুদ্ধে ৫৫ কোটি ১৭ লাখ টাকার বেশি ভ্যাট ফাঁকির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিলেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, সুদ ও জরিমানা যোগ করলে এই ফাঁকির পরিমাণ শতকোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

জনবল সংকট ও কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে বাকি ৯৩২টি প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট ফাঁকির প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটন, রাজস্ব আদায়সহ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দেশের ১২টি কমিশনারেট অফিসকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছে গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সবগুলো প্রতিষ্ঠানের তথ্য যাচাই শেষে ভ্যাট ফাঁকির পরিমাণ প্রায় হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।

ভ্যাট ফাঁকির তথ্য উদ্ঘাটনসহ সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ভ্যাট নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জাকির হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্ত চলাকালীন এই মুহূর্তে সুনির্দিষ্ট মন্তব্য করা সম্ভব নয়।’

আমদানিতে শুল্কছাড়ের বিশাল সুবিধা পাওয়ার পরও পণ্য বিক্রির তথ্য গোপন করে ‘শূন্য ভ্যাট রিটার্ন’ দাখিলের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আত্মসাৎ করছে আমদানিকারকরা। ভ্যাট গোয়েন্দাদের অনুসন্ধানে ৯৫৩টি প্রতিষ্ঠানের এমন অভিনব জালিয়াতি ধরা পড়েছে। হুইলচেয়ার ও কমোড চেয়ারের মতো জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম বিক্রিতে স্থানীয় পর্যায়ে ভ্যাট প্রদানের বিধান থাকলেও প্রতিষ্ঠানগুলো বছরের পর বছর তা এড়িয়ে গেছে

অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গোয়েন্দা প্রতিবেদন পাওয়ার পরপরই চিহ্নিত ২১টি প্রতিষ্ঠানের বকেয়া রাজস্ব আদায়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে, জনবল সংকটের কারণে অবশিষ্ট ৯৩২টি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বিস্তারিত তদন্ত ও ভ্যাট আদায়ের দায়িত্ব ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের ১২টি কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটকে দেওয়া হয়েছে। তাদের সুনির্দিষ্ট সুপারিশ ও তদন্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যা বলছে

গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে ব্যবহৃত হুইলচেয়ার, হাঁটার লাঠি বা ছড়ি এবং পোর্টেবল কমোড চেয়ারের মতো পণ্যগুলো প্রায় শতভাগ আমদানি-নির্ভর। এসব পণ্য বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের মাধ্যমে দেশে আসে এবং পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে বাজারে ছড়িয়ে পড়ে। ভ্যাট গোয়েন্দাদের অনুসন্ধানে এই খাতে মোট ৯৫৩টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মেয়াদের আমদানি তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, এই ৯৫৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দু-একটি বাদে প্রায় সবকটি প্রতিষ্ঠান নিয়মিত ‘শূন্য ভ্যাট রিটার্ন’ দাখিল করে আসছে। যদিও এসব পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে আমদানিকারকরা সব ধরনের শুল্ক ও কর অব্যাহতি পান, তবে নিয়মানুযায়ী স্থানীয় পর্যায়ে পণ্য বিপণনের ক্ষেত্রে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক।

অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান নামমাত্র ভ্যাট দিলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই স্থানীয় পর্যায়ের প্রযোজ্য ভ্যাট পরিশোধ না করে নিয়মিত শূন্য রিটার্ন জমা দিচ্ছে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর ২১টি প্রতিষ্ঠানের বড় ধরনের ভ্যাট ফাঁকির তথ্য উদ্ঘাটন করেছে, যার আর্থিক পরিমাণ ৫৫ কোটি ১৭ লাখ ৯০৭ টাকা।

চিহ্নিত ২১ আমদানিকারক এবং ফাঁকি দেওয়া ভ্যাটের চিত্র

গোয়েন্দা অনুসন্ধানে ৯৫৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২১টির বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকির সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে। ২০২০-২০২৫ অর্থবছর পর্যন্ত পাঁচ বছরের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, এই প্রতিষ্ঠানগুলো বছরের পর বছর ‘শূন্য রিটার্ন’ দাখিল করে মোট ৫৫ কোটি ১৭ লাখ ৯০৭ টাকা ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে ২১টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পাঁচ বছরে ৫৫ কোটি ১৭ লাখ টাকার সুনির্দিষ্ট ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ মিলেছে। ভ্যাট গোয়েন্দাদের মতে, সুদ ও জরিমানা যোগ করলে এই ফাঁকির পরিমাণ কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। ট্রেড ভিশন ও ইউনিমিড লিমিটেডের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। গোয়েন্দা অধিদপ্তরের কড়া নজরদারিতে এখন বেরিয়ে আসছে বড় বড় রাঘববোয়ালদের নাম

শীর্ষ ভ্যাট ফাঁকি দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— ট্রেড ভিশন লিমিটেড, ১৭ কোটি ৮১ লাখ ৭৮ হাজার ১৯৬ টাকা; ইউনিমিড লিমিটেড, ১৪ কোটি ৪৮ লাখ ৮৭ হাজার ৬১৮ টাকা; তাজ ট্রেডার্স প্রাইভেট লিমিটেড, ৫ কোটি ১৯ লাখ ৫৩ হাজার ৮২২ টাকা; এসএস এন্টারপ্রাইজ, ৩ কোটি ৭৩ লাখ ৩০ হাজার ৬৪২ টাকা; মেডিকিট ইন্টারন্যাশনাল, ২ কোটি ৭২ লাখ ২৬ হাজার ৩০৯ টাকা; রুশদা এন্টারপ্রাইজ, ১ কোটি ৬৮ লাখ ৭৭ হাজার ৪৪১ টাকা; ইউনাইটেড সার্জিক্যাল লিমিটেড, ১ কোটি ৫৪ লাখ ৯৫ হাজার ৬২৭ টাকার ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে।

অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ফাঁকির পরিমাণ

তালিকায় থাকা আরও বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের ফাঁকির তথ্য উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিপরা ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, ৮১ লাখ ৭৬ হাজার ৮০২ টাকা; ইউরো মিলেনিয়াম ট্রেডিং, ৯৪ লাখ ৫ হাজার ৩৬৩ টাকা; দেশ মিডিকা, ৯১ লাখ ১১ হাজার ৬৪৯ টাকা; ইয়ামিন টেক ইন্টারন্যাশনাল, ৮৩ লাখ ৫২ হাজার ৬৪৩ টাকা; মেহেদী সার্জিক্যাল স্টোর, ৫৮ লাখ ২৭ হাজার ৮৬১ টাকা; সুপার হেলথ কেয়ার, ৫৬ লাখ ২৯ হাজার ৫৯৭ টাকা; স্ট্যান্ডার্ড মেডিকেল সিস্টেম, ৫৬ লাখ ৯৮ হাজার ৪৬৫ টাকা এবং ম্যাক্সটন এলাইন্স, ৫৩ লাখ ৮ হাজার ৫০১ টাকার ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে।

এছাড়া মেসার্স ট্রেড ফেয়ার, ৩৭ লাখ ৯৮ হাজার ৯০২ টাকা; সাজ্জাদ ইনট্রাস্ট ট্রেড ২৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩৫ টাকা; নুসাইবা ট্রেডিং, ৩৫ লাখ ৫২ হাজার ৯০৭ টাকা; বায়োটেক সার্ভিসেস, ৩১ লাখ ৭১ হাজার ৬৮৭ টাকা; মেডিকম, ৫৩ লাখ ৮৩ হাজার ৭০১ টাকা; মন্ডল সার্জিক্যাল অ্যান্ড ট্রেডিং, ৩৮ লাখ ৬৭ হাজার ৯৫৯ টাকার ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে বা পরিশোধ করেনি।

অবশিষ্ট ৯৩২ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, জনবল ও কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে অবশিষ্ট ৯৩২টি প্রতিষ্ঠানের নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব দেশের ১২টি ভ্যাট কমিশনারেট অফিসকে দেওয়া হয়েছে। ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এসব প্রতিষ্ঠানের ফাঁকি দেওয়া ভ্যাট নিরূপণ, বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি এবং বকেয়া রাজস্ব আদায়ের জন্য সংশ্লিষ্ট কমিশনারেটগুলোকে অনুরোধ জানিয়েছে।

জনবল সংকটের কারণে অবশিষ্ট ৯৩২টি প্রতিষ্ঠানের তদন্ত ও রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব দেশের ১২টি ভ্যাট কমিশনারেটকে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, সব প্রতিষ্ঠানের তথ্য যাচাই শেষে মোট ভ্যাট ফাঁকির পরিমাণ প্রায় ১,০০০ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। বড় ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রতিষ্ঠানের বিআইএন স্থগিত বা বাতিলসহ দায়ীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা ও জেল-জরিমানার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে এনবিআর

কমিশনারেট অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের তালিকা— ঢাকা দক্ষিণ ভ্যাট কমিশনারেট : ৪২০টি প্রতিষ্ঠান, ঢাকা উত্তর ভ্যাট কমিশনারেট : ১৬৮টি প্রতিষ্ঠান, ঢাকা পশ্চিম ভ্যাট কমিশনারেট : ১৪৫টি প্রতিষ্ঠান, যশোর ভ্যাট কমিশনারেট : ৫৭টি প্রতিষ্ঠান, চট্টগ্রাম ভ্যাট কমিশনারেট : ৪৭টি প্রতিষ্ঠান, ঢাকা পূর্ব ভ্যাট কমিশনারেট : ৪১টি প্রতিষ্ঠান, রাজশাহী ভ্যাট কমিশনারেট : ১৪টি প্রতিষ্ঠান, খুলনা ভ্যাট কমিশনারেট : ১২টি প্রতিষ্ঠান, কুমিল্লা ও রংপুর ভ্যাট কমিশনারেট : প্রতিটি ৯টি করে প্রতিষ্ঠান, সিলেট ভ্যাট কমিশনারেট : ৭টি প্রতিষ্ঠান এবং বৃহৎ করদাতা ইউনিট : ৩টি প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট নিরূপণ, বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি এবং বকেয়া রাজস্ব আদায়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

‘শূন্য ভ্যাট রিটার্ন’ কী?

‘শূন্য ভ্যাট রিটার্ন’ বা ‘নিল রিটার্ন’ বলতে এমন একটি ভ্যাট বিবরণীকে বোঝায়, যেখানে কোনো প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট মাসে তাদের পরিশোধযোগ্য ভ্যাটের পরিমাণ ‘শূন্য’ দেখায়। অর্থাৎ, ওই সময়ে প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা থেকে সরকারের কাছে কোনো ভ্যাট জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়নি— এমন তথ্য দিয়েই এই রিটার্ন দাখিল করা হয়।

ভ্যাট আইন অনুযায়ী, যদি কোনো মাসে কোনো প্রতিষ্ঠানের ভ্যাটযোগ্য পণ্য বিক্রি না হয়, ব্যবসায়িক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে অথবা প্রতিষ্ঠানটি শুধুমাত্র ভ্যাট অব্যাহতিপ্রাপ্ত বা শূন্য হারের পণ্য নিয়ে কাজ করে, তবেই তারা শূন্য রিটার্ন দাখিল করতে পারে। এক্ষেত্রে ভ্যাট জমা দেওয়ার দায় না থাকলেও প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে রিটার্ন জমা দেওয়া প্রতিটি বিআইএনধারী প্রতিষ্ঠানের জন্য বাধ্যতামূলক।

তবে বাস্তবে দেখা যায়, অনেক প্রতিষ্ঠান নিয়মিত পণ্য বিক্রি করা সত্ত্বেও তা গোপন রেখে শূন্য রিটার্ন জমা দেয়। এটি মূলত ভ্যাট ফাঁকি দেওয়ার একটি অপকৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা ভ্যাট গোয়েন্দাদের সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

ভ্যাট ফাঁকিতে শাস্তি কী?

ভ্যাট ফাঁকি দিলে মূলত ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২’ এবং বিশেষ ক্ষেত্রে ‘কাস্টমস আইন, ১৯৬৯’ অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর আওতায় কোনো প্রতিষ্ঠান যে পরিমাণ ভ্যাট গোপন বা ফাঁকি দিয়েছে, তা আদায়ের পাশাপাশি অতিরিক্ত আর্থিক জরিমানা আরোপ করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে এই জরিমানার পরিমাণ ফাঁকি দেওয়া করের সমপরিমাণ বা তার চেয়েও বেশি হতে পারে। এছাড়া ফাঁকি দেওয়া ভ্যাটের ওপর মাসিক ভিত্তিতে সুদ বা সারচার্জ আরোপের বিধানও রয়েছে।

গুরুতর অনিয়মের ক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মূসক নিবন্ধন (বিআইএন) স্থগিত বা বাতিল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ কিংবা প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও হিসাবপত্র জব্দ করতে পারে। এমনকি সুনির্দিষ্ট ভ্যাট ফাঁকির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করারও সুযোগ রয়েছে। এ ধরনের মামলায় দোষী প্রমাণিত হলে আদালত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড— উভয় ধরনের শাস্তির আদেশ দিতে পারেন।

সূত্র : ঢাকা পোস্ট