খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৪ আষাঢ়, ১৪৩৩

গাড়ি ব্যবহারে এই ৫ কাজ একদমই নয়—জানুন কেন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ৬:৫৭ পূর্বাহ্ণ
গাড়ি ব্যবহারে এই ৫ কাজ একদমই নয়—জানুন কেন?

সিনেমা, টিভি শো কিংবা সামাজিক মাধ্যমে প্রায়ই একটি কথা শোনা যায়, ‘ড্রাইভ ইট লাইক আ রেন্টাল।’ অর্থাৎ রেন্টাল বা ভাড়া গাড়ি এমনভাবে চালানো, যেন সেটি নিজের নয়। কারণ, অনেকেই মনে করেন যেহেতু গাড়িটি নিজের টাকায় কেনা নয়, তাই এটিকে একটু বেপরোয়াভাবে চালালেও সমস্যা নেই।

কিন্তু বাস্তবে এই ধারণা একেবারেই ভুল। রেন্টাল গাড়ি বেপরোয়াভাবে চালানো শুধু দুর্ঘটনার ঝুঁকিই বাড়ায় না, বরং এর ফলে অতিরিক্ত জরিমানা বা ক্ষতিপূরণের মতো বড় আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়তে পারেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রেন্টাল গাড়ি চালানোর সময় সেটিকে নিজের গাড়ির মতোই ব্যবহার করা উচিত। ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলা, অতিরিক্ত গতি না তোলা এবং অবশ্যই দুর্ঘটনা এড়িয়ে চলা; এসব নিয়ম মেনে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ।

তবে রেন্টাল গাড়ির ক্ষেত্রে কিছু বাড়তি নিয়মও রয়েছে। গাড়ি নেওয়ার আগে এসব নিয়ম জানা থাকলে সময়, অর্থ ও ঝামেলা—সবই বাঁচানো সম্ভব। কারণ অধিকাংশ রেন্টাল কোম্পানিরই একটি ‘ডু নট রেন্ট’ তালিকা থাকে, যেখানে সমস্যাজনক গ্রাহকদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। একবার সেই তালিকায় চলে গেলে ভবিষ্যতে আবার রেন্টাল গাড়ি পাওয়া কঠিন হয়ে যেতে পারে।

বিশ্বের প্রায় সব রেন্টাল কোম্পানির ক্ষেত্রেই এই নিয়মগুলো প্রায় একই। তাই রেন্টাল গাড়ি ব্যবহারের সময় কিছু বিষয় অবশ্যই এড়িয়ে চলা উচিত। নিচে এমন পাঁচটি বিষয় তুলে ধরা হলো।

১. গাড়ির ভেতরে ধূমপান বা ভ্যাপিং করবেন না

রেন্টাল গাড়ি ব্যবহারের ক্ষেত্রে গাড়ি পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গাড়ি ফেরত দেওয়ার আগে পোষা প্রাণীর লোম, খাবারের প্যাকেট বা তরল কিছু পড়ে থাকলে তা পরিষ্কার করে দিতে বলা হয়। না হলে কোম্পানি অতিরিক্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য বড় অঙ্কের ফি নিতে পারে।

ধূমপানের ক্ষেত্রে নিয়ম আরও কঠোর। বেশিভাগ রেন্টাল কোম্পানিতে গাড়ির ভেতরে ধূমপান করলে প্রায় ৪৫০ ডলার পর্যন্ত বাধ্যতামূলক ক্লিনিং ফি নেওয়া হয়। অর্থাৎ একবার সিগারেট ধরালেই আপনাকে বড় অঙ্কের অর্থ গুনতে হতে পারে।

এমনকি গাড়ি নেওয়ার সময় যদি আগেই সিগারেটের গন্ধ পাওয়া যায়, তাহলে সেটি দ্রুত কোম্পানিকে জানানো উচিত। না হলে আগের ব্যবহারকারীর কারণে আপনাকেই জরিমানা দিতে হতে পারে।

একই নিয়ম ভ্যাপিংয়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। বর্তমানে প্রায় সব রেন্টাল কোম্পানিই ধূমপান নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ভ্যাপিংকেও অন্তর্ভুক্ত করেছে। তাই প্রয়োজন হলে গাড়ি থেকে নেমে বাইরে গিয়ে ধূমপান করা উত্তম।

২. গাড়ি ফেরত দেওয়ার আগে জ্বালানি ভরতে ভুলবেন না

রেন্টাল গাড়ি নেওয়ার সময় সাধারণত ট্যাংকে যতটুকু জ্বালানি থাকে, ফেরত দেওয়ার সময়ও ঠিক ততটুকুই থাকতে হয়। ধরা যাক, আপনি গাড়িটি অর্ধেক ট্যাংক জ্বালানি নিয়ে পেয়েছেন, তাহলে ফেরত দেওয়ার সময়ও সেটি অর্ধেক ট্যাংক থাকা উচিত।

যদি তা না করেন, তাহলে রেন্টাল কোম্পানি নিজে জ্বালানি ভরে তার মূল্য আপনার কাছ থেকে আদায় করবে। তবে তারা সাধারণ পাম্পের চেয়ে বেশি দামে জ্বালানি চার্জ করে।

কিছু ক্ষেত্রে প্রতি গ্যালন জ্বালানির জন্য প্রায় ১০ ডলার পর্যন্ত চার্জ করার ঘটনাও রয়েছে। যেখানে গড়ে প্রতি গ্যালনের দাম প্রায় ৩.৩০ ডলার, সেখানে অতিরিক্ত বেশ বড় অঙ্কের অর্থ গুনতে হতে পারে। তাই গাড়ি ফেরত দেওয়ার আগে নিজেই জ্বালানি ভরে নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।

৩. টোল রোডের বিকল্প পথ না খোঁজা

টোল রোডে চলাচল সাধারণ চালকদের জন্য খুবই সহজ—গাড়ি চালিয়ে যান, টোল দিন, কাজ শেষ। বিভিন্ন দেশের আধুনিক অনেক টোল প্লাজায় আবার থামতেও হয় না; ট্রান্সপন্ডার বা সেন্সরের মাধ্যমে টোল কেটে নেওয়া হয়।

কিন্তু রেন্টাল গাড়ির ক্ষেত্রে বিষয়টি একটু ভিন্ন। এখানে অতিরিক্ত প্রশাসনিক চার্জ যুক্ত হতে পারে। রেন্টাল কোম্পানিগুলো সাধারণত দুইভাবে টোল ব্যবস্থাপনা করে— প্রতিদিন নির্দিষ্ট ফি কেটে টোল ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া, অথবা পরে বিল পাঠিয়ে টোলের সঙ্গে প্রশাসনিক চার্জ যুক্ত করা। এই চার্জগুলো দ্রুতই বড় অঙ্কে পৌঁছে যেতে পারে।

তাই নেভিগেশন অ্যাপ ব্যবহার করে সম্ভব হলে টোল রোড এড়িয়ে চলাই ভালো। আর যারা নিয়মিত টোল রোড ব্যবহার করেন, তারা নিজের ট্রান্সপন্ডার সঙ্গে এনে রেন্টাল গাড়িতেও ব্যবহার করতে পারেন।

৪. অন্য কাউকে গাড়ি চালাতে দেওয়া

অনেক সময় বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে ভ্রমণে গেলে পালা করে গাড়ি চালানোর কথা ভাবা হয়। কিন্তু রেন্টাল গাড়ির ক্ষেত্রে বিষয়টি একটু জটিল হতে পারে।

যদি আপনার অনুমতি ছাড়া অন্য কেউ গাড়ি চালায় এবং দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে বীমা সুবিধা পাওয়া কঠিন হয়ে যেতে পারে। কারণ কিছু বীমা নীতিতে গাড়ি কভার করা হয়, আবার কিছু ক্ষেত্রে শুধু নির্দিষ্ট চালককে কভার করা হয়। যদি ব্যক্তিগত গাড়ির বীমা ব্যবহার করেন, তাহলে অনেক সময় ‘পারমিসিভ ইউজ’ সুবিধা থাকে, অর্থাৎ অন্য কেউ গাড়ি চালালেও কভারেজ থাকে।

কিন্তু রেন্টাল কোম্পানির বীমা নিলে সাধারণত চালকের নাম চুক্তিতে যুক্ত থাকতে হয়। তাই একাধিক ব্যক্তি গাড়ি চালালে তাদের নাম আগেই চুক্তিতে যুক্ত করা জরুরি।

৫. দুর্ঘটনায় গাড়ির ক্ষতি করা (বীমা থাকলেও)

দুর্ঘটনা যে কারও সঙ্গেই ঘটতে পারে। এতে গাড়ির ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি চালক ও যাত্রীও আহত হতে পারেন।

রেন্টাল গাড়ির ক্ষেত্রে দুর্ঘটনা ঘটলে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে। কারণ রেন্টাল কোম্পানিগুলো গাড়ি মেরামতের পুরো খরচের পাশাপাশি অতিরিক্ত চার্জও নিতে পারে। যদি আপনার ব্যক্তিগত বীমা রেন্টাল গাড়িকে কভার না করে এবং কোম্পানির বীমাও না নেন, তাহলে পুরো ক্ষতিপূরণই আপনাকে দিতে হতে পারে।

তাই বিশেষজ্ঞরা বলেন, রেন্টাল গাড়ি ব্যবহারের সময় বীমা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সবচেয়ে ভালো উপায় অবশ্যই নিরাপদে গাড়ি চালানো। স্মার্টফোন ব্যবহার না করা, গতিসীমা মেনে চলা, টার্ন সিগন্যাল ব্যবহার করা এবং ক্লান্ত থাকলে বিশ্রাম নেওয়া; এসব নিয়ম মেনে চললে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

সূত্র : স্ল্যাশগিয়ার

ফের পুলিশের জালে ফরিদপুরের সেই ‘সিরিঞ্জ তুফান’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৬:৩৮ অপরাহ্ণ
ফের পুলিশের জালে ফরিদপুরের সেই ‘সিরিঞ্জ তুফান’

ফরিদপুর শহরে ইনজেকশনের সিরিঞ্জে পচা রক্ত ভরে পথচারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ছিনতাইয়ের অভিযোগে আলোচিত ‘সিরিঞ্জ তুফান’ আবারও পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুর ২টার দিকে শহরের নিউমার্কেট এলাকার ইমামুদ্দিন স্কয়ারের পাশ থেকে তাকে আটক করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।

আটক তুফানের কাছ থেকে একটি ইনজেকশনের সিরিঞ্জ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন।

তিনি জানান, মাসখানেকেরও বেশি সময় আগে সিরিঞ্জে পচা রক্ত ভরে তা মানুষের শরীরে প্রবেশ করানোর ভয় দেখিয়ে ছিনতাইয়ের অভিযোগে তুফানকে আটক করা হয়েছিল। তবে তার বিরুদ্ধে কোনো লিখিত অভিযোগ না থাকায় সম্প্রতি তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। মুক্তি পাওয়ার পরপরই একই কায়দায় আবারও ছিনতাইয়ের চেষ্টা শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৭ জুন) শহরের হাজী শরীয়তুল্লাহ বাজারের লোহার ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় মাহফুজুর রহমান শাহিদ নামে এক যুবককে ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করেন তুফান। পরে ভুক্তভোগী বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরলে ঘটনাটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে। এরপরই তাকে আটকের জন্য অভিযান শুরু করে পুলিশ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমীর হোসেন বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানার পর আমরা তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনা করি। বৃহস্পতিবার দুপুরে নিউমার্কেট এলাকা থেকে তুফানকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”

এর আগে ভুক্তভোগী মাহফুজুর রহমান শাহিদ নিজের ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, র‌্যাফেলস মোড় থেকে লোহার ব্রিজের দিকে যাওয়ার সময় তুফান তাকে থামিয়ে টাকা দাবি করেন। টাকা না থাকায় তিনি প্রতিবাদ করলে তুফান নিজের পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং পুলিশকে নিয়েও অবমাননাকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ করেন শাহিদ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শহরের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করে আসছিলেন তুফান। বিশেষ করে সিরিঞ্জে রক্ত ভরে ভয় দেখানোর অভিনব কৌশলের কারণে তিনি ‘সিরিঞ্জ তুফান’ নামে পরিচিতি পান। ফলে তার পুনরায় আটকের ঘটনায় নগরবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে মনে করছেন অনেকে।

উল্লেখ্য, মাসখানেক আগে স্থানীয় সাংবাদিক শ্রাবণ হাসান ছিনতাইয়ের শিকার হওয়ার ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর ‘সিরিঞ্জ তুফান’ ব্যাপক আলোচনায় আসেন। এরপর থেকে তাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলতে থাকে। পরে স্থানীয় জনতা আটক করে তাকে পুলিশে দেয়। তবে, কিছুদিন কারাগারে থাকার পর জামিনে বেরিয়ে এসে ফের একই কাজ করতে থাকে। পরে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে আবার তুফানকে আটক করা হলো। এবার পুনরায় আটকের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

ফরিদপুরে আগুন নেভাতে গিয়ে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে প্রাণ গেল যুবকের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ১২:০৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে আগুন নেভাতে গিয়ে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে প্রাণ গেল যুবকের

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার একটি বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় বাবুল মোল্লা (৩৫) নামে এক ব্যক্তির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। আগুনে বাজারের অন্তত পাঁচটি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা হতে পারে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোরে উপজেলার পাঁচুড়িয়া ইউনিয়নের যোগিবরাট ভেন্নাতলা বাজারে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, ভোররাতে বাজারের নুর মিয়ার মুদি দোকানে প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো বাজার এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের খবর পেয়ে স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু করেন। তাদের সঙ্গে যোগ দেন বাবুল মোল্লাও।

আগুন নেভানোর একপর্যায়ে একটি দোকানের ভেতরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এতে বাবুল মোল্লা, আলামিন বিশ্বাস, নুর মিয়া শেখসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে এবং উপস্থিত লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পরে আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বাবুল মোল্লাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অন্যদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

খবর পেয়ে বোয়ালমারী ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ততক্ষণে বাজারের পাঁচটি দোকান পুড়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে রয়েছে নুর মিয়ার মুদি দোকান, সাহেব আলীর চায়ের দোকান, কেসমত আলীর সার ও কীটনাশকের দোকান, বাবর আলীর সাইকেল মেরামতের দোকান এবং জাকির মোল্লার কাপড়ের দোকান।

বোয়ালমারী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা রয়েল আহমেদ বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। আগুন নেভানোর সময় দোকানের ভেতরে থাকা একটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে একজনের মৃত্যু এবং তিনজন আহত হন।”

তিনি আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে। বাজারের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সরকারি সহযোগিতা কামনা করেছেন।

সালথায় ৭ নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৭:৪৪ পূর্বাহ্ণ
সালথায় ৭ নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষার সম্প্রসারণ ও শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে নতুন করে ৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়গুলোর প্রস্তাব ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই এসব বিদ্যালয়ের অনুমোদন পাওয়া যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-সংকটপূর্ণ এলাকায় বিদ্যালয় স্থাপনের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অনেক গ্রামের শিক্ষার্থীদের দূরবর্তী বিদ্যালয়ে গিয়ে পাঠ গ্রহণ করতে হয়। বিশেষ করে ছোট শিশুদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতে নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হয়। নতুন বিদ্যালয়গুলো স্থাপিত হলে এসব এলাকার শিক্ষার্থীরা নিজ এলাকার কাছেই মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ পাবে।

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন  বলেন, “সালথায় ৭টি নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের নির্দেশনায় প্রয়োজনীয় প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আমরা আশা করছি, অতিশীঘ্রই বিদ্যালয়গুলো অনুমোদন পাবে এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে।”

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নতুন বিদ্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত শিশুদের বিদ্যালয়মুখী করা সহজ হবে। একই সঙ্গে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমবে এবং প্রাথমিক শিক্ষায় ভর্তির হার আরও বৃদ্ধি পাবে।

ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ শিক্ষাখাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে এলাকায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই নতুন এসব বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

স্থানীয়রা মনে করছেন, নতুন বিদ্যালয়গুলো প্রতিষ্ঠিত হলে সালথার শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়বে এবং সরকারের ‘সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষা’ নিশ্চিত করার লক্ষ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই উদ্যোগ।

এদিকে বিদ্যালয়গুলোর অনুমোদনের খবরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আনন্দ ও আশাবাদের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।