খুঁজুন
রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬, ১ চৈত্র, ১৪৩২

গাড়ি ব্যবহারে এই ৫ কাজ একদমই নয়—জানুন কেন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ৬:৫৭ এএম
গাড়ি ব্যবহারে এই ৫ কাজ একদমই নয়—জানুন কেন?

সিনেমা, টিভি শো কিংবা সামাজিক মাধ্যমে প্রায়ই একটি কথা শোনা যায়, ‘ড্রাইভ ইট লাইক আ রেন্টাল।’ অর্থাৎ রেন্টাল বা ভাড়া গাড়ি এমনভাবে চালানো, যেন সেটি নিজের নয়। কারণ, অনেকেই মনে করেন যেহেতু গাড়িটি নিজের টাকায় কেনা নয়, তাই এটিকে একটু বেপরোয়াভাবে চালালেও সমস্যা নেই।

কিন্তু বাস্তবে এই ধারণা একেবারেই ভুল। রেন্টাল গাড়ি বেপরোয়াভাবে চালানো শুধু দুর্ঘটনার ঝুঁকিই বাড়ায় না, বরং এর ফলে অতিরিক্ত জরিমানা বা ক্ষতিপূরণের মতো বড় আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়তে পারেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রেন্টাল গাড়ি চালানোর সময় সেটিকে নিজের গাড়ির মতোই ব্যবহার করা উচিত। ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলা, অতিরিক্ত গতি না তোলা এবং অবশ্যই দুর্ঘটনা এড়িয়ে চলা; এসব নিয়ম মেনে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ।

তবে রেন্টাল গাড়ির ক্ষেত্রে কিছু বাড়তি নিয়মও রয়েছে। গাড়ি নেওয়ার আগে এসব নিয়ম জানা থাকলে সময়, অর্থ ও ঝামেলা—সবই বাঁচানো সম্ভব। কারণ অধিকাংশ রেন্টাল কোম্পানিরই একটি ‘ডু নট রেন্ট’ তালিকা থাকে, যেখানে সমস্যাজনক গ্রাহকদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। একবার সেই তালিকায় চলে গেলে ভবিষ্যতে আবার রেন্টাল গাড়ি পাওয়া কঠিন হয়ে যেতে পারে।

বিশ্বের প্রায় সব রেন্টাল কোম্পানির ক্ষেত্রেই এই নিয়মগুলো প্রায় একই। তাই রেন্টাল গাড়ি ব্যবহারের সময় কিছু বিষয় অবশ্যই এড়িয়ে চলা উচিত। নিচে এমন পাঁচটি বিষয় তুলে ধরা হলো।

১. গাড়ির ভেতরে ধূমপান বা ভ্যাপিং করবেন না

রেন্টাল গাড়ি ব্যবহারের ক্ষেত্রে গাড়ি পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গাড়ি ফেরত দেওয়ার আগে পোষা প্রাণীর লোম, খাবারের প্যাকেট বা তরল কিছু পড়ে থাকলে তা পরিষ্কার করে দিতে বলা হয়। না হলে কোম্পানি অতিরিক্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য বড় অঙ্কের ফি নিতে পারে।

ধূমপানের ক্ষেত্রে নিয়ম আরও কঠোর। বেশিভাগ রেন্টাল কোম্পানিতে গাড়ির ভেতরে ধূমপান করলে প্রায় ৪৫০ ডলার পর্যন্ত বাধ্যতামূলক ক্লিনিং ফি নেওয়া হয়। অর্থাৎ একবার সিগারেট ধরালেই আপনাকে বড় অঙ্কের অর্থ গুনতে হতে পারে।

এমনকি গাড়ি নেওয়ার সময় যদি আগেই সিগারেটের গন্ধ পাওয়া যায়, তাহলে সেটি দ্রুত কোম্পানিকে জানানো উচিত। না হলে আগের ব্যবহারকারীর কারণে আপনাকেই জরিমানা দিতে হতে পারে।

একই নিয়ম ভ্যাপিংয়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। বর্তমানে প্রায় সব রেন্টাল কোম্পানিই ধূমপান নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ভ্যাপিংকেও অন্তর্ভুক্ত করেছে। তাই প্রয়োজন হলে গাড়ি থেকে নেমে বাইরে গিয়ে ধূমপান করা উত্তম।

২. গাড়ি ফেরত দেওয়ার আগে জ্বালানি ভরতে ভুলবেন না

রেন্টাল গাড়ি নেওয়ার সময় সাধারণত ট্যাংকে যতটুকু জ্বালানি থাকে, ফেরত দেওয়ার সময়ও ঠিক ততটুকুই থাকতে হয়। ধরা যাক, আপনি গাড়িটি অর্ধেক ট্যাংক জ্বালানি নিয়ে পেয়েছেন, তাহলে ফেরত দেওয়ার সময়ও সেটি অর্ধেক ট্যাংক থাকা উচিত।

যদি তা না করেন, তাহলে রেন্টাল কোম্পানি নিজে জ্বালানি ভরে তার মূল্য আপনার কাছ থেকে আদায় করবে। তবে তারা সাধারণ পাম্পের চেয়ে বেশি দামে জ্বালানি চার্জ করে।

কিছু ক্ষেত্রে প্রতি গ্যালন জ্বালানির জন্য প্রায় ১০ ডলার পর্যন্ত চার্জ করার ঘটনাও রয়েছে। যেখানে গড়ে প্রতি গ্যালনের দাম প্রায় ৩.৩০ ডলার, সেখানে অতিরিক্ত বেশ বড় অঙ্কের অর্থ গুনতে হতে পারে। তাই গাড়ি ফেরত দেওয়ার আগে নিজেই জ্বালানি ভরে নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।

৩. টোল রোডের বিকল্প পথ না খোঁজা

টোল রোডে চলাচল সাধারণ চালকদের জন্য খুবই সহজ—গাড়ি চালিয়ে যান, টোল দিন, কাজ শেষ। বিভিন্ন দেশের আধুনিক অনেক টোল প্লাজায় আবার থামতেও হয় না; ট্রান্সপন্ডার বা সেন্সরের মাধ্যমে টোল কেটে নেওয়া হয়।

কিন্তু রেন্টাল গাড়ির ক্ষেত্রে বিষয়টি একটু ভিন্ন। এখানে অতিরিক্ত প্রশাসনিক চার্জ যুক্ত হতে পারে। রেন্টাল কোম্পানিগুলো সাধারণত দুইভাবে টোল ব্যবস্থাপনা করে— প্রতিদিন নির্দিষ্ট ফি কেটে টোল ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া, অথবা পরে বিল পাঠিয়ে টোলের সঙ্গে প্রশাসনিক চার্জ যুক্ত করা। এই চার্জগুলো দ্রুতই বড় অঙ্কে পৌঁছে যেতে পারে।

তাই নেভিগেশন অ্যাপ ব্যবহার করে সম্ভব হলে টোল রোড এড়িয়ে চলাই ভালো। আর যারা নিয়মিত টোল রোড ব্যবহার করেন, তারা নিজের ট্রান্সপন্ডার সঙ্গে এনে রেন্টাল গাড়িতেও ব্যবহার করতে পারেন।

৪. অন্য কাউকে গাড়ি চালাতে দেওয়া

অনেক সময় বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে ভ্রমণে গেলে পালা করে গাড়ি চালানোর কথা ভাবা হয়। কিন্তু রেন্টাল গাড়ির ক্ষেত্রে বিষয়টি একটু জটিল হতে পারে।

যদি আপনার অনুমতি ছাড়া অন্য কেউ গাড়ি চালায় এবং দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে বীমা সুবিধা পাওয়া কঠিন হয়ে যেতে পারে। কারণ কিছু বীমা নীতিতে গাড়ি কভার করা হয়, আবার কিছু ক্ষেত্রে শুধু নির্দিষ্ট চালককে কভার করা হয়। যদি ব্যক্তিগত গাড়ির বীমা ব্যবহার করেন, তাহলে অনেক সময় ‘পারমিসিভ ইউজ’ সুবিধা থাকে, অর্থাৎ অন্য কেউ গাড়ি চালালেও কভারেজ থাকে।

কিন্তু রেন্টাল কোম্পানির বীমা নিলে সাধারণত চালকের নাম চুক্তিতে যুক্ত থাকতে হয়। তাই একাধিক ব্যক্তি গাড়ি চালালে তাদের নাম আগেই চুক্তিতে যুক্ত করা জরুরি।

৫. দুর্ঘটনায় গাড়ির ক্ষতি করা (বীমা থাকলেও)

দুর্ঘটনা যে কারও সঙ্গেই ঘটতে পারে। এতে গাড়ির ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি চালক ও যাত্রীও আহত হতে পারেন।

রেন্টাল গাড়ির ক্ষেত্রে দুর্ঘটনা ঘটলে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে। কারণ রেন্টাল কোম্পানিগুলো গাড়ি মেরামতের পুরো খরচের পাশাপাশি অতিরিক্ত চার্জও নিতে পারে। যদি আপনার ব্যক্তিগত বীমা রেন্টাল গাড়িকে কভার না করে এবং কোম্পানির বীমাও না নেন, তাহলে পুরো ক্ষতিপূরণই আপনাকে দিতে হতে পারে।

তাই বিশেষজ্ঞরা বলেন, রেন্টাল গাড়ি ব্যবহারের সময় বীমা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সবচেয়ে ভালো উপায় অবশ্যই নিরাপদে গাড়ি চালানো। স্মার্টফোন ব্যবহার না করা, গতিসীমা মেনে চলা, টার্ন সিগন্যাল ব্যবহার করা এবং ক্লান্ত থাকলে বিশ্রাম নেওয়া; এসব নিয়ম মেনে চললে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

সূত্র : স্ল্যাশগিয়ার

দুই যুগ পর দেশে ফিরে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ঈদ উপহার, গরিবদের সাথে ইফতার

হাসান মাতুব্বর (শ্রাবণ), ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ১০:১০ পিএম
দুই যুগ পর দেশে ফিরে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ঈদ উপহার, গরিবদের সাথে ইফতার

প্রায় দুই যুগ পর দেশের মাটিতে ফিরেই দুই সহস্রাধিক হতদরিদ্র ও এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছেন কাজাখস্তান প্রবাসী নেতা ফরহাদ ওহাব আকন। এছাড়া একই সাথে স্থানীয় বিভিন্ন মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনদের মাঝে ঈদ উপহার তুলে দেন তিনি।

শনিবার (১৪ মার্চ) সন্ধ্যায় ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের আকনের ডাঙ্গী গ্রামের নিজ বাড়ির আঙিনায় এই আয়োজন করা হয়। এর আগে সকালেই দেশে ফিরে আসেন তিনি।

জানা যায়, ফরহাদ ওহাব আকন বাংলাদেশ-কাজাখস্তান কমিউনিটির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন এবং ২০০২ সাল থেকে দেশটিতে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছেন। শনিবার সকালে দেশে ফিরেই ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুলের সম্মানার্থে এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেন। এতে স্থানীয়দের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

ইফতারের পূর্বে আলোচনা সভায় ফরহাদ ওহাব আকন বক্তব্য দেন। এ সময় তিনি এলাকাবাসীর উন্নয়নে নিজেকে বিলিয়ে দেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন যাবৎ কাজাখস্তানে অবস্থান করে শিক্ষকতা পেশায় নিযুক্ত রয়েছি। দেশটিতে বাংলাদেশের কোনো দূতাবাস নেই। ২০২৪ সালে আমাকে সেখানকার প্রবাসীরা সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করেন। মাত্র দুই বছরে সেখানের বাংলাদেশীদের পাশে দাড়িয়ে তাদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। তাদের বেকার সমস্যা থেকে মৌলিক অধিকার রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছি।’

তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘সুদীর্ঘ দুই যুগের বেশি সময় বিদেশের মাটিতে অবস্থান করে যা আয় করেছি তার সবই দেশের মানুষের কল্যাণে ব্যয় করেছি, নিজের জন্য আজও কিছু করি নাই। কারন, বিদেশে থাকলেও সব সময় দেশের মানুষের জন্য মন কেঁদেছে। এলাকার মানুষের কথা ভেবে কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে বিভিন্ন সময় সাধ্যানুযায়ী সাহায্য সহযোগিতা করে আসছি। ভবিষ্যতেও আমার ইউনিয়ন ও উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের পাশে থেকে সাহায্য সহযোগিতা করে যাব।’

এ সময় তাঁর বাবা সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা ওহাব আকনের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সদরপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বদিউজ্জামান বধু, সদস্য সচিব তরিকুল ইসলাম কবির মোল্যা, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সাত্তার মিয়া প্রমুখ।

ফরিদপুরে মাদক বিরোধী সাঁড়াশি অভিযানে নারী-পুরুষসহ গ্রেপ্তার ৩৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ৯:৪৩ পিএম
ফরিদপুরে মাদক বিরোধী সাঁড়াশি অভিযানে নারী-পুরুষসহ গ্রেপ্তার ৩৬

ফরিদপুর জেলা শহরে অসামাজিক কর্মকান্ড ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে যৌথবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন অন্তত ৩৬ জন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড ও অর্থদন্ড দেওয়া হয়েছে। টানা কয়েক ঘন্টার এ অভিযানে শহরের বস্তি এলাকা ও আবাসিক হোটেলগুলোতে তল্লাশি চালানোর কারণে মাদক কারবারি ও অসামাজিক কর্মকান্ডে জড়িতদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

শনিবার (১৪ মার্চ) ভোররাত থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত শহরের লক্ষ্মীপুর রেলবস্তি, পূর্ব খাবাসপুর, হাজী শরিয়াতুল্লাহ বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে সেনাবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশ, আনসার এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা অংশ নেন।

যৌথ বাহিনীর সদস্যরা শহরের বিভিন্ন আবাসিক হোটেল ও সন্দেহভাজন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে মাদক সেবন ও অসামাজিক কর্মকান্ডে জড়িতদের আটক করেন। পরে ফরিদপুর সার্কিট হাউসে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাদেরকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়।

অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন, সেনাবাহিনীর মেজর রোকনুজ্জামান এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল সুলতানা ও আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়।

অভিযান সূত্রে জানা গেছে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ডোপ টেস্টের মাধ্যমে আটককৃত ৩৬জনের মধ্যে ২৮ জনকে মাদকসেবী হিসেবে শনাক্ত করা হয়। আদালত তাদের বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদন্ড ও অর্থদন্ড দেন। এছাড়া শহরের কয়েকটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে অসামাজিক কর্মকাডে জড়িত থাকার অভিযোগে বাকি ৮ নারীকে কারাদন্ড দেওয়া হয়। অভিযান চলাকালে আটক কয়েকজনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিন্টু বিশ্বাস বলেন, সরকারের নির্দেশনায় ভোর চারটা থেকে লক্ষ্মীপুর রেলবস্তি, পূর্ব খাবাসপুর, হাজী শরিয়াতুল্লাহ বাজার এলাকায় জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে পুলিশ, সেনাবাহিনী, র‍্যাব, আনসার ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর অংশ নেয়। এ সময় মাদক সেবনের অভিযোগে ৩৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদড ও অর্থদন্ড দেওয়া হয়েছে এবং ৩ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ফরিদপুরে জুলাই আহত যোদ্ধার ওপর হামলার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ৭:৫৩ পিএম
ফরিদপুরে জুলাই আহত যোদ্ধার ওপর হামলার অভিযোগ

ফরিদপুরের নগরকান্দায় জমির সীমানা ও চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে জুলাই আন্দোলনে আহত এক যুবদল কর্মীর বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে। তবে পুলিশ বলছে, এটি মূলত দুইপক্ষের মধ্যে চলাচলের রাস্তা নিয়ে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা, পরিকল্পিত হামলার প্রমাণ মেলেনি।

শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল ৯টার দিকে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের কল্যাণপটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আহত তরিকুল ইসলাম সুজন (৩২) বর্তমানে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তরিকুল ইসলাম সুজন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকায় পুলিশের গুলিতে আহত হন। পরে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার আন্দোলন সংক্রান্ত কেস আইডি নম্বর-৯২১৫ বলে জানা গেছে।

সুজন নগরকান্দা উপজেলার কল্যানপট্টি গ্রামের আবু জাফর মোল্লার ছেলে। তিনি মা জয়নব বেগম ও স্ত্রী আলো বেগমকে নিয়ে বাড়িতে বসবাস করেন।

পুলিশ, পরিবার ও অভিযোগপত্র সূত্রে জানা গেছে, বাড়ির পাশের একটি চলাচলের রাস্তার উপর বেড়া নির্মাণকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী হাসেন মাতুব্বর ও বিকুল মাতুব্বরের সঙ্গে সুজনদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। সুজন তখন ঢাকায় সিএমএইচে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ সময় প্রতিবেশীরা ওই রাস্তার একটি অংশে টিন দিয়ে বেড়া নির্মাণের চেষ্টা করলে তার মা জয়নব বেগম বাধা দেন। এ ঘটনায় সুজন গত ৫ মার্চ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগ করার জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিপক্ষরা তার ওপর হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছেন সুজন।

আহত তরিকুল ইসলাম সুজন নিজেকে যুবদল কর্মী দাবি করে জানান, শনিবার সকালে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। এ সময় তার মা ও স্ত্রী এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করা হয়। এমনকি হামলার সময় তার স্ত্রীর ভিডিও করলে মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলার অভিযোগও করেন তিনি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ফেসবুক লাইভে এসে সুজন বলেন, অভিযোগ করার কারণেই প্রতিবেশী হাসেন মাতুব্বর ও বিকুল মাতুব্বর গংরা তার ওপর হামলা করেছে। তাকে কুপিয়েছে, তার বৃদ্ধ মায়ের গায়েও হাত তুলেছে। এছাড়া সুজনের স্ত্রীকে মারধর করে তার মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলেছে হামলাকারীরা। তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত হাসেন মাতুব্বর ও বিকুল মাতুব্বর গংদের কারো বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ বলেন, বিষয়টি মূলত চলাচলের রাস্তা ও জমির সীমানা নিয়ে দুইপক্ষের বিরোধ। আজকে দুইপক্ষের ধাক্কাধাক্কির সময় সুজনের পা টিনে কেটে যাওয়ার কথা শুনেছি। পরিকল্পিত হামলার ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তিনি আরো বলেন, দুইপক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। যেহেতু সুজন জুলাই আন্দোলনে আহত একজন যোদ্ধা, তাই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েই দেখা হচ্ছে এবং যাতে ভবিষ্যতে কোনো সমস্যা না থাকে সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।